চেতনা ও স্বাধীন ইচ্ছা

ᴡʜʏ ᴇᴠᴏʟᴜᴛɪᴏɴ ʙᴜɪʟᴅ ᴀ ʙʀᴀɪɴ ᴛʜᴀᴛ'ꜱ ᴄᴏɴꜱᴄɪᴏᴜꜱ?

main sources
The brain: The story of you
writer
David Eagleman
article writer
Leehon
part
12

প্রতি সেকেন্ডে মানুষের মস্তিষ্কের দশ বিলিয়ন সেল ১১ মিলিয়ন বিট ইনফরমেশন প্রসেস করে তার মধ্যে মাত্র ৪৬ বিট সম্পর্কেই সে সচেতন। প্রশ্ন হলো, তাহলে কেনো মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ অচেতন নয় ? অবশিষ্ট ৪৬ বিট ইনফরমেশন সম্পর্কে আমাদের সচেতনতার আসলেই কী কোনো প্রয়োজন ছিল? ᴡʜʏ ᴇᴠᴏʟᴜᴛɪᴏɴ ʙᴜɪʟᴅ ᴀ ʙʀᴀɪɴ ᴛʜᴀᴛ’ꜱ ᴄᴏɴꜱᴄɪᴏᴜꜱ?

ব্যাপারটি বোঝার জন্য কল্পনা করুন, আপনি রাস্তায় হাঁটছেন। আপনার মন আপনার কাজে। আকস্মিক রাস্তায় অসংখ্য মানুষের মধ্যে একজন মানুষের দিকে তাকিয়ে আপনার চোখ আটকে গেলো। সে বিশাল এক মৌমাছির পোশাক পড়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিফকেস হাতে। আপনি যদি মানব মৌমাছি দেখে থাকেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে অন্যান্যরা তার দিকে তাকিয়ে ঠিক কিভাবে রিয়েক্ট করবে; তারা তাদের অটোম্যাটেড রুটিন ভেঙে তার দিকে তাকিয়ে থাকবে!

এই তো কিছুদিন পূর্বে বিজ্ঞানীরা এমন এক রোবট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যে স্ট্রিং থিয়োরির ফাইনাল ইকুয়েশন লিখতে পারবে! আসলে কথাটি ডাহা মিথ্যা! আপনি যখন অপ্রত্যাশিত কোনোকিছু শোনেন বা দেখেন তখনই আপনার চেতনা জাগ্রত হয়, আপনি সচেতন হয়ে উঠেন, আরেহ, কি বলে ! তার পূর্বে কিন্তু আপনি আন-কনসাস থেকে যান ! এ জন্য প্রতিদিন উত্তেজিত ও অস্বাভাবিক টপিক খুঁজে বের করতে হয় আপনাদের জন্য যেনো আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়। নয়তোবা আপনারা সম্পূর্ণ লেখাটি পরম অবহেলায় উপেক্ষা করেন! এর কারণ হলো কনশাসনেস শুধুমাত্র অপ্রাত্যাশিত পরিস্থিতিতেই জাগ্রত হয় কারণ আমরা জানতে চাই তাহলে পরবর্তী ধাপে কি হবে? যদিও আমাদের ব্রেন সবসময় অটো-পাইলটে থাকার জন্য ট্রিক্স করে কিন্তু এ অনিশ্চিত বিশ্বে আমাদের পক্ষে ১০০ ভাগ আনকনশাস থাকা সম্ভব হয়না! অতএব বলা যায় যে আপনার মস্তিষ্কের অতি-ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের চেতনা অনিশ্চয়তার জন্যই কাজ করে।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে চেতনা হলো এমনকিছু যা কেবল বিস্ময়কর কোনোকিছুতে প্রতিক্রিয়া করে। চেতনা আপনার মস্তিষ্কের ভেতরের বিশাল কনফ্লিক্ট সমাধান করে৷ আপনার প্রতিটি নিশ্বাসের সাথে মস্তিষ্কের বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরন পার্টিশিপেট করে। আপনি যখন কিচেনে যান, মুখে খাবার তুলে নেন অথবা কোনো খেলায় অংশ নেন। আপনার মস্তিষ্কের বিলিয়ন বিলিয়ন সেল অংশ নেয়। এসব কাজগুলো আপনার মস্তিষ্কের বিশাল নিউরাল মেশিনারিই পরিচালনা করে। কিন্তু কি ঘটবে যদি কোনো কনফ্লিক্ট দেখা দেয়? মনে করুন, আপনি এক টুকরো আইসক্রিমের জন্য ছুটে গেলেন কিন্তু আপনি জানেন যে এই আইসক্রিম খাওয়ার কারণে আপনাকে অনুতাপ করতে হবে। এ মুহূর্তে আপনাকে ডিসিশন নিতে হবে। এমন একটি ডিসিশন যা কোনো একটি জীব ও তার ভবিষ্যতের জন্য ভালো। কনসাসনেস হলো এমন একটি সিস্টেম যে এ কাজটি করে পারে, এমন কিছু যা মস্তিষ্কের অন্য কোনো সাব- সিস্টেম করতে পারেনা। আর এ জন্য বলা যায় কনশাসনেস হলো মস্তিষ্কের বিলিয়ন বিলিয়ন আন্তক্রিয়াশীল উপাদান, সাব-সিস্টেম এবং উত্তপ্ত একটি প্রক্রিয়ার মধ্যকার মীমাংসাকারী( Arbitrator)। এটি পরিকল্পনা তৈরি করে এবং সিস্টেমের জন্য সামগ্রিক লক্ষ্য সেট করে দেয়।

No description available.

মিচিও কাকু এবং ইগলম্যান , কনশাসনেসকে একটি বিশাল কর্পোরেশনের CEO মনে করেন। যেখানে রয়েছে হাজার হাজার সাব-ডিভিশন এবং ডিপার্টমেন্ট যারা বিভিন্ন পদ্ধতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে কাজ করছে। একটি ক্ষুদ্র কোম্পানির কোনো CEO প্রয়োজন নেই কিন্তু যখন একটি অর্গানাইজেশন পর্যাপ্ত আকার ও জটিলতায় পৌঁছে তখন এর একজন CEO প্রয়োজন হয় যার মধ্য দিয়ে সে তার প্রাত্যহিক রুটিনের উপর দণ্ডায়মান থাকতে পারে এবং কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদি উন্নতি দেখে।

যদিও CEO কোম্পানির প্রাত্যহিক কাজের খুব অল্প পরিমাণ ইনফরমেশনই জানে কিন্তু কোম্পানির সুদূরপ্রসারী ব্যাপারগুলো সম্পর্কে তার মন অবগত থাকে। একটি কোম্পানির CEO এর কাছে কোম্পানির সবচেয়ে বিমূর্ত দিকটাই জানা থাকে। মস্তিষ্কের টার্ম থেকে বলা যায়, চেতনা হলো মস্তিষ্কের বিলিয়ন বিলিয়ন সেলের নিজেকে দেখার একটি “Unified Whole”! চেতনা হলো একটি কমপ্লেক্স সিস্টেমের আয়না যেটি সেই সিস্টেমটি নিজের সামনে ধরে রাখে!

কি ঘটবে যদি আপনার চেতনা মিসিং হয়?

কেমন হবে যদি আপনার মস্তিষ্ক তার অটো-পাইলটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য হারিয়ে ফেলে? ১৯৮৭ সালের ২৪ বছর বয়সী একজন যুবকের সংবাদ জানা যায় যার নাম ছিলো Ken Park? একদিন টিভি দেখতে দেখতে সে যে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিলো তা সে নিজেও জানেনা। সে তার ৬ মাস বয়সী একজন মেয়ে ও স্ত্রীর সাথে বাস করতো, অর্থনৈতিক দুর্ভোগের মধ্যেই কেটেছিল তার জীবন। বৈবাহিক সমস্যা ও জুয়ার প্রতি নেশা। সেদিন তার শাশুড়ীর সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তার শাশুড়ী তাকে ডাকে ”Gentle Giant”, সে তার স্ত্রীর পিতামাতার সাথে ভালোই সম্পর্ক গড়েছিল। গভীর রাতে আকস্মিক সে জাগ্রত হয় এবং শ্বশুর বাড়ি যায় এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আর তারপর শাশুড়ীকে জবাই করে দেয়। তারপর সে নিকটবর্তী পুলিশের সাথে থানায় যোগাযোগ করে এবং বলে আমি সম্ভবত কাউকে হত্যা করেছি!

পুলিশ তাকে এরেস্ট করে নিয়ে যায়। তার মনে নেই সে কি করেছে। সম্ভবত এ ভয়ানক ঘটনার সময় তার কনসাস মাইন্ড এবসেন্ট ছিল। কি হয়েছিল কেনের ব্রেনে। পার্কের আইনজীবী, মার্লিস এডওয়ার্ড এ রহস্য উন্মোচন করার জন্য একদল এক্সপার্ট নিয়োগ করেন তারা দ্রুত বুঝতে পারেন যে কেনের ঘুমে কোনো সমস্যা ছিল। আইনজীবী একজন এক্সপার্ট ডেকে সেদিন রাতে তার মস্তিষ্কের EEG সিগনাল পাঠ করেন। তিনি দেখেন যে এই ফলাফল স্লিপ ওয়াকারদের সাথে মিলে যায়।

তারপর তারা অনুসন্ধান করে জানতে পারেন এ স্লিপ ওয়াকিং কেনের সমস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই সম্প্রসারিত। তারা কোনো মোটিভ খুঁজে পায়নি, তার স্লিপ রেজাল্টের মধ্যে ভুল কিছুও ছিলোনা, তাদের পরিবারের বিস্তারিত ইতিহাস পাঠ করার পর কেনের মধ্যে নরহত্যার কোনো অপরাধ পাওয়া যায়নি এবং তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

কে নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের ব্রেন?

এসব কিছু শোনার পর আমাদের মধ্যে বিস্ময় জাগে তাহলে আমাদের সচেতন মন আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করে? এর মানে কি এই যে আমরা রঙ্গমঞ্চের পুতুল। সুতার টানে আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়? কেউ কেউ আছেন যারা বিশ্বাস করেন, আমরা যা করি তার উপর আমাদের সচেতন মনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আসুন একটি সাধারণ উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটি বোঝার চেষ্টা করা যাক। আপনি একটি রাস্তায় ড্রাইভ করছেন যার দুটি শাখা আছে , আপনি চাইলে ডানে অথবা বামে যেকোনো দিকে যেতে পারেন এখানে কোনো অবলিগেসন নেই। কিন্তু আপনি আজ, এ মুহূর্তে, ডান দিকে যেতে চাইছেন। আর এ জন্য ডানেই গেলেন। কিন্তু কেনো আপনি ডানে গেলেন, বামে না যেয়ে? এর কারণ কি এই যে আপনি সেদিকে যেতে চেয়েছেন নাকি আপনার মস্তিষ্কের ম্যাকানিজম আপনাকে সিদ্ধান্তটি নিতে বাধ্য করেছে?

Libertarian Free Will: Neuroscientific and Philosophical Evidence | edX

চিন্তা করে দেখুন, যে নিউরাল সিগনাল আপনার বাহু মুভ করছে স্টিয়ারিং হুইল ঘুরানোর জন্য তা আপনার মোটর কর্টেক্স থেকে আসছে কিন্তু এ সকল সিগনাল এখান থেকে উৎপাদন হয়নি। তারা ফ্রন্টাল লোবের অন্যান্য অংশ থেকেই পরিচালিত হয়েছে, যা আবার মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশ দ্বারা পরিচালিত, আর এভাবে এটি অত্যন্ত জটিলভাবে মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ সিস্টেমের সাথেই জড়িত। আপনি যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন এখানে Zero Time বলতে কিছু নেই কারণ ব্রেনের একটি নিউরন অন্য নিউরন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। মস্তিষ্কের এমন কোনো সিস্টেম নেই যা ইন্ডিপেন্ডেডলি কাজ করে ডিপেন্ডেডলি কাজ করার পরিবর্তে। আপনি ডানে যাবেন নাকি বামে তা অতীত থেকেই আসছেঃ সেকেন্ড, মিনিট,দিন এবং সমস্ত জীবন। এমনকি আপনি যখন মুহূর্তেই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখনও সেটি আইসোলেটেড নয়!

যদি এই সেকেন্ডে কিছু নিউরন পূর্ববর্তী সেকেন্ডের নিউরন দ্বারা চালিত হয়, তারা যদি এর পূর্বের সেকেন্ড দ্বারা চালিত হয়, এভাবে আমরা যদি ন্যানোসেকেন্ড থেকে শুরু করে পেছনে যেতে থাকি তবে আমরা এমন কোনো নিউরন খুঁজে পাবো না যে নিউরন পূর্ববর্তী নিউরন দ্বারা চালিত হয়নি। অতএব এ মুহূর্তে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, রাস্তার ডানে বা বামে ; কোনদিকে যাবেন __এ সিদ্ধান্তটি আপনার লাইফটাইমের সকল মুহূর্তের ইতিহাস ধারণ করছে। প্রশ্ন হলো, প্রকৃতপক্ষে সিদ্ধান্তটি কার? এটি আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা সম্পর্কে একটি গভীর প্রশ্ন জন্ম দেয়। যদি আমরা একই ইতিহাসকে হাজার হাজার বার পুনরাবৃত্তি করি তবে, এটি কি আমাদেরকে একই সিদ্ধান্ত দেবে?

স্বাধীন ইচ্ছার উপলব্ধিঃ

আমরা মনে করি যে আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা আছে; তার মানে আমরা স্বাধীনভাবেই আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে আমরা বুঝতে পারি যে আমরা যে স্বাধীন ইচ্ছা অনুভব করি তা আসলে ভ্রম। একটি এক্সপেরিমেন্টে হার্ভাডের প্রফেসর Alvaro Pascual-Leone একদল পার্টিশিপেন্টের উপর একটি এক্সপেরিমেন্ট পরিচালনা করছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা একটি কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসেছিলেন যাদের দুটি হাত ছিল প্রসারিত। যখন স্ক্রিনটি লাল হয়, তারা সিদ্ধান্ত নেয় তারা কোন হাতটি মুভ করতে যাচ্ছে কিন্তু তারা আসলে মুভ করেনি। তারপর স্ক্রিনের আলো হলুদ হয়ে যায়, যখন অবশেষে এটি সবুজ হয় তারা তাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ডান হাত নাড়াবে নাকি বাম হাত নাড়াবে তার জন্য সক্রিয় হয়। এবার পরীক্ষক একটা ট্যুইস্ট করলেন। তারা Transcranal Magnetic Simulation ব্যবহার করলেন, যা ম্যাগনেটিক পালস ডিসচার্জ করে এবং মস্তিষ্কের ভেতরের একটি অংশ এক্সাইট করে। এবার হলুদ আলো চলাকালীন তাদের ব্রেনে TMS পালস পাঠানো হয়।

Transcranial Magnetic Stimulation (TMS) - PACIFIC MIND HEALTH

ঐ ব্যক্তি ডান হাত মুভ করবে নাকি বাম হাত TMS সেখানে হস্তক্ষেপ করে, লেফট মোটর কর্টেক্স সিমুলেশন করার কারণে অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ডান হাত মুভ করার প্রবণতা তৈরি হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো TMS তাদেরকে যে ডান হাত মুভ করতে ফোর্স করেছিলো এটাকে তারা তাদের নিজস্ব ইচ্ছা মনে করেছিল। অন্যকথায় লাল আলো জ্বলার সময় যে তারা বাম হাত মুভ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, হলুদ আলো জ্বলার সময় স্টিমুলেশনের কারণে তাদের মনে হয়েছিল যে তারা আসলেই ডান হাত মুভ করতে চেয়েছে। তারা তাদের ভেতর স্বাধীন ইচ্ছা অনুভব করেছিল। পাস্কেল লিওন বলেন, তাদের মস্তিষ্কে যাই চলুক না কেনো তারা এটাকে নিজেদের ফ্রি উইল মনে করে। আসলে কনসাস মাইন্ড তার নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রণ করছে এমন একটি ব্যাখ্যা তৈরি করার ক্ষেত্রে দক্ষ।

এ মুহূর্তে নিউরোসায়েন্সের কাছে একদম নিখুঁত এক্সপেরিমেন্ট নেই যার মাধ্যমে তারা ফ্রি উইলকে সম্পূর্ণ তাড়িয়ে দেবে। এটি বিজ্ঞানের অত্যন্ত জটিল একটি টপিক যার উত্তর বিজ্ঞান পুরোপুরিভাবে আজও দিতে পারে না। কিন্তু এবার আসুন আমরা দেখি যে কীভাবে আসলে ফ্রি উইলের অস্তিত্ব নেই। আপনি রাস্তার কোন শাখা দিয়ে পথ চলবেন সেটি পূর্ব নির্ধারিত কিন্তু যেই জীবন সম্পূর্ণ প্রেডিক্টেবল সে জীবনের কোনো মূল্য নেই।

সুখের সংবাদ হলো মস্তিষ্ক এতটাই জটিল যে এখানে কোনোকিছুই প্রেডিক্টেবল না। কল্পনা করুন একটি পিংপং বলের বাক্সের কথা, যে বাক্সটির তলায় নির্দিষ্ট খাপে খাপে অসংখ্য পিংপং বল রাখা আছে। আপনি যদি উপর থেকে একটি বল নিক্ষেপ করেন, আপনি একদম নির্ভুল গণিতের মাধ্যমে বলে দিতে পারবেন এটি কোথায় আঘাত করবে। কিন্তু যখনই বলটি বাক্সের নিচে আঘাত করে, এটি একটি আনপ্রেডিক্টেবল চেইন রিয়েকশন তৈরি করে। আর এর ফলে খাপের প্রতিটি বলের মধ্যে এ বলটি সঞ্চারিত হয়। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ঘোলাটে হয়ে উঠে৷ আপনার প্রাথমিক গণনায় ভুল যত ক্ষুদ্রই হোক, সেটি অনেক বিশাল হয়ে উঠবে যখন একটি বল অন্য আর একটি বলকে আঘাত করে। শীঘ্রই এটা ভবিষ্যতবানী করা অসম্ভব হয়ে যায় যে বলগুলো কোথায় গিয়ে পতিত হবে। আমাদের ব্রেন ট্যাঙ্কের পিংপং বলের মতোই। কিন্তু আরো অনেক বেশি জটিল। আপনি একটি ট্যাঙ্কে শতাধিক পিংপং বল রাখতে পারেন কিন্তু খুলির ভেতর ট্রিলিয়ন গুণ বেশি ইন্টারেকশন হয় এবং এটি আপনার জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডেই বাউন্স করতে থাকে। এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি এক্সচেঞ্জ করার ফলে আপনার চিন্তা, অনুভূতি ও ডিসিশন নির্গত হতে থাকে। এটি শুধুমাত্র আনপ্রেডিক্টিবিলিটির সূচনা। একজন ব্যক্তির ব্রেন বিশ্বের আরো শত শত ব্যক্তির ব্রেনের সাথে একটি ট্যাঙ্কে অবস্থান করছে ডিনার টেবিল থেকে শুরু করে ইন্টারনেটে, গ্রহের প্রতিটি নিউরন একটি অন্যটিকে প্রভাবিত করছে; আর এভাবে সিস্টেম অকল্পনীয় জটিলতার আকার ধারণ করছে। এর মানে হলো যদিও নিউরনগুলো স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড রুলস অনুসরণ করে, প্রাক্টিক্যালি এটা নির্ধারণ করা অসম্ভব যে একটি ইন্ডিভিজুয়াল নিউরন পরবর্তীতে কি করতে যাচ্ছে। এ জটিলতার টাইটানিক আমাদের কাছে একটি সরল বিষয় পরিস্কার করে তোলে; আমাদের জীবন এমন এক ফোর্স দ্বারা স্টিয়ার্ড হয় যা আমাদের সচেতন নিয়ন্ত্রণ বা ক্যাপাসিটির অনেক বাহিরে।

আগের পর্বগুলোঃ

  1. ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ
  2. একজন টিনেজারের চোখে বিশ্ব!
  3. আইনস্টাইনের ব্রেনে ওমেগা সাইন!
  4. আমি কি আমার মেমরি?
  5. নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!
  6. হোয়াট ইজ রিয়ালিটি?
  7. ব্রেন কিভাবে কাজ করে?
  8. ব্রেন কিভাবে কাজ করে? (দ্বিতীয়)
  9. ব্রেন ও রিয়ালিটি
  10. আপনার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক কে?
  11. ফ্রয়েডের অবচেতন মন
hsbd bg