জাঙ্ক ডিএনএ বলে দেবে ব্রেন সিক্রেট

জাঙ্ক ডিএনএ বলে দেবে ব্রেন সিক্রেট

হোমো সেপিয়েন্সের জিনোমে ৯৮ শতাংশ ডিএনএ সিকোয়েন্স নন-কোডিং যেটাকে একসময় জাঙ্ক ডিএনএ বলে উপেক্ষা করা হতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে জাঙ্ক ডিএনএ বৈচিত্র্যময় কিছু স্থান ধারণ করে যা খুব সুনির্দিষ্ট ভাবে জিনের এক্সপ্রেসেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। Lund University থেকে স্টেম সেলের একদল গবেষক মানুষের ডিএনএ ভেতর এমন কিছু বিষয় অনুসন্ধান করেছেন যা শিম্পাঞ্জি ও মানুষের ব্রেন আলাদা করে দিয়েছিল এবং তারা মানব মস্তিষ্কের অনন্যতার অনুসন্ধান করতে গিয়ে বলছেন, DNA- এর নন-কোডিং এলাকার অভ্যন্তরেই লুকিয়ে আছে মানব মস্তিষ্কের সত্যিকার রহস্য!

ওয়ালেনবার্গ নিউরোসায়েন্স সেন্টারের প্রফেসর জোহান জ্যাকবসন যিনি ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেরিমেন্টাল মেডিক্যাল সায়েন্সের নিউরো-সায়েন্টিস্ট, তিনি বলেন__ আমরা শিম্পাঞ্জি ও মানুষকে এক্সপেরিমেন্ট করার পরিবর্তে, ল্যাবে স্টেম সেলকে বৃদ্ধি করেছি।

এ স্টেমসেল স্কিন সেল থেকে রিপ্রোগ্রাম করা হয়েছিল আর তারপর মস্তিষ্কের ভেতর উন্নত হওয়া স্টেমসেল পরীক্ষা করা হয়েছিল।

স্টিম সেল ব্যবহার করে প্রফেসর জ্যাকবসন মানুষ ও শিম্পাঞ্জির মস্তিষ্কে ব্রেন সেল জন্ম দেন এবং দুটোকে তুলনা করেন। তারা আবিষ্কার করেন যে, মানুষ ও শিম্পাঞ্জি তাদের DNA-এর অংশগুলো ভিন্নভাবে ব্যবহার করে যা মস্তিষ্কের উন্নয়নে বিবেচনাযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

জ্যাকবসন বলেন, আমাদের ডিএনএর যে অংশটি সনাক্ত করা হয়েছে তা ছিল খুবই অপ্রত্যাশিত। এটা হলো তথাকথিত স্ট্রাকচারাল ডিএনএ ভ্যারিয়েন্ট যাকে জাঙ্ক ডিএনএ বলা হতো, দীর্ঘ পুনরাবৃত্তিমূলক ডিএনএ স্ট্রিং, দীর্ঘকাল মনে করা হয়েছিলো যে এর কোনো ফাংশন নেই।

This is a drawing of a person made up of dna strands

এর পূর্বে বিজ্ঞানীরা ডিএনএর সে অংশ অনুসন্ধান করেছিলেন যেখানে প্রোটিন তৈরি হয় __যা শুধুমাত্র সমগ্র ডিএনএর ২% __ এবং এ পার্থক্যের উদাহরণ খুঁজতে নিজেদের প্রোটিন পরীক্ষা করে। কিন্তু নতুন আবিষ্কার বলছে যে, এ তারতম্য আসলে প্রোটিন কোডিং জিনের বাহিরে অবস্থান করছে। এ গবেষণা থেকে জানা যায়, মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনের জেনেটিক মেকানিজম পূর্বে যেমনটি ভাবা হয়েছিল তার থেকেও জটিল। তারা বলেন, আমাদের ফলাফল ইন্ডিকেট করছে যে, মস্তিষ্কের ডেভেলপমেন্ট লুকিয়ে আছে ৯৮% উপেক্ষিত ডিএনএর মধ্যে। এটি একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার। কতৃপক্ষ জানান, ভবিষ্যতে এ ফলাফল মানসিক ডিজওর্ডার যেমন__ সিজোফ্রেনিয়া বুঝতে সাহায্য করবে। কিন্তু তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা মস্তিষ্ককে বোঝার জন্য ২% ডিএনএ অনুসন্ধান না করে বরং ১০০ শতাংশ ডিএনএ -ই বোঝার চেষ্টা করবো।

আরো পড়ুনঃ যে নারী মৃত্যুর পরও মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষকে প্রাণদান করেন!

Reference:

hsbd bg