গড ভাইরাসের জীবন চক্র
মূলপাতা দর্শন গড ভাইরাসের জীবন চক্র

গড ভাইরাসের জীবন চক্র

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
163 বার পঠিত হয়েছে

ভাইরাস সংক্রমণঃ

Infecting Virus

 
কাল্পনিকভাবে ধর্ম শিশুদের মস্তিষ্কে প্রাথমিক মতদিক্ষাদানের মাধ্যমে কাজ করে। একটি সংক্রমন পদ্ধতি ধর্মান্ধতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। মানুষকে সমর্থন দেয়ার আকর্ষণ দেখিয়ে তাদেরকে সুঁতায় পেছিয়ে ফেলা হয় , ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ প্রদান করার মাধ্যমে । এবং অন্যান্য পদক্ষেপগুলো তৈরি করা হয় মিডিয়া ও ধর্মের দৈনান্দিন বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে।
 
 
 

অন্যান্য ধর্মের বিপক্ষে ডিফেন্স তৈরি (Creating Defence Against other Religious)

 
 
 
যখন ধর্ম একটি হোস্টকে সংক্রমণ করে (a ‘host’ in biological term), এটি তাৎক্ষণিক প্রতিযোগি ভাইরাসদের বিপক্ষে এন্টিবডি সংগ্রহ করে। যেমন- যে সকল শিশুদের মস্তিষ্কে প্রথম ধর্মীয় কনসেপ্ট ইনপুট করা হয়,  তখন তাকে অন্য ধর্মের ইন্টারপ্রিটেশনগুলোর বিপক্ষে কাজ করার জন্য প্রোগ্রাম করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে, নতুনভাবে রুপান্তরিত একটি শিশুর মস্তিষ্ককে তীব্র প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে যেতে হয় অধিকতর এন্টিবডি পাওয়ার জন্য যাতে সে সমস্ত বিশ্বের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে অন্য ধর্মের বিপক্ষে! একবার একজন ব্যক্তি ক্যাথোলিজমে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে মুসলিমে রুপান্তরিত করা খুবই কঠিন। কেউ বেপটিস্ট হয়ে গেলে তাকে বুদ্ধ ধর্মে রুপান্তরিত করা যায়না! সাধারণভাবে বলতে গেলে, একজন ব্যক্তি যখন কোন একটি নির্দিষ্ট গড ভাইরাসে সংক্রমিত হয়, সারাজীবন সে ভাইরাসের ভেতরই বাস করে, তার সম্পূর্ণ মস্তিষ্কটাই ভাইরাস হয়ে যায়, সে তখন সম্পূর্ণভাবে ভাইরাসের অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণের অভ্যন্তরে, যদিও সে নিজেকে দৃশ্যমান ও স্বাধীন মনে করে! একজন ব্যাপটিস্ট লুথেরান অথবা প্রিজবাইটেরিয়ান হতে পারে কিন্তু সে কখনো মুসলিম হবেনা!
 
ধর্মের ইমিউন সিষ্টেম আছে, এ ইমিউন সিষ্টেম হলো একটি ক্ষমতাবান প্রোগ্রাম যা নিশ্চিত করে যে শিশুদের ব্রেন অন্যন্য জগতগুলো থেকে নিরাপদ রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতে, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাস অন্যন্য ধর্মগুলোর ইনফরমেশন থেকে শিশুর ব্রেনকে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দূরে রাখতে পারেনা, এ জন্য তারা মানুষকে অন্ধ রাখার জন্য প্রতিষেধক ব্যবহার করে, যেনো তারা অন্য ধর্মের তথ্যগুলোর প্রতি আনরিসেপ্টিভ থাকে। এটি বিশেষ করে সে সকল শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাদের ইমিউন সিষ্টেম এখনো সম্পূর্ণ নয়!
 
শৈশবকালের ধর্মীয় ইনফেকশন এতটাই গুরুতর হয় যে এটি অধিকাংশ মানুষের মাঝে চিরস্থায়ীভাবে মূদ্রিত হয়ে যায়। ইমপ্রিন্টিং এর ধারণাটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিলেন, কোনার্ড লরেঞ্জ ও নিকো টিনবার্গার, যিনি ১৯৭৩ সালে সাইকোলজি ও মেডিসিনের উপর নোবেল প্রাইজ লাভ করেন। তারা আবিষ্কার করেন, যে পাখি ও প্রাণীরা লক্ষ্যনীয়ভাবে তাদের পিতামাতাকে চিহ্নিত করে জন্মের পর। তারা রাজহংসীর উপর গবেষণা করে দেখেন, মানুষের মতো প্যারেন্টস ফিগার প্রতিস্থাপিত করলে বিকল্প রুপই তাদের মস্তিষ্কে খোদাই হয়ে যায়। পরিপূর্ণভাবে বিকল্প রুপ প্রতিস্থাপনের পর যখন শিশুরা মূল পিতামার সংস্পর্শে আসে, বিষ্ময়করভাবে তারা প্রতিস্থাপিত বিকল্পকে অনুসরণ করে, প্রকৃত মা-বাবা’ কে নয়!
এই ক্ষমতাবান র্যাপিড লার্নিং প্রাণীদের মধ্যে খুবই শক্তিশালী এবং অধিকাংশ সময় নন-রিভার্সিবল। সম্ভবত, ধর্মীয় সংক্রমণও একই। একবার একজন ব্যক্তির মস্তিষ্কে যখন কোন একটি ধর্ম গেঁথে যায়, সে ধর্ম পরিবর্তন করেনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, গান ও ধর্মীয় আচার ইত্যাদি কিছু মানুষের মধ্যে এমনভাবে মুদ্রিত করা হয়েছে যে তারা এ নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান ও পরিবেশে না থাকলে সম্পূর্ণ বোধ করেনা! আইনস্টাইন সম্ভবত, এ জন্য বলেছিলেন, এটম ভাঙ্গা সহয কিন্তু একটি সংস্কার ভাঙ্গা কঠিন। হ্যা…একবার একটা প্রাণীর মস্তিষ্কে বিকল্প ফিগার মুদ্রিত করার পর মহাবিশ্ব ধবংস হয়ে গেলেও সে তার প্রকৃত মা-বাবাকে চিনতে পারবে না! এ মুহূর্তে যদি মহাবিশ্ব মহাসংকুচিত হয় অথবা আকাশ থেকে একটি অগ্নিগোলক খসে পড়ে, কেউ কী ধর্ম বিশ্বাস পাল্টাবে?
 

ব্যক্তির নির্দিষ্ট কিছু দৈহিক ও মানসিক কার্যবিধি তার শরীরের ভেতর লুকিয়ে লুকিয়ে দখল করে নেয়াঃ (Taking Over certan mental and physical Function and Hiding within the Individual)

এমনকি একজন ব্যক্তি যিনি আসলে ধর্মীয় বিধিনিষেধ মানেননা, তিনিও এমনভাবে আচরণ করেন যেনো তার ভেতর ভাইরাস এখনো জীবিত! সে সকল হোস্টের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে তারা তাদের ডক্ট্রিনগুলো শিশুকালে শিখেছে যখন তাদের বয়স ৫ অথবা ১০ ছিল। ঠিক যেমন চিকেন ভাইরাস খুব শান্তভাবে শরীরের ভেতর বাস করে শরীর থেকে রোগটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পরও, গড ভাইরাস হয়তো শান্তভাবে বাস করে এর বাহক যতক্ষণ একে জাগ্রত করেনা! এদেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ এক দৃষ্টিকোণ থেকে অধার্মিক। তারা প্রচলিত অর্থে ধর্মীয় কোনো নিয়ম নীতি মানেনা! আপনার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এমনও আছে যারা কখনো ঈদের নামাজও পড়েনি! কিন্তু তারা এমনভাবে আচরণ করবে যেনো তারা এখনো রোগী, যদিও রোগ অনেক আগেই অদৃশ্য হয়ে গেছে কিন্তু ফক্স ভাইরাসের মতো, ভাইরাস তাদের খুলির ভেতর গুপ্তভাবে রয়ে গেছে!
 
চিকেন ফক্স ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে পরিপূর্ণ বয়সেও চাপ সৃষ্টি হয়, এমন একটি অবস্থা তৈরি করে যেটিকে শিঙ্গল বা দমকা বলে। ঠিক তেমনি গড ভাইরাস অনেকের মধ্যে চাপ তৈরি করতে পারে। যদি কোন কারণে তারা প্রচন্ড ব্যাথা পায় বা ট্রামাটিক স্টেটে তারা তাদের ছেলেবেলার ধর্মকে জাগ্রত করে! তারা চার্চে যায়, অধিক থেকে অধিকতর এন্টিবডি গ্রহণ করে, নিজেদের স্থির রাখার জন্য। (বিভিন্ন ফিল্মের গল্পে দেখা যায়, নায়ক প্রচন্ড আঘাত পেয়ে মসজিদ বা মন্দিরে ছুটে যাচ্ছে, যদিও সে জঘন্য সন্ত্রাস হয়, সে মনে করে সে অনেক মহান কাজ করছে, যদিও আসলে সে ভাইরাসকে রেসপন্স করছে! ) ভাইরাস তাদের মেন্টাল ফাংশন দখল করে নেয় এবং তাদের মধ্যে নতুন Guilt Based behaviour তৈরি করে!
 
গড ভাইরাসের এমনকি ক্ষমতা আছে শারীরিক ফাংশন দখল করার। উদাহরণস্বরূপ- অনেক ধর্ম হিউম্যান সেকচুয়ালিটির উপর দখল নিয়ে নেয়, তারা ব্রহ্মাচর্য ও বর্জনীয় ব্রত পালন করে। আমরা যা অধ্যায় ৫ এ বিস্তারিত আলোচনা করবো। কিছুটা কম মাত্রায় এটি আমাদের খাওয়াদাওয়া ও উপবাসকে নিয়ন্ত্রণ করে। অবশেষে, গড ভাইরাসের ক্ষমতা আছে ইন্টারনাল ডিটেনশন থেকে লুকিয়ে থাকার, একবার সংক্রমিত হওয়ার পর, একজন ব্যক্তি তার বিশ্বাস ও আচরণের অসামঞ্জস্য সনাক্ত করতে পারেনা। তার বিশ্বাস করার প্রক্রিয়াটি স্ব-প্রমাণিত মনে হয়। কোন যৌক্তিক আলোচনাই তাকে তার বিশ্বাসের প্রক্রিয়া থেকে রিমুভ করতে পারেনা। যদি কোন মর্মন ও ক্যাথোলিক তাদের নিজ নিজ ধর্মের গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করেন, তারা নিজেরাও দেখতে পেলোনা যে তাদের অসঙ্গতি ও যৌক্তিক ভুল আছে, তবে অন্যটি স্পষ্টরুপে দেখতে পারে! কিছু কার্যকরী যানবাহন ব্যবহার করে ভাইরাস বিস্তারের জন্য- ভেক্টর(Using Specific and Efficient Vehicles to Spread the Virus – The Vector) জীববিজ্ঞানে যে সকল অর্গানিজম ভাইরাস বিস্তার করে তাদেরকে ভেক্টর বলা হয়। একটি মাকড়সা ম্যালেরিয়ার ভেক্টর এবং একটি টিকটিকি ভ্যাক্টর লাইম ডিজিজের। ম্যালেরিয়ায়, একটি মশা একজন ব্যক্তিকে কামড় দেয় এবং প্লাজমোডিয়াম প্যারাসাইট ইনজেস্ট করে। এরপর প্লাজমোডিয়াম মশার সাথে ঘুরে বেড়ায় তার অন্ত্রে ছিদ্র করে এবং সেলিভারী গ্লান্ডে চলে যায়। যখন মশা, পরের ব্যক্তিকে কামড় দেয়, সে নতুন কোন শরীরের মাঝে প্লাসমোডিয়াম ইনজেক্ট করে।
 
 
প্যারাসাইটদের জীবন চক্রে ভেক্টর খুবই জটিল। ভেক্টর প্যারাসাইটের এ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত নাও হতে পারে। বাদুড় র্যাবিস ভাইরাস দ্বারা র্যাকুনের চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু উভয়েই ভেক্টর হতে পারে। যে মাছিটি ইয়ার্সিনা পেস্টিট ব্যাক্টেরিয়া বহন করে কূখ্যাত বুবোনিক প্লেগের জন্য পরবর্তী ইঁদুর ও মানুষকে সংক্রমিত করতে করতেই সে মারা যায়। ব্যাক্টেরিয়াটি মাছির পরিপাকনালী ব্লক করে তাকে ফোর্স করে আক্রান্তের শিকারের শরীরে Y-Pestis ব্যাক্টেরিয়া পুনর্গঠন করার জন্য। এটি মাছি যা কিছু খায় সবকিছুর পরিপাক বন্ধ করে দেয়! ঠিক একই প্রক্রিয়ায়, গড ভাইরাসেরও ভেক্টর প্রয়োজন হয়, মানুষ ভাইরাসের কার্যকরী বাহক প্রোগ্রামড, এমনকি রি-ইঞ্জিনিয়ার করতে পারে। আমরা এ সকল ব্যক্তিদের বলতে পারি , পুরোহিত, মন্ত্রী, ইমাম, পোপস, টেলিভিশনবিদ, শামান, নান, বাইবেল প্রফেসর, কিছুটা কম মাত্রায় বয়স্ক, ডিকন অথবা সান্ডে স্কুল টিচার! এ ভাইরাসগুলো ভেক্টর দ্বারা উল্লেখযোগ্যভাবে পুনর্গঠিত হবে। রি-ইঞ্জিনিয়ার করার জন্য এ জন্য সেমিনারীতে তাদেরকে এক থেকে দেড় বছর পড়ানো হয় এবং বিপুল মাপের অপ্রচলিত ও সুদুরপ্রসারি ধারণা দেয়া হয় ও কৌশল শেখানো হয় এ ভাইরাস বিস্তারের জন্য। এছাড়াও কিভাবে ব্রহ্মীকরণ করা যায় আর কিভাবে করা যায় সে প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাদেরকে প্রজনন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে না জড়ানোর জন্য অনুপ্রাণিত করা হয়, যেনো তারা দক্ষ ভেক্টর হতে পারে! আমাদের দেশে মাদরাসাগুলো দক্ষ ভেক্টর তৈরির অন্যতম উপায়। এ সকল বিভ্রান্ত পুরোহিত অথবা নানরা বিশ্বাস করে যে তাদের অদৃশ্য ঈশ্বর অথবা চার্চের সাথে বিয়ে হয়েছে!
 
 

ভাইরাস প্রতিলিপি করতে হোস্টকে প্রোগ্রাম করা

Programming the host to replicate the Virus

অবশেষে, যেকোনো বাহকের ভেতর সংক্রমিত হবার জন্য গড ভাইরাস তার প্রোগ্রাম একটিভেট করে। কিছু নির্দিষ্ট আচরণ প্রোগ্রাম করা হয় এটা নিশ্চিত করার জন্য ভাইরাস অন্যদের মাঝে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত ধারণা যা ধর্মীয় রিচুয়ালের জন্য একপ্রকার সেন্স অব সিকিউরিটি তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ – এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছে ফার্স্ট কমিউনিয়ন, ব্যাপ্টিজম, বার মিতভাহ, নিশ্চিতকরণ, প্রতিদিনকার উপাসনা, বাইবেল পড়া অথবা কনফেশন।
 

ধর্মীয় রোগপ্রতিরোধ

Religious Immunity

১৭৯৬ সালে এডওয়ার্ড জেনার বর্ণনা করেছেন যে একজন ব্যক্তি যদি Cow fox Virus দ্বারা ইনফেক্টেড হয় তবে সে ভাইরাসটি ঐ ব্যক্তিকে কার্যকরীভাবে ভয়ানক ক্ষুদ্র ফক্স ভাইরাস থেকে ইমিউনাইজ করবে। এর মানে হলো একটি ভাইরাস অন্য ভাইরাসের বিপক্ষে টিকা দান করে। ধর্ম ঠিক একই ম্যানারে কাজ করে। আক্রান্ত ব্যাপ্টিস্ট ক্যাথোলিক ও মুসলিমদের বিপক্ষে টিকা দান করে৷ একটি ধর্ম হোস্টের ভেতর ধারাবাহিক কিছু প্রতিরোধ তৈরি করে যেনো তারা অন্য ধর্মকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা না করে। যেমন- একজন ব্যাপ্টিস্ট কখনো বাইবেলের মতো করে কোরান পড়ার কথা চিন্তাই করবেনা। অনেক ক্যাথোলিক জন ওয়েসির লিখা পড়ে সময় কাটাত না। একজন শিয়া মুসলিম সেন্ট পলকে পড়ার কথা ভাবেন না। একজন সুন্নি মুসলিম বোদ্ধ ধর্মকে দুর্বোধ্য মনে করবে! গড ভাইরাস এতটাই অপ্রতিরোধ্যভাবে দেয়াল গড়ে দেয় যে অনেক ধর্মের মানুষই অন্য ধর্মের মানুষদের বুঝতে পারেনা! বাহিরের একজন পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে, বিভিন্ন ধর্মের ব্যক্তিদের আচরণ এবং শব্দ উল্লেখযোগ্যভাবে একই। ওসামা বিন লাদেন ও পেট রবার্টসনের ধর্মপ্রচার শুনুন। তাদের উভয়েই বলে প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঈশ্বরের দূর্যোগে। উভয়েই তাদের নিজস্ব ধর্মে নারীর অধিকারকে খর্ব করে, তারা দুজনেই মনে করে বিশ্ব শয়তানের সফটওয়্যার। উচ্চ মাত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে, সকল ধর্মের দৃষ্টিকোণ ও শব্দ শুনতে একইরকম। শুধুমাত্র অল্পকিছুক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে, পেট রবার্টসন তার ধর্মপ্রচার পদ্ধতি থেকে কিছু শব্দ এদিক ওদিক করতে পারে।

 

আমি এখানে বিশ্বজনীন ভাবে পরিচিত নেতাদের কথা বলছি। আপনি স্থানীয় গীর্জা এবং মসজিদ পর্যবেক্ষণ করেন। লাদেন এবং রবার্টসন উভয়ের মস্তিষ্ক পুরোপুরিভাবে কাজ করতো। কিন্তু গড ভাইরাস নির্দিষ্ট করে তাদের মস্তিষ্কের কিছু ফাংশন ডিজেবল করে দেয়। ( টক্সিপ্লাজমা গোন্ডির মতো, যে ইঁদুরের ভেতর থেকে শুধু বেড়ালের ঘ্রাণ অনুভব করার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়)। কোনোকিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়না, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু ক্রিটিক্যাল থিংকিং স্কিল নিষ্ক্রিয় করে যা গড ভাইরাসের জন্য প্রয়োজনীয়!

 

বাধা ও নিষেধ

Inhibition and Prohibition

 

ভাইরাস কন্ট্রোলের একটি প্রধান অংশ হলো বাধা ও নিষেধের জন্য ফান্ডিং। যা প্রতিদিনকার অধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান ও ক্রিয়াকলাপগুলোতে বিশ্বাসীদের মনোনিবেশ করে, এমনকি প্রতি ঘন্টায় ধর্মকে শক্তিশালী করা হয়। মাঝেমধ্যে সেক্সুয়াল নিষেধাজ্ঞা আসে, বিয়ের পূর্বে সেক্স করা যাবেনা, ঋতুস্রাবের সময় সেক্স করা যাবে না, সমকামীতা করা যাবে না ! অনেক ধর্মের রয়েছে খাদ্য ও নিয়মের নিষেধাজ্ঞা; শুক্রবারে মাছ খাওয়া যাবেনা, ব্যাঙ খাওয়া যবেনা, সপ্তাহে কিছুদিন উপবাস থাকতে হবে। প্রতিটি ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কিন্তু প্রতিটি ধর্ম একই অবজেক্টিভ শেয়ার করে ; আক্রান্তদের তাদের নিজের ধর্মের প্রতি মনোযোগী করে এবং প্রচারণার জন্য একটি ইউনিটকে রক্ষা করে___পরিবার। মুসলিমরা নারীদের উপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ও পুরুষদেরকে নারীদের উপর ব্যাপক আধিপত্য প্রদান করে। ক্যাথোলিক পুরোহিতদের ব্রহ্মাচর্য ও নানদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এখানে ভাইরাস স্ব-প্রচারের মাধ্যমে যতসংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করতে ফোর্স করে। ঠিক যেমনি র্যাবিস ভাইরাস র্যাকুনের মস্তিষ্ককে দখল করে এবং এটিকে রি-প্রোগ্রাম অন্যান্য প্রাণীদের কামড় দেয়ার জন্য এবং তাদের নিজের জীবন বাজি রাখে। ক্যাথোলিক ভাইরাস যাজকদের নির্দেশনা প্রদান করে তার বিচক্ষণতার ক্ষমতা অন্যদের মতো ভাইরাস সংক্রমণের জন্য ব্যয় করার জন্য। এটি পুরোহিতের জিনের জন্য জেনেটিক আত্মহত্যা তবে এটি ক্যাথোলিক চার্চকে শক্তিশালী করে তোলে এবং বংশবিস্তারের সরঞ্জাম।
 

ভেক্টর ইনফেকশন টেকনিক

(Vector Infection Technique)

ধর্মীয় ভেক্টররা জটিল কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্ভাব্য নতুন একজন বাহককে প্রস্তুত করার জন্য।
ধর্মীয় ভেক্টর প্রচারের কৌশল শেখেন যা সম্ভাব্য হোস্টকে আবেগীয়ভাবে উন্মোক্ত করে।
একজন ভেক্টর যখন মারা যায় তখন সে অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠে। কার্যকরী মৃত ভেক্টরদের মধ্যে রয়েছে জেসাস, পল, আলি, লেনিন, চে গুয়েভারা এবং জোসেফ স্মিথের ক্ষেত্রে, তার মৃত্যু পুরো আন্দোলনের জন্য একটি ভাগ্যবান ঘটনা ছিল। তার মৃত্যুর পূর্বে ভাইরাসটি হয়তো তার কোর্স চালিয়েছিল কিন্তু কিছুটা কম সফল হয়েছিল কিন্তু একবার মৃত্যুর পর সে শহীদের মর্জাদা পেলো উজ্জ্বল নেতা ও বিশ্বাসীরা তাকে ঘিরে র্যালি করতে শুরু করলো এবং উটাহতে স্বর্গ প্রতিষ্ঠা করলো।
 

ভাইরাসের জন্য চ্যারিটি

Charity only for the Virus

গড ভাইরাস হোস্টদের খুবই সুনির্দিষ্ট উপায়ে প্রোগ্রাম করে। সকল গড ভাইরাস তার অনুসারীদের চ্যারিটি প্রোগ্রাম করে। ডেরেল রে বলেন, ১৯ বছর বয়সে এটি আমি ক্রিস্টমাসের সময় খুব ভালোভাবে বুঝেছি, আমি ছিলাম দারিদ্র কলেজের ছাত্র যে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির বেতন পরিশোধ করতো আর প্রতিটি ডলার উপার্জনের জন্য তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো, আমি যখন আমার চুড়ান্ত পরিশ্রমে অর্জিত ২০ ডলার গীর্জার জন্য বাজেট করেছিলাম তখন তারা গর্ববোধ করেছিলেন। প্রতিটি মসজিদ ও মন্দিরে আপনি স্বর্গের একাউন্টিং ডিপার্টমেন্ট পাবেন। তারা বিভিন্ন ইস্যুতে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। মসজিদ-মন্দির নির্মানের জন্য, এতিমদের শিক্ষার জন্য অথবা ধর্ম প্রচারের জন্য। যাকাতের অর্থ গড ভাইরাসের চ্যারিটি ফান্ড। এ দানশীলতা পরিচ্ছন্নভাবে গড ভাইরাস দ্বারা নির্ধারিত হয় কারণ ভাইরাসের টিকে থাকা চ্যারিটির উপর ডিপেন্ড করে! আপনি যদি কোন নন-ভাইরাস এন্টিটিকে সম্পদ প্রদান করেন সেটা গ্রহণযোগ্য হবেনা। আক্রান্ত ব্যক্তিরা দান করতে না পারলে তার মধ্যে অপরাধ প্রবণতা তৈরি হয় অথবা তারা যদি এমন কোথাও চ্যারিটি প্রদান করে যা গড ভাইরাস সমর্থন করেনা। ক্যাথোলিকরা বেপটিস্টদের চ্যারিটি প্রদান করেনা, বেপটিস্টরা চ্যারিটি প্রদান করেনা ক্যাথোলিকদের, কোন নাজরিন মসজিদ নির্মানের ফান্ডে কোন অর্থ প্রদান করেনা। কোন ইসলামিক ফিলেনট্রোপিস্ট জেরি ফ্যালওয়েলের লিভার্টি ইউনিভার্সিটিতে ফ্যাট চেক লিখেনি। মূল কথা, আপনার টাকা যদি গড ভাইরাসের সেবা না করে তবে সেটাকে গণনায় নেয়া হবেনা এবং অনেক সময় আপনার বিরুদ্ধেও গণনা করা যেতে পারে!
 

ভালো ভেক্টর পাওয়া খুবই দুস্করঃ (A Good Vector is Hard to Find)

আমার চোখের সামনেই স্থানীয় মসজিদের প্রায় শতাধিক ইমাম শিশুদের উপর যৌন নিপিড়নের অপরাধে বহিস্কৃত হয়েছিলেন কিন্তু তাদেরকে বড় মাপের কোন শাস্তি দেয়া হয়নি বরং বলা হয়েছিল তারা আমাদের মতো সাধারণ মানুষ। স্থানীয় পর্যায়ে একজন শিশুর উপর যৌন হয়রানীর বিপক্ষে কথা বলার অপরাধে আমাকে এলাকা থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। ডেনিয়েল ডেনেট বলেন, তার বয়স যখন ১০ গীর্জার মিনিস্টারদের সেকচুয়াল আচরণ ধরা পড়েছিল। এমনকি অনেক উচ্চমাত্রিক ভাইরাসের ডোজ গ্রহণ করার পরও ভেক্টররা বিভিন্ন নিষিদ্ধ কর্মকান্ডে নিযুক্ত হয়। এবং অন্যদের কাছে যুক্তি দেখায় যে তারাও অন্যদের মতো সাধারণ মানুষ। ডেনেট বলেন, সিনিয়র মিনিস্টার একবার অপরাধে ধরা পড়ার পর বলে যে তার ভুল হয়ে গেছে এবং তার পজিশন অব্যাহত থাকে। সে দশ বছরে একই ভুল আরো তিনবার করেছে তাকে চুড়ান্তভাবে বহিস্কার করার পূর্বে! ক্যাথোলিক ভেক্টররা অন্যান্য ভেক্টরদের থেকে ব্যায়বহুল। যখন ক্যাথোলিক চার্চ জানতে পারে যে কোন পুরোহিত যৌন অনাচার করেছেন, শিশুদের শ্লীলতাহানি করেছেন, মহিলা বা অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকার কারণে তাদের বিনিয়োগ হুমকির সম্মুখীন হয়। মূলত চার্চ প্যারিশনারদের তুলনায় পুরোহিত ভেক্টরদের সুরক্ষা দেয়। নতুন ভেক্টর সন্ধান ও বিকাশের চেয়ে প্যারিশিয়ানদের সাথে ডিল করা সুবিধাজনক। ক্যাথোলিকদের শিশুকাহিনী পুরোহিত প্রধান সমস্যা। প্রোটেস্টেন্ট ধার্মিকরাও একই যৌন আচরণে লিপ্ত। কারণ প্রোটেস্টেন্টরা ক্যাথোলিক থেকে অনেক বেশি বিকেন্দ্রীভূত। ক্যাথোলিক চার্চে এসব লঙ্গনগুলো লুকানো থাকে অথবা তাদেরকে অন্য কোন চার্চে ট্রান্সফার করা হয়।
 

ধর্মীয় মিউটেশান

Mutating Religion

বায়োলজিক্যাল সিষ্টেমের মতো, ধর্মও দ্রুত মিউটেট হয় কিন্তু অধিকাংশ নতুন কোন ধর্ম উন্নত করেনা। ব্যাপটিস্টরা নতুন ব্যাপটিস্ট আন্দোলন মিউটেট করে। এটি আন্দোলনের মূল ডিএনএ হারানোর ক্ষেত্রে সহয উপায় পুরোপুরিভাবে। ক্যাথোলিকরা মিউটেশনের সাথে চুক্তি করে সেগুলো হ্রাস করার মাধ্যমে। এটি মূল আন্দোলনের ডিএনএ না হারানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহয উপায় পুরোপুরি। অতএব এক্স-কমিউনিকেশনের থ্রেট একসময় প্রাথমিক উপায় ছিলো তাদের এ পরিশোধনের। ক্যাথোলিক ও বেপটিস্টের কর্মকাণ্ড যৌক্তিকভাবে একই। জীববিজ্ঞানে, মাঝেমাঝে রুপান্তরগুলো এতটাই শক্তিশালী হয় তারা মাঝেমাঝে দুর্দান্ত প্রতিরক্ষাকেও ছাড়িয়ে যায় এবং সম্পূর্ণ নতুন এক জনগোষ্ঠীকে সংক্রমিত করে! এটি ঘটে যখন ভাইরাস সংবেদনশীল জনসংখ্যার সম্মুখীন হয়। ধর্মের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে, (১৫০০s) যেমন- এ মার্টিন লুথারের গড ভাইরাস জার্মানীর প্রচুর পরিমাণ অজ্ঞ ও অশিক্ষিত মানুষের ভেতর সুইফট করেছিলো। লুথারের গড ভাইরাস এতটাই ক্ষমতাবান ছিল যে এটি ইউরোপিয়ান জনসংখ্যার মধ্যে এত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে যা বিগত এক হাজার বছরেও ক্যাথোলিক ভাইরাস করতে পারেনি। একবার আলগা হওয়ার পর প্রোটেস্টেন্ট ভাইরাস দ্রুত মিউটেট হতে থাকে। কেলভিনিস্ট ভাইরাস ছিল লুথারিয়ান ভাইরাসের ডাইরেক্ট মিউটেশন। অ্যানাব্যাপটিস্ট আন্দোলনের ( মেনোনাইটস, হাটারাইটস, চার্চ অফ দ্য ব্রাদান্স) ফুল ফোটে ফ্র্যান্স, হুগোনোটস, জার্মান ব্যাপটিস্ট ও আরো অনেকের মাঝে! যে সকল জনসংখ্যা ধর্ম থেকে বিমুক্ত এবং বিশালভাবে অশিক্ষিত তাদের সঠিক ধরণের মিউটেশন হিসেবে সন্দেহ করা হয় এবং সম্পূর্ণ নতুন গড ভাইরাস। বুদ্ধরা, হিন্দু ধর্মের একটি মিউটেশন। ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যে একই কীর্তি স্থাপন করেছে মাত্র ২০০ বছরে(600-800 CE)।
 

আমাদের আবার জাগ্রত করো

Revive Us Again

আপনি যদি ফান্ডামেন্টালিস্ট চার্চ সার্ভিসের সাথে পরিচিত হয়ে থাকেন আপনি হয়তো একটি প্রাক্তন স্তব গান জানেন- “Revive Us Again”! এটি পরিস্কার যে সংক্রমিতদের একটি Booster Shoot প্রয়োজন হয়। রিভাইভাল বিশালভাবে সে সকল ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমিত হয় যাদের ইতোমধ্যে ভাইরাস রয়েছে। চার্চে প্রতি বছর রিভাইভাল করা হয়। একজন অতিথি প্রচারক নবজীবন ও পুনসংশোধন প্রচার করেন। বেশিরভাগ লোক যারা উদ্ধার পেয়েছেন, ইতিমধ্যে তারা কোনো না কোন ভাবে গির্জার সাথে সম্পর্কিত ছিল। কদাচিৎ কেউ রাস্তায় এসেছিল এবং মুক্তি।
রিভাইভালের ব্যাপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অভিযোজন পদ্ধতি স্থানীয় বিশ্বাসকে শক্তিশালী করার জন্য এবং বাহিরের ক্ষমতাকে প্রতিরোধ করার জন্য যেনো সেগুলো আক্রমণ অথবা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে! এটাকে পরিব্যাপ্তি প্রতিরোধ বা মিউটেশন প্রিভেনশন হিসেবে দেখা যেতে পারে! এটি মানুষকে সোজা ও সংকীর্ণ করে। আমি জন্মগতভাবে যে ধর্মীয় ইতিহাস পেয়েছিলাম সেটি আমাকে বিভিন্ন সুযোগ দিয়েছে এ রিভাইভালিজম প্রসেসটিকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য। কারো মৃত্যুর পর তার অন্তিম পথযাত্রার সময়ের মর্মভেদী বক্তৃতা, ধর্মীয় আলোচনা( তালিম), তাবলিগ, মার্কাজ, ইজতেমা অথবা ধর্মীয় মাহফিল ভাইরাসগুলোকে আবার পূনরায় জাগ্রত হওয়ার জন্য Revival Boosting প্রদান করে! অফিস উদ্ধোদনে, শিশুর নাম রাখার সময়ে, নতুন ঘর তৈরির পূর্বে ও পরে, পেনিসের উপর অস্রপ্রচারের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে, বিয়ে অথবা কারো জন্মদিনের অনুষ্ঠানে Special Meeting এর মাধ্যমে ভাইরাসকে Revival Boosting দেয়া হয়! তাবলিগ জামাত নামক একটি বিশেষ গোষ্ঠী আছে এদের কাছে সম্ভাব্য হোস্টদের বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে তার ভেতর ঘুমন্ত ভাইরাসটিকে জাগ্রত করে দেয়া এবং তাকেও সম্ভাব্য ভেক্টরে পরিণত করা! শুক্রবার জুম্মার দিনে ভাইরাসদের বিশেষ Revival Boosting দেয়া হয়। এটা একেবারে বাধ্যতামূলক! চার্চ নিয়মিত ইমোশনাল চার্য করে বাহকদের উপর। একজন পুরোহিত এত আবেগীয় কন্ঠে কথা বলে যে বাহকদের ভাইরাস ইমোশনাল করে তোলে ও তারা চার্চে অধিক অর্থ প্রদান করে। প্রতি রাতে বিভিন্ন নতুন গ্রন্থ, ব্যাক্তি অথবা টেলিভিশন সিরিজের বিপক্ষে বাহকদের মনে ক্ষোভ তৈরি করে! তাদের সকল কিছুর উদ্দেশ্য থাকে “ভাইরাসকে সম্পূর্ণ রুপে পরিশুদ্ধ রাখা”! সৌদিতে ভাইরাসদের নিরাপদ রাখার জন্য শারীরিক নির্যাতনও করা হয়ে থাকে! শুক্রবার জুন্মার নামাজে অংশগ্রহণ না করলে তার উপর বিভিন্ন শারীরিক শাস্তিও আরোপ করা হয়ে থাকে!
 

মুক্তমনা, একটি মিউটেশন যা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায়! (Freethinker, A mutation out of Control)

মুক্তমনারা অন্ধ রিলিজিয়াস ইনফেকশন থেকে মুক্ত হয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্বকে জানতে আগ্রহী। তারা সাধারণ অধার্মিক হয় অথবা কিছুকিছু ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি দূর্বল থাকে। কেউ কেউ স্প্রিচুয়াল হয়ে যায় অথবা এক ধরণের স্প্রিচুয়ালিটি লালন করে, বিভিন্ন উপায়ে মুক্তমনারা তাদের ভেতরের গড ভাইরাস এর প্রকোপ কমানোর চেষ্টা করে! এদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা ধার্মিক আবার কিছুটা অধার্মিক। কেউ আছে ধর্মীয় সকল নিয়মকানুনকে প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে এবং এটার উপযোগিতা মূল্যায়ন করে নিজের ভেতরের ভাইরাল চাপ লাগব করে, কেউ নিজেদের মডার্ন প্রমাণ করার জন্য বেশিবেশি বিবর্তন নিয়ে কথা বলে, বিবর্তনের সাপেক্ষে অনেক বেশি লিখালিখি করে, নাস্তিকদের প্রায়োরিটি দেয়, বস্তুবাদকে মনেপ্রাণে সমর্থন করে আবার তারা ঠিকই জেনেশুনে ও অনুভব করে, একান্ত সৎ ভাবে ধর্মকে সমর্থন দিয়ে যায়, ধর্মের অজ্ঞাত শক্তি তাকে বিনিত করে অথবা নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করার জন্য মাঝেমাঝে অন্য ধর্মের ব্যক্তিদের পক্ষে ভালো ভালো কথা বলে! তারা একইসাথে নাস্তিকতাকে সমর্থন করে আবার একইসাথে বিরুদ্ধাচারণ করে! এদের মধ্যে একপ্রকার তীব্র পর্যায়ের পরস্পর বিরোধী ভাব কাজ করে! আটকা পড়লে বলে, আমি সন্দেহবাদী আর নিজের মতাদর্শ পরিস্কার করতে বললে বলে, ধর্ম সম্পর্কে আমার কোন পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই! এ ধরণের ভাইরাসকে বলা যায় উশৃংখল ভাইরাস, এরা যেকোনো মুহূর্তেই তাদের বোল পালটে ফেলতে পারে! তাকে আপনি খুন করে ফেললেও সে স্বীকার করবেনা তার মধ্যে গড ভাইরাস কাজ করে বরং সে খুব ভালোভাবেই প্রকৃত মুক্তমনাদের সাথে মিশে থাকবে, এদের বৈশিষ্ট্য হলো এরা বিজ্ঞানের উপর জ্ঞান রাখে আর সেটিকে ভাইরাস ঢেকে রাখার একটি অস্র হিসেবে ব্যবহার করে! অনেকটা করোনা ভাইরাসের মতো এরা অতি দ্রুত মিউটেড হয় ও তাদের প্রকরণ বদলে ফেলে! মোটকথা, মুক্তমনারা সম্পূর্ণ মুক্ত নয়, তাদের মধ্যে অনেকে আছে সূফি, অনেকে আছে ইয়োগিস্ট আবার অনেকে আছে আচারণগত ধার্মিকতার পক্ষপাতকারী যদিও উপরের দিকে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানমনস্ক! মুক্তমনাদের ভেতর থেকে তারা ভাইরাস দূর করার চেষ্টা করে কিন্তু সম্পূর্ণভাবে পেরে উঠেনা আর এ জন্য পরিপূর্ণ মুক্তমনার সংখ্যা পৃথিবীতে খুবই নগন্য!
 

পূর্বের পর্বগুলো পড়ুন-

 

তথ্যসুত্র-

গড ভাইরাস, ডেরেল রে

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!