Can't find our books? Click here!

সক্রেটিস কী একজন সমকামী?

গ্রীকের দৃষ্টিকোণ থেকে, পেডেরাস্টি পেডোফিলিয়া ছিল না, তবে ক্লাসিক্যাল গ্রীসে বেড়ে উঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং গ্রীক সংস্কৃতিতে ছেলেদের জন্য এটাকে ক্ষতিকর মনে করা হয়নি।

এটা মিথ নয়। সত্য। প্লেটোর কথোকপথনে সক্রেটিসকে একজন সমকামী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। তিনি একজন তরুণের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন যার নাম অ্যালসিবিয়াডস। সক্রেটিসের মতে, শুধুমাত্র পুরুষে পুরুষে সেক্স সুন্দর একটি দেহের ধারণা অর্জন করতে পারে। তিনি মনে করতেন, নারী ও পুরুষের সম্পর্ক শুধু প্রজননের জন্য সংরক্ষিত। (১)

আপনি ইন্টারনেট স্ক্রল করলে দেখতে পাবেন আজকাল অনেকেই শিশুকামীতাকে নরমালাইজড করার চেষ্টা করছে । তাদের মতে এটি আর একটি সেক্সচুয়াল অভিযোজন। অনেকে এটাকে বলেন ক্ষতিহীন আনন্দের একটি উৎস। অনেকে আবার ঐতিহাসিক জাস্টিফিকেশন ব্যবহার করে। কারণ গ্রীসে বৃদ্ধ পুরুষরা তরুণ ছেলেদের সাথে সেক্স করতো। তাই তারা এটাকে আদর্শ করে। আর হ্যাঁ এটা সত্য যে প্রাচীন গ্রীসে এ ধরণের সম্পর্ক অত্যন্ত সাধারণ ছিল। কিন্তু এটাকে শিশুকামীতা বলা ঠিক কতটা যৌক্তিক?

এটা সত্য যে পেডোফিলিয়া মানে হলো বালকের প্রতি ভালোবাসা কিন্তু এটাকে আধুনিক পেডোফিলিয়ার সাথে ইকুয়েট করা ঠিক নয়। আজকের পেডোফিলিয়া সংজ্ঞা মতে, এটি হলো বয়সন্ধীর পূর্বে কারো প্রতি যৌন আকাঙখা অনুভব করা। প্রাচীন গ্রীসে অধিকাংশ তরুণ পেডেরাস্টিতে ( পায়ুকাম) জড়িত হতো ১৬ বছর বয়সে। আর তাই এটা ছিল বয়ঃসন্ধীর উর্ধ্বে। প্রাচীন গ্রীকরা বয়সন্ধীর পূর্বে কারো প্রতি ফেটিসাইজ হতোনা যেমনিভাবে আধুনিক পেডোফাইলরা বিশ্বাস করে। তাহলে প্রাচীন গ্রীসে পেডেরাস্টির রোল কী ছিল?

সমকামিতার মডেল হিসেবে পেডেরাস্টি

আধুনিক রক্ষণশীলদের দাবির বিপরীতে, সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ ও সম্পর্ক নতুন কিছু নয় __এগুলো সর্বদা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। ইতিহাসে যা পরিবর্তন হয়েছে তা হলো এই সম্পর্কগুলোর রূপ। প্রাচীন গ্রীসে পেডেরাস্টিক সম্পর্ক হোমোসেক্সচুয়াল সম্পর্কের খুবই কমন একটি ধরণ ছিল। (২)

প্রাচীন গ্রীসে দুজন সমকামী যদি বয়সে একই হতো তবে তাদেরকে খুবই তিরস্কার করা হতো। কিন্তু বয়সের উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের সাথে পেডেরাস্টিক সম্পর্ক সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল এবং এটা ছিল অবিশ্বাস্যভাবে কমন। (৩)

ঐতিহাসিকরা এ সম্পর্কগুলোকে নাগরিকদের মধ্যে অবাধ সম্পর্কের প্রধান সংস্কৃতিক মডেল বলে বিবেচনা করতো। মারিয়া কাভানাফের বিচক্ষণ প্রবন্ধ “Ancient Greek Pederasty: Education or Exploitation? __এখানে তিনি বলেছিলেন, পেডেরাস্টি তরুণদের শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

পেডেরাস্টি ছিল একটি সামাজিক প্রথা যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ একজন তরুণ গ্রীক বালকের সাথে কোর্ট করতো তার মডেল, গাইড ও দীক্ষাগুরু হওয়ার জন্য এবং নির্বাচিত তরুণের ভবিষ্যৎ বিবর্তনের জন্য সে দায়বদ্ধ থাকতো।।

অল্পবয়সী কিশোর বা অ্যারোমেনোস কেবল বয়সন্ধী পেরিয়ে গেলেই এ ধরণের সম্পর্কে প্রবেশ করতে পারতো। প্রাচীনকালে বয়সন্ধী আজকের থেকে আরো পরে সংঘটিত হতো ছেলেদের জন্য ১২ বছরের পরিবর্তে ১৪ বছর। একজন বৃদ্ধ যাদের ইরাস্টেস বলে তারা প্রথমে সম্পর্ক শুরু করতো অ্যারোমেনোদের উপহার দিয়ে। পেডেরাস্টিক সম্পর্কটি উত্তরণের একটি অনুষ্ঠান যেটি বেশ কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী থাকতো। পেডেরাস্টিককে বিবাহের পুরুষালি সাদৃশ্য হিসেবে দেখা হতো।

যা একই বয়সের গ্রীক মেয়েরাও উপভোগ করতো। গ্রীক নারী ও পুরুষ দুজনেই এ ধরণের সমকামিতা চর্চা করতো।। পেডেরাস্টি ছিল একটি ক্ষণস্থায়ী পর্যায় যেখানে তরুণটি বৃদ্ধ মানুষটির প্রিয়তম ছিল। সমকামিতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি!

যতক্ষণ না পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে ততক্ষণ পর্যন্ত। সেই দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর পর যুবকটি একটি কিশোরী প্রেমিকাকে গ্রহণ করে। পেডেরাস্টিক সম্পর্ক পূর্ণ বয়স্কতা ও নাগরিকত্বে পৌঁছানোর একটি উপায় ছিল। উপরন্তু গ্রীক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অংশীদারদের প্রভাবশালী ও বশ্যতামূলক ভূমিকা মেনে চলার প্রথা ছিল। পেডারাস্টিক সম্পর্কগুলো কাঠামোর সাথে ছিল সঙ্গতিপূর্ণ কারণ প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা গ্রহণ করবে যেখানে তরুণ হবে নিষ্ক্রিয়।

গ্রীক পেডেরাস্টি কী বিধিবদ্ধ ধর্ষণের সমতূল্য ছিল?

প্রাচীন গ্রীকরা প্রাপ্তবয়স্ক ও শৈশবকে আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিল। জীবনের পর্যায়গুলোর সীমানা অনেক আগে থেকেই ছিল। যেখানে প্রাপ্তবয়স্কতা আমাদের জন্য ১৮ বছর বয়স থেকে শুরু হয় তারা এটাকে ১৪ বছর বয়স থেকে শুরু বলে গণনা করেছে। আমাদের আধুনিক প্রেক্ষাপটে ১৮ বছরের কম বয়সী কারো সাথে যৌন সম্পর্ক করা বিকৃত ও অনৈতিক।।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, একজন নাবালকের সাথে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণের একটি ধরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যদি এটা তাদের সম্মতিক্রমেও হয়। কারণ তারা বিশ্বাস করেনা নাবালকের পক্ষে অর্থপূর্ণ সম্মতি দেয়া সম্ভব।

কিন্তু প্রাচীন গ্রীসে, যে বয়সে কেউ একজন অর্থপূর্ণ সম্মতি দেয়ার উপযুক্ত বলে মনে করা হতো তা অনেক আগে ছিল। ক্যাভানাফের মতে, গ্রীক সমাজে একবার কেউ একজন বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে গেলে তাকে একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ নাগরিক হিসেবে দেখা হতো যিনি যৌনতা, মর্যাদা এবং সম্মানের বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। যদিও বর্তমান সময়ে পেডেরাস্টি শব্দটির অপব্যবহার বোঝায়।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গ্রীক একটি সম্পর্কে প্রবেশের সম্মতির প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানোর পূর্বে যৌন আচরণ করা যেতোনা। ইতিহাসজুড়ে সম্মতির বয়সগুলো উঠানামা করেছে এবং সম্মতিকে সেক্সের গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ মনে করা হয়েছে। আর এজন্য প্রাচীন গ্রীসের পেডোফিলিয়াকে আধুনিক যুগের বিধিবদ্ধ ধর্ষণ বলে বিবেচনা করা একদম ঠিক হবেনা। যেমন ক্যাভানাফ বলেছেন, যদিও আমরা আধুনিক সময়ে এ ধরণের অভ্যাসকে প্রত্যাখ্যান করতে পারিনা তবে সেই সময় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা একদমই উপস্থিত ছিল না। আর এজন্য পেডেরেস্টি গ্রীক শিক্ষার স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় একটি অংশ ছিল।

গ্রীকের দৃষ্টিকোণ থেকে, পেডেরাস্টি পেডোফিলিয়া ছিল না, তবে ক্লাসিক্যাল গ্রীসে বেড়ে উঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং গ্রীক সংস্কৃতিতে ছেলেদের জন্য এটাকে ক্ষতিকর মনে করা হয়নি।

এটি ছিল খুবই সাধারণ একটি পথ এবং সমস্ত গ্রীক যুবক এটি অনুসরণ করেছিল।

কিন্ত কেন প্রাচীন গ্রীসে সমকামিতা এত সাধারণ ছিল?

ঘরের হাতিটিকে ডাকার সময় এখন এসেছে__তখন কীভাবে এত মানুষ সমকামী ও উভকামী ছিল? আজ প্রায় ৩.৫% মানুষ সমকামী বা উভকামী হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু প্রাচীন গ্রীকরা কেন গণতান্ত্রিক হারে সমকামিতা করতো? যৌন অভিমূখিতা যদি সম্পূর্ণভাবে জৈবিক হয় । তবে সমস্ত ইতিহাসজুড়ে এটা স্থির ও অপরিবর্তনশীল হওয়া উচিত ছিল না? সংক্ষিপ্ত উত্তর না___ ‌যৌনতা জীববিজ্ঞান দ্বারা নির্ধারিত হয়না।

আমরা জানি যৌন অভিযোজন সম্পূর্ণ জৈবিক নয় কারণ নইলে সমকামিতার ব্যাপকতা সময় ও স্থানজুড়ে উঠানামা করতো না। সর্বোপরি, প্রাচীনকাল থেকেই মানব জীববিজ্ঞান ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়নি। জীববিজ্ঞান দ্বারা নির্ধারিত হওয়ার পরিবর্তে যৌন অভিযোজন সংস্কৃতি দ্বারাও আকার পায়। প্রাচীন গ্রীস ও ইতিহাস জুড়ে আরও অনেক সংস্কৃতি এটা প্রদর্শন করেছে। কিন্তু তারমানে এই নয় যে কাভার্সন-থেরাপি-হকিং হোমোফোবরা বিশ্বাস করতে চায় যে, এটি তাদের পছন্দ। যদিও যৌন অভিযোজন আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কের পরিবেশের সাথে সমন্বিত হওয়ার ক্ষমতার কারণে সংস্কৃতি দ্বারা আকার প্রাপ্ত হয়। এর মানে এই নয় যে , কেউ তার পছন্দ অনুযায়ী এ অভিযোজন পরিবর্তন করতে পারে। আর আমরা এটাও বলতে পারিনা যে, অন্যান্য যৌন অভিযোজন থেকে এটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর। সাংস্কৃতিক প্রভাব যৌন অভিযোজন পরিবর্তনে গুরুতর ভূমিকা রাখে। আপনি যদি অনৈচ্ছিকভাবে সমকামী সমাজে বেড়ে উঠেন তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে কেউ একজনের মধ্যে বিষমকামী মনোভাব কাজ করছে।

মূলত, প্রাচীন গ্রীকে কোনো সুকঠিন আইডেন্টিটি নির্মিত ছিল না। তারা নিজেদের সমকামী বা বিষমকামী বলে চিহ্নিত করেনি।

আর বিষমকামিতার আধুনিক ধারণাটি শুরু হয় ১৯০০ সালে। পুরুষের মধ্যে যৌনতাকে নৈতিকভাবে খারাপ মনে করা হতোনা। কিন্ত গ্রীকদের মধ্যে একটি ধর্মান্ধতা ছিল তারা দুই পুরুষের মধ্যে যৌনতাকে গ্রহণ করতে পারতোনা কারণ তারা বিশ্বাস করতো আজ্ঞাবহ আধিপত্যশীলতা গতিশীলতাকে লঙ্ঘন করে। যেহেতু নারীদেরকে স্বাভাবিকভাবেই পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট মনে করা হতো তাই বিপরীত লিঙ্গের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পার্থক্য কোন ব্যাপারই ছিল না।

আর সমবয়সীদের সাথে সম্পর্ক করা যেতোনা যেনো সে অন্য একজনকে ছাত্র হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

মহিলাদের সাধারণত ১৪ বছর বয়সে বিয়ে করা হয় যা পেডেরাস্টিক যুবকদের চেয়ে যথেষ্ট কম। সম্পূর্ণরূপে বিকৃত এবং জঘন্য হিসেবে প্রাচীন গ্রীক পেডেরাস্টির আধুনিক উপলব্ধি আমাদের হোমোফোবিয়াকেই প্রতিফলিত করে। আমার নিজস্ব মতামত হলো, গ্রীকদের আদর্শ করে আধুনিক শিশুকামিতাকে সিদ্ধ করা যায়না। আধুনিক যুগের শিশুকামীদের সাথে গ্রীকদের মেলানো কঠিন। দ্বিতীয়তঃ প্রাচীন বিশ্বে কোনোকিছু সাধারণ ছিল বলে এখনো যে তা সাধারণ হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর এ অর্থে আমাদের এখন এটা ক্ষমা করা উচিত নয়। সর্বোপরি, প্রাচীন গ্রীসে দুর্ব্যবহার প্রবল ছিল। দাসদের মালিকানার ক্ষেত্রেও তাই। আশা করি আমরা সমর্থন করতে পারি যে , এটি নৈতিক অসুস্থ্যতার কোনোটিকেই সমর্থন করেনা। গ্রীক সাহিত্য ও সক্রেটিসের জ্ঞান প্রশংসা করার সময় আমরা তাদের সংস্কৃতির নিন্দাও করতেও সচেতন থাকবো।

তথ্যসূত্রঃ