আপনার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক কে?

গ্যালাক্সির কোলে চোখ রাখলে উলঙ্গ চোখে আমরা ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের বদৌলে শুধু ৫০০০ নক্ষত্র সম্পর্কেই সচেতন হই , ঠিক তেমনিভাবে নিউরনের এ বিশাল ঘণ রহস্যঘেরা জঙ্গলে, আমার আর আপনার ব্রেন পরমাণু থেকেও ক্ষুদ্র একটি অংশে চেতন।

article on
The brain
reference
Based on David Eaglemen
writer name
LEEHON
position
Researcher at Blind watchmaker
part
10

দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির এ মহাকাশে হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে তাকালে তাকে যত গভীর ও বিশাল মনে হয় এ মহাবিশ্ব তার থেকেও বিশাল। ঠিক একইভাবে MRI, EEG, FMRI ও MEG দিয়ে আমরা যখন দশ বিলিয়ন সেলে ঘেরা খুলির ভেতরের ইউনিভার্সকে অনুসন্ধান করি আমাদের সচেতন অভিজ্ঞতাকে ছাড়িয়ে সে মহাবিশ্বের বিশালতা বিলিয়ন বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে সরে যায়। গ্যালাক্সির কোলে চোখ রাখলে উলঙ্গ চোখে আমরা ১০০ বিলিয়ন নক্ষত্রের বদৌলে শুধু ৫০০০ নক্ষত্র সম্পর্কেই সচেতন হই , ঠিক তেমনিভাবে নিউরনের এ বিশাল ঘণ রহস্যঘেরা জঙ্গলে, আমার আর আপনার ব্রেন পরমাণু থেকেও ক্ষুদ্র একটি অংশে চেতন। আজ আমরা আমাদের ইনার স্পেসের বিশালতার একটি আভাষ পেয়েছি। আমরা কত সহজে বন্ধুর চেহারা, প্রেমিকার চুল, শিক্ষকের কৌতুক অথবা ফ্রিজে রাখা খাবার বের করতে পারি। কিন্তু আসলে এ সব সম্ভব কারণ আমাদের খুলির ভেতর ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কম্পিউটেশন সংঘটিত হয়, এ সকল গণনা আপনার চেতনার আড়ালে। এ মুহূর্তে, আপনার জীবনের অতীতের মুহূর্তগুলোর মতোই, মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক বিশাল কার্যক্রম দ্বারা পূর্ণ হয়ে আছে; বিলিয়ন বিলিয়ন ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল রেসিং করছে আপনার ইন্টারনাল স্পেসে যা নিউরনের মাঝখানে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কানেকশনের ভেতর কেমিক্যাল পালস ট্রিগার করছে । একটি সিম্পল কাজ করার জন্যও আপনার মস্তিষ্কের ভেতর বিশাল সব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। আশার কথা হলো, গল্পের কোনো চাঁদের বুড়ির আশীর্বাদে আপনি এই ভয়াবহ কার্যক্রম সম্পর্কে অজ্ঞাতই থেকে যান । আর সে অন্য কেউ নয়, বিবর্তন। জঙ্গলের ভয়ানক পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিবর্তে আপনি যেনো সিংহের খাদ্যে পরিণত না হয়ে যান । Emergency Decision নেয়ার জন্য অভিযোজিত হয়েছে আপনার লেফট ব্রেন, জন্ম হয়েছে অবচেতন ও সচেতন মনের তারতম্য।

আপনার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক কে?

মনে করুন, আজ থেকে ৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্বের একজন অস্ট্রোলোপিথের সামনে একটি সিংহ দাঁড়িয়ে আছে। এ মুহূর্তে সে যদি এমার্জেন্সি সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, সে যদি সচেতনভাবে পরিকল্পনা করে তবে তার ব্যাপক সময় নষ্ট হয়ে যাবে কারণ একটি ভয়ের উপলব্ধি তৈরি করার জন্য তার মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কের ভেতর যে গণানাতীত কম্পিউটেশন সম্পাদিত হয় তা তখন তাকেই সচেতনভাবে করতে হবে! এ প্রক্রিয়া টাইম অপটিমাইজ নয়। এ জন্যই আমাদের আন-কনসাস মেশিনারি বিবর্তিত হয়েছে। আমরা রিয়েলিটির বৃহৎ একটি অংশ সম্পর্কে সচেতন নয় কারণ এত গণনাতীত কম্পিউটেশন করতে গেলে আমাদের ব্রেনের বিপুল সময় ও শক্তির প্রয়োজন হয় ! আমাদের আদিম পূর্বসুরিদের উপর তাদের চারপাশের হিংস্র জীব জন্তু ও পরিবেশগত প্রভাব যে চাপ সৃষ্টি করেছিল সে চাপ থেকেই মূলত তাদের মধ্যে সেকেন্ডের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের ভেতরই সিদ্ধান্ত নেয়ার নিউরাল ম্যাকানিজম বিবর্তিত হয়েছিল যেনো তাদের সচেতন মনের হস্তক্ষেপ তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনাকে নষ্ট না করে দেয়!

মনে করুন আপনি একটি কফি শপে বসে আছেন। কফিটা হাত দিয়ে তুলে আপনি মুখে দেবেন! খুবই সিম্পল একটি কাজ, তাইনা? প্রথমে আপনার ভিজুয়াল সিস্টেম আপনার সামনের কফির মগটা স্ক্যান করবে। আপনার এক্সপেরিয়েন্স আপনার অতীতের কফির মেমরিকে ট্রিগার করবে। আপনার ফ্রন্টাল কর্টেক্স এ সিগনালটি মোটর কর্টেক্সে স্থাপন করবে যা একদম যথাযথভাবে মাংসপেশির সংকোচনকে নিয়ন্ত্রণ করবে, আপনার ধড়, বাহু ও হাত সবকিছু যেনো আপনি কাপটি ধরতে পারেন । আপনি যখন কাপটি স্পর্শ করবেন তখন আপনার নার্ভ কাপটির ওজন, স্পেসে তার পজিশন, টেম্পারেচার এবং তার হ্যান্ডেলের মসৃণতা সবকিছুর তথ্য নিয়ে যাবে আপনার ব্রেনে। এ ইনফরমেশন নির্গত হবে আপনার মস্তিষ্কের দুটি অংশের জটিল কেরিওগ্রাফিতে যার মধ্যে আছে ব্যাসাল গ্যানগ্লিয়া, সেরিবেলাম, সোমাসেন্সরি কর্টেক্স এবং অন্যান্য অংশ। সেকেন্ডের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের মধ্যে আপনার হাত যখন তার খপ্পর দিয়ে কাপটি ধরে এ ফোর্স একটি সমন্বয় তৈরি করবে ব্রেনের ভেতর । তীব্র গণনা ও ফিডব্যাকের পর, আপনি আপনার মাসলকে কাপের সাথে সমন্বয় করতে পারবেন যেনো আপনি এটিকে মসৃণভাবে মুখে তুলে নিতে পারেন। আপনি কিছু মাইক্রো-এডজাস্টমেন্ট তৈরি করবেন কাপটি আপনার ঠোঁটের ভেতর নেয়ার জন্য এবং এটিকে সাবধানে ঢালবেন যেনো সেই তরলগুলো আপনাকে পুড়িয়ে না দেয়! এ সম্পূর্ণ কাজের গণনা সম্পাদন করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় বারটি সুপার কম্পিউটার প্রয়োজন। আপনার মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক এ কাজগুলি নিমিষেই করছে, যেখানে আপনার সচেতন মন একদম বিলুপ্ত!

আপনার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক কে?

আপনার সচেতন মন নেই বললেই চলে এখানে! আপনি সচেতনভাবে করতে গেলে আপনার ব্রেনের জন্য অনেক এনার্জি প্রয়োজন হতো এক্ষেত্রে , তাপমাত্রা প্রচণ্ড বেড়ে যেতো, নিউরাল নেটওয়ার্ক এতটা উত্তাপ সহ্য করতে পারতোনা, থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” অনুসারে এন্ট্রপি বাড়তেই থাকতো এবং অবশেষে আপনার ব্রেন ক্রাশ করতো, হয়তো একটি কফি পান করতে গিয়েই আপনি কয়েকশত বছর কাটিয়ে দিতেন কফি শপে ! কিন্তু তার পরিবর্তে আপনার মস্তিষ্কের জন্য এনার্জি নির্ধারিত, আপনার অধিকাংশ আবেগ,অনুভূতি ও কর্ম আপনার সাব-কনশাস মেশিনারির নিয়ন্ত্রণে যার ফলে আপনি এসবের কোনোটাই অনুভব করতে পারেন না!

প্রযুক্তি যত ভালো কাজ করে আমরা প্রযুক্তির উপর তত বেশি বিশ্বস্ত হয়ে উঠি, আর যতই বিশ্বাস বাড়ে আমাদের নির্ভরশীলতাও বৃদ্ধি পেতে থাকে, একটা সময় আমরা ভুলেই যাই যে প্রযুক্তি কোন প্রক্রিয়ায় কাজ করছে ।ইন্টারনেট আমরা এত সহজেই আজ ব্যবহার করতে পারি যে আমরা ভুলেই গেছি এর পেছনে কত জটিল ম্যাকানিজম নিযুক্ত কিন্তু তবুও আমরা একটি ইলিউশনের মধ্যে বাস করি আমরা ইন্টারনেট সম্পর্কে অনেক কিছু জানি । একবার যখন ফেইসবুক কোনো কারণে সমস্যা করে আমরা সাইকো হয়ে যাই, আমরা বুঝতে পারি যে আমরা আসলে এটি সম্পর্কে কত কম জানি। একইভাবে আমাদের ব্রেন এত স্মুথলি কাজ করে যে আমরা বুঝতেই পারিনা আমরা আমাদের ব্রেন সম্পর্কে খুব বেশি জানিনা।

আর এটি অর্জিত হয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তনের ভেতর দিয়ে। কোনো কারণে যদি সিস্টেম ক্রাশ করে তবে কি ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে চলুন তার বাস্তব একটি উদাহরণ দেখে নেই। আয়ান নামক একজন ব্যক্তি ১৯ বছর বয়সে এক দূর্লভ নার্ভ ডেমেজের শিকার হয়। যার ফলে তার মধ্যে Gastric Flu নামক একটি রোগের সৃষ্টি হয়। তার সেন্সরি নার্ভ ডেমেজ হয়ে যায় যার ফলে তার ব্রেইন সেন্স অব টাচ অনুভব করতে পারেনা। সেন্স অব টাচের কোনো সিগনালই তার মস্তিষ্কে যায়না। এর ফলে আয়ান তার দেহের মুভমেন্টকে অটোম্যাটিক্যালি ম্যানেজ করতে পারতোনা। ডাক্তার তাকে বলেছিলো হুইলচেয়ারে জীবন কাটিয়ে দিতে কিন্তু সে এটা মেনে নিতে পারেনি। স্পর্শের অনুভূতি হারিয়ে ফেলার কারণে আয়ান তার দেহের পজিশন ও লোকেশন সম্পর্কে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সে জানতোই না যে তার শরীর কোথায়!

No description available.
আমরা যখন চোখ বন্ধ করে রাখি তখনও আমরা আমাদের লোকেশন ও পজিশন সম্পর্কে জ্ঞান রাখি, আমরা জানি আমাদের হাত ও পা সোজা অথবা বাকা। মাসলের অবস্থান জানার ক্যাপাসিটির সাথে সম্পৃক্ত “Proprioception”! পেশি, কণ্ডুরা ও জয়েন্টের রিসেপ্টর আপনার জয়েন্টের এঙ্গেল সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে এমনকি আপনার পেশির টেনশন ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কেও। সামগ্রিকভাবে এটি আপনাকে আপনার শরীরের অবস্থান সম্পর্কে অবগত করে যাতে আপনি দ্রুত এডজাস্টমেন্ট করতে পারেন। আপনি যদি কোন কারণে আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পজিশন হারিয়ে ফেলেন আপনি খাওয়া, হাটা অথবা টাইপিং কিছুই করতে পারবেন না! “

আয়ানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু সে এটা মেনে নিতে পারেনি। সে বাহিরে বের হয়ে হাটার চেষ্টা করতো। তার শরীরের প্রতিটি মুভমেন্টের জন্য সে সচেতনভাবে চিন্তা করতো। তার অঙ্গের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা না থাকায় আয়ান তার প্রতিটি মুভমেন্ট সম্পর্কে সচেতন থাকতো, সচেতনভাবে ডিটারমাইন করতো। সে তার ভিজুয়াল সিস্টেম ব্যবহার করতো তার অঙ্গ পর্যবেক্ষণের জন্য। আয়ানের সেন্স অব টাচ না থাকায় সে ফ্লোরের উপস্থিতিও অনুভব করতে পারতো না। প্রতিটি পদক্ষেপে সে গণনা ও সমন্বয় করতো। তার চারপাশের মানুষগুলো কত মসৃণভাবে হাঁটতে জানে। আয়ান অবাক হতো যে তারা আসলে কত জটিল একটি সিস্টেম সম্পর্কে কিছুই জানেনা। একটি সুপার কম্পিউটার যে কাজগুলো করতে বিপুল পরিমাণ শক্তি খরচ করে সে কাজগুলো আমাদের ব্রেন ৬০ ওয়াটের একটি Light Bulb এর শক্তি ব্যবহার করেই করতে পারে! আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের দেহের মোট শক্তির ২০ শতাংশই কেবল ব্যবহার করে! অতএব বুঝতেই পারছেন আপনাকে Whole System সম্পর্কে কনশাস এওয়ারনেস দেয়া ব্রেনের পক্ষে সম্ভব নয়।

No description available.

কিন্তু আপনার জীবনের গঠন ও রঙ পরিবর্তন হচ্ছে খুলির তলার অন্ধকার ঘরের অদ্ভুর সব কর্মকাণ্ড দ্বারা; আপনি কি করেন, আপনার সাথে কি হয়েছে, আপনার রিয়েকশন, আপনার ভালোবাসা ও আকাঙ্খা, আপনি যা সত্য কি মিথ্যা বিশ্বাস করেন। আপনার অভিজ্ঞতা হলো এই Hidden Network এর Output মাত্র। তাহলে সত্যিকার অর্থে এ জাহাজের স্টিয়ারিং কার হাতে?

কনশাসনেসঃ

যদি ন্যাচারাল সিলেকশন ২০ শতাংশ থেকে বেশি শক্তি ব্রেনকে প্রদান করতো , তবে thermodynamic এর সেকেন্ড ‘’ল’ অনুসারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেত আর অত্যাধিক তাপমাত্রা আপনার নিউরাল সার্কিটে বাড়িয়ে দিত এন্ট্রপি । আপনার সাব-কনসাস মাইন্ড ঠিক এজন্যই বিবর্তিত হয়েছে। একদিকে হিংস্র জন্তুর ভয় আর অন্যদিকে ফিজিক্সের থার্মোডায়নামিক্স। আমরা কী ভবিষ্যতকে স্মরণ করি?

প্রতিদিন আপনি ঘুম থেকে জাগ্রত হন। আপনার বেডরুম থেকে ব্যাস্ত নগরী সবকিছু প্রকাশিত হয় আপনার চোখে। আপনার সামনে বিস্ময়কর সব ঘটনা ঘটতে থাকে; আমাদের গ্রহের সবচেয়ে জটিল অবজেক্ট তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়।। কিছুক্ষণ আগেই আপনি ঘুমিয়ে ছিলেন। আপনার ব্রেনের বায়োলজিক্যাল ম্যাটারিয়াল একই ছিল কিন্তু একটিভিটি প্যাটার্ন একটু পরিবর্তন হয়ে গেছে। এ মুহূর্তে আপনি আমার আর্টিকেলটি পড়ছেন এবং এখান থেকে মিনিং বের করছেন৷ আপনি আপনার ত্বকে রোধ ও চুলে একটি হাওয়া অনুভব করছেন। আপনি হয়তো আপনার মুখের ভাষার অবস্থান সম্পর্কে চিন্তা করছেন অথবা বাম পায়ের জুতা নিয়ে। যখনই আপনি জাগ্রত হন তখনই আপনি আপনার আইডেন্টিটি, জীবন, আকাঙ্খা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমাদের সচেতন মন আমাদের দৈনান্দিন অপারেশনের ঠিক কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করে। বিবেচনা করুন, আপনি কিভাবে এ সেন্টেন্স পড়ছেন। আপনি যখন এ পেজের ভেতর দিয়ে আপনার চোখ অতিক্রম করলেন আপনি কিন্তু আপনার চোখের দ্রুত ও গতিশীল জাম্প সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। তারা শুধু টেক্সগুলোকে গ্রহণ করে যখন আপনি থামেন এবং একটি পজিশনে স্থির হোন, এটা সাধারণত বিশ মিলিসেকেন্ডের জন্য হয়ে থাকে। আমরা এ খোড়ানো, লাফানো, থেমে যাওয়া অথবা শুরু করা ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন নয় এবং অনেকে হয়তো এ কথাগুলো বুঝতেই পারেন নি। কারণ আমাদের ব্রেন আমাদের বিশ্বের উপলব্ধিকে স্থিতিশীল রাখার জন্য অনেক দুর্যোগ পোহায়। আপনার মস্তিষ্কই এ ঝামেলাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে আপনার সচেতন মন থেকে। পড়া বিষয়টা আরও অদ্ভুত হয়ে উঠে, এ ব্যাপারটি বিবেচনা করলে, যখন আপনি কোনোকিছু পড়েন তখন সেটির মিনিং সরাসরি আপনার মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। কিন্তু আপনি যদি এটার জটিলতা বুঝতে চান নিচের লাইনগুলো খেয়াল করুনঃ

Мен сени сүйөм Махасвета.

我爱你玛哈斯维塔。

నేను నిన్ను ప్రేమిస్తున్నాను మహాశ్వేతా.

আপনি যখন চায়নিজ, ফ্রান্স বা হিন্দি ভাষা পড়বেন তখন আপনার কাছে সেটা অত্যন্ত স্ট্রেঞ্জ মনে হবে কিন্তু যখন এ স্ক্রিপ্টগুলো পড়ার মাস্টারে পরিণত হয়ে যাবেন তখন আপনার কাছে এটাকে একদম সহজ ও পরিশ্রমহীন মনে হবে। আমরা বুঝতেও পারিনা যে আমরা মিনিংলেস বক্রতা বা প্যাচগুলো বুঝতে ঠিক কত পরিশ্রম করি। আপনার ব্রেন স্কিনের আড়ালে এ কাজ গুলো করে। প্রশ্ন হলো, তাহলে কে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে? আমাদের এ নৌকার মাঝি কে? আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্ম কি আপনার দৃষ্টির আড়ালে বিশাল নিউরাল মেশিনারি নয়? আপনার প্রতিদিনকার জীবনের গুণমান নির্ধারণ করে কি আপনার সিদ্ধান্তগুলো নাকি একটি ঘণ নিউরনের জঙ্গলে কেমিক্যাল ট্রান্সমিশনের অবিচলিত গুঞ্জন? আমরা এখন জানবো আপনার মধ্যে যে চেতনা কাজ করে তা শুধুমাত্র আপনার মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র একটি অংশের একটিভিটি। আপনার একশন ও বিলিফ নিয়ন্ত্রিত হয় আপনার মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক দ্বারা যা নিয়ে আপনি সচেতন নন।

অস্টিন ন্যাবার

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন ট্যালেন্টদের মস্তিষ্ক গবেষণা করে নিউরোসায়েন্টিস্টরা মানব মস্তিষ্কের অনেক রহস্য উন্মোচন করে থাকেন। অস্টিন ন্যাবার তার মধ্যে একজন। দশ বছর বয়সি একজন শিশু “Cup Stacking” নামক একটি খেলায় যে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। সে এতটাই দ্রুতগতিতে তার হাত মুভ করে যা আমরা চোখ দিয়ে ধরতে পারিনা। অস্টিন প্লাস্টিক গ্লাসের স্তুপিকৃত সারিকে প্রতিসাম্যতার সাথে তিনটি আলাদা আলাদা পিরামিডে পরিণত করতে পারে। কিন্তু এ কাজ সে এতটাই দ্রুত গতিতে করে সে যখন কাপগুলো মুভ করে আপনার চোখে সেগুলো অদৃশ্য দেখাবে। আমার মনে হয় এ বিষয়টি বোঝার জন্য আপনাদের পথমত একটি ভিডিয়ো দেখানো প্রয়োজন। প্রথমে এ ভিডিয়োটি দেখুন।

No description available.
” EEG হলো ইলেক্ট্রোয়েনসিপলোগ্রামের একটি সংক্ষিপ্ত রুপ। এর মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিক্যাল একটিভিটি পরীক্ষা করা হয়। মস্তিষ্কের সারফেজে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইলেক্ট্রোড বসানো হয় যা আপনার ব্রেন ওয়েভ সংগ্রহ করবে। আমাদের নিউরনের ভেতর যে গড় ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল তৈরি হয় তার একটি কথ্য টার্ম। জার্মান সাইকোলজিস্ট ও ফিজিসিস্ট হ্যানস বার্গার ১৯২৪ সালে সর্বপ্রথম EEG ব্যবহার করে মানব মস্তিষ্ককে জেনেছিলেন। ১৯৩০ সাল থেলে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত তারা কিছু ভিন্ন ভিন্ন ধরণের ব্রেন ওয়েভ পড়েছিলেন। ডেল্টা ওয়েভ সংঘটিত হয় ঘুমের ভেতর। থিটা ওয়েভ জড়িত ঘুম, বিশ্রাম ভিজুয়ালাইজেশন ও শান্ত মনোভাবের সাথে। বিটা ওয়েভ তখনই দেখা দেয় যখন আপনি সক্রিয়ভাবে কোনো চিন্তা ও প্রবলেম স্লোভ করেন। তখন থেকে অন্যান্য ব্রেন ওয়েভগুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। যার মধ্যে রয়েছে গামা-ওয়েভ যা কেন্দ্রীভূত মানসিক সক্রিয়তার সাথে জড়িত। বিশেষ করে রিজনিং ও প্লানিং এর সাথে। আমাদের সামগ্রিক ব্রেন একটিভিটিজ এ ধরণের ভিন্ন ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সীর একটি মিশ্র রুপ কিন্তু এটা নির্ভর করে আমরা কি করছি তার উপর।

অস্টিন এ কাজটি করতে সময় নিয়েছিল মাত্র ৫ সেকেন্ড কিন্তু ডেভিড ইগলম্যান যখন একই কাজ করার চেষ্টা করেন তার সময় খরচ হয় ৪৩ সেকেন্ড। আপনার কি মনে হয়, অস্টিনের মস্তিষ্ক ৫ সেকেন্ডে কাজটি করার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে?

No description available.

তার মস্তিষ্ক এ কমপ্লেক্স একশন কো-অর্ডিনেট করার জন্য বিপুল পরিমাণ শক্তি খরচ করেছে? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার জন্য ডেভিড ইগলম্যান ও অস্টিন দুজনেই ইলেক্ট্রোড ক্যাপ পরিধান করেন। যা তাদের খুলির ভেতর ইলেক্ট্রিক্যাল একটিভিটি সনাক্ত করবে। কিন্তু EEG রেকর্ড আমাদের কি বলছে? এটি একটি যৌক্তিক অনুমান যে অস্টিন যেহেতু প্রায় ৮ গুণ দ্রুতগতিতে এ কাজটি করেছে তার ব্রেন আমাদের থেকে অনেক বেশি শক্তি খরচ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো অস্টিনের মস্তিষ্কের তুলনায় ইগলম্যানের মস্তিষ্কের শক্তির পরিমাণ বেশি খরচ হয়েছে। এ এক্সপেরিমেন্ট দেখায় যে, অস্টিনের তুলনায় যে ব্যক্তি এ জটিল কাজটি শিখছে তার মস্তিষ্কই অতিরিক্ত পরিশ্রম করে ও বিপুল পরিমাণ শক্তি খরচ হয়। ইগলম্যানের মস্তিষ্কে EEG বিটা ওয়েভ সনাক্ত করেছ যেটি কঠিন কোনো সমস্যা সমাধানের সাথে জড়িত আর অস্টিনের মস্তিষ্ক প্রদর্শন করেছিলো আলফা ওয়েভ ব্যান্ড, এমন একটি স্টেট যেটি মস্তিষ্কের রেস্টের সাথে জড়িত। অস্টিনের কর্মের স্পিড ও কমপ্লেক্সিসিটি অনেক বেশি হওয়ার পরও, অস্টিনের ব্রেন ছিলো শান্ত।

No description available.

কিন্তু কেনো? আসলে অস্টিনের ট্যালেন্ট তার মস্তিষ্ককে ফিজিক্যালি পরিবর্তন করে দিয়েছিল। কয়েক বছরের প্রাক্টিসের পর, তার মস্তিষ্কে স্পেসিফিক প্যাটার্নের ফিজিক্যাল কানেকশন তৈরি হয়। কাপ স্ট্যাকিং খেলার এ দক্ষতা তার মস্তিষ্কের স্ট্রাকচারে পরিণত হয়ে যায়। যার ফলে অস্টিন এখন আগের চেয়ে কম পরিমাণ এনার্জি অপচয় করে। আর অন্যদিকে আপনি যদি একই কাজটি করতে চান আপনার সচেতনতাই আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়াবে। আপনি আপনার জ্ঞানগত সফটওয়্যার ব্যবহার করবেন এ কাজটি করার জন্য; কিন্তু অস্টিন তার দক্ষতাকে স্পেশালাইজড কগনিটিভ হার্ডওয়্যারে পরিণত করেছে। আমরা যখন নতুন কোনো দক্ষতা শিখি তখন সেটা আমাদের মধ্যে ফিজিক্যালি হার্ডওয়্যার্ড হয়ে যায়। কিছুকিছু মানুষ এটাকে মাসল মেমরি বলে। ডেভিড ইগলম্যান বলেন, আমাদের দক্ষতা আমাদের পেশির মধ্যে সংরক্ষিত থাকেনা। কিন্ত ক্রিকেট, ফুটবল বা কাপ স্ট্যাকিং এর মতো নিয়মতান্ত্রিক খেলাগুলো আমাদের ব্রেন কানেকশনে পরিণত হয়ে যায়।

5 reasons why your brain is mind-blowing

বছরের পর বছর কাপ স্ট্যাকিং খেলার কারণে তার মস্তিষ্কের বিস্তারিত নিউরাল নেটওয়ার্কের স্ট্রাকচার পরিবর্তন হয় আর এখান থেকেই আমরা বুঝতে পারি কীভাবে সে এত দ্রুতগতিতে পিরামিডগুলো তৈরি করে। প্রথম প্রথম সাইকেল চালাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয় কিন্তু একটা সময় আমরা এমনভাবে সাইকেল চালাই আমাদের কোনো চেতনাই আর সাইকেল চালানোর জন্য ব্যবহার করতে হয়না। ঠিক একইভাবে অস্টিনের কাপ স্টাকিং তার প্রসিডিউরাল মেমরিতে পরিণত হয়ে গেছে যা লেখা হয়েছে তার মস্তিষ্কের মাইক্রোস্কোপিক হার্ডওয়্যারে আর এতে করে তার কাজগুলো দ্রুততর ও শক্তি সাশ্রয়ী হয়ে উঠে। প্রাক্টিসের মাধ্যমে এ পুনরাবৃত্তিমূলক সিগনাল আমাদের নিউরাল নেটওয়ার্ক এ পাস হয়, যা সিন্যাস্পকে দৃঢ় করে তোলে এবং দক্ষতা পরিণত হয় সার্কিটে। প্রকৃতপক্ষে, অস্টিনের ব্রেন এ ধরণের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটায় যা ত্রুটিহীনভাবে চলতে পারে। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে কাপ স্ট্যাকিং শিখতে হবে, ব্রেন স্লোলি কাজ করবে, এনার্জির প্রতি ক্ষুদার্ত এরিয়া প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স, সেরিবেলাম বিশেষ রুলস পালন করবে, যা আপনার মুভমেন্টগুলোকে কো-অর্ডিনেট করবে যার জন্য যথার্থতা ও একুরেট টাইমিং প্রয়োজন হতে পারে। যখনই দক্ষতা আপনার কনশাস কন্ট্রোলের আওতার বাহিরে চলে যায় তখন কোনোপ্রকার চিন্তা ছাড়াই আপনি এ কাজটি করতে পারেন৷ কিছুকিছু ক্ষেত্রে দক্ষতার হার্ডওয়্যার এতটাই স্ট্রং হয়ে উঠে যে মস্তিষ্কের ভেতর এ সার্কিট খুঁজেও পাওয়া যায়, স্পাইনাল কর্ডের মধ্যে। বেড়ালদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ অপসারণ করে তাদের উপর এ পরীক্ষাটি করা হয়, তবুও তারা ট্রিডমিলে দৌড়াতে পারে এটাকে আমরা বলতে পারি, The Complex System programs involved in gait are stored at a low level of nervous System!

রানিং অটোপাইলট

সারাজীবন মানুষ কী করে যদি প্রশ্ন করা হয় তবে তার সাপেক্ষে যে উত্তর আসবে তা খুবই সাধারণ, মানুষ খায়, হাসে, খেলে, সাঁতার কাটে ও ড্রাইভিং করে। কিন্তু এগুলোর কোনোটাই আসলে নিউরোলজিক্যালি ঠিক না। মানুষ আসলে পড়ালেখা, গান-বাজনা অথবা খেলাধুলা কিছুই করেনা সে তার মস্তিষ্কের নিউরাল সার্কিট লেখে। মানুষ মূলত তার নিজের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশনের লেখক। আমরা যা প্রাক্টিস করি তা আমাদের ব্রেন রিরাইট করে।  আমাদের ব্রেন স্ট্রাকচার প্রোগ্রাম করার সক্ষমতা এ পৃথিবীতে আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা। আইনস্টাইন এত জটিল সব ইকুয়েশন নিয়ে কাজ করলেও তার মস্তিষ্কের কোনো এনার্জি খরচ হয়নি। কিন্তু ছোটকালে আইনস্টাইন যখন গণিত শিখেছিল তখন তার সংগ্রাম করতে হয়েছিল। কারণ তখন কমপ্লেক্স প্রবলেম সমাধান করার জন্য তার ব্রেন নিউরাল সার্কিটে হার্ডওয়্যার তৈরি হয়নি। একবার যখন মস্তিষ্কে হার্ডওয়্যার তৈরি হয়ে যায় তখন কোন চিন্তা, সচেতন পরিশ্রম ছাড়াই স্কিল রান করতে থাকে।

এ ধরণের অটোমাইজেশনের একটি প্রভাব আছে; আমাদের নতুন দক্ষতা আমাদের সচেতনার আড়ালে চলে যায়। আপনার ভেতরে কী হচ্ছে সে সম্পর্কে আপনার সচেতনতা কাজ করেনা বা কোনো কনশাস এক্সেস থাকেনা। আপনি যখন সিড়ি বেয়ে হাঁটেন, যখন কনভারসন করেন, আপনার কোনো ধারণা থাকেনা যে কিভাবে আপনি আপনার শরীর ও ভয়েসের কয়েক ডজন মাইক্রো-কারেকশন করেন। কিভাবে আপনার জিহবা আপনার জন্য সঠিক শব্দ তৈরি করতে বেত্রাঘাত করে। এগুলো হলো কঠিন কাজ যা আপনি সবসময় করেন না। কিন্ত যেহেতু এগুলো অটোম্যাটিক ও আনকনশাস হয়ে গেছে, এটি আপনার ভেতর একটি অটো-পাইলট তৈরি করে। আপনি যখন আপনার প্রতিদিনকার পরিচিত রুট ধরে পথ চলেন তখন এমনকি আপনার মধ্যে রিয়েল কোনো মেমরিও কাজ করেনা। আপনার ড্রাইভিং স্কিল অটোমাইজড হয়ে যায় আপনি আপনার প্রাত্যহিক রুটিনের ভেতর আনকনসাসলি মুভ করেন। যে চেতনা প্রতিদিন ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর আপনার ভেতর সক্রিয় হয় সেটি ড্রাইভার নয়, পেসেঞ্জারে পরিণত হয়।

No description available.
“নিউরনের ভেতরকার কানেকশনকে বলে সাইনাপ্স। এই কানেকশন হলো যেখানে নিউরনের মধ্যকার কেমিক্যাল যেটাকে নিউরোট্রান্সমিটার বলে সেটি দুটি নিউরনের মধ্যে পরিবাহিত হয়। কিন্তু এই সাইনাপ্টিক কানেকশন গুলোর সবগুলোর দৃঢ়তা সমান নয়; তাদের ইতিহাস ও সক্রিয়তার উপর নির্ভর করে তারা দৃঢ় অথবা দূর্বল হয়। সাইনাপ্স তাদের পটেন্সি পরিবর্তন করে। নেটওয়ার্কের ভেতর ইনফরমেশন ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রবাহিত হয়। যদি কানেকশন যথেষ্ট দূর্বল হয়, এটি শুকিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। এগুলোর কোন কোনোটি রিওয়ার্ড সিস্টেমের নেতৃত্বে রি-কনফিগার হয় যা গ্লোবালি নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিন সম্প্রচার করে যখন কোনোকিছু ভালোভাবে সংঘটিত হয়। অস্টিনের ব্রেন খুব ধীরে ও খুব সুক্ষ্মভাবে পুনর্গঠন হয়েছিল __প্রতিটি মুভের অজস্র সফলতা ও ব্যর্থতার ভেতর দিয়ে, প্রায় একশত ঘন্টা প্রাক্টিসের পর।

অটোমাইজড স্কিলের একটি দারুণ আপস্যুট আছেঃ কখনো কখনো কনশাসলি ইন্টারফেয়ার করার কারণে সাধারণত তাদের পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যায়। শেখা দক্ষতা__তা যত কমপ্লেক্সই হোক সবচেয়ে ভালো তার নিজের উপর ছেড়ে দেয়া। এক্ষেত্রে আপনি পাথরে আরোহনকারী (Rock Climber) ডিন পটারের কথা চিন্তা করতে পারেন। বার বছর বয়স থেকে সে তার জীবনকে পাথরে ঝুলে থাকার জন্য ডেডিকেট করেছে। কয়েক বছর প্রাক্টিসের পর তার মস্তিষ্কের হার্ডওয়্যার যথাযথ হয়ে উঠেছে। এজন্য সে নির্ভর করতো তার ওভার ট্রেইন্ড ব্রেন সার্কিটের উপর, যেখানে তার কোনো সচেতন চিন্তা ছিলোনা। সে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তার অবচেতনকে দিয়ে দিয়েছিল। সে এমন একটি ব্রেন স্টেটে চলে গিয়েছিল যেটাকে বলা হয় “Flow”, যেখানে একজন চূড়ান্ত এথেলেটস তার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপভোগ করে। অন্যান্য এথেলেটসদের মতো ডিনও একসময় নিজেকে বিপদজনক পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল। এই স্টেটে ডিন তার ইনার ভয়েসের উপর নির্ভর করতোনা, সে নির্ভর করতো পাথরে আরোহন করার তার মেন্টাল হার্ডওয়্যারকে ব্যবহার করে যা কয়েক বছরের ট্রেনিং-এ প্রস্তুত হয়েছে। অস্টিন নেইবারের মতোই তার ব্রেন ওয়েভ কনসাস চিন্তা আক্রান্ত ছিলোনা। আমাকে দেখতে কি সুন্দর লাগছে? আমার কি এটা ওটা করা উচিত? আমার পেছনের দরজা কি বন্ধ করা উচিত? এ ফ্লোয়ের সময় তার ব্রেন এমন একটি স্টেটে প্রবেশ করতো যেটাকে বলা হয় Hypofrontality, হাইপোপ্রোন্টালিটির মানে হলো, এ সময় তার মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স কম সক্রিয় হয়। যেটি এবস্ট্রাক্ট থিংকিং, ফিউচার প্লানিং এবং সেন্স অব সেল্ফের প্রতি কনসান্ট্রেশন ক্রিয়েট করে।

Free Solo Climbing With A Parachute - Dean Potter - YouTube

মাঝেমাঝে আমাদের কনশাসনেস সাইডলাইনে চলে যায় কারণ আমাদের আনকনসাস ব্রেন এতটাই স্পিডে কাজ করে যে কনশাস মাইন্ড স্লো হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনি বেসবলের কথা চিন্তা করতে পারেন। বলের সাথে কন্টাক্ট করার জন্য প্লেয়ারের মস্তিষ্কের এক সেকেন্ডের চার ভাগের এক ভাগ সময় লাগে আর ঠিক এ সময়ের মধ্যে তার মস্তিষ্ক বেসবলের গতিপথ নির্ধারণ করে ফেলে। কিন্ত প্লেয়ার এটি সচেতনভাবে করেনা। সে বেসবলে হিট করে কি ঘটেছে সেটা রেজিস্টার হওয়ার পূর্বেই। এর মানে হলো, আমাদের কনশাসনেস শুধুমাত্র সাইডলাইনেই পরিত্যাক্ত হয়না, মাঝেমাঝে এটি ধুলোয় মিশে যায়।

তথ্যসূত্রঃ

আগের পর্বগুলোঃ

  1. ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ
  2. একজন টিনেজারের চোখে বিশ্ব!
  3. আইনস্টাইনের ব্রেনে ওমেগা সাইন!
  4. আমি কি আমার মেমরি?
  5. নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!
  6. হোয়াট ইজ রিয়ালিটি?
  7. ব্রেন কিভাবে কাজ করে?
  8. ব্রেন কিভাবে কাজ করে? (দ্বিতীয়)
  9. ব্রেন ও রিয়ালিটি
hsbd bg