হ্যালিক্সের বর্ষপূর্তি ও ম্যাগাজিন ওপেনিং

হ্যালিক্সের বর্ষপূর্তি ও ম্যাগাজিন ওপেনিং

হ্যালিক্সের বর্ষপূর্তি ও ম্যাগাজিন ওপেনিং

(Sᴄɪᴇɴᴄ,Tᴇᴄʜ, ₱ⱧłⱠØ𝕾 ᴀɴᴅ ᴛʜᴇ Fᴜᴛᴜʀᴇ ; Hᴇʟɪ𝖝-Tʜᴇ HʏᴘᴇʀSᴘᴀᴄᴇ)

আজ হ্যালিক্স; দ্যা হাইপারস্পেসের জন্মদিন। আর সে সাথে গ্রুপের নামটিও আজ কিছুটা বদলে দেয়া হয়েছে! যাইহোক হ্যালিক্সের এক বছর ফূর্তিতে হ্যালিক্সের সাথে সম্পৃক্ত নতুন ও পুরানো প্রায় ২০৮৫ জন সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।  প্রিয় সদস্যবৃন্দ, আপনাদের কাউকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে জানিনা কিন্তু আপনারা হ্যালিক্সের ভাবধারায় আমার সম্পৃক্ত হয়ে সম্পৃক্ত হয়ে গেছেন আমার জীবন,অনুভূতি, কর্ম ও ভালোবাসার সাথে। এ গ্রুপটি প্রাণবন্ত, সুন্দর ও আনন্দময় কারণ এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন আপনাদের মতো এক ঝাঁক মানুষের চির নবীন, চিন্তাশীল, স্বচ্ছ, উন্মোক্ত ও মহান অনুভূতি। আপনাদের প্রতি হ্যালিক্সের পক্ষ থেকে আমি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ( হ্যালিক্সে জয়েন করতে ”এখানে” ক্লিক করুন)

আজ ১৭’ই এপ্রিল। চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার এক দীর্ঘ রাত্রিকে অতিক্রম করার জন্য ২০২০ সালের ১৭’ ই এপ্রিল আমি এ গ্রুপটি তৈরি করি। আমি মূলত রক্ষণশীল, লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করি, ব্যক্তিগতভাবে আমি কারো সাথে মিশিনা, আমার চিন্তারজগতই আমার একমাত্র আশ্রয়। গ্রহ, নক্ষত্র ও ট্রিলিয়ন ছায়াপথে পরিপূর্ণ এ মহাবিশ্বকে নিয়ে পড়ে থাকতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। মানুষের প্রতি আমার প্রচন্ড আতঙ্ক কাজ করতো, আমি এদের ঠিক বিশ্বাস করে পারিনা, এরা অধিকাংশ সময় হিংসা,বিদ্বেষ আর অনর্থকতার মধ্যেই সময় অপচয় করে। অনেক জ্ঞানী মানুষও দেখেছি, চুড়ান্ত অহংকারী, অনুভূতির দিক থেকে একেবারেই দারিদ্র, ভাষার সাথে তার অন্তরের বিশালত্বের কোন সামঞ্জস্য নেই। চিন্তা করে মহাবিশ্ব নিয়ে অথচ অন্যকে অপমান ও আঘাত করে কথা বলে। মানুষ ফেসবুকেও অজস্র দল উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে। যেনো ব্যাবচ্ছেদই তাদের নিয়তি! মানবীয় হিংস্রতাকে আমি চিরকাল ভয় পাই। তাই আমি সবসময় মানুষ থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছি। আমি কথা বলতে বরাবরই ভয় পেতাম। এরা অল্প একটু ছুতা পেলেই সেটাকে অনন্তকাল প্যাচায়। একটা পর্যায়ে কথা বলা বন্ধ করে দেই আর ২০২১ সালে এসে এখন কোনোকিছু লিখতেও ভয় লাগে! মানুষ কেন যেনো প্রচন্ড নির্মম, এদেশের অধিকাংশ মানুষ কথা বলার ভাষা জানেনা, শব্দ প্রয়োগে কোনো নমনীয়তা ও শালীনতা নেই। আপনি অনেক চিন্তা ও গবেষণা করে একটা কিছু লিখবেন কিন্তু আপনাকে এমন একটা মন্তব্য করে বসে থাকবে যা আপনার মনোবলই ভেঙে চুরমার করে দেবে! সবাই কেমন যেনো একটা বিরাটত্বের ভাব নিয়ে বসে থাকে, নেই ভালোবাসা। সবাই কৃত্রিমতার মুখোশ পরে থাকে। সত্য নেই কারো মাঝে, নেই জীবনের গভীরতা কারণ তারা মনে করে তারা অনন্তকাল টিকে থাকবে, তাদের মৃত্যু নেই!


প্রিয় বন্ধুগণ, মূলত অল্পকিছুসংখ্যক সদস্য নিয়েই হ্যালিক্সের যাত্রা শুরু হয় । শুরু থেকে আমার উদ্দেশ্য ছিলো মস্তিষ্কের পরিচর্চা, যেনো সবার সংস্পর্শে থেকে নিজের মস্তিষ্ককে আরো উন্নত করতে পারি। মানুষ যখন নতুন কিছু শেখে তখন তার মস্তিষ্কে এক একটি নিউরাল কানেকশন তৈরি হয়, সে যখন ক্রমাগত কোনোকিছু একটা নিয়ে যুদ্ধ করে, তখন ঐ কাজের সাথে মস্তিষ্কের সম্পর্কযুক্ত কর্টেক্সগুলোর নিউরাল কানেকশন Rewire হয়, এভাবে ঐ অংশটি ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠে, সে প্রায় সুপারম্যানে পরিণত হয়। যেমন আইনস্টাইনের মস্তিষ্কের গণিত ও এবস্ট্রাক্ট থটের সাথে সম্পৃক্ত Angular Gyri এবং উভয় হেমিস্ফিয়ারের ইনফারিয়র পেরিটিয়াল এরিয়া প্রশস্ত ছিলো। আপনি যখন কোন চিন্তা করবেন, জানবেন, বুঝবেন আপনার মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন ততই জটিল হবে ও আপনি পারদর্শী হয়ে উঠবেন।


এজন্য ড. জাফর ইকবাল স্যর তার একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, মনে করো তুমি একটি ম্যাথ করছো, সেটা কিছুতেই মিলছেনা, অনেক পরিশ্রমের পর তুমি রাতে ঘুমিয়ে পড়েছো কিন্তু অংক মেলেনি। সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর যখন স্কুলে গেলে তখন অন্য একটি ম্যাথ তুমি খুব অনায়াসে সমাধান করে ফেললে। তোমার মনে হলো, ম্যাথটি খুবই সহয। আসলে, মোটেও ম্যাথটি সহয ছিলোনা, এটি আরো কঠিন ছিলো। তুমি যে গতকাল একটা ম্যাথ সমাধান করার চেষ্টা করেছিলে, সেটা করতে গিয়ে তোমার একশত বিলিয়ন সেলের মধ্যে ইন্টারেকশন হয়েছিলো, তোমার মস্তিষ্কের এক্সন,ডেনড্রাইড, সাইন্যাস্প সবাই ম্যাথটি নিয়ে কাজ করেছে, মস্তিষ্কে বিলিয়ন বিলিয়ন ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল সামনে পেছনে প্রায় আলোর গতিতে ছুটে বেড়িয়েছে, তোমার মস্তিষ্কের ভেতর একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিলো, মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন আরো আপডেট হয়েছিলো, তুমি যখন ঘুমিয়েছিলে, তখনও তোমার ব্রেন অচেতনে এ ম্যাথ নিয়ে কাজ করেছে, সে অনেকগুলো সিমুলেশন তৈরি করেছে, কিন্তু তোমার সচেতন মন জানতোনা, তোমার মস্তিষ্ককে তুমি যে সমস্যার মুখোমুখি করছিলে সে সেটা থেকে বের হওয়ার জন্য অচেতনে কাজ করে গেছে, আর এ জন্যই তোমার কাছে পরের দিনে, তার চেয়ে আরো কঠিন একটি ম্যাথ পানির মতো সোজা মনে হয়েছে! হেলিক্স প্রসঙ্গ


মূলত, এ গ্রুপটি আমি খুলেছি আমার ও আপনাদের মস্তিষ্ককে কিছু সমস্যার মুখোমুখি করার জন্য, কিছু ভাবনা বা ইনফরমেশন আপনাদের মনের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য, যাতে আপনাদের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন উন্নত হয়, যাতে আমরা সবাই চিন্তা ও বুদ্ধির দিক থেকে আরো উন্নত হয়ে উঠি। এ গ্রুপের উদ্দেশ্য হলো প্রচেষ্টা, জ্ঞান অর্জন ও মহাবিশ্বকে বোঝার প্রচেষ্টা, বোঝা বা জ্ঞান অর্জন নয়। এ গ্রুপটি আমি জ্ঞান- বিজ্ঞান প্রচার বা আপনাদেরকে মহাজ্ঞানী সক্রেটিসে পরিণত করার জন্য তৈরি করিনি, এ গ্রুপটি তৈরি করা হয়েছে ব্রেনকে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার জন্য উপযোগী করে তুলতে.! ভুল ও সংশোধনীর ভেতর প্রেম, ভালোবাসা, সহানুভূতি, বিনয় নিষ্ঠা ও কোমল শাসনের মাধ্য দিয়ে প্রজাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে!


বিজ্ঞানীরা মিলিয়ন বছর অতীতের ক্ষুদ্র একটি ফসিল দেখে সেটার পরিপূর্ণ সিমুলেশন তৈরি করে ফেলে , একটা তুচ্ছ কঙ্কাল দেখে সে কঙ্কালের কোটি বছর অতীতের সাইকোলজি পর্যন্ত রিড় করে ফেলে। মস্তিষ্ককে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পর তারা এতটা সুক্ষ্মতা অর্জন করেছে একবার ভেবে দেখুন।


আমাদের ব্রেনে আমাদের অজান্তেই অনেক ভুল করে, আমাদের ব্রেন রিয়েলিটিকে অল্টার করে দেখায়, আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর ভেতর রীতিমতো যুদ্ধ চলছে কিন্তু আপনাকে প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স দেখায় নিরবিচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক চেতনা। আমাদের মস্তিষ্কের অজস্র মিসিং লিংক আছে। আমাদের ডিএনএও তার অনুলিপি তৈরি করার সময় ভুল করে। ডিএনএ নিজেই এরর এন্ড কারেক্টিং প্রসেসের মাধ্যমে কাজ করে। আমরা ভুল করবোনা তা কী করে হয়? আমাদের চিন্তা আর বুদ্ধি তো আর মস্তিষ্কের প্রকৌশলের বাহিরে নয়, আপনার চিন্তায় ভুল থাকতে পারে, আপনার অনুমানে ভুল থাকতে পারে, আপনার কোন একটি তত্বে ভুল থাকতে পারে, আপনার কোন একটি লিখায় ভুল তথ্য থাকতে পারে, বানানে ভুল থাকতে পারে, বোধে ভুল থাকতে পারে, বিজ্ঞানীরা এমন অজস্র ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা পরে ধারাবাহিকভাবে তারা সংশোধন করেছেন।


হোয়েলের স্টিডি স্টেড তত্বকে তিনি নিজেই ভুল বলে মেনে নেন, আইনস্টাইনের কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টকে তার জীবনের শেরা ভুল বলে ভুল করে স্বীকৃতি দেন! অথচ কিছুকিছু মানুষ এমনভাবে অভিনয় করছে যেনো তারা সম্পূর্ণ সঠিক, তারা কখনো ভুল করেনা! কারো ভুল দেখার পর সেটাকে ভুল বলাকেই আমি সবচেয়ে বড় ভুল মনে করি। এটাকে ভুল বলেনা, ভুল হলো আমাদের অস্তিত্বের এলগোরিদম। জিরো ও ওয়ান ছাড়া যেমন কম্পিউটার কাজ করেনা ঠিক তেমনি ভুল ও শুদ্ধ ছাড়াও প্রকৃতি কাজ করেনা। আপনার কাজ অন্যের ভুল ধরা নয়, আপনি যা করতে পারেন তা হলো আপনি যে নির্ভুল সেটা প্রমাণ করা। কারো অসম্পূর্ণতা ধরতে গিয়ে এটা বলবেন না যে আপনি অসম্পূর্ণ। আপনার বলা উচিত আপনি তার অসম্পূর্ণতা সম্পর্কে যা ভাবছেন তা কতটা সম্পূর্ণ! হ্যালিক্সে, আমরা ভুল ও শুদ্ধতার ভেতরই জ্ঞান চর্চা করছি, এখানে আমরা কেউই নির্ভুল নই, আমরা কেউই সত্য জানিনা, আমরা কেউই সঠিক নই। আপনি যদি এলিয়েন হয়ে থাকেন আপনি ক্যালটেক অথবা এমআইটিতে যান, হ্যালিক্স অসাধারণের জায়গা নয়!


বন্ধুরা, আমরা আমাদের জ্ঞান ও জানার সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েই এখানে একযোগে কাজ করছি।। এখানে নমনীয়তা ও প্রেম আছে বলেই হেলিক্স ক্ষুদ্রতার মাঝেও এত সুন্দর! মনে রাখবেন, পৃথিবীর আর কোনো প্রাণীর মাঝেই কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক অথবা বিজ্ঞানীর অস্তিত্ব নেই। আমাদের মস্তিষ্কটি আজ থেকে ৩০ হাজার বছর পূর্বে সমস্ত পৃথিবীর সকল প্রাণীজগত থেকে পৃথক হয়ে গেছে, অতিক্ষুদ্র একটি মিউটেশনের কারণে আমরা আলাদা হয়ে পড়েছি হোমো এরেক্টাস, ইরগেস্টার, ডেনিসোভান ও নিয়ান্ডারথাল থেকে। FOX2, HAR1 সহ সামান্য কিছু জিনের মিউটেশনের কারণেই আমরা বুদ্ধিমান। আর এসব জিনের কমপ্লেক্স ইন্টারেকশন সামান্য নিউরাল নেটওয়ার্ক এর তারতম্য সৃষ্টি করেছে মাত্র, বলতে পারেন শুধু আমাদের মস্তিষ্কের ভায়োলিনের তারে ন্যাচারাল সিলেকশন একটা কম্পন তৈরি করেছে , আর এ সামান্য কম্পন আমাদেরকে সমস্ত মহাবিশ্বের উপর আধিপত্য দিয়েছে, আমরা রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার তৈরি করতে পারি, ফোরথ ডায়মেনশনকে ব্যাবহার করে পারমাণবিক বোমা ফাটাতে পারি, আমরা কোয়ান্টাম প্যারালাল মহাবিশ্বের কথা ভাবতে পারি, ডায়মেনশনাল পোর্টাল ও টাইম মেশিনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পারি, ওয়ার্মহোলের মুখ খোলার জন্য নেগেটিভ এনার্জি যোগাড় করতে পারি এবং হাইপারস্পেসের ভেতর দিয়ে কিভাবে অন্য কোনো মহাবিশ্বে বিগ ফ্রিজের পূর্বে অব্যহতি লাভ করা যাবে সেই প্রযুক্তির কথাও ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে বলে দিতে পারি, আমরা চাইলে আমাদের চেতনাকে লেজার বিমে এনকোড করে মহাকাশে পাঠিয়ে দিতে পারি!


শুনেন, বেশিকিছুর প্রয়োজন হয়না! এই যে এত বিশাল সীমাহীন মেগাভার্স! যার কথা বিজ্ঞানীরা বলছেন । মেমব্রেন তত্ব অনুসারে, এটা খুব সিম্পল একটা ইকুয়েশন ,এই ইকুয়েশনের দৈর্ঘ্য মাত্র এক থেকে দেড় ইঞ্চি! এক ইঞ্চি দৈর্ঘের একটি ইকুয়েশনের ভেতরেই আপনি, আমি, মহাকাশের অনন্ত কোটি নক্ষত্র, প্যারালাল ইউনিভার্স, হাইপারস্পেস ও মাল্টিভার্স! আমারা অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও সাধারণ কিছু দিয়ে অনেক অসাধারণ ও অসাধ্য সাধন করতে পারি!


মানুষের মস্তিষ্কের সামান্য একটু নিউরাল কানেকশন বদলে যাওয়ার কারণে মানুষ আজ ঘোষণা করেছে তাদের ভবিষ্যৎ উত্তরসূরীরা (সিভিলাইজেশ্যন-5) আজ থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর পর কোয়ান্টাম ট্রান্সজিশনের ভেতর দিয়ে কোয়ন্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশনকে প্রাকৃতিকভাবে ব্যবহার করে বিশুদ্ধ শক্তির চেতনা রুপে মহাবিশ্ব ধবংস হওয়ার আগেই অন্য মহাবিশ্বে চলে যাবে! এমনকি তারা ল্যাবরেটরিতে শিশু মহাবিশ্ব তৈরি করার মতো দুর্দান্ত কাজ করার সে ক্ষমতাও আজ রাখে! ফিজিক্সের সুত্র মানুষকে আজ কিছুই করতে পারেনা, মানুষ আজ ফিজিক্সের সুত্রকে তার মন মতো ব্যবহার করে, ফিজিক্সের সুত্র আজ মানুষের তৈরি রোবটের মতো অসহায়!


তাই বলবো, অতিরঞ্জিত চিন্তা না করে সুক্ষ্মতম চিন্তা করুন, সহয ও সিম্পল! বাঙালিরা, এরা চিন্তার অসভ্যতা আর বেয়াদবির কারণে হাজার হাজার বছর পিছিয়ে আছে। সক্রেটিসেরও বহু পূর্বের কোনো অন্ধকার যুগের বাসিন্দা এরা! অনেকেই মনে করেন যে, যা জানি তার উপর ভর করে কৃত্রিম অহংকার তৈরি করাটাই জ্ঞান, তর্জন গর্জন করে অন্যের ভুল ধরাটাই মনে হয় বিজ্ঞান! চিন্তার স্বাধীনতায় আঘাত কইরেন না! একেবারে সাইকোসিস চিন্তা করলেও নিষেধ কইরেন না! মানুষকে তার মতো করে ভাবতে দিন! আর আপনার কাজ আপনি করে যান! সূর্য ও চন্দ্র যেমন ফিজিক্সের নিয়মে মহাবিশ্বের এ গ্রহটিতে নিজের অজান্তেই মিলিয়ন মিলিয়ন প্রাণের বিবর্তনের রসদ যোগায়! আপনিও নিষ্কাম ও নিরপেক্ষভাবে আপন মনে আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো পালন করতে থাকুন। এত শোরগোল করার কিছু নেই, এমন কিছু এখনো ঘটেনি।
প্রকৃতি খুব ধীরে ধীরে কাজ করে কিন্তু আকষ্মিক কেম্ব্রিয়ান বিস্ফোরণ ঘটায়! মানুষ লাখ লাখ বছর খাদ্য শৃংখলের মাঝামাঝি পর্যায়ে ছিলো, অস্তিমজ্জা খেতো, বাঘের ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়াতো, আর সেই মানুষের চিড়িয়াখানায় বাঘ আজ বন্দী, সুন্দরবনের বাঘ আজ বিলুপ্তির পথে! সামান্য এক ফোটা আগুন সম্পূর্ণ মানব সভ্যতার ইতিহাস বদলে দিয়েছে! ৩০ হাজার বছর পূর্বে মানুষ যখন আগুন আবিষ্কার করে তখনও সে অত্যন্ত নিরীহ একটা প্রাণী, তৃণেভূমিতে চড়ে বেড়ায়। অথচ পাথর ঘষে যখন তারা আগুন জ্বালাতে শিখে তখন সে আগুনের ভয়ে হিংস্র প্রাণীরা তাদের ছেড়ে পালায়! মানুষ বনে আগুন লাগিয়ে দেয় , শত শত হিংস্র প্রাণীকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়! খাদ্য শৃংখলের চুড়ান্তে চলে আসে রাতারাতি! তারা জানতোও না যে তারা কেনো আকষ্মিক বাস্তুসংস্থানের চুড়ান্তে চলে এসেছে, হটাৎ করে বাস্তুসংস্থানের চুড়ান্তে লাফ দেয়ার ফলে মানুষের মাথা কিছুটা বিগড়ে যায়, সে সাইকো হয়ে উঠে! যেখানে অন্যান্য প্রাণীরা লাখ লাখ বছর বিবর্তিত হয়ে খাদ্যশৃঙ্খলের উচ্চশিখরে ভ্রমণ করে, বাস্তুতন্ত্রের সাথে নিজেকে সমন্বিত করার জন্য লাখ লাখ বছর সময় পায়, সেখানে দুটি পাথরের ঘর্ষণে সৃষ্ট আগুন মানুষকে রাতারাতি বাস্তুতন্ত্রের শিখরে নিয়ে আসে! আপনাকে হটাৎ করে হিমালয় পর্বতের শিখরে চুড়ে ফেলে দিলে আপনি যেমন আতঙ্কে ও অনিশ্চয়তায় সাইকো হয়ে যাবেন ঠিক তেমনি সেপিয়েন্সরাও যে স্তরে আসতে লাখ লাখ বছরের প্রয়োজন ছিলো, সে স্তরে যখন হটাৎ চলে এসেছিলো তাদের তাদের ব্রেন প্রায় বিগড়ে যায়! তারা নিজেদের স্থান হারানোর ভয়ে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে উঠে যে তারা তাদের অন্য প্রজাতিগুলোকেই ধবংস করে দেয়, লন্ডবন্ড করে দেয় বাস্তুসংস্থানের শৃঙ্খলা!


মনে রাখবেন! আজ আপনি যে এত প্রাচুর্যময় উন্নত একটি বিশ্বে বাস করছেন, প্রযুক্তির শিখরে, উন্নতির স্বর্গে, আপনার রোবট, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ! আপনাদের আজকের সম্পূর্ণ সভ্যতা দুটি পাথরের ঘর্ষণের ফলাফল! কিন্তু দুটি পাথরের ঘর্ষণ কী কারো চোখে পড়ে? আমি আবারও বলছি, এ বিশ্বটাকে সম্পূর্ণ উলোটপালোট করে দেয়ার জন্য তেমন কিছুরই প্রয়োজন নেই! সামান্য দুটি নুড়ি পাথর, অতিক্ষুদ্র একটি কোয়ান্টাম ইভেন্ট, নিউরনের কানেকশনগুলোর ভেতর এক সেকেন্ডের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন থেকেও ক্ষুদ্র এক ভাগ তারতম্য অথবা মেমব্রেনের একটি ইকুয়েশনই যথেষ্ট । আপনি জানলে অবাক হবেন আপনি আর্টিকেলটি পড়ার সময় বিলিয়ন বিলিয়ন মহাবিশ্ব তৈরি করেছেন, আপনার দেহের প্রতিটি তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের বিপরীতে বিলিয়ন বিলিয়ন মহাবিশ্ব তৈরি হয়। কিন্তু অবাক করার ব্যাপার হলো আপনি এটা ঠেকানো তো দূরের কথা, বুঝতেই পারেন না!


অতিদ্রুত কোনোকিছু বিশাল উচ্চতা সম্পন্ন হয়ে যাওয়া, ঠিক নয়! সাইকো হয়ে যায়, মানুষ আজও জেনেটিক্যালি সাইকো, আধুনিক এ পৃথিবীর সাথে মানুষ এখনো অভিযোজিত হতে পারে নি, জঙ্গলের সেই শিকারী, সংগ্রাহক মানসিকতা এখনো তার ডিএনএ তে রয়ে গেছে! এ জন্যই মানুষের মাঝে এখনো টেরোরিজম দেখা যায়, আলকায়দা,আনসার বাংলা অথবা আইএসএস এর মতো সংঘটনগুলো সে আদিম জংলী মানসিকতারই প্রতিফলন!


হ্যালিক্স ধীরে ধীরে বিকশিত হোক। আজ আমাদের একটি ম্যাগাজিনেরও কাভার উন্মোচিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখ্যের সাথে বলতে হচ্ছে, এ এক বছরে হ্যালিক্সে আমি আর এরিকা ছাড়া আর কেউ তেমন কিছু লিখেনি। অধিকাংশই নিস্তব্ধ ভূমিকা পালন করেছে। অল্প কয়েকজন ছাড়া আর কেউ এর মধ্যে সদস্য যোগ করারও প্রয়োজন বোধ করেনি। প্রত্যেকে সপ্তাহে ১০ জন করে এড করলেও গ্রুপটি বিস্তারিত হতে পারতো। কিন্তু অনেকেই গ্রুপটিকে খুব একটা সিরিয়াসলি নেয়নি। কোন এক রহস্যজনক কারণে অনেক ভালো লেখকও এ গ্রুপে অনুরোধ করার পরেও লেখেননি! যাক, প্রয়োজনও নেই! এ গ্রুপটি তার নিজের নিয়মেই চলবে, আমরা যা কজন আছি আমরা সবার মাঝে আলো ছড়িয়ে যাবো।আপনাদের কী মনে আছে? আজ থেকে সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে এক প্রলংকারী গ্রহাণুর আঘাতে ডায়নোসরদের মতো প্রকান্ড এক প্রজাতি ধবংস হয়ে গিয়েছিলো? কিন্তু পিঁপড়া সম একটি প্রাণী আমরা। আজ আমাদের বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা নাকি গ্রহের কক্ষপথ বদলে দিতে সক্ষম, গ্রহাণুর গতিপথ উল্টে দিতে সক্ষম, তারা নাকি হাইপারস্পেসের ভেতর দিয়ে ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে মাল্টি ভার্সে পালিয়ে যেতেও সক্ষম, ফিজিক্সের সুত্র নাকি তাদের কিছুই করতে পারবেনা! ডায়নোসরদের সাথে মানুষের তারতম্য হলো একটি, বেশিকিছু নয়, আমরা গবেষণা করতে পারি তারা পারেনা, আমরা বই পড়তে পারি ও লিখতে পারি, তারা পারেনা, মস্তিষ্কের বিকাশের পেছনে কয়েকটি জিনের তারতম্য ! আপনার ভাই,বোন, পরিবার ও আপন মস্তিষ্ককে সুশিক্ষিত করে তুলুন। চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানুন। সবাইকে হেলিক্সের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

 

 

hsbd bg