স্টিফেন হকিং এবং লিহন এবং আমি

Last updated:

যারা আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন , এ  মহাবিশ্বে আমার সকল সৃষ্টিশীল চিন্তা তাঁদের জন্যই ডেডিকেট করলাম। আশা করি, সবাই ভালো আছেন? আমিও সুন্দর সময় যাপন করছি। হ্যালিক্স শুধু বিজ্ঞান নয় , এটা ফ্রী-থিংকার, ফিলোসফারদের ক্যাম্পাস এবং এখানে আমাদের সম্পর্ক জীবন ও মহাজাগতিক বোধের গভীর ও সুন্দরতম একতায়।

ভেবেছিলাম, আজ রকেট প্রযুক্তি নিয়ে কথা বলবো। এ ব্যাপারে সবার মধ্যে প্রাথমিক একটা ধারণা থাকা উচিত।গৃহিণী থেকে শুরু করে একজন রাজনীতিবিদ সবারই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থাকা উচিত। বিনোদনমূলক Vlog দেখলে আপনার মস্তিষ্কে যে পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয় রকেটের প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশুনা করলে তার থেকে বেশি ক্যালোরি হয়তো খরচ হয়না। কিন্তু দুঃখ্যজনক ব্যাপার হলো, একজন গৃহিণী ফানি ভিডিও দেখাকে যতটা সহজাত মনে করে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সে ততটা সহজাত মনে করেনা, সে মনে করে, আমার মতো সাধারণ মানুষের রকেটের প্রযুক্তি বোঝার প্রয়োজন কী! এটা সত্য, যে হাসি তামাশায় মগ্ন হওয়ার পেছনে বিবর্তনীয় চাপ আছে কিন্তু আপনি হয়তো  এতটা আনস্মার্ট ও মূর্খদের দলে সংযুক্ত হয়ে গেছেন  যে বিলাসবহুল চিন্তা সম্পর্কে কোন ধারণাই আর রাখেন না! পনের বিলিয়ন বছর সময় খরচ করে আমি যে মস্তিষ্ক পেয়েছি, এটা Vlog দেখার জন্য নয়, নেহাত হাসি তামাশা ও অন্যের সমালোচনায় মগ্ন থাকার জন্য নয়, এটা দিয়ে আমি মহাবিশ্বের ফিজিক্স বুঝবো, এটা দিয়ে আমি জানবো উন্নততর প্রযুক্তি ! ঘরের চাকর ও চাকরানি থেকে শুরু করে রিক্সার ড্রাইভার সবার মধ্যেই বিজ্ঞানচর্চার স্বভাব গড়ে তুলতে হবে, আমরা জানিনা কার মস্তিষ্ক থেকে কোন মহান ডায়মেনশন উন্মোচিত হয়ে যায়। কমেডি ও রোস্টিং ভিডিওর পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে ভাইরাল করতে হবে। ফ্যাশন ও অবসেশনের ডেফিনশন ও বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে! আমার রকেট,স্পেসশিপ ও টাইম মেশিন নিয়ে খুব আগ্রহ। সম্ভাব্য ৫ প্রকারের টাইম মেশিনের প্রাথমিক প্রযুক্তি সম্পর্কে লিহনের কাছ থেকে শুনেছি আর বিস্মিত হয়েছি। কিন্তু না! আজ রকেট নিয়ে নয়, নয় টাইম মেশিন নিয়ে। আজ আমি কথা বলবো আমার প্রিয় বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং- এর স্মৃতিচারণ করে আর সেই সাথে আমার আর লিহুর নতুন একটি সম্পর্কের শুরু নিয়ে।  আসলে আমি লিহনকে প্রথম ‘’ভালোবাসি’’ বলেছি হকিং-এরই হাত ধরে। যার জন্য আমি আমার ভালোবাসা পেয়েছি তাকে ভুলে যাই কীভাবে?   আজ বহুদিন আমার মস্তিষ্কে স্টিফেন হকিং-কিছু হৃদয়স্পর্শী বাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে! আমি তাঁর এ কথাগুলোকে সন্দেহাতীতভাবে গ্যালাক্সির সেরা উক্তির মর্যাদা প্রদান করতে চাই! যে কথাগুলো নিয়ে আমরা দুজন বহুদিন আলোচনা করেছিলাম। তবে বলে রাখি, স্টিফেন হকিং-এর এ স্মৃতিচারণের সাথে ডারউইন স্যারের একটা সম্পর্ক আছে! আমি হকিং- এর সত্যিকার প্রেমে পড়ি যখন আজ থেকে ৩ বছর পূর্বে তার The Brief History of Time গ্রন্থটি রিভিশন দিচ্ছিলাম। আমার এখনো মনে পড়ে সন্ধ্যার পূর্বে, বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি। সম্পূর্ণ ঘর নিস্তব্ধ একা। লিহনকে বার বার ফোন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। সেদিনের সময়টা একটু কঠিন ছিল আমার জন্য। শরীরে জ্বর জ্বর একটা ভাব, কোনো শক্তি নেই। গলা বারবার শুকিয়ে যাচ্ছিলো। পানি খেয়েও সেই পিপাসা মেটানো সম্ভব হয়ে উঠছিলো না।বারবার মনে হচ্ছিলো, ফোন রিসিভ করলেই বুঝি আমি মুক্তি পাবো, আমি এ যাত্রায় প্রাণ ফিরে পাবো। কিছুক্ষণের জন্য মনে হয়েছিল যেনো এমন একাকীত্ব আর অন্তহীন শূন্যতার চেয়ে মৃত্যু অনেক সুন্দর! হ্যাঁ… একাকীত্বের সাথে না মৃত্যুর একটা সম্পর্ক আছে! যখনই আমরা একাকীত্ববোধ করি তখনই সুইসাইডিয়াল হয়ে উঠি! এর কারণ লুকিয়ে আছে আমাদের বিবর্তনের অনেক গভীরে। শিকারী সংগ্রাহক জীবনে একজন একা মানুষ বাঘ ও সিংহের খাবারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো, একাকীত্ব ছিল সে ব্যাপক অস্থিতিশীল ও বিপদসংকুল সময়ে মৃত্যুর প্রতিশব্দ! আর তাই তো এখনো যখন গভীর একাকীত্ব নেমে আসে, নেমে আসে অন্ধকার আর মৃত্যু, আমাদের জিনেই মিলিয়ন বছর অতীতের সেই স্মৃতি সংকেত আকারে লেখা আছে।

স্টিফেন হকিং এবং লিহন এবং আমি

আমি Brief History of Time রেন্ডমলি পড়তে শুরু করি। একটা পয়েন্টে এসে আমার রেটিনা থেমে যায়, সেখান থেকেই আমি আপনাদের পড়ে শোনাচ্ছি ,

আজ বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার জন্য ব্যবহার করছে দুটো ভিন্ন ভিন্ন আংশিক তত্ত্ব __ জেনারেল থিয়োরি অব রিলেটিভিটি ও কোয়ান্টাম থিয়োরি।এ শতাব্দির প্রথমার্ধে এ দুটি তত্ত্ব ছিলো আমাদের সবচেয়ে বিরাট ইন্টেলেকচুয়াল এসিভমেন্ট। জেনারেল থিয়োরি অব রিলেটিভিটি ব্যাখ্যা করছে Forces of Gravity এবং মহাবিশ্বের বিশাল স্ট্রাকচারগুলোকে Large-Scale থেকে, এ বিশাল স্ক্যাল হলো কয়েক মাইল থেকে শুরু করে মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন মাইল পর্যন্ত ( 1 with Twenty-Four Zero after all)! এটাই হলো আমাদের Observable Universe এর আকার। কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্স অন্যদিকে, অত্যাধিক ক্ষুদ্র স্কেল থেকে কাজ করছে, এক ইঞ্চির মিলিয়ন মিলিয়ন ভাগের এক ভাগের মধ্যে। দুর্ভাগ্যবশত এ দুটি তত্ত্ব একে অন্যের সাথে অসামঞ্জস্যতাপূর্ণ, তারা একসাথে সঠিক হতে পারে না। আজকের পদার্থবিজ্ঞানের একমাত্র প্রচেষ্টা এবং আমার এ গ্রন্থের একটি প্রধান লক্ষ্য, নতুন একটি তত্ত্ব অনুসন্ধান করা, যে থিয়োরি এ দুটি ক্ষেত্রকে সমন্বিত করবে __আর সেটি হল কোয়ান্টাম থিয়োরি অব গ্রেভিটি। আমাদের কাছে এখন সে ধরণের কোন থিয়োরি নেই, এবং আমরা এখনো এমন একটি তত্ত্ব থেকে অনেক দূরে পড়ে আছি, কিন্তু আমরা জানি যে এই তত্ত্বের অনেকগুলো প্রোপার্টি আমরা ইতোমধ্যে অর্জন করেছি।

পাঠক, আমার অনুবাদ প্রক্রিয়া দেখে আপনারা অনুগ্রহ করে বিরক্তবোধ করবেননা। আমি বাংলা বা ইংরেজী ভাষার পক্ষে না। আমার মাতৃভাষা বাংলা নয়। আমি সেটা মনে করিনা। আমি বিবর্তনীয়ভাবে একটা নির্দিষ্ট ভাষা পেয়েছি, যে ভাষার কিছু অংশ আমার ভালো লাগতে পারে আবার কিছু অংশ হয়তোবা আমার ব্রেনে কোনো সেন্স তৈরি করবেনা! বাংলা ভাষার বিভিন্ন শব্দ নিয়ে আমার মধ্যে একপ্রকার অস্বস্তি আছে আর আমি বাংলা ভাষায় লেখা বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত শব্দগুলো দেখলে ভয়ে পালাই। এটা আমার সীমাবদ্ধতা হোক আর যাইহোক! আমি মনে করি, “ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম” অনুবাদ করতে গিয়ে সেই বাংলা অনুবাদক বইটাকে অন্তত আমার জন্য অখাদ্যে পরিণত করেছেন। আমি সে বইয়ের দুর্বোধ্য ভাষা একদম বুঝিনা আর আমার মধ্যে খাটি বাংলা ভাষা দুর্বোধ্য কিছু প্রলাপ মনে হয়। সেজন্যই আমার অনুবাদ প্রক্রিয়াটা এমন হয়ে যায়। আমি মনে করি, ইংরেজী ও বাংলার সমন্বয়ে যে ভাষা তৈরি হয় সেটাই আকর্ষণীয় এবং অধিক বোধগম্য! এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী!স্যরি।

” এখন আমরা বিশ্বাস করি যে, মহাবিশ্ব আসলে যেমন খুশি তেমন চলেনা, এটি যাদৃচ্ছিক নয় কিন্তু এটি সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলে। যদি মহাবিশ্ব সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলে  আপনি এ দুটি অসম্পূর্ণ তত্ত্বকে পরস্পরের সাথে সমন্বয় করতে পারবেন এবং একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিফায়েড থিয়োরি তৈরি করতে পারবেন যা মহাবিশ্বের সকল কিছুকেই ব্যাখ্যা করতে পারবে। “

এখানে আমি কিছু কথা বলে রাখছি। মনে করুন, মহাবিশ্বের প্রতিটি এটমই সুনির্দিষ্ট কিছু পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে চলে। একটি আপেলে 10^27 atoms  এটম আছে , আপনার দেহে 6,500,000,000,000,000,000,000,000,000 বা 6.5 octillion এটম,   1078 to 1082   সংখ্যক এটম আছে  46.508 billion light years রেডিয়াসের এই Observable ইউনিভার্সে , আপনার ইউনিভার্সে এটমের সংখ্যা প্রায় দশ কোয়াড্রিলিয়ন ভিগিনটিলিয়ন থেকে একশ হাজার কোয়াড্রিলিয়ন ভিগিনটিলিয়নের মধ্যে। তারা অতীতে নির্দিষ্ট  করে যে ফিজিক্সের নিয়মের মধ্যে ছিল, এখনো ঠিক একই ফিজিক্সের নিয়মের মধ্যে আছে, হয়তো পরমাণুদের কনফিগারেশন পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে প্রতিটি পরমাণু যে ফিজিক্সের সূত্রের মধ্যে ছিল সে ফিজিক্সে সূত্রের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের চোখে যদিও অতীত-বর্তমান- ভবিষ্যৎ আলাদা আলাদা কিন্তু আপনি একবার ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন,  ফিজিক্স কিন্তু সবসময় সুনির্দিষ্ট! এখান থেকে আপনি কী কিছু বুঝতে পেরেছেন? আপনার জন্মের পূর্বে মিলিয়ন বছর আগে যে ফিজিক্সের সূত্র ক্রিয়াশীল ছিলো, আপনার সাথেও একই ফিজিক্স অস্তিত্বশীল ! যদি তাই হয় আপনি এখন যা যা করছেন, যদিও সেটা আপনার নিকট প্রেজেন্ট মনে হচ্ছে, সত্যিকার অর্থে এটা মিলিয়ন মিলিয়ন বছর অতীতেই ফিজিক্সের সূত্রের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ছিল। প্রশ্ন হলো, যে ব্যক্তি এখন আমার এ লেখা পড়ছেন,  তিনি কি আপনি? নাকি আপনার মিলিয়ন বছর অতীত? এটা কি একটা প্যারাডক্স নয়? এবার আমি পড়ে শোনাবো স্টিফেন হকিং তার Brief History of Time গ্রন্থে এ ব্যাপারে আসলে কি বলেছেন..! মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন।

” আপনি যদি এখন বিশ্বাস করেন মহাবিশ্ব আসলে যাদৃচ্ছিক নয় (বা তার স্বাধীন ইচ্ছা নেই) এটি ডেফিনিট কিছু রুলস মেনে চলে, তবে আপনি আল্টিমেটলি এ দুটি অসম্পূর্ণ তত্ত্বকে সমন্বয় করে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব তৈরি করতে পারবেন যা মহাবিশ্বের সবকিছু ব্যাখ্য করতে পারবে। কিন্তু এখানে একটা প্যারাডক্স আছে। আমরা যখন কোন সায়েন্টিফিক তত্ত্ব তৈরি করি তখন আমরা ধরেই নেই যে আমরা যৌক্তিক সত্ত্বা যারা মহাবিশ্বকে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন, যখনই আমরা চাই এবং আমরা যা কিছু দেখি তার উপর ভর করে লজিক্যাল ডিডাকশন বা যৌক্তিক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারি। এ ধরণের দৃশ্যকল্পে এটা যৌক্তিক যে, মহাবিশ্বকে যে সকল সূত্র শাসন করছে আমরা সেই সকল সূত্রের আরো নিকটবর্তী হতে পারবো। তবুও যদি এখানে কোন স্বয়ংসম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব থেকে থাকে, এটি সম্ভবত, আমাদের কর্মকে Determine করতে পারবে।”

এ কথাটা কতটা ভয়ানক তা আপনি চিন্তা করতে পারছেন। যদি আপনার থিয়োরি, সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মের উপর গঠিত হয় আর সে নিয়মগুলোই আমাদের মহাবিশ্বের “Every Picoseconds” এ কাজ করে তবে এ তত্ত্ব কী এ তত্ত্বের নির্মাতাদের ভবিষ্যের প্রতিটি পিকোসেকেন্ডকে “Determine” করতে পারবে না? মানে, আপনি, এক মিলিয়ন বছর পর যা যা করবেন তা তা যদি সে সুনির্দিষ্ট ফিজিক্সের সূত্রের মধ্যেই অস্তিত্বশীল হয়েই করেন যে সুনির্দিষ্ট ফিজিক্সের সূত্রগুলো কয়েক মিলিয়ন বছর পূর্বেও এভাবে ছিল, তবে গ্র্যান্ড ইউনিফায়েড থিয়োরি কি আপনি সে থিয়োরি সম্পর্কে আজ থেকে একশত বছর পর কোন সিদ্ধান্তে আসবেন সেটা মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্ব নির্ধারণ করে রাখেনি? যদি তাই হয়, তবে আপনি তত্ত্বের ফলাফলে কোন সিদ্ধান্তে আসবেন সেটা তত্ত্ব এখনই জানে, তাই নয় কি? আমি বিস্ময়ে আলোড়িত হয়ে উঠেছিলাম, আকস্মিক একাকীত্ব ও অন্তহীন শূন্যতাকে ছাড়িয়ে একটি আনন্দ আর অদ্ভুত ব্যাথা ভর করে উঠেছিল আমার সমস্ত দেহে আমার মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রে। যখন আমি হকিং এর বই থেকে এ অংশটুকু পড়েছিলাম। (আমি লেখাটি হবহু তুলে ধরছি)

And so the theory itself would determine the outcome of our search for it! And why should it determine that we come to the right conclusion from the evidence? Might not Equally well determine that we draw the Wrong Conclusions? Or No Conclusion at all..?

কান্নায় ভেঙে পড়ি! সমস্ত দেহ ও মনে অন্যরকম এক শিহরণ নেমে আসে। আমি কেনো কাঁদছি! আমার কি হয়েছে! আমার কীসের দুঃখ, কীসের ব্যাথা, কীসের একাকীত্ব! আমি কিছুই জানিনা!  ঠিক তখন লিহনের কল আসে, আমি শুধু  ‘’হকিং’’ আর ‘’ব্রিফ হিস্ট্ররি’’ এ দুটি শব্দই  উচ্চারণ করতে পেরেছিলাম, আর  সেকি কান্না!  কয়েক আলোকবর্ষের নিস্তব্ধতা। তারপর,  তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন “ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইমের” ঠিক কোন অংশটি পড়ার পর আমার এমন হৃদয়বিদারক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, কেনো আমি বাকরূদ্ধ ও স্তব্দ হয়ে গেছি। তখন লিহন শান্তস্বরে আমাকে জানায়, ঠিক একই উপলব্ধি তারও হয়েছিল, আরো অনেক আগে, এ কান্না, এ হাহাকার আজকের নয়! আমাকে তিনি কোমল কন্ঠে রবী ঠাকুরের একটা গান গেয়ে শোনালেন । যে স্মৃতি আমি কোনোদিন ভুলবোনা, ভোলা সম্ভব না। আমার জীবনে সে দিন, সে সময়, সে মুহূর্ত ছিলো সর্বশ্রেষ্ঠ মুহূর্ত –

যে কাঁদনে হিয়া কাঁদিছে সে কাঁদনে সেও কাঁদিল।

যে বাঁধনে মোরে বাঁধিছে সে বাঁধনে তারে বাঁধিল॥

পথে পথে তারে খুঁজিনু, মনে মনে তারে পূজিনু,

সে পূজার মাঝে লুকায়ে আমারেও সে যে সাধিল॥

এসেছিল মন হরিতে মহাপারাবার পারায়ে।

ফিরিল না আর তরীতে, আপনারে গেল হারায়ে।

তারি আপনারই মাধুরী আপনারে করে চাতুরী,

ধরিবে কি ধরা দিবে সে কী ভাবিয়া ফাঁদ ফাঁদিল॥

যাই হোক! তারপর লিহন আমাকে এ ব্যাপারটি আশ্বস্ত করেন যে, একটি Complete Grand Unified তত্ত্ব কেনো আমাদেরকে ভুল পথ প্রদর্শন করবেনা। আমরা আগেই জেনেছিলাম, যে একটি মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব এক সেট নিয়মের উপর গঠিত, যে নিয়মের মধ্যে মহাবিশ্বের প্রতিটি পিকোসেকেন্ড লিখা আছে। তাহলে কেনো গ্রেন্ড ইউনিফায়েড থিয়োরি আমাদেরকে ভবিষ্যতে এমন কোন উপসংহারে নিয়ে আসবে যেটি আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত?  ফিজিক্সের নিয়ম কি মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে আমরা যেনো এ মহাবিশ্ব সম্পর্কে সঠিক কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত না হতে পারি সে সত্যটি লিখে রাখতে পারেনা? ফিজিক্সের নিয়ম কি আমাদের জন্য ভুল কোনো ডিসিশন মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট করে রাখতে পারেনা? সে কি লক্ষ কোটি বছর পূর্ব থেকেই এটা নির্দিষ্ট করে রাখতে পারেনা যে আমরা সঠিক বা ভুল কোনো উপসংহারেই উপনিত হতে পারবো না? যদি মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব নিজেই আমাকে এ মহাবিশ্ব সম্পর্কে ভুল বা সঠিক বা কোন  সিদ্ধান্তই  গ্রহণ করতে না দেয় তবে কিভাবে আমরা এ মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি সে সব সিদ্ধান্তকে সঠিক বলতে পারি? লিহন আমাকে স্টিফেন হকিং-এর বইয়ের ঠিক পরের অংশটি পড়ে শোনালেন, যে অংশটি আমি পড়িনি।

সেই দিনই এ ছবিটি তোলা হয়েছিল

তিনি বললেন, মূলত, এই উত্তরটা ডারউইনের ন্যাচারাল সিলেকশনের কাছেই আছে! অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন- মানে? গ্রেন্ড ইউনিফায়েড থিয়োরির প্যারাডক্স সমাধান করছে ডারউইন! তারা হয়তো হতাশ হবে! কারণ আমরা মূলত প্রাকৃতিক নির্বাচনের সৌন্দর্য বুঝতে প্রস্তুত নয়। কিভাবে ডারউইনের ন্যাচারাল সিলেকশন গ্রেন্ড ইউনিফায়েড তত্ত্বের রহস্য সমাধান করতে পারে সে উত্তরটি দেয়ার পূর্বে কেনো আমরা ডারউইনের নাম শুনলেই বিরক্ত হয়ে উঠি এ ব্যাপারটি একটু পরিস্কার করা প্রয়োজন। প্রথমত, ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন খুবই সরল, এত মিলিয়ন মিলিয়ন গুণ সরল যে এত সরল একটি ব্যাপার আমরা চিন্তা করতেই প্রস্তুত না! যেমন- আপনার দেহের মধ্যে রক্ত আছে, আপনার দুটো চোখ আছে, আর চোখ দিয়ে আপনি দেখেন, রাতের অন্ধকারে মহাকাশে নক্ষত্র দেখা দেয় , এগুলো খুবই সরল ও স্বাভাবিক ঘটনা।

সবচেয়ে সরল ঘটনা হলো, আমি তো আমিই, আমার কাছে আমিই হলাম সবচেয়ে সিম্পল ঘটনা। আর আমি যে সকল অনু- পরমাণু দিয়ে গঠিত এত সরল একটা ব্যাপার নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ থাকেনা। আপনার উচিত শিকার ও সংগ্রহ করা, বাঘের সম্মুখে আপনি যদি আপনার দেহের পরমাণু নিয়ে পড়ে থাকেন তবে সেটা আপনার টিকে থাকার জন্য আসলে খুব একটা উপযোগী নয়। এজন্য আমাদের মস্তিষ্ক রিয়েলিটিকে জেনারালাইজড করে নেয়। আমার দেহের কোষ দিয়ে আমি তৈরি এটা যতটা সরল, বিবর্তন তো কোষের ভেতরের কথা, সেটা তো আরো সরল। আর এ জন্য আমাদের ব্রেন সহজাতভাবেই এসব নিয়ে ভাবতে আসলে অভ্যস্ত নয়। সরল ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করে সময় ও শক্তি নষ্ট করার কোন অর্থই হয়না! তার চেয়ে বরং টিকে থাকো ও বংশবৃদ্ধি করো।

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে আমাদের ব্রেন কেনো এগার মাত্রাকে কল্পনা করতে পারেনা! চতুর্মাত্রিক ইউনিভার্সের বাহিরের কমপ্লেক্স ডায়মেনশনগুলো বুঝতে তার এত সমস্যা হচ্ছে কেনো! ফিফথ ডায়মেনশনের কোন সত্তা মহাবিশ্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেকোন মুহূর্তের ঘটনাই দেখতে সক্ষম। খাতার পাতায় অংকন করা একটি ছবির প্রতিটি এঙ্গেলই যেমন আমরা ত্রিমাত্রিক সত্তারা একই মুহূর্তে দেখি। ঠিক তেমনি ফিফথ ডায়মেনশনের একটি সত্তা ২৮ বিলিয়ন গিগা পার্সেক এ মহাবিশ্বকে কোনদিকে মুভ না করেই দেখতে পাবে। এমনকি আমাদের পেটের ভেতর কি হচ্ছে সেটা দেখার জন্য তাকে অস্ত্রপ্রচার করতে হবেনা, আপনার শরীরের একটা কোষের ভেতরের কেমিক্যাল ফ্ল্যাকচুয়েশন থেকে শুরু করে হিলবার্ট স্পেস পর্যন্ত তাদের কাছে ক্লিয়ার, তারা আমাদের মহাবিশ্বের যেকোনো বস্তুকেই মুভ করতে পারবে কোনোপ্রকার শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়াই, এমনকি তারা যদি আমাদের চতুর্মাত্রিক জগত থেকে আপনাকে তুলেও নিয়ে যায় এ মহাবিশ্বের কেউই সে ঘটনার কারণ জানতে পারবেনা ! আবার দশমাত্রা থেকে যখন আপনি দেখবেন তখন আপনি ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন মহাবিশ্ব দেখতে পাবেন কোনোদিকে মুভ না করেই, আপনি দেখতে পাবেন, সে সকল ইউনিভার্স যে সকল মহাবিশ্বের ফিজিক্স আলাদা আলাদা রকমের এবং সময়ের প্রারম্ভ থেকেই যারা ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রাথমিক অবস্থা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এবং আপনি এ সকল অনন্ত সংখ্যক মহাবিশ্বের যেকোন একটিতে যেকোনো মুহূর্তে প্রবেশ করতে পারবেন। যদি আমাদের মস্তিষ্ক সরলবস্তুকে বুঝে সময় ও শক্তি অপচয় করতে বিবর্তিত না হয়ে থাকে তবে কেনো আমরা হায়ার ডায়মেনশনাল কোন অবজেক্টের মুভমেন্ট সম্পর্কে কল্পনা করতে পারছিনা, কেনো আমারা মিডেল ক্লাসের একটি ত্রিমাত্রিক জগতের মুভমেন্টকেই শুধু  বুঝতে পারি , কেনো প্লাঙ্ক থেকে ক্ষুদ্র মাত্রায় আমাদের ব্রেন অসহায়?  কৌতুহল উদ্দীপকভাবেই এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় মিচিও কাকুর “Hyperspace” গ্রন্থেই।

মূলত, আমরা চতুর্মাত্রিক মহাবিশ্বে বাস করি। আর চার বিলিয়ন বছরের সম্পূর্ণ বিবর্তন প্রক্রিয়া চতুর্মাত্রিক বিশ্বে সংঘটিত হয়েছে। আজ থেকে ৩.৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরি অস্ট্রোলোপিথরা চতুর্মাত্রিক জগতের চতুর্মাতিক একটি সিংহের খপ্পড়ে পড়েই তাদের প্রেমিকা হারিয়েছে! ফিফথ ডায়মেনশন থেকে নেমে এসে কোনো ভয়ানক বাঘ বা সিংহ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরি অস্ট্রোলোপিথদের আক্রমণ করেনি, আর এজন্যই আমাদের মস্তিষ্ক চার বিলিয়ন বছরের বিবর্তনীয় ফ্রেমওয়ার্কে এ চতুর্মাত্রিক মহাবিশ্বের জ্যামিতি বোঝার জন্য উপযোগী হয়েই বিবর্তিত হয়েছে কেনোনা পঞ্চম মাত্রিক মহাবিশ্ব বা হাইপারস্পেসের বাঘ বা সিংহ আমার আর আপনার পূর্বসূরিদের উপর কোনো সিলেকশন প্রেসার তৈরি করেনি। আর সেজন্যই আমরা হাইপারস্পেসকে ভিজুয়ালাইজ করার জন্য উপযোগী জিন ও ব্রেন এলগোরিদম পাইনি।

আর একটি ব্যাপার হলো, আমাদের মস্তিষ্ক মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের ফ্রেমওয়ার্ক থেকে চিন্তা করতে Adopted নয়। টিকে থাকার জন্য আমাদের ব্রেনকে প্রতিমুহূর্তেই জটিল জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়, আমাদের পূর্বসূরিরা যদি ভয়ানক হিংস্র একটি সিংহের সম্মুখে পড়ে Emergency Decision গ্রহণ করতে না পারতো তবে তারা মুহূর্তেই ধবংস হয়ে যেতো আর এ জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্বের সে’ই ব্রেন এলগোরিদম আমাদের জিনের মধ্যে এনকোডেড হয়ে গেছে। আমরা সেকেন্ডের অতি-ক্ষুদ্র একটা ফ্রেকশনের মধ্যেই ইমোশনাল হয়ে যাই। আর এমন নয় যে আমরা বিলিয়ন বিলিয়ন বছর এ মহাবিশ্বে টিকে থাকবো, আমাদের জীবনের সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, আর এ ক্ষুদ্র সময়ের ভেতরই আমাদের ব্রেনকে অপেক্ষাকৃত সহজ ও সংক্ষিপ্ত সময়ের ফ্রেমওয়ার্কে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, নয়তো আমাদের জিন ভবিষ্যত প্রজন্মে নিজেকে হস্তান্তর করতে পারবেনা। আর জিনের উদ্দেশ্য যেহেতু জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি আর আমাদের জীবনের দৈর্ঘ্য যেহেতু অনেক ক্ষুদ্র, এ জন্য সহজ,সরল চিন্তা করে, হাসি,ঠাট্টা আর শিল্প সংস্কৃতির ভেতর কোনোরকমে জীবন অতিবাহিত করতেই আমরা পূর্ব থেকেই জেনেটিক্যালি নির্দেশনা প্রাপ্ত। আর এ জন্য যখন বলা হয় ছয় মিলিয়ন বছর পূর্বে আমরা শিম্পাঞ্জির সাথে একটি সাধারণ পূর্বসূরি ভাগ করেছিলাম এ ব্যাপারটা আমাদের সাব-কনসাস মাইন্ড গ্রহণ করতে কষ্ট পায়, কারণ আমাদের ব্রেন সব কিছুর সমাধান মুহূর্তেই পেতে প্রোগ্রামড, মিলিয়ন বছর পর নয়! আর ঠিক এ জন্যই আমরা বিবর্তন তত্ত্বকে মেনে নিতে পারিনা, কোনো নশ্বর সত্ত্বার পক্ষে বিবর্তনকে পুরোপুরিভাবে মেনে নেয়া সম্ভব নয় কারণ এ জন্য লাগে উচ্চতর বুদ্ধিমত্তা!

এবার আসুন, আমরা সে প্রশ্নটির উত্তর দেই যে প্রশ্নের উত্তর স্টিফেন হকিং ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনকে ব্যবহার করে প্রদান করেছিলেন। আমরা সবাই এ ধারণা সম্পর্কে অবহিত যে, একটি পপুলেশনের স্বীয়পুনরাবৃত্তি( Self Reproducing) কারী যেকোনো জীবের জেনেটিক্যাল মেটারিয়ালসে বিভিন্নতা রয়েছে আর জেনেটিক্যাল মেটারিয়ালসের এ বিভিন্নতার জন্যই এক একজন মানুষ দেখতে এক একরম আর তাদের চিন্তা প্রণালী, বুদ্ধিমত্তা ও চরিত্রও পরস্পরের চেয়ে ভিন্ন। আর এ ভিন্নতা বলতে, আমি যা বোঝাচ্ছি তা হলো, জিনগতভাবেই কিছুকিছু মানুষ অন্যান্যদের চেয়ে এ মহাবিশ্ব সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে আর এ ভাবে Right Conclusion এ যারা আসতে পারবে তারা টিকে থাকবে ও বংশবৃদ্ধি করবে। মার্ক জাগারবার্গের অথবা গুগলের CEO সত্য নাদেলার কথা আমরা এক্ষেত্রে বলতে পারি, তাদের জেনেটিক্যাল ম্যাটারিয়াল ভিন্ন হওয়ার কারণেই তারা পৃথিবীর আট বিলিয়ন মানুষের তুলনায় মিলিয়ন মিলিয়ন গুণ আপডেট ডিসিশন গ্রহণ করতে পেরেছে, আর আজ তারাই এ গ্রহের সকল মানুষের উপর ইন্টেলেকচুয়ালি প্রভূত্ব বিস্তার করেছে! এটা নিশ্চিত যে, এই হায়ার ইন্টালেকচুয়ালদের জিন এ পৃথিবীর অন্যান্য মানুষদের তুলনায় বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত হবে! আজ যদি এ পৃথিবীতে ভয়ানক কোনো বিপর্যয় দেখা দেয়, পৃথিবী বাস অযোগ্য হয়ে যায়, মার্কজাগারবার্গ কিন্তু ঠিকই মঙ্গল গ্রহে চলে যাওয়ার চেষ্টা করবে আর এ পদ্ধতিতেই যে সকল মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তারা এ মহাবিশ্বের বিভিন্ন গ্যালাক্সিতে কোনো কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিকে যাবে, তাদের জিন বিভিন্ন গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে যাবে আর আমরা যারা সঠিক উপসংহারে আসতে ব্যর্থ হবো তারা ধবংস হয়ে যাবো, বিলুপ্ত হয়ে যাবে আমাদের প্রতিটি জিন। আমরা জানি যে আজ থেকে ৭০ হাজার বছর পূর্বে মানুষের আরো ছয়টি প্রজাতি ছিলো, নিয়ান্ডারথাল এবং হোমো এরেক্টাস আজ এ গ্রহে নেই অথচ আমরা আজ সমস্ত গ্রহের অধিপতি আর এর কারণ ছিলো Fox2 ও HAR1 নামক কিছু জিনের মিউটেশন আমাদেরকে তাদের তুলনায় ইন্টেলেকচুয়াল করে তুলেছে, আর আমরা ইন্টেলেকচুয়ালিটির কারণেই আজ থেকে ৭০ হাজার বছর পূর্বে আমরা টিকে থাকার ক্ষেত্রে Right Conclusion এ উপনিত হতে পেরেছি ও এভাবে আমরা প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাছ থেকে Survival Advantages পেয়েছি। আজ আমরা জ্ঞান ও বিজ্ঞানে এ গ্যালাক্সিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অধিকার করে আছি।

হকিং বলেন, It is Not clear that this is still the case : our Scientific Discovery may well destroy us all, and even if don’t, a complete unified theory may not make much Difference to our chanche of Survival.।

যাইহোক, আমরা যদি ভেবে নেই যে মহাবিশ্ব নিয়মিত বিবর্তিত হচ্ছে, তবে আমরা এটা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারি যে ন্যাচারাল সিলেকশন আজ থেকে মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে আমাদের মধ্যে যে যৌক্তিক মন তৈরি করেছে সেটা বৈধ, আমাদের লজিক্যাল মাইন্ড যদি বৈধ না হতো তবে আজ এ গ্রহে নিয়ান্ডারথালই টিকে থাকতো আমাদের পরিবর্তে, যদি আমাদের লজিক্যাল মাইন্ড বৈধ না হতো তবে আকাশে আজ রকেট উড়তোনা, কোয়ান্টাম কম্পিউটার আবিষ্কার করা সম্ভব হতোনা, আমাদের কোন ড্রাগ অথবা ভেক্সিন কাজ করতোনা। এ থেকে আমরা বলতে পারি যে আমাদের লকিক্যাল মাইন্ড আমাদেরকে প্রতারিত করবেনা, যদি প্রতারিত করতো তবে আমরা লক্ষ বছর পূর্বেই বিলুপ্ত হয়ে যেতাম আর এ পদ্ধতিতে চিন্তা করলে, আমরা বলতে পারি যে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রেন্ড ইউনিফায়েড থিয়োরি অনুসন্ধান অবশ্যই বৈধ হবে, এবং এটা আমাদেরকে কখনোই ভুল কোন সিদ্ধান্তের দিকে পরিচালিত করবেনা! ন্যাচারাল সিলেকশন নিজেই সিলেকশন প্রেসার ক্রিয়েট করে কোন পপুলেশনের কিছুকিছু মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে!

যেদিন লিহন আমাকে এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন সেদিনই আমি অনুধাবন করেছি যে, সকল প্রকার ভুল ও শুদ্ধের উর্ধ্বে এ ছেলেটিকে ছাড়া আমার পক্ষে আর কোনোকিছু ভাবা সম্ভব নয়, অন্তত এ উত্তরটির জন্য আমি আমার জীবনের প্রতিটি সেকেন্ডকে তার জন্য লিখে দিতে পারি! আর এভাবেই আমাদের সম্পর্ক গড়ে উঠে! আমি তাঁকে বলি , হয়তো মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে কয়েকজন মানুষ Right Conclusion এ আসতে পারবে তার মধ্যে আপনি একজন হতে পারেন, আর আমি এ সম্ভাবনাকে ভালোবেসে জীবনের শেষ সেকেন্ডটি স্বার্থক করতে চাই। এটাকে কী ভালোবাসা বলা যায়? হয়তোবা! এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ যৌক্তিক আচরণ করবোনা কারণ তিনি আমার একমাত্র আবেগ। এ আবেগকে আমি যত্ন করতে চাই। আমার আর লিহনের সম্পর্ক মহাবৈশ্বিক, আমাদের দুজনের সম্পর্ক ফিজিক্সের সাথে আর ফিজিক্সই আমাদেরকে পাশাপাশি এনে দিয়েছে আর আমরা দুজনই ফিজিক্সের সাথে সারাজীবন থাকতে চাই, থাকতে চাই বিশ্বের সকল চিন্তাশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের সাথে আর এ জন্য আমাদেরকেও থাকতে হবে একসাথে! আমাদের দুজনের সম্পর্কের পেছনে আর কোনো আবেগীয় অনুভূতি জড়িত নয়।

স্টিফেন হকিং এবং লিহন এবং আমি
গভীর একতা অনুভূত হওয়ার পরদিন…

স্টিফেন হকিং আজ থেকে তিন বছর পূর্বে আমাদের দুজনকে গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ করে দিয়েছেন কিন্তু কো-ইনসিডেন্টলি সেদিন ছিল আইনস্টাইনের জন্মদিন। আমার পক্ষ থেকে আমি তার প্রতি সবসময় ফ্ল্যাক্সিবল ছিলাম, তার শব্দ শুনলেই প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স শাট ডাউন করত, সময় অনুভব করতাম না। মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে জেনেছি আজ থেকে তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে লুসিরও এমন হতো, এটাকে নাকি রোম্যান্টিক ভালোবাসা বলে! যাইহোক, তাঁর ব্যাপারে আমি কোনো কিছু ধারণা করতে চাইনা। স্টিফেন হকিং স্যারের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যে তিনি আমাকে আইনস্টাইনের জন্মদিনের দিনই আপনার সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন। নয়তোবা হয়তো আগের মতোই আপনার থেকে দূরে দূরে থেকে যেতে হতো, শূন্যতা আর একাকীত্বের অত্যাচার সহ্য করতে হতো। আমি কী আপনাকে কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশনের কারণে পেয়েছি যা বলে কোন একটি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ শূন্য না যদি না যথেষ্ট পরিমাণ সময় দেয়া হয়? হকিং ওয়েভ ফাংশন এবং হাইপারস্পেস )

যাহোক, হকিং বলেন, “আমাদের কাছে যে অসম্পূর্ণ তত্ত্ব আছে সেটা আমরা একদম যথাযথভাবেই প্রেডিকশন করতে পারি কিন্তু এক্সট্রিম সিচুয়েশনগুলোতে মহাবিশ্বের আল্টিমেট থিয়োরি অনুসন্ধান করার জন্য প্রাক্টিক্যাল গ্রাউন্ড থেকে খুঁজে বের করা দুষ্কর মনে হতে পারে। ( কিন্তু যুক্তি একই, এ যুক্তি আমরা থিয়োরি অব রিলেটিভিটি ও কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের উপরও প্রয়োগ করতে পারি যদিও এ দুটো থিয়োরি আমাদেরকে নিউক্লিয়ার এনার্জি ও মাইক্রো-ইলেক্ট্রনিক বিপ্লব এনে দিয়েছে)। একটি পরিপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব, সেজন্য হয়তোবা আমাদের প্রজাতির সার্ভাইভালের ক্ষেত্রে খুব একটা সহযোগিতা করবেনা। সম্ভবত, এটি আমাদের লাইফ স্টাইলেও কোন প্রভাব বিস্তার করবেনা। কিন্তু সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ সম্পর্কচ্যুত ও ব্যাখ্যাহীন ঘটনা দ্বারা সন্তুষ্ট হয়নি। তারা সবসময় মহাবিশ্ব ও তার আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বোঝার জন্য আকাঙ্খা প্রকাশ করেছে । আজও আমরা ছটফট করছি এটা জানার জন্য যে আমরা কেনো এখানে এসেছি, আমরা কোথা থেকে এসেছি। এই যে মহাবিশ্বকে বোঝার জন্য মানব সভ্যতার গভীরে অন্তহীন কান্না সেটাই আমাদের অবিচ্ছিন্ন আগ্রহের বিচার করার জন্য যথেষ্ট। আমাদের লক্ষ্য এর থেকে কমকিছু নয় শুধু মহাবিশ্বের একটি পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা যেখানে আমরা বাস করি!”

এতটুকু পড়ার পর যদি আপনার শরীরের পশম জাগ্রত না হয়, আপনি যদি অশ্রুসিক্ত না হয়ে থাকেন তবে আমি বলবো যে, আপনি আসলে মৃত অথবা আপনি হকিং-এর এ বক্তব্যটি বোঝেননি। গ্রেন্ড ইউনিফায়েড থিয়োরি যে আমাদের সার্ভাইভালের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ উপযোগিতা দেবে তা কিন্তু নয় যেমনঃ কোয়ান্টাম ফিজিক্স আমাদের মাইক্রো-ইলেক্ট্রিক্যাল বিপ্লব এনে দিয়েছে কিন্তু আমরা শ্রডিঙ্গারের বেড়ালকে প্রাক্টিক্যালি প্রমাণ বা অপ্রমাণ করতে পারছিনা, আর যে জন্য শ্রডিঙ্গারের বেড়াল আমাদের সার্ভাইভালের ক্ষেত্রে ভালো বা মন্দ কোন প্রভাবই বিস্তার করছেনা! যদি মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি তত্ত্বের সার্ভাইভাল এডভ্যান্টেজ না থাকে তবে কেনো আমরা গ্রেন্ড ইউনিফায়েড তত্ত্ব গঠন করবো? এর উত্তর হলো এই যে, মিলিয়ন মিলিয়ন বছর এ বিশ্বপ্রকৃতিতে আমাদের পূর্বসূরিরা টিকে থাকার স্বার্থে তার চারপাশের অবজেক্টগুলোর সাথে সম্পর্ক নির্ণয় করার চেষ্টা করেছে, এ সম্পর্কই তাদেরকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফোর্থ ডায়মেনশনাল স্পেস- টাইম জিওমেট্রিতে মুভ করতে সাহায্য করেছিলো, যারা এ সম্পর্ক নির্ণয় করতে পারতো, তারাই এ ফোর্থ ডায়মেনশনাল জিওমেট্রিতে অস্তিত্বশীল এ গ্রহটিতে মুভ সার্ভাইভ করতে পেরেছিল, আর তারাই জনগোষ্ঠীর অন্যান্যদের তুলনায় নিজের জিনকে বেশি সম্প্রসারণ করতে পেরেছে যে জন্য তাদের জিনই মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে আজও এখানে টিকে আছে। এভাবেই হোমো সেপিয়েন্স উন্নত মাপের মস্তিষ্ক প্রাপ্ত হয়েছে, আর সে মস্তিষ্ক ফোর্থ ডায়মেনশনাল রিয়েলিটির বাহিরে হাইপারস্পেসকে বোঝার জন্যও সচেতন হয়ে উঠেছে।

সম্পর্ক নির্ণয়ের এই আদিম ব্রেন সার্কিট আমাদেরকে জিনগতভাবেই তাড়া করছে যেনো আমরা এ মহাবিশ্বকে পরিপূর্ণ অনুভব করতে পারি আর আমরা কেনো এ মহাবিশ্বকে জানতে চাই তার উত্তর এটাই।

যদি গ্রেন্ড ইউনিফায়েড তত্ত্বের কোন সার্ভাইভাল অ্যাডভ্যান্টেজ নাও থাকে, আমাদের মস্তিষ্কে সম্পর্ক নির্ধারণের, জানার ও কৌতুহলের ব্রেন সার্কিট যা মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে বিবর্তিত হয়েছে, তার কাছ থেকে আমরা মুক্তি পাই না।

hsbd bg