শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

শূন্য থেকে মহাবিশ্ব

যদি মহাবিশ্ব শূন্য থেকে এসে থাকে, তবে শূন্য সম্ভবত সম্পূর্ণরূপে  শূন্য নয় কিন্তু হয়তো কিছুমাত্রায় সিমেট্রি ব্রেকাফ হয়....

Last updated:

মাল্টিভার্সের ধারণার বিপক্ষে যে কেউ  মতামত দিতে পারেন কারণ এটি আমাদের জানা পদার্থবিদ্যার সূত্রকে লঙ্ঘন  করে যেমন- শক্তি ও ভরের নিত্যতা সূত্র। যাহোক, আমাদের মহাবিশ্বের মোট ম্যাটার ও এনার্জির পরিমাণ সম্ভবত খুবই ক্ষুদ্র । মহাবিশ্বের বস্তুর উপাদান, সকল স্টার, প্লানেট ও গ্যালাক্সি বিশাল এবং পজেটিভ। যে এনার্জি গ্র‍্যাভেটির মধ্যে সংরক্ষিত থাকে তা নেগেটিভ। আপনি যদি ম্যাটারের জন্যে পজেটিভ ও গ্র‍্যাভিটির জন্য নেগেটিভ এনার্জি যোগ করেন তবে এদের যোগফল সম্ভবত শূন্যের কাছাকাছি হবে! একটা দৃষ্টিকোণ থেকে, এ মহাবিশ্ব গুলো মুক্ত। তারা শূন্য থেকে প্রায় অনায়াসে তৈরি হচ্ছে।

যদি মহাবিশ্ব আবদ্ধ (Closed) হয় তবে মহাবিশ্বের সামগ্রিক শক্তির উপাদান পুরোপুরিভাবে শূন্য হবে! এটিকে অনুধাবন করার জন্য চিন্তা করুন, একটি গাধা বিশাল গর্তে পতিত হয়েছে, আমরা শক্তি প্রয়োগ করছি তাকে গর্ত থেকে বের করে আনার জন্য, সে যখন গর্তে ছিল তখন তার নেগেটিভ এনার্জি ছিল। ঠিক একইভাবে গ্রহগুলোকে সোলার সিস্টেমের বাহিরে টানার জন্য শক্তি লাগে। একবার যখন এটি মুক্তস্থান(Free Space) পেয়ে যায়,  গ্রহটির শূন্য শক্তি থাকে। যেহেতু আমরা গ্রহটিকে সোলার সিস্টেম থেকে বের করতে শক্তি যোগ করি শূন্য শক্তির একটি রাষ্ট্র অর্জন করার জন্য অতএন গ্রহটির রয়েছে নেগেটিভ গ্র‍্যাভিটেশনাল এনার্জি যখন সোলার সিস্টেমের ভেতরে)

প্রকৃতপক্ষে, আমাদের মহাবিশ্বের মতো একটি মহাবিশ্ব তৈরি করতে, হাস্যকরভাবে ম্যাটারের অতি-ক্ষুদ্র একটি নেট এমাউন্ট লাগে, সম্ভবত সেটি আউন্সের মতো ক্ষুদ্র। গুথ বলতে পছন্দ করেন, “The Universe may be Free launch! শূন্য থেকে মহাবিশ্ব তৈরির ধারণা সর্বপ্রথম সূচনা করেন নিউইয়র্ক হান্টার কলেজ সিটি ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানী এডওয়ার্ড একটি গবেষণাপত্রে যেটি ১৯৭৩ সালে ন্যাচার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। তিনি কল্পনা করেন যে, মহাবিশ্ব হলো এমনকিছু যা শূন্যস্থানে কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশনের মাধ্যমে সময় থেকে সময়ে সংঘটিত হয়। ( যদিও মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করার জন্য বস্তুর নেট এমাউন্ট শূন্যের কাছাকাছি হওয়া প্রয়োজন , এ ম্যাটারকে সম্ভবত অবিশ্বাস্য ঘণত্বে কম্প্রেস করা যাবে )

P’an Ku মাইথোলজির মতো যা জ্যোতির্বিদ্যার Creatio Ex nihilo এর একটি উদাহরণ। যদিও শূন্য থেকে মহাবিশ্বের ধারণা প্রচলিত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমাণ করা যায়না, এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাক্টিক্যাল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেনো মহাবিশ্বের স্পিন নেই? আমরা আমাদের পাশে যা কিছু দেখছি সবকিছু স্পিন করছে, হারিকেন থেকে প্লানেট, এবং গ্যালাক্সি থেকে কোয়েসার। এটাকে মহাবিশ্বের ইউনিভার্সাল ক্যারেক্টারিস্টিক মনে হয়। কিন্তু স্বয়ং মহাবিশ্বের স্পিন নেই! আমরা যখন স্বর্গের গ্যালাক্সির দিকে তাকাই, সামষ্টিক স্পিন শূন্যতে ক্যান্সেল হয়ে যায়। ( এটি কিছুটা সৌভাগ্যময়, কারণ, আমরা পঞ্চম অধ্যায়ে দেখি , যদি মহাবিশ্ব স্পিন করে , তবে সময় ভ্রমণ হয়ে উঠতো সাধারণ জায়গা এবং ইতিহাস লেখা ছিল অসম্ভব)!

মহাবিশ্ব কেনো স্পিন করেনা তার কারণ মহাবিশ্ব শূন্য থেকে এসেছে। যেহেতু ভ্যাকুয়াম স্পিন করেনা, আমরা মহাবিশ্ব থেকে কোন নেট স্পিন জাগ্রত হওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারি না! প্রকৃতপক্ষে , মাল্টিভার্সের প্রতিটি বাবল মহাবিশ্বের “শূন্য” স্পিন!

কেনো পজেটিভ ও নেগেটিভ ইলেক্ট্রিক্যাল চার্য যথার্থ ভাবে একে অপরকে ক্যান্সেল করে। আমরা যখন মহাজাগতিক ফোর্সের কথা চিন্তা করি, আমরা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স থেকে গ্র‍্যাভেটির কথা বেশি চিন্তা করি যদিও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সের তুলনায় গ্র‍্যাভিটেশনাল ফোর্স অসীম ক্ষুদ্র। এর কারণ হলো পজেটিভ ও নেগেটিভ চার্যের পারফেক্ট ব্যালান্স। যার ফলে, মহাবিশ্বের নেট চার্য শূন্য মনে হয় এবং গ্র‍্যাভিটি মহাবিশ্বকে শাসন করে, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স নয়! যদি আমরা এটিকে গণনায় নেই, পজেটিভ ও নেগেটিভ এনার্জির কাটাকাটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। যার ফলে মহাবিশ্বের নেট চার্য শূন্য মনে হয়, গ্র‍্যাভিটি মহাবিশ্বকে শাসন করে, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স নয়। এবং পরীক্ষামূলকভাবে 10²¹ এর মধ্যে ১ ভাগ প্রমাণ করা হয়েছে।

( যদিও চার্যের ভেতর স্থানীয় ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, আর এ জন্যই আমরা বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালাতে পারি কিন্তু চার্যের সামষ্টিক সংখ্যা, এমনকি বজ্রপাতের সময়ও শূন্য পর্যন্ত যোগ করা হয়েছে।) যদি আপনার শরীরের পজেটিভ ও নেগেটিভ ইলেক্ট্রক্যাল চার্যের নেট তারতম্য ০.০০০০১ ভাগও হতো আপনি তাৎক্ষণিক ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যেতেন, আপনার শরীরের অংশগুলোকে ইলেক্ট্রিক্যাল ফোর্স আউটার স্পেসে নিক্ষেপ করতো! এ স্থায়ী সমস্যার উত্তর সম্ভবত মহাবিশ্ব শূন্য থেকে এসেছে। যেহেতু ভ্যাকুয়ামের নেট স্পিন ও চার্য জিরো, যেকোনো শিশু মহাবিশ্ব শূন্য থেকে উদাত্তভাবে লাফিয়ে উঠতে পারে। এ নিয়মে সুস্পষ্ট কোনো ব্যতিক্রম নেই। শুধুমাত্র একটি ব্যতিক্রম ছাড়া যে মহাবিশ্ব এন্টি ম্যাটারের পরিবর্তে ম্যাটারের তৈরি। ( এন্টি ম্যাটারের অবশ্যই ম্যাটারের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চার্য রয়েছে)।

আমরা কল্পনা করতে পারি যে বিগব্যাং সমপরিমাণ ম্যাটার ও এন্টিম্যাটার তৈরি করেছে। সমস্যা হলো, যাহোক, যদি ম্যাটার ও এন্টিম্যাটার একে অপরকে খালি করে দিয়ে গামা-রশ্মিতে বিস্ফোরিত হতো,  তাহলে আমরা অস্তিত্বশীল থাকতাম না। মহাবিশ্বে অবশ্যই সাধারণ ম্যাটারের পরিবর্তে গামা-রশ্মির বিশৃঙ্খল সমবায় থাকা উচিত ছিল। যদি বিগব্যাং পুরোপুরিভাবে সিমেট্রিক্যাল হয় , তবে আমাদের উচিত ছিল, সম পরিমাণ ম্যাটার ও এন্টি ম্যাটার প্রত্যাশা করা। তাহলে, আমরা কিভাবে অস্তিত্বশীল হতাম? সমস্যাটি রাশিয়ার পদার্থবিদ আন্দ্রেই স্যাখারভ প্রস্তাব করেছিলেন যে মূল বিস্ফোরণ পুরোপুরি সিমেট্রিক্যাল ছিলো না! সৃষ্টির শুরুতে ম্যাটার ও এন্টিম্যাটারের মধ্যে অতি-ক্ষুদ্র পরিমাণ সিমেট্রি ব্রেকিং হয়েছে আর এ জন্যই ম্যাটার এন্টি-ম্যাটারের উপর আধিপত্য করে,  যার জন্য আমাদের এ মহাবিশ্বের অস্তিত্ব সম্ভবপর হয়েছে যাকে আমরা দেখি! ( মহাবিস্ফোরণে যে সিমেট্রি ব্রেকিং হয়েছে সেটিকে CP সিমেট্রি বলে, সিমেট্রি যা চার্য ও ম্যাটার ও এন্টিম্যাটারের প্যারিটি ( জোড়া) রিভার্স করে।

যদি মহাবিশ্ব শূন্য থেকে এসে থাকে, তবে শূন্য সম্ভবত সম্পূর্ণরূপে  শূন্য নয় কিন্তু হয়তো কিছুমাত্রায় সিমেট্রি ব্রেকাফ হয়, যা ম্যাটারকে কিছুটা আধিপত্য প্রদান করে। প্রতিসাম্যতা বা সিমেট্রি ব্রেকিং এর উৎপত্তি এখনো পুরোপুরিভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি!

লিখেছেনঃ মিচিও কাকু

Parallel Worlds: A Journey Through Creation … – Amazon.com

hsbd bg