মিচিও কাকু কী নাস্তিক?
মূলপাতা দর্শন মিচিও কাকু কী নাস্তিক?

মিচিও কাকু কী নাস্তিক?

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
395 বার পঠিত হয়েছে

মিচিও কাকু কী একজন নাস্তিক?

 

মিচিও কাকু বলেছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন আমাদের ইউনিভার্স একজন ইন্টিলিজেন্ট তৈরি করেছেন।তাকে আপনি HE/SHE/IT যাই বলেন না কেনো।এমনকি তিনি এটাও বলেছেন, চাঞ্চ বলতে আমরা যা বুঝি এখন তার কোনো Meaning হয়না।তার মতে, আমরা একটি পরিকল্পনার মধ্যে বাস করি যা রুলস দ্বারা পরিচালিত এবং এ রুলসগুলিকে চাঞ্চ নয় একজন কসমিক ইন্টিলিজেন্ট শেপ করেছেন!এতটুকু শোনার সাথেসাথেই আমি বিষ্মিত!কারণ আমার বিশ্বাস হচ্ছিলোনা যে মিচিও কাকু এমন অবান্তর একটি কথা বলতে পারেন!আর বললেও তিনি এভাবে কিভাবে বললেন যা সরাসরি ঈশ্বরের অস্তিত্বের সাক্ষী দিচ্ছে!আমি তার এ উক্তিটির ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করলাম কারণ তার গ্রাউন্ড ব্রেকিং বুক Hyperspace এবং Future of the Mind পড়ার পর আমার মনে হয়নি তিনি এমন কিছু বলতে পারেন যা আমার কাছে স্বপ্নের মতোই মনে হয়েছিলো।


পাবলিক কমেন্টের ফিডব্যাক দিতে গিয়ে এরপর তিনি বললেন, My own point of view is that you can neither prove nor disprove the existence of God.”

এর মানে হলো ঈশ্বর আছে কী নেই তা আমরা প্রমাণ বা নিশ্চিত হতে পারবোনা!ব্বাহ!চমৎকার!আমার ব্যাক্তিগত কনসেপ্টের সাথে সম্পূর্ণ মিলে গেলো!তার মানে আমরা ঈশ্বরকে “আছে” অথবা “নেই” কোনটাই বলতে পারবোনা!ঈশ্বর “০” বা “১” কোনটাই না!এ ব্যাপারে মিসিও কাকু বলেন, Science is based on what is testable, reproducible, and falsifiable,”।তার মতে, এটাই বিজ্ঞান যেটা টেস্ট, রিপ্রডিওস এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যায়।কিন্তু যেটাকে টেস্ট করা যায়না, সেটা সত্য বা মিথ্যা কোনটাই নয়, এটাকে রিপ্রডিউসও করা যায়না।বিগব্যাং ল্যাবরেটরিতেও রিপ্রডিউস করা যাবে।যেমন-বিজ্ঞানীরা শিশু মহাবিশ্ব তৈরির কথা বলছেন।তিনি বলেন,However, there are certain things that are not testable, not reproducible, and not falsifiable. And that would include the existence of God.”!তার মতে ঈশ্বরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যায়না কারণ মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে হলে সেটাকে টেস্ট করতে হবে তারপরই বলা যাবে এটা সত্য কী মিথ্যা!কেউ মিথ্যা বললে তার ব্রেনের প্রি-ফ্রন্টাল ও পেরিটিয়াল লোব লাইট আপ হয় এবং লাই ডিটেক্টর মেশিন দিয়ে মিথ্যাটাকে সনাক্ত করা যায় কারণ মিথ্যাবাদীর মস্তিষ্ক একইসময় ও একইসাথে সত্যটাও জানে, তাই দুটো কনফ্লিক্ট করে, এতে করে মস্তিষ্কের ভেতরে যে নিউরাল প্যাটার্ন তৈরি হয় EEG সেন্সরের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা সেটাকে আলাদা করে পড়ে নিতে পারে!কিন্তু যেখানে সত্যটারই কোনো অস্তিত্ব নেই সেখানে সেটাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা যাবে কিভাবে?

বিশ্বাসীরা যখন মিচিও কাকুকে প্রশ্ন করেছিলো, তিনি নাস্তিক কীনা তখন তিনি বলেছিলেন, we can’t agree on what God is, “atheist” has even less meaning। এর মানে হলো, যেখানে আমরা এটাই জানিনা ঈশ্বর আসলে কী; সেখানে নাস্তিকতার তো খুব একটা “Meaning” নেই!!তারাই নাস্তিক যারা মনে করে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই কিন্তু যদি ঈশ্বরের অস্তিত্ব যে নেই এ ব্যাপারেই কেউ অনিশ্চিত থাকে তখন নাস্তিকতার কোনো অর্থ হয়না!!

আমার দু-চোখের রেটিনায় এক মিলিয়ন Wow Expression ফুটে উঠে!!এর আগে আমি স্টিফেন হকিং এর ঈশ্বর বিশ্বাস সম্পর্কেও লিখেছি, তখন অনেকেই বিষ্মিত হয়েছে ও অপমান করেছে কারণ তারা বুঝেই নি, আবার নাস্তিকদের মধ্যে অনেকে না বুঝে অনেক সমালোচনা করেছে, তারা ভেবেছে আমি সাবকনসাসলি আস্তিক!What the Fuck!!এ ব্যাপারে একসময় আমি কথা বলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেই!কিন্তু আজ হটাৎ মিচিও কাকুর ঈশ্বর বিশ্বাস সম্পর্কে কৌতুহলের বশে জানতে গিয়ে দেখি তিনি স্টিপেন হকিং এর সেই বিখ্যাত উক্তিরই পূণরাবৃত্তি করেছেন, স্টিফেন হকিং তার নাস্তিকতা সম্পর্কে বলেছেন, ঈশ্বরের অস্তিত্ব যদি থেকে থাকে তবে তার অস্তিত্ব নেই অতএব আমি নাস্তিক।এখানে মূলত বলা হয়েছে যেটা Testable বা Reproducible না সেটা সত্য মিথ্যা কোনটার মধ্যেই পড়েনা, অতএব ঈশ্বরের থাকা প্রকারান্তরে তার না থাকারই সমান! (+০)(-০)=1 আবার (+০)(-০)=1 !ঈশ্বরের ক্ষেত্রে যা যোগ তাই বিয়োগ যা বিয়োগ তাই যোগ!যা গুণ তাই ভাগ যা ভাগ তাই গুণ!আমরা বাস্তব জগতে বাইনারীতে ১+১=১০ পাই কিন্তু ঈশ্বরের ক্ষেত্রে 1+1= 100 Million ও হতে পারে, যেটা বাইনারীর নিয়মের মধ্যে অনন্তকালেও পড়বেনা কিন্তু গডের ক্ষেত্রে গণিতের কোনো নিয়মই নেই, সেখানে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক অসীম সংখ্যক নিয়মের সম্ভাবনা আছে আর সবগুলিই নিয়মই ”১” কে রিপ্রেজেন্ট করবে !!আপনি যদি 1+1=10^500 লিখেন তা 1+1=  2এর মতোই সত্য।অতএব ঈশ্বরের থাকা আর না থাকা দুটোই সমান, প্রমাণিত!এখানে আমরা GOD নামক যে টার্মটা ব্যাবহার করছি এটাও সম্পূর্ণ কাল্পনিক!!ঈশ্বর সম্পর্কে যদি আমাদের কোন চিন্তাই একুরেট না হয় তবে তার নামটাও একুরেট নয়।অতএব তাকে আল্লাহ বা গড ডাকার প্রয়োজন নেই!নাম তো মানব মনেরই সৃষ্টি!আপনি ধার্মিকদের এ অতি সাধারণ সত্যটি বোঝাতে পারবেন না!একটি ইভেন্টে কাকুকে গড সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তিনি আইনস্টাইনের মতো বলেন,

 

“One god is a personal god, the god that you pray to, the god that smites the Philistines, the god that walks on water. That’s the first god. But there’s another god, and that’s the god of Spinoza. That’s the god of beauty, harmony, simplicity.”

ব্বাহ!চমৎকার!তার মতে একজন ঈশ্বর পারসোনাল যিনি মানুষের প্রার্থনা শোনেন অথবা সমূদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে চলে যেতে পারেন।আরো একজন গড আছেন, যে স্পিনোজার গড৷আর সে ঈশ্বর হলেন সুন্দর, সঙ্গতি ও সরলতা।innovation tech today তে তিনি বলেন,

মহাবিশ্ব হয়তো র‍্যান্ডম হতে পারে কিন্তু আমাদের মহাবিশ্ব ঐশ্বর্যময়,সুন্দর ও নমনীয়!এবার আমি তার প্রথমদিকতার সে বক্তব্যটি পরিস্কার হলাম, তিনি মূলত ইন্টিলিজেন্ট বলতে বোঝাতে চেয়েছেন অসীম অনিশ্চয়তার ভেতরেও আমাদের মহাবিশ্বের, স্থিরতা, ধারাবাহিকতা ও নমনীয়তাকে। এ সম্পূর্ণ প্রকৃয়াটিকে তিনি পরিকল্পনার সাথে তুলনা করেছেন।আক্ষরিক অর্থেই এটাকে পরিকল্পনা বলা যায় যদিও এ টার্মটি অনেকের মাঝেই Misunderstanding তৈরি করবে!

তিনি সরলতা সম্পর্কে বলেন, মহাবিশ্বের ফিজিক্সকে একটি খাতার পাতার মধ্যেই লিখে শেষ করা সম্ভব, তিনি মনে করেন যে, তিনি মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ ইকুয়েশনকে এক ইঞ্চি লম্বা একটি ক্ষুদ্র ইকুয়েশনের ভেতরেই প্রকাশ করে ফেলতে পারবেন, কিন্তু মেমব্রেন থিওরির উন্নতির কারণে তার হয়তো আর একটু বেশি জায়গা প্রয়োজন!

পরিশেষে যা বুঝলাম, স্টিফেন হকিং অনেকটা সরাসরি নিজের নাস্তিকতা প্রকাশ করেছেন।কিন্তু মিচিও কাকু মনে করেন, যেখানে ঈশ্বরকে Prove বা Disprove কোনটাই করা যায়না সেখানে আমি নাস্তিক এ কথাটা Meaningless!কিন্তু এর অর্থ কী তিনি আস্তিক?উত্তরটি খুবই জটিল আবার অনেক সহয।প্রথমত, ঈশ্বরের অস্তিত্ব যেহেতু প্রমাণ বা অপ্রমাণ কোনটাই করা যায়না অতএব আস্তিকতা ও নাস্তিকতা দুটোই Meaningless কিন্তু তিনি যেহেতু বিশ্বাসীদের প্রশ্নের জবাবে এটি বলেছিলেন সেহেতু আস্তিকতা Meaningless এ ধরণের কোনোকিছু তিনি সরাসরি Mean করেন নি!

আবার তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি ব্যাক্তি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না কিন্তু আইনস্টাইনের মতো তিনি স্পিনোজার ঈশ্বরে সমর্থন করেন।এখান থেকে আমরা ছোটখাটো পরিসরে একটি ডিসিশন নিতে পারি, কাকু নাস্তিকতাকে অর্থহীন মনে করেন কিন্তু স্পিনোজার ঈশ্বরকে তিনি অর্থহীন মনে করেন না তার মধ্যে মিনিং আছে।অতএব আস্তিকতা নাস্তিকতার চেয়ে Meaningful তবে সে আস্তিকতা Personal God এর প্রতি নয়!

তবে, মিচিও কাকু কী নাস্তিক?

মিচিও কাকু নিজেই বলেছেন,

Physics is the opposite of most other fields of study, he says: With every new advance it gets simpler, and in that lies his sense of wonder. “So, that’s the God of Einstein. The God of beauty, [the idea] that says that the universe is simpler the more we study it.”

আমরা তার বক্তব্য পর্যালোচনা করে যা পাই তা হলো তিনি ঈশ্বরকে আইনস্টাইনের মতোই প্রাকৃতিক আইনের সরলতা ও সৌন্দর্য মনে করেন অতএব তার আস্তিকতার একটি বৈজ্ঞানিক মিনিং আছে, এটি ধর্মীয় নয়!তিনি বলেন, যখন বিজ্ঞানীরা ঈশ্বরের কথা বলেন, তখন তারা God of order এর কথা বলেন, তিনি আইনস্টাইনের ব্যাপারে বলেন, আইনস্টাইন ছেলেবেলায় যখন প্রথম বিজ্ঞানের বই পড়েছিলেন তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ধর্মের অধিকাংশ কথাই ভুল, কিন্তু তিনি সারাজীবন একটি রহস্যজনক Divine order এ বিশ্বাস করতেন!বন্ধুরা!আপনারা কী মিচিও কাকুর মনস্তত্ব সম্পর্কে পরিস্কার হয়েছেন? যেহেতু ঈশ্বরের অস্তিত্বকে প্রমাণ বা অপ্রমাণ কোনটাই করা যায়না সেহেতু নাস্তিকতা তার কাছে অর্থহীন কিন্তু আইনস্টাইনের মতো তিনিও মনে করেন আমরা একটি Divine Order এর মধ্যে আছে, যেটি আমাদের এমনভাবে রেখেছে যেনো আমাদের অস্তিত্ব পূর্ব পরিকল্পিত এবং আমরা একটি বুদ্ধিমত্তার ভেতরেই আছি!Mind it তিনি এখানে ঈশ্বরের কথা একবারও বলেন নি, তিনি শুধু এটাই বুঝিয়েছেন আমরা প্রাকৃতিক সুত্রগুলির মাঝে এমনভাবে আছি যেনো এটা সম্পূর্ণ বুদ্ধিমানের মতো কিন্তু তিনি এটা বলেন নি যে এটি বুদ্ধিমান!তার বুদ্ধিমত্তার ডেফিনিশনটা ছিলো অনেকটাই ম্যাটারিয়ালিস্টিক!কাকু নিশ্চিত করেছিলেন, স্ট্রিং থিওরির লক্ষ্য হলো, ঈশ্বরের মনকে পড়া, এখানে তিনি আইনস্টাইনের God of order এর কথা বলছেন এতে আর কোন সন্দেহ নেই।

 

ঈশ্বরের মনকে পড়ার জন্যে তিনি এক ইঞ্চি একটি ইকুয়েশন লিখবেন যা দিয়ে মহাবিশ্বের সবই এক্সপ্লেইন করা যায়।কাকু বলেন, The ultimate solution to the schism between physicists and mathematicians could be that God is a mathematician.

তথ্যসুত্রঃ

(মিচিও কাকু কী নাস্তিক?)

1. Twitter

2. Quora, On of the smartest Man

3.Michio kaku’s Religious and Political views, Hollowverse

4. Stephan Hawking, Michio kaku and Other scientists on God

(মিচিও কাকু কী নাস্তিক)

আমাদের প্রকাশিত আরো কিছু লিখা পড়তে ক্লিক করুনঃ

১. মানুষের বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন

২.ব্লাইন্ডওয়াচমেকার

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!