২০০৯ সাল ছিল সুন্দর। আমি ছিলাম আবেগ ও যৌনতায় খুবই সুখী। কিন্তু বসন্তে আমি বুঝতে শুরু করেছিলাম, আমার সাথে ভয়ঙ্কর ভুল কিছু হয়েছে। আমার বয়স ছিল ৪৬। আমি চূড়ান্ত ভাবে আমার সাথে মানানসই একজন পুরুষের সাথে সম্পর্কে ছিলাম। দুই বছর, সে আমাকে দুর্দান্ত শারীরিক ও আবেগীয় সুখ দিয়েছিল। আমার যৌন প্রতিক্রিয়াশীলতায় কোনো অসুবিধা হয়নি এবং এ বিষয়ে সব ভালো ছিল। কিন্তু অদৃশ্যভাবে, আমি আমার ভেতর পরিবর্তন লক্ষ্য করি। আগের পর্ব পড়ুনঃ ঈশ্বর আকারের একটি ওয়ার্মহোল

আমার সবসময় ক্লাইটোরাল অর্গাজম হতো। কিন্তু যখন আমার বয়স ৩০ তখন আমি ক্লাইটোরাল ও ভেজাইনাল দু-ধরণের অর্গাজম অনুভব করতে শুরু করলাম।

এটাকে ব্লেন্ডার বা মিশ্র অর্গাজম বলে। আর এতে করে আমার আর একটি সাইকোলজিক্যাল ডায়মেনশন খুলে যায়। অর্গাজমের পর আমি যত বড় হয়েছি । আমি আমার চারপাশের জগতের রঙ উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্তারিত সবকিছু অনেক বেশি ধারালো ও আবেদনময় হয়ে উঠে। আমি সবকিছুর সাথে কানেকশন অনুভব করি অত্যন্ত স্বতন্ত্রভাবে কয়েক ঘন্টার মত। আমার মন আকাশে উঠে যায়, আমি অনেক বেশি আলাপি এবং আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠি।
কিন্তু ধীরে ধীরে পরিবর্তন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। আমি ক্রমশ ধীরভাবে আমাদের শরীরের ভেতর সংবেদন হারাতে শুরু করি। এটা সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার ছিল না। আমি বিস্মিত ও হতাশ হয়েছিলাম যখন দেখি আমার ক্লাইটোরাল অর্গাজম এত দৃঢ় ও আনন্দদায়ক হওয়ার পরও, সাধারণের চেয়ে অস্বাভাবিক কিছু আমার মস্তিষ্কে সংঘঠিত হয়।
আমি এটা বুঝতে পারি যখন একদিন সহবাসের পর আমি বেডরুমের বাহিরে একটি ক্ষুদ্র কুটিরের উপরে গাছের টপগুলোর দিকে তাকিয়েছিলাম, আমি দেখলাম আমার বিশ্বের সজীবতা, যা আমাকে ও আমার চারপাশকে উজ্জ্বল করে রেখেছিল এবং যে সৃজনীশক্তি আমার চারপাশের সমস্ত বিশ্বকে জাগিয়ে রাখতো তা আমার শারীরিক সন্তুষ্টিকে অনুসরণ করছেনা। আমি শুধু সেক্স করে শারীরিক স্যাটিফেকশন পাচ্ছি কিন্তু আমার মস্তিষ্ক থেকে একটা কনসাসনেস হারিয়ে গেলো যা আমার বিশ্বকে একসময় উজ্জ্বল, সজীব, জীবন্ত ও রঙিন করে রাখতো।

আমি দ্রুত বুঝতে পারলাম সেক্স আমার জন্য শুধুমাত্র শারীরিক আনন্দ। আমি তারপরও ভালোবোধ করেছিলাম কিন্তু আমি সেক্সের মধ্যে কোনোপ্রকার আবেগীয় তাৎপর্য খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমি এখন এটা কেবল শারীরিক ভাবেই চাই__ একটি ক্ষুদা আর তার নিবারণ __ কিন্ত আমি এটার পয়েটিক ডায়মেনশন অনুভব করতে পারছিলাম না। আমি দ্রুত সবকিছুর সাথে মানসিক সংযোগ হারাতে শুরু করিঃ আমি এখন আর অনুভব করতে পারছি না যে সবকিছু অত্যাবশ্যক ভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। এখন আমার সবকিছু বিক্ষিপ্ত, সম্পর্কহীন এবং বৈসাদৃশ্য মনে হয়।
প্রণয়ের পর আমার নিকট এখন আর কোনোকিছুকে রঙিন মনে হয়না, আগের মতো বিশ্বের উজ্জ্বলতা অর্গাজমের পর বৃদ্ধি পায়না। আমি বিস্মিত হই, এ আমার সাথে কী ঘটলো?
যদিও আমার জীবনে কোনো ভুল ছিল না, আমার সম্পর্ক আগের মতোই সুন্দরভাবে কাজ করছিল, আমি হতাশা অনুভব করতে শুরু করলাম।। সবকিছুর আড়ালে কাজ করে শুধুই নিরাশা। এটা অনেকটা ভুতের মুভির মত। আমার বিশ্বের আলো কুয়াশাচ্ছন্ন হতে হতে এমন একটি পর্যায় এসেছে এখন শুধু প্রণয়ের পরই নয়, আমার সমস্ত জীবন জুড়েই নেমে এসেছে এক তমসা। আমার ভেতরকার অসাড়তা ক্রমশ বাড়ছে। আমি অভিনয় করিনি যে এটা আমার কল্পনা। আমার মানসিক অসাড়তা অসহ্যভাবে বেড়ে চলছে। আমি অনুভব করতে পারি আমি এমন কিছু হারিয়েছি যে জন্য একজন মানুষ নারী হয়। আমি আমার নারী বোধ বা ফেমিনিজম হারিয়ে ফেলেছি। না! আমি এ পরিস্থিতি আমার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মেনে নিতে পারবো না।
আমি আমার গবেষণালব্ধ জ্ঞান দিয়ে বের করতে পারছিলাম না যে আমার এই ট্রামাটিক ক্ষতির পেছনে কারণটা মূলত কী! এক গভীর রাতে ঠান্ডা লোহার উডস্টোভের পাশে একা বসে আমি এ প্রশ্নবাণে ক্রুশবিদ্ধ হলাম এবং অনুভব করছিলাম গভীর হতাশা। আমি আক্ষরিক অর্থে মহাবিশ্বের সাথে দর কষাকষি করা শুরু করি যেমনটি মানুষ সংকটের সময় করে। আমি প্রকৃতার্থে প্রার্থনা করি এবং ঈশ্বরকে একটি চুক্তি প্রস্তাব করি, যে আমি যদি কোনোদিন আমার কি হয়েছে তা জানতে পারি তবে মানুষকে জানানোর জন্য অবশ্যই আমি এ নিয়ে লিখবো। অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে, আমার অসহায়ত্ব অনুভব করে আমি একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের কাছে অ্যাপোয়েনমেন্ট নেই। তার নাম ডাঃ ডেবোরা কোডি। আমি খুবই ভাগ্যবান যে আমি তার মতো একজনকে খুঁজে পেয়েছি নারীর শরীর সম্পর্কে যিনি একজন বিশেষজ্ঞ। জানতে পারলাম, আমি পেলভিক নার্ভের সমস্যা দ্বারা জর্জরিত হয়েছি।

ড. কোডি ছিলেন তার চল্লিশ বছর বয়সেও অত্যন্ত সুন্দরী। কোমল বাদামী উজ্জ্বল চুল যা তার কাধের উপর উপচে পড়ে। তার চেহারায় ছিল মৃদু ক্লান্তি আর মুখের অভিব্যক্তি দেখলে মনে হয় তিনি অন্যের ব্যাথা বুঝতে পারেন। তিনি ছিলেন পেলভিক নার্ভ ডিসওর্ডারের ডাক্তার, যেখানে অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট যার মধ্যে একটি ছিল ভালভাডাইনিয়া। সোভাগ্যবশত আমার সেটা হয়নি।
তিনি মাঝেমাঝে এমন সব নারীদেরও দেখেন যারা ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আর এটা তাকে অস্বাভাবিক ভাবে যত্মশীল ও সহানুভূতিপ্রবণ করে তুলেছে। ডাঃ কোডি আমাকে পরীক্ষা করলেন এবং শান্তস্বরে বললেন, তিনি বিশ্বাস করেন আমি স্নায়ু সংকোচন বা নার্ভ কম্প্রেসনের শিকার। আমি এটা শুনে এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উঠি যে, ঠিক এ কারণেই আমি হারিয়েছি আমার জীবন ও যৌনতার ইমোশনাল ডায়মেনশন__আমি আরও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে যাওয়ায় তিনি আমাকে একটি প্রাইভেট অফিসে নিয়ে যান।
সেখানে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করার জন্য ইন্টারনেট থেকে কিছু ছবি দেখালেন। যেই নেটার ইমেজে পরিপূর্ণ কালার দিয়ে অ্যানাটমিক্যাল ইলাস্ট্রেশন দেখানো হয়েছে। সুস্পষ্টভাবে নেটার ইমেজে মেডিক্যাল ইলেস্ট্রেটর আছে, যেখানে মানব দেহের বিমূর্ত বিষয় গুলো সম্পর্কে স্নায়ুবিজ্ঞানী, গাইনি বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য স্পেশালিস্ট থেকে ভিজুয়াল ক্লাসিক সংগ্রহ করা হয়, যা তারা নির্মাণ করেছে অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে। প্রথম ছবিতে অংকন করা হয়েছে কীভাবে নারীদের পেলভিক স্নায়ু মেরুদণ্ডের বেইসের দিকে যায়। (১)

আর একটি ছবি দেখিয়েছে কীভাবে ক্লাইটোরিস, ডর্সাল ও ক্লাইটোরিস নার্ভ থেকে একটি শাখা বের হয়েছে এবং মেরুদণ্ডের সাথে অত্যন্ত নমনীয়ভাবে প্যাচিয়েছে, যেখানে অন্যান্য নার্ভগুলো বক্র হয়েছে আড়াআড়িভাবে যেটা উৎপত্তি হয়েছে ভেজাইনা ও সার্ভিক্সে। ক্লাইটোরিস ও ভেজাইনা থেকে যে স্নায়ুগুলো উৎপন্ন হয়েছে সেগুলো আরো বিশাল পুডেনডাল স্নায়ুতে গিয়ে মিশে।(২)

যেখানে সার্ভিক্স থেকে যে নার্ভগুলো তৈরি হয় সেগুলো চলে যায় সরাসরি পেলভিক নার্ভে।(২) এ সকল জটিলতা থেকে, আমি পরবর্তী সময়ে শিখতে পারি, এ জটিলতা নারীদের পেলভিসে ভিন্ন ভিন্ন এলাকার জন্ম দেয়, যেখান থেকে অর্গাজম তৈরি হয়।

আর এগুলোর সবটাই প্রথমে মেরুদণ্ডের সাথে সংযুক্ত হয় তারপর সংযুক্ত হয় ব্রেনের সাথে। ডঃ কোডি সঙ্গে সন্দেহ করেছিলেন, আমার সমস্যা ছিল মেরুদণ্ডের পরবর্তী একটি শাখার সংকোচনে। তিনি আমাকে বুঝিয়ে বললেন, নারীদের হার্ডওয়্যার অনুযায়ী, এটা কোন ব্যাপার না স্পাইনাল কর্ড বা মেরুদণ্ড সংকোচন কতটা খারাপ, আমি সবকিছুর পরও ক্লাইটোরিস অর্গাজম অর্জনের সক্ষমতা রাখি। কিছুটা নিরাপত্তাবোধ করলাম আর তারপর আমি অফিস ত্যাগ করি। এময়ারআই এর জন্য ড. জেফরি কোলের সাথে দেখা করার একটি অ্যাপয়েনমেন্ট নিয়ে আসি।

আমি ড. কোলের সাথে কেসলার ইনস্টিটিউট অব রিহ্যাবিলিটেশনে দেখা করি। একজন শান্ত ও মজার মানুষ। তিনি প্রাচীন এক আশ্বস্ততার ভঙ্গিতে আমার এক্স-রে রিপোর্ট দেখেন, তার সামনে আমার দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গি পপর্যবেক্ষণ করেন এবং আমাকে একটি কোমরের বন্ধনী বা ব্যাক ব্র্যাচের জন্য প্রেসক্রিপশন দেন।

দুই সপ্তাহ পর, আমি ড. কোলের সাথে ফলো- আপ ভিজিটের জন্য যাই। আজলিয়াস ছিল প্রস্ফুটিত, তখনও ছিল বসন্তের সুন্দর একটি খণ্ডাংশ। কিন্ত আমি প্রায় অজ্ঞানবোধ করছিলাম। যখন আমি ব্যাকব্র্যাচ নিয়ে শহরতলির দিকে ট্যাক্সিতে ছুটে যাই। আমি খুবই অস্বস্তি অনুভব করছিলাম। গত দু-সপ্তাহ আমি নির্ধারিত পোশাক পড়েছিলাম কোমরের বন্ধনী সহকারে। এটি আমার নিতম্ব থেকে বুকের পাজর পর্যন্ত সম্প্রসারিত ছিল, আর এটি আমাকে পরিপূর্ণভাবে সোজাসাপটা বসার সুযোগ দিয়েছিল। আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম ড. কোল কি বলেন তা শোনার জন্য। যেহেতু আমি জানি এখন তার হাতে আমার এমআরআই রিপোর্ট। তিনি আমাকে দেখিয়েছেন, আমার পিঠের পেছনের অংশে রয়েছে অবক্ষয়জনিত মেরুদণ্ডের রোগ, আমার কশেরুকা চূর্ণবিচূর্ণ এবং সংকোচিত ছিল একে অন্যের বিরুদ্ধে। আমি বিস্মিত হয়েছিলাম, আমার পেছনে আমি এতদিন কেনো কোনো পেইন অনুভব করিনি এই ভেবে। তিনি আমাকে আরও একটি এক্সরে রিপোর্ট দেখালেন। যেটি তিনি লাস্ট অ্যাপয়েনমেন্টের সময় গ্রহণ করেছিলেন।
এটাকে মিস করা অথবা ভুল করার কোনো উপায় ছিল না, L2 এবং S1 আমার পিঠের নিচের দিকে , আমার মেরুদণ্ডের কলামটি একটি শিশুর ব্লকের টাওয়ারের মত ছিল যা পিছলে গিয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে এসে, যথাযথভাবে বললে, কেন্দ্রীয় এলাইনমেন্টের অর্ধেক পথ __কশেরুকার অর্ধেক যেগুলো একে অন্যের সংস্পর্শে ছিল এগুলোর প্রতিটির অর্ধেক শেষ হয়েছে শূন্যস্থানে।

তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, আপনার পিঠের নিচের দিকে কখনো ব্যাথা পেয়েছিলেন কী? তিনি বলেন, এটি একটি গুরুতর আঘাত এবং হয়তো এ আঘাতের ব্যাপারে আমার কোন স্মৃতি মনে থাকার কথা। আমি প্রতুত্তর করলাম যে, আমার এ ধরণের কোনো ট্রমার স্মৃতি নেই। যখন আমি অবশেষে বুঝতে পারলাম তিনি আমাকে বোঝাতে চাইছেন তখন আমি তাকে বলি, আমার কোনো আঘাতের মেমরি নেই। কিন্তু প্রায় ৫ মিনিট পর। আমি অনুভব করলাম, হ্যাঁ। আমি একবার আঘাত খেয়েছিলাম। আমার বিশ বছর বয়সে আমি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে সিড়ি বেয়ে উঠার সময় পায়ের নিয়ন্ত্রণ হারাই, সিড়ি থেকে আমি উড়ে নিচে পড়ে যাই এবং আমার পিঠে আঘাত লাগে। আমি তেমন ব্যাথা পাইনি কিন্তু আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছিলাম। একটি অ্যাম্বুলেন্স এসেছিল, আমাকে সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে আমার একটি এক্স-রে হয়। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি। সে যাত্রা আমি মুক্তি পেয়েছিলাম। ড. কোল বিস্তারিত জেনে আমার আর একটি এক্স-রে করলেন আর একটি ছবির সিরিজ। তারপর তিনি একটি অস্বস্তিকর পরীক্ষা করলেন যেখানে তিনি একটি সুইয়ের মাধ্যমে আমার মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কে ইলেক্ট্রিক্যাল ইমপালস পাঠিয়েছিলেন। তিনি দেখেছিলেন, মস্তিষ্কের কোন অংশ আলোকিত অথবা অন্ধকার হয়ে যায়।
আমাদের তৃতীয় সম্মেলনে ডঃ কোলের এক্স-রে তাই প্রকাশ করলো অ্যাকসেক্টলি আমার যা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি স্পাইনাল কর্ডের দুর্বল একটি সংস্করণ নিয়ে জন্মেছিলাম, এমন একটি অবস্থা যেখানে মেরুদণ্ডের কশেরুকা সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয়না। আর যে কশেরুকা জন্ম থেকেই ভঙ্গুর ও অসম্পূর্ণ সেটি বিশ বছর বয়সে আবার চূর্ণ হয়ে গেছে।

সময়ের সাথে আমার মেরুদণ্ডের কলাম ক্ষতের চারপাশে তার অ্যালাইনম্যান্ট থেকে দূরে সরে গেছে। যা এখন পেলভিক নার্ভের একটি শাখাকে সংকোচিত করে দিয়েছে। ডাঃ কোডি আমাকে ইন্টারনেটের ছবিগুলোতে যে শাখাগুলো দেখিয়েছে তার মধ্যে একটি যৌনির খালের কাছে এসে সমাপ্ত হয়েছিল। আমি অবিশ্বাস্যভাবে ভাগ্যবান যে, তারপর থেকে আমার মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। এ আঘাতের ফলেই, সৌভাগ্যবশত, আমার অসাড়তা বেড়ে যায়। আমি কোনো ব্যাথা অনুভব করতাম না। সম্ভবত আমার সারাজীবনের বিরক্তিকর ব্যায়াম আমাকে এ উপসর্গ অনুভব করা থেকে দূরে রেখেছে। কিন্ত সময় তার কাজ ঠিকই করেছেঃ আমার মেরুদণ্ডের দুটি অংশ ভুলভাবে যুক্ত ছিল, পেলভিক নার্ভ অবরুদ্ধ ও সংকোচিত হয়ে গিয়েছিল, কয়েকটি শাখা থেকে সিগনাল ব্লকড হয়ে যায় যেজন্য আমার স্পাইনাল কর্ড থেকে ব্রেনে সংকেত যেতে পারেনা।

আমার শরীরের একটি অংশের নিউরাল ইমপালস ছিল অন্ধকার। আমি বিস্মিত হই, এটাই কী তবে সে কারণ যেজন্য আমি সেক্সের পর সবকিছু রঙিন দেখতাম, সমস্ত বিশ্বজগত আমার কাছে ব্রাইট হয়ে দেখা দিতো আর যে জন্য আমি আজ সেই আলো দেখিনা! কিন্তু আমি খুব লজ্জাবোধ করছিলাম। তিনি আমাকে বলেন আমার কশেরুকাকে একীভূত করার জন্য সার্জারী করতে হবে যেনো স্নায়ুর উপর চাপ উপশম করা যায়। ডঃ কোডি আমাকে বলেন, আমার ক্লাইটোরাল অর্গাজম প্রভাবিত হবেনা যদিও আমরা পেলভিক নার্ভের একটি শাখা আর কখনোই ঠিক না হয়। আমার ক্লাইটোরাল নেটওয়ার্কের শাখা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হতো তবে সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। কিন্তু শরীরের হার্ডওয়্যারগত কারণে সেটি এফেক্টেড হয়নি।

তারপর তিনি, আকস্মিক বললেন, প্রতিটি নারী ভিন্ন ভিন্ন ভাবে হার্ডওয়্যার্ড। অনেক নারীর স্নায়ুর শাখা ভ্যাজাইনাতে বেশি, আবার অন্যান্য নারীদের স্নায়ুর শাখা ক্লাইটোরিসে অধিক। কারো ক্ষেত্রে আধিক্য দেখা যায় পেরিনিয়ামে অথবা সার্ভিক্সের মুখে। আর এই তারতম্যই নারীদের সেক্সচুয়াল রেসপন্স নির্ধারণ করে দেয়। আমি বিস্মিত হলাম, তার মানে এটা ভ্যাজাইনাল ভার্সাস ক্লাইটোরিস অর্গাজমকে ব্যাখ্যা করে? নিউরাল ওয়্যারিং বা নকশা? সাংস্কৃতিক নয়, নয় বেড়ে উঠার পরিবেশ অথবা নয় পিতৃতান্ত্রিক অথবা ফেমিনিস্ট, অথবা নয় কোনো প্রতারণা?

একজন নারীর সেক্সচুয়াল রেসপন্স কেমন হবে তা যদি তার ভ্যাজাইনা, সার্ভিক্স অথবা ক্লাইটোরিসের স্নায়ুতন্ত্রের আধিক্য দ্বারা নির্ধারিত হয় তবে কেনো ওমেন ম্যাগাজিনগুলোতে নারীর যৌন প্রতিক্রিয়ার বিভিন্নতাকে তার আবেগ, ফ্যান্টাসি ও খেলার ধরণ, বেড়ে উঠা, অনুশোচনা, মুক্তি অথবা প্রেমিকের সেক্স করার দক্ষতা ইত্যাদির উপস্থিতি ও অনপুস্থিতি দ্বারা ব্যাখ্যা করে?
আপনি কোন উপায়ে অর্গাজম অর্জন করবেন সেটা আমি জানিনা। তবে একজন নারী কীভাবে অর্গাজম অর্জন করবে এটা সম্পূর্ণ রূপে তার নিউরাল সংযোগ ব্যবস্থাপনা বা ডায়াগ্রাম থেকে নির্দিষ্ট হয়। অতএব এটা খুব একটা রহস্যময় নয়। ফিমেইল সেক্সচুয়ালিটি সম্পর্কে এটি মূল্যবোধসম্পন্নবার্তাঃ যে কেউ তার নিজের অথবা তার সঙ্গীর বিশেষ নিউরাল ডায়াগ্রাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যে বিশেষ উপায়ে তাকে সর্বোচ্চ সুখ দেয়া যায় সে উপায়ের মাস্টারমাইন্ডে পরিণত হতে পারে। আপনি কী বুঝতে পারছেন, আমি স্তব্দ হয়ে যাই। আমি আমার বিস্ময়ে যথেষ্ট আত্ম-আবিষ্ট নই এটা বিবেচনা করার জন্য যে এ মুহূর্তে যে বিতর্কটি আমি আলোচনা করছি তা আমার মতো করে অন্য কারো কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হবে। তারা প্রশ্ন করতে পারে, হোয়াট? আপনি এ মুহূর্তে সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন যে প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার জন্য ফ্রয়েডীয়ান, নারীবাদী ও যৌনতাবিদরা এত দশক বিতর্ক করে এসেছেন?
এ সকল মানুষগুলো বলবে, একজন নারী ভ্যাজাইনাল অর্গাজম অর্জন করবে নাকি ক্লাইটোরিয়াল অর্গাজম অর্জন করবে এটা নির্ভর করে তার বেড়ে উঠার পরিবেশ… তারা তাদের দেহকে আবিষ্কার করতে পেরেছে কিনা অথবা এক্সটারনাল প্রত্যাশার সাথে তারা তাদের প্রণয়কে সমন্বয় করতে পেরেছে কিনা ইত্যাদির উপর ___আর তুমি কিনা বলছো, এগুলো খুব সিম্পলি নারীদের ভিন্ন ভিন্ন নকশা বা ওয়্যারিং এর ফলাফল? কেউ কেউ নিউরালি খোদিত G- Spot কে অধিক ফিল করার জন্য__ আর কেউকেউ হয়তো মানতেই চাইবেনা যে __এটা বেশিরভাগই ফিজিক্যাল!

ড. কোডি বললেন, সকল নারীর নকশা বা ডায়াগ্রামই আলাদা। আর এজন্যই নারীরা ভিন্ন ভিন্নভাবে যৌন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। পেলভিক নার্ভ এক একজন নারীর শরীরে খুবই স্বতন্ত্র উপায়ে শাখা বিস্তার করে। এ তারতম্য শারীরিক। ( আমরা পরবর্তী সময়ে জানবো এ জটিল বৈচিত্র্যময় নকশা পুরুষের সেক্সচুয়াল নকশা থেকে আলাদা, ডর্সাল থেকে পেনাইল স্নায়ু পর্যন্ত আমরা যদ্দুর জানি, অনেক বেশি অভিন্ন।)
আমি চুপচাপ তার কথা গুলো অ্যাবজর্ব ( হজম) করার চেষ্টা করছিলাম। নারীদের নিজেদের সম্পর্কে অজস্র জাজমেন্ট। আমি এমন অজস্র জাজমেন্ট পেয়েছি যে তারা কীভাবে অর্গাজম অর্জন করে অথবা কীভাবে অর্গাজম অর্জন করতে পারেনা। যৌনতা সম্পর্কে আমাদের আলোচনা নিউরাল রিয়েলিটির প্রতি কোনো মনোযোগই দেয়না। অথচ এটাই একজন নারীর অর্গাজমের সাথে জড়িত প্রধান মেকানিজম। যদি একজন নারীর অর্গাজম অর্জন করতে সক্ষম না হয় তবে আমরা তার উপর দোষ তুলে দেই। আমরা বলি এটা কোনো না কোনোভাবে তার নিজের ভুল, অদক্ষ অথবা তারা নিজেদের শরীর সম্পর্কে উন্মুক্ত নয়। ড. কোল কৌশলে তার গলা পরিস্কার করলেন, তিনি আন্তরিকভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলেন, আমার নিজস্ব দুর্দশা সম্পর্কে।
ড. কোল আমাকে বললেন, ড. রমেশ বাবুর সাথে দেখা করার জন্য। তিনি ছিলেন নিউইয়র্ক হসপিটালের নিউরোসার্জন। আর এটা ছিল আমার জন্য সৌভাগ্য। ড. বাবু ছিলেন সুন্দর পোশাক পরিহিত, দারুণ এক মানুষ তার বুকসেল্ফে অনেকগুলো নিউরোসায়েন্সের বইয়ের পাশাপাশি ছিল চীনের সহানুভূতির দেবতা কোয়ান ইয়িনের মূর্তি। ড. বাবু আমাকে একটি আপেল প্রস্তাব করলেন, আমাকে চাপ দিয়ে বললেন, দেরী না করে কাজ শুরু করার জন্য। ভয়ানকভাবে তিনি ১৪ ইঞ্চি ম্যাটাল প্লেট যেগুলো ম্যাটালের মাধ্যমে সংযুক্ত সেট, আমার পিঠের পেছনে রাখলেন এবং আমার ক্ষতিগ্রস্ত কশেরুকা জোড়া লাগিয়ে দিলেন।

সৌভাগ্যবশত তিনি ছিলেন, অনেক শক্ত মনের একজন মানুষ। সার্জারির শিডিউল অনুযায়ী প্রায় চারঘন্টার অপারেশনের পর আমি হসপিটালের বেড়ে ভয়ানকভাবে জেগে উঠলাম একটি ধাতব মেটাল প্লেটের অধিকারী হিসেবে, যেটি আমার কশেরুকাকে চারটি বেল্ট দিয়ে বেঁধে রেখেছে। আমার পিঠে একটি উলম্ব ক্ষতচিহ্ন ছিল যেটা আমার বয়ফ্রেন্ড নিশ্চিত করলেন একটি নয় ইঞ্চি আঁচড় হিসেবে। এই পরিবর্তন আসলে আমার পুনরুদ্ধারের আশার তুলনায় বড় সমস্যা নয়। বিশেষ করে এটি তার থেকে বড় সমস্যা নয় আমার মস্তিষ্ক থেকে যে আলোকিত জগত হারিয়ে যায়। অর্গজমের পর যে আলোকিত সৃজনশীল চেতনাকে আমি একসময় অনুভব করতাম।
তিন মাস পর, আমি পুনরায় ভালোবাসার সুযোগ পাই। আমি ভালো বোধ করছিলাম কিন্তু সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার হয়নিঃ আমি জানি নিউরাল রি-জেনারেশন সম্পর্কে যেটি ঘটতে অজস্র মাস লাগবে। আমি আগ্রহ নিয়ে ছয় মাস ধরে স্থিরভাবে সুস্থ্য হতে শুরু করলাম।। কিন্ত কী ঘটবে সে ব্যাপারেও আতঙ্ক কাজ করছিল। আমার একবার মনে হলো আমার পেলভিক নার্ভ সত্যিই এবার পুনরায় বাধামুক্ত হলো। এটা কী সত্যি সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার হবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, আমার হারিয়ে যাওয়া মনকে কী পুনরুদ্ধার করা সম্ভব? আমি কী আবারও আবেগীয় উচ্ছ্বাস ও সকলকিছুর ভেতর ঐক্য অনুভব করতে পারবো? ধন্যবাদ ড. বাবুকে, সম্ভবত তার জন্যই মহাবিশ্বে কেউ একজন আমার কল রিসিভ করেছে। নিউরালি আমার ব্রেন সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার হলো। এই বিশেষ স্নায়ু সংকোচন, যদিও অজানা নয়,কদাচিৎ মেডিকেল জার্নালের বাহিরে লেখা হয়। আমি কন্ট্রোল গ্রুপের সাথে হাঁটছিলাম পেলভিক নার্ভ থেকে ব্রেন ইমপালসের প্রভাব গবেষণা করার জন্য। যেহেতু এ বিষয়ে তথ্য কম, আমি সে সকল নারীদের কাছে ঋণী যারা পরবর্তীতে যা ঘটেছিল তা কাগজে তুলে ধরেছিল।।

যেহেতু আমার পেলভিক সংবেদনশীলতা রিটার্ন করেছে, আমার হারিয়ে যাওয়া কনসাসনেসও রিটার্ন করেছে। ধীরে কিন্তু স্থিরভাবে আমার আভ্যন্তরীণ সংবেদনশীলতা পুনরায় জেগে উঠতে থাকে, আমি ক্লাইটোরাল ও ভ্যাজানানাল অর্গাজমের যে মিশ্র বা ব্লেন্ডেড অভিজ্ঞতায় অভ্যস্ত ছিলাম সেটি আবার আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সেক্স পুনরায় আমার কাছে আবেগীয় হয়ে উঠে। আমার জন্য এই সেক্সচুয়াল রিকভারি ছিল The Wizard of Oz -এর ট্রান্সজিশনের মত। যেখানে ডরোথি সাদাকালো কানাসাস থেকে রঙিন জাদুকরী Oz – এ পৌঁছেছিল( এটি একটি মুভি)। অর্গাজমের পর আমি পুনরায় আমার চারপাশের জগতে আলোর প্রবাহ দেখতে শুরু করি। আমি আবারও প্রণয়ের পর সামাজিক তরঙ্গ প্রবাহিত হতে দেখি আমার মনের ভেতর___ আমি সবার সাথে কথা বলতে চাই ও হাসি। ধীরেধীরে আবার আমার মধ্যে গভীর আবেগীয় ঐকতানের অভিজ্ঞতা ছুটে আসতে থাকে এবং সহবাসের পর সৃষ্টিশীল উচ্ছ্বাস।

নিজের সাথে ও নিজের প্রেমিকের সাথে আনন্দ, আত্মবিশ্বাস ও বাচালতা___ সেই অনুভূতি যা আমাকে বলে, সবকিছু অস্তিত্বগতভাবে সুন্দর___ আমি ভেবেছিলাম এই চেতনা আমার আর ফিরে আসবেনা। আমি পুনরায় সেক্সের পর উচ্চতাসম্পন্ন আন্তঃসম্পর্ক অনুভব করতে শুরু করি যেটাকে রোম্যান্টিক কবিরা বলতেন “The Sublime”! স্প্রিচুয়াল ডায়মেনশনে এটি এমন একটি সেন্স যা সবকিছুকে একীভূত করে __একটি সেন্স যেখানে সবকিছু থেকে একই রশ্মির ফোয়ারা ছোটে। আমার সেই বিশাল সুখ ফিরে আসে। আমিই ছিলাম আমার জন্য যথেষ্ট এ অনুভূতি একবার ও বারবার ফিরে পেতে।

আমার মনে আছে একটি ক্ষুদ্র কুটিরের উপর তলায় আমি ও আমার বয়ফ্রেন্ড সেক্স করছি। আমি জানলা দিয়ে তাকাই। গাছের নতুন পাতাগুলো পাখা নাড়ায়, বাতাস উড়ে উড়ে যায় তাদের শাখা প্রশাখায় যা দেখে আমার মনে হয়েছিল এগুলোর সবটাই ধারাবাহিক নৃত্ত, যার মাধ্যমে সমস্ত প্রকৃতি একটা কিছু বলতে চাইছে। এই চলমান ঘাস, কম্পমান গাছের শাখাপ্রশাখা, অদৃশ্য কোথাও থেকে ছুটে আসা পাখির ডাক__ আবারও মনে হলো সবকিছু সবকিছুর সাথে যোগাযোগ করছে। আমি অনুভব করি, এটি ফিরে এসেছে।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই আমার যাত্রা শুরু, আমার মনের সাথে কী ঘটেছিল তা খুঁজতে গিয়ে, আমি আরও ভালো ভাবে খুঁজতে শুরু করি নারীর শরীরের অলিগলি ও তাদের যৌনতাকে।
পরবর্তী বছর আমি আগে যা জানতাম তার থেকেও বেশি শিখেছি। অধিকাংশ নারীর মত আমি পেলভিক নার্ভ সম্পর্কেও বেশিকিছু জানতাম না। আর এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ফেমিনিটি বলতে আমরা যা বুঝি তার সবটাই এর সাথে জড়িত। আমি যখন এ বইতে ভ্যাজাইনা শব্দটি ব্যবহার করবো আমি এটাকে টেকনিক্যাল টার্ম থেকে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করবো। ভ্যাজাইনার মেডিক্যাল মিনিং হলো শুধু যৌনিতে প্রবেশ পথ, একটি গর্ত। এ বিষয়টির সাথে জড়িত অনেকগুলো অপর্যাপ্ত শব্দের মধ্যে একটি। আমি এ শব্দ ব্যবহার করবো যদি আমি অন্যথা নির্দিষ্ট না করি, এমন কিছু বোঝাতে যা বোঝানোর স্বতন্ত্র শব্দ নেই অর্থাৎ পুরো যৌন অঙ্গের জন্য ল্যাবিয়া থেকে ভগাঙ্কুর, যোনিতে প্রবেশের গর্ত বা ইনট্রোটাস থেকে শুরু করে সার্ভিক্সের মুখ পর্যন্ত। আমরা যদি আরও স্বতন্ত্রভাবে ভ্যাজাইনা কী বোঝাতে চাই তবে এটাকে সীমিত পদ দিয়ে প্রকাশ করতে হবেঃ আমরা আমাদের দু-পায়ের মাঝখানে শরীরের পৃষ্ঠের যে অংশটিকে দেখি ও স্পর্শ করতে পারিঃ ভালভা, আভ্যন্তরীণ ল্যাবিয়া এবং ক্লাইটোরিস অথবা আমাদের দেহের সে অংশ যে অংশে আঙুল ঢুকিয়ে ভেতরটা পরখ করতে পারি___যৌনির খাদ।

:background_color(FFFFFF):format(jpeg)/images/library/12461/Normal_Vagina.png?w=1890&ssl=1)
আমরা অত্যন্ত ভয়ানকভাবে যৌনিকে এ সীমাবদ্ধ পৃষ্ঠের চামড়া ও তার ভেতরের ঝিল্লি দিয়ে চিন্তা করে ভুল করি। এটি একটি মিসকনসেপশন।এ স্পর্শকাতর পৃষ্ঠতলের অধীনে প্রকৃত অ্যাকটিভিটি আক্ষরিক অর্থে আরো অনেক গভীর ও জটিল। ভালভা, ক্লাইটোরিস ও ভ্যাজাইনাকে আমরা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারবো যদি আমরা এগুলোকে সমুদ্রপৃষ্ঠ হিসেবে চিন্তা করি যেগুলো সমুদ্রের তলদেশে বজ্রপাতের কম্পমান নেটওয়ার্কের গোলাগোলি__যেটা আন্তঃসম্পর্কযুক্ত, ভঙ্গুর, ব্যক্তিগতভাবে বৈচিত্র্যময় নিউরাল পথ। এ সকল নেটওয়ার্ক নিরবিচ্ছিন্নভাবে মেরুদণ্ড থেকে মস্তিষ্কে সংকেত প্রেরণ করে৷ তারপর এই ইমপালসগুলো একই স্নায়ুর অন্যান্য ফাইবারের ভেতর নিচে প্রেরণ করা হয় যা বিভিন্ন প্রভাব তৈরি করে। এ ঘন নিউরাল পথগুলো সামগ্রিক পেলভিসে সম্প্রসারিত হয়, বাহিরের ভালভার স্কিন থেকে শুরু করে আভ্যন্তরীণ যৌনির ত্বক পর্যন্ত। আপনি ইন্টারনেটে দেখতে পারেন কীভাবে নিউরাল পথ গুলো মেরুদণ্ডের সাথে সংযুক্ত হয়।

এ নিউরাল পথ গুলো ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনালের মাধ্যমে আলোকিত হয়। এটা ডিপেন্ড করে আপনার ক্লাইটোরিস, ভালভা অথবা ভ্যাজাইনার সাথে কী ঘটছে।
এটাকে আর একটি রুপকের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। মনে করুন, আপনি সমুদ্র কিনারায় একটি শৈবালের জট খুঁজে পেয়েছেন এবং একে এনে কিনারায় রাখলেন।

সবচেয়ে ভারী অংশ জালের মতো বালিতে শুয়ে থাকবে কিন্তু কিছু সুতা সম্প্রসারিত হবে লম্বালম্বিভাবে। নিউরাল নেটওয়ার্ক অনেকটা এরকম। এটি হাজার হাজার স্বর্ণালী সুতার একটি জট যা উপরের দিকে টানা। এর ভর জমা হয় পেলভিসে কিন্ত একই নেটওয়ার্ক এর সুতা মেরুদণ্ডের উপরের দিকে ব্রেনে সম্প্রসারিত হয়। (৪)

মানুষের পেলভিক স্নায়ু স্যক্রাল কশেরুকার থেকে বেরিয়ে আসে অথবা S4 and S5, যেগুলো আপনার পেছনের নিচের দিকের কশেরুকা। এখান থেকে এটি পুনরায় তিনটি দূরবর্তী নিউরাল পথে শাখা বিস্তার করে। যা আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি, যা সমস্ত পেলভিক জুড়ে সম্প্রসারিত হয়ঃ একটি উৎপন্ন হয় ক্লাইটোরিস থেকে, একটি ভ্যাজাইনা থেকে; একটি সার্ভিক্স থেকে। আর একটি নেটওয়ার্ক পেরিনিয়াম ও অ্যানাস থেকে তৈরি হয়। পেলভিক স্নায়ুর অসংখ্য অবিশ্বাস্য বিষয়ের মধ্যে একটি হলো এর সুন্দর মাল্টিপল শাখা, যা আমরা দেখেছি, এটি পৃথিবীর প্রতিটি স্বতন্ত্র নারীর জন্য আলাদা, দুটো নারীর পেলভিক নার্ভের শাখাগুলো কখনো এক নয়।

পেলভিক নার্ভের নিউরাল নেটওয়ার্ক খুবই কমপ্লেক্স। আর এ জটিলতার কারণেই নারীদের যৌনতার নকশায় বৈচিত্র্যতা দেখা যায়। আর অন্যদিকে পুরুষের পেলভিক নিউরাল নেটওয়ার্ক খুবই রেগুলার, তুলনামূলকভাবে এটা এতটাই রেগুলার যে এটি প্রায় পরিকল্পিত, নিউরাল পথের গ্রিড, পেনিসের চারপাশে সুখের একটি বৃত্ত, এটি এতটাই সরল। নারীদের নিউরাল পথ জটিল হওয়ার কারণ হলো তাদের প্রজনন ও যৌনতার সাথে সংযুক্ত অংশ দুটোই আছে, যেমন সার্ভিক্স ও জরায়ু যা কোনো পুরুষের নেই।

এছাড়া আরো অসংখ্য নিউরাল নেটওয়ার্ক নারীদের পেলভিস থেকে মেরুদণ্ডে যায়। যা পেনিস থেকে মেরুদণ্ডে যাওয়া নেটওয়ার্ক থেকে সংখ্যায় অনেক বেশি। আপনি চাইলে ইন্টারনেটে “Innervation of External Genitalia” এবং “Perineum innervation of Female Reproductive Organ” এবং Innervation of male Reproductive Organ(5) লিখে নেটে অনুসন্ধান করুন।


সুস্পষ্টভাবে নারীদের নিউরাল নেটওয়ার্ক পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়েঃ নারীদের ক্ষেত্রে তাদের রয়েছে জরায়ুর উপরে, ভ্যাজাইনার পাশে, রেক্টামের উপরে, ব্লাডারের শীর্ষে, ক্লাইটোরিস ও পেরিনিয়ামের নিউরাল অ্যাক্টিভিটির জট। আর পুরুষের পেলভিসে মাত্র কয়েকটি স্বতন্ত্র জট। (পেরিনিয়াম বলতে বোঝায় আপনার যৌনি ও মলদ্বারের মাঝামাঝি স্কিনঃ পুনরায় আমি গুরুত্ব দিয়ে বলছি যে, সকল স্বতন্ত্র সেক্সচুয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক নারীদের এখানে এখান থেকে উৎপত্তি লাভ করে, একজন ফিজিশিয়ান যিনি এ সেকশন পড়ছেন তারা সতর্কতার সাথে এপিস্টেমোলজির সময় এটি নিয়মিত কাটে যখন ডেলিভারি কঠিন হয়ে উঠে।


কিন্তু আমি Misconception: Truth, Lies and the Unexpected on the Journey to Motherhood এ বিবৃতি দিয়েছি, আমেরিকা ও ওয়েস্টার্ন ইউরোপে কোন প্রয়োজন ছাড়াই নরমাল ডেলিভারির সময় ডাক্তাররা এপিস্টেমোলজি করে, এটার কোনো প্রয়োজন নেই যদি হসপিটালে টাইম প্রেসার না থাকে অথবা আইনগত চাপ। আমেরিকা ও ওয়েস্টার্ন ইউরোপে অনেক নারী বিস্ময়করভাবে বিবৃতি দেন যে একটি শিশু জন্ম দেয়ার পরপরই তাদের সেক্সচুয়াল সেনসেশন নষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি হসপিটাল ও ফিজিশিয়ানরা এটাও জানায় না যে, এপিস্টেমোলজি সেক্সচুয়াল নার্ভ সিস্টেমের জন্য খুবই ক্ষতিকর)। ৬
ইন্টারনেটের ছবি ও এখানকার বর্ণনা দেখে আপনি বুঝতে পারছেন, নারীদের ডিজাইন করা হয়েছে আনন্দ নেয়ার জন্য, আর তাদের অভিজ্ঞতা অর্গাজমকে ট্রিগার করে, দক্ষ উত্তেজনা এবং ছন্দবদ্ধ চাপ তাদের শরীরের অনেক অনেক অনেক অংশকে প্রভাবিত করে।
আমাদের পর্ণগ্রাফিক মডেল __অথবা ইন্টারকোর্সের সাংস্কৃতিক প্রচলিত মডেল অত্যন্ত দ্রুত, নির্দিষ্ট লক্ষ অনুযায়ী সাজানো, অনেক বেশি সরলরৈখিক, তারা শুধু নারীদের শরীরের কয়েকটি এলাকার উদ্দীপনার প্রতি মনোযোগ দেয় __আর এটি অনেক নারীর সাথেই যায়না, অন্তপক্ষে পর্যাপ্তভাবে কারণ সম্ভাব্য নারীর উপরিগত অংশগুলো তার নিউরোলজিকাল সেক্সচুয়াল রেসপন্স সিস্টেমের সাথে জড়িত।
কিছুকিছু নারীর ক্লাইটোরিসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ নিউরাল নেটওয়ার্ক এই নারীর ভ্যাজাইনায় কম নার্ভ ইনার্ভেটেড হয়__ বা এদের ভ্যাজাইনায় নার্ভ পাতলা। এ গ্রুপের নারীরা ক্লাইটোরিসের স্টিমুলেশন পছন্দ করবে এবং পেনিট্রেশনে তেমন আনন্দ পাবেনা। কিছুকিছু নারীর ভ্যাজাইনাতে অনেক বেশি ইনারভেশন( নেটওয়ার্ক অনেক বেশি), এবং তারা পেনিট্রেশনেই বেশি সুখ পায়। কিছুকিছু মহিলার নিউরাল পথ শেষ হয় পেরিনিয়াল অথবা মলদ্বারের এলাকায়ঃ সে সম্ভবত অ্যানাল সেক্স পছন্দ করবে আর তার মলদ্বার দিয়েই অর্গাজম হবে। আবার যে সকল নারী ভিন্নভাবে নকশা করা তাদের মলদ্বার হবে শীতল, আর এজন্য সে ব্যাথা পাবে। কিছু কিছু মহিলার পেলভিক নিউরাল নকশা উপরিপৃষ্ঠের কাছাকাছি ঘণ, এদের খুব দ্রুত অর্গাজম হয়ে যায়। কিছু মহিলার নিউরাল নকশা তাদের শরীরে আরও নিমজ্জিত হতে পারে যার ফলে তাদের সঙ্গীকে অনেক ধৈর্যশীল ও উদ্ভাবনী হতে হবে। তারা অধিক প্রবঞ্চনাময় ক্লাইম্যাক্স অনুসন্ধান করতে থাকে ।

সংস্কৃতি ও লালন পালনের অবশ্যই একটি ভুমিকা রয়েছে আপনি কীভাবে ক্লাইম্যাক্স করেন এবং এটা প্রভাবিত করবে আপনার ক্লাইম্যাক্স দেরীতে হবে নাকি দ্রুত। কিন্ত সংস্কৃতি সবকিছু নয়। এ গালভরা সাংস্কৃতিক বক্তৃতা স্তুপ লক্ষ লক্ষ্য নারীর উপর লজ্জা ও অপরাধ প্রবণতা চাপিয়ে দেয়, বিপরীতভাবে, তারা তাদের রুচিশীলতার উপর নির্ভর করে, কিছুটা বিকৃত বোধ করে। আপনার কেমন লাগবে যখন আপনার এক্সট্রা ওরাল সেক্স দরকার কিন্তু আপনার মনে হচ্ছে আপনি আপনার বয়ফ্রেন্ডের উপর এটা জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছেন যা তার প্রাক্তন গার্লফ্রেন্ডও করতোনা? আপনি কী এটা ভেবে লজ্জা পাচ্ছেন যে আপনি চান আপনার বয়ফ্রেন্ড আপনার উভয় ছিদ্র দিয়েই স্টিমুলেট করুক? এমনকি হয় কখনো যে আপনি ক্লাইম্যাক্স করতে চান যে সময় ধরে তার থেকেও ক্লাইম্যাক্সে বেশি সময় নেয় অথবা কখন ক্লাইম্যাক্স অধরাই থেকে যায়? আরে এর কারণ আপনার দাদির কথা মতো নয় যিনি আপনাকে কাভারে হাত রেখে শুতে বলেছিলেন অথবা কোনো কোনো সেন্সরীয় নানদের সাথেঃ আপনি সত্তা হিসেবে কম সেক্সি নয়, এবং অপরিহার্যভাবে অক্ষমও নয়, তার শেষ বান্ধবীর থেকে। আপনি যা কিছুই পছন্দ করেন এবং একজন নারী হিসেবে বিছানায় আপনার যা কিছু চাওয়ার __ আপনার এ সকল পছন্দগুলো কেবল আপনার ফিজিক্যাল নকশার প্রকাশ!
তথ্যসূত্রঃ
One / Does the Vagina Have a Consciousness?
Chapter 1: Meet Your Incredible Pelvic Nerve
- Netter image 5101. “Innervation of Female Reproductive Organs,”
www.netterimages.com/image/5101.htm, and 2992; compare “Innervation of
Male Reproductive Organs,” 2910, www.netterimages.com/image/2910.htm. - “Innervation of External Genitalia and Perineum.” Ibid.
- www.netterimages.com/image/3013.htm.
- “Innervation of Internal Genitalia,” www.netterimages.com/image/3093.htm.
- Ibid.
- Naomi Wolf, Misconceptions: Truth, Lies and the Unexpected on the Journey
to Motherhood (New York: Doubleday, 2001), 165–67.


