ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ

ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ

ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ, পার্ট-১

স্থান-কালের ফাঁক দিয়ে কত ঘটনাই তো বেরিয়ে যায় শুধু একটি প্রশ্ন অক্ষত থাকে, কে আমি? জীবনের সকল অভিজ্ঞতা, একটি ক্ষুদ্র আলোচনা থেকে শুরু করে বৃহত্তর সংস্কৃতি, আপনার মস্তিষ্কের মাইক্রোস্কোপিক ডিটেলসকে কাঠামো প্রদান করে। যদি নিউরালি বলি, আপনি কে সেটা নির্ভর করে কোথায় আপনি ছিলেন। আপনার মস্তিষ্ক একটি অবিশ্রান্ত শেইপ শিপ্টার (Shape Shifter) , যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তার নিজের নিউরাল সার্কিট লিখে যাচ্ছে__ যেহেতু আপনার অভিজ্ঞতা স্বতন্ত্র, আর তাই অনেক বিশাল, আপনার নিউরাল নেটওয়ার্ক-এর বিস্তারিত প্যাটার্ন। কারণ তারা সমগ্র জীবনের দৈর্ঘ বেয়ে পরিবর্তন হতে থাকে, আপনার নিজ পরিচয় হলো একটি প্রবাহমান লক্ষ্যবস্তু, এটি কখনো শেষ বিন্দুতে পৌঁছাতে পারেনা। আপনি এমন এক বিন্দুকে উদ্দেশ্য করে নিউরনে পথ চলেন যে বিন্দুকে বাস্তবে পাওয়া যায়না!

মানব মস্তিষ্ক আমায় বিস্মিত করে। যদিও অনেক অজানা। আমার নিজের একটি ব্রেন আছে। যদি এর ওজন করি তবে তিন পাউন্ড থেকে বেশি হবেনা। আমাদের চিন্তা, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের মেমরি, আমাদের সকল অভিজ্ঞতা জন্ম হয় নিউরাল ম্যাটারিয়ালস থেকে। আমরা কারা এর উত্তর পাওয়া যায় আমাদের মস্তিষ্কের জটিলভাবে সম্পর্কযুক্ত ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল পালসের ফায়ারিং প্যাটার্ন থেকে।

যখন এর একটিভিটি থেমে যায়, আপনিও তাই করেন। যখন এর একটিভিটি তার চরিত্র পরিবর্তন করে, কোনো আঘাত, ড্রাগ দ্বারা আপনিও লকস্টেপে চরিত্র পরিবর্তন করেন। আপনার দেহের অন্যান্য অংশের চেয়ে, আপনার ব্রেনের ক্ষুদ্র একটি অংশ যদি ডেমেজ হয়, আপনিও মৌলিকভাবে বদলে যান। যদি বুঝতে চান এটি কিভাবে ঘটে তবে আসুন প্রথম থেকে শুরু করা যাক।

ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ

অসম্পূর্ণতা নিয়ে জন্মঃ

জীবন অসম্পূর্ণ। তাই তো জীবনে এত প্রতিবন্ধকতা! প্রতিবন্ধকতার জন্যই তো সমস্ত জীবন পরিপূর্ণ হয়ে থাকে ব্যাপক যন্ত্রণায়। কেউ কারো মতো হয়না তবুও ভালোবাসি। বিচ্ছেদ ও স্মৃতি না পারি ভুলতে অথবা কাছে ডেকে নিতে! অসম্পূর্ণতার জন্য যদিও জীবনকে অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হয় কিন্তু একই অসম্পূর্ণতা মানব মস্তিষ্ককে প্রদান করে বিস্ময়কর ক্ষমতা!

মানব শিশু খুবই অসহায়। আজ থেকে এক লাখ বছর পূর্বে নারীর জন্মনালী সরু হয়ে যাওয়ার পর থেকে শুধু সে সকল শিশুই সফলভাবে জন্ম নিতে পারে যারা অপরিণত শরীর ও অসম্পূর্ণ ব্রেন নিয়ে জরায়ু ছেদ করতে পারে। কারণ নয়তো বড় মস্তিষ্কের সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মা ও শিশু দুজনেরই মৃত্যু হতো। তাই নির্বাচন সে সকল শিশুদের প্রতিই সুবিচার করেছে যারা মস্তিষ্ক বড় হওয়ার আগেই জন্মায়। একজন মানব শিশু প্রায় এক বছর হাঁটতে পারেনা, দুই বা তার থেকে অধিক বছর সময় লাগে আমাদের মস্তিষ্কে পরিপূর্ণ চিন্তা স্পষ্ট হতে, আরো অনেক বছর সময় লেগে যায় আমাদের জন্য প্রতিরোধ তৈরি করতে। আমরা সম্পূর্ণভাবে আমাদের চারপাশের মানুষের উপর নির্ভর করি টিকে থাকার জন্য। মানব শিশু দেখতে খুবই নাজুক, নমনীয় ও ফুটফুটে। দেখলেই ইচ্ছে করে আদর মেখে দিতে। আসলে অপরিণত শরীর নিয়ে জন্মানোর ফলে বিবর্তন তার দেহে এমন এক প্যাটার্ন ফুটিয়ে তুলেছে যা আমাদের ব্রেনকে আকৃষ্ট করে। অন্য কোনো মামেল এত অসহায় অবস্থায় জন্মায় না। ডলফিন জন্ম থেকেই সুইম করে, জিরাফ এক ঘন্টার মধ্যেই দাঁড়িয়ে যায়, একটি শিশু জেবরা জন্মের ৪৫ মিনিটের মধ্যেই দৌড়াতে শুরু করে। প্রাণীদের সম্রাজ্যে আমাদের প্রতিবেশি অন্যান্য প্রাণীরা তাদের জন্মের পরপরই দৈহিক ও মানসিক স্বাধীনতা অর্জন করে।

যদি শুধু স্কিন দিয়ে বিচার করি তবে অন্যান্য প্রজাতিরা হয়তো এজন্য বিরাট সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাদের এ স্বাধীনতার গুরুত্ব অত্যন্ত সীমিত। শিশু প্রাণীরা খুব দ্রুত উন্নত হয় কারণ তাদের ব্রেন ওয়ারিং হয় সম্পূর্ণ  ভাবে পূর্বনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম অনুসরণ করে। কিন্তু এটা নমনীয়তার জন্য ক্ষতিকর। আপনার ব্রেনের সবকিছু যদি জেনেটিক্যালি নির্দিষ্ট হয় তবে আপনার মস্তিষ্কে কোনো ফ্লেক্সিবিলিটি কাজ করে না। ব্যাপারটা একটু বোঝার চেষ্টা করুন। যদি একটি অসহায় গন্ডার নিজেকে আর্কটিক তন্দ্রা, হিমালয় পাহাড়ের চুড়া অথবা টোকিও শহরের মাঝখানে খুঁজে পায় তার কী হবে? সোজা কথা, সে তার টিকে থাকার ক্যাপাসিটি হারিয়ে ফেলবে। আসলে তার মস্তিষ্ক বিশেষ কোনো পরিবেশের জন্য পূর্ব থেকে প্রোগ্রামড বা অনেক বেশি স্পেশালাইজড। এ ধরণের বিশেষায়িত ব্রেনগুলো যারা প্রি-প্রোগ্রামড তারা শুধু ইকোসিস্টেমের সীমিত কোনো এলাকার মাঝেই টিকে থাকতে পারে, কিন্তু আপনি যদি প্রাণীটিকে তার বাসযোগ্য স্থানের বাহিরে ছেড়ে দেন তার টিকে থাকার ক্ষমতা কমে যাবে। একবার চিন্তা করে দেখুন, মানুষ কত বৈচিত্র্যময় পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। হিমায়িত তন্দ্রা অঞ্চল থেকে বিশাল পাহাড় অথবা ব্যাস্ত নগরের কেন্দ্রে। আপনি একটি মুরগিকে ব্যস্ত শহরের কেন্দ্রে ছেড়ে দিন , সে টিকবেনা। মানুষ এটি পারে কারণ তার মস্তিষ্ক অসম্পূর্ণ। মানুষের মস্তিষ্কের সবকিছু পূর্ব-নির্ধারিত হওয়ার পরিবর্তে __যেটাকে আমরা হার্ডওয়্যার বলি__ মানব মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন তার বিস্তারিত অভিজ্ঞতা দ্বারা পরিবর্তিত হয়। এটি দীর্ঘকাল ধরে একটি অসহায় ব্রেনকে পরিবেশের সাথে সমন্বিত হতে সূযোগ দেয়। এটিকে হার্ডওয়্যার না বলে বলা যেতে পারে “LiveWired”!

কেনো এই ফ্লেক্সিবিলিটি?

আমাদের ব্রেন কেনো ফ্লেক্সিবল? তার মানে কি এখানে নতুন নতুন সেল জন্ম হয়? আসলে একজন শিশু ও বৃদ্ধের মস্তিষ্কের ব্রেন সেলের সংখ্যা সমান। মূল রহস্য লুকিয়ে আছে, কিভাবে এ সেলগুলো একে অন্যের সাথে কানেক্টেড। একজন শিশুর জন্মের পর তার সেলগুলো বিক্ষিপ্ত ও সংযোগহীন থাকে। একজন শিশুর মস্তিষ্কের ভেতর প্রতি সেকেন্ডে দুই মিলিয়ন নতুন কানেকশন অথবা সিন্যাপ্স গঠিত হয়। সিন্যাপ্স হলো দুটি নিউরনের মাঝখানে ক্ষুদ্র স্পেস যেখানে নার্ভ সিগনাল নির্গত হয় নিউরোট্রান্সমিটার দ্বারা এক্সন থেকে ডেনড্রাইডে। এটাকেই মূলত সিন্যাপ্টিক গেপ বলা হয়ে থাকে। যাইহোক, এক জন দুই বছর বয়সী শিশুর মস্তিষ্কে ১০০ ট্রিলিয়ন সিন্যাপ্স গঠিত হয় যা , দ্বিগুণ প্রাপ্ত বয়স্কের সংখ্যায় ।

 অসংখ্য প্রাণী জেনেটিক্যালি প্রি-প্রোগ্রামড অথবা হার্ডওয়ার্ড কিছু নির্দিষ্ট প্রবণতা ও আচরণের জন্য। জিন আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কের গঠনকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট উপায়ে গঠন করে যা প্রাণীদের ইচ্ছাশক্তি ও আচরণ ডিফাইন করে। একটি মাছি তার পাশের কোনো ছায়া দেখে উড়াল দেয়, শীতকালে রবিনরা দক্ষিণ দিকে ভ্রমণ করে; একটি ভালুকের খুব ইচ্ছা হাইবারনেট করার জন্য; কুকুরের সহজাত প্রবণতা তার মনিবকে রক্ষা করা; এগুলো সবই সে সকল প্রবণতার উদাহরণ যেগুলো পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট। এই হার্ডওয়ারিং এসব সৃষ্টিকে জন্মের পরই তাদের পিতামাতার মতো মুভ করতে সাহায্য করে, কিছুকিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই খায় ও স্বাধীনভাবে সার্ভাইব করে। মানুষের মাঝে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। মানুষের মস্তিষ্ক পৃথিবীতে আসে কিছু সংখ্যক জেনেটিক হার্ডওয়্যারিং নিয়ে যেমনঃ নিঃশ্বাস, কান্না, চোষন, মুখের প্রতি যত্ম অথবা স্থানীয় ভাষা শেখার বিস্তৃত ক্ষমতা)। কিন্তু আপনি যদি প্রাণী জগতের সাথে তুলনা করেন, মানব মস্তিষ্ক অস্বাভাবিকভাবে জন্মের পরপরই অসম্পূর্ণ। মানব মস্তিষ্কের বিস্তারিত ওয়ারিং ডায়াগ্রাম পূর্ব থেকে প্রোগ্রাম করা নয়, তার পরিবর্তে জিন মানব মস্তিষ্ককে কিছু জেনেরাল ডিরেকশন প্রদান করে নিউরাল নেটওয়ার্ক-এর ব্লু প্রিন্ট হিসেবে, এবং আপনার ওয়ার্ল্ড এক্সপেরিয়েন্স এই তারগুলো ফাইনটিউন করে __যা লোকাল ডিটেইলসের সাথে এডাপ্ট হয়। এই যে মানব  মস্তিষ্ক বিশ্বের সাথে নিজের নিউরাল সিস্টেমের রূপ পরিবর্তন করে নিতে পারে, এটাই আমাদের ব্রেনকে প্লানেট আর্থের সমগ্র ইকোসিস্টেমের উপর আধিপত্য প্রদান করে এবং আমাদের পথচলাকে সোলার সিস্টেমের দিকেও নিয়ে যায়।

জন্মের দু-বছরের মধ্যে সিন্যাপ্সের সংখ্যা যাদুকরীভাবে বৃদ্ধি পায়। এবং এটি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সময় নতুন সংযোগ প্রতিস্থাপিত হতে থাকে যেটাকে বলে নিউরাল প্রুনিং। আপনি ম্যাচিউর হওয়ার সাথে আপনার ৫০% সিন্যাস্প পূনরায় কর্তিত হয়৷। প্রশ্ন হলো, কোন সিন্যাপ্সগুলো থাকে আর কোনগুলো হারিয়ে যায়? যখন সিন্যাপ্স সফলতার সাথে একটি সার্কিটে অংশগ্রহণ করে, এর দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। আর অন্যদিকে সিন্যাপ্স দূর্বল হয়ে পড়ে যদি তারা উপকারী না হয় এবং অবশেষে সেগুলো হ্রাস পায়৷ জঙ্গলের পথের মতোই, আপনি সে কানেকশনগুলো হারাবেন যেগুলো আপনি ব্যবহার করেছেন না। একটি সেন্স থেকে, আপনি কে সেটা নির্দিষ্ট করা যায় এ সম্ভাবনা খোদাই করার মধ্য দিয়ে যা ইতোমধ্যে উপস্থিত। আপনি যা নন তা হয়ে উঠেন কারণ এই নয় যে আপনার ব্রেনে কোনোকিছু জন্ম হয় কিন্তু এর কারণ আপনার মস্তিষ্ক থেকে যা রিমুভ করা হয়েছে। আমাদের সমস্ত শিশুকাল জুড়ে আমাদের লোকাল এনভায়রনমেন্ট আমাদের ব্রেনকে রিফাইন করে, সম্ভাবনার একটি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আমাদের মস্তিষ্ককে এটি পূনরায় রুপদান করে। আমরা যা প্রকাশ করছি তার সাথে যেটি মিলে যায়। আমাদের মস্তিষ্ক অল্প সংখ্যক কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী কানেকশন তৈরি করে।

উদাহরণস্বরূপ ; আপনার শিশুকালে যে ভাষা আপনার নিকট প্রকাশিত হয়েছে তা আপনার বিশেষ শব্দ শোনার ক্ষমতাকে রিফাইন করে এবং অন্য ভাষার কোনো শব্দ শোনার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। জাপান ও আমেরিকার দুজন শিশু দুটি ভাষার সকল শব্দে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে। সময়ের সাথে, যে শিশুটি জাপানে লালিত হয়েছে সে দুটোর মধ্যে তারতম্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যেমন- R এবং L এ দুটি আওয়াজ জাপানে পৃথক নয়। আমরা যে জগতে পতিত হই সেই জগতই আমাদের নকশা নির্মাণ করে।

প্রকৃতির খেলাঃ

আমাদের প্রলম্বিত শিশুকালে, আমাদের মস্তিষ্ক নিরবিচ্ছিন্নভাবে তার কানেকশন জোড়া লাগাতে থাকে, বিশেষ পরিবেশে এটি নিজের রূপরেখা অর্জন করে।  মস্তিষ্ককে পরিবেশের সাথে সমন্বিত করার জন্য এটি একটি স্মার্ট স্ট্রাটেজি। কিন্তু এখানে রয়েছে একটি ঝুঁকি। যদি মস্তিষ্কের উন্নয়নের জন্য পরিমিত পরিবেশ না দেয়া হয়, “প্রত্যাশিত” পরিবেশে তবে ব্রেন স্বাভাবিকভাবে উন্নত হতে অনেক স্ট্রাগল করে। ইউসকনসিনের জেনসেন পরিবার যার একটি অন্যতম উদাহরণ। ক্যারল এবং বিল জেনসেন টম, জন এবং ভিক্টোরিয়া নামক তিনজন শিশুকে দত্তক নিয়েছিল যখন তাদের চার বছর বয়স। দত্তক নেয়ার পূর্বে এ শিশুরা ছিলো অনাথ যারা রোমানিয়ার এক এতিমখানায় বাস করত যা তাদের মস্তিষ্কের উন্নয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল। জেনসেন যখন এ শিশুদেরকে নিয়ে ট্যাক্সিতে করে রোমানিয়ার বাহিরে যাচ্ছিল তখন ক্যারল ট্যাক্সি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করছিল, শিশুদের ভাষা ট্রান্সলেট করে শোনাতে। ট্যাক্সি ড্রাইভার ব্যাখ্যা করেছিল যে এরা বিদ্রুপ করছে। এটি তাদের পরিচিত ভাষা ছিলোনা, সাধারণ ইন্টারেকশনের মিথস্ক্রিয়া থেকে শিশুরা এক অদ্ভুত ক্রিওল( Creole) তৈরি করেছিল। যখন তারা বড় হয়েছিল তারা শিক্ষাগত অক্ষমতার শিকার হয়েছিল, তারা তাদের শিশুকালের বঞ্চনার প্রতি ভীতসন্ত্রস্ত ছিল।

টম,জন এবং ভিক্টোরিয়া রোমানিয়া থাকাকালীন কোনো স্মৃতি মনে করতে পারতোনা। বিপরীতদিকে, যে ব্যক্তি এ ইনস্টিটিউশনকে মারাত্মকভাবে স্মরণ করেছিলেন তিনি ছিলেন ডা. চার্লস নেলসন, বোস্টন চিল্ড্রেন হসপিটালের একজন প্রফেসর। তিনি সর্বপ্রথম এ ইনস্টিটিউশন ভ্রমণ করেছিলেন ১৯৯৯ সালে। তিনি যা দেখেছিলেন তা তাকে ভীতসন্ত্রস্ত করে। তরুণ শিশুদের তাদের শিশুসয্যায় রাখা হতো কোনোপ্রকার সেন্সরি স্টিমুলেশন ছাড়া। প্রতি ৫০ জন শিশুর জন্য একজন কেয়ার টেকার ছিল, এবং এ লোকটিকে বলা হয়েছিল, শিশুরা কান্না করুক বা যাই করুক তাদের প্রতি যেনো কোনো সহানুভূতি প্রদর্শন না করা হয় যা শিশুদের হয়তো আরো সহানুভূতি পাওয়ার জন্য লোভী করে তুলবে, যা সীমাবদ্ধ স্টাফ দিয়ে পূরণ করা যাবেনা। বাচ্ছারা সারিবদ্ধভাবে টয়লেট করতো একটি প্লাস্টিকের পাত্রে। সবার একই হেয়ারকাট, জেন্ডার যাইহোক না কেন। তাদের ড্রেস সমান। খাওয়া হতো শিডিউল অনুযায়ী। সবকিছু ছিলো মেকানাইজড।

ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ

যে সকল শিশুরা কান্নার পরও উত্তর পেতোনা তারা এক সময় কান্না থামিয়ে দিতো। শিশুরা খেলতে পারতো না। যদিও তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হয়েছিল কিন্তু তারা ইমোশনাল কেয়ার, সাপোর্ট বা অন্যকোনো স্টিমুলেশন পেতোনা। যার ফলে তারা ” উদাসীন বন্ধুত্ব ” উন্নত করতে বাধ্য হয়। নেলসন ব্যাখ্যা করেছিলেন, তিনি একটি কক্ষে প্রবেশ করলেন এবং একদল শিশু তাকে ঘিরে ধরলো যাদের তিনি আগে কখনো দেখেন নি। তারা তার বাহু ধরে লাফাচ্ছিল, তার তোষকে বসেছিল, তার হাত ধরেছিল এবং তার সাথে একসাথে হেঁটেছিল। যদিও এ “উদাসীন আচরণ” প্রথমে খুব মিষ্টি মনে হয়, এটি ছিল মূলত অবহেলিত শিশুদের টিকে থাকার একটি কৌশল এবং এ ব্যাপারটি হাতে হাত রেখে দীর্ঘকালীন এটাচমেন্ট ইস্যুতেও প্রভাব ফেলত। যে সকল শিশু ইনস্টিটিউশনে বড় হয়েছিল এটা ছিল তাদের জন্য দীর্ঘকালীন একটি এটাচম্যান্ট ইস্যু। এ পরিস্থিতির সাক্ষী নেলসন ও তার দল বুখারেস্ট আর্লি ইন্টারভেনশন পোগ্রাম সেট করে। তারা ১৩৬ জন শিশুকে মূল্যায়ন করে, যাদের বয়স ছয় মাস থেকে তিন বছর। যারা এ প্রতিষ্ঠানে জন্মের পর থেকে বাস করে। প্রথমেই এটা সুস্পষ্ট হয়েছিল যে তাদের আইকিউ ছিলো ৬০ থেকে ৭০ এর মধ্যে গড় একশোর তুলনায়। এ শিশুরা  স্বল্প উন্নত মস্তিষ্কের চিহ্ন প্রদর্শন করেছিল এবং তাদের ভাষা ছিল খুব বিলম্বিত। যখন নেলসন ইলেক্ট্রোয়েনসিপ্যালোগ্রাফির মাধ্যমে শিশুদের মস্তিষ্কের একটিভিটিজ প্রদর্শন করেছিলেন তিনি দেখলেন নাটকীয়ভাবে এ শিশুদের নিউরাল একটিভিটি ধীরগতির।

এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে ইমোশনাল কেয়ার ও জ্ঞানগত স্টিমুলেশন না পেলে হিউম্যান ব্রেন নরমালি উন্নত হতে পারেনা। কিন্তু এ গবেষণা থেকে একটি ফ্লিপসাইডও বেরিয়ে এসেছে। শিশুদেরকে যদি সংকটজনক পরিবেশ থেকে সরিয়ে আনা হয় তবে তার পক্ষে রিকভার করা সম্ভব। কিন্তু এটি বিভিন্ন মাত্রার উপর নির্ভর করে। আপনি যখন একটি শিশুকে নিরাপদ ও মিষ্টি পরিবেশে নিয়ে আসবেন সে ক্রমশ ঠিক হয়ে যাবে। দুই বছর পূর্বে পরিবেশ বদলানো গেলে তবে ভালো রিকভারি হয়। বয়স যত বাড়বে তার ঠিক হওয়ার মাত্রা তত কমে। সন্তানের বয়সের উপরই উন্নয়নের মাত্রা নির্ভর করে। আরও পড়ুনঃ ল্যাবে জন্ম নেয়া ব্রেন

নেলসনের গবেষণা হাইলাইট করেছিল, ভালোবাসা, যত্নের পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা মস্তিষ্কের উন্নয়নে। আর এটি আমাদের নিকট পরিবেশের পর্যাপ্ত ভূমিকা বর্ণনা করে যা আমাদের ব্রেনের আকার প্রদানের মধ্য দিয়ে নির্ধারণ করে দেয় যে আমরা কে। এটাকে আমরা এভাবে বলতে পারি, Because of the wire-on-the fly Strategy of the Human Brain, Who we are depends Heavily on where we have been.

তথ্যসূত্রঃ

hsbd bg