বিজ্ঞানীর চোখে সৌন্দর্য
মূলপাতা দর্শন বিজ্ঞানীর চোখে সৌন্দর্য

বিজ্ঞানীর চোখে সৌন্দর্য

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
24 বার পঠিত হয়েছে
আমার একজন শিল্পি বন্ধু ছিলেন এবং তিনি মাঝেমাঝে এমনকিছু মতামত প্রকাশ করতেন যা আমি মেনে নিতে পারতাম না। তিনি একটি ফুল উত্তোলন করলেন এবং বললেন, দেখো এটি কত সুন্দর? আমি একমত হয়েছি। তারপর তিনি বললেন, আমি একজন শিল্পি হিসেবে দেখতে পেয়েছি এটি কত সুন্দর, আপনি একজন বিজ্ঞানী হিসেবে এ বিষয়টিকে আলাদাভাবে রাখেন আর এটি নিস্তেজ একটি বস্তুতে পরিণত হয়ে যায়,” এবং আমি মনে করি তার মাথা খারাপ! প্রথমত, সে যে সৌন্দর্য দেখে তা অন্যান্য মানুষদের জন্যও উপলব্ধির এবং আমার কাছেও। আমরা ফুলের সৌন্দর্যকে তার চেয়েও বেশি প্রশংসা করি যতটুকু সে দেখে। আমি বলতে চাইছি, এটি শুধুমাত্র এ ডায়মেনশনের সৌন্দর্য নয়, এক সেন্টিমিটারের ভেতর, এর থেকে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ডায়মেনশনেও সৌন্দর্য আছে, তার ভেতরের স্ট্রাকচার এবং প্রসেস। ঐ ঘটনা যে ফুল Evolve হয়েছে পতঙ্গদের আকৃষ্ট করার জন্য, তার পরাগায়ন ঘটাতে এটি মজার ব্যাপার; এর মানে হলো ইনসেক্ট কালার দেখে। এটি একটি প্রশ্ন যোগ করে – সৌন্দর্যের চেতনা কী আরো নিন্মতম পর্যায়ে আছে? কেনো এটি সুন্দর? সকল প্রকারের মজাদার প্রশ্ন যা বিজ্ঞানের জ্ঞান কেবল উত্তেজনা, রহস্য ও ফুলের প্রতি বিষ্ময় যোগ করে! আমি জানি না যে এটি কিভাবে বিয়োগ করা যায়!

          ___রিচার্ড ফাইনম্যান


( I have a friend who’s an artist and has sometimes taken a view which I don’t agree with very well. He’ll hold up a flower and say “look how beautiful it is,” and I’ll agree. Then he says “I as an artist can see how beautiful this is but you as a scientist take this all apart and it becomes a dull thing,” and I think that he’s kind of nutty. First of all, the beauty that he sees is available to other people and to me too, I believe. Although I may not be quite as refined aesthetically as he is … I can appreciate the beauty of a flower. At the same time, I see much more about the flower than he sees. I could imagine the cells in there, the complicated actions inside, which also have a beauty. I mean it’s not just beauty at this dimension, at one centimeter; there’s also beauty at smaller dimensions, the inner structure, also the processes. The fact that the colors in the flower evolved in order to attract insects to pollinate it is interesting; it means that insects can see the color. It adds a question: does this aesthetic sense also exist in the lower forms? Why is it aesthetic? All kinds of interesting questions which the science knowledge only adds to the excitement, the mystery and the awe of a flower. It only adds. I don’t understand how it subtracts. )


এ কথাগুলো বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যানের! যিনি রিলেটিভিটিকে ব্যবহার করে ওমেগার ক্রিটিক্যাল মান নির্ধারণ করেছিলেন, মহাবিশ্বের ভবিষ্যতের ছবি এঁকেছিলেন। আমরা সবাই আজ মনের দিক থেকে একা! কারণ আমাদের মধ্যে সৌন্দর্যবোধ নেই, বা আমরা ঐ শিল্পির মতো স্থুল সৌন্দর্যে আক্রান্ত, সুক্ষ্মতম মাত্রায় কী ঘটে, তার প্রতি আমাদের আগ্রহ জন্মায়নি! আমাদের মাথা খারাপ! ইন্টারনেট, এপস ও কিছু মানুষের পরিত্যাক্ত চিন্তাই আমাদের জীবন ও মস্তিষ্ককে ঘিরে রেখেছে! প্রকৃতি থেকে আমরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি! আমরা আমাদের ফিফথ সেন্সকে সঠিকভাবে ব্যবহার করছি না! আর এসবই আমাদের একাকীত্বের কারণ! একাকীত্ব তৈরি হয় নিজের প্রতি অসম্মান থেকে! আর অসম্মান তৈরি হয় তখন যখন আমরা বুঝি যে আমরা নিজের বা অন্য কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছি না! আমাদের এখন একটাই রোগ আর তা হলো, আমরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই! কিন্ত কেনো? কারণ স্পষ্ট, প্রজননের জন্য! আপনি কবিতা লেখেন, সাহিত্য রচনা করেন, কোন তত্ব বা প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন সবকিছু প্রজনন ও বংশবিস্তারের উদ্দেশ্য পরিচালিত! আপনি হয়তো সম্ভাব্য প্রজনন সঙ্গীর কাছে অবচেতনে নিজের অজান্তে মর্জাদা, ব্যক্তিত্ব, শিল্প, সংস্কৃতি অথবা সুরের মাধ্যমে মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ করার চেষ্টা করেন অথবা আপনি সামাজিক অবস্থান তৈরি করতে চান, যেনো মানুষ আপনাকে ভালোবাসে, আপনি মানব মনের ডোপামিন ও সেরেটোনিন হতে চান! সমাজে টিকে থাকতে হলে অন্যের মনে ডোপামিন তৈরির ক্ষমতা থাকতে হয় যাতে করে তারা আপনাকে ভালোবেসে পাশে দাঁড়ায়, সমর্থন জানায়, উপকার করে, যাতে আপনি প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করতে পারেন, হিসেব পরিচ্ছন্ন! আপনি নিজেকে অনেক বড় মানবিক মানুষ মনে করেন, কিন্তু আসলেই কী আপনি মানবিক? নাকি মানবতা আপনার একটি মেসেজ, যে মেসেজের মাধ্যমে আপনি অন্যদের মস্তিষ্ককে একতাবদ্ধ হওয়ার জন্য সতর্ক করেন? একজন মানুষ যখন অন্য আর একজন মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করে তখন সেটা স্বাভাবিক মনে হয় কিন্তু কেউ যখন তিমি মাছের অসুস্থ্যতার কথা ভেবে মন খারাপ করে ইনস্ট্রুমেন্টাল মিউজিক শুনে তখন সেটাকে আর স্বাভাবিক মনে হয়না! এর থেকে প্রমাণিত হয়, মানবতা জিনিসটা আমাদের জিনগত, আমরা নির্দিষ্ট পর্যায়ের বাহিরে গিয়ে মানবতা প্রদর্শনকে সহযাতভাবেই আর স্বাভাবিক মনে করতে পারিনা, যদিও বোদ্ধিক মন সম্পূর্ণ মুক্ত!


এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় মানবিক মানুষের অভাব নেই, নিস্বাঃর্থ, পরোপকারী আর ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ এখানে এখন সকালে বিকালে জন্ম হয়! আর তাদের শত শত অনুসারী তৈরি হয়! হ্যা.. স্বার্থ এটাই ছিল। একটি দল তৈরি, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আর তারপর সে গ্রহণযোগ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য ক্রমবর্ধমান মহানুভতা, এ মহানুভতা এতটাই স্বচ্ছ ও নিখুঁত যে এটি মৃত্যু পর্যন্ত গড়ায়! কারণ ব্যক্তি মরে গেলেও তার জিন সে সমাজে সফলতার সাথেই টিকে যায়! এমন হাজার হাজার দৃষ্টান্ত আছে!


আমরা একা কারণ আমাদের আসলে কোন একাকীত্ব নেই! আমরা সবসময় অন্যের চিন্তা ও দর্শনে পড়ে থাকি! ইন্টারনেট, একটি অদৃশ্য ফোর্স আমাদের বন্ধু, আমরা তাকে ছেড়ে কিছুক্ষণের জন্যও মহাকাশ দেখি না, ফুল, পাখি, প্রজাপতি বা মানুষ কারো সাথেই আমাদের আর গভীর সম্পর্ক নেই! ফাইনম্যানের মতো, ফুলের গভীরে প্রবেশ করার সময় আমাদের হয়নি, এ জন্য আমরা আমাদের সম্মান করিনা, কারণ নিজের প্রতি সম্মান তখনই আসে যখন নিজের কাছে জীবনের সুনির্দিষ্ট কিছু অর্জন থাকে! ফুলের ভেতর কী আছে, এটি কোন প্রক্রিয়ায় কাজ করে, এর ভেতরের এটম ও শ্রডিঙ্গারের সমীকরণের মাঝে যদি ডুবে যাই , তবে আমাদের জীবনে আর সামাজিক একাকীত্ব তৈরি হয় না কারণ তখন মহাবিশ্বের সকল পরমাণুই আমার সমাজ!


আমাদের মস্তিষ্কের সাধারণ জ্ঞানই আমাদের প্রধান শত্রু! হ্য, প্রখ্যাত কমন সেন্সের কথা বলছি! আমাদের ব্রেন সাধারণ জ্ঞানের বাহিরে কল্পনা করতে চায়না কারণ সাধারণ জ্ঞানের বাহিরে কোন সেক্স অথবা সন্তান নেই, সহয কথায় কমনসেন্সের বাহিরে প্রত্যক্ষ কোন সার্ভাইভাল ভ্যালু নেই! যেমন- কোয়ান্টাম জগত কিভাবে কাজ করে এটি চিন্তা করার মাঝে জীবনের কোন মূল্য নেই কিন্তু বয়ফ্রেন্ডকে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়ার মাঝে সার্ভাইভাল ভ্যালু আছে! কারণ লজ্জা একটি সংকেত, এর মাধ্যমে আপনি সঙ্গীকে বুঝিয়েছেন যে আপনি অতীতে আর কোন পুরুষের সংস্পর্শে যাননি, আর আপনি পুরুষের সংস্পর্শে যেতে প্রস্তুত নই, আর এতে করে আপনি পুরুষটির কাছে নিজের অজান্তে আপনার মূল্য বাড়িয়ে তোলেন, বা তাকে আপনার জিন বলে- এই যে ছেলে, আমি যেই সেই মেয়ে নই, বুঝেছো? আমার সাথে সেক্স করতে হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়! আর ঠিক তাই ঘটবে, আপনার লজ্জাকে জয় করার জন্য, ঐ পুরুষ অজস্র সময় ও শক্তি নষ্ট করবে, বিপুল টাকা খরচ করবে আর যখন ঐ পুরুষটির সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সম্পন্ন হবে তখন আপনি তার সাথে সেক্স করবেন! কারণ তখন ঐ ছেলেটি তার জিনগত বহুগামীতাকে সাড়া দিয়ে অন্য কোন নারীর কাছে যাবে না, ভয় পাবে। কারণ এমনিতেই ইতিমধ্যে তার ব্যাপক সময় ও শক্তি আপনি নষ্ট করে ফেলেছেন, চার বছর আপনার পেছনে ঘুরিয়েছেন! এখন ছেলেটি যদি অন্য কোন নারীর কাছে যায় এবং সেও, লজ্জায় লাল হয়ে যায়! তাহলে তো মহা বিপদ! এভাবেই লজ্জা দিয়ে আপনি আপনার সঙ্গীকে বন্দী করে ফেললেন! এতে করে সে পরিবারের কেয়ার করবে, সন্তানের কেয়ার করনে, আপনার কেয়ার করবে এবং আপনাদের জিন ভবিষ্যত প্রজন্মে টিকে থাকবে! এটাকেই সহয ভাষায় বলে – সার্ভাইভাল ভ্যালু! ফুলের ভেতর কোন প্রক্রিয়া কাজ করছে অথবা শ্রডিঙ্গারের বেড়াল জীবিত কী মৃত এর মাঝে আমাদের সার্ভাইভাল ভ্যালু শূন্য! তারচেয়ে বরং অভিমান করা ভালো!


আমাদের মস্তিষ্ক বা সাধারণ জ্ঞান বিকশিত হয়েছে সুস্থির, শান্ত একটি গ্রহের নির্দিষ্ট একটি অংশে, পনের বিলিয়ন বছর পর, যখন মহাবিশ্বের এ গ্রহটি সম্পূর্ণ শীতল হয়ে উঠেছে ও এটি ধারাবাহিক! আমরা উত্তপ্ত নক্ষত্রের ভেতর বিবর্তিত হইনি, মহাশূন্যেও বিবর্তত হইনি অথবা আমাদের বিবর্তনে কোয়ান্টাম জগতেরও কোন ভূমিকা নেই! আমাদের গ্রহটি শান্ত, সমাহিত, ও সুশৃঙ্খল, এখানে কোন অস্বাভাবিকতা বা অনিশ্চয়তা নেই, আর এখানেই আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র বিকশিত হয়েছে! আমাদের কমনসেন্স নির্দিষ্ট কিছু পরিবেশকে বোঝার জন্য বিবর্তিত, আপেক্ষিকতা ও  কোয়ান্টাম ফিজিক্স আমাদের কমনসেন্সের সাথে যায় না!

আমি সাধারণ জ্ঞানের বাহিরে এসে সত্যিকারের একাকীত্ব অর্জনের কথাই বলছি! আপনাকে মূল্যায়ন করলো কী করলোনা তাতে কী আসে যায়? আলো কারো চোখে প্রবেশ করলেও সে ফোটন, না করলেও সে ফোটন! এন্ড্রোমিডার আলো আমার রেটিয়ান প্রবেশ করেনি বলে কী তার ভেতরে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়ে যায় ? এত বিলিয়ন ফোটনের মধ্যে কোনটি কার চোখে জগতের তথ্য নিয়ে প্রবেশ করবে তা জানা যায়না কিন্তু তার মানে তো এ নয় যে আলোর গুণ নষ্ট হয়ে গেছে! সবাই সেলিব্রেটি হয়না ঠিক যেমনি সব তরঙ্গ আপনার চোখে প্রবেশ করেনা যদিও তারাও তরঙ্গ! আমরা একই পদার্থবিদ্যার সুত্রের তৈরি, কে সেলিব্রেটি হলো আর না হলো তাতে কী আসে যায়? কে আপনার হলো আর না হলো তাতে কী আসে যায়?


একজন শিল্পি ফুলের বাহিরের রুপ দেখে বিষ্মিয় হয় আর বিজ্ঞানীকে অপবাদ দেয় যে সে ফুলের সৌন্দর্য বোঝেনা! মনে রাখবেন, জগতের বেশিরভাগ মানুষ শিল্পি, এরা গান গায়, ছবি আঁকে, শিশ দেয়, কবিতা লেখে! এরা সার্ভাইভালের সাথে জড়িত বিষয়গুলোর প্রতিই আকৃষ্ট হয়! এদের অধিকাংশ কাজের মাঝেই অল্পকিছু ডায়মেনশন জড়িত! এরা মনে করে এরা অনেক চালাক! কিন্তু আপনি দেখবেন এদের অনেকেরই মস্তিষ্কে বিকৃতি আছে! একজন বিজ্ঞানীর দৃষ্টি অর্জন করুন, নিজের ইন্দ্রীয়গুলোকে আরো সুক্ষ্ম করে তুলুন, এ মহাবিশ্বকে পড়ুন। অনেকে প্রশ্ন করবেন, এ জগতকে পড়ে কী হবে? তাদের প্রতি প্রশ্ন, একে না পড়ে কী হবে? আপনি মহাবিশ্বকে জানলে যে পরিমাণ সময়-শক্তি মেধা অপচয় হবে মহাবিশ্বকে না জানলেও একই পরিমাণ সময়-শক্তি- মেধা অপচয় হবে! একজন, ধার্মিক অবান্তর ও অনর্থক চিন্তা করে তার মহামূল্যবান জীবন অপচয় করে, তার মস্তিষ্ককে সে সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতর উপাসনায় নিমগ্ন করে কিন্তু তার উপাসনা জগতের কোন মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না! আপনি যদি বিজ্ঞানমনস্ক না হয়ে একজন ধার্মিক হন আপনার ক্ষতি এতটুকুই হবে! যে সময়, শক্তি আর মেধা আপনি মহাবিশ্বের মহান রহস্য উন্মোচনে ব্যয় করতেন ;ঠিক এতটুকু ক্ষতি আপনার! মানে আপনার আল্টিমেট ক্ষতি শূন্য কিন্তু তুলনামূলক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ! মনে রাখবেন, এটাই আপনার সম্ভ্রম, আত্মমর্জাদা ও আত্মসম্মান যা আপনাকে সকল নিরর্থকার ছাড়িয়ে এক নিপুণ, সুন্দর ও অর্থময়তা প্রদান করবে! আইনস্টাইন সুইসাইডও করতে চেয়েছিলেন

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!