বিগ ফ্রিজের সময় বুদ্ধিমান কী সার্ভাইব করতে পারবে?

মহাবিশ্বের পঞ্চম স্টেজে বা বিগ ফ্রিজের সময় বুদ্ধিমান কী সার্ভাইব করতে পারে?

Last updated:

জানি মহাবিশ্ব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু মহাবিশ্বের ফাইনাল যেপ্টোসেকেন্ড পর্যন্তও কী বুদ্ধিমান কোনো প্রাণি টিকে থাকবে? Yes! life can Survive till the end of the Universe! শুনে অবাক হচ্ছেন, নিশ্চয়? অকল্পনীয় হলেও বিজ্ঞানী ফ্রিম্যান ডাইসন তার একটি আর্টিকেলে থট এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে এটি সম্ভব, তিনি এ ধরণের প্রাণের নাম রেখেছেন “Eternal Intelligence”! এ শাশ্বত বুদ্ধিমত্তা মহাবিশ্বের অন্তিম সেকেন্ড পর্যন্ত সার্ভাইব করবে ( যাদের থাকবে ইনফিনিট সাবজেক্টিভ টাইম) যদি শুধুমাত্র নিচের তিনটি শর্ত পূরণ হয়ঃ

  • ১. যদি কম্পিউটেশনাল থিয়োরি অব মাইন্ড সঠিক হয়।
  • ২. ল্যান্ডউয়ার লিমিট যদি এড়ানো যায়। এটি হলো কোনো একটি গণনা সম্পাদন করার জন্য যে পরিমাণ এনার্জি প্রয়োজন হয় তার সর্বনিন্ম সীমা।
  • ৩. যদি Reversible Computing সম্ভব হয়

যাক এতটুকু পড়ার পর যদি কেউ বুঝতে না পারেন তবে ভয়ের কিছু নেই। কারণ আমি বিষয়টি আপনাদের জন্য সহজ করে তুলবো। না বুঝলেও আপনাকে আপাতত পড়ে যেতে হবে।

মহাবিশ্বের আল্টিমেট নিয়তি কি?

পদার্থবিজ্ঞানীরা বলছেন মহাবিশ্বের আল্টিমেট নিয়তি হলো “Heat Death বা তাপের মৃত্যু”! যেটাকে আমরা বিগ চিল বা বিগফ্রিজ বলেও জানি। আমরা জানি যে মহাবিশ্ব একটা সময় শীতল হয়ে যাবে। আর তাপমাত্রা কমে গেলে বস্তুর এন্ট্রপি বা বিশৃঙ্খলাও কমে যাবে। এটা আমরা অত্যন্ত সাধারণ কিছু উদাহরণের মাধ্যমে বুঝতে পারি যেমন- পানিকে তাপ দিলে তার অণুগুলোর ভেতরকার বন্ধন দূর্বল হয়ে যায় এবং তাদের ফোর্স ফিল্ড শিথিল হয়ে উঠে যা পানির অণুগুলোর বিশৃঙ্খলা বাড়িয়ে তাকে বাষ্পে পরিণত করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে বস্তুর এন্ট্রপি বা বিশৃঙ্খলা সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু বিগ ফ্রিজের সময় মহাবিশ্বের তাপমাত্রার মৃত্যু হবে। মহাবিশ্ব এমন একটি স্টেটে বিবর্তিত হবে যেখানে কোনো প্রকার থার্মোডায়নামিক্যাল ফ্রি এনার্জি পাওয়া যাবে না আর এতে করে সে প্রসেসটি বন্ধ হয়ে যাবে যে প্রসেসে সময়ের সাথে মহাবিশ্বের এন্ট্রপি বৃদ্ধি পায়। এন্ট্রপি হলো মূলত একটি বদ্ধ সিস্টেমের বিশৃঙ্খলার পরিমাণ । আমরা জানি যে মহাবিশ্ব ক্রমবর্ধমানভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে, আর এ জন্য মহাবিশ্বের সকল শক্তি সমানভাবে সর্বত্র ভাগ হয়ে যাচ্ছে। আর এটাও আমাদের জানা যে, একটি বদ্ধ সিস্টেমে এন্ট্রপি বাড়তেই থাকে, এভাবে মহাবিশ্বের কোন তাপ ও মুক্তশক্তি পাওয়া যাবেনা। আর এ জন্য যে সকল প্রসেস এন্ট্রপি রিভার্স করে যেমন- বায়োলজিক্যাল অথবা বায়োকেমিক্যাল প্রসেস সেগুলোও অস্তিত্বশীল হতে পারবে না! তাহলে বুদ্ধিমান সার্ভাইব করার উপায়?

১৯৭০ সালে, ফ্রিম্যান ডাইসন সর্বপ্রথম আধুনিক বিশ্ব তত্ত্বের আলোকে মহাবিশ্বের সমাপ্তি দাবি করেছিলেন। তার Eternal Intelligence থট এক্সপেরিমেন্ট প্রকাশ হয়েছিল চূড়ান্তভাবে Thought Provoking একটি পেপারে যার নাম ছিল Time Without End; physics and Biology in an Open Universe! এ পেপারে তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন বুদ্ধিমান প্রাণীরা হয়তো এক সময় বিগ ফ্রিজকে প্রতারিত করতে পারবে এবং মহাবিশ্বের তাপমাত্রার মৃত্যুতেও সার্ভাইব করতে পারবে। এ ধরণের বুদ্ধিমত্তা, উদাহরণস্বরূপঃ ইন্টারস্টেলার ধুলোর মধ্যে ইলেক্ট্রিক্যালি আহিত ধুলিকণা হিসেবে মিশে থাকতে পারে। এটি এমন একটি পরিস্থিতি যা ১৯৫৭ সালে ব্রিটিশ এস্ট্রোনোমার ফ্রেড হোয়েল তার “The Black Cloud” সায়েন্স ফিকশনে এ আলোচনা করেছিলেন। Read more: Does the death of universe spell the death

মস্তিষ্কের নিউরনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি একটি পরিস্থিতি প্রদান করে বিগ ফ্রিজের মাইক্রো ইন্টিলিজেন্স। বিজ্ঞানীরা বিতর্ক করছেন যে কোন বুদ্ধিমান জীবন সার্ভাইব করতে পারবে কিনা মহাবিশ্বের অন্তিম সময়ে । প্রথমত, এটা ভিত্তিহীন মনে হয় স্টেজ-৫ এ বসবাসের ধারণা, যখন তাপমাত্রা এবসলিউট শূন্যের কাছাকাছি চলে যাবে। যাহোক, এখানে এখন বিতর্ক চলছে পদার্থবিজ্ঞানীদের মাঝে বুদ্ধিমান জীবন সত্যিকারে অস্তিত্বশীল কিনা। এ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু দুটি মূল প্রশ্ন। বুদ্ধিমান প্রাণীরা কি এবসলিউট শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রায় কোন মেশিন অপারেট করতে পারবে ?  থার্মোডায়নামিক্স অনুসারে, তাপমাত্রা উচ্চ থেকে নিম্নতর পর্যায়ে  প্রবাহিত হয়, এনার্জির এ মুভমেন্ট যেকোন ব্যবহারযোগ্য ম্যাকানিকাল কাজে ব্যবহার করা যায়। উদাহরণস্বরূপ- যান্ত্রিক কাজকে একটি তাপ ইঞ্জিন দ্বারা চালানো যেতে পারে যা দুটি অঞ্চলকে বিভিন্ন তাপমাত্রায় সংযুক্ত করতে পারে। তাপমাত্রার তারতম্য যত বেশি হবে, এটার কার্যকারীতা ততো বৃদ্ধি পাবে। এটি মেশিনের বেসিক যা শিল্প বিপ্লবকে শক্তিশালী করে যেমন স্টিম ইঞ্জিন ও লোকোমোটিভ। প্রথমত, এটি অসম্ভব মনে হতে পারে স্টেজ ৫ এ  কোন হিট ইঞ্জিন থেকে কাজ করা, কেনোনা স্পেসের সর্বত্র টেম্পারেচার সমান।


দ্বিতীয় প্রশ্ন- বুদ্ধিমান জীবন কি কোন ইনফরমেশন আদান প্রদান করতে পারবে? ইনফরমেশন থিওরি অনুসারে, সবচেয়ে ক্ষুদ্রতর ইউনিট যা গ্রহণ ও প্রেরণ করা হয় তা তাপমাত্রার সমরূপ । যেহেতু তাপমাত্রা পরম শূন্যে পতিত হয়, ইনফরমেশন পাঠানোর ক্ষমতা সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। শীতল মহাবিশ্বে যে ইনফরমেশন ট্রান্সমিট করতে হবে সে ইনফরমেশনকে হতে হবে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর। পদার্থবিদ ফ্রিম্যান ডাইসন ও অন্যান্যরা বুদ্ধিমান জীবনের ফিজিক্স পুনরায়  এনালাইজড করেন যারা মৃত মহাবিশ্বকে মোকাবিলা করে। কোন এক দুর্দান্ত পদ্ধতিতে তারা প্রশ্ন করেন, বুদ্ধিমান জীবন কী সার্ভাইব করতে পারে পরম শূন্য তাপে? যেহেতু সমস্ত মহাবিশ্বে টেম্পারেচার হ্রাস পাচ্ছে সেহেতু প্রথমত, সে সৃষ্টি তাদের দেহের টেম্পারেচারকে হ্রাস করার চেষ্টা করবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহার করে। এইভাবে, তারা আরও বেশি দক্ষ হতে পারে ক্রমহ্রাসমান শক্তি ব্যবহার করে। অবশেষে, শরীরের টেম্পারেচার পানির হিমায়িত বিন্দুতে চলে যাবে। সে সময়,  বুদ্ধিমান প্রাণীরা হয়তো তাদের ভঙুর রক্ত মাংসের শরীরকে পরিত্যাগ করবে এবং রোবটিক শরীরে প্রতীয়মান হবে। মেকানিক্যাল দেহ রক্ত মাংসের দেহ থেকে বেশি ঠাণ্ডা সহ্য করতে পারবে। কিন্তু মেশিনও  ইনফরমেশন ও থার্মোডায়নামিক্সের আইন মেনে চলবে, জীবনকে চূড়ান্ত   ভাবে কঠিন করে তুলবে, এমনকি রোবট এর জন্যেও। Read More: প্যারালাল ওয়ার্ল্ড- মিচিও কাকু



যদিও বুদ্ধিমান সৃষ্টি ইন্টিলিজেন্ট শরীর ত্যাগ করে এবং নিজেদের বিশুদ্ধ চেতনায় পরিণত করে,  তখনও তারা ইনফরমেশন প্রসেসিং এর সমস্যার মুখোমুখি হবে। যেহেতু টেম্পারেচার ক্রমবর্ধমান ভাবে পতিত হবে, শুধুমাত্র একটি উপায়ে তারা সার্ভাইব করতে পারবে , ডাইসন অন্তর্ভুক্ত করেন যে, এমন দুর্দান্ত জীবনের আকার তখনও অনির্দিষ্টকাল ব্যবহার করে চিন্তা করতে সক্ষম হবে, ইনফরমেশন প্রসেসিং এর জন্য প্রয়োজনীয় সময় প্রদান করে এবং সংরক্ষিত শক্তি হাইবারনেটিং করে। যদিও ফিজিক্যাল সময় যা চিন্তা ও তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য একই থাকবে। তারা সম্ভবত বিলিয়ন বিলিয়ন  বছর অতিক্রম করে ফেলবে, “সাবজেক্টিভ সময়ে,”।  কিন্তু সে বুদ্ধিমান সৃষ্টির কাছে তখনও সব সমান মনে হবে। চিন্তা স্লো হয়ে যাওয়ায় তারা এ তারতম্য অনুভব করতে পারবেনা।।


কিন্তু এ বুদ্ধিমান জীবন এতটাই ধীর গতিতে চিন্তা করে যে, সম্ভবত তারা মহাবিশ্বে কসমিক কোয়ান্টাম ট্রান্সজিশন পর্যবেক্ষণ করবে, সাধারণত এ ধরনের মহাজাগতিক ট্রান্সজিশন, শিশু মহাবিশ্বের জন্ম দেয় অথবা এটাকে বলা যায় অন্য কোনো মহাবিশ্বে স্থানান্তর, যা ট্রিলিয়ন বছরের ভেতর সংঘটিত হবে এবং তাই বিশুদ্ধ তাত্ত্বিক।।

স্টেজ- ৫ এ যাইহোক, ট্রিলিয়ন বছর “ব্যক্তিগত সময়ে” সংকুচিত হয়ে যাবে এবং সম্ভবত মনে হবে কয়েক সেকেন্ড। তারা প্রতিনিয়তই দেখবে মহাবিশ্বের বুদ্বুদ এখান থেকেই দৃশ্যমান হচ্ছে অথবা বিকল্প কোন মহাবিশ্বে কোয়ান্টাম লিপ। সাম্প্রতিক আবিষ্কারের ভিত্তিতে পদার্থবিজ্ঞানীরা ডাইসনের কাজকে পুনরায়  এক্সামিন করেন এবং নতুন এক বিতর্ক জ্বলে উঠে, এক্সিলারেটিং মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান প্রাণ অপরিহার্যভাবে ধবংস হয়ে যাবে। পদার্থবিজ্ঞানী লরেন্স ক্রস এবং গ্লেন স্টার্কম্যান অন্তর্ভুক্ত করেন, বিলিয়ন বছর পূর্বে মহাবিশ্ব এতটাই উত্তপ্ত ছিলো যে জীবন সম্ভব ছিলোনা, অগণিত যুগ পর, এটি শীতল হয়ে যাবে এবং জীবন শূন্য হয়ে যাবে, কোন ব্যাপারই না যতই দুর্দান্ত বুদ্ধিমান হোক, তারা ধবংস হবে।।



ডাইসনের মূল কাজে, তিনি কল্পনা করেন যে, মহাবিশ্বে ২.৭ ডিগ্রি মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশন নিরবিচ্ছিন্নভাবে অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কমতে থাকবে, তাই বুদ্ধিমান সত্তা  এ ক্ষুদ্র তাপমাত্রার তারতম্য ব্যবহার করে কাজ করতে পারবে। যতক্ষণ না তাপমাত্রা অবিচ্ছিন্ন ভাবে পতিত হচ্ছে, ব্যবহারিক কাজ তখনও করা যাচ্ছে। যাইহোক পদার্থবিজ্ঞানী লরেন্স ক্রস ও স্ট্যাকম্যান বলছেন, যদি মহাবিশ্বের একটি কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট থাকে, তবে তাপমাত্রা চিরকাল  কমতে থাকবেনা যেমনটি ডাইসন কল্পনা করেছেন কিন্তু অবশেষে চূড়ান্ত  সীমায় অবতরণ করবে, গিবন ও হকিং টেম্পারেচার ( প্রায় ১০-২৯ )। একবার এই তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পর, মহাবিশ্বের সর্বত্র তাপমাত্রা সমান হয়ে যাবে, অতএব বুদ্ধিমান সত্তা  কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার তারতম্য পাবেনা। যখনই মহাবিশ্ব একবার এই ইউনিফর্ম তাপমাত্রায় পৌঁছাবে, সকল ইনফরমেশন প্রসেসিং শেষ হয়ে যাবে।

 

The Big Chill Theory Photograph by Spencer Sutton

১৯৮০ সালে, এটা আবিষ্কার করা হয়েছে যে, কিছু কোয়ান্টাম সিস্টেম, যেমন-তরলের মধ্যে ব্রাউনীর গতি, একটি কম্পিউটারের ভিত্তি হিসেবে পরিবেশন করতে পারা যায়, বাহিরে তাপমাত্রা কতটা ঠাণ্ডা  সেটাকে উপেক্ষা করেই, তাই যদিও তাপমাত্রা ডুবে যায়, এ কম্পিউটার তখনও ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর শক্তি ব্যবহার করে কাজ করতে পারে। এটা ছিলো ডাইসনের জন্য একটি শুভ সংবাদ।  কিন্তু এখানে একটি ধরা আছে। এ সিস্টেম দুটো শর্তকে অবশ্যই সন্তুষ্ট করবে, এটি সবসময় এর এনভায়রণমেন্টের সাথে ভারসাম্যে থাকবে , এটি কখনো ইনফরমেশনকে প্রত্যাহার করতে পারবেনা। কিন্তু যদি মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়, এ ভারসাম্য সম্ভব না, কারণ রেডিয়েশন বিস্তৃত ও এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য প্রসারিত হয়ে যাবে। একটি এক্সিলারেটিং মহাবিশ্ব  এত দ্রুত চেঞ্জ হয় যে সিস্টেমের জন্য এ ভারসাম্য অর্জন প্রায় অসম্ভব। আর দ্বিতীয়ত, এটি কখনো ইনফরমেশন ডিসকার্ট করতে পারবেনা, এর মানে হলো এ বুদ্ধিমান সত্তা  কোন কিছু ভুলতে পারবেনা। অবশেষে, বুদ্ধিমান সত্তা  অতীতের মেমরি ভুলতে অক্ষম হবে, সে নিজেকে বার বার তার পূর্বের মেমরিতে ফিরে পাবে, Eternity Would be Prison, rather than an endlessly receding horizon of creativity and exploration. It might be nirvana, but would it be living?  –  ক্রস ও স্টার্কম্যান প্রশ্ন করেন।



সংক্ষিপ্তভাবে, আমরা দেখতে পাই যে, যদি কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট শূন্যের কাছাকাছি হয়, বুদ্ধিমান সত্তা  অনির্দিষ্টকাল চিন্তা করতে পারবে যে মহাবিশ্বের শীতলতার সাথেসাথে হাইবারনেটিং ও চিন্তা ধীর করার মাধ্যমে। কিন্তু এক্সিলারেটিং মহাবিশ্বে যেমনটি আমরা, এটা অসম্ভব। বুদ্ধিমান সত্তা  বিনষ্ট ও ধবংস হয়ে যাবে, পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুসারে।



এ মহাজাগতিক দৃষ্টিকোণের সুবিধাজনক বিন্দু থেকে আমরা এ জন্য দেখি যে, জীবনের পরিস্থিতি যেমন আমরা জানি এটি অনেক বিশাল টেপিস্ট্রির অত্যন্ত দ্রুততম একটি এপিসড।  এখানে রয়েছে শুধুমাত্র একটাই জানলা যেখানে টেম্পারেচার জীবনের জন্য একদম ঠিক থাকবে, বেশি গরমও নয় আবার বেশি ঠান্ডাও নয়।

can intelligent life survive?

মহাবিশ্বের মৃত্যুর পূর্বে এ ধরণের বুদ্ধিমত্তা সীমিত পরিমাণ এনার্জি সংগ্রহ করবে। তারপর এ সীমিত এনার্জির অর্ধেক চিন্তা করার জন্য ব্যবহার করবে। আর এভাবে প্রতিবার চিন্তার সময় অর্ধেক করে কমতে কমতে এ বুদ্ধিমান প্রাণী অসীম সংখ্যক চিন্তা করতে পারবে কিন্তু এনার্জি শেষ হবেনা। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে চিন্তা করতে হলে তাপমাত্রা উৎপাদন হয় ঠিক যে জন্য কম্পিউটারের পাখা ব্যবহার করা হয়। তাহলে সে বুদ্ধিমান প্রাণ এ উত্তাপ কিভাবে সামাল দেবে? ডাইসন সাজেস্ট করেন, এ ধরণের সৃষ্টি চিন্তা স্টপ করে দেবে এবং পর্যায়ক্রমিকভাবে হাইবারনেট করবে তাদের তাপ রেডিয়েট করার জন্য। এ দুটি স্ট্র‍্যাটিজি অসীমভাবে চলতে থাকবে।

ডাইসন লিখেনঃ

This example shows that it is possible for life with the strategy of hibernation to achieve simultaneously its two main objectives. First… subjective time is infinite; although the biological clocks are slowing down and running intermittently as the universe expands, subjective time goes on forever. Second… the total energy required for indefinite survival is finite.”

freeman dison
The National Space Society Mourns the Passing of Freeman Dyson - National  Space Society
freeman dison

যখন বুদ্ধিমান প্রাণীরা হাইবারনেট করবে তখনও মহাবিশ্ব ক্রমবর্ধমানভাবে শীতল হতে থাকবে। যাইহোক, একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে এসে আবার অবশিষ্ট শক্তির অর্ধেক রিলিজ করা হবে। যা তাদেরকে পুনরায় চিন্তা করার সুযোগ দেবে। আর এ সাইকেল অসীমভাবে চলতে থাকবে। আর এ সকল বুদ্ধিমান প্রাণীর সাবজেক্টিভ সময়ও হবে অসীম এবং এভাবে এটি সময়ের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে। আপনি যদি এখনো আমার কথা গুলো পড়ে থাকেন তবে আপনি হয়তো বিস্মিত হবেন যে কেনো তাদের সাবজেক্টিভ সময় ইনফিনিট!

এ যুক্তির পেছনে যে দার্শনিক চিন্তা কাজ করছে সেটিকে বলা হয় “সুপার টাস্ক”! এটি হলো এমন একটি ধারণা যেখানে সসীম সময়ের ভেতর আপনাকে অসীম পরম্পরার কাজ করতে হবে। ডাইসনের ইটারনাল ইন্টিলিজেন্সে, চিন্তা অসীমভাবে সংঘটিত হয়( ভেঙে ও হাইরনেট স্টেট অলটারেশনের মাধ্যম) যেখানে প্রাথমিক এনার্জিকে সংরক্ষণ করা হয়। ব্যাপারটা অনেকটা জেনোর প্যারাডক্সের মতো। মনে করুন, আপনি একটি কাগজের পাতাকে অসীম সংখ্যক ভাগে ভাগ করলেন, অসীমভাগে ভাগ করার পর আপনি যদি এক বিন্দু থেকে অন্য আর একটি বিন্দুকে অতিক্রম করে শেষ বিন্দুতে চলে যেতে চান আপনি সেটা পারবেন না কারণ অসীমের ভেতর শেষ বিন্দু বলতে কোনো বিন্দু নেই।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*pWT0YxqA4ATFzhLcBFQ2tA.png
Philosophico-Scientific Adventures | by Bryan W. Roberts

মনে করুন, একজন দৌড়বিদ প্রথমে ১/২ দূরত্ব অতিক্রম করলো, তারপর সে ঐ দূরত্বের অর্ধেক ১/৪ অতিক্রম করলো আবার পুনরায় সে ঐ দূরত্বের অর্ধেক তথা ১/৮ অংশ অতিক্রম করলো। এভাবে ক্ষুদ্র করতে করতে সে দৌঁড়বিদ অসীমকাল দৌঁড়াতে থাকবে কিন্তু সে কোনো অন্ত খুঁজে পাবেনা! কারণ আমরা যদি একটি মার্বেলকে অর্ধেক করি, সে অর্ধেককে আবার অর্ধেক করি, এ বিভাজন প্রক্রিয়া অনন্তকাল চলতে থাকবে কিন্তু আমাদের পক্ষে ফাইনাল স্টেপে যাওয়া সম্ভব না।ঠিক একইভাবে ডাইসনের ইন্টারস্টেলার ক্লাউডের ভেতর টিকে থাকা অতি-ক্ষুদ্র বুদ্ধিমত্তার অসীম সময় অনুভব করে। আসলে জেনোর প্যারাডক্সের মতোই তারা যে পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করে সেটাকে অর্ধেক করে ব্যবহার করে এবং তারপর হাইবারনেট, পুনরায় তারা যে অর্ধেক ব্যবহার করেছে তারও অর্ধেক ব্যবহার করে আর এটি অসীম সময় পর্যন্ত চলতে থাকে। এবার আসুন আমরা আবার পূর্বের পয়েন্টগুলোতে ফিরে যাইঃ

ডাইসনের Eternal Intelligence সম্ভব যদি-

… ১. কম্পিউটেশনাল থিয়োরি অব মাইন্ড সত্য হয়।

২. যদি Landauer’s লিমিট ভেঙে যায়।

২. যদি রিভার্সিভল কম্পিউটিং পসিবল হয়।

1) যদি মনের কম্পিউটেশনাল থিয়োরি সত্য হয়ঃ ডাইসন বুদ্ধিমত্তার রিডাকশনিস্ট দৃষ্টিকোণে বিশ্বাস করতেন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি এমন একটি দৃষ্টিকোণ সাবস্ক্রাইভ করতেন যেটাকে বলা হয় ” The Computational Theory of Mind(CTM)”!

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*rzLzcG-Bgw_d9MhZRAIDSQ.gif

CTM মনকে কম্পিউটার মনে করে। ডাইসন নিজেও বুদ্ধি, চেতনা ও চিন্তার মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতেন না। সবকিছুর পরও তিনি একজন ফিজিসিস্ট, দার্শনিক নন। যাইহোক, এটা খুবই মজার হবে যদি কনসেপচুয়াল পার্থক্য থেকে “Eternal Intelligence” নির্গত হয়। এখানে একটি সম্ভাবনা রয়েছে যে ডাইসনের এটারনাল ইন্টিলিজেন্স অনেকটা মেট্রিক্সের দৃশ্যপটের মত। ব্লাক ক্লাউড কম্পিউটিং ইঞ্জিনের হোস্টই নয় শুধু এটি ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বুদ্ধিমত্তারও হোস্ট। এ ইন্টিলিজেন্স একে অন্যের সাথে ইন্টারেক্ট করে একটি বিরাট ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ভেতর। কম্পিউটার খুব সিম্পলি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কম্পিউট করে, শক্তি শোষণ ও বিকল্পভাবে হাইবারনেট করার মাধ্যমে যেমনটি ডাইসন চিন্তা করেন। যেখানে এ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাবজেক্টিভ টাইম হবে অসীম কিন্তু ভার্চুয়াল রিয়েলিটির বাহিরের সময় হবে সীমাবদ্ধ। কিন্ত CTM কিভাবে ইটারনাল ইন্টিলিজেন্সে হস্তক্ষেপ করবে? যদি বুদ্ধিমত্তা তুচ্ছ কম্পিউটেশন থেকে বেশিকিছু হয় তবে ডাইসনের আর্গুমেন্ট হবে ফলস। মহাবিশ্বের শেষ পর্যন্ত সার্ভাইব করা শুধুমাত্র এনার্জি ও কম্পিউটেশন হতে পারেনা।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*MCwbxx-lmTPzTcujRaT7Mg.jpeg
কেমন হতো যদি মহাবিশ্ব হতো একটি সিমুলেসশন… ?

Perhaps organic substance is the key. Or the molecular structure that gives rise to consciousness is the key.

2 ) যদি ল্যান্ডিউয়ার লিমিট এভোয়েড করা যায়ঃ ল্যান্ডিউয়ার লিমিট হলো কম্পিউটেশনে এনার্জি শোষণের একটি থিওরিটিক্যাল লিমিট। উদাহরণস্বরূপঃ এক বিট ইনফরমেশন মুছে দেয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ এনার্জি প্রয়োজন যা আবার তাপমাত্রা ও বোলজম্যান কনস্ট্যান্টের সাথে সম্পর্কযুক্ত রুম টেম্পারেচারে যা a total of 3 x 10^-21 জুল।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*FYO8k-nn_Yku3HFuFQDUtg.jpeg

অভিজ্ঞতামূলকভাবে ল্যান্ডিউয়ার প্রিন্সিপ্যালকে টেস্ট করার জন্য, গবেষকরা একটি সরল Two-state bit তৈরি করে। একটি স্বতন্ত্র আণুবীক্ষণিক সিলিকা পুঁতি একটি লাইট ট্র‍্যাপ ধরে রাখে লেজার রশ্মি দ্বারা। এ ট্র‍্যাপের মধ্যে দুটি উপত্যকা থাকে যেখানে পার্টিকেল অবস্থান করে। একটি প্রতিনিধিত্ব করে ০ আর অন্যটি ১। এ দুটো যেকোনো সময় জাম্প করতে পারে যদি যে এনার্জির পাহাড় তাদের আলাদা করেছে সেটি যথেষ্ট উচ্চতাসম্পন্ন না হয়। তারা ক্ষয়প্রাপ্ত চক্রের উপর মুছে যাওয়া তাপের গড় নির্ণয় করেছে, যা দেখায় যে এটি এমন একটি সীমার সাথে মিলিত হয়েছে যা ল্যান্ডিউয়ার প্রিন্সিপাল দ্বারা নির্ধারিত। এই লিমিট ল্যান্ডিউয়ার লিমিট যা রুম টেম্পারেচারে সবসময় total of 3 x 10^-21 জুল হয়। যদিও অনেকটা ফিলসোফিক্যাল শোনায়। কিন্তু কম্পিউটার ও ফোনের ডিজাইনে এটি গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি আপনি প্রতিদিন যে সব ফোন ইউজ করছেন সেগুলোতেও। সেমি কন্ডাক্টর চিপ লজিক গেটের তৈরি এবং লজিক গেট ইনপুট প্রসেস ( বাইনারী) করে এবং পরে সেটা আউটপুটে( বাইনারী) পরিণত করে।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*2LjFTdjPFfeIH6qXzkZjgg.jpeg

এ লজিক গেইটকে Irreversible Computing বলা হয়। এগুলো ইরিভার্সিবল কম্পিউটিং কারণ এ ধরণের প্রসেসে আপনি আউটপুট থেকে ইনপুট বের করতে পারবেন না।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*R0xa_JQnevkMlOD5jX7RFQ.jpeg

মনে করুন এক্ষেত্রে আমরা ইনপুট 2 এবং 2 এর কথা বলতে পারি। তারা প্লাস গেটের ভেতর দিয়ে যাবে এবং আমরা আউটপুট পাবো ৪। আমরা যদি প্লাস অপারেশন রিভার্স করি, আমরা কি জানতে পারবো ইনপুট কি শুধু আউটপুট চারকে জানার মাধ্যমে? ইনপুট ২ এবং ২ ও হতে পারে আবার ১ এবং ৩ ও হতে পারে কারণ দুটোর আউটপুটই ৪। ল্যান্ডিউয়ার প্রিন্সিপালের আসলে আরো সূক্ষ্ম একটি সূত্র আছে, এটি আমাদের বলে যে কোনো অপরিবর্তনীয় গণনা ( Removal of Information) নূন্যতম পরিমাণ শক্তি নষ্ট করতে পারে( Heat)। মনে রাখতে হবে যে ল্যান্ডিউয়ার প্রিন্সিপালে সুস্পষ্ট করে এনার্জির শোষণের(Consumption) পরিমাণ বলা নেই। যাক আমরা এখানে তাপ অপচয় ও শক্তি খরচের মধ্যে একটি যোগসূত্র অংকন করতে পারি।

১) কল্পনা করুন যে, কম্পিউটেশন নিজে কোনো এনার্জি শোষণ করেনা।

২) আমরা তাপ অপচয় ও শক্তি খরচের মধ্যে একটা লিংক অংকন করতে পারি।

৩) লজিক গেইটের ভেতর দিয়ে পথ চলার জন্য অবশ্যই তাপমাত্রার সোর্স প্রয়োজন হবে।

মন্তব্যঃ প্রতি বিট কম্পিউটেশনের জন্য এনার্জি শোষণের পরিমাণ অন্তত ল্যান্ডিউয়ার লিমিট হবে।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*i67bXWoZBszG9CaRO3hKbA.png

এখানে E বলতে বোঝানো হয়েছে মিনিমাম এমাউন্ট অব এনার্জি যা প্রতি বিট কম্পিউটেশনে খরচ হয়। আমরা এখন সেই নূন্যতম অনুশীলন থেকে অনেক দূরে। আমরা এ লিমিটের বেশ কয়েকটি মাত্রার মধ্যে বাস করছি।

প্রশ্ন হলো কীভাবে এটাকে ডাইসনের ইটারনাল ইন্টিলিজেন্সের সাথে রিলেট করা যায়? আমরা যদি ইরিভার্সিবল কম্পিউটিং এর সাথে লেগে থাকি তবে এর মানে হলো ডাইসনের বুদ্ধিমত্তা চিরকালের জন্য শক্তি ব্যবহার করতে পারবেনা। মহাবিশ্বের কোন একটি পয়েন্টে এনার্জি ল্যান্ডিউয়ার লিমিট থেকেও কমে যাবে। আর এভাবে কোনো কম্পিউটেশনই সংঘটিত হবে না, বুদ্ধিমান সার্ভাইব করতে পারবেনা। এখানে অপারেটিভ ওয়ার্ড হলো, আমরা যদি অপরিবর্তনীয় কম্পিউটিং এর সাথে লেগে থাকি __ যা আমাদের করতে হবেনা।

3) যদি ইরাভার্সিবল কম্পিউটিং সম্ভব হয়ঃ আমরা যদি ইরিভার্সিবল কম্পিউটিং এর সাথে লেগে না থাকি তবে আমরা ল্যান্ডিউয়ার লিমিট অতিক্রম করতে পারবো। আমরা যতদুর জানি, এখানে কোনো ফিজিক্যাল লিমিট নেই আমরা কতটা কার্যকরীভাবে রিভার্সিবল কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করতে পারব। অতএব রিভার্সিবল কম্পিউটিং আসলে কি?

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*RdJ-yIz-PtnplJXgIZg1IA.png

বামে রয়েছে একটি ইরিভার্সিবল লজিক গেইট আর ডানে আছে রিভার্সিবল লজিক গেইট। আমরা যদি জানি যে এখানে আউটপুট X+Y এবং X- Y, তাহলে আমরা জানব যে ইনপুট X এবং Y। এখানে ইনপুট আউটপুট লিড করে আর আউটপুট লিড করে ইনপুট। এটি হলো One-to-One Mapping Relationship দুটোর মধ্যে।একটি রিভার্সিবল সার্কিটে অজস্র ইনপুট ও আউটপুট থাকে। প্রতিটি ইনপুট আউটপুট থেকে রি-কনস্ট্রাক্টেড হয়। অতএব, কোনো বিটই হারায়না, অতএব রিভার্সিবল সিস্টেমে বিট লসের কারণে তাপ বন্ধ হতে দেবেনা।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*JsvSytBKGD__gVgeuqSRiQ.png

তাত্ত্বিকভাবে আমরা প্রতিটি বিট অপারেশনে কোনো তাপ ক্ষয় না করার পরিস্থিতি অর্জন করতে পারি। কিন্তু কিভাবে আমরা রিভার্সিবল কম্পিউটিং অর্জন করবো? যতদূর জানি, এটি কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ক্ষমতা নয়। এটি ঘটে এর একটি প্রপার্টি হিসেবে। ইতিমধ্যে, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মাধ্যমে, যা কোয়ান্টাম ফিজিক্সের রুলস নিয়োগ করে গ্রেট প্রসেসিং পাওয়ার অর্জন করেছি। এ লিমিটেশন ইতিমধ্যে মোকাবিলা করা হচ্ছে। ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটির সেথ লোয়েড বলেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের লজিক প্রসেসিং ইতোমধ্যে বেশ ভালো। উনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি ল্যান্ডউইয়ার লিমিট নিয়ে বেশ ভাবেন। এখানে রিভার্সিবল কম্পিউটিং সম্পর্কে ভালো একটি আলোচনা আছেঃ

এটি আমাদের নিকট একদম পরস্কার যে, মহাবিশ্বের শেষের দিকে, বুদ্ধিমান সত্তা কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করবে যা সত্যিকার অর্থে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিমাণ এনার্জি শোষণ করে। এটি ডাইসনের চিরন্তন বুদ্ধিমত্তাকে একটি সত্যিকার সম্ভাবনা প্রদান করে।

উপসংহারঃ

আইজ্যাক আসিমভ একটি সংক্ষিপ্ত গল্প লিখেছিলেন নাম The last Question! অনেক অনেক ভবিষ্যতে যখন মহাবিশ্ব একদম শেষের দিকে ঠিক তখন কেউ একজন কম্পিউটারকে প্রশ্ন করবে- এন্ট্রপি__ মিনিং এবং মহাবিশ্বের Amount of Disorder রিভার্স করতে পারা যায় কি না। এটি আসলেই মজার একটি সমস্যা কারণ আমর জানি থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” অনুসারে, এন্ট্রপি সময়ের সাথে বৃদ্ধি পায়। যার ফলে মহাবিশ্ব তৈরি অধিক থেকে অধিকতর বিশৃঙ্খল হয়ে উঠে। আসিমভ তার সংক্ষিপ্ত গল্পে, কল্পনা করেছিলেন কেউ একজন এ প্রশ্নটি কম্পিউটারকে করেছে। কম্পিউটার উত্তর দিয়েছিলো, Insufficient Data for Meaningful Answer,”। তিনি কল্পনা করেছিলেন মানুষ আরো উন্নত মাপের কম্পিউটার ডেভেলাপ করবে যেটি হবে বিশাল থেকে বিশালতর, হয়তোবা সে কম্পিউটার আমাদের সমস্ত গ্যালাক্সির সমান। যেখানে Moore Law এর কোন অস্তিত্ব নেই। অবশেষে এমন একটি কম্পিউটার পাওয়া যাবে যা সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের সমান। আর এরই মধ্যে মানব সভ্যতা একটি Hive Mind তৈরি করবে, আল্টিমেট কম্পিউটারের ভেতর মিশ্রিত করে এবং অবশেষে সেই চুড়ান্ত প্রশ্ন সমাধান করবে। এটা অনেকটা মেট্রিওস্কা ব্রেনের ভেতর যেখানে মানব মস্তিষ্ককে কম্পিউটারের একটি ইন্টেগ্রাল সার্কিটে পরিণত করা হয়, বিলিয়ন ব্রেন একইসাথে ও একইসময় চিন্তা করবে এবং এভাবে তারা কম্পিউটার মাইন্ড হয়েই সলিউশন বের করবে। আসলে আসিমভের কম্পিউটার এবং ডাইসনের ইটারনাল ইন্টিলিজেন্স অর্জন করতে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর সময় প্রয়োজন।। এটি কোনো নিচক কল্পনা নয় কারণ মহাবিশ্ব শীঘ্রই যে কোনো সময় মারা যাবেনা। আর এছাড়া ডাইসনের থট এক্সপেরিমেন্ট অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর কারণ এটি ইনফরমেশম থিয়োরি, থার্মোডায়নামিক্স এবং ফিলসফি অব মাইন্ড সবকিছু একসাথে স্পর্শ করতে পেরেছে। আমরা যদি কসমোলজি, বায়ো-ইনফরমেশন থিয়োরি এবং ভিন্ন ভিন্ন মডেলের কনশাসনেসকে অনুসন্ধান করি তবে আমরা মহাবিশ্বের ধবংসের পর আমাদের চুড়ান্ত সার্ভাইবাল কোথায় হবে সেটা হাইপোথিসাইস করতে পারবো। ডাইসনের Eternal Intelligence শুধু একটি সংকটে পতিত হবে আর তা হলো, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ। পজেটিভ কসমোলিক্যাল কনস্ট্যান্টই একমাত্র প্রবলেম। একটি সম্প্রসারিত মহাবিশ্ব বোঝায় যে গ্যালাক্সি ও গ্যালাক্টিক সত্তা অবশেষে অনেক দূরে অপসারিত হবে। সে সকল এরিয়ায় যে এনার্জি আছে সেগুলোতে আমরা এক্সেস করতে পারবো না। যদি না আপনি ডার্ক হাউন থেকে ডার্ক এনার্জি খুঁজে বের করতে না পারেন। কেউই জানেনা যে ডার্ক এনার্জি আসলে কি এবং কি এর কাজ। অতএব এটি এখনো অমিমাংসিত।

This image has an empty alt attribute; its file name is 1*F3ZX1xomxK9GXxEKE43FfA.jpeg

জেক চং বলেন, ডাইসনের ইটারনাল ইন্টিলিজেন্সের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফিজিক্যাল সীমার নিচে নেমে যাওয়া যেখানে কনশাস Awareness বজায় রাখা খুব কষ্টকর। আমরা জানি যে অর্গানিক লাইফ এনার্জিকে কম্পিউটেশনে পরিণত করতে নিশ্চিতভাবে অসম্পূর্ণ। সম্ভবত Inorganic Life Form অথবা Alternative molecular Structures প্রয়োজন হতে পারে কম শক্তিতে চেতনা জাগ্রত করার জন্য।

Reference:
hsbd bg
%d bloggers like this: