ফ্রয়েডের অবচেতন মন

আমাদের মেন্টাল প্রসেস যদি আইসবার্গ হয় তবে সচেতন মন হলো সেই আইসবার্গের ঢগা।

Last updated:
Main Sources
The Brain; The story of You
Writer
LISA
PART
11

অবচেতন মন আমাদের শারীরিক নিয়ন্ত্রণের বাহিরে কাজ করে। এটি আমাদের জীবনকে খুবই যথাযথভাবে আকার দান করে। আপনি যখন কারো সাথে এর পর কনভারসন করবেন আপনি দেখবেন আপনার মুখ থেকে শব্দ তার থেকেও দ্রুত গতিতে বের হয় আপনি প্রতিটি শব্দকে যতটা না সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। আপনার ব্রেন স্কিনের পেছনে কাজ করে, শব্দ বুনে ও উৎপাদন করে, আপনার জন্য জটিল সব চিন্তা কনজুগেট করে। আপনি যখন বিদেশি ভাষায় কথা বলেন সে ভাষার গতির সাথে আপনার নিজের ভাষার গতি মিলিয়ে দেখুন। আমাদের সকল ধারণার পেছনেও একই সত্য কাজ করছে যদিও আমরা আমাদের ধারণাগুলোর তৈরির জন্য সচেতন মনকে ক্রেডিট দেই। কিন্ত বাস্তবে আপনার অবচেতন ব্রেন এ ধারণাগুলো নিয়ে কাজ করে __ মেমরি একত্র করে, নতুন সমন্বয় তৈরি করে, প্রভাব মূল্যায়ন করে আপনার সচেতন মনে সে ধারণাটি প্রকাশ হওয়ার এক ঘন্টা থেকে এক মাস পূর্বে এবং এটা স্বীকৃতি দেয়ার পূর্বে যে, আমার মধ্যে একটি আইডিয়া এসেছে।

যে ব্যক্তি প্রথম আনকনশাস মাইন্ডের গুপ্ত গভীরতা সম্পর্কে আলোকিত করেছিলেন তিনি হলেন বিশ শতকের একজন প্রভাবশালী বিজ্ঞানী সিগমুন্ড ফ্রয়েড। ফ্রয়েড ১৯৭৩ সালে ভিয়েনার মেডিকেল স্কুলে প্রবেশ করেন এবং নিউরোলজিতে বিশেষজ্ঞ হন। তিনি যখন তার পেশেন্টদের সাইকোলজিক্যাল ডিজ-অর্ডার নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কাজ করেন তিনি বুঝতে পারেন যে তার রোগীদের আচরণগুলো কে ড্রাইভিং করে সে ব্যাপারে তাদের কোনো সচেতন জ্ঞান নেই। ফ্রয়েডের একটি অন্তঃদৃষ্টি ছিলো , তাদের অধিকাংশ আচরণ একটি অদেখা মেন্টাল প্রসেসের প্রোডাক্ট। এ সহজ ধারণাটি সাইকিয়াট্রির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, মানুষের আচরণ ও আবেগ বোঝার জন্য নতুন একটি পথ। তার পেশেন্টরা তার অফিসের একটি শয্যায় শুয়ে থাকতো যেনো তিনি তাদের দিকে সরাসরি না তাকাতে পারেন । তারপর তিনি তাদের সাথে কথা বলতেন। ব্রেন স্ক্যান আবিষ্কারের পূর্বে অবচেতন মনে প্রবেশের এটাই ছিল একমাত্র পথ। তার পদ্ধতি ছিল আচরণের ধরণের উপর তথ্য একত্রিত করা, স্বপ্নের কন্টেন্ট, কথার ভঙ্গি অথবা কলমের ভুল। তিনি গোয়েন্দার মতো পর্যবেক্ষণ করতেন, রোগীর অবচেতন নিউরাল মেশিনারি সম্পর্কে জানতেন যেখানে পেশেন্টের ডিরেক্ট কোনো এক্সেস নেই। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আমাদের মেন্টাল প্রসেস যদি আইসবার্গ হয় তবে সচেতন মন হলো সেই আইসবার্গের ঢগা।

The Science Bit! - Anna Rushmer Hypnotherapy and Wellbeing

বিশাল একটি অংশ যা আমাদের চিন্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে সেটি আমাদের দৃষ্টি সীমার অতীত। ফ্রয়েডের ধারণা সঠিক ছিল। আমরা আসলে আমাদের নিজেদের পছন্দের মূল জানিনা। আমাদের ব্রেন কনস্ট্যান্টলি এনভায়রনমেন্ট থেকে ইনফরমেশন গ্রহণ করে এবং আমাদের আচরণ স্টিয়ার করার জন্য এটি ব্যবহার করে কিন্তু প্রায়শই আমাদের চারপাশের প্রভাব আমরা খেয়াল করিনা। এক ধরণের ইফেক্ট আছে যাকে প্রাইমিং বলে, এ প্রক্রিয়ায় কোনোকিছু আমাদের সংবেদনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। যেমন আপনি যখন এক কাপ গরম চা হাতে ধরবেন তখন আপনি আপনার পরিবারের সাথে আপনার সম্পর্কের অনুকূলে কথা বলবেন। আর যখন আপনি এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংক্স হাতে রাখবেন আপনি আপনার সম্পর্কের ব্যাপারে একটু ভিন্ন রকম ধারণা প্রকাশ করবেন। কিন্তু কেনো? কারণ যে ব্রেন ম্যাকানিজম ফিজিক্যাল উষ্ণতাকে বিচার করে একই ম্যাকানিজম পরিবারের সাথে আপনার সম্পর্কের উষ্ণতাকেও বিচার করে। একটি অন্যটির সাথে সম্পর্ক যুক্ত।

Freud's psychoanalytic theories - Wikipedia

কোনোকিছু সম্পর্কে আপনার মতামত যেমন আপনার মায়ের সাথে আপনার উষ্ণ সম্পর্ক এক কাপ চা বা কফি দিয়ে পরিচালনা করা যায়। আবার আপনি যখন অত্যন্ত জঘন্য কিছুর ঘ্রাণ নেবেন আপনার মধ্যে কঠোর নৈতিক সিদ্ধান্ত তৈরি হবে। আপনি যে কারো অস্বাভাবিক কাজকে অনৈতিক মনে করা শুরু করবেন। আর একটি এক্সপেরিমেন্টে দেখা যায় আপনি যদি শক্ত কোনো চেয়ারে বসেন তবে আপনি ব্যবসায়িক লেনদেনে অনেক বেশি কঠোর হবেন আর নরম চেয়ার আপনাকে নমনীয় করে তুলবে।

Nudge Book Summary by Richard H. Thaler and Cass R. Sunstein

রিচার্ড থ্যালার ও ক্যাস সানস্টেইন তাদের “Nudging The Unconscious” নামক একটি বই লিখেছিলেন মস্তিষ্কের আনকনসাস নেটওয়ার্কের সাথে খেলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য, সম্পদ ও সুখ সম্পর্কে ডিসিশন ইম্প্রুভ করার জন্য। আমাদের পরিবেশের অত্যন্ত ছোট্ট একটা ন্যুজ আমাদের জীবন সম্পর্কে আমাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং এমনকি আমাদেরকে না জানিয়েই। সুপারমার্কেটে চোখের কাছাকাছি ফল রাখার মাধ্যমে আমাদের ফুড চয়েজ সম্পর্কে সিদ্ধান্তকে নুজ বা টোকা দেয়া যায়। এয়ারপোর্টের প্রশ্রাবাঘারে মাছির ছবি মানুষের বেটার এইমকে নুজ করে। স্বতস্ফূর্তভাবে ভাবে রিটায়ার্ডম্যান্ট প্লান নির্বাচন করার স্বাধীনতা মানুষকে তার প্রাক্টিস সম্পর্কে আরো বেশি সচেতন করে তোলে। এ ধরণের পরিচালনাকে বলা হয় “Soft Paternalsm”!

Thaler and Sunstein বিশ্বাস করেন, ভদ্রভাবে আমাদের আনকনসাস ব্রেইনকে পরিচালনা করা আমাদের ডিসিশনের উপর অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারে কোনপ্রকার জোরপ্রয়োগ ব্যতীতই। আমাদের অবচেতন প্রভাবের আর একটি উদাহরণ হলো ইগোটিজম। যা কোনো বস্তুর উপর আমাদের আকর্ষণ ব্যাখ্যা করে যা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন সামাজিক মনোবিজ্ঞানী ব্রেট পেলহাম এবং তার দল ডেন্টাল ও আইন স্কুলের গ্রেজুয়েট রেকর্ড এনালাইজ করেন। তারা দেখেন যে অধিকাংশ ডেন্টিস্ট এর নাম ডেনিস অথবা ডিনাইস হয়। আর আইনজীবিদের নাম শুরু হয় লরা অথবা লরেন্স দিয়ে। তারা দেখেন যে Roofing কোম্পনিগুলোর মালিকের নাম R দিয়ে শুরু হয় আর অন্যদিকে হার্ডওয়্যার ওনারদের নামের প্রথম অক্ষর শুরু হয় H দিয়ে। কিন্তু আসলেই কি আমাদের কেরিয়ার আমাদের জন্য শুধু এই অপশনটি নির্বাচন করে দেয়? মনোবিজ্ঞানী জন জোনস এবং তার সহকর্মীরা জিওর্জিয়া ও ফ্লোরিডার অসংখ্য ম্যারিজ রেজিস্টার দেখেন, তারা আবিষ্কার করেন যে, অধিকাংশ বিবাহিত কাপল একটি প্রাথমিক সমতা শেয়ার করে। এর মানে হলো জেনি বেশিরভাগ সময় জোয়েলের প্রেমে পড়ে, এলেক্স বিয়ে করে এমিকে এবং ডোনির বিয়ে হয় ডাইসির সাথে। এ ধরণের আনকনসাস ইফেক্ট ক্ষুদ্র কিন্তু ভেরিফিয়েবল। আপনি যখন ডেনিসেস, লরা অথবা জেনিকে জিজ্ঞেস করবেন, কেনো তারা তাদের প্রফেশন অথবা মেটকে চয়েজ করেছে তারা আপনাকে একটি সচেতন ব্যাখ্যা দেবে। কিন্তু এ ধরণের ব্যাখ্যায় তারা তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেই অচেতন থাকে।

সাইকোলজিস্ট একহার্ড হেস ১৯৬৫ সালে একটি এক্সপেরিমেন্ট ডিজাইন করেছিলেন। পুরুষদেরকে নারীদের মুখের ফটোগ্রাফ দেখানো হয়েছিল এবং তাদের সম্পর্কে জাজমেন্ট নেয়া হয়েছিল, তারা দেখতে কতটুকু আকর্ষণীয় ছিল দশজনের মধ্যে একজনের স্কেলে। তারা কি সুখী নাকি দুঃখী ছিল? মাঝামাঝি নাকি বিনীত ছিল? বন্ধুসুলভ ছিলো নাকি ছিলোনা। অর্ধেক ছবিতে নারীদের চোখের পাপড়ি আর্টিফিশিয়ালি ডায়ালেট করা ছিল। পুরুষরা আবিষ্কার করেন যে একজন নারী যার চোখ ডায়ালেটেড সে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। কোনো পুরুষই সুস্পষ্টভাবে নারীর পাপড়ি সম্পর্কে কিছু নোট করতে পারেনি। সম্ভবত তাদের কেউ জানতোনা ডায়ালেটেড আই নারীদের উত্তাপের একটি বায়োলজিক্যাল সাইন। কিন্তু তার ব্রেন এটা জানতো। আর পুরুষরা অবচেতনভাবেই সে সকল নারীর প্রতি আকৃষ্ট হতো যার রয়েছে ডায়ালেটেড আই, তাদেরকে তার সুন্দরী, সুখী, বিনীত এবং অধিক বন্ধুসূলভ মনে হতো।

La parte de tu cuerpo que te delata cuando algo te gusta | El laboratorio  de felicidad | EL PAÍS
The pupils of the women on the left have been artificially dilated. Each
man saw one version or the other.

মাঝেমাঝে কিছুকিছু মানুষকে আপনার অন্যদের চেয়ে ভালোলাগে। কিন্তু আপনি জানেন না যে এটা কেন হয়। কারণ আপনার এখানে কোনো এক্সেস নেই। আসলে এভাবেই মানুষ একে অন্যের প্রেমে পড়ে। আপনি কিছু মানুষের প্রতি অন্যদের তুলনায় একটু বেশি আকৃষ্ট হোন। কিন্তু আপনি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না এর কারণ কি। আর একটি এক্সপেরিমেন্টে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানী জেফরি মিলার সেকচুয়ালি এট্রাক্টিভ নারীদের পরিমাপ করেছিলেন স্ট্রিপ ক্লাবে ল্যাপ ডেন্সারদের উপার্জন রেকর্ড করার মাধ্যমে এবং তিনি দেখেছিলেন কিভাবে এটি তাদের মাসিক মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের সময় চেঞ্জ হয়ে যায়। তিনি দেখেন যে নারীদের উর্বরতা বা অভিউলেশনের সময় মেনিস্ট্রুয়াল সময় থেকে তাদের বেশি অর্থ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো পুরুষরা তাদের বায়োলজিক্যল চেঞ্জ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখতো না যে তারা মান্থলি সাইকেলে উপনীত হয়েছে__আর যখন তার মধ্যে ডিম্বস্ফোটন( Ovulation) শুরু হয়েছে তখন ইস্ট্রোজেনের স্রোত তার অভয়ব সূক্ষ্মভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে যা তার ফিচারকে অধিক সিমেট্রিক্যাল করে তোলে, তার স্কিন সফট হয়ে যায়, তার নিতম্ব সরু হয়ে যায় কিন্ত তারা এ উর্বরতার বিষয়টি সনাক্ত করেছে সচেতনতার আড়ালে।

এ ধরণের এক্সপেরিমেন্ট আমাদের কাছে কিছু সিক্রেট প্রকাশ করে যে আমাদের ব্রেন কিভাবে কাজ করে। এ অর্গানটির কাজ হলো বিশ্ব সম্পর্কে ইনফরমেশন গেদার করা এবং আপনার আচরণকে এপ্রোপিয়েটলি স্টিয়ার করা। এর সাথে আপনার কনসাসনেস জড়িত আছে কি নেই সেটি মূখ্য নয়। অধিকাংশ সময় আপনি বুঝতেও পারেননা যে আপনার অবশিষ্ট মস্তিষ্কে কি সিদ্ধান্ত কাজ করছে।

আগের পর্বগুলোঃ

  1. ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ
  2. একজন টিনেজারের চোখে বিশ্ব!
  3. আইনস্টাইনের ব্রেনে ওমেগা সাইন!
  4. আমি কি আমার মেমরি?
  5. নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!
  6. হোয়াট ইজ রিয়ালিটি?
  7. ব্রেন কিভাবে কাজ করে?
  8. ব্রেন কিভাবে কাজ করে? (দ্বিতীয়)
  9. ব্রেন ও রিয়ালিটি
  10. আপনার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রক কে?
hsbd bg