যখনই তাদের মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্য এরিয়া তখনও যথেষ্ট ভাবে চর্চা করা হয়েছে আর এ জন্য ঐ ফাংশনের কম্পেনসেশনও তৈরি হয়েছে।

নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!

মেমরির নমনীয়তাঃ

মনোবিজ্ঞানের কোনো ছাত্র যদি হেনরি মোলাইসনের নাম না জেনে থাকে তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সে এলিয়েন বলে পরিচিত হতে পারে। সংক্ষেপে এ আমেরিকানকে সবাই HM জানে। কিন্তু কি এমন ঘটেছিল তার সাথে যা তাকে সাইকোলজিক্যাল ওয়ার্ল্ডে এতটাই বিখ্যাত করে তুলেছিল? পিকোসোর মহান কোনো চিত্রকর্মের জন্য নয়, নয় আইনস্টাইনের মতো বিখ্যাত কোনো ইকুয়েশন, HM বিখ্যাত হয়ে উঠেছিলেন কারণ তার খুলির ভেতর অদ্ভুত এক সমস্যা ছিল , সংক্ষেপে তাঁর মাথা নষ্ট! মোলাইসন তার ৫০ তম জন্মদিনে এপিলেক্টিক সিজারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন থেকে এ রোগ দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। ভবিষ্যতের যন্ত্রণার কথা ভেবে তার মস্তিষ্কের উভয় দিক থেকেই টেম্পোরাল লোবের মধ্যবর্তী অংশ কেটে বাদ দেয়া হয় । হেনরি সিজার থেকে মুক্তি লাভ করেন ঠিকই কিন্তু এর ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভোগ করতে হয় তাঁকে, তিনি আর কখনোই নতুন কোনো মেমরি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি।

নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!

গল্প এখানেই শেষ নয়। নতুন মেমরি তৈরি করার অক্ষমতার কারণে তিনি ভবিষ্যতকেও কল্পনা করতে পারতেন না। আগামীকাল মঙ্গলে গেলে কি হবে? নতুন কোনো গ্রহ আবিষ্কৃত হলে কেমন লাগবে? যদি সূর্যের আলো মেঘের সাথে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে যায় তবে? দুর্ভাগ্যজনকভাবে হেনরি তার ভবিষ্যতের বিস্তারিত কল্পনা প্রকাশ করতে পারতোনা। তার এ অসহায়ত্ব থেকে আমরা আমাদের মস্তিষ্কের মেমরি ম্যাকানিজম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় জানতে পারি;

মেমরির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অতীতকে ধরে রাখা নয়, এটি আপনাকে ভবিষ্যতের দিকেও প্রোজেক্ট করে।

আপনি আগামীকাল সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে কেমন লাগবে সেটা যদি বুঝতে চান তবে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসকে অবশ্যই অতীতের ইনফরমেশনগুলো পুনরায় সমন্বিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতের কল্পনাটিকে বিশেষভাবে সজ্জিত করতে হবে। আপনার মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস শুধু মেমরি সংরক্ষণই করেনা এটি আপনার কল্পনাকেও তৈরি করার জন্যও তথ্য সরবরাহ করে। আজ মানুষ যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় জীবিত থাকে। আলঝেইমার ও পারকিনসের মত রোগ আমাদের মস্তিষ্কের টিস্যুকে আক্রমণ করে এবং আমি কে তার ডেফিনেশনই বদলে দেয়! কিন্তু এখানে একটি ভালো সংবাদ আছেঃ আপনার আচরণ ও পরিবেশ তারুণ্যে ঠিক যেভাবে আপনার মস্তিষ্ককে রুপ দান করতে পারে, আপনার জীবনের শেষ দিকের জন্যও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকার প্রায় ১,১০০ জন নান, যাজক ও ব্রাদার একটি গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল, একটি বয়স্ক মস্তিষ্কের উপর ধর্মীয় নিয়ম শৃঙ্খলার প্রভাব কেমন হতে পারে সেটি দেখা। বিশেষ করে এই দল আলঝেইমার রোগের রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো অনুসন্ধান করতে আগ্রহী ছিলেন এবং এটি বারবার ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধদেরকেই অন্তর্ভুক্ত করেছিল যাদের মধ্যে এ রোগের দৃশ্যমান কোনো উপসর্গই পাওয়া যাচ্ছিলোনা। যেহতু ধার্মিকরা স্টাবল গ্রুপে বাস করে আর গ্রুপের সবার জন্য নিয়ম-কানুন একই, নিউট্রিশন ও লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সহকারে। এর ফলে তাদের মধ্যে ” “Confounding Factor” বা পার্থক্য ছিলো কম যা একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে, যেমন- ডায়েট, সোশিও-ইকোনোমিক স্ট্যাটাস এবং এডুকেশন এগুলোর সবটাই গবেষণার ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করে।

নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!
নানদের সাথে নিউরোসায়েন্টিস্ট ডেভিড ইগলম্যান

১৯৯৪ সাল থেকেই ডেটা সংগ্রহ শুরু হতে থাকে। ড. ডেভিট বেনেট এবং তার দল ৩৫০ টি মস্তিষ্ক সংগ্রহ করে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। এ ৩৫০ টি মানুষের মস্তিষ্ক যত্ম সহকারে সংরক্ষণ করা হয় এবং বয়সের সাথে সম্পৃক্ত রোগগুলোর মাইক্রোস্কোপিক প্রমাণ খুঁজতে থাকেন তারা । এটা ছিলো গবেষণার একটি পার্ট মাত্র। অন্যান্য গবেষকরা জীবিত অংশগ্রহণকারীদের গভীর তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত। প্রতি বছরই তাদের মানসিক, জ্ঞানীয়, শারীরিক ও জেনেটিক্সের একটি ব্যাটারি টেস্ট করা হতো। একশত জন নান পরীক্ষার জন্য তাদের ব্রেন ডোনেট করেছিলেন।যখন পরীক্ষা শুরু হয় গবেষকরা প্রত্যাশা করছিলেন যে ডিমেনশিয়ার সাথে সম্পৃক্ত তিনটি রোগ যথা- আলঝেইমার, স্ট্রোক এবং পারকিনসন ব্যক্তির জ্ঞান হ্রাস প্রাপ্তির ( Cognitive Decline) সাথে অবশ্যই একটি সম্পর্ক রাখবে। কিন্তু অবাক হওয়ার মতো একটি ঘটনা ঘটলো। তারা নানদের মস্তিষ্ক এক্সপেরিমেন্ট করে দেখলেন তাদের মস্তিষ্কে সুস্পষ্টভাবে আলঝেইমার রোগের চিহ্ন আছে ঠিকই কিন্তু তারা কোনো জ্ঞানগত সমস্যার মুখোমুখি হয়নি।

নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!

এদের কেউ কেউ আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা পর্যন্ত গিয়েছিলো কিন্ত জ্ঞানীয়ভাবে তারা কোনোপ্রকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি। প্রশ্ন আসে, তাদের সাথে মূলত কী ঘটেছিল? বেনেটের দল হতবাক হয়ে গেলেন! তারা এ রহস্যের কারণ অনুসন্ধান করতে শুরু করেন। আমরা সবাই জানি আলঝেইমারের কারণে জ্ঞান হ্রাস পায়! কিন্তু নানদের মস্তিষ্কে কি এমন ব্যতিক্রম ছিলো? তারা খুঁজতে শুরু করেন। বেনেট অবশেষে আবিষ্কার করলেন যে,

প্যাথোলোজিক্যাল ও এক্সপেরিয়েন্সিয়াল ফ্যাক্টরই নির্দিষ্ট করে দেয় কেউ একজন তার জ্ঞানীয় ক্ষমতা হারাবে কি না! বিশেষ করে কগনিটিভ একটিভিটিজ মস্তিষ্ককে একটিভ রাখে, ক্রসওয়ার্ড, রিডিং ও রাইটিং এর মত আমরা যখন নতুন কোনো স্কিল শিখি এটি আমাদের ব্রেনের জন্য প্রোটেক্টিভ।

একই ব্যাপারটি ঘটে সোশ্যাল একটিভিটি, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, সোশ্যাল ইন্টারেকশন ও ফিজিক্যাল একটিভিটিজের ক্ষেত্রে। তাদের এই গবেষণার একটি ফ্লিপ সাইড ছিল। তারা দেখেন যে নেগেটিভ সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্টর যেমনঃ একাকীত্ব, উত্তেজনা, ডিপ্রেসন ও সাইকোলজিক্যাল ডিস্ট্রেসের প্রতি অনুরুক্তি দ্রুত জ্ঞানীয় ক্ষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। পজেটিভ বৈশিষ্ট্য যেমনঃ বিবেক, জীবনের উদ্দেশ্য এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখা এগুলো আমাদের জন্য প্রতিরক্ষামূলক। যে সকল পার্টিশিপেন্ট কোনোপ্রকার জ্ঞানগত ক্ষতির উপসর্গ ছাড়াই নিউরাল টিস্যুতে রোগাক্রান্ত ছিলেন তাদের ব্রেন একটি বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা উন্নত করতে সক্ষম হয়েছিলো যেটাকে বলে “Cognitive Reserve”!

যখনই তাদের মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্য এরিয়া তখনও যথেষ্ট ভাবে চর্চা করা হয়েছে আর এ জন্য ঐ ফাংশনের কম্পেনসেশনও তৈরি হয়েছে। আপনি যতই মহৎ কাজ করবেন, সামাজিক যোগাযোগ ও মানবিক কাজ আপনার মস্তিষ্ক কগনিটিভলি ততই ফিট থাকবে, আপনার মস্তিষ্কে ততবেশি নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, পয়েন্ট A থেকে পয়েন্ট B তে পথ চলার জন্য।

এক্ষেত্রে মস্তিষ্ককে আপনি একটি টুল বক্সের সাথে তুলনা করতে পারেন। এই বক্সের মধ্যে আপনার কাজ করার জন্য সব রকমের টুলস আছে। আপনি যদি একটি বল্টু খুলতে চান তবে প্রথমে র‍্যাচেট ব্যবহার করবেন যদি সেটি কাজ না করে তবে রেঞ্চ ব্যবহার করবেন, যদি সেটাও কাজ না করে তবে আপনি প্লার্স ব্যবহার করবেন। একই কনসেপ্ট কগনিটিভলি ফিট ব্রেনের জন্যও প্রয়োগ করা যায়। যদিও বিভিন্ন রোগের কারণে মস্তিষ্কের অনেক পথ নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু এটি অন্যকোনো সলিউশন পুনরুত্থান করে। নানদের মস্তিষ্ক আমাদের কাছে বর্ণনা করে যে আমাদের মস্তিষ্ককে প্রোটেক্ট করা সম্ভব এবং এটি দীর্ঘকাল আমার আমিকে অবিচ্ছিন্নভাবে ধরে রাখতে পারে। আমরা আমাদের বয়সকে থামাতে পারিনা ঠিকই কিন্তু আমরা আমাদের টুলবক্সের জ্ঞানগত দক্ষতা চর্চার মাধ্যমে এটাকে স্লো-ডাউন করে দিতে পারি।

নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!

আমি সেন্টিয়েন্টঃ

যখন আমি চিন্তা করি আমি কে, সবকিছুর উর্ধ্বে একটি বিষয় এসে আমার কাছে উপস্থিত হয় যেটি আমি উপেক্ষা করতে পারিনা; আমি একটি চেতনা ( সেন্টিয়েন্ট)। আমি আমার অস্তিত্বের এক্সপেরিয়েন্স নিচ্ছি। আমি অনুভব করছি যে আমি আছি। চোখের ভেতর দিয়ে যখন আমি বিশ্বের আকাশে তাকাই, যখন আমি আমার মস্তিষ্কের কেন্দ্র থেকে এই টেকনিকালারের বিশ্বকে উপলব্ধি করি। তখন আমি আমার এ উপলব্ধিকে কনশাসনেস বলি। বিজ্ঞানীরা যদিও চেতনার ডেফিনিশন নিয়ে মাঝেমাঝেই ডিবেট করেন কিন্তু আমরা ছোট্ট একটা এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে কোনটি চেতনা আর কোনটি চেতনা নয় তার ভেতরকার একটি পার্থক্য তৈরি করতে পারি। আপনি যখন জাগ্রত তখন আপনার চেতনা আছে আর যখন আপনি গভীর ঘুমে তলিয়ে যান তখন আপনার চেতনা আর নেই। এ পার্থক্য একটি সরল প্রশ্নের ভেতর দিয়ে আমাদের পথ চলার রাস্তা দেখায়। ঘুম ও জাগরণের মাঝে আমাদের ব্রেন একটিভিটির তারতম্য কি? একটি উপায়ে এটা পরিমাপ করা যায় আর তা হলো ইলেক্ট্রোয়েনসিপলোগ্রাফি(EEG), যেটি মাথার খুলির বাহির থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরাল ফায়ারিং এর দূর্বল ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল গ্রহণ করে। এটি অনেকটা অপরিশুদ্ধ একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিকে অনেকটা এরকম মনে করা হয় যে বেসবল স্টেডিয়ামের বাহিরের দেয়ালে মাইক্রোফোন বসিয়ে বেস বলের রুলস বোঝার প্রচেষ্টা। তবুও EEG আপনাকে একটি তাৎক্ষণিক অন্তঃদৃষ্টি দিতে পারে ঘুম ও জাগ্রত অবস্থার তারতম্য হিসেবে। আপনি যখন জাগ্রত থাকেন, আপনার ব্রেন থেকে এক ধরণের তরঙ্গ প্রকাশিত হয়, বিলিয়ন বিলিয়ন নিউরন একত্রিত হয়ে জটিল একশন তৈরি করে; এটাকে চিন্তা করা যেতে পারে গোলাবারুদের ভীড়ে শত শত ইন্ডিভিজুয়াল গোলাবারুদের কনভারসেশন। আপনি যখন ঘুমান, মনে হতে পারে আপনার শরীর শাট ডাউন। অতএব এটি একটি প্রাকৃতিক অনুমান যে ঘুমের মাঝে আমাদের নিউরাল স্ট্যাডিয়াম একদম শান্ত। কিন্তু ১৯৫৩ সালে এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়। ব্রেন দিন ও রাত উভয় সময়েই সক্রিয় থাকে। ঘুমের সময় শুধুমাত্র নিউরন ভিন্ন ভিন্নভাবে কো-অর্ডিনেট হয়, অধিক সিনক্রোনাইজড স্টেটে প্রবেশ করে, রিদমিক স্টেট। একটি জনবহুল স্ট্যাডিয়ামের কথা চিন্তা করুন যেখানে কাজ করছে নিরবিচ্ছিন্ন ম্যাক্সিকান ওয়েভ। স্ট্যাডিয়ামে জটিলতা তখনই বৃদ্ধি পায় যখন হাজার হাজার বিক্ষিপ্ত আলোচনা জেগে উঠে। অতএব একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনি কে সেটা নির্দিষ্ট হয় নিউরাল ফায়ারিং এর রিদমের উপর। দিনের বেলায় আপনার কনশাসনেস অখন্ড নিউরাল কমপ্লেক্সিটি থেকে বেরিয়ে আসে আর যখন নিউরনের ইন্টারেকশন পরিবর্তন হয়, আপনি অদৃশ্য হয়ে যান। আপনার প্রেমিকা পরবর্তী দিন সকাল পর্যন্ত আপনার জন্য অপেক্ষা করে।

নিউরোলজিক্যালি আপনি এ মহাবিশ্বে প্রথম!

যখন ব্রেন ওয়েভ কমপ্লেক্স রিদমে ফিরে আসে কেবল তখনই আপনি ফিরে আসেন। আধুনিক নিউরোসায়েন্সে কনশাসনেস অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর একটি বিষয়। ফিজিক্যাল ও মেন্টাল অভিজ্ঞতার মধ্যে সম্পর্ক আসলে কোথায়? দার্শনিক রেনে ডেসকার্টিস বলেছিলেন, একটি ইম্যাটারিয়াল সোল দেহের বাহিরে বাস করে। তিনি মনে করতেন, সেন্সরি ইনপুট পিনিয়াল গ্ল্যান্ডকে খাওয়ানো হয় আর তারপরই ইম্যাটারিয়াল স্প্রিট জেগে উঠে। ইম্যাটেরিয়াল আত্মার ধারণা কল্পনা করাটা খুবই সহজ কিন্তু নিউরোসায়েন্সের আলোকে এটাকে প্রমাণ করা খুবই কঠিন। নিউরোলজি সম্পর্কে ডেসকার্টিস তেমন জানতেন না। তিনি যদি আজ থাকতেন তবে তিনি বুঝতে পারতেন, ব্রেন পরিবর্তন হলে পারসোনালিটিও পরিবর্তন হয়ে যায়। কিছুকিছু ব্রেন ডেমেজ মানুষকে ডিপ্রেসড করে তোলে। অন্যান্য কিছু পরিবর্তন তাকে ম্যানিক করে তোলে। আরো অনেক পরিবর্তন আছে যা তার ধর্মীয় উপলব্ধি, সেন্স অব হিউমার, জুয়ার প্রতি আসক্তি নির্ধারণ করে দেয়। অন্য কিছু পরিবর্তন একজন মানুষকে সংশয়গ্রস্ত, ডিলুশনাল অথবা এগ্রেসিভ করে তোলে। এ ফ্রেমওয়ার্কে একটি সমস্যা হলো আমরা মেন্টাল ও ফিজিক্যালকে পৃথক করতে পারিনা। আমাদের আধুনিক নিউরোসায়েন্স কোনো একটি নির্দিষ্ট কনশাসনেসের পেছনে বিস্তারিত নিউরাল একটিভিটিজ জানতেই বেশি আগ্রহী। আমরা যদি কনশাসনেসকে পুরোপুরিভাবে বুঝতে চাই তবে এক্ষেত্রে আমাদের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো নতুন একটি থিয়োরি। এখনো আমাদের নিউরোসায়েন্সের ফিল্ড অত্যন্ত তরুণ। সহজ কথায়, আপনি কে সেটা নির্ভর করবে প্রতি মুহূর্তে কোন নিউরনগুলো আপনার মধ্যে কাজ করছে।

মিনিং প্রবলেমঃ

ডেভিড ইগলম্যান গ্রেজুয়েট স্কুল অতিক্রম করার পর ফ্রান্সিস ক্রিকের সাথে দেখা হয়। ফ্রান্সিস ক্রিক তখন যে বিষয়টির প্রতি মনোযোগী ছিলেন সেটি ছিল “মিনিং”! তার অফিসের চকবোর্ডে একেবারে মাঝখানে লিখা ছিল এ শব্দটি। আমরা আমাদের নিউরাল ম্যাকানিক্স, নেটওয়ার্ক ও ব্রেনের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে ভালোই জ্ঞান রাখি কিন্ত আমরা জানিনা যে আমাদের মস্তিষ্কের ভেতর ছোটাছুটিরত বিলিয়ন বিলিয়ন সিগনাল থেকে কীভাবে মিনিং তৈরি হয়। আমাদের মস্তিষ্কের বস্তুগুলো কীভাবে কোনোকিছুর প্রতি আমাদের কেয়ার তৈরি করে। মনে করুন আপনার নিকট এক খন্ড কাপড়ের টুকরা আছে। আপনি সেখানে একটু রঙ করে দিলেন। এটি কি আপনার মস্তিষ্কে কোনো মেমরি বা কল্পনাকে উদ্দীপিত করবে? বেশ, সম্ভবত না। কারণ এটি নিতান্ত এক টুকরো কাপড়, তাই নয় কি? এবার আপনি চিন্তা করুন, আপনি ঐ কাপড়ের টুকরোর মধ্যে লাল ও সবুজ রঙ অঙ্কন করে দিলেন। সাথেসাথে আপনার লাল সবুজ পতাকার কথা মনে পড়ে গেলো। কারণ আপনার মস্তিষ্কে এর একটি ইতিহাস আছে। আমরা কোনো একটি বস্তুকে এটি যেমন ঠিক তেমনি দেখিনা। আমরা একটি বস্তুকে সেই ভাবে দেখি আমার মধ্যে এটি যেভাবে আছে।

Bangladesh flag, national flag of Bangladesh. | Bangladesh flag,  Bangladeshi flag, National flag of bangladesh

আমরা প্রত্যেকে আমাদের জিন ও অভিজ্ঞতা দ্বারা চালিত__আর এ জন্য প্রতিটি মস্তিষ্কেরই ভিন্ন ভিন্ন ইন্টারনাল লাইফ রয়েছে। প্রতিটি ব্রেনই স্নোফ্ল্যাকের মতো ইউনিক। যেহেতু আপনার মস্তিষ্কে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন নতুন কানেকশন গঠিত ও পূনর্গঠিত হচ্ছে, এটি আপনাকে বোঝাচ্ছে যে আপনার মতো কেউ এ মহাবিশ্বে আগে কখনো আসেনি এবং ভবিষ্যতেও আসবেনা। আর যেহেতু ফিজিক্যাল স্টাফ পরিবর্তন হচ্ছে এবং আমরাও। আমরা আসলে ফিক্স নয়। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত, আমরা অগ্রসর হচ্ছি,মৃত্যুর পরও এটা জানার উপায় নেই যে আমি কে ছিলাম।

তথ্যসূত্রঃ

The Brain ; The Story of You , David Eagleman

আগের পর্বগুলোঃ

  1. ব্রেন; দি স্টোরি অব ইউ
  2. একজন টিনেজারের চোখে বিশ্ব!
  3. আইনস্টাইনের ব্রেনে ওমেগা সাইন!
  4. আমি কি আমার মেমরি?
hsbd bg