পৃথিবী মরে যাচ্ছে!
ইন্টারস্টেলার সিনেমায়, একটি অদ্ভুত বিষাক্ত পদার্থ একবার আমাদের গ্রহে আঘাত করেছিল যা শস্যকে ব্যর্থ করে এবং ফসলকে ধ্বংস করে। মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, মানব সভ্যতা দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়।
ম্যাথিউ ম্যাককোনাঘি নাসার প্রাক্তন নভোচারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যার উপর অর্পণ করা হয়েছিল বিপজ্জনক এক মিশন। এর আগে, শনি গ্রহের কাছাকাছি একটি রহস্যজনক ওয়ার্মহোলের মুখ খোলা হয়েছিল। এটি ছিলো একটি প্রবেশপথ, এটি যেকোনো ব্যক্তিকে প্রবেশ করার সাথে সাথে গ্যালাক্সির দূরবর্তী কোন প্রান্তে পৌঁছে দিতো, যেখানে ছিলো নতুন বাসযোগ্য বিশ্ব। মানব সভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য মরিয়া হয়ে, স্বেচ্ছাসেবকরা ওয়ার্মহোলে প্রবেশ করতো এবং নক্ষত্রে মানব সভ্যতার জন্য নতুন কোনো আশ্রয়স্থল অনুসন্ধান করতো!
ইতোমধ্যে পৃথিবীতে ফিরে এসে বিজ্ঞানীরা উন্মাদ হয়ে ওয়ার্মহোলটির রহস্যের পেছনে পড়ে থাকলো! কে তৈরি করেছে ওকে? আর কেনোই বা এটি মানব সভ্যতার ধবংসের ঠিক পূর্ব মুহূর্তেই দৃশ্যমান হয়েছে? আর ধীরে ধীরে সত্যের সূর্য উদিত হতে থাকে। প্রযুক্তিই এ ওয়ার্মহোলকে আমাদের থেকে মিলিয়নগুণ উন্নত করে তৈরি করেছে। যে সকল সত্তা এটি তৈরি করেছে তারা আসলে আমাদের উত্তরসূরি। এর স্রষ্টারা এতটাই উন্নত যে তারা হাইপারস্পেসে বাস করে, আমাদের পরিচিত মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে। তারা এটি পাঠিয়েছে তাদের পূর্বসূরিদের রক্ষা করার জন্য। মানবতাকে রক্ষা করার জন্যই তাদের এ পরিকল্পনা কারণ মানবতাই তাদের রক্ষক। পদার্থবিদ কিপ থর্ন যিনি এই মুভির একজন নির্মাতা তিনি বলেন এই সিনেমার ফিজিক্সের পেছনে অনুপ্রেরণা ছিলো স্ট্রিং থিয়োরি।
আমরা যদি সার্ভাইভ করি তবে আমরা একদিন একই সমস্যার মুখোমুখি হবো। একদিন ভবিষ্যতে আমাদের মহাবিশ্ব অন্ধকার ও ঠান্ডা হয়ে যাবে। সকল জীবন শেষ হয়ে যাবে যদি মহাবিশ্ব শেষ হয়ে যায় এবং শেষের শুরুতে তাপমাত্রা এবসলিউট শূন্যের কাছাকাছি চলে যাবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, Are there any Loopholes? আমরা কি এ মহাজাগতিক ধ্বংসযজ্ঞ অতিক্রম করতে পারবো? আমরা কি আশ্রয় পাবো হাইপারস্পেসে? কীভাবে মহাবিশ্ব মৃত্যুবরণ করবে সেটি বোঝার জন্য আমাদেরকে আইনস্টাইনের থিওরি অব গ্র্যাভিটি অনুসারে মহাবিশ্বের ফিউচার সম্পর্কে প্রেডিকশনগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে। আইনস্টাইনের থিয়োরি অব গ্র্যাভিটি অনুসারে, মহাবিশ্বের সম্ভাব্য তিনটি ভবিষ্যত রয়েছে আর সেগুলো হলো যথাক্রমে; বিগ ক্রাঞ্চ, বিগ ফ্রীজ অথবা বিগ রিপ।
বিগক্রাঞ্চ, বিগ ফ্রিজ ও বিগ রিপঃ
প্রথমটি হলো বিগ ক্রাঞ্চ(Big Crunch), যখন মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ ধীর হয়ে যাবে এবং নিজেকে রিভার্স করবে। এ দৃশ্যপটে, স্বর্গের গ্যালাক্সিগুলো অবশেষে থেমে যাবে এবং একে অন্যের সংস্পর্শে আসতে শুরু করবে( Begins to Contract)। তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে যার ফলে দূরবর্তী নক্ষত্র ক্রমশ নিকটবর্তী হতে থাকবে। সবশেষে, সকল নক্ষত্র একটি আদিম কণায় একীভূত হবে যেটি চুড়ান্তভাবে উত্তপ্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তোবা বিগ বাউন্স সংঘটিত হবে এবং পূনরায় বিগব্যাং স্টার্ট হবে।
দ্বিতীয়টি হলো বিগ ফ্রিজ(Big Freeze) যেখানে মহাবিশ্বের বৃদ্ধি অবাধে চলতে থাকবে। থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” অনুসারে সামগ্রিক এন্ট্রপি সবসময় বৃদ্ধি পায়। আর এ জন্য অবশেষে, মহাবিশ্ব ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকবে কেননা ম্যাটার ও হিট আরো বেশি ডিফিউস হবে। নক্ষত্র তার আলো হারাবে, রাতের আকাশ সম্পূর্ণ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে, তাপমাত্রা এবসলিউট শূন্যকে স্পর্শ করবে ; এমনকি মলিকিউল তাদের মোশন হারিয়ে ফেলবে।
কয়েক দশক ধরে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এটা নির্ণয় করার চেষ্টা করেছেন মহাবিশ্বের কোন প্রেক্ষাপট তার ভাগ্যকে নির্ধারণ করে দেবে। এটি সংঘটিত হবে এভারেজ ডেনসিটি ক্যালকুলেট করার মাধ্যমে। যদি মহাবিশ্ব যথেষ্ট ঘনত্বসম্পন্ন হয়, তবে এখানে যথেষ্ট ম্যাটার ও গ্র্যাভিটি উপস্থিত থাকতো যা দূরবর্তী গ্যালাক্সিকে আকর্ষণ করে মহাসম্প্রসারণকে রিভার্স করে দিতে সক্ষম হতো। আর এভাবে বিগ ক্রাঞ্চ রিয়েলিস্টিক্যালি সম্ভবপর হয়ে উঠতো। যদি মহাবিশ্বের পর্যাপ্ত ভরের অভাব থাকে তবে এ সম্প্রসারণ রিভার্স করার জন্য পর্যাপ্ত গ্র্যাভিটি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতো না এবং মহাবিশ্ব বিগ ফ্রিজে চলে যেত। এ দুটি দৃশ্যপটকে যে ক্রিটিক্যাল ডেনসিটি আলাদা করে রেখেছে তা হলো প্রতি কিউবিক সেমি ছয়টি হাইড্রোজেন এটম।
২০১১ সালে পদার্থবিদ এডাম সল পার্লমুটার, রিয়েস ও ব্রায়ান নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন যুগ যুগ ধরে লালিত একটি বিশ্বাস ভেঙে দেয়ার জন্য। তারা দেখিয়েছিল যে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহাবিশ্বের বয়স ১৩.৮ বিলিয়ন বছর কিন্তু ৫ বিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে এটি এক্সপোনেশিয়ালি সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। সায়েন্টিফিক আমেরিকা বলেন, The Astrophysical community was stunned to learn that universe was driving itself apart! জ্যোতির্বিদরা এ ধরণের বিস্ময়কর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন দূরবর্তী গ্যালাক্সির সুপারনোভা বিস্ফোরণ বিশ্লেষণ করে এটা নির্ধারণ করার জন্য যে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর পূর্বে মহাবিশ্ব কী হারে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ ধরণের একটি সুপারনোভাকে বলা হয় Type Ia যার উজ্জ্বলতা একদম সুনির্দিষ্ট, আর এ জন্য আমরা একদম যথাযথভাবে এর ব্রাইটনেস ব্যবহার করে দূরত্ব নির্ণয় করতে পারি। যদি কারো সঠিক উজ্জ্বলতা সম্পর্কে জানা থাকে তবে তার জন্য দূরত্ব বলে দেয়া একদম সহজ কিন্ত আপনি যদি বলতে না পারেন যে এর উজ্জ্বলতা ঠিক কেমন তবে আপনি নির্ধারণ করতে পারবেন না এটি ঠিক কতটা দূরত্বে অবস্থান করছে! এ ধরণের হেডল্যাম্পের উজ্জ্বলতাকে বলা হয় স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডেল, Type Ia সুপারনোভা সেজন্য স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডেলের ভূমিকা পালন করে। সুপারনোভা বিশ্লেষণ করার সময় বিজ্ঞানীরা দেখে, তারা আমাদের থেকে দূরে মুভ করছে, প্রত্যাশা অনুসারে। কিন্তু যা তাদের আহত করেছিল তা ছিল, নিকটবর্তী সুপারনোভা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অপসারিত হচ্ছে তাদের যতটা দ্রুততার সাথে অপসারিত হওয়া উচিত তার চেয়ে____ যা নির্দেশ করছে যে সম্প্রসারণের হার ত্বরান্বিত হচ্ছে।
অতএব বিগ ফ্রিজ ও বিগ ক্রাঞ্চ ছাড়াও তৃতীয় একটি বিকল্প বেরিয়ে আসে যেটিকে বিগ রিপ বলে, যেটি স্টেরয়েডগুলোতে বিগ ফ্রিজের মতো। এটি মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ জীবন চক্রের সবচেয়ে বিশাল ত্বরিত সময়সীমা( Time Frame)।
বিগ রিপ বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো, গ্যালাক্সিগুলো এত দ্রুত গতিতে আমার কাছ থেকে অপসারিত হবে যে তারা আলোর গতিকেও অতিক্রম( Exceed) করবে এবং আমাদের দৃষ্টি থেকে হারিয়ে যাবে। আমরা জানি, ম্যাটেরিয়াল অবজেক্ট সাধারণত আলোর থেকে দ্রুত গতিতে পথ চলতে পারে না। কিন্তু এম্পটিস্পেস যেকোন স্পিডে দীর্ঘায়িত ও সম্প্রসারিত হতে পারে।

এর মানে হলো যে, রাতের আকাশ ক্রমশ অন্ধকার হয়ে যাবে কারণ দূরবর্তী গ্যালাক্সির আলো আমাদেরকে ছেড়ে এত দ্রুত গতিতে হারিয়ে যাবে সেই আলো জিলিয়ন জিলিয়ন আলোকবর্ষ পথ অতিক্রম করে আমাদের কাছে এসে পৌঁছাতেই পারবেনা। অবশেষে, এ এক্সপোনেনশিয়াল সম্প্রসারণ এতটাই দ্রুততর হয়ে উঠবে যে শুধু গ্যালাক্সি গুলোই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে না, আমাদের সোলার সিস্টেমও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং যে এটম আমাদের শরীরকে তৈরি করেছে সেগুলো বিদীর্ণ হয়ে যাবে। বিগ রিপের ফাইনাল স্টেজে আমরা ম্যাটার বলতে যা বুঝি তার কিছুই থাকবেনা। সায়েন্টিফিক আমেরিকান লিখেছে, Galaxies Would be destroyed, The solar system Would Unbind and Eventually all the planets would burst asunder as the rapid expansion of Space rips apart very atom! অবশেষে, আমাদের মহাবিশ্ব অসীম এনার্জির একটি সিঙ্গুলারিটিতে শেষ হবে। একদিন হয়তো আমরা আমাদের সূর্যের মৃত্যুকে স্পেসশিপ ব্যবহার করে এভোয়েড করতে পারবো কিন্তু আমরা কীভাবে উপেক্ষা করবো স্বয়ং মহাবিশ্বের মৃত্যুকে?

ডার্ক এনার্জিঃ
আইনস্টাইনের থিয়োরি অব রিলেটিভিটি অনুসারে, মহাবিশ্বের বিবর্তনে শক্তির দুটি সোর্স কাজ করছে। প্রথমটি হলো স্পেস-টাইমের বক্রতা যা গ্র্যাভিটি ফিল্ড তৈরি করে স্টার ও গ্যালাক্সির চারপাশে। এ বক্রতা হলো এমনকিছু যা এ মুহূর্তে আমার পা দুটো ভুপৃষ্ঠের সাথে আটকে রেখেছে। এ এনার্জি সোর্স জ্যোতির্বিদরা বিশদভাবে স্টাডি করেন।
কিন্তু এখানে শক্তির আরো একটি সোর্স আছে যেটিকে সাধারণত উপেক্ষা করা হয়, এনার্জি অব নাথিংনেস অথবা এনার্জি অব ভ্যাকুয়াম, যাকে বলে ডার্ক এনার্জি ( ডার্ক ম্যাটার ভেবে ভুল করবেন না), আমরা এম্পটিস্পেস বলতে যা জানি সেটি এ ডার্ক এনার্জি ধারণ করে। আমাদের অতি-সাম্প্রতিক গণনা দেখিয়েছে যে ডার্ক এনার্জি এন্টি-গ্র্যাভিটির মতো আচরণ করে যা মহাবিশ্বকে দূরে অপসারিত করে, মহাবিশ্ব যত সম্প্রসারিত হচ্ছে, ততই ডার্ক এনার্জি এসে উপস্থিত হচ্ছে আর এ জন্য এটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক আমাদের সবচেয়ে উন্নত ডেটা আমাদের বলছে, মহাবিশ্বের ৬৯ শতাংশ ম্যাটার ও এনার্জি আসলে ডার্ক এনার্জি। ( আর অন্যদিকে ২৬% ডার্ক ম্যাটার, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম এটম তৈরি করেছে ৫% এবং হায়ার এলিমেন্ট যা পৃথিবী ও আমাদের শরীর তৈরি করেছে তা ০.৫%)। অতএব ডার্ক এনার্জি যা গ্যালাক্সিগুলোকে আমাদের থেকে দূরে অপসারণ করছে সুস্পষ্টভাবে মহাবিশ্বের প্রভাবশালী একটি ফোর্স, স্পেস টাইমের বক্রতা যে শক্তি ধারণ করে তার থেকেও অনেক অনেক বিশাল। আমাদের বর্তমান বিশ্বতত্ত্বের সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হলো, ডার্ক এনার্জির উৎপত্তি সম্পর্কে বোঝা। এটি কোথা থেকে এসেছে? এটি কি আল্টিমেটলি মহাবিশ্বকে ধ্বংস করে দেবে?
একটি অশোধিত শটগান বিবাহের ভেতর দিয়ে যখন আমরা রিলেটিভিটি ও কোয়ান্টাম ফিজিক্সকে সমন্বয় করি, আমরা ডার্ক এনার্জির প্রেডিকশন খুজে পাই কিন্তু আমাদের নির্ধারিত প্রেডিকশন ফ্যাক্টর 10120 দ্বারা আবদ্ধ, যা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অনেক বড় মাপের একটি গড়মিল। আর কোথাও আমরা এত বড় অসঙ্গতি খুঁজে পাইনা। এটি নির্দেশ করছে যে মহাবিশ্ব সম্পর্কে বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে ভয়ানক কিছু ভুল। অতএব ইউনিফাইড ফিল্ড থিয়োরি সায়েন্টিফিক কৌতুহল হওয়ার পরিবর্তে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে সবকিছু কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য। এ প্রশ্নের সমাধান আমাদের বলবে, মহাবিশ্বের নিয়তি ও সকল বুদ্ধিমান প্রাণীর।
মহাবিশ্ব থেকে পালানোর উপায়!
আমরা যদি ধরে নেই যে মহাবিশ্ব একসময় শীতল হয়ে যাবে, তবে এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? এ কসমিক ফোর্সকে কি রিভার্স করা যায়? এখানে রয়েছে অন্তত তিনটি অপশন। প্রথমটি হলো কোনোকিছুই না করা___ মহাবিশ্বের জীবন চক্রকে সম্পন্ন হতে দেয়া। মহাবিশ্ব যখন ক্রমশ শীতল থেকে শীতলতর হতে থাকবে, বুদ্ধিমান সত্তা সমন্বিত হবে এবং স্লো মোশনে চিন্তা করবে। পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রিম্যান ডাইসনের মতে, এমন একটি সময় আসবে যখন অত্যন্ত সাধারণ একটি চিন্তা করতেই ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর সময় চলে যাবে কিন্তু এ সত্তা সময়ের এ ধীরতা অনুভব করতে পারবেনা কারণ অন্য সকল সত্তাও স্লো মোশনে চিন্তা করবে। মহাবিশ্বের তাপমাত্রা যখন এবসলিউট শূন্যের কাছাকাছি চলে যাবে তখন এত ক্ষুদ্রতর তাপমাত্রার পার্থক্যকে ব্যবহার করে কোনো যন্ত্রের পক্ষেই এর চেয়ে দ্রুত গতিতে কাজ করা সম্ভব না। অতএব কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর পক্ষেই পরম শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রায় দ্রুতগতিতে চিন্তা করা সম্ভব না। তাদের এক একটি চিন্তার জন্যই কয়েক ট্রিলিয়ন বছর সময় চলে যাবে। মূলত, আমরা এক সময় বায়োলজিক্যাল শরীর ত্যাগ করে, রোবটিক শরীর ধারণ করবো, এমনও হতে পারে আমাদের দেহ হবে ক্যাটমের তৈরি , প্রোগ্রাম্যাবল ম্যাটার। ক্যাটম হলো একপ্রকার এটম যেগুলো সফটওয়্যারের মতো আচরণ করে।
একটি সফটওয়্যার যেমন নিজেকে নিজে রি-এরেঞ্জ করতে পারে ঠিক তেমনি ক্যাটমও একটি জীবন্ত সফটওয়্যারের মতো সেল্ফ ফাংশনিং করতে পারবে তথা হার্ডওয়ার হবে নিজেই সফটওয়্যার। আমরা যদি এরকম সফটওয়্যার দ্বারা আমাদের শরীর তৈরি করি যে ক্যাটমগুলো যেকোনো আকার ধারণ করতে পারে তবে হয়তো আমরা আজ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর পরও এ মহাবিশ্বের যে কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারবো এবং এমনকি আমরা হয়তো পরম শূন্য তাপমাত্রায় ক্যাটমিক চেতনা হয়ে সার্ভাইভ করবো। সে শীতল জগতে বসবাস করাটা আসলে খুবই ইন্টারেস্টিং। কেননা সেখানে সবকিছু প্রচন্ড স্লো মোশনে কাজ করবে, ক্যাটমগুলো অত্যন্ত স্লো মোশনে কাজ করবে, ক্যাটমের তৈরি সত্তাদের ব্রেন ওয়েভ অত্যন্ত স্লো মোশনে কাজ করবে। দুটি সত্তার ব্রেন ওয়েভ এতটাই স্লো মোশনে কাজ করবে যে তাদের ভেতর যদি সিম্পল একটি কনভারসনও হয় ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর অতিবাহিত হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু তখনও নর্মাল মনে হবে।
আমরা জানি যে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স অনুসারে কোন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা শূন্য নয়। কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা ও ফ্ল্যাকচুয়েশনের প্রতিক্রিয়ায় মহাবিশ্বে যে কোনো ঘটনাই ঘটতে পারে। যেমন- কোয়ান্টাম লিপের(Quantum Leap) মাধ্যমে কোনো শব্দ ছাড়াই আকস্মিক আমাদের মহাবিশ্ব অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে, আমাদের চোখের সামনেই ওয়ার্মহোল খুলে যেতে পারে। বাবল ইউনিভার্স অস্তিত্বে উদ্ভাসিত হতে পারে। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এ ধরণের ঘটনা ঘটার জন্য আমাদের মহাবিশ্বের বয়স থেকেও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। আমাদের জীবন এতটাই ক্ষুদ্র যে কোয়ান্টাম লিপের মতো ঘটনা আমাদের অভিজ্ঞতার জগতে বিরল। কিন্তু এ সকল সত্তার কাছে কোয়ান্টাম ট্রান্সজিশন ও শিশু মহাবিশ্বের মতো ঘটনা অত্যন্ত সাধারণ কারণ তাদের ব্রেন অত্যন্ত স্লো মোশনে অপারেট করে।
এটি একটি টেম্পোরারি সলিউশন কারণ মলিকিউলার মোশন এতটাই স্লো হয়ে যাবে যে তথ্য একটি প্লেস থেকে অন্য আর একটি প্লেসে স্থানান্তরিত হতে পারবে না। এ বিন্দুতে এসে, সকল একটিভিটি তা যতই স্লো হোক না কেনো থেমে যাবে। একটি হতাশাজনক আশা হলো যে, ডার্ক এনার্জির ফলে মহাবিশ্বের যে এক্সিলারেশন তা আকস্মিক অদৃশ্য হয়ে যাবে। আর কেউই বুঝতে পারবে না যে মহাবিশ্ব এক্সিলারেট হচ্ছে, এটি হওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা আছে।
টাইপ IV তে পরিণত হওঃ
আমাদের গ্যালাক্সির ঊর্ধ্বের শক্তিকে ইউটিলাইজ করার শক্তি অর্জন করার মাধ্যমে যদি আমরা টাইপ IV সিভিলাইজেশনে বিবর্তিত হতে পারি তবে হয়তো মহাবিশ্বের মৃত্যুর সময়ও আমরা আমাদের রক্ষা করতে পারবো। একবার মিচিও কাকু বিশ্বতত্ত্বের উপর একটি বক্তব্য রেখেছিলেন এবং কার্দাশেভ স্কেল সম্পর্কে সেখানে আলোচনা হয়েছিল। একজন দশ বছর বয়সের বালক এসে কাকুকে বলল, আপনি ভুল বলছেন, IV সিভিলাইজেশনের অস্তিত্ব থাকতে পারে যারা কার্দাশেভের ক্লাসিফিকেশনের অনেক ঊর্ধ্বে। কাকু শিশুটিকে তার ভুল বুঝিয়ে বলেন এবং প্রমাণ দেখান যে টাইপ IV সিভিলাইজেশন অসম্ভব। এর জন্য গ্যালাক্সির ঊর্ধ্বে শক্তি প্রয়োজন। পরে কাকু অনুশোচনা করেন, হয়তো শিশুটির সাথে তিনি অনেক অধৈর্য আচরণ করেছেন। স্মরণ করুন যে প্রতিটি সিভিলাইজেশ্যনের তার পূর্ববর্তী সিভিলাইজেশ্যন থেকে দশ থেকে একশ বিলিয়ন গুণ শক্তিশালী। যেহেতু আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বে একশত বিলিয়ন গ্যালাক্সি আছে টাইপ IV সিভিলাইজেশন হয়তো দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সকল গ্যালাক্সির শক্তির উপর আধিপত্য লাভ করবে। এবং সম্ভবত এক্সট্রা গ্যালাক্টিক এনার্জি সোর্স ডার্ক এনার্জি যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যাটার ও এনার্জির সোর্স বলে পরিচিত। কীভাবে সিভিলাইজেশ্যন IV ডার্ক এনার্জিকে পরিচালনা করে বিগ রিপকে রিভার্স করবে?
ডেফিনেশন অনুসারে, টাইপ IV সিভিলাইজেশ্যন এক্সট্রা গ্যালাক্টিক এনার্জি কাজে লাগাতে পারবে এবং তারা হয়তো স্ট্রিং থিয়োরি দ্বারা উদ্ভাবিত কিছু এক্সট্রা-ডায়মেনশনকেও পরিচালিত করতে পারবে এবং একটি গোলক তৈরি করবে যে গোলকের ভেতর ডার্ক এনার্জি পোলারিটি রিভার্স করবে। আর এতে করে মহাসম্প্রসারণ বিপরীত দিকে চালিত হবে(Reverse)। গোলকের বাহিরে মহাবিশ্ব স্বাভাবিকভাবেই এক্সপোনেশিয়ালি সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু গোলকের ভেতর গ্যালাক্সি বিবর্তিত হবে অত্যন্ত সাধারণভাবে। আর এ পদ্ধতিতে টাইপ IV সিভিলাইজেশন সার্ভাইভ করবে যদিও চারপাশের মহাবিশ্ব মৃত্যুবরণ করে।
একটি সেন্স থেকে, এই গোলক, ডাইসন স্পিয়ারের মত আচরণ করবে। যদিও ডাইসন স্পিয়ারের উদ্দেশ্য হলো সানলাইট ট্র্যাপ করা, কিন্তু এ স্পিয়ারের উদ্দেশ্য ডার্ক এনার্জি ট্র্যাপিং। আর এভাবে সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সর্বশেষ সম্ভাবনা হলো স্পেস-টাইমের ভেতর দিয়ে ওয়ার্মহোল তৈরি করা, যদি মহাবিশ্ব মৃত্যুমুখে পতিত হয় তবে আমাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হলো, ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে অন্য আর একটি মহাবিশ্বে চলে যাওয়া, যেটি তুলনামূলক তরুণ ও বাসযোগ্য।
আমাদের সাবকনসাস মাইন্ড স্পেস-টাইমের ভেতর কানেকশন তৈরি করার জন্যই অভিযোজিত। আমাদের পূর্বসূরিদের ব্রেন স্পেসের দুটি পয়েন্টকে ব্রিজ, নৌকা, জাহাজ,ট্রেন, কার, কম্পিউটার ও হেলিকপ্টার দিয়ে কানেক্ট করতে পছন্দ করতো যার মাধ্যমে তাদের টেরিটোরি এক্সপান্ড হতো, তারা তাদের জিনকে সুবিস্তৃত ভাবে ছড়িয়ে দিতে পারতো। এখন আমরা সময়ের দুটি বিন্দুকেও কানেক্ট করতে চাইছি, ওয়ার্মহোলের ভেতর দিয়ে আমরা দুটি মহাবিশ্বকে কানেক্ট করবো যেনো আমাদের সেলফিশ জিন নিজেকে ভবিষ্যত প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে পারে! আমাদের পুরো ব্রেনটাই যেনো কজ এন্ড ইফেক্টকে কানেক্ট করার জন্য অভিযোজিত আর তাই বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেই ওয়ার্ম হোলই আমাদের প্রজাতির আল্টিমেট নিয়তি!
আমরা মূল ধারণাটি পেয়েছি আইনস্টাইনের কাছ থেকে। আইনস্টাইনের থিয়োরি অনুসারে, আমাদের মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত বাবল। আর আমরা বাবলের স্কিনে বাস করছি। স্ট্রিং থিয়োরি আমাদের নতুন যে তত্ত্ব দিয়েছে সেটি
আমাদের বলছে যে, এর বাহিরেও আরো অনেক বাবল আছে, এদের প্রতিটি স্ট্রিং ইকুয়েশনের সলিউশন। মূলত, মহাবিশ্বে বুদ্বুদের একটি মহাসাগর আছে, যা মাল্টিভার্স তৈরি করে।
অসংখ্য বাবল মাইক্রোস্কোপিক। মিনি বিগব্যাং এর মাধ্যমে তারা অস্তিত্বে উদ্ভাসিত হয় আর তারপর খুব দ্রুত কলাপ্স করে। অধিকাংশ বাবল মহাবিশ্ব আমাদের উপর কোনো প্রভাবই সৃষ্টি করে না যেহেতু তারা ভ্যাকুয়ামে অত্যন্ত স্বল্প দৈর্ঘের জীবন উপভোগ করে। স্টিফেন হকিং ভ্যাকুয়ামে মহাবিশ্বের এ ক্রমাগত মন্থনকে “স্পেস-টাইম” ফোম বলেন। অতএব শূন্যতা আসলে শূন্য নয় ধারাবাহিক গতিশীলতার মহাবিশ্ব দিয়ে পরিপূর্ণ। খুব অদ্ভদভাবে, এর মানে হলো যে, আমাদের শরীরের সাথেও স্পেস-টাইম ফোমের ভাইব্রেশন আছে কিন্তু সেগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে সৌভাগ্যবশত আমরা সেগুলো সম্পর্কে সচেতন নই। এ তত্ত্বের একটি বিস্ময়কর দিক হলো যদি বিগব্যাং একবার সংঘটিত হয় তবে এটি বার বার ঘটতেই থাকে। মা মহাবিশ্ব থেকে শিশু মহাবিশ্ব বেরিয়ে আসে আর আমাদের মহাবিশ্ব কিছুই না আরো বিরাট একটি মহাবিশ্বের অতি-ক্ষুদ্র একটি টুকরা। ( মাঝে মাঝে এই বাবলের অতি-ক্ষুদ্র ফ্র্যাকশন, শূন্যস্থানে শেষ হয়ে যায় না, ডার্ক এনার্জির কারণে সুবিশালভাবে এক্সপান্ড হতে থাকে। সম্ভবত আমাদের মহাবিশ্বের উদ্ভবের কারণ দুটি বাবলের সংঘর্ষ অথবা একটি বুদ্বুদকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা)।
হয়তোবা উন্নত সভ্যতা এস্টারয়েড বেল্টের সমান দৈত্যাকার কোনো পার্টিকেল এক্সিলারেটর তৈরি করতে সক্ষম হবে যা প্লাঙ্ক এনার্জিতে অবতরণ করে স্পেসের নির্দিষ্ট একটি পয়েন্ট ফুটো করবে আর এ পদ্ধতিতে তৈরি করবে একটি ওয়ার্ম হোল। যদি নেগেটিভ এনার্জি দিয়ে একে স্থিতিশীল রাখা যায় তবে এটি আমাদেরকে ভিন্ন কোনো মহাবিশ্বে প্রবেশের অনুমোদন প্রদান করবে। আমরা কাসিমির ইফেক্টের মাধ্যমে এ ধরণের নেগেটিভ এনার্জি যোগান দিতে পারি। তবে নেগেটিভ এনার্জির আর একটি উৎস হায়ার ডায়মেনশন। তারা হয়তো দুটি উদ্দেশ্য কাজ করবে। তারা হয়তো ডার্ক এনার্জির ভ্যালু পরিবর্তন করে দেবে আর এভাবে বিগ রিপ প্রতিরোধ করবে অথবা তারা নেগেটিভ এনার্জি ব্যাবহার করবে ওয়ার্মহোলের মুখ স্থিতিশীল রাখার জন্য। মাল্টিভার্সের প্রতিটি বাবল ইউনিভার্সের ফিজিক্সের সূত্র আলাদা। আদর্শিকভাবে আমরা সেই প্যারালাল ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ করবো যেখানে এটম স্থিতিশীল কিন্তু ডার্ক এনার্জির পরিমাণ অত্যন্ত নিন্মমাপের। আর এ জন্য এটি যথেষ্ট সম্প্রসারিত ও ঠান্ডা হবে যা বাসযোগ্য গ্রহের অনুমোদন দেবে কিন্তু এটি অতিদ্রুত বিগ ফ্রিজে অবতরণ করবে না।
ইনফ্লেশনঃ
এ সকল কল্পনা প্রথম দৃষ্টিতে ভ্রান্ত মনে হতে পারে কিন্তু আমাদের সাম্প্রতিক মহাজাগতিক ডেটা এ পিকচার সাপোর্ট করছে। এমনকি সন্দেহবাদীরাও মাল্টিভার্সের ধারণাকে গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে কারণ এটি ইনফ্লেশনের (Inflation) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। যেটি বিগব্যাং থিয়োরির একটি সুপারচার্জড ভার্সন। এ দৃশ্যপটে, বিগব্যাং এর পূর্বে ইনফ্লেশন নামক একটি এক্সপ্লোশন ঘটেছিল যা আমাদের মহাবিশ্বকে প্রথম ১০-৩৩ সেকেন্ডে তৈরি করেছে, মূল তত্ত্ব থেকে আরো অনেক দ্রুতগতিতে। এ ধারণাটি মূলত এমআইটির এলান গুথ ও আন্দ্রেই লিন্ডে প্রস্তাব করেন যা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক কসমোলজিক্যাল সমস্যা সমাধান করে। উদাহরণস্বরূপঃ আমাদের মহাবিশ্বকে অনেকবেশি ফ্ল্যাট ও অধিক ইউনিফর্ম মনে হয় আইনস্টাইনের তত্ত্বের প্রেডিকশনের তুলনায়। কিন্তু যদি মহাবিশ্ব একটি মহাজাগতিক এক্সপ্লোশনের ভেতর দিয়ে যায়, এটি চ্যাপ্টা হয়ে যাবে, অনেকটা ইনফ্ল্যাটিং বেলুনের মতো। একটি ইনফ্লেটেট বেলুনের পৃষ্ঠ এর আকারের জন্যই চ্যাপ্টা মনে হয়। এছাড়া আপনি যদি মহাবিশ্বের একটি ডিরেকশনে তাকান এবং ১৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে বিপরীত ডিরেকশনে আপনার কাছে মনে হবে মহাবিশ্ব সর্বত্র সমান, কোনো ব্যাপারই না আপনি যেদিক তাকান। এ জন্য এর বিভিন্ন অংশের মিশ্রণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু যেহেতু আলো সসীম ভেলোসিটিতে পথ চলে সেহেতু এত বিশাল দূরত্ব পাড়ি দেয়ার জন্য আলোর হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিলোনা। আর এজন্য মহাবিশ্বের উচিত ছিল উঁচুনিচু ও বিশৃঙ্খল মনে হওয়া কারণ ম্যাটার মিশ্রিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিলোনা। ইনফ্লেশন এ সমস্যা সমাধান করে, সময়ের শুরুতে মহাবিশ্ব ইউনিফর্ম ম্যাটারের একটি চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো ছিলো, কোনো মেসেজই সেখান থেকে স্পষ্টভাবে পড়া যেতো না, ইনফ্লেশন এই টুকরোটিকে সম্প্রসারিত করে যার ফলে আমরা আজ যা দেখি তার জন্ম হয়। বেলুনটি ফুলে উঠে, গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব তৈরি হয়, বেলুনের মাঝখানের স্পেস এক্সপেন্ড হতে থাকে আর গ্যালাক্সিগুলো দূরে অপসারিত হয়।
যদিও ইনফ্লেশন থিয়োরির অনস্বীকার্য সফলতা আছে ডেটা এক্সপ্লেইন করার জন্য, তবুও জ্যোতির্বিদদের মধ্যে বিতর্ক দেখা যায়, এর ভেতরকার অন্তর্নিহিত ফিজিক্স নিয়ে। আমাদের স্যাটেলাইট থেকে রয়েছে বিবেচনাযোগ্য প্রমাণ যে, মহাবিশ্ব দুর্দান্ত এক ইনফ্লেশন অতিবাহিত করেছে কিন্তু ঠিক কিভাবে এ ইনফ্লেশন শুরু হয় তা কেউ জানেনা। এ পর্যন্ত ইনফ্লেশন থিয়োরি ব্যাখ্যা করার জন্য নেতৃত্বশীল থিয়োরির দায়িত্ব পালন করছে স্ট্রিং। একবার মিচিও কাকু এলানগুথকে প্রশ্ন করেন, শিশু মহাবিশ্ব তৈরি সম্ভব কি না। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি গণনা করেছেন। এ জন্য প্রথমে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে প্রচন্ড পরিমাণ উত্তাপ ঢেলে দিতে হবে। যদি ল্যাবে একটি শিশু মহাবিশ্ব গঠিত হয়, এটি সাংঘর্ষিক ভাবে মহাবিস্ফোরিত হবে। কিন্তু এটি ভিন্ন একটি ডায়মেনশনে সম্প্রসারিত হবে। আর এজন্য আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বেবি ইউনিভার্স ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু তবুও আমরা বেবি ইউনিভার্স সৃষ্টির শক ওয়েভ অনুভব করতে পারবো যেটি নিউক্লিয়ার ওয়েপন বিস্ফোরণের সমরূপ।
মুক্তিঃ
মাল্টিভার্সকে থিয়োলজির দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায় যেখানে ধর্ম দুটি ক্যাটাগরিতে পড়েঃ একটি ধর্ম আছে যেখানে সবকিছু মুহূর্তেই সৃষ্টি হয় আর অন্য একটি ধর্ম শাশ্বত। উদাহরণস্বরূপঃ জুডো-খ্রিশ্চিয়ান দর্শন আমাদের সে সৃষ্টির কথা বলে, একটি মহাজাগতিক ঘটনা, যখন মহাবিশ্ব জন্মে( এটা বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে বিগব্যাং এর মূল গণনা করেছিলেন জর্জ লামেত্রি যিনি একজন ক্যাথোলিক যাজক ও পদার্থবিদ যিনি মনে করতেন আইনস্টাইনের থিয়োরি জেনেসিসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ)। যাইহোক, বৌদ্ধধর্মে(Buddhism) কোনো ঈশ্বর নেই। মহাবিশ্ব সময়হীন, যার কোনো শুরু বা শেষ নেই। শুধুই নির্বাণ। এ দুটি দর্শন সম্পূর্ণ স্ববিরোধী মনে হয়। মহাবিশ্বের হয় শুরু আছে অথবা নেই।
কিন্তু নাটকীয়ভাবে এ দুটি দর্শনকে একসাথে মেশালে মাল্টিভার্স কনসেপ্টের সাথে এডপ্ট করা যায়। স্ট্রিং তত্ত্ব অনুসারে, আমাদের মহাবিশ্ব আসলে একটি মহাপ্লাবনের ভেতর দিয়ে শুরু হয়েছে, মহাবিস্ফোরণ। কিন্তু আমরা মাল্টিভার্সের বাবল ইউনিভার্সে বাস করি। আর এ বাবল ইউনিভার্সগুলো আরো বিশাল এরেনায় ভাসমান, টেনথ ডায়মেনশনাল (দশ মাত্রিক) হাইপারস্পেসে যার কোনো শুরু নেই।
আর এ জন্য জেনেসিস সবসময় সংঘটিত হয় নির্বাণার ( ‘নির্বাণ’) বিশাল এলাকায় (হাইপারস্পেস)। মিচিও কাকু বলেন, This Gives us a Simple and Elegant unification of judeo/ Christian origin story with buddhism. Our universe did in fact have a fiery beginning, but We coexist in a timeless Nirvana of parallel universes.
আরো পড়ুন- আমরা অদৃশ্য হয়ে যাওয়া মহাবিশ্বকে দেখি?


