কয়েক হাজার বছর ধরে সেন্স অব টাচ মানব সভ্যতাকে সম্মোহিত করে রেখেছে। রেনে ডেসকার্টিস এমন একটি এনাটমির কথা চিন্তা করেছিলেন যা শরীরের প্রতিটি অংশকে সম্পৃক্ত করে মস্তিষ্কে ব্যাথার সিগনালকে ট্রান্সমিট করার জন্য। ১৯৪৪ সালে ব্যাথাদায়ক ও ব্যাথাহীনতার সাথে সম্পৃক্ত নার্ভ ফাইভার আবিষ্কার করার জন্য মেডিসিনে নোবেল প্রাইজ প্রদান করা হয়েছিল।
এ বছর ফিজিওলোজিতে ডেভিড জুলিয়াস ও আর্ডেম পাটাপুটান নোবেল প্রাইজ শেয়ার করেন সেল সারফেস রিসেপ্টর আবিষ্কার করার জন্য যে রিসেপ্টর আমাদের বলে কোনোকিছু ঠান্ডা নাকি গরম অথবা ত্বক যান্ত্রিক প্রেসার অনুভব করছে কি না। এটি ছিল একটি মলিকিউলার ডিস্কভারি যা আমাদের নিকট ব্যাখ্যা করে কেনো লাল মরিচ উত্তপ্ত এবং পুদিনা পাতা ঠান্ডা।
হাজার হাজার বছর মানুষ জানতোনা আমাদের দেহের ঠিক কোন মলিকিউল এবং সেল স্পর্শ ও তাপমাত্রার সাথে সম্পর্কযুক্ত আর এটি উন্মোচন করতে আমাদের প্রায় একশত বছর সময় লেগেছে। আর্নফোরস যিনি, সোমাটিক সেন্সেশন নিয়ে কাজ করছেন তিনি বলেন, এ নোবেল বিজয়ীরা প্রকৃতির একটি সিক্রেট আনলক করেছেন তাপমাত্রা ও মেকানিকাল ফোর্স সেনসেশনের মলিকিউলার বেসিস ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সানফ্রান্সিসকোর নোবেল বিজয়ী জুলিয়াস, যিনি এখনো সেখানেই কাজ করছেন, তিনিই সর্বপ্রথম স্কিন নার্ভের শেষের সেন্সর আবিষ্কার করেন যা তাপমাত্রাকে সনাক্ত করে। গবেষকরা জানতেন যে, ক্যাপসাইসিন এমন একটি উপাদান যা লাল মরিচকে উত্তপ্ত করে তোলে যার ফলে নার্ভ একটিভেট হয় আর আমরা ব্যাথা অনুভব করি।
১৯৯০ সালে জুলিয়াস এবং তার সহকর্মী লাইব্রেরি থেকে ডিএনএ সিকোয়েন্স সংগ্রহ করেন যা তাপ,ব্যাথা ও স্পর্শ প্রকাশের সাথে সম্পৃক্ত জিন ধারণ করে। তারপর তারা ডিএনএ-এর এ টুকরোকে একের পর এক প্রকাশ করতে থাকেন যা সাধারণত ক্যাপসাইসিনের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনা আর এ পদ্ধতিতে তিনি সঠিক সেলের উপাদান খুঁজে বের করেন যা ক্যাপসাইসিনের প্রতি সেনসেটিভ।
এটি তাদেরকে সেই জিন সনাক্ত করতে সাহায্য করে যা একটি প্রোটিনকে কোড করে যেটিকে বর্তমানে বলা হয় TRPV1, যা ক্যাপসাইসিন বা উত্তাপের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে , নার্ভের ভেতর আয়ন প্রবাহিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। তারা পরবর্তীতে দেখিয়েছেন যে, আয়ন চ্যানেলের জন্য ইঁদুরের এ জিন নেই। আর এ জন্য ইঁদুরের কাছে গরম মরিচ অথবা তাপ দুটোই তারতম্যহীন। TRPV1 আবিষ্কারের কয়েক বছরের মাথায় জুলিয়াস ও পাটাপুটান ক্রিপস রিসার্চ এবং হাওয়ার্ড মেডিকেল ইনস্টিটিউটে কাজ করেন এবং স্বাধীনভাবে একটি রিলেটেড চ্যানেল আবিষ্কার করেন যেটিকে TRPM8 বলে, যা শীতলতা এবং কর্পুরের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে যে জন্য পুদিনার স্বাদ মিষ্টি ও ঠান্ডা মনে হয়। TRPV1 এবং TRPM8 একসাথে অন্যান্য রিসেপ্টরের ক্রমবিন্যাসের সাথে কাজ করে যা তাপমাত্রা , ঠান্ডা অথবা গরমের সাথে জড়িত ব্যাথার অনুভূতিরে ট্রিগার করে।
পাটাপুটায়ানই সর্বপ্রথম সেন্স অব প্রেসারের সাথে সম্পৃক্ত জিন আবিষ্কার করেন, আপনি যখন কারো সাথে হাগ করেন অথবা পাথর দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হোন তার অনুভূতি এ জিনই ব্যাখ্যা করতে পারে। তিনি ও তার সহকারীরা একটি সেললাইন সংগ্রহ করেন এবং সেটাকে পেট্রি ডিসে রাখেন যেটি মাইক্রোপিপেট বৈদ্যুতিক সংকেতের প্রতিক্রিয়া জানায়। তারপর তারা টাচ রিসেপ্টর জিনের প্রতিযোগিদের সাইলেন্ট করে দেন এবং বোঝার চেষ্টা করেন কোন জিনটি পিপেট প্রেসারের প্রতিক্রিয়া জানায়। ৭১’টি বাদ দেয়ার পর, তারা সঠিক জিনটি খুঁজে পান। এছাড়া এটি ছিল আয়ন চ্যানেলের জন্য একটি কোড যেটির নামকরণ করেন তারা Piezo1 গ্রীক শব্দ প্রেসারের নামানুসারে।
আরো পড়ুন- ব্রেন কি কমিউনাল চিন্তার জন্য অভিযোজিত?
এই দল খুব শীঘ্রই কাছাকাছি সম্পর্কযুক্ত আর একটি চ্যানেল খুঁজে পান যার নামকরণ করা হয়__Piezo2__ যার রয়েছে একই ভূমিকা। এ দুটো চ্যানেল সেল মেমব্রেনের উপর কোনো প্রেসার সৃষ্টি হওয়ার সাথে একটিভেট হয়। তাদের পরবর্তী কাজ আমাদের দেখায় যে, কিভাবে আমাদের মধ্যে সেন্স অব পজিশন কাজ করে এটা বোঝার জন্য আমরা কোথায় মুভ করছি। ক্যাথারিনা জিমার, যিনি ফেডরিক আলেক্সান্ডার ইউনিভার্সিটির একজন ইলেক্ট্রোফিজিওলজিস্ট বলেন, আর এটি আমাদের ব্লাড প্রেসার, নিঃশ্বাস ও মুত্রথলি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মানব শরীরের প্রতিটি অর্গানে টিস্যু আছে যেখানে প্রেসার সেন্সিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এলিক্যান্ট ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের, ফেলিক্স ডি লা ইগলেসিয়া বলেন, আমাদের যদি এ প্রোটিন না থাকতো তবে আমরা বিশ্বের সেন্স তৈরি করতে পারতাম না । তাদের এ কাজ আরো কিছু অতিরিক্ত মলিকিউলের সাথে সম্পর্কযুক্ত যা আমাদের নার্ভকে স্পর্শের অনুভূতি প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, জিমারিয়ান এবং তার সহকর্মীরা কয়েক মাস পূর্বে প্রদর্শন করেছিলেন যে আয়ন চ্যানেল যার নাম TRPC5 ঠান্ডা ও দাঁতের ক্ষয় থেকে সৃষ্ট ব্যাথার জন্য দায়বদ্ধ।
এই নোবেল বিজয়ীরা তখন থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পেইন ড্রাগ আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন যা ভিন্ন ভিন্ন রিসেপ্টরের উপর কাজ করে। কিন্তু আয়ন চ্যানেলকে টার্গেট করতে পারে এমন ড্রাগ আবিষ্কার করা যা আশা করা হচ্ছে তার থেকেও জটিল। সেন্সরি চ্যানেলের এত বেশি টিস্যুর এক্সপ্রেসন আছে যে, ব্লকার খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন যার কোনো সাইড ইফেক্ট নেই। ক্যাথারিনা জিমার বলেন, আমাদের প্রয়োজন এমন একটি পেইন টার্গেট করা যা একেবারে ইউনিকলি এক্সপ্রেসড অথবা এমন কোনো ড্রাগ তৈরি করা যা স্পেসিফিক্যালি একটি নির্দিষ্ট টিস্যুকেই টার্গেট করবে। নোবেল বিজয়ীদের এই আবিষ্কার গবেষণার ভিন্ন একটি ক্ষেত্র খুলে দিয়েছে। এনার্জি ম্যাটাবলিজম, মাইগ্রেন এবং অটিজমের গবেষণায় এটি একটি মাইলফলক হতে পারে!
Related Reference– Hot—and cool—research wins Nobel Prize in Physiology or Medicine


