ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট
মূলপাতা বিজ্ঞান ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট

ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
93 বার পঠিত হয়েছে
প্রেমে পড়া বারণ
কারণে অকারণ
আঙুলে আঙুল রাখলেও হাত ধরা বারণ
প্রেমে পড়া বারণ
কারণে অকারণ
আঙুলে আঙুল রাখলেও হাত ধরা বারণ
প্রেমে পড়া বারণ
তোমায় যত গল্প বলার ছিলো
সব পাপড়ি হয়ে গাছের পাশে ছড়িয়ে রয়ে ছিলো
দাওনি তুমি আমায় সেসব কুড়িয়ে নেওয়ার কোনো কারণ
প্রেমে পড়া বারণ
কারণে অকারণ
ওই মায়া চোখে চোখ রাখলেও ফিরে তাকানো বারণ
প্রেমে পড়া বারণ
শূন্যে ভাসি, রাত্রি এখনও গুনি
তোমার আমার নৌকা বাওয়ার শব্দ এখনও শুনি
শূন্যে ভাসি, রাত্রি এখনও গুনি
তোমার আমার নৌকা বাওয়ার শব্দ এখনও শুনি
তাই মুখ লুকিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে বসন্তের এই স্মৃতিচারণ
প্রেমে পড়া বারণ
কারণে অকারণ
মনে পড়লেও আজকে তোমায় মনে করা বারণ
প্রেমে পড়া বারণ
প্রেমে পড়া বারণ
 
 
 
 
ভালোবাসার জন্য অনন্তকালের প্রয়োজন নেই, কয়েক মাইক্রোসেকেন্ডই যথেষ্ট! ডারউইনও তাই বিশ্বাস করতেন! তিনি বলেছিলেন, আপনি মুহূর্তেই কারো প্রতি সম্মোহিত হতে পারেন, প্রেমে পড়ার জন্য বিলিয়ন বছরের দরকার নেই। চোখের ফলকেই হয়তোবা ফেঁসে যেতে পারেন, থেমে যেতে পারে সময়!
 
 
 
২০১৭ সালে BAZAR একটি পোল গঠন করে, তারা দেখতে পায় ৬১ ভাগ নারী ও ৭২ ভাগ পুরুষ মনে করে – First Sight love Is Real! নিউরোসায়েন্টিস্ট ড. ত্রিশা স্ট্রাটফোর্ড বলেন, প্রেমে পড়া একদম সহয। HUFFPOST নামক একটি সংবাদ মাধ্যমে We talk to a neuroscientist about love at First sight নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। স্ট্রাটফোর্ড বলেন, আমরা যখন কারো প্রতি আকৃষ্ট হই, আমরা একপ্রকার গ্রেভিটেশনাল পুল অনুভব করি, নিউরোসায়েন্সে এটিকে বলা হয় অভিযোজক দোলক ( Adaptive Oscillator) । আপনি যখন কারো প্রেমে পড়বেন তখন মস্তিষ্কে কেমিক্যাল রিয়েকশন সংঘটিত হবে, আর এর ফলে আপনার মধ্যে উষ্ণ, ও অস্পষ্ট একটি অনুভূতি তৈরি হবে। আপনার মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরেটোনিন তৈরি হবে। আর এ কেমিক্যালগুলোর কারণে আপনি মুহূর্তেই যে কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠেন। আপনি যখন কারো চোখের দিকে তাকান, আপনার এডাপ্টিভ অসিলেটর যা প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের একটি অংশ, যেটি অর্বিটাল ফ্রন্টাল কমপ্লেক্স___ আপনি ও আপনার পার্টনাদের মধ্যকার মস্তিষ্কের এ অংশ Shutdown হয়ে যাবে আর এ থেকে জন্ম নেবে একটি লুপ (Loop)। আপনি প্রচন্ড ফিল করবেন, আপনার মধ্যে ভালোবাসার কঠিন উপলব্ধি তৈরি হবে।
 
 
 
 
 
দুটি মুখ এ লুপের কারণে একে অন্যের কাছে চলে আসবে, এবং ফ্রেস্টো, প্রথম কিস। আর তাই সর্বত্র কেমিক্যাল. ….
 
 
 
Woman in Beige Coat Standing on Concrete Brick Floor
 
 
 
 
এ ধরণের ম্যাগনেটিক এট্রাকশন ঘুমন্ত বেড়ালের মতো আকস্মিক জেগে উঠে। কিন্তু কেনো আমরা প্রথম দেখায় প্রমে পড়ে যাই? কেনো আমাদের মস্তিষ্কে এই লুপ তৈরি হয়, কেনো তার চোখের আয়তন এত আলোকবর্ষ? কেনো তার দৃষ্টির কাছে আমি অসহায়? বিবর্তনের কাছে কী এর কোনো ব্যাখ্যা আছে?
 
 
 
 
প্রাণীজগতে সেক্সের জন্য আলাদা আলাদা কিছু ঋতু আছে। কিছু প্রাণীদের প্রজনন সময় শীত, কারো বসস্ত অথবা কারো আবার বরষা। বসন্তে গাছে নতুন পাতা দেখা দেয়, আর তাই এ সময় ভেড়ার উচিত অবশ্যই প্রজনন করা। যেমন এ রকম একটি ঋতুতে যদি একটি কাঠবিড়ালি দীর্ঘ সময় অপচয় করতে থাকে তার সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার জন্য তবে নিশ্চয় সেটা বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সুবিধাজনক ছিলোনা। কিন্তু যদি আকস্মিক তার চোখে কৌতুহলি ও উদ্যমী চেহারার কোন পুরুষ ধরা পড়ে তবে অবশ্যই তার সে সুযোগটি নেয়া উচিত। নয়তো ঋতু শেষ হয়ে গেলে আর সন্তান জন্ম দেয়া তার জন্য সুবিধাজনক হতোনা।
 
 
 
 
আর জিন যেহেতু স্বার্থপর , জিনের জন্য এটা মোটেও উপযোগী কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। জিন চাইবেনা প্রজনন ঋতুতে একজন নারী সঙ্গী নির্বাচনে টাইম ডায়ালেশন তৈরি করুক। ঠিক এ কারণেই মানুষের মধ্যে প্রথম দেখায় প্রেমের পড়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়।
 
 

 

 

 

ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট

 
 
 
১৯৯৬ সালে হেলেন ফিশার গভীর ভালোবাসা ও উন্মাদ ভালোবাসার উপর একটি প্রকল্প হাতে নেন! তার এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিলো, কেনো আমরা প্রেমিকার জন্য উন্মাদ আচরণ করি তার সাথে সম্পৃক্ত ব্রেন সার্কিট আবিষ্কার করা। এ জন্য তিনি Functional MRI resonance অথবা FMRI এর মাধ্যমে মানুষের ব্রেন একটিভিটির ডেটা সংগ্রহ করেন। বিশেষ করে যখন তারা নিজেদের ভালোবাসার মানুষের ছবি দেখে এবং যখন এমন কারো ছবি দেখে যাদের প্রতি তাদের পজেটিভ ফিলিংস কাজ করেনা। পজেটিভ ও নেগেটিভ ছবিগুলো দেখার সময় তারা চিত্ত বিনোদনমূলক একটা কিছু করবে। এক্ষেত্রে স্ক্রিনে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা গণনা করতে বলা হয় ৬,১৩৭ এবং অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় সংখ্যাটি পেছনের দিক থেকে গণনা করার জন্য। তারা বড় সংখ্যা থেকে ছোট সংখ্যার দিকে যেতে থাকে। এটি করা হয় যেনো তাদের মস্তিষ্ক থেকে স্ট্রং ইমোশন ভেঙে দেয়া যায় যখন তাদের মস্তিষ্কে তাদের ভালোবাসার ছবি ও নিউট্রাল স্টিমিলাসের প্রভাব বিস্তার করে। এবং তিনি এ তিনটি পরিস্থিতির অধীনে ফলাফল গণনা করেন।
 
 
 
 
 
হেলেন ফিশার হাইপোথিসাইজ করেন, সর্বাগ্রে, আমার সন্দেহ ছিলো আমি অবশ্যই মস্তিষ্কের ডোপামিন নেটওয়ার্কে বিস্তৃত কার্যকারিতা খুঁজে পাবো, এটি একটি ন্যাচারাল স্টিমুল্যান্ট, কারণ এ ব্রেন সিস্টেম শক্তি, উচ্ছ্বাস, আকুলতা, মনোযোগ ও প্রেরণা উতপাদন করে।
 
 
 
আমরা অনেক সময় দেখি প্রেমে পড়ে একজন মানুষ সাইকো হয়ে যায়, তার মস্তিষ্কে ভালো- মন্দ কোনো বোধ কাজ করেনা। সে নির্লজ্জ ও নির্লিপ্ত হয়ে উঠে। কোনো যুক্তি, বুদ্ধি বা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কোনো আশঙ্কা তার মধ্যে কাজ করতে চায়না। এমনকি অনেক সময় প্রেম বয়স ও সামাজিকতাও অতিক্রম করে, ধর্মকেও ছাড়িয়ে যায়। প্রেমিকার জন্য সে সবকিছু করতে পারে, এমনকি মৃত্যুকেও হাসি মুখে মেনে নেয়। Center for Disease Control Statistics অনুসারে, ৪৪,১৯৩ জন আমেরিকান প্রতি বছর সুইসাইড করে, আর এ আত্মহত্যার পেছনে শুধুমাত্র ডিপ্রেসন ও একাকীত্ব নয়, রোমান্টিক ভালোবাসাও দায়ী। World Health organizations এর মতে বাংলাদেশে ২০১১ সালে ১৯, ৬৯৭ জন ব্যক্তি সুইসাইড করে মৃত্যু বরণ করেছে। ২০১০ সালে সোহারাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হসপিটাল একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন সেখানে দেখানো হয় ৬,৫০০,০০০ জন বাংলাদেশী আত্মহত্যার প্রবণতা লালন করে। NCBI জার্নালে বলা হয় প্রতি বছর বাংলাদেশের আত্মহত্যার হার এক লক্ষের মধ্যে ১২৮.০৮। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৭৩,৩৩৯ ব্যক্তি সুইসাইড করেছে তার মধ্যে ৩১,৮৫৭ জন গলায় দড়ি দিয়ে এবং ৪১,৫৩২ জন বিষ খেয়ে। Factor Responsible for Suicide in Bangladesh নামক একটি গবেষণাপত্রে Financial Express এ বলা হয়, অটোপসি স্টাডিতে দেখা গেছে বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মেন্টাল ডিস অর্ডারে সুইসাইড করে। এই সাইকোলজিক্যাল অটোপসি প্রকাশ হয় ১৬, ডিসেম্বর ২০২০ সালে। এ বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর মধ্যে কেউই জানেনা ভালোবাসার মানুষের জন্য ঠিক কতসংখ্যক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে! ভালোবাসায় উন্মাদ হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছে ৯০ ভাগ মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের মধ্যে তাদের জন্য আলাদা করে কোনো গবেষণা এ পর্যন্ত খুব একটা করা হয়নি- বলে আমার মনে হয়।
 
 
 
 
 
 
কিন্তু ভালোবাসা কেনো ব্লাইন্ডওয়্যাচমেকারের মতো? কেনো আমাদের মস্তিষ্কে এটি উন্মাদনা তৈরি করে? হেলেন ফিশার বলেন, উন্মাদনার পেছনে নিউরো- ট্রান্সমিটার নরপাইনফ্রাইন কাজ করে। এই নিউরো- ট্রান্সমিটার মূলত ফোকাস, মোটিভেশন এবং রোমান্টিক ভালোবাসার কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। রোমান্টিক ভালোবাসায় আক্রান্ত একজন প্রেমিক তার পেটের ভেতর প্রজাপতির কম্পন শুনে, হাঁটু কাঁপে ও মুখ শুকিয়ে যায়, সেরোটোনিন সিষ্টেমের নিন্মমাত্রিক একটিভিটি হস্তক্ষেপমূলক, এবং এটি আপনার মধ্যে রোমান্টিক চিন্তার আবেশ তৈরি করতে পারে।
 
 
 
 
 
হেলেন ফিশার মনে করছিলেন, আরো কিছু নিউরোকেমিক্যাল সিস্টেম রোমান্টিক ভালোবাসার সাথে সম্পৃক্ত থাকবে যা আপনার মধ্যে তৈরি করবে আবেগ, অনুপ্রেরণা, উতসাহ, জ্ঞান এবং সে সকল আচরণ যা রোমান্টিক ভালোবাসার সাথে সম্পৃক্ত। নিউরোসায়েন্টিস্ট লুসি ব্রাউন ও সাইকোলোজিস্ট আর্ট এরন অন্যান্যরা ৭০ জন নতুন প্রেমিক প্রেমিকাকে ব্রেন স্ক্যানারের কাছে রাখেন, দশজন নারী ও সাতজন পুরুষ আজ প্রায় ৭.৪ মাস প্রেমে অন্ধ ও উন্মাদ হয়ে আছেন।
 
 
 
 
এ এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল দেখে, হেলেন ফিশার খুবই বিস্মিত হন। তিনি বলেন, আমি আলবার্ট আইনস্টাইন ল্যাবের একটি অন্ধকার  কোনে দাঁড়িয়েছিলাম, আমার ইচ্ছে করেছিলো আকাশে ঝাপ দেই, আমার চোখের সামনেই আমি ভেন্ট্রাল ট্যাগমেন্টাল এরিয়ার একটিভিটি দেখতে পাই অথবা VTA, বেস ব্রেনের কাছাকাছি একটি ক্ষুদ্র ফ্যাক্টরি যা ডোপামিন তৈরি করে আর এখান থেকে মস্তিষ্কের অন্যান্য এলাকায় ন্যাচারাল স্টিমুলেশন সেন্ড হয়।
 
Our Brains in Love | NeuroGrow Brain Fitness Center
 
 
VTA ছাড়াও তারা মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের একটিভিটি দেখতে পায়। কিন্তু VTA ছিলো ব্রেন রিওয়ার্ড সিস্টেম, এটি হলো ব্রেন নেটওয়ার্ক, যা তৈরি করে, প্রত্যাশা, অনুসন্ধানী মন, তৃষ্ণা, ফোকাস এবং প্রেরণা। এজন্য এটা কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয় যে কেনো প্রেমিকরা সারারাত জেগে থাকে? আর এটাও বিস্ময়ের নয় তারা কেনো Absent Minded হয়, কেনো এত কৌতুকপূর্ণ, আশাবাদী, সঙ্গলিপ্সু হয়। কেনো তারা পথ হারিয়ে ফেলে! কেনো তাদের কাছে এমন একটি বিভ্রম তৈরি হয় যে আমিই বুঝি, এ মহাবিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত।
 
 
 

 

ভালোবাসার পথে ড্রাইভিং করি…. একটি প্রাকৃতিক এডিকশন

 
 
 
মূলত, VTA মস্তিষ্কের একটি প্রাইমেটিভ এলাকার সাথে সম্পৃক্ত যেটি তৃষ্ণা ও ক্ষুদার সাথে সম্পৃক্ত, আর রোমান্টিক ভালোবাসা হলো বেসিক হিউম্যান ড্রাইভের সাথে সম্পৃক্ত। হেলেন ফিশার তার একজন পার্টনারের ব্রেন স্ক্যান করেন, আর এতে করে তিনি এক নতুন দৃষ্টি লাভ করেন, তিনি বলেন, Romantic Love is a Survival Mechanism as Crucial as the Craving for Water.
 
 
 
 
এই ড্রাইভে, এই টিকে থাকার প্রকৌশলের ভেতর, এডিকশন আছে। তিনি বলেন, আমরা ডেটা এনালায়সিস করার পর দেখলাম নিউক্লিয়াস একুম্বেন্স এর একটিভিটি, এটি মস্তিষ্কের Reward System এর একটি অংশ, যেটি ডোপামিন দ্বারা জ্বলে, যেটি সকল নেশা বা এডিকশনের সাথে জড়িত___ হিরোয়িন, কোকেইন, এলকোহল, এম্পিটামিনস, গ্যাম্বলিং, সেক্স ও ফুডের মতো। তাছাড়া আমরা একা নই যারা রোমান্টিক ভালোবাসার ক্যামিস্ট্রি উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি। এবং বৃক্ষহীন তৃণভূমির নেড়ি ইঁদুর যখন তার সঙ্গীর প্রতি আকৃষ্ট হয় তার মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের একটিভিটি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এমনকি নারী মেষরা যখন তাদের সঙ্গী পুরুষ খুঁজে পায় তখনও তাদের ব্রেনের ডোপামিন বৃদ্ধি পায়। আর তাই আকর্ষণ এর নিউরাল ম্যাকানিজম ডেভেলাপ হয়েছে পাখি ও স্তন্যপায়ীদের মধ্যে, যা তাদেরকে স্পেসিফিক মেটিং পার্টনার খুঁজে পেতে সক্ষম করে তোলে, আর এভাবেই কোর্টশিপে তাদের মূল্যবান সময় ও শক্তি বেঁচে যায়। অনেক প্রজাতির মধ্যেই এই আকর্ষণ সংক্ষিপ্ত, শুধুমাত্র এক মিনিট লাস্টিং করে, দিন অথবা সপ্তাহ। আর মানুষের ক্ষেত্রে এই রোমান্টিক ভালোবাসার স্থায়িত্ব আরো অধিক সময় পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।।
 
 
 
 

ভালোবাসার অন্ধত্ব

 
 
প্রেম অন্ধ! প্রেম কিছুই দেখেনা! প্রেমের কাছে মহাবিশ্ব একটা পরমাণুও না। প্রেমিক সমস্ত মহাবিশ্বকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে পারে। প্রেম নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা হয়ে মহাকাশকে ছেদ করে চলে যেতে পারে অন্য কোনো মহাবিশ্বে।
 
 
 
অভিজ্ঞতার বিভিন্ন বৈচিত্রতা আছে। মৌলিক একটিভিটি ডোপামিন( এছাড়া রয়েছে নোরপাইনফ্রাইন এবং সেরোটোনিন)। এটি ব্যক্তির বিভিন্নতায় তারতম্য তৈরি করে। সম্ভাব্যভাবে একজন ব্যক্তির প্রেমে পড়ার প্রবণতাকে বিকৃত করে। কিন্তু অন্যান্য ব্রেন সিস্টেম রোম্যান্সকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ, যারা রোম্যান্টিক ভালোবাসার উপলব্ধি অনুভব করতে পারেনা তারা হাইপোপিটিউইটারিজম (Hypopituitarism)নামক একটি রোগে ভোগে, এটি একটি দূর্লভ রোগ। বিশেষত এটি পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের হর্মোন স্যাক্রেসন কমিয়ে দেয়, যা আপনার মধ্যে ডুয়ার্ফিজম তৈরি করবে এবং আপনি অল্প বয়সেই বৃদ্ধ হয়ে যেতে পারেন, এর ফলে হর্মোনাল প্রবলেম ও লাভ ব্লাইন্ডনেস তৈরি হতে পারে। নারী ও পুরুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে, সঙ্গী তৈরি করার জন্য কেউ বিয়েও করবে। এছাড়া সিজোফ্রেনিয়া, পারকিনসন ডিজিজ অথবা অন্যকোনো এইলমেন্ট ডোপামিন সিস্টেমকে অল্টার করে দিতে পারে। হেলেন ফিশার বলেন, কিছু সেরোটোনিনের ওভার প্রোডাকসন, এন্টিডিপ্রেসেন্ট উন্নত করতে পারে, যেমন- Prozac and Zoloft, এবং এ নতুন সেরোটোনিন সিস্টেম ডোপামিনের নিউরাল পথকে অবরোধ করতে পারে, যা ইমোশনকে স্যাঁতস্যাঁতে করে দেয়, এবং সম্ভবত রোম্যান্টিক অনুভূতি হত্যা করে।
 
 
 
 
 
আপনার অভিজ্ঞতাও রোম্যান্সে প্রভাব বিস্তার করে। আপনি শিশুকালে কিছু স্মেলকে পছন্দ করেছেন ও কিছু স্মেলকে অপছন্দ করেছেন। আপনি কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক কৌতুকে রেসপন্স করতে শিখেছেন। আপনি আপনার ঘরের শান্তি ও হিস্টেরিয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এবং আপনি আপনার অভিজ্ঞতা থেকে একটি লাভ ম্যাপ তৈরি করা শুরু করলেন। তারুণ্যে আপনি মিলিটারিতে যোগ দিলেন, কলেজে গেলেন, এবং অন্যত্র স্থানান্তরিত হলেন। হতে পারে আরো অনেক সাংস্কৃতিক ব্যাপার দায়ী ছিলো, এ ব্যাপারটির সাথে আপনি কাকে ভালোবাসবেন, কখন ও কোথায়?
 
 
যখনই আপনি কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে পেয়ে যাবেন তখনই আপনার ডোপামিন এবং অন্যান্য ন্যাচারাল নিউরোট্রান্সমিটার আপনাকে পরিচালিত করবে ঠিক কিভাবে আপনি ভালোবাসা অনুভব করবেন। স্বভাবতই, সংস্কৃতি ও জীববিজ্ঞান হাতে হাত রেখে সামনের দিকে পথ চলে।
 
 
 
 
ভালোবাসার গান, ভালোবাসার কবিতা, ভালোবাসার যাদু, রহস্য ও কিংবদন্তি ; আমাদের উপন্যাস, আর্টিকেল, ব্লগ, টিভি, প্রোগ্রাম এবং সেল্ফ হেল্প বুক অথবা ব্যালট ; প্যালেস ও টেম্পলের জগত ভালোবাসার মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এবং মিষ্টি সচিত্র মেসেজ, যা ইমোজি ও ইমোটিকোন এর সাথে প্রোথিত, সকল কিছু আমাদের কপালের সম্মুখভাগে ক্রমাগত প্রতীয়মান হয়েছে, যা আমাদের বড় সেরিব্রাল কর্টেক্সের বিবর্তন ঘটিয়েছে, মস্তিষ্কের বহিরাবরণ যেটা দিয়ে আমরা চিন্তা করি। রোমান্টিক ভালোবাসার বেসিক ম্যাকানিজম, আমাদের মনের গভীর বেসমেন্টে প্রোথিত, আদিম মস্তিষ্কের এরিয়া যা আমাদের চাওয়া, অনুসন্ধান ও অনুপ্রেরণার সাথে সম্পৃক্ত।
 

 

 

 

ভালোবাসার ট্রাজেক্টরি

 
 
 
প্রেম যে বোবা, প্রেম যে কালা
তাই প্রেমে এত জ্বালা
এই জ্বালায় পরান জ্বলেরে
হিয়া জ্বলে প্রিয়ার দরদে…
 
 
 
এমারসন বিশ্বাস করতেন, প্রেম একটি কঠিন সাধনা। একটি বিন্দুতে উচ্ছ্বাস ও আবেগ হ্রাস পায়। কিশোরদের জন্য একটি ক্রাশ এক সপ্তাহ স্থায়ী থাকে। প্রেমিকরা যখন মাঝখানে সমূদ্র বা ওয়েডিং রিং সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতার কারণে একজন অন্যজন থেকে দূরে থাকে, তাদের কাছে সে সময়টাকে অত্যন্ত ব্যথাদায়ক ভবে কয়েক বছর মনে হতে পারে । এ ধরণের তীব্র কন্ডিশনের দৈর্ঘ্য সম্পর্কে আমাদের কাছে কিছু ডেটা রয়েছে। টেনভ মোহ সৃষ্টির মুহূর্ত থেকে রোমান্টিক প্রেমের সময়কাল পরিমাপ করেছিলেন, যখন কারো প্রেমের অবজেক্টের জন্য, নিরপেক্ষতার অনুভূতি শুরু হয়। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি যে বিরতি কাজ করে তা ১৮ মাস থেকে তিন বছর।
 
 
 
 
কিন্তু এ ডেটার মধ্যে বৈচিত্র্যতা আছে। একটি স্টাডি বলছে, রক্তের সেরোটোনিনের একটিভিটি থেকে জানা যায় এ ধরণের ইনটোক্সিক্যাশন ১২ থেকে ১৮ মাস স্থির থাকে। ২০১২ সালে Match.com এর একটি সার্ভেতে দেখা যায়, ৫০০০ পুরুষ ও মহিলার মধ্যে বয়স, ব্যাকগ্রাউন্ড ও সেকচুয়াল পছন্দ নির্বিশেষে ২৯ শতাংশ বলছে এ ধরণের অনুভূতি দুই থেকে পাঁচ বছর স্থিতিশীল থাকে। আবার কেউ কেউ বলছে, তারা উন্মাদ ভালোবাসায় প্রায় দশ বছর পর্যন্তই অন্ধ থাকে। কিন্তু কিভাবে এই উচ্ছ্বাস ও সম্মোহন হ্রাস পায় সেটা কেউই জানেনা।
 
 
 
 
 

কিন্তু হেলেন ফিশার মনে করেন, এ ধরণের ন্যাচরাল স্টিমুলেসনে ডোপামিন নার্ভের পথগুলো অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং ডোপামিনের ডিস্ট্রিবিউশন ও সম্পৃক্ত নিউরোকেমিক্যাল হ্রাস পায়। মাইকেল লাইবোউটিজ বলেন, আপনি যদি এমন একটি পরিস্থিতি চান যেখানে আপনি ও আপনার সঙ্গী দীর্ঘস্থায়ী ভাবে একে অন্যের প্রতি উত্তেজিত হবে, তবে আপনাকে এর উপর কাজ করতে হবে, কারণ কিছু বিশেষ উপায়ে আপনি এই জৈবিক জোয়ার অর্জন করেছেন।

 
 
 
এটাও আসলে সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। আমরা এমন প্রেমিক প্রেমিকাও দেখেছি যারা বিয়ের বহু বছর পরও একে অপরকে পূর্বের মতোই ভালোবেসে যাচ্ছে। মানুষের এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। তবে সাইকোলজিস্ট বিয়ানকা আচেভেদার আরো একটি পরীক্ষা করেছিলেন, FMRI স্ক্যানারে তিনি ২১ বছরের দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনে সম্পৃক্ত দশজন নারী ও ৭ জন পুরুষের ব্রেনকে এক্সপেরিমেন্ট করেন, তাদের বাচ্ছাও ছিলো এবং তারা সবাই বলেছিলেন যে, তারা এখনো তাদের সঙ্গীকে ভালোবাসেন।
 
 
 
 
এই ফলাফল ছিলো অভাবনীয়; VTA এবং অন্যান্য ব্যাসিক ব্রেন এলাকা, যা প্রাচীন রোম্যান্টিক ভালোবাসার স্টেজের সাথে সম্পৃক্ত, এটি লং টার্ম লাভারদের মধ্যে সম্পূর্ণ একটিভ থাকে ঠিক যেমনি ভাবে নতুন প্রেমিক ও প্রেমিকাদের মস্তিষ্কে রোম্যান্টিকতার শুরুতে ভালোবাসার তীব্র অনুভূতি কাজ করে। শুধু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া, যারা নতুন প্রেমে পড়ে তাদের ব্রেনে উত্তেজনার সাথে সম্পৃক্ত একটি একটিভিটি কাজ করে আর অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী প্রেমিকদের মস্তিষ্ক শান্তি ও ব্যাথা অবদমনের সাথে সম্পৃক্ত নতুন ব্রেন একটিভিটি প্রদর্শন করে। আসিভেদো ও তার সহকারীরা বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদি প্রেমিক প্রেমিকাদের তীব্রতা, মনোযোগ এবং রোম্যান্টিক ভালোবাসার সেকচুয়াল ড্রাইভ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলতে থাকে। কিন্তু মোহ, মাতাল উচ্ছ্বাস হ্রাস পায়।
 
 
 
 
ভালোবাসা হলো জ্বরের মতো! জ্বর যেমন আমাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে আসে বা যায়না ঠিক তেমনি ভালোবাসাও। এটি হলো প্রথম স্তরের তীব্র রোমান্টিক আবেগ, প্রেমের জোয়ার ও ভাটা। মানুষের মোহের স্পন্দন, অন্যান্য কোর্টিং জেস্টারের মতো, আমাদের প্রাকৃতিক স্কিমের একটি অংশ হতে পারে। এটি আমাদের মস্তিষ্কের Software, এটি মানব সভ্যতার সম্পর্কের একটি প্রাচীন ধরণ ( Ancient Pattern)।
 
 
 
 
 

ভালোবাসার ব্রেন সার্কিটভালোবাসার ব্রেন সার্কিটভালোভালোবাসার ব্রেন সার্কিটবাসার ব্রেন সার্কিটভালোবাসার ব্রেন সার্কিটভালোবাসার ব্রেন সার্কিট ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট ভালোবাসার ব্রেন সার্কিট

ভালোবাসার ব্রেন সার্কিটভালোবাসার ব্রেন সার্কিটভালোবাসার ব্রেন সার্কিট
 
 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!