মস্তিষ্কের MRI

MRI প্রযুক্তি

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
187 বার পঠিত হয়েছে

MRI প্রযুক্তি

পার্ট-২

আমরা এখন জানবো MRI Machine  (MRI প্রযুক্তি) আমাদের মস্তিষ্কে কাজ করে এবং তারপর আমরা এম আর প্রযুক্তি ব্যাবহার করেই বুঝতে পারবো কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে মিথ্যা ইনফরমেশন সনাক্ত করা যায়, আমরা জানবো ট্যাকনোলজিক্যাল টেলিপ্যাথি এবং ট্যলিকেনেসিস সম্পর্কে।আমরা ক্রমান্বয়ে মানব মস্তিষ্কের প্রায় প্রত্যেকটি অংশের একটি নিউরাল ম্যাপিং আপনাদের জন্যে ধাপে ধাপে উপস্থাপন করবো।যাইহোক, আমরা জানি, রেডিও তরঙ্গ হলো একপ্রকার ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ যেগুলি আমাদের মস্তিষ্কের টিস্যু থেকে কোনোপ্রকার ডেমেজ ব্যাতীত নির্ঘত হয়।এম আর আই মেশিন ঠিক এ সুবিধাটিই গ্রহণ করে এটি আপনার মস্তিষ্কের ম্যাগনেটিক পালসকে স্বাধীনভাবে নির্ঘত হওয়ার সূযোগ করে দেয়।এ প্রদ্ধতিতে মেশিন আপনার মস্তিষ্কের একটি ফটোগ্রাফ তৈরি করে যা সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য। এম আর আই মেশিন আপনার আভ্যন্তরিন ইমোশন এবং সেনসেশনকে পড়তে পারে।এম আর আর আই মেশিনের নৃত্তরত আলোক তরঙ্গের মাধ্যমে যে কেউ আপনার মস্তিষ্কের চিন্তার প্রবাহকে ট্রেস করতে পারবে।(MRI প্রযুক্তি)

এম আর আই মেশিনের মধ্যে আপনি সর্বপ্রথম যেটা দেখবেন সেটি হলো সিলেন্ড্রিক্যাল ম্যাগনেটিক কয়েল যা পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড থেকেও ২০ থেলে ৬০ হাজার গুণ শক্তিশালী ফিল্ড তৈরি করতে পারে।এ জন্যে একটি এম আর আই মেশিন কয়েক টন ওজন হয়ে থাকে যা সম্পূর্ণ কক্ষকে অধিকার করে ফেলে, এবং কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয় একটি এম আর আই মেশিনের জন্যে।

 

 

একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে এম আর আই মেশিন এক্স-রে থেকে উত্তম কেননা এটি মস্তিষ্কের ভেতর কোন ক্ষতিকর আয়ন তৈরি করেনা।সিটি স্ক্যান মস্তিষ্কের থ্রিডি পিকচার তৈরি করতে পারে।আমরা সিটি স্ক্যানের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে বিস্তারিত জানবো।প্রথম পোস্টটি পড়ুন, মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

কার্যপ্রণালী( MRI প্রযুক্তি)-

প্রথমে একজন পেশেন্ট সোজা হয়ে শুয়ে থাকবে।তারপর তাকে একটি সিলিন্ডারের ভেতর রাখা হবে যার মধ্যে রয়েছে দুটি বিশাল কয়েল, এ কয়েলগুলি ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করবে।যখন ম্যাগনেটিক ফিল্ডকে অন করা হবে তখন আপনার মস্তিষ্কের এটমের ভেতরের নিউক্লি কম্পাসের কাটার মতো আচরণ করবে তারপর হরিজন্টালি ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ডিরেকশনের সাথে এলাইন হয়ে যাবে।এটি একটি রেডিও তরঙ্গ তৈরি করবে যার কারণে আপনার এটমের নিউক্লি উপর থেকে নিচে Flip করবে।যখন নিউক্লি আবার তার স্বাভাবিক পজিশনে আসবে ঠিক তখন আরো একটি রেডিও তরঙ্গ নির্ঘত হবে।তারপর এম আর আই মেশিন এই রেডিও তরঙ্গ এনালাইসিস করবে।এই রেডিও তরঙ্গের প্রতিধ্বনি এনালাইসিস করে এম আর আই মেশিন সেই এটমটির লোকেশন ও ন্যাচার রিড করতে পারবে।ঠিক যেমন বাদুর ইকোর মাধ্যমে থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেসের কোনো একটি বস্তুর পজিশন ডিটারমাইন করতে পারে!একটি এম আর আই মেশিন তৈরি করতে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয় যার ওজন কয়েক টন অথচ অতি-ক্ষুদ্র বাদুরের মস্তিষ্ক প্রাকৃতিকভাবেই এম আর প্রযুক্তিতে কাজ করে যেটা প্রাকৃতিক বিবর্তনের এক বিষ্ময়কর সৃষ্টি রিচার্ড ডকিন্স তার The Blind Watchmaker গ্রন্থে শুধুমাত্র বাদুড়ের মস্তিষ্কের ম্যাকানিজম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সম্পূর্ণ একটি অধ্যায় অপচয় করেছেন।

 

 

যাইহোক ব্রেন থেকে যে রেডিও তরঙ্গের প্রতিধ্বনি নির্ঘত হয় সে প্রতিধ্বনিকে ব্যাবহার করে বিজ্ঞানীরা মানুষের মস্তিষ্কের ইমেজ re-construct করতে পারে।কম্পিউটার মস্তিষ্কের এটমগুলিকে রি-কনস্ট্রাক্ট করে এবং মস্তিষ্কের একটি থ্রি-ডায়মেনশনাল ইমেজ তৈরি করে!মিচিও কাকু তার The Future of the Mind গ্রন্থে (MRI প্রযুক্তি) ব্যাখ্যা করেছিলেন কিভাবে এম আর আই এর আপডেট ভার্সন ব্যাবহার করে মস্তিষ্কের থট,ইমাজিনেশন রিড করা যায়, এমনকি মস্তিষ্কের ভিডিও ফুটেজও তৈরি করা সম্ভব,বিশেষ করে স্বপ্নের যা আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে আলোচনা করবো।

 

যাইহোক ১৯৯০ সালে এম আর আই প্রযুক্তির একটি আপডেড ভার্সন আবিষ্কৃত হয় যাকে বলা হয় FMRI বা ফাংশনাল এম আর আই যে পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের মাঝে অক্সিজেনের উপস্থিতি পর্যন্ত সনাক্ত করা সম্ভব হয়।এম আর আই স্ক্যান সরাসরি মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রিসিটি ডিটেক্ট করতে পারেনা, কিন্তু যেহেতু ব্রেন নিউরনের এনার্জির জন্যে অক্সিজেন প্রয়োজন, অক্সিজেনেটেড ব্লাড নিউরনের ভেতরের ইলেক্ট্রিক্যাল এনার্জির প্রবাহকে ট্রেস করতে পারে এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যকার ইন্টারেকশনকে প্রদর্শন করে।।।

 

ইতমধ্যে এম আর আই মেশিন প্রমাণ করে দিয়েছে যে চিন্তা নির্দিষ্ট কোনো পয়েন্টে সংঘটিত হয়না।তার পরিবর্তে দেখা যায় যে আপনি যখন চিন্তা করেন তখন আপনার মস্তিষ্কের সর্বত্র ইলেক্ট্রিক্যাল কারেন্ট

প্রবাহিত হয়।এম আর আই মেশিন পারকিনসন,আলজেইমার,সিজোফ্রেনিয়া এবং অন্যান্য মানসিক রোগের যথাযথ কারণ খুজে পেতে আমাদেরকে বর্তমানে ব্যাপক সাহায্য করছে।

 

এম আর আই মেশিন এক মিলিমিটারের ভগ্নাংশের মধ্যেই মস্তিষ্কের যেকোনো লোকেশন খুজে বের করতে পারে।এটি শুধুমাত্র দ্বিমাত্রিক স্কিনের ডট তৈরি করেনা যাকে বলা হয় পিক্সেল বরং এটি থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেসের ডট তৈরি করে যাকে বলা হয় Voxel।থ্রিডির মধ্যে দশ হাজারের মতো কালার ডটের কালেকশনের মাধ্যমে যেটি মস্তিষ্কের কাঠামোর মতোই…!

আমরা জানি যে আমাদের মস্তিষ্কের এক একটি উপাদান আলাদা আলাদা ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও তরঙ্গ দ্বারা রেসপন্স করে, আপনি রেডিও পালসের ফ্রিকোয়েন্সী পরিবর্তন করে দিয়ে এ প্রকৃয়ায় ভিন্ন ভিন্ন উপাদান সনাক্ত করতে পারবেন।এছাড়াও রয়েছে Diffusion Tensor Imagining MRIএটি আমাদের মস্তিষ্কের পানির প্রবাহকে পড়তে পারে।DTI আমাদের মস্তিষ্কের খুব দারুণ একটি নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞানীরা এখন খুব সহযেই DTI প্রযুক্তিতে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সম্পর্ক নির্ধারণ করতে পারেন।আমরা পরবর্তী পর্বে দেখাবো কিভাবে এম আর আই প্রযুক্তি লাই ডিটেক্টর মেশিন তৈরিতে প্রয়োগ করা হয়!মিথ্যা বলার সাথে মস্তিষ্কের কোন অংশ জড়িত?কেনো আমাদের জিনের মধ্যে সত্যের পাশাপাশি মিথ্যাকে সংরক্ষণ করা হয়েছে?

 

তথ্যসুত্রঃ

1. NHS

2. Youtube

3.Future of the mind.

4.Amazon

 

আরও পড়ুন

1 মন্তব্য

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!
%d bloggers like this: