সাম্প্রতিক বিজ্ঞানীরা ল্যাবে এমন কিছু ক্ষুদ্র ব্রেন তৈরি করেছেন যাদের নিজস্ব চোখ আছে। প্রশ্ন হলো, এ চোখ বিশিষ্ট ছোট ছোট ব্রেনগুলো কি কোনো একদিন টেলিস্কোপের ভেতর দিয়ে মহাকাশের নক্ষত্র দেখবে? এরা কি কোনো এক সময় মহাবিশ্ব নিয়ে গবেষণা করতে পারবে? আপাতত আমাদের এ ধরণের ঝল্পনা কল্পনাকে এক পাশে রাখা যাক। । মূলত, এ ধরণের মিনি অর্গানকে বলা হয় অর্গানয়েড যেগুলো বিজ্ঞানীরা স্টেমসেল থেকে ল্যাবে জন্ম দিতে পারেন। এর পূর্বে বিজ্ঞানীরা নিঃশ্বাস নিতে সক্ষম এমন অতি-ক্ষুদ্র হৃদপিণ্ড তৈরি করেছিলেন। এমনকি তারা টিয়ার নালী তৈরি করেছিলেন যা মানুষের মতো কান্না করতে পারে। বিজ্ঞানীরা কিছু মিনিব্রেন তৈরি করেছিলেন যেগুলোর ভেতর ব্রেন ওয়েভও পাওয়া গিয়েছিলো যা থেকে অনুমান করা যায় যে, এই ছোট ছোট ব্রেনগুলো নবাগত শিশুর মত চিন্তার প্যাটার্ন প্রদর্শন করতে পারে। প্রাসঙ্গিক লেখাঃ ল্যাবে জন্ম নেয়া ব্রেন
এখন, বিজ্ঞানীরা এমন ছোট ব্রেন গড়েছেন যা তাদের প্রকৃত সমকক্ষদের নেই। তারা চোখের মতো দেখতে একটি সেট তৈরি করেন যাকে অপটিক কাপ বলে আর এখানে জন্মগ্রহণ করে রেটিনা। এ টিস্যু চোখের পেছনে বসে থাকে এবং এখানে রয়েছে আলোক সংবেদনশীল কোষ। মানুষের শরীরে, রেটিনা মস্তিষ্কে সিগানাল প্রেরণ করে যার মাধ্যমে আমরা ইমেজ দেখতে পাই। অতীতে গবেষকরা স্বতন্ত্রভাবে অনেক অপটিক নার্ভ জন্ম দিয়েছিলেন কিন্ত এটি হলো মস্তিষ্কের সাথে অখণ্ড প্রথম অপটিক গবেষণা। গবেষকদের একটি দল, এমন এক পদ্ধতি উন্নত করেন যার মাধ্যমে স্টেম সেলকে নিউরাল টিস্যুতে পরিণত করা যায় চোখ সম্পর্ন মিনি ব্রেন তৈরি করার উদ্দেশ্যে। একবার যখন স্টেমসেল মিনি ব্রেন উন্নত করে, অর্গানয়েড অপটিক কাপ গঠন করতে পারে। প্রথম ত্রিশদিনের মধ্যেই অপটিক কাপ দেখা যায় এবং সেগুলো পরিপক্ক হয় ৫০ দিনে। এ সময়সীমা মানব ভ্রূণের চোখের উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত টাইমফ্রেমের সমরূপ।
এ পর্যন্ত, বিজ্ঞানীরা সর্বমোট ৩১৪ টি মিনিব্রেন তৈরি করেছিলেন এবং এগুলোর ৭২% থেকে অপটিক কাপ তৈরি হয়েছিল। অর্গানয়েডগুলির মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের রেটিনাল সেল ছিল যা সক্রিয় নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে যেগুলো আলোকে সাড়া দিতে পারে। অর্গানয়েড থেকে লেন্স ও কর্নেল টিস্যুও তৈরি হয়। গবেষক Gopalakrishnan বলেন, আমরা আমাদের কাজের মাধ্যমে যে জিনিসটি হাইলাইট করেছি তা হলো এ অর্গানয়েডগুলো আদিম সেন্সরি স্ট্রাকচার তৈরি করতে পারে যা আলোর প্রতি সংবেদনশীল এবং হার্বর সেল যেটাকে তুলনা করা যেতে পারে আমাদের শরীরের সাথে।
প্রশ্ন আসতে পারে, কেনো বিজ্ঞানীরা এ ধরণের মিনিব্রেনগুলো জন্ম দিচ্ছেন? এ মিনিব্রেনগুলো কি তাদের চোখ দিয়ে মহাকাশের নক্ষত্র দেখবে? তারা কি গ্রেন্ড ইউনিফায়েড তত্ব নিয়ে কাজ করবে? এ ব্রেনগুলোকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে টেলিপেথিক্যালি কানেক্ট করে কি একটি ইন্টিগ্রেটেড ব্রেন সার্কিট তৈরি করা হবে? তারা কি গ্লোবাল ব্রেন হয়ে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষার জন্য শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের মত কোনো সিমুলেশন তৈরি করবে অথবা মহাবিশ্ব থেকে বের হওয়ার রাস্তা! এ ছোট ছোট চোখ বিশিষ্ট ব্রেনগুলো আসলে কেনো তৈরি করা হচ্ছে?
উত্তরঃ না! আপাতত এ ধরণের কোনো উদ্দেশ্যই বিজ্ঞানীদের নেই। এ অর্গানয়েডগুলো বিজ্ঞানীদেরকে মানব মস্তিষ্ক সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করবে এবং ব্রেনের সাথে সম্পৃক্ত রোগগুলো সম্পর্কেও। বিজ্ঞানীরা চোখ বিশিষ্ট ব্রেন তৈরি করছেন একটি মানব ভ্রুণের ব্রেন ও চোখের ভেতরকার ইন্টারেকশন বোঝার জন্য। যা আমাদের রেটিনাল ডিজঅর্ডারের ম্যাকানিজম বুঝতে সাহায্য করবে।
- Lab-made mini brains grow their own sets of ‘eyes’, Live Science
- Tiny human brain grown in lab has eye-like structures that ‘see’ light, New Scientist
- Human brain organoids assemble functionally integrated bilateral optic vesicles, cell journal
ল্যাবে জন্ম নেয়া চোখবিশিষ্ট মিনিব্রেন / ল্যাবে জন্ম নেয়া চোখবিশিষ্ট মিনিব্রেন


