মৌমাছিরা তাদের মৌচাক প্যারাসাইট থেকে রক্ষা করার জন্য সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে ঠিক যেমনি আমরা Covid-19 প্রতিরোধ করার জন্য সোশ্যাল ডিস্টেন্স পালন করি। মৌমাছির উপর পরিচালিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন।
আমরা জানি মৌমাছি সামাজিক একটি প্রাণী। আমাদের ব্রেনের নিউরনগুলো যেমন আলাদাভাবে কোন বুদ্ধি ধারণ করেনা ঠিক তেমনি মৌমাছিও একটি নিউরাল নেটওয়ার্ক-এর মতো। কিন্তু প্যারাসাইট থেকে বাঁচার জন্য তারাও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে। বিশেষ কর কলোনির ভেতরের দিকে একজন তরুণ অন্য আর একজন তরুণ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে এবং সে সকল বৃদ্ধদের কাছ থেকে যারা বাহিরের দিকে বাস করে।
Dr Alessandro Cini বলেন মৌমাছি সামাজিক প্রাণী, তারা তাদের দায়িত্ব একে অন্যের সাথে ভাগ করে নেয় এবং মিউচুয়াল গ্রুমিং- এর মতো ইন্টারেক্ট করে কিন্তু এ ধরণের সোশ্যাল তৎপরতা ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় আর এ জন্য মৌমাছিদের মধ্যে একটি বিবর্তন ঘটেছে যা এ ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য প্রদান করতে পারে এবং সামাজিক দূরত্বের সাথে এডাপ্ট হওয়ার মাধ্যমে লাভবান হয়।
কলোনিতে ভ্যারোয়া মাইট নামক একটি প্যারাসাইটের উপস্থিতিতে, একটি মৌচাক তার ভেতর ও বাহিরের কুঠরি থেকে সরে যেতে থাকে __এটি এমন এক পরিবর্তন যা সংক্রমণের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ভ্যারোয়া মাইট ভ্যারোয়া ডেস্ট্রাক্টর নামেও পরিচিত। ভেরোয়া মাইট হলো একটি ভ্যাক্টর যা কলোনিতে নূন্যতম ৫ টি ভাইরাস ছেড়ে দেয়, এটি এমন একটি ফ্যাক্টর যা সম্পূর্ণ কলোনিটি বৈশ্বিকভাবে শেষ করে দেয়। UCL গবেষকদের ইন্টারন্যাশনাল একটি টিম সংক্রমিত ও সংক্রমণ মুক্ত কলোনিগুলো কম্পেয়ার করার পর Journal of Advance Science এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। তারা লক্ষ্য করেন মৌচাকের কেন্দ্রীয় অংশে মৌমাছিদের নৃত্ত সহসা কীভাবে পরিবর্তন হয়ে যায় যদি মাইট সংক্রমিত হয়।
এই দল আরো আবিষ্কার করেন , গ্রুমিং বিহেভিয়ার অনেকবেশি পুঞ্জিভূত হয়ে যায় মৌচাকের কেন্দ্রীয় অংশে, যার মানে হলো তরুণী নার্স আর গ্রুমাররা কেন্দ্রের দিকে পরিচালিত হয় সংক্রমণের জবাব দেয়ার জন্য যেখানে বৃদ্ধ অনুসন্ধানকারীরা বাহিরের দিকে চলে যায় সামাজিক দূরত্ব বাড়ানোর জন্য৷। ইউনিভার্সিটি অব সাসারির প্রধান গবেষক ডাঃ মিশেলিনা পুসেডু বলেন, একই পরজীবী আক্রান্ত কলোনির ভেতর সামাজিক দূরত্বের পর্যবেক্ষিত বৃদ্ধি একটি নতুন ও বিস্ময়কর দিক উপস্থাপন করে কিভাবে মৌমাছিরা লড়াই করার জন্য বিবর্তিত হয়েছে প্যাথোজেন ও প্যারাসাইটের সাথে।
সোশাল স্ট্রাকচারের সাথে তাদের রিজোন্যাট হওয়ার এই সক্ষমতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ হ্রাসের মধ্য দিয়ে তারা তাদের সুবিধাকে ম্যাক্সিমাইজ ও ঝুঁকির পরিমাণ মিনিমাইজ করতে পারে৷ মৌমাছির কলোনি থেকে আমাদের যা শিক্ষনীয় তা হলো কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং সামাজিক দূরত্বের মর্যাদা ও কার্যকারীতার উপলব্ধি।
আরো পড়ুনঃ হোমো বোডোয়েনসিস


