Can't find our books? Click here!

ডোপামিনের অন্ধকার দিক

The molecule of More: How a Single Chemical in Your Brain Drives Love, Sex, and Creativity--and Will Determine the Fate of the Human Race. (পর্ব-৩)

প্রিজমের সাথে সম্পর্ক থাকাকালীন একদিন লিসা তার প্রাক্তন প্রেমিক অডিসির কাছে যায়। তাদের দেখাটা আকস্মিক। তারা একে অন্যকে বহু বছর দেখেনা, এমনকি ফেসবুকেও যোগাযোগ হয়নি। লিসার কাছে তাকে আগের চেয়ে অনেক জোস ও স্মার্ট মনে হলো। তার শরীরের কাঠামো দেখে সে ভেতরের দিক থেকে বিগলিত হয়ে যায়। প্রায় এক মিনিট তার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে থাকে। এটা ছিল এমন একটি উপলব্ধি যা সে বহু বছর অনুভব করেনি। সে নিজের ভেতর উত্তেজনা অনুভব করে, তার মধ্যে সম্ভাবনার অনুভূতি কাজ করে সে মানুষটিকে নিয়ে  যার সাথে সে সংযুক্ত। সে যেন সম্পূর্ণ ফ্রেশ একজন পুরুষ আবিষ্কার করেছে। সে নিজের উত্তেজনা প্রথমেই প্রকাশ করলো। যদিও অডিসির বাগদত্তা ছিল তবুও  লিসা মনে মনে ভাবে এটাই সুযোগ অডিসির সাথে ড্রিংক্সে যাওয়ার৷  তারা একটি বারে গেলো, এক ঝুড়ি টর্টলা চিপস, একটি মিলার লাইট অর্ডার করলো আর পরবর্তী আধঘন্টা অপচয় করলো লেবেল নির্বাচন করতে।  সে প্রিজমকে ভালোবাসে, সত্যিই ভালোবাসে __ সে কি আসলেই ভালোবাসে? তারা বহুদিন বিপর্যস্ত ছিল।  কিন্তু  অডিসি ছিল সে ব্যক্তি যাকে সে সত্যিই চায় ।  সে প্রিজমের সাথে অনেকদিন কাটিয়েছে। না, আর নয়।

ডোপামিনের অন্ধকার দিক

ডোপামিনের একটি অন্ধকার দিক আছে। আপনি যদি ইঁদুরের খাঁচায় খাবারের টুকরো দেন তবে তার মস্তিষ্কে ডোপামিনের ঢেউ খেলে উঠে। ইঁদুর হয়তো মনে করে এ বিশ্ব হলো এমন একটি জায়গা যার আকাশ থেকে তার খাঁচায় ফুড পেলেট আসে। কিন্তু আপনি যদি প্রতি ৫ মিনিট পরপর খাবার নিক্ষেপ করেন, ডোপামিন রিলিজ হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ ইঁদুর এখন নিশ্চিত ভাবে জানে কোথায় তার খাবার আর এজন্য তার মধ্যে কোন অনিশ্চয়তা ও বিস্ময়বোধ নেই। কারণ আমরা পূর্বেই জেনেছি ডোপামিন কেবল অপ্রত্যাশিত কোনো পুরস্কার পেলেই ট্রিগার্ড হয়। যেটা প্রত্যাশা ও ধরাছোঁয়ার মধ্যে চলে আসে সেটার প্রতি আমাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সার্কিট রেসপন্স করেনা। এর অর্থ হলো এক্সট্রাপারসোনাল রিয়েলিটি যখন পেরিপারসোনাল রিয়েলিটি – তে চলে আসে তখন আমাদের মস্তিষ্ক এটাতে কোনো এক্সাইটমেন্ট পায়না। ডোপামিন শুধু সে সকল সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ফলাফল দ্বারা উদ্দীপিত হয় যা আমাদের স্বীয় সীমারেখার বাহিরে। হিমালয় অনেক বিশাল আর তাই হিমালয় আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন ট্রিগার করে, হলিউডে অভিনেতাদের জীবন বিলাসবহুল সেজন্য আমরা হলিউডের নায়ক-নায়িকাদের প্রতি উদ্দীপিত হই কিন্তু আমরা এটা জানিনা হলিউডের অনেক অভিনেত্রী সেক্সচুয়ালি টর্চার্ড হয় এবং পুরুষদের স্টেরয়েড নিতে বাধ্য করা হয় যার কারণে তাদের শরীর ফুলে উঠে, তাদেরকে স্মার্ট দেখায় কিন্তু বাস্তবে অজস্র হলিউডের অভিনেতা লিভার প্রবলেমে আক্রান্ত , অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের প্রভাবে তাদের জটিল সব মানসিক সমস্যা।

Do Hollywood actors take steroids to be buff in the movie? - Quora

প্রথম প্রথম হলিউডে অভিনয় করার সুযোগ পেলে আমাদের মস্তিষ্কের ডোপামিন হয়তো ট্রিগার্ড হবে কিন্তু ইঁদুরের মত যখন এই এক্সট্রাপারসোনাল রিয়েল্ম আমাদের নাগালের ভেতর চলে আসবে, ডোপামিন ড্রপ করবে। আর আমরা দেখবো যে আমাদের জীবন হলিউডে আসার পূর্বে যেমন ছিল এখনও ঠিক তেমনই । শুধু যুক্ত হয়েছে জীবনে নতুন কিছু মাত্রা। সারাবিশ্ব এখন আমাকে চেনে ঠিকই কিন্তু প্রতিনিয়ত আমার শরীর নিয়ে ইনসাইডে জুয়া খেলা হয়।
পেরিপারসোনাল বা নাগালের ভেতর স্বপ্ন ধরা দিয়েছে বলে এখন আর আমার মস্তিষ্কে কোনো রিওয়ার্ড কাজ করে না।

এবার আসুন। আমরা একটু ভিন্নভাবে ভাবি। ইঁদুরকে যদি আপনি প্রতি ৫ মিনিট পরপর খাবার দেন তবে সে কোনো বিস্ময়বোধ করবে না। আর এজন্য তার ব্রেন থেকে ডোপামিন রিলিজ হওয়া ড্রপ করবে। কারণ ইঁদুর এখন একটি কমন প্যাটার্ন বুঝতে পেরেছে। সে এখন জানে খাবার নিশ্চিতভাবেই তার কাছে আসবে। আর এজন্য আমরা ইঁদুরের রিওয়ার্ড সিস্টেমের সাথে একটা প্রতারণা করতে পারি। আমরা তাদেরকে খাবার দেব ঠিকই কিন্তু প্যাটার্ন বোঝার সুযোগ দেব না বা আমরা বিশৃঙ্খলভাবে তাদের বাক্সে খাবারের টুকরো পরিবেশন করব। এখন প্রশ্ন হলো, যদি র‍্যান্ডমলি বা এলোমেলোভাবে ইঁদুরকে খাবার পরিবেশন করা হয় তবে তাদের মধ্যে কী বিস্ময়কে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ধরে রাখা সম্ভব? চলুন আমরা ইঁদুরের স্থলে মানুষ ও ফুড পেলেটের স্থলে টাকা প্রতিস্থাপন করি।।

Brand New Las Vegas Mega-Resort Casino Changes The Face Of The Strip

ক্যাসিনো সম্পর্কে তো অনেকেই জানেন।  আমেরিকার লস ভ্যাগাস ক্যাসিনোর শহর বলে পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্যাসিনো লস ভ্যাগাসেই অবস্থান করে। ক্যাসিনো হলো র‍্যান্ডম রিওয়ার্ডের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ক্যাসিনোতে বিভিন্ন রকমের খেলা আছে। যার মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকজ্যাক, হাই স্টেক পোকার গেম, স্পিনিং রুলে হুইল। তো আমরা একটু রুলে হুইলের কথা বলি। এটি একটি চাকা যার চারপাশে অনেকগুলো সংখ্যা আছে। মোট ঘরের সংখ্যা ৩৭ টি। প্লেয়ারের পক্ষে ১৮ টি আর ক্যাসিনোর পক্ষে ১৯ টি। লাল ও কালো ১৮+১৮=৩৬ টি ঘরের মধ্যে  একটি ঘর বেশি যেটির রঙ সবুজ। এ একটি ঘর নিয়ে আপনি বাজি ধরতে পারবেন না। কিন্তু এই একটি ঘরই ক্যাসিনোকে মিলিয়ন ডলার এনে দিতে পারে। আমরা যদি হিসেব করে দেখি তবে দেখা যায় প্লেয়ারের জেতার সম্ভাবনা ১৮/৩৭×১০০= ৪৮% আর ক্যাসিনোর জেতার সম্ভাবনা ১৯/ ৩৭×১০০= ৫২%। অতএব দেখা যাচ্ছে ক্যাসিনোর জেতার সম্ভাবনা ৫ শতাংশ বেশি।

Roulette GIF - - Discover & Share GIFs

কিন্তু প্রশ্ন করতে পারেন এর সাথে র‍্যান্ডমনেসের সম্পর্ক কী? সম্পর্ক আছে। আপনি ৩৮ টি সংখ্যার মধ্যে ৩৮ টি সংখ্যার উপর বাজি ধরতে পারবেন।মনে করুন, আপনি 2, 3,5, 8, 9 এভাবে অনেকগুলো সংখ্যার প্রতিটির জন্য একশ টাকা করে বাজি ধরলেন। হুইলটি ঘুরছে, আর হুইলের ভেতর ঘুরছে একটি বল, হুইলটি যখন থামবে তখন বলটি আপনার বাজি ধরা যেকোন একটি সংখ্যায় যদি হিট করতে পারে , তবে , আপনি যত টাকা বাজি ধরেছেন সমস্ত টাকা পেয়ে যাবেন। কিন্তু এ খেলা র‍্যান্ডম প্রবাবিলিটির উপর ডিপেন্ড করে। আপনি কখন জিতবেন সেটা আপনি পূর্ব থেকে নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না। আর কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত ভাবে পুরস্কার পাওয়ার কারণে আপনার মস্তিষ্ক বিস্ময় ও এক্সাইটেশন ফিল করে। ডোপামিনের ঢেউ খেলে উঠে। যে জন্য আপনি খেলার প্রতি বারবার আসক্তি প্রকাশ করেন। ক্যাসিনো সবসময় তার নিজের জন্য  ৫% রেখে দেয়। র‍্যান্ডম প্রবাবিলিটিই তাদের এই লাভ দিতে পারে  যাকে বলে  Home Edge।   যাইহোক লস ভ্যাগাসের অপারেটররা খুব ভালো করেই জানেন এসব খেলায় তেমন লাভ নেই। সবচেয়ে বেশি লাভ হয় স্লট মেশিনে। যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক, অবসরপ্রাপ্ত এবং জুয়াড়িরা পছন্দ করে যারা প্রতিদিন কয়েকঘন্টা ক্যাসিনোর রিঙিং বল, ফ্ল্যাশিং লাইট অথবা হুইলে ক্লিক করে সময় কাটায়। আধুনিক সময়ের ক্যাসিনোগুলোর ৮০% ফ্লোরই স্লট মেশিনের দখলে, শুধু একটাই কারণ এই স্লট মেশিন ক্যাসিনোর বেশিরভাগ রিভিনিউ সৃষ্টি করে। যারা ভালোভাবে বুঝতে চান তারা এই ভিডিয়োটি দেখুনঃ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্লট মেশিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলো সায়েন্টিফিক গেমস কোম্পানি। বিজ্ঞান এ সকল নমনীয় গেম ডিজাইন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। সর্বপ্রথম স্লট মেশিনের ধারণা এসেছিল আচরণ বিজ্ঞানী B. F স্কিনারের কবুতরের উপর একটি পরীক্ষা থেকে। যিনি ১৯৯০ সালে আচরণ পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত ম্যাপ তৈরি করেছিলেন। ভাবতে কেমন লাগে কবুতর থেকেই আমেরিকার লস ভ্যাগাসের মত বড় বড় ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানগুলো ধারণা জন্ম হয়েছে?

যাইহোক পরীক্ষাটি ছিল এমন। একটি কবুতরকে বাক্সে রাখা হয়। তিনি যে বাক্সের মধ্যে ফুড পেলেট রেখেছিলেন। তবে  ফুড পেলেটের সাথে তিনি একটা কন্ডিশনও জুড়ে দিয়েছিলেন। কবুতররা একটি লেবারে ঠোকর দিলেই কেবল ফুড পেলেট পাবে। কোনো কোনো এক্সপেরিমেন্টে একবার ঠোকর দিলেই খাবার পাওয়া যেত, কোনো এক্সপেরিমেন্টে দশবার আবার কোনো এক্সপেরিমেন্টে পনেরবার কিন্তু এ সংখ্যাগুলো পরিবর্তন করা হতোনা। এর ফলাফল এত মজার ছিল না। কতবার ঠোকর দিতে হবে কবুতরদের মধ্যে সে ব্যাপারে কোন চিন্তাই নেই। তারা লাগাতার ঠোকর দিতেই থাকে কারণ তারা জানে এভাবে ঠোকর দিলে একটা সময় খাবার আসবেই।

B. F. Skinner (1904-1990) Fred Skinner, as his friends called him, was born  in Susquehanna, Pennsylvania. His father was a lawyer. His mother was a  homemaker who kept close watch on her two sons. (Skinner's brother died of  an accident at the age of 16 ...

স্কিনার এবার ভিন্ন কিছু করলেন। এক্সপেরিমেন্টে ফুড পেলেট পাওয়ার জন্য ঠোকরের সংখ্যা র‍্যান্ডমলি পরিবর্তন করে দেয়া হয়। এবার কবুতর জানেনা যে ঠিক কখন তারা ফুড পেলেট পাবে। প্রতিটি পুরস্কারই ছিল অপ্রত্যাশিত। পাখিরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। তারা দ্রুতগতিতে ঠোকরাতে থাকে। কোনোকিছু একটা যেন তাদেরকে দুর্দান্ত পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।  আর সেটা ছিল, ডোপামিন, যেটাকে বলা হয় বিস্ময়ের অণু বা মলিকিউল অব সারপ্রাইজ। আর এটাই ছিল স্লট মেশিনের সায়েন্টিক ফাউন্ডেশন।

Wall Mural Slot machine - PIXERS.UK

স্লট মেশিন অনেকটা  রুলে হুইলের মত র‍্যান্ডম পসিবিলিটির উপর কাজ করে। স্লট মেশিনে কেবল লেবার প্রেস করার মাধ্যমে আপনাকে বিভিন্ন ছবি ও সংখ্যা মেলাতে হবে। আপনি এখানেও রিওয়ার্ড পাবেন তবে আপনি বলতে পারবেন না ঠিক কখন এটি ঘটবে। আর এটাই আপনাকে বারবার বিস্মিত করবে, আপনার ব্রেন এক সময় অ্যাডিক্টেড হয়ে যাবে। নিচের ভিডিয়োটি অবশ্যই দেখুনঃ

ওহ হা! লিসার কথা তো আমরা তো ভুলেই গেছি? তাইনা? হ্যাঁ। লিসা যখন তার প্রাক্তন বয়ফ্রেন্ডকে অপ্রত্যাশিতভাবে দেখেছিল তার মধ্যে পুনরায় এক্সাইটমেন্ট ফিরে আসে, সে সম্ভাবনা, সে প্রজাপতি। তার রোমান্সে আসক্ত হওয়ার দরকার ছিল না। অডিসির সাথে দেখা হওয়ার পরপরই তার মধ্যে Half Conscious Dream বা দিবাস্বপ্ন দেখা দেয়। যেটি আবেগীয় উত্তেজনার আর একটি প্রকাশ। একটি অপ্রত্যাশিত ট্রিট তাকে ইমোশনাল জীবনে নিয়ে যায়। আর এ বিস্ময় ছিল তার সোর্স অব এক্সাইটম্যান্ট ( উত্তেজনার উৎস)।  যদিও লিসা সচেতনভাবে এসবের কিছুই জানেনা।

লিসা কেন জানি অডিসির সাথে পুনরায় ড্রিংক্সে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেয় এবং সবকিছু ভালোই ছিল।। তারা পরবর্তীদিন লাঞ্চেও যায়। খুব শীঘ্রই তাদের মিটিং ডেটে পরিণত হয়। তাদের অনুভূতিগুলো ছিল উত্তেজনা পূর্ণ। তারা কথা বলার সময় একে অন্যকে স্পর্শ করে।  তারা চলে যাওয়ার সময় একে অন্যকে বুকে জড়ায়।   তারা যখন একসাথে থাকে সময় কেন জানি উড়ে যায়, ঠিক যেমনি সে পূর্বে প্রিজমের সাথে ডেট করেছে। সম্ভবত লিসা মনেমনে ভেবেছিল অডিসিই একমাত্র। কিন্তু আমরা যদি ডোপামিনের ভূমিকা অনুভব করতে পারি তবে এ রিলেশনশিপ একমাত্র রিলেশনশিপ না।  এটি শুধুমাত্র ডোপামিন পরিচালিত উত্তেজনার আর একটি পুনরাবৃত্তি ( Repetition of Dopamine-Driven Excitement)। বারবার অপ্রত্যাশিত পুরস্কার পাওয়ার ফলে ক্যাসিনো প্লেয়ারদের মধ্যে যে ডোপামিন ড্রাইভ এক্সাইটমেন্ট তৈরি হয়।

যে নতুনত্ব ডোপামিনকে ট্রিগার করে সেটি চিরকাল থাকে না। যখন এ ডোপামিন আসে ভালোবাসা জন্মে, অবশেষে আবেগীয় রোম্যান্টিক ভালোবাসাও হারিয়ে যাবে এবং তারপর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি করবেন! হয়তোবা আমরা এমন ভালোবাসায় ট্রান্সজিট করতে পারি যেটি প্রাত্যহিক জীবনের সাধারণ সম্পর্কে পরিণত হবে অথবা আমরা অন্য আর একটি সম্পর্কের জন্য রাইড করতে পারি। ডোপামিনার্জিক এনার্জির জন্য সামান্য প্রচেষ্টা লাগে আর এটি দ্রুতই শেষ হয়ে যায় অনেকটা টুইঙ্কি খাওয়ার আনন্দের মত। যে সকল ভালোবাসার সম্পর্ক দীর্ঘকাল টিকে থাকে সেগুলোতে প্রত্যাশা থেকে অভিজ্ঞতার উপর বেশি জোর দেয়া হয় । এ রুপান্তর আসলে কঠিন। যখন বিশ্ব কঠিন কাজ থেকে সহজকিছু উপস্থাপন করে তখন আমরা সেটি গ্রহণ করার প্রবণতা রাখি। আর এজন্য যখন ডোপামিন উদ্দীপিত প্রাচীন রোম্যান্স শেষ হয়ে যায়, অনেক সম্পর্কও শেষ হয়ে যায়। পুরাতন ভালোবাসার সম্পর্ক গুলো আসলে নাগরদোলার মত। এটি আপনাকে বার বার সুন্দর ট্রিপ উপহার দেবে কিন্তু ঘুরেফিরে আপনি যেখান থেকে শুরু করেছেন সেখানেই এসে থামবেন।।প্রতিটি সময় মিউজিক থেমে যায়, আপনার পা পেছনে সরে আসে, আপনাকে এবার নির্বাচন করতে হয়, আর একটি ঘূর্ণনের জন্য,  সেই ব্রিজটি আবার অতিক্রমের জন্য, আরও দীর্ঘস্থায়ী কোনো ভালোবাসার জন্য।

মিক জ্যাগার, জর্জ কস্তানজা এবং স্যাটিসফেকশন:

মিক জ্যাগার যখন ১৯৬৫ সালে সর্বপ্রথম তার গান   ” I can’t get no Satisfaction” গেয়েছিলেন তিনি জানতেন না যে তিনি তার নিজের ভবিষ্যতেরই পূর্বাভাস নিজেই  করছেন।  জ্যাগার ২০১৩ সালে তার তার আত্মজীবনী লেখককে বলেছিলেন,  তিনি এডাল্টে এসে প্রতি দশ দিন পর পর এক একজন নারী বদল  করতেন। আর এভাবে তিনি প্রায় ৪০০০ নারীর সাথে সময় কাটান। মনে রাখবেন মিক একবারের জন্যও বলেননি….. এবং চার হাজার নারীর মধ্যে এসে আমি অবশেষে সন্তুষ্ট হয়েছি। সম্ভবত, তার পক্ষে যদি সম্ভব হতো তবে তিনি আরও সম্পর্কে জড়াতেন। প্রশ্ন হলো, তাকে সন্তুষ্টি দেয়ার জন্য কত সংখ্যক ভালোবাসার মানুষ প্রয়োজন ছিল?  আপনার যদি চার হাজার গার্লফ্রেন্ড থাকতো আপনি নিরাপদভাবে বলতে পারতেন যে ডোপামিন আপনার জীবনকে উদ্দীপিত করেছে অন্তত যখন আপনি সেক্স করতেন।  এবং ডোপামিনের প্রধান নির্দেশ আরও বেশি। ( গানটি শুনুন , আপনার নিকট গড গড একটা ফিল ক্রিয়েট হবেঃ )

যদি স্যার মিক আরও এক শতাব্দীও গার্লফ্রেন্ড বদলানোর সুযোগ পেতেন তিনি তারপরও সন্তুষ্টিকে ধরতে পারতেন না! তার সন্তুষ্টির ধারণা আসলে কোনো ধারণাই নয়। এটি একটি সাধনা, যেটি পরিচালিত হয় ডোপামিন দ্বারা, একটি অণু যেটি চিরস্থায়ী অসন্তোষ চাষাবাদ করে। একজন প্রেমিকের সাথে এক শয্যায় থাকার পরও তার ইমিডিয়েট লক্ষ হলো আর একজন সঙ্গী অনুসন্ধান করা।

Mick Jagger's Wife and Girlfriends Through the Years
How Mick Jagger Became Obsessed With Angelina Jolie But Left Her To Have An  Affair With Farrah Fawcett - Rock Celebrities

এ পদ্ধতিতে মিক আসলে একা নয়। এমনকি তিনি অস্বাভাবিকও নয়। মিক জ্যাগার ছিলেন টিভির জর্জ কস্তানজার নামক আর একজন ব্যক্তির উন্নত ও আত্মবিশ্বাসী একটি সংস্করণ। সেইনফিল্ড( Seinfield) এর প্রতিটি এপিসোডে। জর্জ প্রেমে পড়তো। সে বিরক্তিকর লম্বা সময়ের জন্য ডেট করতো, সে যে কোনো কিছুই করতে প্রস্তুত ছিল যদি এটি সেক্সের নেতৃত্ব দেয়। সে প্রতিটি নতুন নারীকেই তার সম্ভাব্য লাইফ পার্টনার মনে করতো। সে যাকেই দেখতো তাকেই পারফেক্ট নারী মনে করতো যার সাথে সুখের সময় কাটবে বলে তার বিশ্বাস। সেইনফিল্ডের এপিসডের নিচের ভিডিয়োটি দেখুনঃ

কিন্তু প্রতিটি সেইনফিল্ড ফ্যানই জানতো কীভাবে গল্পটি শেষ হয়। জর্জ নারীদের প্রতি ততক্ষণ উন্মাদ আচরণ করতো যতক্ষণ তার আগ্রহ ফিরে আসে। যখন সে আর চেষ্টা করতোনা তার সকল চাওয়া উধাও হয়ে যায়। সে ডোপামিন থ্রিলে এতটাই আসক্ত ছিল যে কোন নারী যখন তার সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চাইতো সে সমস্ত ঋতু অপচয় করতো তার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য। যখন তার বাগদত্তা তাদের বিয়ের খামের বিষাক্ত আঠা চেটে মারা যায় তখনও সে এক বিন্দু পরিমাণ বিধবস্ত হয়নি। সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন এখানেঃ Jason Alexander explains why Seinfeld killed Susan

Jason Alexander explains why Seinfeld killed Susan | EW.com

সে বরং শান্তি ও আনন্দ অনুভব করে। সে নতুন মৃগয়া অনুসন্ধানেই উল্লাসবোধ করতো।  মিক ও জর্জ আমাদেরই মত। আমরা নতুন ভালোবাসা পেলে আবেগ, মনোযোগ, উত্তেজনা প্রকাশ করি। তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য হলো যে একটা সময় আমরা বুঝতে পারি ডোপামিন মিথ্যা। ভ্যান্ডেল ইন্ডাস্ট্রিজের  প্রাক্তন ল্যাটেক্স সেলসম্যান এবং রোলিং স্টোনের প্রধান থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে আমরা বুঝতে পারি, আমরা যে সুন্দরী নারী ও সুদর্শন পুরুষ দেখি তারা আসলে সন্তুষ্টির চাবিকাঠি নয়।

তথ্যসূত্রঃ

The Molecule of More: How a Single Chemical in Your Brain Drives Love, Sex, and Creativity―and Will Determine the Fate of the Human Race

আগের পর্ব: