Can't find our books? Click here!

ডারউইন ও ডকিন্সের ঈশ্বর

যে গড ভাইরাস সকল কিছুর মধ্যেই থাকেন, এটমের নিউক্লিয়াস থেকে শুরু করে CMB দেয়ালের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সর্বত্র কোন না কোনো জীবন উপস্থিত!

অনেকে বলেন ঈশ্বর বড় মস্তিষ্কের প্রাণীদের মস্তিষ্কের তৈরি। আনুমানিক ৪৫ হাজার বছর পূর্বে ঈশ্বরের জন্ম হয়েছে আমাদের হোমো সেপিয়েন্সদের মস্তিষ্কের ভেতর। কিন্তু এটা কি আসলে ঠিক? না! ঠিক তা নয়। ঈশ্বর মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনে তৈরি হয়নি। যদি নিউরনই ঈশ্বরের স্রষ্টা হতো তবে পৃথিবীতে মিলিয়ন মিলিয়ন প্রাণীর কোয়াড্রিলিয়ন সংখ্যক নিউরনেও ঈশ্বর জন্ম নেয়ার কথা ছিল। বাস্তবে পৃথিবীর কতজন প্রাণী ঈশ্বরে বিশ্বাস করে?

রিচার্ড ডকিন্স তার “Outgrowing God” গ্রন্থে এর উত্তর দেন। রিচার্ড ডকিন্সের প্রতি সম্মান রেখেই আমি তার ধারণার সাথে আমার কিছু ধারণা যোগ করতে চাই ( বইটি পড়ুন ‘‘এখান” থেকে) । ঈশ্বর কেনো জন্ম হয় এবং কীভাবে? আসলে গড ভাইরাস জন্মের পেছনে খাদ্যচক্রে আমাদের অসুবিধাজনক অবস্থানের একটি ভূমিকা আছে। মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে আমরা খাদ্যক্রের তৃতীয় পর্যায়ের প্রাণী ছিলাম আর এজন্যই আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী! আমাদের পূর্বসূরিরা ডায়নোসর অথবা সিংহের মত এ গ্রহকে শাসন করতোনা! তাদের চারপাশে ছিলো শিকার হয়ে যাওয়ার ভয়। খাদ্যচক্রের চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রাণীদের ক্যালোরিতে পরিণত হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক । এজন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা সবসময় কঠিন আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার ভেতর সার্ভাইভ করেছিল । আজ থেকে ৪.৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরি আর্ডিওপিথেকাসরা যখন বৃক্ষ থেকে মাটিতে নেমে আসে এবং ৩.৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে অস্ট্রোলোপিথরা গ্রেভেটিকে প্রতিহত করে বৃক্ষে আরোহন করার শারীরিক সক্ষমতা হারাতে থাকে তখন তারা হয়ে উঠে খুবই অসহায় ও একা! এ অবারিত একাকীত্বের সময় তাদের চারপাশে নিষ্কাম ও নিরপেক্ষ ফিজিক্সের সূত্র আর শিকারী প্রাণীদের হিংস্র কোলাহল ব্যতিত কিছুই ছিল না। নারী ও পুরুষ এ সময় সন্তানকে রক্ষা করার জন্য তাদের মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বহুগামিতা ত্যাগ করে, রোম্যান্টিক ভালোবাসার জন্ম হয়, আশ্রয় নেয় ভালোবাসার। কল্পনা করুন, ৮ লাখ বছর পূর্বের ( মিষ্টি আলু এ সময় বিবর্তিত হয়) আমাদের আদিম পূর্বসূরীদের একজন তার প্রেমিকার জন্য গর্ত খুড়ে একটি মিষ্টি আলু বের করছে। যা তাকে প্রজননের লাইসেন্স দেবে।। একদিকে মনোনিবেশ করে এ ধরণের কাজ করাটা ছিল তার জন্য অনেক ভয়ানক। তার মনের ভেতর সবসময় খটমট করে, কাজ করে ব্যাপক আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা । আজ থেকে ৫ লাখ বছর ( যখন সিংহ বিবর্তিত হয়েছিল) পূর্বে যদি আমাদের কোন একজন পূর্বসূরি তার পেছনে কোন একটি অপ্রত্যাশিত পাতার শব্দ শুনতো আর সে এটাকে পাতার শব্দ মনে করে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতো তবে হয়তো সে ভয়ানক কোনো সিংহের খপ্পরে পড়ত । অতএব দেখা যাচ্ছে, সিংহকে পাতা মনে করা পাতাকে সিংহ মনে করার চেয়ে তাদের জন্য অনেক বেশি ভয়ানক ছিল। সে সময় যদি তারা গণতান্ত্রিক হারে সিংহের শব্দকে পাতা অথবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক শব্দ মনে করতো তবে তারা গণহারে বিলুপ্ত হয়ে যেত । এজন্য তাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে বিবর্তিত হয় যেনো তারা পাতা ও সিংহকে এক করে দেখে( Generalisation) । এভাবে আমাদের আদিম এনসেস্টররা অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনার মধ্যেও ভয়ানক সব প্রাণী দেখতে শুরু করে। যেদিকে তাকায় সেদিকেই তারা পরিকল্পিত উদ্দেশ্যময়তা বা এজেন্ট দেখতে পায়। আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে হার্ডওয়্যার্ড হয় আমরা আকাশের মেঘ বা নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যেও বিভিন্ন প্রাণীদের প্রতিকৃতি দেখি। আর এভাবে আমাদের মস্তিষ্কে বিবর্তন অস্তিত্বহীন বাস্তবতাকেও অস্তিত্বশীল করে তুলে ( Evolutionary Misfiring) । Read More:আউটগ্রোয়িং গড

আমরা এ দুটোর মধ্যকার সীমারেখা মাঝে মাঝেই হারিয়ে ফেলি। খাদ্যশৃঙ্খলের তৃতীয় সারির এ প্রাণীদের নিকট মনে হতে শুরু করে নিশ্চয় কেউ না কেউ তাদের দিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছুটে আসছে। যে দিকেই তারা তাকায় সেদিকেই আজ তারা প্যাটার্ন দেখে। আতঙ্ক, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। একা তারা থাকতেই পারতোনা, একাকীত্ব ছিলো মৃত্যুর মত আর এ জন্য আমরা এখনো সামাজিক সঙ্গ হারিয়ে ফেললে সুইসাইডিয়াল হয়ে উঠি। সোশাল প্রেক্ষাপ্ট নিয়েই বেশি সময় কাটে আমাদের মস্তিষ্কের যেন আমরা সমাজিক নেটওয়ার্ক থেকে ডিসকানেক্ট না হয়ে যাই ।

যাইহোক, চারদিকে এই এজেন্ট দেখার প্রবণতা থেকে বিশ্বের প্রতিটি কিউবিক সেঃমি যেনো তাদের জন্য আতঙ্কজনক হয়ে উঠে। যে দিকেই তাকায় সেদিক থেকেই সিংহের মতো কোন একটি আতঙ্ক তাদের দিকে ছুটে আসে। সকল দিকেই দেখা দেয় অস্তিত্বহীন জীবন। মহাবিশ্ব হয়ে যায় উদ্দেশ্যময়! আর এইভাবে সর্বপ্রথম আমাদের পূর্বসূরিদের মস্তিষ্কের ভেতর বিবর্তন ভুলক্রমে সর্বপ্রাণবাদের ধারণার অনুপ্রবেশ ঘটায়! এ গ্রহে গড ভাইরাস জন্ম হয় , যে গড ভাইরাস সকল কিছুর মধ্যেই থাকেন, এটমের নিউক্লিয়াস থেকে শুরু করে CMB দেয়ালের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সর্বত্র কোন না কোনো জীবন উপস্থিত! কোনো না কোনো উদ্দেশ্যময়তা উপস্থিত!

৩০-৪৫ হাজার বছর পূর্বে সেপিয়েন্সদের জিনের একটি মিউটেশনের ফলে তাদের মস্তিষ্কের গল্প বলার ক্ষমতা জন্ম হয়, আর ত্বরিত গতিতে তৈরি হয় চন্দ্র দেবতা, সূর্য দেবতা, হাজার হাজার দেবতার জন্ম হয় সেপিয়েন্সদের মস্তিষ্কের নিউরনের ভেতর! অতএব সেপিয়েন্সদের ব্রেন নিউরন ঈশ্বরের ধারণা এমনি এমনি তৈরি করেনি বরং মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তন তাদের মধ্যে এজেন্ট দেখার প্রবণতা জন্ম দিয়েছে, সর্বত্র এজেন্ট দেখার জিনগত বৈশিষ্ট্যই তার মস্তিষ্কের ভেতর গড ভাইরাস জন্ম দিয়েছে। ঈশ্বর মূলত, খাদ্য শৃংখলের তৃতীয় পর্যায়ের এ জীবদের উপর প্রকৃতির ক্রিয়াশীল সিলেকশন প্রেসারের ফলাফল। ল্যাবরেটরিতে ইঁদুরের মধ্যেও প্যাটার্ন দেখার প্রবণতা প্রমাণিত হয়। মিসাইল অথবা পারমাণবিক বোমার মতো ঈশ্বর ছিল আমাদের আদিম পূর্বসূরীদের ঐক্যবদ্ধভাবে টিকে থাকার একটি হাতিয়ার!

আমরা একসময় আগুন আবিষ্কার করি, বস্তুতন্ত্রের উপর আমাদের একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় কিন্তু আমাদের ডিএনএ থেকে ঈশ্বর বিশ্বাস কিছুতেই যেতে চায়না! পেংঙ্গুইনের ডানা একসময় তার পূর্বসূরির মধ্যে উড়ার জন্য বিবর্তিত হয়েছিল কিন্তু এখন এটার আর তেমন কোনো কাজ নেই ঠিক যেমনি আমাদের দেহে প্রায় ১০০ ভেস্টিজিয়াল অর্গান আছে যেগুলো আমাদের আদিম পূর্বসূরীদের টিকে থাকার জন্য বিবর্তিত হয়েছিল কিন্তু আমাদের শরীরে সেগুলোর আজ কোন ফাংশন নেই ( একদম নেই তা নয় তবে সেগুলো প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছেনা)। একসময় হিংস্র জন্তু থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য অস্তিত্বহীনের প্রতি যে বিশ্বাস জন্ম হয়েছিল, যে বিশ্বাস আজ থেকে ৩০,০০০ বছর পূর্বে সেপিয়েন্সদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলো, যে সার্বজনীন ভাবে বিভাজিত বিশ্বাসের ফলে নিয়ান্ডারথালদের মত শক্তিশালী এক জীব সেপিয়েন্সদের দলবদ্ধশক্তির কাছে আত্মদান করেছিল। সে সার্বজনীন বিশ্বাস থেকে আমরা আজও বেরিয়ে আসতে পারিনা ভেস্টিজিয়াল অর্গান অথবা ভেস্টিজিয়াল জিনের মত। ঈশ্বর আমাদের মস্তিষ্কে জন্ম নেয়া এমন এক ধারণা যা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ অ্যাপেন্ডিক্সের মতো তার আর তেমন কোনো উপকারীতা নেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ডেকে আনা ছাড়া!

সময়ের সাথে এ সর্বপ্রাণবাদ মানব মনে বিবর্তিত হয়ে একত্মবাদে পরিণত হয়! আমরা মহাবিশ্বের সব কিছুর মধ্যে একত্ব খুঁজতে শুরু করি! আজ আমরা শুধু মহাবিশ্বের সর্বত্র উপস্থিত একজন ঈশ্বর বা চেতনায় বিশ্বাস করিনা, আমরা এটাও বিশ্বাস করতে চাই যে ফান্ডামেন্টাল ফোর্সগুলোর মধ্যেও এক ধরণের কসমিক একতা আছে যা আমাদের গভীরভাবে স্প্রিচুয়াল করে তোলে। একতার সন্ধান আইনস্টাইন থেকে শুরু করে বিশ্বের হাজার হাজার বিজ্ঞানী করেছিলেন। আমাদের মধ্যে অনেকে আজ সেই গড ভাইরাস দিয়ে মহাবিশ্বের ফান্ডামেন্টাল ফোর্সগুলোর মধ্যকার একত্বও বুঝতে চাই। প্রকৃতির ফোর্সগুলোর মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক থাকতে পারে এবং আমাদের প্যাটার্ন দেখার প্রবণতা সঠিকও হতে পারে কিন্তু আমরা অনেক সময় এমন সব প্যাটার্নও দেখি যা আসলে সেখানে উপস্থিত নয়( ফলস পজেটিভ) ।

এটা ঠিক যে, আমাদের মস্তিষ্ক বিবর্তিত হয়েছে থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড আইন অনুসরণ করে। থার্মোডায়নামিক্স অনুসারে, সময়ের সাথে এন্ট্রপির বৃদ্ধি পায় আর এজন্য অতীতে ছিল নিন্মমাত্রিক এন্ট্রপি। যে জন্য আমরা কারণকে অতীতে চিন্তা করি এবং ফলাফল ভবিষ্যতে! আমরা সবকিছুর মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। স্পেস-টাইমের ভেতর একটি ঘটনার সাথে অন্য ঘটনার সম্পর্ক নির্ণয় করাটা আমাদের পূর্বসূরিদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, সম্পর্ক নির্ণয়ের মাধ্যমেই তারা বুঝতো কে সে আর কে সে নয়। আর এ আত্মসচেতনতা তাকে শিকারী প্রাণী থেকে পালাতে সাহায্য করতো। সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য আমাদের মস্তিষ্ক অভিযোজিত বলেই আজ আমরা( ব্রেন সার্কিট) গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যকার মহাকর্ষীয় সম্পর্ক নির্ণয় করার চেষ্টা করি, আমাদের মধ্যে কৌতুহল জাগে সম্পর্ককে জানার! সম্পর্ক নির্ণয়ের যে নিউরাল সার্কিট একসময় বিবর্তিত হয়েছিল শিকার করা ও শিকারী প্রাণী থেকে পালানোর জন্য, সেই নিউরাল সার্কিটই স্ট্রং ফোর্স, উইকফোর্স,গ্রেভিটেশনাল ফোর্স ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করে ।

ডারউইন ও ডকিন্সের ঈশ্বর

আজ তারা ১৩.৮ বিলিয়ন বছর অতীতে সিঙ্গুলারিটির ভেতর ফোর্সফিল্ডগুলো একীভূত হয়ে যে ইকুয়েশন মেনে চলতো সেই গড ইকুয়েশন বুঝতে চায়! আর অন্যদিকে আমাদের মস্তিষ্কের আদিম এজেন্ট দেখার প্রবণতার ফলে সৃষ্ট মনোভাব থেকে আমরা সেই ইকুয়েশনের ভেতরেও মহাজাগতিক ঈশ্বর অথবা কসমিক কনসাস আরোপ করার চেষ্টা করি!

মানব সভ্যতার মধ্যে এই যে পরস্পরবিরোধী দুটি মনোভাব এটি শুধু ৭০ হাজার বছর পূর্বের আফ্রিকার স্যাভানায় সীমাবদ্ধ নেই। এই মনোভাব আমাদের মনস্তত্বে এখনো আমরা অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে বয়ে বেড়াই। যে জন্য মানুষ আজ একইসাথে বিজ্ঞান ও ঈশ্বর দুটিই খুঁজে অথবা একত্রে মিশিয়ে ফেলতে চায়। আজ বিশ্ব ডারউইন দিবস। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে ডারউইনের বিবর্তনকে আজও অনেকে মেনে নিতে পারেনি।

Charles Darwin Painting by Kan Srijira | Saatchi Art

ফিজিক্সে শ্রডিঙ্গারের বেড়ালের (যে একইসাথে দুটি মহাবিশ্বে থাকে) উইয়ার্ডনেস মেনে নিতে বিশ্বের ধার্মিকদের কষ্ট না হলেও বিবর্তনের মত এত সুস্পষ্ট একটি বাস্তবতা তারা মেনে নিতে চায়না। কারণ বিবর্তনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সচেতনতা কিছুই নেই। এটি ব্লাইন্ড, ব্লাইন্ডওয়াচমেকার। বিবর্তন শাশ্বত আত্মা ও চেতনার অনুমোদন দেয়না। তার বদলে বিবর্তন আমাদের বলে, আমাদের কনসাসনেস বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে বিবর্তিত হচ্ছে, সেই আদিম প্যারাসাইট যারা প্রাণের বিবর্তনের শুরুতে গাছের পাতায় হেঁটে বেড়াত তাদের চেতনা Evolve হয়েই আজ রকেট, বিমান ও স্পেসশিপ তৈরি করে, চন্দ্রে নীল আর্মস্ট্রং ও মঙ্গলে পার্সিভারেন্স ঘুরে বেড়ায়। চেতনা যদি শাশ্বত হতো তবে বিলিয়ন বছর পূর্বে বৃক্ষের পাতায় ঘুরে বেড়ানো প্যারাসাইটদের চেতনা আজ মহাকাশে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ পাঠাতে পারতো না। আমাদের Consciousness Evolve হয় বলেই আমাদের সামনে অবারিত সম্ভাবনা খোলা আছে, আমরা হয়তো একদিন মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বকে বুঝতে পারব। কুকুরের চেতনা ভালোভাবে Evolve হয়নি বলে সে ফিজিক্স ও গণিত বোঝেনা। মহাবিশ্বকে বোঝার জন্য চেতনার বিবর্তন অত্যাবশ্যক। যদি আমরা গ্রেন্ড ইউনিফায়েড তত্ত্ব তৈরি করতে না পারি, যদি আমরা গ্রেভেটির কোয়ান্টাম কারেকশন করতে না পারি আমরা বলতে পারবোনা ব্লাকহোলের অন্যপাশে কি আছে, আমরা ওয়ার্মহোলের ভেতর সম্পর্কে ধারণা করতে পারবোনা, ল্যাবরেটরিতে শিশু মহাবিশ্ব তৈরি করা সম্ভব হবেনা এবং এমনকি টাইম ট্রাভেলের সাথেও গ্রেভেটির কোয়ান্টাম কারেকশন গভীরভাবে জড়িত। এ মহাবিশ্ব জীবনের অনুপযোগী হয়ে গেলে আমাদেরকে অন্যকোনো মহাবিশ্বে মাইগ্রেট করতে হবে আর এজন্য আমাদের বুঝতে হবে গ্রেন্ড ইউনিফায়েড তত্ত্ব। স্টিফেন হকিং তার ”ব্রিফ হিস্টরি অব টাইমে” বলেছিলেন, গ্রেন্ড ইউনিফায়েড থিয়োরি আমাদেরকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে সহযোগীতা নাও করতে পারে অথবা এটি আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানা ও অজানার দৌদুল্যমানতায়ও ফেলে দিতে পারে কিন্তু এটি তা করবেনা কারণ হলো ন্যাচারাল সিলেকশন। কেননা জিনগতভাবে যাদের চেতনা উন্নত তারাই এ মহাবিশ্বে সার্ভাইভ করবে আর এভাবে বিবর্তন নিজেই আমাদের মহাবিশ্বের অন্তিম সিদ্ধান্তে নিয়ে যাবে। এর মানে হলো, আমাদের চেতনা ক্রম বিকাশমান! আমাদের বর্তমান কনশাসনেস হয়তো মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব খুঁজে পায়না আর এজন্য আমরা উন্নত প্রযুক্তি ও কনশাসনেসের নিয়ে চিন্তা করছি , চিন্তা করছি জিন এডিটিং নিয়ে। শাশ্বত স্থবির চেতনা এই বিপুল সফলতা অর্জন করতে পারনা! কিন্তু বিবর্তনের এ অপরিসীম ক্ষমতাকেই অবিশ্বাস করেছে আমাদের মস্তিষ্ক। তার কারণটাও ছিল মূলত বিবর্তনীয়।