প্রশ্ন হলো আমরা ছাড়াও কি মহাবিশ্বে অন্য কেউ আছে ? যখন আমরা মহাকাশের দিকে চোখ ওঠাই তখন তারাও কি মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের অন্য কোনো গ্রহ থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে ? এলিয়েনদের অস্তিত্ব আছে কি নেই এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই কিন্তু কার্ল স্যাগানের গণনা থেকে বের হয়ে এসেছে আমাদের পৃথিবীর মতো এক্সোপ্লানেট আছে মহাবিশ্বে প্রায় এক মিলিয়ন, আর এই এক মিলিয়ন গ্রহের একটিতেও আমাদের মতো বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব নেই এটা কল্পনা করাটা বুদ্ধির পক্ষে সম্পূর্ণ অসম্ভব !
স্টিফেন হকিং এর মতো বিজ্ঞানীও বিশ্বাস করেন না যে 93 বিলিয়ন Light Years রেডিয়াসের এ মহাবিশ্বে আমরা একা। তিনি বলেছিলেন, এলিয়েনদের মোকাবিলা করার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত। আর তাই রোবটের পরই আমি এলিয়েন কনশাসনেস নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তাবোধ করছি। এলিয়েনরা দেখতে কেমন, তাদের কনশাসনেস কেমন, তাদের চিন্তা চেতনার প্যাটার্ন কি, তাদের সিভিলাইজেশন কি আমাদের চেয়েও অনেক অ্যাডভান্স? এরকম মাল্টি থাউজেন্ড প্রশ্ন রয়েছে আমাদের মাঝে ! কিন্তু আমরা এলিয়েন কনশাসনেসকে বুঝার জন্য এখন আলোচনা করব এমন দুটি স্ট্র্যাটেজি নিয়ে যে স্ট্র্যাটেজি প্রকৃতিতে “Adopt” হয়েছে প্রাণের পূণর্গঠনের জন্য। প্রকৃতিতে বেসিক্যালি দু-ধরণের reproductive strategies রয়েছে যে প্রক্রিয়ায় আমাদের গ্রহে কনশাসনেসের বিবর্তন ঘটে… !
প্রথম কৌশলটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা জানি স্তন্যপায়ী প্রাণীরা খুব অল্পকিছু শিশুর জন্ম দেয়। এবং তাদের ম্যাচুরিটির পূর্ব পর্যন্ত তাদেরকে তীব্র সংবেদনশীলতার সাথে যত্ম করতে হয়। এ কৌশলটি খুবই ডেঞ্জারাস কারণ প্রতি প্রজন্মে মাত্র অল্পকিছু শিশু জন্মগ্রহণ করে। অতএব তাদেরকে অনেক বেশি সচেতনতার সাথে লালন পালন করা হয়, মানব শিশুর কথাই বলা যায়, মানব শিশুকে যদি জন্মের পর নিজের মতো করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হতো তবে পৃথিবী থেকে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যেত কারণ একদিকে এরা জন্মায় সংখ্যায় অনেক কম, কীটপতঙ্গ অথবা সরীসৃপের মতো অজস্র মানব শিশু একসাথে জন্মায় না আর তার উপর তারা এতটাই ফ্ল্যাক্সিবল যে এদের প্রতি কিছুক্ষণের জন্যেও যদি সচেতনতা সরিয়ে নেয়া হয় তবে এটি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসতে পারে। অতএব স্তন্যপায়ী প্রাণীদেরকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নার্সিং করার প্রয়োজন হয় !
এছাড়া আরও একটি প্রাচীন পদ্ধতি আছে বৃক্ষ ও প্রাণীদের রাজত্বে বিশেষ করে সরীসৃপ, কীটপতঙ্গ এবং পৃথিবীর অন্যান্য সব জীবন। এরা একসাথে অনেক বীজ এবং ডিম দেয় আর সেগুলোকে “Without Nurturing” নিজেদের ভেতর প্রতিরোধী হয়ে উঠার জন্য ছেড়ে দেয়। অধিকাংশ শিশুই সার্ভাইব করতে পারে না অজস্র সম্ভানাময় জীবনের ভেতর তীব্র প্রতিযোগিতা এবং সংগ্রামের পর অল্পকিছু অনেক কষ্টে কোনোরকমে টিকে থাকে এবং “Next Generation” তৈরি করে। মিচিও কাকু বলেন, এর মানে হলো এদের পিতামাতা নেক্সট জেনারেশন তৈরি করার জন্য যে এনার্জি খরচ করে তা শূন্য, তাদের রিপ্রডাকশন “Law of Average” এর উপর ডিপেন্ড করে প্রজাতির ভবিষ্যতকে প্রসারিত করার জন্যে ! আমরা বিস্ময়করভাবে প্রকৃতিতে দুটো স্ট্র্যাটেজি দেখছি, একটিতে সন্তান রিপ্রডিউস করার জন্য ব্যাপক সময় ও শক্তি প্রয়োগ করতে হয় আর অন্য আর একটি পদ্ধতিতে পিতামাতা শিশুকে নিষ্কাম নিরপেক্ষ ফিজিক্সের সূত্রের উপর ছেড়ে দেয় এবং কোনো এনার্জি অপচয় না করেই তাদেরকে তাদের নিজেরদের মতো করে টিকে থাকার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে জয় লাভ করতে ফোর্স করে !
এ দুটি পদ্ধতি আমাদের জীবন এবং বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্নরকম দুটি আইডিয়া দেয়। প্রথম পদ্ধতিতে প্রতিটি ব্যক্তিই এক একজন সম্পদ। ভালোবাসা, স্নেহ, মমতা, সহানুভূতি এ গ্রুপটির প্রিমিয়াম। এ ধরণের “Reproductive Strategy” তখনই কাজ করে যখন বাবা মা উল্লেখযোগ্য টাইম এন্ড এনার্জি তার সন্তানদের জন্য অপচয় করে। আর দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ব্যক্তিকে সম্পদ মনে করা হয় না বরং তারা একটি প্রজাতি বা সমগ্রের সার্ভাইবালকে ফোর্স করে। সেকেন্ড স্ট্র্যাটেজিতে স্বতন্ত্রতা সম্পূর্ণ “Meaningless” ! কীটপতঙ্গ একসাথে অজস্র শিশুর জন্ম দেয় এবং সমগ্র দলটিকে ফিজিক্সের সূত্রের ওপর ছেড়ে দেয়, তারা এ অজস্র শিশুর মধ্যে আলাদা করে কাউকে চেনে না, তাদের কাছে তাদের সন্তানদের আলাদা কোনো নাম বা পরিচিতি নেই, আলাদাভাবে তারা কারও জীবন বা মৃত্যুকে বুঝে না, তারা দেখে শুধু সমগ্র ! আমরা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি এদের বুদ্ধিমত্তা ও চেতনা প্রথম পদ্ধতিতে বিকশিত বুদ্ধি ও চেতনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ! এখন প্রশ্ন হলো মহাবিশ্বে যদি কোন এলিয়েন থেকে থাকে, এক মিলিয়ন সম্ভাব্য বাসযোগ্য এক্সোপ্লানেটের যেকোন একটির ভেতর তবে তাদের চেতনা ও বুদ্ধিমত্তা কোন পদ্ধতিকে বিকশিত হয়েছে ? তারা কি প্রথম স্ট্র্যাটেজির কনশাসনেস নাকি দ্বিতীয়?
এটা আমরা এখন পরিস্কার যে রিপ্রডাক্টিভ স্ট্র্যাটাটেজির ধরনের উপরই ডিপেন্ড করবে একটি প্রজাতির কনশাসনেস এবং ইন্টেলেকচুয়ালিটি কেমন হবে। যেমন আমরা এ ব্যাপারে পিঁপড়াদের উদাহরণ দিতে পারি। দুটি পিঁপড়া যখন একে অপরের সাথে মিট করে তখন তারা কেমিক্যাল সেন্ট এবং ইশারার মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ “Information Exchange” করে। যদিও ইনফরমেশন সীমিত কিন্তু এ সীমিত পরিমাণ তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যমে তারা সম্প্রসারিত টানেল এবং চ্যাম্বার তৈরি করে যা এন্টহিল তৈরিতে সাহায্য করে।
আবার অন্যদিকে আমরা যদি মৌমাছির কথা বলি তবে আমরা দেখতে পাই মৌমাছিরা একে অপরের সাথে নৃত্যের মাধ্যমে যোগাযোগ করে আর তারপর তারা অত্যন্ত জটিল একটি মৌচাক তৈরি করে এবং দূরবর্তী ফুলের সজ্জাকে সঠিকভাবে লোকেট করতে পারে। এটা সুস্পষ্ট যে মৌমাছিদের বুদ্ধিমত্তা কোনো স্বতন্ত্র ব্যক্তি থেকে আসছে না, তাদের সমগ্র কলোনি এবং জিনের ভেতরকার হলিস্টিক ইন্টারেকশন থেকেই তাদের ইন্টেলেকচুয়ালিটি “Emerged” হয়। আপনি যদি একটি মৌমাছিকে তার কলোনি থেকে আলাদা করে ফেলেন তবে এটি সাথেসাথে তার ইন্টেলেকচুয়ালিটি হারিয়ে ফেলবে কারণ সমগ্রের বাহিরে তার আলাদা কোন ইন্টেলেকচুয়ালিটি নেই !
আমরা মানব সভ্যতা ব্যক্তিগতভাবেই বুদ্ধিমান, আমরা একা থাকি অথবা সমগ্রের মাঝে থাকি, আমাদের নিজস্ব একটা বুদ্ধিমত্তা আছে কিন্তু মৌমাছিদের বুদ্ধিমত্তা “Whole Colony Interaction” থেকেই নির্গত হচ্ছে! এখন প্রশ্ন হলো যদি ভিন্নকোনো গ্রহে কোনো ইন্টেলেকচুয়াল প্রাণী বিকশিত হয় তবে তাদের ইন্টেলেকচুয়ালিটির ধরন কেমন ? তারা কী “Collective Intellectual” নাকি তারা স্বতন্ত্রভাবেই বুদ্ধিমান! আপনি কল্পনা করুন এমন একটি এক্সট্রা টেরিস্টিয়াল ইন্টিলিজেন্ট সিভিলাইজেশনকে যারা মৌমাছির মতো দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বিবর্তিত হয়েছে যেখানে কর্মী মৌমাছিরা সবসময় পরাগ অনুসন্ধানে ছুটে বেড়ায়, কর্মী মৌমাছিরা নিজেদের রিপ্রডিউজ করতে পারে না, তারা শুধু একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে কাজ করে যায়, মৌচাক ও রানীর সেবায় তাদের জীবন উৎসর্গ, যার জন্য তারা স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে পারে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সাথে যে সামাজিক বন্ধন সেটি মৌমাছিদের কাছে কোনো অর্থই বহন করে না।
মিচিও কাকু বলেন, হাইপোথেটিক্যালি এ মৌমাছিরা স্পেস ট্রাভেল পোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারে। আমাদের মানব সভ্যতার কাছে প্রতিটি ব্যক্তি মানুষ এক একটি ট্রেজার বা সম্পদ। যখন একজন স্ট্রোনাট স্পেস ট্রাভেল করে তখন আমরা তার জীবনকে সার্বাধিক গুরুত্ব দেই, তাকে সুস্থ্য সুন্দরভাবে স্পেসে পাঠানো, স্পেসের বিপর্যয় থেকে রক্ষা এবং জীবিত অবস্থায় আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা ! কিন্তু মৌমাছিদের কাছে ব্যক্তির কোন অর্থ নেই, তারা নিজেদের ব্যক্তিসত্তাকে গুরুত্বই দেয় না, তারা জানেও না যে মৌছাক ও রানীর সেবার বাহিরে তাদের কোন জীবন আছে, তাদের কাছে ব্যক্তি কোন ট্রেজার নয়, ট্রেজার হলো সমগ্র আর তাই যদি মৌমাছিরা স্পেস ট্রাভেল করে তবে তাদের লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন হবে না, তাদের জন্য এক্সট্রা কোন খরচ করতে হবে না, তাদের জীবিত ফিরে আসার কোন প্রয়োজন নেই, তাদের মহাকাশ ভ্রমণ হবে ওয়ান ওয়ে ট্রাভেল, তারা স্পেসে যাবে কিন্তু কখনোই ফিরে আসবেনা ! আরও পড়ুন: এলিয়েনের অস্তিত্বের সম্ভাবনা
এবার মনে করুন আপনি মৌমাছিদের একজন এস্ট্রোনাটের সাথে দেখা করতে গেলেন, কিন্তু তারা আপনাকে গুরুত্ব দেবে না, ইগনোর করবে কারণ তাদের কাছে মৌছাক এবং রানী ছাড়া মহাবিশ্বে আর কোনোকিছুর “Existence” নেই, তারা জেনেটিক্যালি এভাবেই প্রোগ্রাম করা, তারা আপনাকে কখনোই Observe করবে না বরং এমন ভাবে বিহেভ করবে যেন আপনি মহাবিশ্বেই নিই কিন্তু যখনই আপনি তাদের মৌছাক বা রানীকে আঘাত করবেন ঠিক তখন তারা আপনার প্রতি সচেতন হবে, তারা আপনাকে আলাদা করে Observe করবে এবং বিপরীত দিক থেকে আক্রমণ করবে ! ঠিক তেমনি এলিয়েনরা যদি মৌমাছির মতোই “Collective Consciousness” হয় তবে তারা আমাদের উপেক্ষা করবে, আমাদের প্রতি তাদের কোন ইন্টারেস্টই থাকবে না, তারা আমাদের সাথে কমিউনিকেশনের কোনো প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করবে না ! ১৯৭১ সালে আমরা এলিয়েনদের উদ্দেশ্যে যে কোডেড মেসেজ সেন্ড করেছি (যেটাকে বলে METI SIGNAl (Messaging to Extraterrestrial intelligence); হতে পারে তারা সেটা ইগনোর করবে !
আর তাছাড়া কর্মী মৌমাছিদের এত বেশি বুদ্ধিমান হতে হয় না, তাদের কাজ মৌছাকের দেখাশোনা করা, তারা যদিও আমাদের মেসেজ পায় তারা সেটার রেসপন্স করতে পারবে না। কর্মী মৌমাছিরা খুব স্বল্প সময় টিকে থাকে, আর তাদের কাজ নির্দিষ্ট, অতএব তারা আমাদের মেসেজিং করার মতো সময় পবে না, এছাড়া আমরা সাবকনশাসলি একে অপরের সাথে রিলেশনশিপ বুঝতে পারি কিন্তু তারা সেটা বুঝতে পারবে না। আমাদের পরিবার ও প্রতিবেশি আছে আর আমরা যদি তাদের সাথে গল্প করি আমরা তাদের এসব গল্পই বলব কিন্তু তাদের জগতে যেহেতু মৌছাক আর রানী ছাড়া আর কিছুর প্রোগ্রাম নেই, তারা আমাদের ভাষা বুঝবে না! হতে পারে মহাবিশ্বে এমন কোন প্রাণী আছে, যারা হাইবারনেট করতে সক্ষম, তারা তাদের মেটাবলিজম স্লো ডাউন করতে সক্ষম এবং তারা মহাবিশ্বে হাজার হাজার কোটি বছর সার্ভাইভ করছে, আমাদের কাছে ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলের মতো সময় নেই, আমাদের লাইফ স্পেন খুবই সীমিত কিন্তু তাদের কাছে ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলের ব্যাপারে কোনো তাড়া নেই, তাই তারা এটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না !
এলিয়েনরা কেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করবে না ?এলিয়েনরা কেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেনা ?এলিয়েনরা কেনো আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেনা ?
তথ্যসুত্রঃ
| THE ALIEN MIND |
| 1 )So far, more than one thousand: Kepler Web Page, http://kepler. |
| nasa.gov. |
| 2 I) n 2013, NASA scientists announced: Ibid. |
| 3 ) how they can distinguish false messages: Interview with Dr. |
| Wertheimer in June 1999 for Exploration national radio broadcast. |
| 4) I once asked him about the giggle factor: Interview with Dr. Seth |
| Shostak in May 2012 for Science Fantastic national radio broadcast. |
| 5) He has gone on record: Ibid. |
| 6) “Remember, this is the same government”: Davies, p. 22. |
| 7 )The Greek writers: Sagan, p. 221. |
| 8 ) But St. Thomas Aquinas: Ibid. |
| 9 ) We can be fooled: Ibid. |
| 10 )“If the fact that brutes abstract”: Ibid., p. 113. |
| 11) “In the blind and deaf world”: Eagleman, p. 77. |
| 12) we have to expand our own horizon: Interview with Dr. Paul |
| Davies in April 2012 for Science Fantastic national radio broadcast. |
| 13) “My conclusion is a startling one”: Davies, p. 159. |
| 14) “Although there is only a tiny probability”: Discovery News, |
| December 27, 2011, http://news.discovery.com/space/seti-to-scour– |
| the-moon-for-alien-tech-111227.htm. |


