৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽
৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

Last updated:
৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে

আমরা কারা? কোথা থেকে এসেছি আমরা?

এই প্রশ্নগুলো হাজার হাজার বছর ধরে মানুষকে বিব্রত করেছে, যেগুলোর উত্তর সেপিয়েন্সের সুদীর্ঘ ইতিহাসে কেবল সাম্প্রতিক কয়েকশত বছরে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়েছে বিবর্তনবাদের হাত ধরে। প্রায় চার বিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবীর বুকে আবির্ভাব ঘটে প্রাচীনতম জীব আদিকোষী ব্যাকটেরিয়ার,আড়াইশ মিলিয়ন বছর আগে স্তন্যপায়ী,আড়াই মিলিয়ন বছর আগে অস্ট্রালোপিথেকাস থেকে হোমো হ্যাবিলিস ও হোমো ইরেক্টাসের আবির্ভাব, অতঃপর হোমো ইরগেস্টারের পর হোমো সেপিয়েন্স ও হোমো নিয়ানডার্থাল — এই দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস পাড়ি দিয়ে গড়ে উঠেছে আজকের সেপিয়েন্সের একার রাজত্ব, যাকে আমাদের ভাষায় বলি ‘মানবসভ্যতা’। কিন্তু মানুষের কৌতূহলী মন আজ আর শুধু নিজের ইতিহাসটুকু নিয়ে সন্তুষ্ট নয়,সে এখন প্রশ্ন করছে — আমরা কি একা এই মহাবিশ্বে? নাকি আছে আমাদেরই মতো আরো অনেক বুদ্ধিমান সভ্যতা?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ফ্রাঙ্ক ড্রেক ১৯৬১ সালে উপস্থাপন করেন তাঁর বিখ্যাত ‘ড্রেক ইকুয়েশন’। এই সমীকরণে তিনি মানুষের সাথে যোগাযোগে সক্ষম,এমন প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর সভ্যতার সম্ভাব্য সংখ্যা নির্ধারণের জন্য ৭টি প্যারামিটারের গুণফল উল্লেখ করেন। বহির্জাগতিক সভ্যতার খোঁজে এই সমীকরণটি এখনো যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক, কিন্তু এই সমীকরণের কিছু দুর্বলতা আছে। প্রথমত আমরা জানি না এই প্যারামিটারগুলোর বাইরে আর কোনো প্যারামিটার প্রয়োজন কিনা বুদ্ধিমান সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য। দ্বিতীয়ত, এই প্যারামিটারগুলোর বেশ কয়েকটির মান সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই, যেমন- ঠিক কতগুলো গ্রহে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে কিংবা প্রাণের বিকাশপ্রাপ্ত গ্রহগুলোতে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে কিনা যারা আমাদের সাথে প্রযুক্তিগতভাবে যোগাযোগে সক্ষম। ফলে প্যারামিটারগুলোর যেকোনো একটির মানের পরিবর্তনের সাথে পুরো গুণফলের বিশাল পরিবর্তন ঘটে যায়।

illustrated
The Possibility of Alien
Main source
Forbes

অন্তত ৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে

ড্রেক সমীকরণের এসব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের একদল বিজ্ঞানী একটি নতুন মহাজাগতিক বিবর্তনভিত্তিক ক্যালকুলেশন উপস্থাপন করেছেন, যা সাজেস্ট করে যে অন্তত ৩৬টি বুদ্ধিমান সভ্যতা বর্তমানে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতেই অবস্থান করছে। এই ক্যালকুলেশনকে বলা হচ্ছে “অ্যাস্ট্রোবায়োলজিক্যাল কোপারনিকান লিমিট” , যেখানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়:

১. নক্ষত্র গঠনের ইতিহাস

২. ধাতু-সমৃদ্ধ নক্ষত্রগুলো কতটা কমন

৩. নক্ষত্রগুলোর বাসযোগ্য জোনে পৃথিবীসদৃশ গ্রহের উপস্থিতি

এই ক্যালকুলেশন অনেকগুলো ধারণার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। আমাদের পৃথিবীকে বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, যোগাযোগে সক্ষম একটা প্রজাতির বিবর্তিত হতে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর সময় লেগেছে‌। ধরে নেওয়া হয়েছে যে, পৃথিবীর মতোই অন্য কোনো গ্রহে বুদ্ধিমান জীবের উদ্ভবের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন বছর প্রয়োজন। আরেকটা অনুমান হলো, একটি প্রযুক্তিভিত্তিক সভ্যতা কমপক্ষে ১০০ বছর টিকে থাকার কথা‌। কিন্তু এই ক্যালকুলেশন কতটা ভরসাযোগ্য? এই ৩৬ টি সভ্যতার একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব ১৭ হাজার আলোকবর্ষ, অর্থাৎ বিশাল দূরত্বের কারণে অন্য সভ্যতার সাথে আমাদের যোগাযোগ এই মুহূর্তে প্রায় অসম্ভব, কিন্তু একই কারণে তাদের অস্তিত্বকেও সরাসরি নাকচ করে দেওয়ার উপায় নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক টম ওয়েস্টবাই এই গবেষণাটির ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী, “বুদ্ধিমান সভ্যতার সংখ্যা নির্ধারণের চিরায়ত পদ্ধতি জীবনের উদ্ভব সংক্রান্ত অনুমানের মানের ওপর করে, কিন্তু এই বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য মতানৈক্য দেখা যায়। আমাদের স্টাডি নতুন ডেটা ব্যবহার করে এই অনুমানগুলোকে সরলীকৃত করে, আমাদের গ্যালাক্সিতে বুদ্ধিমান সভ্যতার সংখ্যার বিষয়ে সলিড ধারণা প্রদান করতে সক্ষম।“ (1)

হাইড্রোজেনহিলিয়াম নির্ভর জীবন কী সম্ভব?

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। তবে E. coli ও ইস্টের ওপর সাম্প্রতিক এক গবেষণা চমকপ্রদ ফলাফল প্রদান করে। বিজ্ঞানীরা একগুচ্ছ ফ্লাস্কে কিছু E. coli এবং ইস্ট রেখে সেগুলোর এক-তৃতীয়াংশ হাইড্রোজেন, এক-তৃতীয়াংশ হিলিয়াম এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ বায়ু দ্বারা ভর্তি করেন। পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায়, হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামপূর্ণ ফ্লাস্কে E. coli এর বৃদ্ধি দ্বিগুণ এবং ইস্টের বৃদ্ধি আড়াই গুণ স্লো হয়ে গেলেও টিকে থাকতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, এরকম বিরূপ পরিবেশেও E. coli অ্যামোনিয়া, মিথেনেথিওল ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো বর্জ্য উৎপাদনেও সক্ষম হয়, যেগুলো এরই মধ্যে বহির্জাগতিক জীবনের চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, হাইড্রোজেন-হিলিয়ামের ওপর নির্ভরশীলতার গুরুত্ব কী?

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

প্রথমত, মহাবিশ্বের মোট ভরের ৯২ ভাগ হাইড্রোজেন এবং ৭ ভাগই হিলিয়াম, যেখানে অক্সিজেন মাত্র ০.১ ভাগ। অর্থাৎ হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের প্রাচুর্যের কারণে প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে কোথাও না কোথাও জীবন হয়তো হাইড্রোজেন-হিলিয়ামকে কেন্দ্র করে বিবর্তিত হয়েছে‌, গড়ে তুলেছে বুদ্ধিমান সভ্যতা। আমাদের সৌরজগতেই আছে বৃহস্পতি নামক গ্যাসীয় একটি গ্রহ, যার বায়ুমণ্ডল ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন এবং ১০ ভাগ হিলিয়াম দিয়ে গঠিত, কিন্তু সমস্যা হলো বৃহস্পতির কোনো পাথুরে পৃষ্ঠ নেই, যেখানে জীব সাসটেইন করতে পারে। এখনও পর্যন্ত আমাদের টেলিস্কোপগুলো যেসব এক্সপ্লানেটের সন্ধান দিয়েছে, সেগুলোর একটা বড় অংশই বৃহস্পতির মতো গ্যাস জায়ান্ট, যাদের বায়ুমণ্ডলের গঠন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আশার কথা, সম্প্রতি উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ হয়তো এমন বহু গ্যাসীয় কিংবা পাথুরে গ্রহের সন্ধান দিতে পারবে, যেগুলোর বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন- হিলিয়াম দ্বারা বেষ্টিত হওয়া সত্ত্বেও সম্ভাব্য জীবনের আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হবে।(২)

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে সমুদ্রপ্লাবিত গ্রহের প্রাচুর্য প্রাণের উৎস হতে পারে

আমাদের সৌরজগতে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা এবং শনির উপগ্রহ এনসেলাডাসের উল্লেখযোগ্য অংশ বরফাচ্ছাদিত এবং এ আচ্ছাদনের নিচে সমুদ্র প্রবাহিত। বিজ্ঞানীরা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ৫৩টি এক্সপ্লানেট বিশ্লেষণ করে এমনই অন্তত এক-চতুর্থাংশ গ্রহ খুঁজে পান। এই ৫৩টি এক্সপ্লানেটের মধ্যে ট্রাপিস্ট-১ স্টার সিস্টেমের ৭টি গ্রহও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব গ্রহের আকার, ঘনত্ব, কক্ষপথ, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা, ভর এবং নক্ষত্র থেকে দূরত্বের মতো ভেরিয়েবলগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। এক্সপ্লানেটগুলোতে ভূ-উপরস্থ সমুদ্রের পাশাপাশি বরফের স্তরের নিচে ভূ-গর্ভস্থ সমুদ্রের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। ইউরোপা ও এনসেলাডাসের বরফাচ্ছাদিত সমুদ্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, উপরের বরফের ফাটলের মধ্য দিয়ে এর স্রোতধারা ভূ-গর্ভস্থ শক্তির প্রভাবে বাইরে ফোয়ারার আকারে (অনেকটা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো) বেরিয়ে আসে যাকে ‘প্লিউম’ বলে। নাসার গোডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের প্লানেটারী বিজ্ঞানী লিনি কুইক বলেন, “ইউরোপা ও এনসেলাডাসের উৎক্ষিপ্ত পানির প্লিউম থেকে আমরা বলতে পারি যে, এদের বরফশেলের নিচে ভূ-গর্ভস্থ সমুদ্র রয়েছে এবং প্লিউমকে পরিচালিত করার মতো শক্তিও রয়েছে, যেগুলো জীবন গঠনের জন্য দুটো প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই যদি আমরা মনে করি যে এই স্থানগুলো আপাত আবাসযোগ্য, সম্ভবত অন্য কোনো প্লানেটারী সিস্টেমেও এর চেয়ে বৃহত্তর কোনো আবাসযোগ্য ভার্শন রয়েছে।”

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

গবেষণা থেকে আরো জানা গিয়েছিল, এই সম্ভাব্য ওশেন ওয়ার্ল্ডের অনেকগুলো, এমনকি ইউরোপা ও এনসেলাডাসের চেয়েও অধিকতর শক্তি নির্গমন করতে সক্ষম। এই এক্সোপ্লানেটগুলো বর্তমানে ডিটেইলে পর্যবেক্ষণ করার পক্ষে যথেষ্টই দূরে, বিশষত ডিটেইলগুলো প্রায়ই অস্পষ্ট হয়ে যায় এদের নক্ষত্রের আলোর জন্য। বর্তমানে আমাদের হাতে আছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এবং কেই-বা বলতে পারে, পানি ও শক্তির প্রাচুর্যে ভরা কোনো এক্সপ্লানেটে হয়তো পাওয়া যাবে কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর খোঁজ! (3)

সৌরজগতের রহস্যময় বস্তু অমুয়ামুয়া

২০১৭ সালে হাওয়াই অবজারভেটরীতে প্যানকেকের মতো ছড়ানো, এক মিলিমিটারের চেয়েও কম পুরু এক রহস্যময় বস্তু ধরা পড়ে। এটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অমুয়ামুয়া’ (Oumuamua) , হাওয়াইয়ান ভাষায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘দূর থেকে আগত প্রথম বার্তাবাহক’‌। এর এই অদ্ভুত নামের কারণ হলো, এটি এখনো পর্যন্ত জানা প্রথম এমন একটি আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু যা সৌরজগৎ অতিক্রম করে যাচ্ছিল। প্রথমে এটিকে খুব সাধারণ একটি ধূমকেতু বা গ্রহাণু হিসেবেই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হলো, ধূমকেতুর মতো এটির কোনো লেজ দেখা যায়নি, গ্রহাণুর আকৃতির সাথেও এর কোনো সাদৃশ্য ছিল না। এ সকল কারণে হার্ভার্ড এস্ট্রোনমি ডিপার্টমেন্টের প্রধান এভি লোয়েবের মনে সন্দেহ জাগে, এটি আদৌ প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট কোনো বস্তু, নাকি কোনো বুদ্ধিমান জীবের প্রস্তুতকৃত প্রযুক্তি? ( 4)

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

এই সন্দেহ থেকে তিনি স্যামুয়েল বিয়েলির সাথে গবেষণা করে যৌথভাবে একটি পেপার প্রকাশ করেন যেখানে সাজেস্ট করা হয়, অমুয়ামুয়া সম্ভবত কোনো এলিয়েন সভ্যতার প্রস্তুতকৃত একটি আলোকতরী। পেপারটিতে দুটো সম্ভাবনা প্রস্তাব করা হয় – হয় এটি কোনো অকেজো ক্র্যাফটের ধ্বংসাবশেষ, নয়তো গ্যালাক্সির অন্য কোনো প্রান্ত থেকে লঞ্চ করা একটি অনুসন্ধানী প্রোব। এ সম্ভাবনাগুলোর পক্ষে লোয়েব বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেন।

১.বস্তুটি থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো থেকে বোঝা যায় এর আকৃতি অনেক বেশি লম্বা ও চ্যাপ্টা। এটির গতি নির্দেশ করে যে এটির উৎপত্তি হয়েছে “বিরামের স্থানীয় স্ট্যান্ডার্ড” থেকে, যা অর্জিত হয় নিকটবর্তী নক্ষত্রপ গতির গড় হিসেবে, অর্থাৎ এটি একটি আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু।

২. অমুয়ামুয়ার আরেকটি রহস্যময় ফিচার হলো এটির ত্বরণ (acceleration)। লোয়েবের মতে, বস্তুটি সূর্যের বিকিরণকে নিজের শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে, যাকে বলা হয়েছে ‘লাইটসেইল’ বা আলোকতরী‌। গতানুগতিক রকেট প্রোপালশানের বিকল্প হিসেবে, লাইটসেইল সূর্য বা লেজারের বিকিরণ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় চলনশক্তি অর্জন করে। লোয়েব ও বিয়েলির ক্যালকুলেশন অনুসারে অমুয়ামুয়ার অস্বাভাবিক জ্যামিতিক আকৃতি এ ধরনের প্রোপালশানের জন্য একদম পারফেক্ট।

৩. অমুয়ামুয়ার প্রত্যাশিত গতিপথ ( ট্রাজেক্টরি ) থেকে বিচ্যুতির ব্যাপারে লোয়েব বলেন, ” বিচ্যুতি যদিও তেমন বেশি নয়, কেবল দশ শতাংশ, তবুও এটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিচ্যুতির মূল কারণ কী? আমরা ধূমকেতুর ক্ষেত্রে এই মাত্রার বিচ্যুতি সূর্যের তাপে এর বরফ উত্তপ্ত হয়ে গ্যাস নির্গমনের ফলে ঘটে বলে পর্যবেক্ষণ করেছি, কিন্তু অমুয়ামুয়ার চারপাশে কোনো লেজ দেখা যায়নি এবং গ্যাস নির্গমনের ফলে ঘূর্ণনের যে পরিবর্তন হওয়ার কথা, তাও দেখা যায়নি, অর্থাৎ এই ধরনের বিচ্যুতি সূর্যের বিকিরণজনিত প্রেশারের ফলেই একমাত্র সম্ভব।”

লোয়েবের মতে, এটা সম্ভব যে কোনো সভ্যতা হয়তো এমন প্রযুক্তিগত পরিপক্বতা অর্জন করেছে, যা রকেটের স্বল্প জ্বালানীর সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে নক্ষত্রের অফুরন্ত আলোকে ব্যবহারের সক্ষমতা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, লোয়েব অমুয়ামুয়ার উপর ভিত্তি করে ‘Extraterrestrial : The First Sign of Intelligent Life Beyond Earth’ নামে একটি বই রচনা করেছেন। বিস্তারিত জানুন২০২১ সালে এলিয়েনদের নিয়ে ৯ টি শিক্ষা

পৃথিবীতেই রয়েছে UFO দেখার সুযোগ

এলিয়েনদের শনাক্ত করার জন্য বিজ্ঞানীরা যখন উন্নত মানের টেলিস্কোপ নিয়ে কাজ করছেন, তখন পৃথিবীতেই এলিয়েন হান্টারদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বেশকিছু স্থান, যেখানে Unidentified Flying Objects বা UFOএর দেখা মিলেছে বলে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে। (5)

চিলি

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽
Alien landscape in Chile
Cascade Travel

ইউএফওর সাক্ষাৎ পাওয়ার সবচেয়ে বেশি রেকর্ড রয়েছে চিলির। দেশটির নিম্ন আর্দ্রতা, উঁচু উঁচু গিরিখাত এবং পরিষ্কার দূষণমুক্ত আকাশ চিলিকে সারা বিশ্বের ইউএফও অন্বেষীদের কাছ সবচেয়ে পছন্দের একটি স্থানে পরিণত করেছে। দেশটি এমনকি CFEAA (Committee for Studies of Anomalous Aerial Phenomena) নামে একটি সরকারি সংস্থা গড়ে তুলেছে, যেটা চিলির এয়ার ফোর্সের নিয়ন্ত্রণে আকাশের অজানা ঘটনাগুলোর তদন্ত করে। চিলিতে এমন কয়েকটি জনপ্রিয় স্থান হলো:

  • প্যারানাল অবজারভেটরী(উত্তর চিলি)
  • আলমা অবজারভেটরী
  •  সান ক্লিমেন্তে ইউএফও ট্রেইল
  • আল্কি দোমোস হোটেল
  • মোস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল হোটেল
  • আন্দিস ইউএফও ট্যুরস

ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের উইল্টশায়ারে বিখ্যাত স্টোনহেঞ্জের কাছেই মাঠে রহস্যজনক বৃত্তাকার প্যাটার্ন আবির্ভূত হয়। বৃহদাকার ডিস্কসদৃশ বস্তু এই প্যাটার্নের উপর দিয়ে উড়ে বেড়ানোর বহু সাক্ষ্য আছে। ধারণা করা হয়, জায়গাটি এলিয়েনদের স্পেসশিপ ল্যান্ডিং প্যাড বা লোকেশন মার্কার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ‘Area 51’ বহুল চর্চিত একটি জায়গা। এই মিলিটারী ইনস্টলেশনটি লাস ভেগাস থেকে ১০০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। ইউএফও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসীদের মতে, এই এলাকায় বিধ্বস্ত এলিয়েন ও তাদের এয়ারক্রাফট নিয়ে গবেষণা করা হয় এবং এলিয়েন টেকনোলজির উপর ভিত্তি করে এয়ারক্রাফট প্রস্তুত করা হয়। সম্প্রতি অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে এলিয়েন ও তাদের স্পেসশিপগুলো নেভাডার লিঙ্কন কাউন্টির পাপুস পর্বতমালার পাদদেশে ভূ-নিম্নস্থ ফ্যাসিলিটিতে এরিয়া-৫১ থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। তাছাড়া অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের সেডোনাও ইউএফও শনাক্তকরণের একটি জনপ্রিয় স্থান। অরবস, পোর্টালস, এলিয়েন এবং ‘বিগফুট’ ঘিরে বিস্ময়কর পরিমাণ রিপোর্টেড রেকর্ড রয়েছে এখানে। এখানকার ‘ব্র্যাডশো র‍্যাঞ্চ’ও একটি রহস্যময় স্থান। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার জশুয়া ট্রি ন্যাশনাল পার্ক আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থান, যেখানে একসময় ৩০০টি খনি ছিল।

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার ‘ইউএফও রাজধানী’ খ্যাত ‘ওয়াইক্লিফ ওয়েল’ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ইউএফও হটস্পটের একটি হিসেবে বিবেচিত । এখানে শুস্ক মৌসুমের শুরুতে মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে ইউএফওর দেখা মেলে। এ সময়ে এখানে দুইদিনে অন্তত একবার ইউএফও দেখার নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে।

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

রাশিয়া

৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

রাশিয়ার মলিওবকা গ্রামটি পার্ম এবং ভের্দলোভস্ক এলাকার সীমানায় অবস্থিত। গ্রামের বিপরীত পাশে সিলভা নদীর বাম তীরে বিখ্যাত ‘মলিওবকা ট্রায়াঙ্গাল’ অবস্থিত। আশির দশকে পার্মের ভূতত্ত্ববিদ এমিল ব্যাশুরিন একটি বৃত্তাকার, ২০৬ ফুটের প্রতিকৃতি স্নোয়ের ওপর খুঁজে পান। তারপর থেকেই জায়গাটি ইয়েতি, ইউএফও, উজ্জ্বল গোলক এবং প্লাজময়ড এক্সপ্লোরেশনের জন্য উৎসাহীদের কাছে একটি জনপ্রিয় লোকেশনে পরিণত হয়। নিকটবর্তী তলেত্তি-ও একটি জনপ্রিয় স্থান, যেখানে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শস্যবৃত্ত (ফসলের মাঠে রহস্যময় বৃত্ত)‌।

মেক্সিকো

মেক্সিকোর রসওয়েল ইউএফওর প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয় ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ের প্রথম থেকেই, যখন মিলিটারী নিকটবর্তী মরুভূমিতে ইউএফওর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দেয়। এলিয়েন ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের দাবি, একটি ফ্লাইং সসারের ধ্বংসাবশেষ, এমনকি এলিয়েনদের মৃতদেহ গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বুদ্ধিমান সভ্যতার খোঁজে মানুষের চেষ্টা নিরন্তর। নাসার ‘নেক্সাস’ গবেষণা সমন্বয়কারী নেটওয়ার্ক এক্সপ্লানেটগুলোর ইতিহাস, ভূতত্ত্ব এবং জলবায়ু জীবন সৃষ্টিতে কীভাবে পরস্পরের সাথে ইন্টারেক্ট করে, তা জানতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ‘ব্রেকথ্রু লিসেন প্রোগ্রাম’ পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান জীবনের সন্ধানে কৃত্রিম রেডিও এবং অপটিক্যাল সিগন্যাল শনাক্তকরণে সার্ভে অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া SETI এর অ্যালেন টেলিস্কোপ, ক্যালিফোর্নিয়ার নিকেল টেলিস্কোপ, হাওয়াইয়ান Pan-STARRS টেলিস্কোপও একই উদ্দেশ্যে কাজ করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সাড়াজাগানো ঘটনা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের উৎক্ষেপণ, যা আমাদের বুদ্ধিমান সভ্যতার খোঁজে এক বিরাট পদক্ষেপ। আরও পড়ুনঃ ২০২১ ও আমাদের বৈজ্ঞানিক অর্জন

কেনো বুদ্ধিমান সভ্যতা আজও আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি? আর কেনোই’বা তারা আমাদের আক্রমণ করছেনা?

Writer
LeeHon
Criticized Alien
From Darwinian Perspectives 👽

আমরা নিশ্চিতভাবে এখনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারিনি যে এলিয়েনদের অস্তিত্ব আদৌ আছে কিনা কিন্তু আমরা আমাদের সাম্প্রতিক ডেটার উপর ভিত্তি করে এলিয়েনদের সম্পর্কে Temporal agnostic Practice বা টেপ করতে পারি। এর মানে হলো , আমাদের সাম্প্রতিক ডেটা অনুসারে, এলিয়েনদের অস্তিত্ব খুবই সম্ভাব্য আর নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা আমাদের সংশয়বাদী মনস্তত্বকে জাগ্রত রাখবো বিকল্প সম্ভাবনাগুলোকেও সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করার জন্য। UFO এনকাউন্টার সম্পর্কে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানা যায় যে, ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সংঘটিত ১৪৪ টি UFO এনকাউন্টার ফিজিক্যাল এবং অফিশিয়ালি কয়েকটি UFO- এর ব্যাপারে স্বীকৃতিও দেয়া হয়েছিলো। তবে সেগুলো বিদেশী নজরদারি সরঞ্জাম অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নজরদারি কোনো প্রকল্প হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মোট কথা, এ গবেষণা ১৪৪টি ইউএফও এনকাউন্টারের মধ্যে কোনো একটিকেও এলিয়েনদের সাথে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। কিন্তু ফোর্বসের সূত্র মতে, চিলি, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ায়, রাশিয়া ও মেস্কিকোতে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ইউএফওর ঘটনা গুলোকে যদি আমরা এলিয়েনদের সাথে সত্যিই সম্পৃক্ত প্রমাণ করতে পারি তবে হয়তো আমরা কোনো এক সময় এ ব্যাপারে জোরদারভাবে কথা বলতে পারবো তবে এগুলোকে আমরা মনোবিজ্ঞানের আলোকেও ব্যাখ্যা করতে পারি। এরিয়া- ৫১ এর প্রতি আমাদের বিশ্বাসের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে আমাদের মস্তিষ্কের প্যাটার্ন দেখার প্রবণতা। কল্পনা করুন আজ থেকে ২ মিলিয়ন বছর পূর্বের একজন হোমোহেবিয়েলসের কথা। যে মাটি খুঁড়ে একটি মিষ্টি আলু বের করার চেষ্টা করছে, সে তার চারপাশে কী ঘটছে সে সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখেনা। যদি তার পাশে কোনো শব্দ হয় সেটা হয় পাতার শব্দ হবে অথবা হতে পারে কোনো বাঘের শব্দ। কিন্তু সে নিশ্চিত নয় শব্দের সোর্স সম্পর্কে। এ মুহূর্তে সে যদি সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে একটি শব্দকে নিছক পাতার শব্দ মনে করে তবে মর্মান্তিকভাবে তার মৃত্যু হবে। কারণ ছায়াকে বাঘ মনে করার চেয়ে বাঘকে ছায়া মনে করাটা বেশি বিপদজনক( ডকিন্স, আউটগ্রোয়িং গড) । এজন্যই আমাদের পূর্বসূরিদের মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক সম্ভাবনাকে গ্রহণ করে নেয়। তারা ছায়াকেই বাঘ মনে করতে শুরু করে। কারণ ছায়াকে যদি তারা বাঘ ধরে নেয় তবে সত্যিকার বাঘ হানা দিলেও সেই বিপর্যয় থেকে তারা নিষ্কৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে । আর এ ভাবেই আমাদের পূর্বসূরীদের মধ্যে এজেন্ট দেখার প্রবণতা শুরু হয়। তারা অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় স্থানেও উদেশ্য খুঁজতে শুরু করে। Area 51 অনেক উচ্চমাত্রিকভাবে রেস্ট্রিক্টেড একটি এলাকা। কতৃপক্ষ থেকে অনুমতি ব্যতীত সেখানে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। মূলত এরিয়া-৫১ এটি ইউনাইটেড স্টেট এয়ার ফোর্স ( Wikipedia) । এই ফেসিলিটিকে অফিশিয়ালি Homey Air force Base ও বলা হয়। এখানকার অপারেশনের কোনোটাই পাবলিক করা হয়না। এটা স্বাভাবিকভাবে চিন্তা করা হয় যে এখানে এক্সপেরিমেন্টাল এয়ারক্রাপট ও ওয়েপন সিস্টেম টেস্ট করা হয়। ১৯৫৫ সালে USAF প্রথম দৃষ্টি অর্জন করে বিশেষ করে একটি ফ্লাইট যার নাম Lockheed U-2 এয়ারক্রাফট সাইটের মাধ্যমে। এখানকার তীব্র গোপনীয়তার কারণে Conspiracy Theory জন্ম হয় বা মানুষের এজেন্ট দেখার সাথে সম্পৃক্ত ব্রেন সার্কিট ট্রিগার করে আর তারা এটাকে এলিয়েনদের ফ্লায়িং শশার বা UFO ভাবতে শুরু করে! কারণ ছায়াকে বাঘ ভাবা, বাঘকে ছায়া ভাবার চেয়ে কম বিপজ্জনক এমন একটি মূলনীতিতে আমাদের ব্রেন বিবর্তনীয়ভাবে বিশ্বাস করে। আর এজন্যই আমাদের মস্তিষ্ক উচ্চতর সম্ভাবনাকেই ধরে নিয়েছে। মানব মস্তিষ্ক ধরে নিয়েছে যে এখানে নিশ্চয় এলিয়েন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হয় যা বর্হিবিশ্বের কাছে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। আরও জানুনঃ ২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার

অন্যদিকে অমুয়ামুয়া যদি সত্যিকার অর্থেই এলিয়েনদের এয়ারক্রাপ্ট হয়ে থাকে তবে এটি কেনো আমাদের সৌরজগতে প্রবেশ করেছিলো? এই ক্রাফট কি গ্যালাক্সির অন্য কোনো প্রান্ত থেকে আমাদের ইনফরমেশন সংগ্রহ করতে এসেছিলো? সেই হায়ার সিভিলাইজেশন আমাদের ইনফরমেশন দিয়ে কি করতে চায়? তারা আমাদের সোলার সিস্টেমকে দখল করতে চায়? আমরা কি সেই হায়ার ইন্টেলেকচুয়াল এলিয়েনদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত থাকবো? চলুন । আমরা ডারউইনের বিবর্তনের আলোকে এ ব্যাপারটি একবার বোঝার চেষ্টা করি। আমরা জানি যে, প্রতি বছর ভাইরাসের উপর একই এন্টিভাইরাস কাজ করেনা। যেমন আমরা এক্ষেত্রে HIV ভাইরাসের কথা বলতে পারি। বংশগতির মূল উপাদান হিসেবে তারা আমাদের মতো ডিএনএ ব্যবহার করেনা, তাদের এক কোষী দেহে ডিএনএ বলে কিছু নেই, আছে RNA। এই RNA- এর মাধ্যমেই তারা পরবর্তী প্রজন্মে জিন হস্তান্তর করে। এ জন্য তারা প্রথমে পোষক দেহে ঢুকে পড়ে। মানুষের কোষের প্রোটিন CD4 ও CCR5 কে ব্যবহার করে এদের সাথে নিজেকে জুড়ে দিয়ে কোষের ভেতর প্রবেশ করে ( বিবর্তনের পথ ধরে, বন্যা আহমেদ) । আর বিশেষ এক প্রক্রিয়ার মানুষের কোষের ডিএনএর ভেতর RNA কপি করে। ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ এনজাইম প্রয়োজন যা শুধু ভাইরাসের কোষেই থাকে। এ এনজাইমটির নাম রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেস। এটি অত্যন্ত দূর্বল ধরণের প্রাচীন এক ম্যাকানিজম যার ফলে দেখা যায় যে এরা নিজেদের অনুলিপি তৈরি করার সময় অনেক সময় ভুল করে ফেলে। আর এভাবে পরবর্তী প্রজন্মে অসংখ্য মিউটেশন ঘটতে থাকে, অজস্র প্রকরণ তৈরি হয়। যার ফলে আমরা যতই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করি তা ভাইরাসের প্রতিটি প্রকরণকে ধবংস করতে পারেনা। কোনো না কোনো প্রকরণ ঠিকই এই পরিস্থিতি সামলে নিয়ে টিকে থাকে। এবং একটা সময় এরা সুপার বাগেও পরিণত হয়। এলিয়েনরাও অনেকটা একইকারণে আমাদের উপর কোনো আক্রমণ করছেনা। যদিও আমরা ভাইরাস নয় কিন্তু আমাদের প্রযুক্তি যথেষ্ট উন্নত। সুপার ইন্টেলেকচুয়াল এলিয়েন যদি কোনো কারণে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে বা আক্রমণের প্রচেষ্টা তবে এটা অনেকটা ল্যাবরেটরির ভাইরাসের উপর প্রতিষেধক প্রয়োগের মতোই হয়ে যাবে। এন্টি ভাইরাস প্রয়োগ করার কারণেই ভাইরাস আপডেট হয়। আমরা যদি এলিয়েনদের সম্পর্কে জানতে পারি তবে আমরা জ্ঞানগত দিক থেকে আরো অনেক বেশি পরিবর্তন হয়ে যাবো, আমাদের ডিএনএ পরিবর্তন না হলেও আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন রিওয়্যার হবে, আমরা মনের দিক থেকে এলিয়েন এনকাউন্টারের জন্য নিজেদেরকে প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত করে নেবো! ভাইরাসের শরীরের একটি দূর্বল ম্যাকানিজম যেমনিভাবে তাদেরকে সুপারবাগে পরিণত করতে পারে। আমরা মানব সভ্যতা যতই দূর্বল হই না কেনো, আমরা যতই শক্তিহীন হই না কেনোঃ কোনো বুদ্ধিমান সভ্যতা চাইবেনা তার ইনফরমেশন অন্য কেউ জানুক। কারণ যদি গ্যালাক্সিতে সত্যি কোনো বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকে এবং তারা যদি যথেষ্ট বুদ্ধিমান হয় তবে তারা তাদের ইনফরমেশন লুকিয়ে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে কারণ ইনফরমেশন ফ্ল্যাশ করে দেয়া এটা কোনো বুদ্ধিমান প্রাণীর চিহ্ন নয়, এটা আমরা আমাদের গ্রহের বিভিন্ন সংঘঠনের সাইকোলজি থেকে ঠিকই বুঝতে পারি যেমনঃ গুগল যদি তার আভ্যন্তরীণ ইনফরমেশন গোপন রাখতে না পারে তবে এটা তাদের ইন্টেলেকচুয়ালিটির পরিচয় বহন করেনা।

আবার অনেক বেশি বুদ্ধিমান হওয়ার মানে এই নয় যে তারা অনেক বেশি ক্ষমতাবান। অক্টোপাস ও ডলফিন যথেষ্ট বুদ্ধিমান কিন্তু তাদের পক্ষে কোনো প্রযুক্তি তৈরি করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির জন্য শুধু বুদ্ধি নয়, যন্ত্র তৈরির উপযোগী হাতও লাগে। আর আমরা মানব সভ্যতা অনেক বেশি বুদ্ধিমান হলেও মাঝেমাঝে মশার কামড়েও আমাদের মৃত্যু হয়। করোনায় লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে যদিও আমরা প্রযুক্তিগতভাবে দারুণ ক্ষমতাবান। কিন্তু ভ্যাক্সিন তৈরির পূর্বে আমাদের প্রযুক্তির যথেষ্ট সময় লেগে গিয়েছিলো করোনার মত ক্ষুদ্র একটি ভাইরাসকে মোকাবিলা করতে! হয়তোবা বুদ্ধিমান সভ্যতার গ্রহে ক্ষতিকর কোনো ভাইরাস নেই কিন্তু আমাদের গ্রহে মারাত্মক ক্ষতিকর কোনো জীবাণু আছে। আমাদের আক্রমণ করতে আসার অর্থ হলো সে ক্ষতিকর জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে তাদের মৃত্যু ঘটা অথবা এমনও হতে পারে আমাদের দেহে উপস্থিত ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার প্রতি তারা ভীতসন্ত্রস্ত। এজন্য তারা অমুয়ামুয়ার মাধ্যমে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ করলেও তারা আমাদের গ্রহে প্রবেশ করার সাহস করছেনা।

এছাড়া বুদ্ধিমান সভ্যতা বিবর্তিত হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো ইকোসিস্টেমে। আমাদের ইকোসিস্টেমের অনেককিছুর সাথেই তারা পরিপূর্ণ ভাবে অভিযোজিত নয়। আগুনের আবিষ্কারের পর মানব সভ্যতা আকস্মিক খাদ্য শৃঙ্খলের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে আসে। এর ফলে এখনও আমরা ইকোসিস্টেমের সাথে পরিপূর্ণভাবে অভিযোজিত হতে পারিনি, যেখানে অন্যান্য প্রাণীরা বাস্তুসংস্থানের সাথে অভিযোজিত হতে লাখ লাখ বছর সময় নিয়েছে সেখানে আমাদের হাতে কোনো সময়ই ছিলোনা। যে জন্য এত অল্প সময়ে আমরা এখনো আমাদের আদিম শিকারী সংগ্রাহক জীবনের নিউরাল সার্কিট থেকে বের হতে পারছিনা। যে জন্য আমাদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা ও একাকীত্ব কাজ করে। আমাদের ডিএনএ এখনো লাখ লাখ বছর পূর্বের শিকারী সংগ্রাহক জীবনে পড়ে থাকে। গ্যালাক্সির অন্য কোন প্রান্তের ভিন্ন গ্রহের এলিয়েনরাও মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বিবর্তিত হয়েছিলো। আকস্মিক আমাদের ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করার পর আমাদের ইকোসিস্টেম তাদের শরীর ও মস্তিষ্কের উপর ক্ষতিকর কোনো প্রভাবও সৃষ্টি করতে পারে আর এতে করে তারা পতিত হতে পারে ব্যাপক মানসিক বিপর্যয় ও অসহায়ত্বের মধ্যে। একটি সভ্যতা যদি অনেক বেশি বুদ্ধিমান হয় তবে সে নিশ্চয় উন্মাদের মত আমাদের ইকোসিস্টেমে ঢুকে পড়বেনা। কারণ অত্যন্ত ক্ষুদ্র কিছু চলকই তাদের উপর বিশাল কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারবে , সহসা তারা এ শক মোকাবিলা করতে পারবেনা, হোক তারা যতই বুদ্ধিমান। আমরা প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকার ফলে কি আমরা আমাদের আদিম মনস্তত্ব পরিবর্তন করতে পেরেছি?

প্রায় লক্ষ বছর পূর্বে হোমোসেপিয়েন্স রান্না আবিষ্কারের পর থেকে নরম খাবার খেতে শুরু করে। নরম খাবার খাওয়ার ফলে তাদের অন্ত্রের উপর চাপ কমে যায় আর অতিরিক্ত শক্তি তারা তাদের মস্তিষ্কের জন্য খরচ করে, এতে করে তাদের নিউরাল সার্কিট জটিল হয়। বড় মস্তিষ্কের জন্য আমাদের শরীরকে দণ্ড দিতে হয়েছে, ক্ষয় হয়েছে আমাদের পেশি। দু-পায়ে ভর করে পথ চলার কারণে নারীদের কোমর হয়ে যায় সরু আর মারা যায় লাখ লাখ মা ও শিশু। বুদ্ধিমত্তার সাথে মস্তিষ্কের আকারের একটি সম্পর্ক আছে। একটি গবেষণায় দেখা যায় শিম্পাঞ্জি ও অন্যান্য প্রাইমেটদের তুলনায় আমাদের ব্রেন বড় কারণ আমাদের কমপ্লেক্স সোশ্যাল কমিউনিকেশনের ক্ষমতা আছে। যে প্রজাতি যত বিরাট দল তৈরি করতে পারে তার মস্তিষ্কের আকারের সাথে দলের আকার সাদৃশ্যপূর্ণ( ব্রেন কি কমিউনাল চিন্তার জন্য অভিযোজিত?) । এলিয়েনরা যদি বড় মস্তিষ্কের হয় তবে তাদের মস্তিষ্ক শরীর থেকে বেশি শক্তি খরচ করবে। মস্তিষ্ককে চালনা করতে গিয়ে তাদের পেশি ক্ষয় হবে, তারা শারীরিক ভাবে হয়ে উঠবে দূর্বল। দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় এই ধরণের এলিয়েন উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম হলেও তারা তাদের শারীরিক দূর্বলতা থেকে মুক্ত নয়। যে জন্য তারা হয়তো আমাদের ভয়ও পেতে পারে ঠিক যেমনিভাবে আমরা ভয় পেতাম নিয়ান্ডারথালদের।। কারণ শারীরিক দূর্বলতার কারণে তাদের আবেগ অনুভূতি হতে পারে আমাদের থেকেও অনেক দূর্বল। বুদ্ধিমত্তায় শ্রেষ্ঠ হলেও তারা অনেক বেশি আবেগপ্রবণও হতে পারে। যেমনঃ আইনস্টাইন অনেক ইন্টেলেকচুয়াল হলেও তিনি মিউজিকের প্রতি আবেগপ্রবণ ছিলেন। রামানুজ অনেক বড় গণিতবিদ হওয়ার পরও তিনি বিদ্যার দেবীর কাছ থেকে অংক শিখতেন। নিউটন অনেক বুদ্ধিমান হলেও ইমোশনালি তিনি ছিলেন ক্রুদ্ধ। আবার বোলজম্যান থার্মোডায়নামিক্সে দারুণ অবদান রাখলেও অতিরিক্ত আবেগে সুইসাইড করেছেন। ইউভাল নোয়াহ হারারি অনেক বুদ্ধিমান হলেও জেনেটিক্যালি সে সমকামী। পুরুষের প্রতি তার সেকচুয়াল ইমোশন দূর হয়নি। কোনো একটি সভ্যতা অনেক বেশি বুদ্ধিমান হলেই যে তারা নিরাবেগ হবে তা একদম কাজের কথা নয়। হরিণ অতি-দ্রুত দৌড় দিতে পারে কিন্তু সে বাঘের ভয়ে ভীতু। আমরা প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক উন্নত কিন্তু আমরা ঈশ্বর ও জীনভূতে বিশ্বাস করি। হায়ার সিভিলাইজেশনেরও একটি বিবর্তনীয় ইতিহাস আছে, তাদের নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র আছে, আমাদের মধ্যে যেমন বাঘের ভয়ে এজেন্ট দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, ঈশ্বর নামক একটি মিথ্যা ধারণা তৈরি হয়েছে, তারাও হয়তো মিলিয়ন বছর অতীতে কোনো বিরাট হিংস্র জন্তুর সাথে টিকে থাকার জন্য যুদ্ধ করেছিল। যার ফলে আমাদের চেয়ে তাদের এজেন্ট ও প্যাটার্ন দেখার ক্ষমতা আরো অনেক বেশি। এ প্যাটার্ন দেখার ক্ষমতা যেমন তাদেরকে নাটকীয়ভাবে মহাবিশ্বকে বুঝতে সাহায্য করেছে ঠিক তেমনি একই প্যাটার্ন দেখার ক্ষমতা হয়তো তাদের মধ্যে অহেতুক ও অনর্থক আতঙ্কও তৈরি করেছে। আমাদের আবেগের উপর আমাদের বুদ্ধির নিয়ন্ত্রণ খুবই কম। আইনস্টাইন এত ট্যালেন্ট হওয়ার পরও সে বহুগামীতার আবেগে আক্রান্ত ছিলো, তার মধ্যে উগ্রতা ও অহংকার ছিলো। কারণ বুদ্ধিমত্তার সাথে আবেগের কোনো সম্পর্ক নেই। অনেক বিরাট শক্তিমানও আবেগের জন্য পরাজিত হতে বাধ্য হয়। আমরা এলিয়েনদের যতটা হিংস্র মনে করছি তারা ততটা হিংস্র নাও হতে পারে। আইনস্টাইনের অনেক বুদ্ধি আছে তার মানে তো এই নয় যে সে জনসিনার মত র‍্যাক্সলিন খেলবে! হতে পারে এলিয়েনরা শুধুই নিছক কৌতুহলি। কৌতুহলের বশেই তারা মহাকাশে বিভিন্ন প্রোব পাঠায়! তারা মহাবিশ্বে অন্য কোনো গ্রহে বুদ্ধিমান আছে কিনা সেটা বোঝার চেষ্টা করে! একান্ত অজানাকে জানার তাড়না থেকে। গ্যালাক্সিতে গ্রহের সংখ্যা এতটাই সীমিত নয় যে অবশ্যম্ভাবী ভাবে তারা মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছির মতো আমাদের কাছে ছুটে আসবে! এছাড়া হতে পারে, এলিয়েনরা এত বেশি উন্নত যে তারা ইন্টারস্টেলার ট্রাভেলের সংকটজনক পরিবেশের সাথে নিজেদের শরীরকে এটিউন করার জন্য বায়োবোট, প্রোগ্রাম্যাবল ম্যাটার অথবা মেট্রিওস্কা ব্রেনে পরিণত হয়েছে। যদি তেমন হয় তবে মহাবিশ্ব থেকে এমন কোনো রোবট এসে আমাদের গ্রহে পালিয়েও থাকতে পারে যারা প্রোগ্রাম্যাবল ম্যাটারের তৈরি। এরা নিজেদের শরীরকে চাইলে ভেঙে ফেলতে পারে আবার যেকোনো সময় তারা নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারে। আমি শুধু এটাই বলতে চাইছি, এলিয়েন যতই বুদ্ধিমান হোক তারা আমাদের মতোই দোষ ত্রুটি ও দূর্বলতায় পরিপূর্ণ সাধারণ প্রাণী। ঠিক যেমনি ডায়নোসর অনেক বিরাট হলেও তার মধ্যেও সন্তানের প্রতি দূর্বলতা ছিলো ঠিক যেমন একটি মাকড়সার দূর্বলতা থাকে তার আপন সন্তানের প্রতি। তাদের সাথে দেখা হলে এমন সম্ভাবনা খুবই কম যে তারা আমাদের গ্রহকে দখল করার জন্য মানব সভ্যতাকে ধবংস করে দেবে। তারা হয়তো আমাদেরকে জ্ঞানগতভাবে সাপোর্টও দিতে পারে কারণ মহান ও বুদ্ধিমানরা নিজেদের জ্ঞান ও বুদ্ধি প্রকাশ করার মাধ্যমে অন্যের মনে প্রভাব বিস্তার করার মধ্যে আনন্দ পায়, তাদের ব্রেন এভাবেই অভিযোজিত। উইকিপিডিয়ায় হাজার হজার এক্সপার্ট এমনি এমনি জ্ঞান দেয় কারণ আমাদের ব্রেন কমিউনিটির জন্য অভিযোজিত, বুদ্ধিমত্তা শেয়ার করার মাঝে ব্রেন রিওয়ার্ড সিস্টেমের একটি সম্পর্ক রয়েছে, এলিয়েনরা নিশ্চয় নিজেদের অজ্ঞ প্রমাণ করতে স্বচ্ছন্দবোধ করবেনা আর চেতনার দিক থেকে তারা ১০০ ভাগ সিঙ্গুলারিটির মধ্যে অবস্থান করবে এটাও অসম্ভব কারণ ফিজিক্স ও ইভোলিউশনারী সূত্র গ্যালাক্সির সব গ্রহে একইরকম । কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী নেকড়ের মতো হিংস্র হতে পারেনা কারণ ব্রেনের নিজস্ব একটি লিমিট আছে। বুদ্ধিমান সভ্যতা আমাদের সাথে যুদ্ধ করবে এমন একটি সম্ভাবনা খুবই অসম্ভাব্য।

যদি কোনো এলিয়েন স্পেইসশিপ আমাদের গ্রহে আসে তবে আমাদের কি করা উচিত?

এ মুহূর্তে কোনো সুপার ইন্টেলেকচুয়াল এলিয়েন স্পেসশিপ যদি পৃথিবীতে আসে আমাদের কী করা উচিত। তাদের পক্ষ নেয়া? নাকি তাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করা? ডারউইনের বিবর্তনের আলোকে যদি বলি তবে, বিজ্ঞানমনস্করা অবশ্যই সুপার ইন্টেলেকচুয়াল এলিয়েনদের পক্ষে থাকবে! বিবর্তনীয়ভাবে আমাদের পূর্বসুরিরা দলের তাকেই নেতা মানতো যে ভালো তীর ও বর্শা চালাতে পারে, যাদের মস্তিষ্ক ফিউচার সিমুলেট করতে পারে, দলের জন্য উপযোগী ভবিষ্যত পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। এককথায় যে সকল প্রাইমেট ইন্টেলেকচুয়াল ছিলো তাদেরকেই দলের সবাই “Love” করতো। আর এজন্য এখনো সেলেব্রেটিদের প্রতি আমাদের মস্তিষ্কে আকর্ষণ কাজ করে, আমরা তাদেরকে অন্ধভাবে ভালোবাসি। কারণ তারা শুধু লিডার নয়, তারা ইন্টেলেকচুয়াল। তার মানে দেখা যাচ্ছে, বুদ্ধিমত্তার প্রতি আমাদের আকর্ষণের পেছনে আমাদের জিন ও নিউরাল স্ট্রাকচারের ভুমিকা আছে। আমাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম নতুন নতুন উদ্ভাবন দ্বারা ট্রিগার হয়, অজানা দ্বারা মোটিভেট হয়। অজানাকে জানার প্রতি আমাদের ব্রেন বিবর্তিত বলেই আমরা রকেট, বিমান ও কোয়ান্টাম কম্পিউটার পেয়েছি। আমরা যদি ইন্টেলেকচুয়ালকে সমর্থন না করতাম তবে আমাদের পূর্বসূরিরা আজকের এ সভ্যতা গড়ে তুলতে পারতো না। আমরা আদিম গল্পগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে পারতাম না। আইনস্টাইনকে কপি না করে আমি যদি নতুন করে জেনারেল রিলেটিভিটি আবিষ্কার করতে যাই তবে মিলিয়ন মিলিয়ন বছরও সময় লেগে যেতে পারে।

একটি হাইপার-সোশ্যাল প্রজাতি হিসেবে, আমরা আমাদের জ্ঞান,ধারণা ও দক্ষতা অর্জন করি অন্যদের কপি করে। আমরা ট্রায়াল এন্ড এরর প্রসেসে ব্যক্তিগত ভাবে কোনোকিছু শিখিনা। যদি সেরকম হতো তবে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর চলে যেতো শুধু ভাষা শিখতে। আমরা সবসময় সমাজের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের দিকে মনোযোগ দেই, সমাজের সাধারণ মানুষদের তুলনায়। যদি আপনি কপি করতে না পারতেন তবে কম্পিউটার গেমস আবিষ্কার করতেই আপনার পনের বিলিয়ন বছর অপেক্ষা করতে হতো। অ্যাচে সম্প্রদায় এখনো আদিম শিকারী সংগ্রাহক জীবনে বাস করে, তাদের কোন প্রযুক্তি নেই। তারা এখনো প্রযুক্তির সাথে পরিচিতও না! তাদের কাছে আমরা অনেকটা ভিন্ন গ্রহের প্রাণী, এলিয়েন! আমাদের জ্ঞান আমাদের পূর্বপুরুষদের মিলিয়ন বছরের বিবর্তনীয় অর্জন যেটা আমরা শুধু কপি করি। তথ্যকেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া একটা শিশুকে বলুন , আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স তৈরি করে দিতে! অথেনটিক তথ্যের জন্য আমরা সবসময় সেলিব্রেটিদের অনুসরণ করি কারণ তারা জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তার কারণেই উন্নততর পর্যায়ে এসেছে, আর আমরা সবসময় নতুন ও ক্রিয়েটিভ কিছু শিখতে চাই, সেলিব্রেটিরা আমাদের মস্তিষ্কের সে ম্যাকানিজম যা নতুন ও সৃষ্টিশীল কাজের প্রতি আগ্রহী সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করে! আমাদের কিউরিটিসিটির সাথে ডোপামিন, সেরেটোনিন ও অপিওয়িড জড়িত। আপনার ব্রেন যখন অজানা কোনো উদ্দীপনা পায়, সৃষ্টিশীল কোনকিছু দেখে যার সাথে অজানা কোন পুরস্কার জড়িত তখন প্রচুর ডোপামিন তৈরি হয়। অপিওয়েড সংযুক্ত নিউক্লিয়াস একুম্বেন্সের সাথে। এটি অপরিচিত পরিস্থিতি বা পরিবেশ মূল্যায়ন এবং মহান কোনোকিছুর মূল্য নির্দিষ্ট করতে সাহায্য করে। চাওয়া ও পছন্দের এ প্রক্রিয়াটি মস্তিষ্কের পুরস্কার প্রাপ্তির সিস্টেমটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং কৌতুহলী তথ্য অনুসন্ধানের উদ্দীপনা বজায় রাখে! আবার কেউডিক নিউক্লিয়াস ডোপামিনের প্রতি খুবই সংবেদনশীল, এটিও আপনাকে নতুন নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা ও অনুসন্ধানমূলক আচরণগুলোকে পুরস্কার প্রাপ্তির প্রত্যাশায় সক্রিয় রাখে। এছাড়া রয়েছে এন্টারিয়র কর্টেক্স, কর্টিসোল, স্ট্রিয়েটাম, প্রাকিউনিয়াস, হিপ্পোক্যাম্পাস ও প্যারাহিপোক্যাম্পাল জির্স যেগুলো সেলিব্রেটি বা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সৃজনশীল চিন্তা ও আচরণগুলো প্রতি আমাদের সংবেদনশীল রাখে। ( সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হিপ্পোক্যাম্পাস বিভিন্ন উদ্দীপকের নোভেল্টি নির্দিষ্ট করে আর প্যারাহিপ্পোক্যাম্পাস আমাদের কিউরিসিটি প্রসেসের সাথে জড়িত, আর এমিগডালা ইমোশন প্রসেস করে। বিস্তারিতঃ আমাদের ব্রেন কী সেলিব্রেটিদের জন্য বিবর্তিত?)

ফেসবুকে ইন্টেলেকচুয়ালরা সেই পোস্টেই বেশি লাইক ও লাভ রিয়েক্ট করে যে পোস্টটি ইন্টেলেকচুয়াল। সমস্ত বিশ্ব আজ এলন মাস্কের মতো ইন্টেলেকচুয়ালদের হাতে। এ মুহূর্তে এ আর্টিকেলটি আমার পরিবর্তে যদি এলন মাস্ক লিখতো তবে এখানে মিলিয়ন মিলিয়ন লাইক ও লাভ রিয়েক্ট পড়তো কারণ সে ইন্টেলেকচুয়াল। যদি এ আর্টিকেলটি মার্ক জাকারবার্গ ও এলনমাস্কের পরিবর্তে কোনো হায়ার ইন্টেলেকচুয়াল এলিয়েন লিখতো তবে এরকম শত শত এলন মাস্ক সেই পোস্টের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তো, বড় বড় সায়েন্টিফিক জার্নালগুলোতে সে আর্টিকেলটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতো এবং এটা ঘটতো সম্পুর্ন আনকনসাসলি।

বিজ্ঞানীরা এ গ্রহে সর্বপ্রথম এলিয়েনদের মতোই ছিল, তাদের বিশ্বদৃষ্টি গ্রহণ করার সময় আমরা কিন্তু আমাদের পূর্বসূরিদের কথা একবারের জন্যও চিন্তা করিনি, টিকে থাকার জন্যই আমরা আইনস্টাইন ও নিউটনের মত এলিয়েনদের গ্রহণ করে নিয়েছি। তাদের এলিয়েন বিশ্বদৃষ্টিকে গ্রহণ করার কারণেই আমরা আজকের এ বিশ্বদৃষ্টি পেয়েছি, পেয়েছি উন্নত প্রযুক্তি আর আমরা আক্ষরিক অর্থেই এ গ্রহের ঈশ্বরে পরিণত হয়েছি।

আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে বর্তমানে ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন নক্ষত্র আছে এবং মোটের উপর প্রতিটি নক্ষত্রে একটি করে এক্সোপ্লানেট আছে। ফোর্বসের সূত্র অনুসারে ২০২০ সালে এস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি পেপারে ড্রেক সমীকরণের উপর ভিত্তি করে বলা হয়, আমাদের গ্যালাক্সিতে অন্তত ৩৬টি ইন্টেলেকচুয়াল সিভিলাইজেশন আছে।

সম্ভাবনার উপরও যদি আমরা ধরে নেই, এ ৩৬টি হায়ার ইন্টেলেকচুয়াল সিভিলাইজেশনের একটি আমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান। যারা আইনস্টাইন অথবা স্টিফেন থেকেও উন্নত মাপের চিন্তা করে , যারা মহাবিশ্বের মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ব জানে! তাহলে কি আজ আইনস্টাইন তার মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বের জন্য এলিয়েনদের সমর্থন করতেন না যে তত্ত্বের যন্ত্রণার তিনি তার শেষ জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত হতাশ ছিলেন? ডারউইনের বিবর্তনীয় মনস্তত্ব আমাদের এ প্রশ্নের উত্তরে সম্ভবত বলবে “হ্যাঁ”!

কোনো সুপার ইন্টেলেকচুয়াল ইন্টিলিজেন্ট অবশ্যই আইনস্টাইন ও নিউটনের বন্ধু হওয়ার উপযুক্ত, বন্ধু হওয়ার উপযুক্ত বিশ্বের সকল ইন্টেলেকচুয়ালদের। আর এজন্য আমি বলবো, কোনো বুদ্ধিমান এলিয়েন সিভিলাইজেশ্যন যদি পৃথিবীতে আসে তারা সর্বপ্রথম বিজ্ঞানীদের সাথেই কমিউনিকেশন করবে আর সর্ব প্রথম তারাই এলিয়েনদের পক্ষ নেবে! অবশ্য সাধারণ মানুষ তখনও পূর্বসূরিদের বিশ্বদৃষ্টির জন্য যুদ্ধ করতে চাইবে ঠিক যেমনি আজ ধার্মিকরা যুদ্ধ করে আমাদের সাথে আর এ জন্য তাদেরকে আমরা ব্যাকডেটেট বলি। আমি সুপার ইন্টেলেকচুয়াল এলিয়েনদের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। আর ২০২২ সালের এ দিনে আমি এলিয়েন সিভিলাইজেশ্যনের পক্ষ থেকে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তথ্যসূত্রঃ

Adsense condition: ৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽/৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽/৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽/৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽/৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽/৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽/৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽/৩৬ টি বুদ্ধিমান সভ্যতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে👽

hsbd bg