২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার

২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার

এন্টিম্যাটারের তৈরি নক্ষত্রঃ

আমরা এতদিন জানতাম মহাবিশ্বের অধিকাংশ এন্টিম্যাটার শুরুতেই ধবংস হয়ে গেছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আমাদের মিল্কিওয়েতে এমন নক্ষত্রের লোকেশন নির্ধারণ করেন যা এন্টিম্যাটারের তৈরি। ফার্মি গামা-রে স্পেস টেলিস্কোপের দশ বছরের পর্যবেক্ষণে গবেষকরা এমন ১৪ টি পয়েন্ট সনাক্ত করেন যেখান থেকে গামা রশ্মির আলো নির্গত হয়। এটি এমন একটি শক্তিতে আলো নির্গমন করছে যা শুধুমাত্র ম্যাটার ও এন্টিম্যাটারের সংঘর্ষ হলেই সম্ভব। ম্যাটার ও এন্টিম্যাটার যখন একে অন্যের কাছে আসে। তারা পরস্পরকে ধবংস করে দেয় যা থেকে এই গামা রশ্মির জন্ম। এটি এমন একটি প্রসেস যা শুধুমাত্র এন্টি স্টারের পৃষ্ঠের উপরেই সম্ভব হতে পারে। এ আবিষ্কার নির্দেশনা দিচ্ছে যে আমাদের মহাবিশ্বে এখনো যথেষ্ট পরিমাণ এন্টিম্যাটার সার্ভাইভ করছে। কিন্তু এন্টি স্টারের অস্তিত্ব প্রমাণ করা খুবই কঠিন কারণ পর্যবেক্ষণ করা গামা রশ্মি বাদ দিলে এই সকল তারা যে আলো দেয় তা সাধারণ নক্ষত্রের আলোর মতোই। (১)

২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার

মিউয়নের মিসবিহেভঃ

নতুন ফান্ডামেন্টাল পার্টিকেলের আবিষ্কারের চেয়ে অন্যকোনো কিছু পদার্থ বিজ্ঞানীদের উত্তেজিত করতে পারে কিনা চ্যালেঞ্জ রাখা যেতে পারে। বাটাভিয়ার ফার্মিল্যাব মিউয়ন G-2 এক্সপেরিমেন্টের গবেষকরা একটি বিশাল চুম্বকের চারপাশে বিলিয়ন বিলিয়ন মিউয়ন প্রবাহিত করে দেখেছেন যে মিউয়নের চুম্বক মেরুগুলোর অভিযোজন যে হারে কম্পন করেছে তা থিওরিটিক্যাল প্রেডিকশনকে লঙ্ঘন করে। এ অদ্ভুদ আচরণ এটাই নির্দেশনা দিচ্ছে যে, কোনো গুপ্ত পার্টিকেল নিশ্চয় মিউয়নের ম্যাগনেটিক প্রপার্টিকে প্রভাবিত করছে। যা মহাবিশ্বের ফান্ডামেন্টাল ফোর্স ও প্রাথমিক কণাকে ব্যাখ্যাকারী স্ট্যান্ডার্ড মডেলকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ । যদিও এ ব্যাপারটি বোঝার জন্য আরো ডেটা প্রয়োজন। (২) বিজ্ঞানীরা এখনো মিউয়ন সম্পর্কে তাদের প্রেডিকশন রিফাইন করার চেষ্টা করছেন। Read more: ফিফথ ফোর্স-নতুন করে লিখতে হবে ফিজিক্সের সূত্র

২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার

মহাজাগতিক কার্ভ বলঃ

আর একটি নতুন সংবাদ যা আমাদের মহাজাগতিক বোধকে উন্নত করতে পারে তা হলো বিজ্ঞানীরা প্রায় ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ এলাকাজুড়ে একটি বিশাল ” Ark of Galaxies” সনাক্ত করেছেন। এ বিরাট আর্ক ২০২১ সালের জুনে আবিষ্কার হয়। যেটি ৩.৩ বিলিয়ন লাইট ইয়ার্স পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। গ্যালাক্সির গঠন ১.২ বিলিয়ন আলোকবর্ষের সীমা অতিক্রম করেছে যা একটি মহাজাগতিক নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা এতদিন জানতাম যে, মহাবিশ্ব যথেষ্ট বড় স্কেলে সকল স্থানে সমান (Homogeneous) এবং সকল দিকে (Isotropic)। কিন্তু গ্যালাক্সির আর্ক আমাদের এ ধারণা থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করছে। এ ধরণের জায়ান্ট আর্ক সাধারণত অসংখ্য গ্যালাক্সি, গ্যালাক্টিক ক্লাস্টার, গ্যাস ও ধুলিকণা নিয়ে গঠিত। এটি প্রায় ৯.২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের ১৫তম ব্যাসার্ধ পর্যন্ত সুবিস্তৃত। এটি Solan Digital Sky Survey থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে আবিষ্কার করা হয়েছে। Alexia M.Lopez যিনি সেন্ট্রার ল্যাঙ্কশায়ার ইউনিভার্সিটির একজন ডক্টরাল কেন্ডিটেড তিনি ও তার দলই একে আবিষ্কার করেন। এ ধরণের আর্ক খালি চোখে অদৃশ্য মনে হয়, এগুলো আমাদের দৃষ্টিতে এসেছিলো ৪০, ০০০ কোয়েসার বিশ্লেষণ করে যা দূরবর্তী গ্যালাক্সির খুবই উজ্জ্বল কেন্দ্র। কিন্তু কিছুকিছু সন্দেহবাদী বলছেন যে, এ ধরণের আর্কের সত্যিকারে অস্তিত্ব নেই। মানুষের প্যাটার্ন দেখার প্রবণতা থেকেই এ ধরণের আর্ক জন্ম হচ্ছে।(৩)

২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার

মানুষ আমেরিকায় ঠিক কখন গিয়েছিলো?

আমাদের সাম্প্রতিক প্রমাণ ইঙ্গিত করছে যে আমাদের চিন্তা থেকেও ১৫ হাজার বছর পূর্বে মানুষ আমেরিকায় পৌঁছেছিল। গত বছরই এমন একটি দাবি প্রস্তাব করা হয়েছে যে, মানুষ আমেরিকা পৌঁছেছে অন্তত ৩৩,০০০ বছর পূর্বে। মে মাসে গবেষকরা রিপোর্ট করেছেন যে, ম্যাক্সিকোতে প্রাণীদের যে হাড় খনন করা হয়েছে তা ৩৩,০০০ থেকে ২৮,০০০ বছর পূর্বের। হাড়ের পাশে ধারালো পাথর ও চিপগুলো এটাই বলছে যে তারা এখানে ছিলো। এবং ফসিলাইজড মানুষের পায়ের চাপ আমাদের ইঙ্গিত করছে যে, আজ আমরা যেটাকে নিউ ম্যাক্সিকো বলে জানি সেখানে আদিম মানুষ চলাচল করেছিলো ২৩,০০০ থেকে ২১,০০০ বছর পূর্বে। যদি ট্র‍্যাকগুলোর বয়স নিরূপণ করা হয় তবে জানা যায় যে, মানুষ শেষ বরফযুগের শীর্ষে উত্তর আমেরিকায় ছিলো।(৪)

a photo of human footprints

বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ফসিলঃ

৮৯০ মিলিয়ন বছর অতীতের ক্ষুদ্র টিউব পাওয়া গেছে প্রাচীন পাথরের ভেতর সম্ভবত সী-স্পঞ্জের ধবংসাবশেষ। ৮৯০ মিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবীতে অক্সিজেনের পরিমাণ ছিলো খুবই কম যা প্রাণীদের জীবনের জন্য উপযোগী ছিলোনা। যদি এ দাবিটি বহাল থাকে, তবে এ টিউবগুলো প্রাণের উদ্ভবকে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর পেছনে ঠেলে দেবে যেখানে প্রাণের বিকাশের জন্য উপযুক্ত অক্সিজেনই ছিলোনা। কিন্তু কিছু গবেষক নিশ্চিত নন যে, এগুলো সমুদ্রের স্পঞ্জ। সন্দেহবাদীরা খনিজযুক্ত কঙ্কালের অংশের অভাবের দিকে ইঙ্গিত করেন যা স্পিকুল নামে পরিচিত যা সমুদ্রের স্পঞ্জের সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং এ সত্য যে, অনেক প্রাণহীন জীব একইরকম টিউব তৈরি করতে পারে।(৫)

a microscopic image of 3D meshwork

ক্সট্রাগ্যালাক্টিক প্লানেট

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাহিরে প্রথম প্লানেট সনাক্ত করেছেন। প্রথাগত এক্সোপ্লানেট-হান্টিং কৌশলগুলো এ ধরণের দূরত্বের জন্য ভালো কাজ করেনা। এজন্য বিজ্ঞানীরা এক্স-রে বাইনারী নামক এক ধরণের জোড়া স্টার সিস্টেমের দিকে তাকিয়েছিলেন যা উজ্জ্বল এক্স-রে নির্গত করে। কোনো গ্রহ যদি এ ধরণের সিস্টেমের সামনে দিয়ে পথ চলে বা ট্রান্সজিট করে তবে সাময়িকভাবে X-Ray ব্লক হয়ে যাবে যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদেরকে গ্রহের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করবে। কিছু বিজ্ঞানী সন্দেহবাদী ছিলেন, কারণ এ আবিষ্কার রুপকভাবে অনেকগুলো তারকার এলাইনের উপর নির্ভরশীল ছিলোঃ গ্রহটির দরকার ছিলো এক্স-রে বাইনারী ট্রান্সজিট করা যখন এটির কক্ষপথ পরিপূর্ণভাবে পৃথিবীর দৃষ্টিকোণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল ঠিক যখন এটাকে টেলিস্কোপ দেখেছিল।

তথ্যসূত্রঃ

২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার ২০২১ সালের সেরা ৫ টি আবিষ্কার

hsbd bg