মূলপাতা বিজ্ঞানজেনেটিক্স হোমো ডিউস; জেনেটিক্যাল রি-ইঞ্জিনিয়ার ও স্বর্গ

হোমো ডিউস; জেনেটিক্যাল রি-ইঞ্জিনিয়ার ও স্বর্গ

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
474 বার পঠিত হয়েছে

              জেনেটিক্যাল রি-ইঞ্জিনিয়ার ও স্বর্গ

 

 

মানব সভ্যতার চোখ থেকে দুঃখ বিমোচনই একুশ শতকের দ্বিতীয় এজেন্ডা! ইতিহাসের অলিতে গলিতে অনেক চিন্তাশীল, মহামানব এবং সাধারণ মানুষ সুখকে আমাদের জীবনের থেকেও ভালোকিছু বলে ডিফাইন করেছেন! যার জীবন নেই তার সুখ অথবা দুঃখ কোনোটাই নেই অথচ তাদের কাছে সুখ ছিলো আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান! মহাবিস্ফোরণের পূর্বে কী ছিলো আমি তা জানিনা কিন্তু আমি জানি যে আমার ক্ষুধা লেগেছে! ঈশ্বর স্থানকালের সীমারেখায় আসেন না, তিনি কে তা আমি জানি না কিন্তু আমি জানি যে আমার সেক্স করতে ইচ্ছে করে, ঈশ্বর এবস্ট্রাক্ট কিন্তু আমার যৌনতার উপলব্ধি কংক্রিট! আমি মেটা ইউনিভার্স সম্পর্কে জানিনা, জটিল গাণিতিক সমীকরণ বুঝিনা, কিন্তু আমি আমার শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের ভেতর আমার চেতনাকে উপলব্ধি করি, চেতনা এবস্ট্রাক্ট নয়, এটি কংক্রিট, যা আমার শরীর উপলব্ধি করতে পারে, সেটি এবস্ট্রাক্ট হতে পারেনা। চেতনা যদি এবস্ট্রাক্ট হতো তবে আমি চেতনা দিয়ে এবস্ট্রাক্টকে ডিফাইন করতে পারতাম না! ঈশ্বর আছে কী নেই তা আমার চেতনার উপলব্ধিতে কোনো পরিবর্তন তৈরি করেনা, ফিজিক্সের সুত্রের মতোই আমার মস্তিষ্কের ভেতরের চেতনা উপলব্ধিরযোগ্য, এটিকে আমি উপড়ে ফেলে দিতে পারছিনা, চেতনার ভেতর থেকে বের হতেও চেতনাসম্পন্ন একটি মস্তিষ্ক লাগে, প্রায় ৮৬ বিলিয়ন সেল লাগে! গ্রীক দার্শনিক এপিকিউরাস বলেছিলেন, ঈশ্বরের উপাসনা করে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয়না, মৃত্যুর পর ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই, কারণ ঈশ্বরের অস্তিত্বের জন্য মস্তিষ্কে চেতনার উপস্থিতি প্রয়োজন,  অতএব জীবনের লক্ষ হওয়া উচিত সুখী হওয়া।তার মতে, ঈশ্বরের উপাসনা করে সময় নষ্ট করার চাইতে সেক্স করা ভালো!সে সময় এপিকিউরাসকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, তারা বলেছিলো, এপিকিউরাসের দৃষ্টিকোণ ত্রুটিযুক্ত। কিন্তু মৃত্যুর পর জীবনের অস্তিত্ব আছে তার নিশ্চয়তা কী, আমি তো আমার ক্ষুধা তৃষ্ণার মতো মৃত্যুর পর জীবনকে উপলব্ধি করতে পারি না! আবার এ সংশয় থেকে জন্ম নিয়েছে অমরত্বের প্রতি আকাঙ্খা এবং পার্থিব জগতে নিজের মস্তিষ্ককে অখন্ডভাবে সুখী করার তীব্র ইচ্ছা। কে চাইবে অনন্তকাল দূর্ভাগ্যজনক জীবন অতিবাহিত করতে? আঠার শতকে ব্রিটিশ দার্শনিক বেনথেম ঘোষণা করেন , চুড়ান্ত সুখ হলো অধিক সংখ্যক মানুষের মধ্যে অধিকতর সুখ। আমরা এখন জানি যে সুখের সাথে আমাদের মস্তিষ্কের কিছু বায়োক্যামিস্ট্রি জড়িত, যদি বিজ্ঞান সত্য হয় তবে ডোপামিন, সেরেটোনিন ও অক্সিটোসিনই আমাদের সুখের জন্য দায়ী। বেনথেম ঘোষণা করেন, রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শান্তি, মার্কেট ও সায়েন্টিফিক কমিউনিটির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের বৈশ্বিক  শান্তি ,পলিটিশিয়ানদের কাজ হলো শান্তি নির্মান, ব্যাবসায়ীদের সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া উচিত এবং স্কলারদের প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা উচিত, সরকারের জন্য  নয়, ঈশ্বরের জন্য  নয়, কোনো সম্রাজ্যের জন্য  নয় , ;  ব্যক্তি মানুষের জন্য। বেনথেমের কথাটিকে জীববিজ্ঞানের ভাষায় ট্রান্সলেশন করলে যা দাঁড়ায়,  রাজনীতিবিদদের লক্ষ ডোপামিন, ব্যাবসায়ীদের লক্ষ ডোপামিন, বিজ্ঞানী ও স্কলারদের  শুধুমাত্র ডোপামিন ও সেরেটোনিনের জন্য  কাজ করা উচিত, গ্লোবালি ডোপামিন যোগান দেয়াটাই যেনো তাদের  জীবনের লক্ষ।উনিশ ও বিশ শতকে যদিও বেনথেমের এ ভিশনের পক্ষে অনেকগুলো ভাড়াটে ঠোঁট কথা বলেছিলো কিন্তু সরকার, সংস্থা এবং ল্যাব মানব সভ্যতার শান্তির উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয়, কোনো রাষ্ট্রের সরকার তাদের সফলতা নির্ণয় করে তাদের টেরিটোরি, জনসংখ্যা এবং বার্ষিক জিডিপি এর উপর, কে সুখী হয়েছে, রাষ্ট্রের মস্তিষ্কে কী পরিমাণ ডোপামিন তৈরি হয়েছে, তার উপর নয়! ইন্ডাস্ট্রিয়াল জাতিগুলো, যেমন- জার্মান, জাপান এবং ফ্রান্স দৈত্যাকার শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, মানুষের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য । কিন্তু তাদের সিষ্টেমের ভেতরও ব্যাক্তি মানুষের সুখের কথা চিন্তা করা হয়নি, তারা ব্যাক্তিকে দেখেনা, ঠিক যেমনি ফিজিক্সের সুত্র আমাকে দেখেনা!কয়েকদশক পূর্বে বেনথেমের চিন্তাকে সচেতনতার সাথে গ্রহণ করা হয় ,মানুষ সিরিয়াসলি সুখের ব্যাপারে চিন্তা করতে শুরু করে। মানুষ বুঝতে পারে রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া গঠিত হয়েছে মানুষের স্থিতিশীলতার জন্য  , ব্যাক্তি মানুষের শান্তির জন্য । আমি রাষ্ট্রে আছি রাষ্ট্রের সেবা করার জন্য নয় বরং রাষ্ট্রের অস্তিত্বই আমার জন্য , আমি আছি বলেই স্টেট আছে, আর তাই রাষ্ট্রের অবশ্যই উচিত আমাকে সুখী করা , আমার অধিকার ও সুখের সাথে যা কিছু সাংঘর্ষিক তার বিপক্ষে রাষ্ট্রের উচিত ইমিউন সিষ্টেম গড়ে তোলারাষ্ট্রীয় সফলতা আর ব্যাক্তিক সুখ এক জিনিস নয়, সফল হলেই সুখী হবে এমন কোনো প্রমাণের অস্তিত্ব নেই। আমরা জানি যে মাথাপিছু জিডিপি একটি রাষ্ট্রের সফলতার সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। সিঙ্গাপুরের প্রতিটি নাগরিক প্রতি বছর $56,000  জিডিপি তৈরি করে যেখানে কোস্টারিকার নাগরিক তৈরি করে $14,000।। মানুষ কী চায়? সে কী উৎপাদন করতে চায় নাকি সে সুখ চায়? হ্যা , আমাদের সুখের জন্য মেটারিয়ালসের প্রয়োজন আছে কিন্তু সেটি শেষ কথা নয়।গবেষণায় দেখা গেছে, কোস্টারিকার মানুষ সিঙ্গাপুরের থেকে অনেক বেশি সুখ ও সন্তোষজনক জীবন যাপন করছে! তারমানে রাষ্ট্রের সফলতা নির্ণয়ের জন্য  শুধুমাত্র জিডিপি নয়, জিডিএইস’ও  জানা প্রয়োজন। তাহলে দেখা যাচ্ছে,  দূর্ভিক্ষ,মহামারী এবং অন্য কোনো ভয়াভহ দূর্যোগ যদি আমাদের মানব সভ্যতাকে বিপর্যস্ত করতে না ও পারে তবে একুশ শতকের একমাত্র এজেন্ডা হওয়া উচিত সুখী হওয়া! কিন্তু এপিকিউরাস তার অনুসারীদের সতর্ক করেছিলেন, সুখী হওয়াটা আসলে কঠোর পরিশ্রমের ব্যাপার, তার মতে বস্তুগত সম্পদ আমাদের সবসময় সুখী করতে পারে না, অন্ধ টাকার লোভ , সুখ্যাতি এবং আনন্দ অনেক সময় আমাদের জীবনকে আরো আরো দূর্বিষহ করে তোলে! তিনি তার শীর্ষদের খাওয়া ও পান করার ক্ষেত্রে সংযম রক্ষার জন্য উপদেশ দেন এবং উপদেশ দেন নিজেদের কামনাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ।সুখী হওয়াটা যদিও কঠিন কিন্তু তবুও বিগত শতকে আমরা বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছি, আমাদের অর্জনের পরিমাণ সীমাহীন এবং আমাদের আদিম পূর্বসুরিদের তুলনায় আমরা অনেক সন্তোষজনক জীবন যাপন করছি। কিন্তু এত সম্পদ, আরাম ও নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ভেতর একটি অশুভ সংকেত কাজ করছে,মানব সভ্যতা গ্যালাক্সির সবকিছু ছেড়ে সুইসাইড করতে চাইছে, আমাদের অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত রাষ্ট্রগুলোতেই আত্মহত্যা করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি!পেরু, গুয়েতমালা, পিলিফাইন এবং আলবেনিয়াতে মানুষ দারিদ্রতা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ভুগছে। প্রতিবছর একশহাজার মানুষের মধ্যে একজন সেখানে সুইসাইড করে। উন্নত এবং শান্তিময় রাষ্ট্রগুলো যেমন-ফ্রান্স, জাপান, সুইজারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো রাষ্ট্রে একশহাজার মানুষের মধ্যে প্রতি বছর ৫ জন সুইসাইড করছে। সাউথ কোরিয়া একসময় দারিদ্র ও অশিক্ষিত ছিলো, এক সময় তাদেরও সময় পরিবর্তিত হয়, তারা পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষিত ও সম্পদশালী হয়ে ওঠে, কিন্তু সেখানে প্রতি এক লাখে ৯ জন নিজেদের হত্যা করে । বর্তমানে সাউথ কোরিয়াতে এ মৃত্যুহার বেড়ে হয়েছে তিনগুণ! জিনের উদ্দেশ্য জিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, অথচ স্বার্থপর জিন এ তরুণ শরীরগুলিকে টিকিয়ে রাখতে পারছে না, জিনের স্বার্থপরতা থেকেও তাদের জগতের স্বার্থরতা তাদের উপর অনেক বেশি সক্রিয় হয়তো! শিশু মৃত্যুহার কমেছে, যা আমাদের জন্য সুখের কারণ হতে পারে,  কিন্তু  ধবংসাত্মকভাবে শিশু মৃত্যুহার কমে যাওয়ায় চাপের পরিমাণ বেড়ে গেছে। তারপরও আমাদের আদিম পূর্বসুরিদের থেকে আমরা বেশি সুখী হতে পারিনি, আমাদের কল্যাণের পরিমাণ আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি কমেছে। প্রস্তর যুগের একজন মানুষ তার নিজের ও নিজের বিন্যাসের জন্য প্রতিদিন ৪০০০ ক্যালোরি শক্তি খরচ করতো! এ শক্তি যে তারা শুধু তাদের শরীরের জন্য খরচ করতো তা নয়, তারা তাদের এ শক্তি বিনিয়োগ করতো তাদের যন্ত্রপাতি, জামাকাপড় এবং কম্পেয়ার্সের জন্য । বর্তমানে একজন আমেরিকান প্রতিদিন তার নিজের জন্য ২২,৮০০০ ক্যালোরি শক্তি খরচ করে , এর মধ্যে রয়েছে তাদের গাড়ি, কম্পিউটার, রেফ্রিজারেটর, প্রেসার কুকার ইত্যাদি। প্রস্তর যুগের একজন মানুষ মাত্র ৪০০০ ক্যালোরি  শক্তি বিনিয়োগ করে মোটামুটি  সুখী ছিলো। আধুনিক আমেরিকানরা গড়ে  ৬০ গুণ বেশি ক্যালোরি খরচ করে কী  প্রস্তরযুগের চেয়ে ৬০ গুণ  বেশি সুখী হতে পেরেছে? দুঃখের সাথে এর উত্তর  , না ।এমনকি আমরা যদি গতকালের  সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠি তবে ইতিবাচক সুখ পাওয়া সম্ভব নিখুঁত দুর্ভোগ বিলোপ করার চেয়ে ।মধ্যযুগের একজন কৃষককে সুখী করার জন্য  এক টুকরো রুটিই যথেষ্ঠ ছিলো। আপনি কীভাবে একগুয়ে,অতিরিক্ত ওজনের, ওভারপেইড একজন ইঞ্জিনিয়ারকে সুখী করবেন? বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি স্বর্ণযুগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়, এরপর, স্নায়ুযুদ্ধে সাফল্য ,  এটিকে শীর্ষস্থানীয় একটি পরাশক্তি হিসেবে সমস্ত বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠিত করলো! 1950 এবং 2000 এর মধ্যে আমেরিকান জিডিপি 2 ট্রিলিয়ন ডলার থেকে 12 ট্রিলিয়ন ডলারে বেড়েছে। প্রকৃত প্রতি মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন উদ্ভাবিত গর্ভনিরোধক বড়ি যৌনতা আগের চেয়ে আরও বেশি স্বাধীন করে তুলেছিলো যার ফলে তারা অবাধ যৌনতায় লিপ্ত হতো। মহিলা,সমকামী, আফ্রিকান আমেরিকান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা অবশেষে আমেরিকান পাইয়ের একটি বৃহত টুকরা পেয়েছে। সস্তা গাড়ি, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, ডিশওয়াশার, লন্ড্রি মেশিন,টেলিফোন, টেলিভিশন এবং কম্পিউটারগুলোর মহাপ্লাবন তাদের প্রতিদিনের জীবনকে কল্পনাতীতভাবে পরিবর্তন করে দিলো। কিন্তু তবুও পরিসংখ্যানে দেখা যায়,  আমেরিকার মানুষদের ব্যাক্তিগত কল্যাণ (  subjective well-being)  ১৯৫০ সালের যেমন ছিলো ১৯৯০ সালেও ঠিক একই রয়ে গেছে!১৯৫০ সাল ১৯৯০ সালে পরিণত হলো, জীবন বস্তুগত সম্পদে প্লাবিত হলো কিন্তু ব্যাক্তি কল্যাণ ১৯৫০ সাল থেকে এখনো ১৯৯০ সালে পৌঁছাতে পারেনি, সে যেখানে ছিলো সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো! ১৯৫৮ থেকে ১৯৮৭ সালে ফ্যাক্টর-৫ দ্বারা জাপানের গড় প্রকৃত আয় বাড়লো, বিশ্বের অন্যতম গতিশীল একটি অর্থনীতি ইতিহাসের বুকে বিস্ফোরিত হলো। সম্পদের এ হিমবাহ জাপানের জীবন যাত্রায় ও সামাজিক সম্পর্কে অনেক ইতিবাচক এবং নেতিবাচক পরিবর্তন সাধন করলো কিন্তু এসবের কোনোটাই জাপানের একজন ব্যাক্তি মানুষের কল্যাণের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেনি। ১৯৫০ সালে তারা ঠিক যেমন সন্তুষ্ট ও অসন্তুষ্ট হতো ১৯৯০ সালে তাদের মধ্যে একই সন্তোষ ও অসন্তোষ কাজ করে, তাদের সন্তুষ্টি এবং অসন্তুষ্টি কোনটিই তাদের গতিশীল অর্থনীতি পরিবর্তন করতে পারেনি! যা থেকে প্রমাণিত হয় আমাদের সুখের বিস্ফোরণ কোনো রহস্যজনক কাঁচের  সিলিঙে আটকে যায়, যার জন্য  আমাদের সম্পদ বৃদ্ধি পেলেও আমাদের সুখ বৃদ্ধি পায় না! আপনি ক্ষুদার্থকে প্রতিদিন উন্মোক্ত হস্তে খাদ্য দেন, সকলপ্রকার রোগ প্রতিরোধ করেন, বিশ্বের শান্তি নিশ্চিত করার জন্য যা যা প্রয়োজন সবকিছুই করেন কিন্তু সে রহস্যজনক কাঁচের সিলিঙ আপনার সুখকে কোনোকিছুতেই পূর্বের চেয়ে বাড়তে দেবে না! সুখ দুইপ্রকার; জৈবিক এবং মানসিক। আমাদের জীবন শান্তি ও সম্পত্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলেও আমরা সুখী হবোনা , যদি সে শান্তি ও সম্পত্তিতে পরিপূর্ণ জীবন আমাদের মনের প্রত্যাশার সাথে সাংঘর্ষিক হয়। কিন্তু প্রত্যশা এমন একটি বেলুন যেটি ফুলতে থাকে, আমরা আমাদের অবস্থা পরিবর্তন করেছি, নাটকীয়ভাবে মানব সভ্যতা সন্তুষ্ট হয়নি তাদের প্রত্যাশা পূর্বের চেয়ে আরো বৈচিত্রময় হয়েছে। আমরা যদি সন্তুষ্ট না হই , তবে ভবিষ্যতের কোন অর্জনই আমাদের সন্তুষ্ট করতে পারবেনা!বায়োলজিক্যাল দিক থেকে চিন্তা করলে আমাদের সুখ নির্ভর করে আমাদের বায়োক্যামিস্ট্রির উপর, এক্ষেত্রে সুখ রাজনীতি এবং অর্থনীতি কোনোকিছুর উপরই নির্ভর করেনা। এপিকিউরাস বলেছেন, অসন্তোষজনক শারীরিক সেনসেশন দূর করে সন্তোষজনক শারীরিক সেনসেশন তৈরি করতে পারলেই আমরা সুখী হতে পারি। জেরেমি বেনথেম বলেছেন, প্রকৃতি আমাদের দুটো জিনিসের উপর আধিপত্য প্রদান করেছেন, সুখ ও বেদনা আর এ দুটোই নির্ধারণ করে দেয় আমরা  কি করবো, কী বলবো অথবা আমরা কী চিন্তা করবো। বেনথেমের ছাত্র, জন স্টুয়ার্ট মিল বলেছেন, সুখ আর কিছুই না, সুখ হলো যন্ত্রণা থেকে মুক্তি, সুখ এবং দুঃখের বাহিরে পৃথিবীতে কোনো শুভ বা অশুভের অস্তিত্ব নেই।কিন্তু দুঃখ্যজনক ব্যাপার হলো আমাদের সুখ চিরস্থায়ী কোনোকিছু নয়, আইনস্টাইন নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পর নিশ্চয় এক ঘন্টার বেশি সুখী ছিলো না। আপনি আজ টাইম মেশিন আবিষ্কার করে ভবিষ্যত পৃথিবীতে চলে গেলে নিশ্চয় সে বিজয়ের সুখে সারাজীবন নৃত্য  করবেন না! আপনি চাকরির প্রমোশন পেলে হয়তো আপনি সুখী হবেন কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেটি আবার অদৃশ্য হয়ে যাবে, আপনাকে দ্বিতীয়বার সুখী হতে হলে আবার আগামী বছর নতুন কোনো পদে প্রমোশনের নিউজ শুনতে হবে!মূলত, আমাদের মস্তিষ্কে সুখ ও দুঃখ্যের এ ক্রায়সিসের জন্য  আমরা দায়ী নই। এটি আমাদের ডিফল্ট নয়, এ ডিফল্ট স্বয়ং ইভ্যলুশনের। বিবর্তন আমাদের মস্তিষ্কের বায়োকেমিক্যাল সিষ্টেমকে অভিযোজন করেছে আমাদের টিকে থাকা, প্রজনন ও বংশবিস্তারের জন্য । বিবর্তন আমাদের মস্তিষ্ককে সুখী বা দুঃখী হওয়ার জন্য  তৈরি করে নি। কেনিভাল মাকড়সা সেক্স করতে গেলে স্ত্রী মাকড়সা তার মাথাটিকে কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলে কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও কেনিভাল মাকড়সা স্ত্রীর সাথে সেক্স করে, কারণ আমাদের জিন সেলফিশ। জিনের উদ্দেশ্য আমদের দেহ ও মনের কল্যাণ নয়, জিন জানেও না আমাদের শরীর ও মন আছে, জিনের উদ্দেশ্য তার সংখ্যা বৃদ্ধি, জিন তার সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বায়োলজিক্যাল রোবট হিসেবে আমাদের তৈরি করেছে, তৈরি করেছে আমাদের বায়োকেমিক্যাল সিষ্টেম, জিনের উদ্দেশ্য আমাদের শরীরকে ব্যবহার করে ভবিষ্যত প্রজন্মে তার অনুলিপি ছড়িয়ে দেয়া, আমাদের দেহ ও মনের সুখ নিশ্চিত করা যদি জিনের উদ্দেশ্য হতো তবে ক্যানিভাল মাকড়সার শরীর আর মনের কী কোনো মূল্যই থাকতো না তার কাছে? আমরা খাদ্যের জন্য সংগ্রাম করি কারণ শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দিলে আমরা শরীরের ভেতর পেইন ফিল করি, এটি আমাদের জন্য একটি সিগনাল যা আমাদের তাড়িত করে, আমাদের শরীরের অস্বস্তি আমাদেরকে সেক্সের জন্য প্রণোদিত করে, আমরা ভালো একটি অর্গাজম পেলে সুখী হই! কিন্তু সে অর্গাজমের সুখ কিছুক্ষণের জন্য, ডোপামিন কমে গেলে আবার ডিপ্রেসন কাজ করে, ব্যাথা লাগে,নতুন করে সুঃখী হতে হলে, আমাদের ভেতর আবার গতিশীলতা প্রয়োজন , প্রয়োজন নতুন কোনো ভেজাইনা বা পেনিস খুঁজে বের করা! বিবর্তন আমাদের মস্তিষ্ককে এভাবেই পোগ্রাম করেছে, আমাদের ব্যাথা ও দুঃখ হলো জিনের টিকে থাকার অস্ত্র, এটিকে ব্যাবহার করে জিন আমাদেরকে তার অনুলিপি তৈরি করার জন্য  বাধ্য করে! যদি আপনি একটি শিম্পাঞ্জির মস্তিষ্কের বায়োকেমিষ্ট্রি মোডিভেট করেন, যদি তার মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশনকে পুনরায় লিখেন,  তবে হয়তো সে একটি ফল খেয়েই অনন্তকাল সুখী হবে, তার মধ্যে কোনো পেইন কাজ করবেনা, সে নতুন কোনোকিছু খেতে চাইবেনা, সে কোথাও ঘুরতে চাইবেনা, সে কারো সাথে সেক্স করতে চাইবেনা, তাকে জগতের সবচেয়ে সুন্দরী নারী দেহ এনে দিলেও সে থু থু ছিটাবে! কিন্তু বাস্তবে এমন সুখী শিম্পাঞ্জি বেশিদিন সার্ভাইভ করতে পারবেনা, সে খুব অল্প বয়সে মারা যাবে, তার জিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা এখন জানি যে,  জিন স্বার্থপর , তার উদ্দেশ্য তার নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, অতএব জিন এমন সুখী শিম্পাঞ্জি তৈরি করবে না যে সেক্স করতে অনিচ্ছুক, যার মধ্যে কোনো গতিশীলতা নেই, যে শিকার করেনা, মৃত্যু পর্যন্ত ব্যাপক আনন্দে শুয়ে থাকে, এমনকি যে সুখের আধিক্যে মৃত্যুকেও ভুলে যায়! আর ঠিক একই কারণে একজন মানুষ পড়াশুনা করে, পি এই ডি ডিগ্রি অর্জন করে, সে বিলাসবহুল গাড়ি যায়, সুন্দরী নারী চায় কারণ এগুলি তাকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সন্তুষ্ট করে! অনেকে বলতে পারেন, অনর্থক দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে মাউন্ট এভারেস্টে আরোহন করা অনেক বেশি সন্তোষের, অর্গাজমের তুলনায় ল্যাবে গবেষণা করা অনেক বেশি আনন্দের, তারা ভাবতে পারেন বিলাসবহুল গাড়ির তুলনায় কোয়ান্টাম ফিজিক্স অনেক শান্তির! তারা যা খুশি বলতে পারেন কারণ প্রকৃতি আমাদের বৈচিত্র্যময় সন্তোষের সুযোগ করে দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন প্রাণীরা এমনকিছু দেখে যা তাদের টিকে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে তখন তাদের মস্তিষ্কে সতর্কতা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। একটি বিখ্যাত পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রোড কানেক্ট করে তাদের সামনে একটি পেডেল রেখেছেন, যে পেডেলটিতে প্রেস করলে তাদের মস্তিষ্কে এক্সাইটমেন্ট তৈরি হবে। যখন ইঁদুরদেরকে সুস্বাদু খাবার এবং পেডেল দুটোর মধ্যে একটাকে ক্লিক করতে বলা হলো তারা খাবারের পরিবর্তে পেডেলকে গ্রহণ করেছিল, তারা একের পর এক পেডেলে প্রেস করতে থাকলো , এ প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত চলমান ছিলো যতক্ষণ না  তারা ক্ষুধা  আর ক্লান্তিতে সম্পর্ণ ভেঙে পড়েছে। ঠিক এ জন্যই আমরা এভারেস্ট পর্বত আহোরন করতে অথবা ভিডিও গেমস খেলতে এক্সাইটমেন্ট অনুভব করি,  যদিও সেখানে আমাদের জিনের কোনো স্বার্থকতা নেই। কিন্তু শান্তির উপলদ্ধির মতোই এক্সাইটমেন্টের অনুভূতিও সাময়িক, আমরা এটিকেও বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারি না! গতকাল একটি থ্রিলার মুভি দেখার পর সেই স্মৃতি স্মরণ করে আমরা পরেরদিন এক্সাইটমেন্ট অনুভব করিনা, একজন ভিডিও  গেম প্লেয়ার গতকাল একজন দৈত্যকে হত্যা করেছিলো বলে সে স্মৃতি স্মরণ করে পরের দিন সে এক্সাইটমেন্ট ফিল করে না। একজন বিজ্ঞানী একটি ইকুয়েশনের জন্য  নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলো বলে পরবর্তী সময়ে সে তার অতীতের স্মৃতি স্মরণ করে এক্সাইটমেন্ট অনুভব করে না! ইঁদুরের মতোই তাদের প্রতিদিন নতুন নতুন ক্লিকের প্রয়োজন হয়!বিজ্ঞান যদি আমাদের মস্তিষ্কের সঠিক বায়োকেমিস্ট্রি বুঝতে পারে তবে তাদের পক্ষে সম্ভব আমাদের মধ্যে উত্তেজনা ও শান্তি তৈরি করা আমাদের বায়োকেমিক্যাল সিষ্টেমকে রিগিং করার মাধ্যমে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রাজনৈতিক বিপ্লব ও সামাজ সংস্কারের কথা ভুলে গিয়ে তাদের উচিত আমাদের ব্যাক্তিগত বায়োক্যামিস্ট্রি নিয়ে কাজ করা! আমরা যদি বৈশ্বিক শান্তি নিশ্চিত করতে চাই, তবে আমাদের গ্লোবাল বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে কাজ করতে হবে! বিগত কয়েক দশকে বিজ্ঞান আমাদের মস্তিষ্কের সুস্থ্যতার জন্যে বিভিন্ন রকম সাইকিয়াট্রিক ড্রাগ তৈরি করেছেন। সে সকল সাইকিয়াট্রিক ড্রাগ আমরা যতটা না মানসিক সুস্থ্যতার জন্য ব্যবহার করেছি তার চেয়ে বেশি ব্যবহার করেছি আমাদের মস্তিষ্কের ডিপ্রেসন দূর করার জন্য ! উদাহরণস্বরুপ, স্কুল ছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এখন রিটালিনের মতো উদ্দীপক ব্যবহার করে! ২০১১ সালে ২.৫ মিলিয়ন আমেরিকান শিশু ADHD (ADHD Attention Deficit and Hyperactivity Disorders)   এর মতো মেডিকেশন গ্রহণ করে। ১৯৯৭ সালে এ সংখ্যা ছিলো ৯২ হাজার, ২০১২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৬, ০০০ এবং ২০১৬ সালে এ সংখ্যাটি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিলো ৬.১ মিলিয়ন। এ মেডিকেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো মনোযোগের বিশৃংখলা হ্রাস করা  ( Attension Disorder) । কিন্তু বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ্য শিশুরা তাদের মা বাবা ও শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য এ মেডিকেশন গ্রহণ করে।  অনেকে এ ধরণের উন্নতির প্রতিবাদ করেছেন, তাদের মতে সমস্যা এডুকেশনাল সিষ্টেমের মধ্যে, শিশুদের মধ্যে নয়। যদি শিশুরা মনোযোগের বিশৃংখলা, চাপ, নিন্মমাণের গ্রেডে ভোগে তবে আমরা হয়তো এ জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে দোষারোপ করবো, আমরা হয়তো ব্যাকডেটেড শিক্ষা পদ্ধতি, অতিরিক্ত শিক্ষার্থি পরিপূর্ণ শ্রেণীকক্ষ এবং অপ্রাকৃতিকভাবে গতিশীল লাইফ টেম্পোকে এক্ষেত্রে দোষারোপ করতে পারি। সম্ভবত আমাদের উচিত হবে শিক্ষার্থির পরিবর্তে ক্লাসরুমকে উন্নত করা! এটা খুবই মজার যে এ ধরণের আপত্তিও বিবর্তিত হচ্ছে। হাজার হাজার বছর ধরে এডুকেশনাল সিষ্টেম নিয়ে মানুষ একে অপরের সাথে তর্ক বিতর্ক করছে। হোক সেটা প্রাচীন চায়না অথবা ভিক্টোরিয়ান ব্রিটেন। তারা বিভিন্ন বিকল্প উদ্ভাবন করছে আবার সেগুলোও বিতর্কিত হচ্ছে।তবে এ পর্যন্ত প্রত্যেকে একমত হয়েছেন যে শিক্ষা ব্যাবস্থার উন্নতির জন্য স্কুল পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আজ, মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বপ্রথম, অন্তত, কিছু মানুষ চিন্তা করছে, শিশুদের মস্তিষ্কের বায়োকেমিস্ট্রির কার্যকর পরিবর্তনের মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব! ১২ পার্সেন্ট আমেরিকার সৈন্য এবং ১৭ পার্সেন্ট ইরানী সৈন্য স্লিপিং পিল এবং এন্টি ডিপ্রেসেন্ট ব্যবহার করছে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের মানসিক চাপ কমানোর জন্য । ভয়, ডিপ্রেসন এবং ট্রামার কারণ মিসাইল, গোলাবারুদ অথবা মৃত্যু নয় ,  ভয় ও ডিপ্রেসন তৈরি হয় হরমোন, নিউরো-ট্রান্সমিটার এবং নিউরাল নেটওয়ার্ক থেকে। যে সৈন্য ভীরু, ভয় তার সাহস খেয়ে ফেলবে, তার শরীরের শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করবে, সে শক্তিশালী হলেও শরীরের কম্পনের কারণে সে জমে যাবে কিন্তু যে সাহসী সে এগিয়ে যাবে, যুদ্ধে পদক জিতে নেবে, আর এ পদক লুকিয়ে ছিলো তার মস্তিষ্কের বায়োকেমিস্ট্রিতে! সুখের বায়োকেমিক্যাল সাধনা বিভিন্ন রকমের ক্রাইম বাড়িয়ে তুলবে। ২০০৯ সালে ইউ কে জেলগুলো প্রায় অর্ধেক পূর্ণ হয়েছে ড্রাগের মাধ্যমে। ইতালির ৩৮ ভাগ প্রিজনার কোনো না কোনো ড্রাগ রিলেটেড ওফেন্সের সাথে জড়িত ছিলো। ২০০১  সালের একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায় অস্ট্রেলিয়ার ৬২ ভাগ আসামি ড্রাগের কবলে পড়ে আটক হয়েছিলো। মানুষ এলকোহল সেবন করে স্মৃতি ভোলার জন্য , পট দিয়ে ধুমপান করে প্রশান্তির জন্য , তারা কোকেইন এবং মেথামফেটামিনস সেবন করে ধারালো ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার জন্য । ইকেসটেজি সেবন করলে ইকেসটেটিক সেনসেশন তৈরি হয়। আর এল এইস ডি আপনাকে মহাকাশের লুসি অথবা যিশুর কাছে নিয়ে যায়! কেউ পড়াশুনা করে, কাজ করে পরিবারের দেখাশুনা করে সুখের জন্য  আর কেউ সঠিক মলিকিউলের ডোজ নিয়ে এটাকে খুব সহযেই লুপে নেয় আর রাষ্ট্রগুলো একগুয়ে, সুকঠিন এবং আশাহীন যুদ্ধ চালিয়ে যায় বায়োকেমিক্যাল ক্রাইম নিরোধ করার জন্য !  রাষ্ট্রগুলি চায় সুখের জৈবরাসায়নিক সাধনাকে নিয়ন্ত্রণ করবে, তারা ভালো ও মন্দ ম্যানিপুলেশন পৃথক করবে। মূল বিন্দু পরিস্কার, যে সব জৈব রাসায়নিক ম্যানিপুলেশন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক গ্রোথ ঠিক রাখবে যে সকল ম্যানিপুলেশনকে অনুমোদন দেয়া হবে আর যে সকল ম্যানিপুলেশন স্থিরতা ও প্রবৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা বা হুমকি সৃষ্টি করবে সেগুলিকে স্থগিত করে দেয়া হবে! সুখের বায়োকেমিক্যাল সাধনা দিন দিন ত্বরান্বিত হচ্ছে, এটি রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতিকে পুনরায় আকার দিচ্ছে, আর এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে উঠছে কঠিন থেকে কঠিনতর!গবেষণাগারগুলো আরো জটিল থেকে জটিলতর উপায়ে বায়োকেমিক্যাল মেনিপুলেশনের উপায় বের করছে। অনেক সময় সরাসরি মস্তিষ্কের সঠিক স্পোটে ইলেক্ট্রিক্যাল স্টিমুলি পাঠানোর মাধ্যমে অথবা আমাদের শরীরের নীল নকশাকে জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে। যথাযথ পদ্ধতি কোনো ব্যাপার নয়, সুখের বায়োলজিক্যাল ম্যানিপুলেশন আসলে এতোটা সহয নয়, এর জন্য  হয়তোবা জীবনের ফান্ডামেন্টাল প্যাটার্নই আমাদের পরিবর্তন করে ফেলতে হবে। কিন্তু এরপরেও আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় দূর্ভিক্ষ, প্লেগ ও যুদ্ধকে অতিক্রম করা!  বুদ্ধের সুখের দৃষ্টিকোণ আধুনিক বায়োকেমিক্যাল দৃষ্টিকোণের খুব কাছাকাছি। উভয়ের মতেই সুখের অনুভূতি খুব দ্রুত তৈরি হয় এবং খুব দ্রুত হারিয়ে যায় এবং মানুষ যদি সুখের সেনসেশনেরর অভিজ্ঞতা না নিয়েই এটিকে প্রত্যাশা করে তবে সে অসন্তুষ্ট হবে। আর এ জন্য  রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি সমাধান। জৈবরাসায়নিক সমাধান হলো পন্য ও সেবার উন্নতি যা মানুষকে আনন্দের অন্তহীন স্রোত ও আনন্দদায়ক সংবেদন প্রদান করবে এবং সেগুলিকে আমাদের জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। আর বুদ্ধের উপদেশ হলো, সুখের প্রতি আমাদের বাসনা কমিয়ে আনা এবং সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা কিভাবে এগুলি আমাদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে উদয় ও অস্ত যাচ্ছে , যখন আমাদের মাইন্ড বুঝতে পারবে আমাদের এসব সেনশেসনগুলি সংক্ষিপ্ত এবং অর্থহীন ভাইব্রেশন ছাড়া আর কিছুই নয়,  তখন আমরা এমনিতেই সেগুলোর সাধনা ছেড়ে দেবো। বর্তমানে মানব সভ্যতা বায়োকেমিক্যাল সমাধানের প্রতি অনেকবেশি আকৃষ্ট। তাদের মঙ্ক অথবা দার্শনিক তাদেরকে যাই বলুক না কেনো। প্রতি বছরই আমাদের জীবন থেকে অসন্তোষজনক অনুভূতিগুলো হ্রাস পাচ্ছে এবং আনন্দময় সেনশেসনগুলোর প্রতি বাসনা বৃদ্ধি পাচ্ছে! সায়েন্টফিক কমিউনিটি ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিশেষে নিজেদের আরো গতিশীল করছে নতুন পেইন কিলার, আইসক্রিম ফ্লেভার এবং আরামদায়ক মেট্রেসেস  এবং আমাদের স্মার্টফোনে আরো বেশি এডিক্টিভ গেম তৈরি করার জন্য  যেনো আমাদের জীবনের একটি সিঙ্গেল মুহূর্তও আমরা নিরান্দের মধ্যে না কাটাই! কিন্তু সেপিয়েন্সরা নিরবিচ্ছিন্ন সুখের স্রোতে প্রবাহিত হওয়ার জন্য  জিনগতভাবে প্রোগ্রাম নয়, জেনেটিক্যালি তাদের মধ্যে ব্যাথা ও অস্বস্তির অনুভূতি রাখা হয়েছে। যদি তারা একদিন বলে উঠে আমাদের স্মার্টফোন , আইসক্রিম অথবা কম্পিউটার গেম কোনোকিছুই প্রয়োজন নেই তখন হয়তো তাদেরকে জেনেটিক্যালি মোডিফাই করতে হবে! এটি ভালো হোক বা মন্দ হোক তাতে কিছু আসে যায় না, অনন্ত সুখের স্রোতধারা তৈরির জন্যে , গ্লোবাল হেপিনেস তৈরি করার জন্য ,  একদিন বিজ্ঞান সেপিয়েন্সদের রি-ইঞ্জিয়ার করবে!

তথ্যসুত্র-

 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলো পড়ুন-

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!