মূলপাতা Uncategorized হাসির মেটা এনালায়সিস

হাসির মেটা এনালায়সিস

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
121 বার পঠিত হয়েছে
ভাষার জন্মেরও বহু মিলিয়ন বছর পূর্বে প্রাইমেটরা হেসেছিলো। কারণ সেপিয়েন্সদের ভাষার বিবর্তন ঘটেছিলো আজ থেকে প্রায় এক লক্ষ বছর পূর্বে । প্রাইম্যাটোলোজিস্টদের মতে, হাসির বিবর্তন ঘটেছিলো আজ থেকে ৩০ মিলিয়ন বছর অতীতে প্রাইমেটদের ত্বকে। বানর ও এপদের মধ্যে  হাসির বিবর্তন ঘটে , যার মাধ্যমে তারা পরিস্কার দাঁত প্রচার  করে বুঝাতে চায় যে তারা নির্দোষ। There are 19 Types of smile but only six are for Happiness নামক একটি আর্টিকেলে BBC বলেন, ১৯ ধরণের ভিন্ন ভিন্ন হাসির মধ্যে মাত্র ৬ রকমের হাসির অস্তিত্ব পাওয়া যায় যা আনন্দের। আর অবশিষ্ট হাসিগুলোর কারণ ব্যাথা, লজ্জা, অস্বস্তি অথবা ভয়ানক দূর্ভোগ। হাসি আমাদের মুখে বিভিন্ন এক্সপ্রেসন তৈরি করে, অজস্র ঢেউ, এক একটি ভাইব্রেশন এক এক কথা বলে। আমরা হাসির মাধ্যমে স্কিনের ভাইব্রেশন পরিবর্তন করে আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি। BBC তথ্যমতে, আমাদের কিছু হাসি অবজ্ঞার ও অবিশ্বাসের, যা আমরা মিথ্যা বলেছি অথবা হারিয়েছি।
 
 
 
সত্য হাসি অথবা সুখের হাসি তখনই প্রকাশিত হয় যখন আমরা টিকে থাকার ক্ষেত্রে কোনো উপযোগিতা পাই। আর নিরানন্দের হাসিগুলো আমরা ভেতর থেকে যা উপলব্ধি করি তার প্রতিনিধিত্ব করেনা অথচ আমরা অন্যদের অনেক বেশিকিছু বোঝাতে চাই। কিছু বিবর্তিত হয়েছে এমন সিগনাল হিসেবে যে, আমরা সহযোগিতাপূর্ণ ও নিস্পাপ। অবশিষ্টগুলো বিবর্তিত হয়েছে, দেখো, কোনোপ্রকার আগ্রাসন ছাড়াই আমরা কত শ্রেষ্ঠ; উইলকনসিন-মেডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী পলা নিডেন্টাল বলেন।
 
 
 
আমরা যাই বলিনা কেনো হাসির বিশ্বজনীন চিহ্ন এখনো মাস্ক পরিহিত।
 
 
 
 
 
১৮৬২ সালে সর্বপ্রথম নিউরোলজিস্ট এবং এনাটমিস্ট দুচেন দে বোলোনে রিয়েল ও ফেক হাসির মধ্যে পার্থক্য আবিষ্কার করেন। যেটিকে বলা হয় Duchenne Smile! তিনি, একজন ব্যক্তির স্কিনে ইলেক্ট্রোড স্থাপন করে দেখেন, যেসকল হাসি মিথ্যা সেগুলো Orbicularis Oculi নামক একটি মাশলের সাথে জড়িত যা আমাদের চোখের চারপাশ Wrap বা বক্র করে দেয়। সকল হাসি Zygomatic Major Muscles এর সাথে বিজড়িত যেটি মুখের কর্ণারকে লিপ্ট করে, কিন্তু ডুচেন স্মাইলকে Orbicularis Oculi এর এডিশনাল কন্ট্রেকশন হিসেবে দেখা যায়, সেটি চোখের চারপাশের স্কিনকে কাকের পায়ে বক্র করে দেয়। নিউসায়েন্টিস্ট নামক একটি বিজ্ঞান পত্রিকায়  Duchenne Smile; A genuine smile that involves the muschles around the eyes শিরোনামে বলা হয়, একজন ডুচেন স্মাইলার নন-ডুচেন স্মাইলার থেকে অনেক বেশি সময় বেঁচে থাকে। ডুচেন স্মাইলাররা গড়ে ৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রাখে।
 
 
 
 
 
 
এর কারণ হিসেবে অনেক গবেষকই  দেখেছেন, সুখের সাথে স্বাস্থ্যের একটা সম্পর্ক আছে। একম্যান দেখেছেন,  ১৯ প্রকারের হাসির মধ্যে শুধুমাত্র ডুচেন স্মাইলের সময় মস্তিষ্কের লেফট ফ্রন্টাল কর্টেক্সের একটিভিটি বেড়ে যায় যেটি আনন্দের অনুভূতির সাথে জড়িত। কিন্তু তারমানে আনন্দ পেলে সবাই হাসে তা একদম কাজের কথা নয়। ফেসিয়াল এক্সপ্রেসনের উপর মেটা এনালায়সিস করে দেখা গেছে অনেক মানুষ আছে যারা সত্যিকার অর্থে আনন্দিত কিন্তু তাদের কোনো ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন দেখা যায়না। APA PsycNet ; Social and Emotional message of smiling: An ethological approach নামক একটি আর্টিকেলে বলা হয়, টেন-পিন বোলারদের মধ্যে হাসির প্রবণতা দেখা যায়না যখন তরা দুর্দান্ত স্কোর করে।
 
 
 
 
 
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে ‘Do animal Laugh? Tickle Experiment Suggest they do’  নামক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, শিম্পাঞ্জি ও ইঁদুরের হাসি আমাদের বিবর্তনীয় অতীত সম্পর্কে ঈশারা প্রদান করে, এমনকি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কেও। যতদূর জানা যায় প্রাণিদের মধ্যে এপস ও ইঁদুররাই মুখ চেপে হাসে। কোকো নামক একপ্রকার ওয়েস্টার্ন গরিলা আছে যাদের মধ্যে ভাষার চিহ্ন দেখা যায় যা অনেকটা কৌতুকের মতো এবং তারা হাসির শব্দ করতে পারে। কেলিফোর্নিয়ার গোরিলা ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট পেনি পিটারসন গবেষণা করে গোরিলাদের ভেতর সেন্স অব হিউমার আবিষ্কার করেন। Conversation With Gorilla শিরোনামে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়, The great ape also has a Special “ho ho” laugh for visitor she specially likes! ২০০৯ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টমাউথের সাইকোলজিস্ট ম্যারিনা দেবিলা রোস একটি এক্সপেরিমেন্ট পরিচালনা করেন শিশু ও তরুণ – ওরেংগুটান, গরিলা ও শিম্পাঞ্জির উপর। তিনি দেখতে পান যখনই তাদেরকে সুড়সুড়ি দেয়া হয় তারা হেসে তার উত্তর দেয়!
 
 
 
 
 
 
 
 
 
রোস, যিনি হাসির ইভোল্যুশন নিয়ে কাজ করছেন তিনি বলেন, আমরা মানুষ ও গ্রেট এপসদের সাধারণ পূর্বসূরি থেকে হাসির ক্ষমতা উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছি, যারা  ১০ থেকে ১৬ মিলিয়ন বছর বেঁচে ছিলো। ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সুত্রমতে তার এ গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছিলো PlOS ONE জার্নালে Chimpanzees (Pan Troglodytes) Produce The same Types of “laugh Faces” When they emit Laughter and When they are Silent  শিরোনামে। সেখানে আরো বলা হয়, শিম্পঞ্জি হাসি প্রদর্শন করে দাঁত  সঞ্চারিত করে, সেটা রিয়েল হোক বা না’ই  হোক। এর মানে হলো যে শিম্পাঞ্জিরাও বহুমুখী ও সুস্পষ্ট উপায়ে কমিউনিকেশন করতে পারে, যেমনটি পূর্বে তাদের ব্যাপারে ভাবা হতো। তিনি বলেন, এটি অনেকটা মানুষের মতো যারা সাইলেন্টলি হাসে, কথা বলার সময়, যাদের প্রতিটি আলাদা ইমোশন বহন করে। ন্যাশনাল জিপগ্রাফির Rats Remember who’s Nice to Them- and return the favour  নামক একটি আর্টিকেলে বলেন, ইঁদুররা অন্য আর একটি ইঁদুরের কাইন্ডনেস বুঝতে পারে এবং তার সাথে ঠিক সেভাবেই আচরণ করে এবং তারা ভুলের জন্য অনুশোচনাও করে। পুলম্যান ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির Jaak Panskepp বলেন, যে সকল ইঁদুরকে সুড়সুড়ি দেয়া হয় তাদের Happy Noises পাওয়া যায়। 2000 সালের একটি এক্সপেরিমেন্টে রোডেন্টদেরও আনন্দিক নাকের সন্ধান পাওয়া যায়। তারা একে অপরকে সুড়সুড়ি দিতে এতটাই পছন্দ করে যে সুড়সুড়ি দেয়ার জন্য মাঝেমাঝে তারা হাত উঁচু করে রাখে।
 
 
 
 
 
 
 
Animals #Rats | Animals, Funny rats, Cute animals
 
 
 
 
 
 
 
 
 
প্যাঙ্কস্ক্যাপ এবং তার সহকারীরা তাদের একটি স্টাডিতে দেখান, তারা ইঁদুরের হাসির সাথে জড়ির ব্রেন সার্কিট খুঁজে পেয়েছেন। তিনি ইঁদুরের মস্তিষ্কের সাতটি বেসিক এরিয়া মানুষের সাথে মিল পেয়েছেন। তার গবেষণা মানুষের ডিপ্রেসনকে বুঝতে সহযোগিতা করে। একটি এন্টি ডিপ্রেসেন্ট ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছিলো GLYX-13, যা ইঁদুরের হাসির গভীরে প্রোথিত।
 
 
 
 
এদিকে অনেকে মনে করেন হাসি সকল রোগের মেডিসিন কিন্তু আসলেই কী তাই? ন্যাশনাল জিওগ্রাফির Is laughter the best Medicine নামক একটি আর্টিকেলে বলা হয়, হাসি মাঝেমাঝে এজমা এটাক এবং দূর্লভ ক্ষেত্রে স্ট্রোকের কারণ হয়। একটি স্টাডিতে দেখা যায় আপনি যখন এমন কোনো ব্যক্তিদের চারপাশে থাকবেন যারা অসম্পূর্ণভাবে হাসছে, আপনার মধ্যে ভালোলাগার বদৌলে বরং চাপের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের, সেন্টার ফর কার্ডিওলজির মাইকেল মিলার বলেন, একটি সুন্দর হাসি মস্তিষ্ক থেকে এন্ড্রোপিন রিলিজ করে। এন্ড্রোপিন হলো, একপ্রকার সুখবৃদ্ধিকর নিউরো-ট্রান্সমিটার, এটি এন্ডোথেলিয়ামের পৃষ্ঠতলে রিসেপ্টরগুলো সক্রিয় করে। যার ফলে নাইট্রিক অক্সাইড, যা রক্তের শিরাকে প্রসারিত করে সেটি প্রশস্ত হয়, রক্ত প্রবাহ বাড়ে, দহন কমিয়ে দেয়, প্লেটলেট কাম্পিং এ বাঁধা দেয় এবং কোলেস্টোরল প্ল্যাকের গঠন হ্রাস করে।
 
 
 
 
২০০৫ সালে মিলার একটি এক্সপেরিমেন্ট পরিচালনা করেন, তিনি বিশজন ভলান্টিয়ারের উপর একটি পরীক্ষা চালান। ফানি মুভি দেখার পূর্বে ও পরে তাদের রক্ত প্রবাহ পরিমাপ করা হয়। কিন্তু যখন তারা সে সকল মুভি দেখলো যা তাদের হাসায় দেখা গেলো তাদের রক্ত প্রবাহ ১৪ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে বৃদ্ধি পায়। তার মানে দেখা যাচ্ছে, হাসি আমাদের রক্তচলাচলের গতি বাড়ায়। এর লেখক মিলার বলেন, সবচেয়ে ভালো হাসি হলো তা যা আপনাকে কাঁদায়। তিনি বলেন, পজেটিভ ইমোশন আপনার হৃদরোগের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
 
 
 
জাপানের একটি ল্যাবরেটরির স্টাডিতে দেখা যায়, হাসি রক্তের  ভেতর এন্টি-ইনফ্লেম্যাটরি ফ্যাক্টরকে উন্নত করে যার রয়েছে রিউম্যাটের আর্টারি। হাসি নিয়ে কিছু গবেষণা আছে যেগুলো কন্ট্রাডিক্টরি। ৭০ জন হতাশগ্রস্ত নারীর উপর গবেষণা করে দেখা গেছে , ইয়োগা হাসি থেরাপির মতোই কার্যকরী যা মুড উন্নত করে যা ব্যক্তির আত্মসন্তুষ্টির বিবৃতি থেকে জানা যায়। হিউম্যার এবং লাফার মাসল টোনকে উন্নত করে। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, ভালো হাসি স্ট্রেস হর্মোন রিলিজ করে। কিন্তু আবার হিন্দুয়াই জার্নালে প্রকাশিত Humor and laughter may influence Health: Lighter and health Outcome নামক বেনেটের একটি প্রবন্ধে দেখা যায়, হাসি সেই হরমোনগুলোকে প্রভাবিত করেনা।।
 
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে বলা হয়, কোনো সন্দেহ নেই যে, নিউইয়র্ক কার্টুন, গুড জোক, অথবা মার্ক্স ব্রাদারের সাথে সময় কাটালে আমরা থেরাপিউটিক অনুভব করি। কিন্তু যখন বেনেট, যিনি তার কেরিয়ারের অধিকাংশ সময় হাসির জন্য অপচয় করেছেন এবং এ ব্যাপারে গবেষণা করেছেন তিনি বলেন, কেউ যদি প্রশ্ন করে হাসি রোগ প্রতিরোধ করে কিনা তবে আমি খুব সহযভাবে উত্তর দেবো, না( করেনা)! তিনি যোগ করেন, এটি রিয়েল মেডিসিনের একটি প্রয়োজনীয় সংযোজন। আপনি যদি ক্যামোথেরাপি নিয়ে থাকেন তবে এটি আপনাকে সুস্থ্য রাখবে এমনকিছুর মাধ্যমে যা খারাপ।
 
 
 
২০১৮ সালে দি গার্ডিয়ানে Facial Awareness: the meaning of a Smile শিরোনামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়,  যেটি ছিলো নেইল স্টেইনবার্গের লিখা। আর্টিকেলটি শুরু হয়েছিলো অনেকটা এভাবে, “এটা অত্যন্ত মৌলিক একটি বিষয় যা মানুষ করে থাকে। নবাগত শিশুরা স্বতস্ফূর্তভাবে হাসে, প্রতিবিম্ব হিসেবে, এটি মাঝেমাঝে পিতামাতা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন। তারা মনে করেন, শিশুরা তাদের উপস্থিতিতে হাসছে, কিন্তু ছয় থেকে আট সপ্তাহ বয়সের একটি শিশু কী সামাজিকতা বোঝে? সামাজিক ব্যাখ্যার পরিবর্তে হাসির ফিজিক্যাল ব্যাখ্যা রয়েছে – হাসি কী আর হাসির মাধ্যমে আসলে কী বোঝানো হয়?
 
 
 
BBC’ তে একবার What is the best age to learn a language নামক আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয় শিশুরা মাতৃগর্ভ থেকে চারপাশের শব্দগুলো শোনে ও সেগুলো কপি করার চেষ্টা করে। Multilingual Parenting ওয়েবসাইটে How many language can small child learn at the same time শিরোনামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয়, শিশুরা একই সময় অন্তত তিনটি ভাষা শিখতে পারে। TRUFLUENCY নামক একটি সাইটে Best age to learn a Second Language একটি আর্টিকেলে MIT এর একটি গবেষণায় পত্রের রেফারেন্স দিয়ে বলা হয় শিশুরা দশ বছর বয়সের ভেতর দ্বিতীয় ভাষা শিখতে পারে। Verywell Family তে বলা হয়, শিশুরা মূলত জন্মের পর প্রায় সব ভাষার শব্দ উচ্চারণই শিখতে পারে কারণ তাদের মস্তিষ্কের কপি করার পদ্ধতি একই। মূলত ভাষা শিখতে একজন শিশুর সময় প্রয়োজন হয় ৪ বছর কিন্তু জন্মের পরপরই সে হাসে! শিশুটিকে কেউ শিখিয়ে দেয়না যে কিভাবে হাসতে হয়। আর  এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি, শিশুদের মস্তিষ্কে হাসির বিবর্তন ঘটেছে ভাষার উদ্ভবের অনেক পূর্বেই। যদি ভাষার বিবর্তন হাসির বিবর্তনের পূর্বেই ঘটতো তবে শিশুরা হাসার পূর্বেই শুদ্ধ বাংলায় আপনাকে নাম ধরে ডাকতো, মিষ্টি মিষ্টি হাসি প্রদর্শনের পরিবর্তে, তারা আপনাকে বলতো, চলো গল্প করি! BBC এর প্রতিবেদন অনুসারে, আসলেই হাসির বিবর্তন ঘটেছে প্রায় ১৬ মিলিয়ন বছর পূর্বে আর ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে মাত্র এক লক্ষ বছর হলো। এ জন্যই হাসি এত মৌলিক, শিশুদের ভাষা শিখতে হয় কিন্ত কোনো শিক্ষা ছাড়াই  শিশুরা আপনার দিকে ফিটফিট করে তাকিয়ে হাসে! সে মূলত আপনাকে দেখে হাসছেনা, শিশুটির একমাত্র ভাষাই তখন ফ্যাশিয়াল এক্সপ্রেসন, যার মাধ্যমে সে আপনার সাথে কমিনিউকেশন করে ।
 
সাংস্কৃতিকভাবে হাসি সম্পূর্ণ মানব ইতিহাসকে রিজোন্যাট করে রেখেছিলো। ২৫,০০ বছর পূর্বের গ্রীক কৌরস ভাস্কর্য থেকে ইমোজি পর্যন্ত। আজ অনলাইন মেসেজে একটি ইমোজি অনেক বিখ্যাত যেটিকে বলে Face with Tears or Joy! এ ইমোজিটি এতটাই বিখ্যাত ছিলো যে, গার্ডিয়ানের সুত্রমতে এটি Oxford Language এর Word of the Year 2015 এর মর্জাদা পেয়েছিলো। সুত্রমতে, এ হাসি সুখ থেকেও বেশিকিছু প্রকাশ করে, আর চোখের পানি আয়রনিক টুইস্ট যোগ করে, যে হাসি নিজেই হাসির চেয়ে বেশিকিছু প্রকাশ করে।
 
 
 
২০১৬ সালে Journal or nonverbal Behavior প্রায় ৪৪ ‘টি আলাদা সংস্কৃতির শতাধিক ব্যক্তিকে একটি  ফটোগ্রাফের  সেট দেখান, যেখানে চারটি হাসিমুখ আর চারটিতে হাসি নেই। তারা বলেন, হাসিমুখগুলো হাসিহীন মুখের চেয়ে অনেক সৎ। সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং পিলিপাইনে যদিও পার্থক্য পাওয়া যায়। সামান্য পার্থক্য পাওয়া যায় পাকিস্তান, রাশিয়া ও ফ্রান্সে। ইরান, ইন্ডিয়া, বাংলদেশ ও জিম্বাবুয়ের মতো দেশে হাসির কোনো বিশ্বাসযোগ্য লাভ নেই। গবেষকরা বলছেন, যে সকল দেশে বিশ্বাসযোগ্যতা নিন্মমানের সে সকল দেশের হাসি অন্যদের খুব একটা প্রভাবিত করেনা। গার্ডিয়ানে বলা হয়, অত্যধিক দূর্ণীতি মানুষের হাসি থেকে বিশ্বাসযোগ্যতা মুছে ফেলে।
 
 
 
 
 
 
Face With Tears Of Joy Emoji transparent PNG - Stic.PNG
 
 

ওল্ড টেস্টামেন্টেও একটি হাসির অস্তিত্ব আছে__জব, হাস্যকরভাবে দূর্ভোগের বইটিতে- যদিও অনেক অনুচ্ছেদে মুখগুলোকে আলোকিত মনে হয় যার অর্থ হাসিখুশি বা স্বর্গীয় আলোকসজ্জাকে বোঝানো হয়ে থাকে। ইস্টার্ন ধর্মগুলো এনলাইটম্যান্টকে বোঝানোর জন্য হাসির ইমোজি ব্যবহার করে থাকে। বুদ্ধ ও বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে স্বর্গীয় হাসিতে অংকিত করা হয়েছে। যদিও মূল বৌদ্ধ গ্রন্থগুলো ধর্মগ্রন্থের মতো হাসিখুশি নয়।যিশু অশ্রু ঝরিয়েছেন, তিনি হাসেননি।

 
এমন অনেক রোগ আছে যা মানুষের হাসির ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফেসিয়াল প্যারালাইসিসের একটি সাধারণ কারণ স্ট্রোক। মুবিয়াস সিন্ড্রোম আক্রান্ত হলে,  একটি সহযাত ফেসিয়াল প্যারালায়সিস সৃষ্টি হয় স্তম্ভিত ক্রেনিয়াল নার্ভ থেকে, যেখানে আপনি হাসতে পারেননা, আপনার চোখকে এদিক ওদিক নাড়াতে পারেন না। ৬৭ বছর বয়সী, রোল্যান্ড বিয়েনভেনু যিনি মোবিয়াস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত, তিনি বলেন, আপনার কাছে মনে হবে আপনি মুখে মাস্ক পরিধান করেছেন। তিনি আরো বলেন, হাসতে পারার অক্ষমতা অন্যের কাছে আপনার ভুল ইমপ্রেসন প্রেরণ করবে। আপনি তখনও তাদের চিন্তা পড়তে পারবেন, তারা বিস্মিত হবে,  Is Something wrong with him? Has he had an accident? তারা আপনার ইন্টেলেকচুয়াল এবেলিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। একপেশে হাসিও প্রবলেমেটিক হতে পারে, টেরাটোমা আক্রান্ত Dwan Shawn লেখেন, এ জন্য আমি আমার ইমোশনগুলো সফলভাবে প্রদান করতে পারতাম না।
 
 
 
যেকোনো বয়সে হাসির ক্ষমতা হারানো একটি বড় মাপের ক্ষতি। হাসির মাধ্যমে তরুণ তরুণী দীর্ঘকালীন সম্পর্কে জড়িত হয়। এটি একটি বিশাল সমস্যা হয়ে দেখা দেয় তাদের জন্য । পিলেডেলপিয়ার শিশু হসপিটালের, অকুপেশনাল থেরাপির সুপারভাইজার টামি কোনেচজিনি বলেন, যখন আপনি কারো দিকে তাকান, সর্বপ্রথম আপনি যা দেখবেন তা হলো তাদের মুখ, তাদের হাসার ক্ষমতা আছে বা নেই অথবা তাদের হাসি এসিমেট্রিক্যাল কিনা। এটা আপনার সামাজিক জীবন। কেউ যদি আপনার ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন রিড করতে না পারে তবে সমাজ আপনাকে গ্রহণ করবেনা। এটি শিশুদের জন্য খুবই দূর্যোগময়। নেইল স্টেইনবার্গ বলেন, আমার পরিচিত একটি শিশু আছে যার মুখের এক পাশ বিকৃত, ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার পূর্বে সে তার মুখের সুন্দর অংশ ফটোশপের মাধ্যমে কেটে অন্য অংশে যোগ করে। মিরর ইমেজের মাধ্যমে সে তার ছবি এডিট করে।।
 
 
 
 
১৯৩৪ সালে মডার্ন প্লাস্টিক সার্জারীর পিতা, হ্যারল্ড গিলিস বলেন, Restoring the ability to Smile made Patients’ Faces “Feel much more Comfortable.”। এছাড়াও, তিনি বলেন, সাইকোলজিক্যাল এফেক্ট একটি উল্লেখযোগ্য ভ্যালু। একটি হলো ব্যাখ্যামূলক দিক। চার্লস ডারউইন তার ১৮৭২ সালের The expression of the Emotions in Man and Animals নামক গ্রন্থে হাসির মিনিং ও ভ্যালু সম্পর্কে আলোচনা করেন। এজন্য  ডারউইন তার নিজের দুজন বেবিকেই পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, কিভাবে হাসি সুখ থেকে বেশি কিছু বহন করে, তিনি উদ্বেগজনক ও বিদ্রুপাত্মক হাসির কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন ” মিথ্যা হাসির কথা এবং তিনি তার সহযোগীদের ছবি প্রদর্শন করেন, তারা আসলে বুঝতে পারে কিনা।
 
 
 
 
বিজ্ঞানীরা ভিন্ন ভিন্ন লিঙ্গ ও সংস্কৃতির মধ্যেও হাসি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বিশেষ করে তারা দেখতে পায় নারীরা বেশি হাসে। হাসি অবশ্যই যোগাযোগের একটি মাধ্যম, মানুষ বেশিরভাগ সময় তখনই হাসে যখন সে পাবলিকে থাকে, একাকী সে তেমন একটা হাসেনা।
 
বিজ্ঞানীরা দেখেন যে, হাসির এক্সপ্রেসন অন্যান্য এক্সপ্রেসন থেকে অনেক সহযেই সনাক্ত করা যায়। তারা জানেনা যে কেনো। আমরা বাস্তবিকই হাসি সনাক্ত করতে পারি-  এলেক্স মার্টিনেজ বলেন; যিনি ওহাইও ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রিক্যাল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রফেসর। কিন্তু আমরা এটা কেনো পারি? এখনো কেউ এর উত্তর জানেনা। আমরা জানিনা, আমরা আসলেই জানিনা।
 
 
 
 
স্টেইনবার্গ বলেন, আমরা একটি ক্লাসিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট করেছি, যেখানে আমরা মানুষকে ফেশিয়াল এক্সপ্রেসনের ইমেজ প্রদর্শন করি কিন্তু আমরা খুব দ্রুত তাদের এটা প্রদর্শন করি…১০ থেকে ২০ মিলিসেকেন্ড। তিনি বলেন, আমি যদি আপনাকে দশ মিলিসেকেন্ডের জন্য একটি হাসিমুখের এক্সপ্রেসন দেখাই আপনি এটাকে সনাক্ত করতে পারবেন কিন্তু অন্য কোনো ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন এত কম সময়ে সনাক্ত করা যায়না।
 
 
 
ভয় সনাক্ত করার জন্য ২৫০ মিলিসেকেন্ড সময় প্রয়োজন হয় যা হাসি থেকে ২৫ গুণ বেশি দীর্ঘ। যা কোনো সেন্স তৈরি করেনা, বিবর্তনীয়ভাবে বলতে গেলে। মার্টিনেজ বলেন, Recognising Fear is More Fundamental to Survival, While’ a Smile…. কিন্তু এর মানে হলো যে আমাদের মস্তিষ্ক এভাবেই ওয়্যার্ড। গবেষণায় দেখা যায়, হাসিমুখ নিউট্রাল মুখ থেকে অনেক বেশি পরিচিত মনে হয়, মনে হয় যেনো আদিম, আগে কখনো দেখেছি। এমন নয় যে শুধু আমরাই হাসিমুখ সনাক্ত করতে পারি। এটি মানুষ ও মেশিন উভয়ের ক্ষেত্রে সত্য। যদিও বিজ্ঞানীরা ১৫০ বছর ধরে হাসির রহস্য অনুসন্ধান করছেন। তারা মূলত মিলিয়ন ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন থেকে হাসিকে ক্যাটাগোরাইজড করার চেষ্টা করছেন। বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো, আমরা ঠিক কতগুলো ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন তৈরি করতে পারি? মার্টিনেজ বলেন, কেউই জানেনা।
 
 
 
মার্টিনেজের মতো বিজ্ঞানীরা থিওরাউজ করেন, হাসি, এছাড়া ভ্রুকুটি ও ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন মানব সভ্যতার ভাষার বিবর্তনের ঐতিহ্যের সর্বশেষ অবশেষ। মানুষের ভাষার বিবর্তন ঘটেছিলো ১০০, ০০০ বছর পূর্বে কিন্তু আমাদের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন আজ থেকে ১৬ মিলিয়ন বছর পূর্বেও অস্তিত্বশীল ছিলো, এমনকি মানব সভ্যতার বিবর্তনেরও মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্বে প্রাইমেটদের মধ্যে ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন ছিলো। আমরা সেপিয়েন্স হিসেবে এ গ্রহে বিকশিত হয়েছি  মাত্র কয়েক লক্ষ বছর পূর্বে কিন্তু আমাদের হাসি বিকশিত হয়েছিলো আমাদের আদিম পূর্বসূরিদের ঠোঁটে। হাসি শুধু আমাদের ভাষা নয়, হিউম্যান সিভিলাইজেশন 0.7 থেকেও অনেক প্রাচীন।
 
 
 
 
মার্টিনেজ বলেন, যখন মানব সভ্যতার ঠোঁটে ভাষা ছিলোনা, যখন এ মহাবিশ্বে কোনো কবিতা বা গান উচ্চারিত হয়নি তখনও আমাদের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসনের মাধ্যমে আমরা একে অপরের কাছে সিগনাল পাঠাতাম। মিলিয়ন মিলিয়ন বছর প্রাইমেটরা নিস্তব্দভাবে ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন পরিবর্তন করেছিলো যোগাযোগ করার জন্য, তাদের মুখের স্কিনের বিভিন্ন তরঙ্গই তাদের মনের ভাব বলে দিতো। আমি মনে করি, ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন মানব সভ্যতার কথা বলার আদিম পূর্বপ্রস্তুতি। প্রায়শ দেখা যায়, আমরা মুখ নাড়াচাড়া করি কিন্তু কিছু বলতে পারিনা।  অনেকটা প্যারালাইসিসের মতো। আমাদের মনের ভাব ফেশিয়াল এক্সপ্রেসনে প্রবাহিত হয়। আমার এখনো মনে পড়ে কলেজ জীবনে,  মেকি নামক একটি মেয়েকে প্রপোজ করতে গিয়ে আমার মুখে কম্পন তৈরি হয়েছিলো, স্কিন এদিক ওদিক দুলছিলো কিন্তু আমি কিছু বলতে পারিনি তাকে। ঠিক তেমনি মার্টিনেজের তত্ব বিশ্লেষণ করে, আমরা বলতে পারি এক লক্ষ বছর পূর্বে ভাষার আবিষ্কার থেকেও অনেক আগে, এমনকি বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লবের আদিম পর্যায় থেকেও মিলিয়ন বছর অতীতে মানব সভ্যতার আদিম পূর্বসূরীদের স্কিন শুধু কম্পন করেছিলো বিভিন্ন তরঙ্গে, যেনো গোটা আদিম প্রাইমেট সম্প্রদায় আমার মতোই দাঁড়িয়েছিলো তার মহাজাগতিক প্রেমিকার সম্মুখে।  মিলিয়ন মিলিয়ন বছর তাদের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন কাজ করেছিলো, কিন্তু তখনও তারা শব্দ করতে পারেনি, আর একবার আজ থেকে এক লক্ষ বছর পূর্বে কিছু বিস্ময়কর ঘটনার পর, সেপিয়েন্সদের জিনের মধ্যে সর্বপ্রথম একটি মিউটেশন ঘটে , যা তাদের মস্তিষ্কের সংযোগ পদ্ধতি বদলে দেয়! আর মানব সভ্যতা তার জীবনে  প্রথমবার , কলেজের সবচেয়ে বদমেজাজী মেয়েটির প্রাচীন পূর্বসূরী  কোনো শিকারি সংগ্রাহক নারীর সামনে  দৃঢ় পায়ে দাঁড়িয়ে, মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের ফেশিয়াল প্রাসঙ্গিকতার পর তার প্রাইমেট প্রেমিকাকে বলতে শেখে, অজানা কোনো ভাষায় , ভালোবাসি, আমি ভালোবাসি…!
 
 
 
 
 
মার্টিনেজ বলেন, Before we could Communicate Verbally, We had to Communicate with our face! এটি আমাদের কাছে বিজ্ঞানের খুবই ইন্টারেস্টিং একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করে, ভাষা কোথায় থেকে এলো? এর পক্ষে একটি হাইপোথেসিস হলো ভাষা এসেছে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর ধরে চলমান ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন থেকে। প্রথমে আমরা আমাদের ফেশিয়াল মাসল মুভ করতে শিখেছি যার মাধ্যমে আমরা একে অপরকে বলতাম, আমি সুখী, আমি তোমার সাথে থাকতে ইতিবাচকতা বোধ করছি। আর এভাবে ফেশিয়াল এক্সপ্রেসনের গ্রামার বিবর্তিত হলো, আর সেই নিস্তব্দ ব্যকরণ পরিণত হলো শব্দে। আর তাই যখন প্রশ্ন আসে, কিভাবে এত অসীম জটিল একটি ভাষা কোনোকিছু না থেকে সৃষ্টি হলো? এর উত্তর নিশ্চিতভাবে – একটি হাসি।
 
 
 
 

 

 

নারীরা পুরুষের চেয়ে তুলনামূলক বেশি হাসে ?

Silver medallist Allyson Felix smiles after losing out on gold at the 2016 Olympics (Credit: Getty Images)

 
নারী চরিত্রের  একটি অদ্ভুত রহস্য হাসি কিন্তু তার মানে এই নয় যে, পুরুষ হাসতে জানেনা! ১৭ ই ফেব্রুয়ারী ২০২১ সালে AEE1534; Why you should not tell a Woman to Smile নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয় নারীরা পুরুষের চেয়ে তুলনামূলক বেশি হাসে। ৯৮ জন মহিলার উপর একটি পরিসংখ্যান করে দেখা যায় তারা দিনের মধ্যে অন্তত একবার হলেও অনিবার্যভাবে হাসবে! সাধারণত সবচেয়ে সিনিয়র নারীরা তরুণদের তুলনায় অধিক হাসে বলে জানা যায় কিন্তু সকল বয়সের নারীদের মধ্যেই হাসি সাধারণ। গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের মধ্যে একজন নারী প্রায় ৬২ বার হাসে যেখানে পুরুষ স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন হাসে ৬ বার । Sciencedaily নামক একটি বিজ্ঞান নিউজে সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৫ সালে, ইউনিভার্সিটি অব কানাস পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায় যখন দুজন আগন্তুক একত্রিত হয়। পুরুষরা সবসময় মজার মজার কথা বলে, আর নারীরা তাদের কথা শুনে হেসে চুর্ণ হয়ে যায়। সেখানে বলা হয়, পুরুষের মধ্যেই নারীকে কৌতুক শোনানোর প্রবণতা বেশি। মূলত আমরা যখন কোনো একজন নারীকে কৌতুক শোনাই তখন তার ব্রেন কৌতুকটির ভবিষ্যৎ ফলাফল কী হতে পারে সেটা পূর্ব থেকে কল্পনা করার চেষ্টা করে।। কিন্তু কৌতুকের ক্ষেত্রে দেখা যায় এর ভবিষ্যত আউটপুট যেমনটি হওয়ার কথা তেমন হয়না বরং সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কোনো ফলাফল আসে, যার জন্য আমরা হেসে ফেলি।
 
 
 
 
 
মিচিও কাকুর স্পেস-টাইম থিওরি অব কনশাসনেস অনুসারে, আমাদের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স একটি নিউরাল টাইম মেশিন, যেটি প্রতিনিয়ত ফিউচার সিমুলেট করে, কল্পনায় সে ভবিষ্যতের সম্ভাব্যনাগুলোকে মনস্তাত্বিকভাবে অস্তিত্বশীল করে পূর্ব থেকে বুঝতে চায়। আর তাই, যখন আমাদের কেউ কোনো কৌতুক বলে সে কৌতুকটার শেষটা কেমন হবে সেটাও আমরা সিমুলেট করার চেষ্টা করি, যদি সময় নামক “ফোর্থ ডায়মেনশনটির” ভেতর দিয়ে আমরা যদি ফিউচারকে কল্পনা করতে না পারতাম তবে একটি গল্পের শেষ যখন আমার কল্পনার বাহিরে ঘটে তখন আমি বিষ্মিত বা দুঃখ্যিত হতামনা অথবা আমরা কোনো কৌতুকও অনুভব করতাম না! ফোর্থ ডায়মেনশনের ভেতরেই আমাদের কল্পনা সংঘটিত হয়, আর আমরা গল্পের শেষ অংশ পড়ে কান্না করি কারণ সেটি Unexpected ছিলো। আমার ব্রেন যেমনটি কল্পনা করেছিলো তেমনটি হয়নি বলেই আমি কান্না করি। আবার অনেক সময় আমি যা ভাবি তার থেকে বিষ্ময়কর কোনো Unexpected সমাধান আসলেও আমরা ফিক করে হেসে দেই। একজন পুরুষ যখন একজন নারীকে কৌতুক শোনায় তখন সে মূলত তার মস্তিষ্কের ফিউচার সিমুলেশনকে ত্বরাণ্বিত করে এবং তাকে তার ইন্টারনাল ট্যালেন্ট বোঝাতে চায় যেনো মেয়েটি তার প্রতি দূর্বল হয় ও কোর্টশিপ করে।গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ যদি একসাথে হাসে তবে এটা তাদের মধ্যকার রোমান্টিক কানেকশনের একটি ইন্ডিকেশন। কিন্ত আসলেই কী কৌতুকের সাথে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার কোনো সম্পর্ক আছে?
 
 
 
 
 
জে. এ হল হাসির বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের উপর পরিচালিত Sexual Selection and Humor in Courtship ; A Case for Warmth and Extroversion নামক ২০১৫ সালে Sage Journal এ প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলেন, যারা কৌতুক করে তারা যতটা না বুদ্ধিমান তারচেয়ে বেশি এক্সট্রোভার্ট। তিনি কৌতুক ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পায়নি! বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান এর আলোকে আমরা দেখছি নারীরা সে সকল পুরুষকেই ভালোবাসে যাদের Sense of Humor আছে। সমাজে যে সকল ছেলে ঠাট্টা তামাশা করে মেয়েদের তাদের প্রতি আকর্ষণ অনেক বেশি বলে ইউনিভার্সিটি অব কানাসের পিএইচডি প্রফেসর ড. জেফরি হল মনে করেন। আমরা সমাজে বেশিরভাগ মেয়েকেই দেখি তার ফালতু, অস্বাভাবিক ও উদ্ভট ছেলেদেরকে বেশি পছন্দ করে!  যে সকল ছেলেরা ছেড়া প্যান্ট, উদ্ভট টি-শার্ট এবং বিক্ষুদ্ধ চুল রাখে তাদের প্রতিই তরুণীদের ঝোঁক অনেক বেশি!
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
হল, প্রথমে মনে করেছিলেন, ফান হলো একটি এডভারটাইজ। যার মাধ্যমে একটি ছেলে তার ব্রেনের বুদ্ধিমত্তার বিজ্ঞাপন দেয়। যাতে করে মেয়েরা বুদ্ধিমান ছেলের সাথে প্রেম মরে, নিশ্চিন্তে প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ছেড়া প্যান্ট, এলোমেলো চুল, র্যাব সং এবং দু-পায়ের দু-রকমের স্যান্ডেল পড়া একটা ছেলের সাথে আইনস্টাইনের বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক কী? হাস্যকর ডায়লগ দিতে পারলেই কী এটম বোমার প্রযুক্তি জানা যায়? ভালো পলিটিশিয়ান হওয়া যায়? তাহলে মিস্টার বিনের প্রেমে শত শত নারী হাবুডুবু খেতো, সে নিজেই মহাজ্ঞানী সক্রেটিস হয়ে যেতো ! যাহোক, হল, সেন্স অব হিউম্যার ও বুদ্ধির কানেকশনকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন, কারো সেন্স অব হিউম্যার থাকলেই যে সে বুদ্ধিমান তা একদম ঠিক নয়, তাহলে কেনো পুরুষ শুধু শুধু কৌতুকের মাধ্যমে নারীর ব্রেনকে ফিঙ্গারিং করে? এবং নারীরা সে সব পুরুষদের প্রতি আকর্ষন অনুভব করে? হল বলেন, I had a Sense that theory didn’t Make Sense because I think the attempt at being funny may be a sign of Social facility, but not Sign of Intelligence.
 
 
 
 
একটি পরীক্ষায় ৩৫ জন অংশগ্রহণকারী ১০০ টি অপরিচিত ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করেন , তারা এমন কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজে পাননি যে বুদ্ধিমানরা তাদের ফেসবুক পেজে কৌতুক লিখে পরিপূর্ণ করে রাখেন। যদি তাই হতো তবে ব্রায়ান গ্রীন ও স্টিভেন পিঙ্কারের টুইটারে স্ট্রিং থিওরি অথবা বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের পরিবর্তে হাজার হাজার নারীর মন ভোলানো কৌতুক পাওয়া যেতো।
 
 
 
এরপর তিনি আরো একটি স্টাডি করেন। এবার ৩০০ জন কলেজ স্টুডেন্টের উপর পরিসংখ্যান চালানো হয় এটা দেখার জন্য যে কোর্টশিপে হিউমারের সম্পর্কটা কি আসলেই বুদ্ধিমত্ত্বার সাথে সম্পর্কযুক্ত কিনা! তিনি ছাত্রদের GPA ও ACT স্কোর সংগ্রহ করেন। যদি সেন্স অব হিউম্যারের সাথে বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক থাকতো তবে যে সকল ছাত্রদের GPA অনেক বেশি তাদেরই হয়তো সবচেয়ে বেশি সেন্স অব হিউম্যার থাকার কথা ছিলো কিন্তু এবারও দেখা গেলো, GPA ও ACT স্কোরের সাথে হিউমারের কোনো সম্পর্ক নেই!
 
 
 
এবার তিনি, আরো একটা দুর্দান্ত পদক্ষেপ নেন। ৫১ জন হেট্রোসেকচুয়াল কলেজ ছাত্র ছাত্রীকে তিনি একটি কক্ষে রেখে দেন। প্রতিজোড়া কক্ষের মধ্যে ছিলো, প্রায় দশ মিনিট, আর ঠিক সে সময় তাদের ভিডিওটেপ ও রেকর্ড নেয়া হয়। যাহোক, ফলাফল এটা বলছেনা যে, যারা সেকচুয়াল আচরণ করতে চেয়েছে তারা অন্যদের থেকে বেশি কৌতুকপ্রবণ ছিলো। কিন্ত তিনি দেখেছেন, যতবার একটি ছেলে মজা করার চেষ্টা করলো, মেয়েটি হেসে হেসে ততবার তার কৌতুকের জবাব দিচ্ছিলো! আর ঠিক ততবেশি মেয়েটি ছেলেটির প্রতি রোম্যান্টিক্যালি আকৃষ্ট হয়ে উঠছিলো। কিন্তু এটা আবার নারীর বেলায় সত্য নয়। একজন নারী কৌতুক করলে সেখানে কোনো রোম্যান্টিক ফিলিংস তৈরি হয়না!
 
 
 
 
 

কিন্তু কেনো মেয়েরা এসব উদ্ভট ছেলেদের পছন্দ করে?

আপনি যখন হাসেন তখন আপনার মুখের মাংশপেশীতে টান পড়ে, আপনার পালস ও ব্লাড প্রেসার মৌলিকভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্ত তারপর আবার নিচে নেমে যায় যা ব্লাড ভেসেলকে সম্প্রসারিত করে ও সহযভাবে প্রবাহিত হতে সাহায্য করে। যেহেতু হাসলে ব্লাড ভেসেল সম্প্রসারিত হয়, এ জন্য হাসার সময় অঙ্গের মধ্যে অক্সিজেনের প্রবাহ অনেক কার্যকরী হয়।
 

মনে করে দেখুন, যখন আপনি হার্ডলি হাসেন তখন বাতাসের জন্য আপনি হাঁপান। এ জন্য হাসার সময় আপনার ভেতর অনেক বেশি অক্সিজেন প্রবেশ করে। আপনার নিশ্বাস দ্রুততর হয় এবং আপনার টিস্যুতে অধিক অক্সিজেন সেন্ড করে। মস্তিষ্কও এফেক্টেড হয়।

হাসার ফলে আপনার মস্তিষ্কে বেটা-এন্ড্রোপিন তৈরি হয়, পিটুইটারি গ্রন্থিতে একটি নিউরোট্রান্সমিটার তৈরি হয় যা ব্যাথা নিরাময় করে।
টার্ম অনুসারে, মস্তিষ্কের লেফট হেমিস্ফিয়ার জোক্সের শব্দ ও স্ট্রাকচার বোঝে যেখানে রাইট হেমিস্ফিয়ার বিশেষ করে ফ্রন্টাল লোব ইমোশন প্রসেস করে এবং এটি ট্রিগার হয় যখন আপনি মজার কোনোকিছুর চারপাশে আসেন। যখন ফানি কোনোকিছু সনাক্ত করা হয়, মস্তিষ্কের মোটর এলাকা হাসির ফিজিক্যাল রি-একশন তৈরি করে এবং এর সাথে আসা শব্দের। হাসির মনোবিজ্ঞানের ( Psychology of Laughing) গবেষক ড. ইউলিয়াম ফ্রাই বলেন, Laughter is the Equivalent of “Internal Jogging”!
 
 
 

 

এসবের পেছনের আভ্যন্তরিণ কারণ কী?

 
 
 
 
তারমানে কী এই যে, মানুষ তাকেই ভালোবাসে যে তাদের ভেতর সাইকোলজিক্যাল জগিং শুরু করতে পারে? তার মানে কী এই যে আমরা আমাদের চারপাশে এমন মানুষদের খুঁজি যারা আমাদের হাসাতে পারে? হল, এক্ষেত্রটিতে বিশেষজ্ঞ ছিলেননা। যদি স্ট্রেস রিলিজিং হর্মোন উপস্থিত থাকে যখন আমরা কারো কাছে ভালোবাসার এক্সপ্রেসন প্রকাশ করি৷ এটি শুধু আমাদের বায়োলজিক্যাল প্রসেস যা আমাদের বলে, এটি করো। আমি জানিনা যে আমি সচেতনভাবে ফিজিক্যাল রি-একশন অনুসন্ধান করছি। আমরা যদি এটা বুঝতে চাই তবে আমাদেরকে আমাদের অতীতের পূর্বসূরিদের কাছে যেতে হবে। কিন্তু তার আগে আমরা দেখে নেই, কেনো হিউমার পার্টনার নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ;
 
 
১. বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রতিটি মানুষ সেন্স অব হিউম্যার পছন্দ করে, এটি মস্তিষ্কের কিছু ক্ষুদ্র মলিকিউল যাকে নিউরোপেপটাইড বলে সেগুলো রিলিজ করে চাপ কমায়। এটি আমাদের মস্তিষ্কের ভালো বা শুভ অনুভূতির সাথে সম্পৃক্ত ডোপামিন, এন্ডোরপিন ও সেরেটোনিন একটিভেট করে যা আপনার ব্লাড প্রেসার ও হার্টরেট হ্রাস করে।
 
 
 
২. নারীরা টেনশন ডিফিউজ করার জন্য হাসে এবং এটি কাজও করে। স্মাইলিং এর মাধ্যমে কোর্টশিপের পূর্বে বন্ডিং তৈরি হয়।
 
৩. জেফরি হল বলেন, পুরুষরা কৌতুকের মাধ্যমে এটা হিসেব করে বের করার চেষ্টা করে মেয়েটি তাকে পছন্দ করছে কিনা!
 
৪. যখন ছেলেরা জোক্স বলে, মেয়েরা হাসে। তারা এর মাধ্যমে মূলত কোর্টশিপের ক্রিপ্ট লেখে। এই স্ক্রিপ্ট এতটাই শক্তিশালী যে, এর মধ্যে সবকিছু লিখা থাকে যা প্রশ্ন করে জানা সম্ভব না। একজন নারীকে আপনি হুট করে গিয়ে যদি বলেন, তোমাকে প্র্যাগনেন্ট করতে চাই নিশ্চয় ব্যাপারটা আপনার জন্য মঙ্গলজনক হবে না। আর তাকে প্রশ্ন করেও জানা সম্ভব না, সে আপনাকে ভালোবাসে কিনা বা অন্তত পছন্দ করেছে কিনা। বরং এমন উদ্ভটভাবে রিয়েক্ট করবে আপনার ভালোবাসার স্বাদই মিটে যাবে। আর এ জন্যই পুরুষরা বিবর্তনীয়ভাবে কৌতুক বলার একটি প্রবণতা অর্জন করে, যার মাধ্যমে মেয়েটির অজান্তেই ছেলেটি মেয়েটির মস্তিষ্কের সুখ বা ভালোলাগার সাথে জড়িত ডোপামিন, সেরেটোনিন ট্রিগার করতে থাকে, মেয়েটি সুখ পায় ও হেসে উঠে। স্বভাবতই, যা আমাদের ভালোলাগে তা আমরা বারবার পেতে চাই, এটা সহযাত। সেই মেয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হোক অথবা হোক গ্রামের নিতান্ত সাধারণ পল্লির কেউ তাতে কিছু এসে যায়না! ডোপামিন আর সেরেটোনিন উৎপন্ন হলে সবাই সুখী হয়। তারা মানুষ হিসেবে আলাদা হলেও তাদের ক্যামিস্ট্রি একই। আর তাই বারবার ব্রেনের ভেতর স্ট্রোক নেয়ার জন্য মেয়েরা হাসির মাধ্যমে ছেলেটিকে রেসপন্স করবে। এটা একসময় বারবার পেতে ইচ্ছে করবে, আর এতে করে কোনো ভাষা, কবিতা, গান বা নৃত্ত ছাড়াই তাদের মধ্যে প্রেম হয়ে যাবে যেটাকে আমরা বলি, ওদের ভাব হয়েছে।
 
৫. হল বলেন, কৌতুকের মাধ্যমে Long lasting Relationship তৈরি হয়। যেটা সরাসরি করতে গেলে, আপনি মারাত্মকভাবে অপমানিত হতেন এবং আপনার সমাজে সম্মানহানি হতো। লোকে আপনাকে র্যাপার, ইভটিজার বলতো! কৌতুক আপনাকে সম্মান ও আত্মমর্জাদার সাথে ননারীর মস্তিষ্কের ডোপামিনকে নিয়ে খেলার সুযোগ করে দেয়, আপনার সেলফিশ জিনকে তার মস্তিষ্কের ভেতর ভালোবাসার মানুষ হয়ে প্রবেশ  করার সুযোগ করে দেয়।
 
 
 
 
 
 

হাসির  সাইকোজিক্যাল স্টাডি

The Psychological Study of Smiling

 
 
 
 
হাসির শুরু হয় মস্তিষ্কের অডিটরি করিডর থেকে। আমাদের কান আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা শব্দগুলো সংগ্রহ করে। আমাদের হাত আর একটি হাতের প্রেসার ফিল করে। এই আবেগীয় ডেটা মস্তিষ্কে সঞ্চারিত হয়, লেফট এন্টারিয়র টেম্পোরাল এলাকাকে উদ্দীপিত করে, তারপর মুখের পৃষ্ঠকে ধুমায়িত করে, যেখানে দুটি মাংশপেশী, একসাথে সজাগ হয়ে যায় এবং একশন জাগ্রত করে। জাইগোমেটিক ম্যাজর যা গালে অবস্থান করে, যা অর্বিকিউলাস অকুলি এবং দুটো ঠোঁটকে উপরের দিকে টান দেয়। যা আই সোকেটকে আবৃত করে, চোখের বাহিরের কোণকে কাকের পায়ের আকৃতি প্রদান করে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, এটি সাধারণত এক সেকেন্ডের ২/৩ হয়, আবার কখনো চার সেকেন্ড।
 
 
 
হাসির সময় অন্যান্য মাসলগুলোও ট্রিগার হয় কিন্তু যায়গোম্যাটিক মেজর এবং অর্বিকুলারিস অকুলি বিশুদ্ধ পজেটিভ এক্সপ্রেসেন প্রকাশ করে। আমরা জানি সাইকোলজিস্টরা এটাকে ডুচেন্ট স্মাইল বলেন। যেটিকে আনন্দের মূল ইন্ডিকেটর মনে করা হয়। এটি ফ্রান্সের এনাটমিস্ট ডুচেনের নামে যিনি ইলেক্ট্রিক্যাল কারেন্টের মধ্যে বিভিন্ন ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন স্টিমুলেট করেন ( এই ট্যাকনিকটা এতটাই ভয়াভহ ছিলো, এটা বলা হয়ে থাকে যে, ডুচেন ক্রিমিনালদের লিডারদের উপর এই ইলেক্ট্রিক্যাল কারেন্ট প্রয়োগ করতো)। ১৮৬২ সালে ডুচেন তার বই Mechanism de la physiognomy গ্রন্থে তিনি লেখেন, যাইগোম্যাটিক মেজর শুধু কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, কিন্তু শুধু সুইট ইমোশনাল সোল অর্বিকুলারিস অকুলির সাথে কন্ট্রাক্ট করতে ফোর্স করে। তার মতে বলেন, it is inertia of Smiling।
 
 
 
 
 
 
 
ডুচেন বলেন, খারাপ বন্ধুদের মুখোশ উন্মোচন করো।  মনোবিজ্ঞান আর শিরচ্ছেদকারী দূবৃত্তদের অধ্যায় করেননা। মূলত, তারা ডুচেনের আবিষ্কারের পর থেকে আমাদের হাসি বোঝার ক্ষেত্রটি উন্নত করেছে। আমরা এখন জানি যে জেনুয়িন হাসি সুন্দর আত্মার প্রতিনিধিত্ব করে। সত্যিকারের হাসির তীব্রতা বৈবাহিক সুখ, ব্যক্তিগত মঙ্গল এবং এমনকি দীর্ঘায়ু সম্পর্কে পূর্ভাবাস প্রদান করে। আমরা জানি যে কিছু হাসি, ডুচেনের মিথ্যা বন্ধু, তারা সুখের প্রতিনিধিত্ব করেনা, সেগুলোর সাথে জড়িত থাকে , সুবিস্তৃত ইমোশন, লজ্জা, প্রতারণা অথবা শোক। আমরা জানি যে বিভিন্ন চলক ( বয়স,জেন্ডার, সংস্কৃতি এবং সোশ্যাল সেটিংস) ডুচেন স্মাইলের ফ্রিকোয়েন্সী ও ক্যারেক্টারকে প্রভাবিত করে এবং Boarder Scheme of Existence এর ভেতর,  কিভাবে এটি প্লে করে। সংক্ষিপ্তভাবে বিজ্ঞানীরা মানব সভ্যতার একটি সিম্পল এক্সপ্রেসনকে খুব সুন্দরভাবে কমপ্লেক্সলি জানতে পারে।।
 
 
 
 
 
 
 

আনন্দের সত্যিকার সাইনঃ

ডুচেনের এক্সপেরিমেন্ট আচরণ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কিছুটা সময় নিয়েছিলো। ১৯২৪ সালে কার্নে ল্যান্ডিস, ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সাইকোলজি স্টুডেন্ট, একটি ক্লাসিক প্রকাশ করেন আজকের স্ট্যান্ডার্ডে। তিনি এমন কিছু মানুষের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন সংগ্রহ করেছে, যারা অপবিত্র, কেউ জায মিউজিক শুনছে, কেউ বাইবেল পাঠ করছে অথবা মগ্ন রয়েছে পর্ণগ্রাফিতে। তিনি ফটোগ্রাফগুলো ইভ্যালুয়েট করেন এবং দেখতে পান নির্দিষ্ট ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন নির্দিষ্ট ইমোশনকে ইন্ডিকেট করছেনা। হাসির ক্ষেত্রে ল্যান্ডিস সেগুলোকে সন্তুষ্টির সাথে কানেক্ট করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মূলত হাসিটি এতটাই সর্বব্যাপী যে, ল্যান্ডিস মনে করেছিলো এটা একটি Evergreen Response__ যে কোনো পরিস্থিতিতে সাধারণ, যা তিনি জার্নাল অব কো-অপারেটিভ সাইকোলজিতে প্রকাশ করেন।
 
 
এক দশক ধরে, সাইকোলজিস্টরা একমত হয়েছেন, হাসি আসলে সুখের ইউনিভার্সাল এক্সপ্রেসনের বদৌলে বরং অনেক বেশি ইমোশনই প্রকাশ করে। এ বিশ্বাস ১৯৭০ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো যখন পল একম্যান এবং ওয়ালেস ফ্রিসন, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সাইকোলজিস্টগন তাদের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন কোডিং সিষ্টেমে ৩০০০ ফেসিয়াল এক্সপ্রেসনের পেছনে মাস্কুলার কো-অর্ডিনেটর আবিষ্কার করেন, যেটাকে বলে FACS। একম্যান ও ফ্রিসন তাদের এ সিষ্টেম ব্যবহার করেন, ডুচেন স্বতন্ত্রতাকে পূনরুজ্জীবন দেয়ার জন্য, সে সময় যখন সত্য ও মিথ্যা হাসির পার্থক্য সবাই ভুলে গিয়েছিলো।
 
 
 
 
 
Who Is Happier: Liberals or Conservatives? | Data Mine | US News
 
 
 
 
 
 
 
এরপর হাসির উপর ইউনিভার্সিটি অব ইউসকনসিন এর রিচার্ড ডেভিডসন, একম্যান ও ফ্রিসন একসাথে একটি স্টাডি পরিচালনা করেন, তারা পজেটিভ ইমোশন ও ট্রু- ডুচেন স্মাইলের মধ্যে সম্পর্ক নিশ্চিত করেন। গবেষকরা মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রোড এটাচড করে পার্টিশিপেন্টদের দুটি শর্ট ফিল্ম দেখিয়েছিলো যা পজেটিভ ইমোশন প্রদর্শন করে আর অন্যটি ছিলো নেগেটিভ যা প্রদর্শন করে ডাক্তার পা কেটে ফেলছে অথবা ব্যাথাদায়কভাবে মানুষের পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য।
 
 
 
 
 
FACS এর মাধ্যমে দর্শকদের রিয়েকশন ক্যাটালগ করেছিলেন এবং দেখেছিলেন, যে ডুচেন স্মাইল মস্তিষ্কের এন্টারিয়র টেম্পোরাল কর্টেক্সের সাথে জড়িত যা পজেটিভ এফেক্টকে সংযুক্ত করে। ১৯৯০ সালে, জার্নাল অব পারসোনালিটি ও সোশ্যাল সাইকোলজিতে বলা হয়, Clearly Duchen smile.. Is better sign of enjoyment than other kind of Smile.”
 
 
 
এবার ডুচেন স্মাইলের অনন্যতা ও আনন্দ পূনরায় প্রশংসিত হলো। গবেষকরা দেখতে পায়, যেখানেই পজেটিভ ইমোশন কাজ করে ডুচেন স্মাইল সেটাকে ফলো করে। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের ভর্তি বা বরখাস্তের সময় সাক্ষাতকারে হাসি ফুটিয়ে তোলেন, ডুচেন একাই হাসে, এটি অন্য ধরণের হাসি নয়, সাইকোথেরাপির কোর্সে এটিকে বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। ডিপ্রেসনের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা
 
 
 
কিছু গবেষক বিশ্বাস করেন, জেনুইন স্মাইল ক্ষণস্থায়ী কোন ইমোশনাল স্পার্ক নয় এটি ব্যক্তির মূল চরিত্রে গ্রোথিত। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলের সাইকোলজিক্যাল সায়েন্টিস্ট LeeAnne Harker and Dacher Kelter যৌথভাবে FACS ব্যাবহার করেন, নারীদের কলেজ জীবনের ছবি এনালায়েজ করতে, তারপর ত্রিশ বছরের অনুদৈর্ঘ্য অধ্যয়নের সময় সংগৃহীত ব্যক্তিত্বের ডেটা সহ হাসির রেটিংগুলি মিলিয়ে দেখেন। যে সকল নারী তাদের ২১ বছর বয়সে, সত্য বা ডুচেন হাসি প্রদর্শন করেছিলো, তাদের বড় মাপের General Well-being রয়েছে এবং ৫২ বছরের ম্যারিটাল জীবনেও তারা সন্তুষ্ট। ২০০১ সালে Journal of Personality and Social Psychology তে হার্কার ও কেল্টার বলেন, সাধারণত লোকেরা নিত্য নৈমিত্তিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং আসাধারণ ফ্রিকোয়েন্সী সহ ছবি তোলে, সাধারণত অজানা থাকে যে, প্রতিটি স্ন্যাপশট, ভবিষ্যতের বিষয়ে যতটা না মুহূর্তের ক্ষণ আবেগকে তুলতে পারে। আরো একটি সম্পর্কযুক্ত আর্টিকেল ২০০৯ সালে Motivation and Emotions নামক একটি স্টাডিতে প্রকাশিত সেখানে কনফার্ম করা হয় হাসির তীব্রতার তারতম্যের সাথে তরুণদের পরের জীবনের ডিভোর্সের ঘটনা জড়িত থাকে।
 
 
 
খুব সাম্প্রতিক স্টেট ইউনিভার্সিটির আর্নেস্ট এবেল ও মাইকেল ক্রুগার সাইকোলজিক্যাল সায়েন্সে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন। সেখানে তারা বলেন ১৯৫২ সালের, বাস্কেটবল প্লেয়ারদের ইয়ারবুক দেখা হয়, সেটা দেখেই বলে দেয়া যায় তাদের কত বছর বয়সে মৃত্যু হবে। গবেষকরা বলেন, হাসির তীব্রতা ৩৫ ভাগ টিকে থাকার ভেরিয়েবিলিটি ব্যাখ্যা করতে পারে, প্রকৃতপক্ষে, যেকোনো নির্দিষ্ট বয়সে, ইয়ারবুকের যে ছবিগুলোর ডুচেন স্মাইল দেখা গিয়েছিলো তাদের অর্ধেকই যারা নন-ডুচেন তাদের তুলনায় মরেছিলো।
 
 
 
 
 
 
একটি অস্পষ্টতার যানবাহন- ল্যান্ডিক একদিক থেকে ব্যাপারে সঠিক ছিলেন। সকল হাসি আনন্দকে এক্সপ্রেস করেনা। ডুচেন স্মাইল ছাড়াও তিনি তার ১৯৮৫ সালের একটি বইতে আরো সতেরটি হাসির কথা আলোচনা করেন। মিথ্যা বলার সময় হার্মান মেলভিন এটা বুঝতে পেরেছিলে। কিছু হাসি ভয়ে,  ফ্লর্টারিং, হরিফায়েড অথবা মর্টিফায়েড। বিব্রত হাসি এড়িয়ে যাওয়া দৃষ্টি, মুখের স্পর্শ এবং মাথার নিচে থেকে বামে মুভ করার মাধ্যমেই বোঝা যায়।
 
 
 
মানুষ মিথ্যা বলার সময় তারা হাসে যে ব্যাপারটি শেক্সপিয়রের দৃষ্টি এড়ায়নি। হেলমেট বের করেছে কিভাবে একজন ব্যক্তি হাসে এবং কিভাবে হাসে একজন ভিলেন। ১৯৬০ সালে একম্যান ও ফ্রিশন থিওরাইজড করেন, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞরা সৎ মানুষের মধ্য থেকে মিথ্যা মুখটি সনাক্ত করতে পারবে।
 
 
এ ধারণাটিকে টেস্ট করার জন্য তিনি নার্সদের বললেন একটি ডিস্টার্বিং ভিডিও দেখতে এবং ইন্টারভিউয়ারদের বলতে, তারা আসলে সন্তোষজনক একটি মুখ দেখেছে। এই ফেসিয়াল এক্সপ্রেসনের ভিডিওট্যাপ তৈরি করা হয় ও FACS এনালাইজড করতে হয়।
অনেস্ট মানুষদের হাসি এনালায়েজ করে কিছু নারী ডুচেন হাসি দিয়েছিলো। ইউনিভার্সিটি অব সান ফ্রান্সসিসকোর একম্যান ও ফ্রিসন ১৯৮৮ সালে পারসোনালিটি ও সাইকোলজি জার্নালে তাদের প্রকাশিত আর্টিকেলে বিবৃতি প্রদান করেন। প্রতারণামূলত হাসি উপরের ঠোট জাগ্রত করে, বিরক্তি প্রকাশ করে, ঠোঁটের কিনারা সংকুচিত হয়ে যায়, দুঃখের চিহ্ন দেখা যায়। একম্যানের কাজের উপর Lie to Me নামক একটি টেলিভিশন শো তৈরি হয় যেখানে একজন ইনভেস্টিকেটর ক্রিমিনালের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন পড়ে ক্রিমিনাল কেস সমাধান করে।
 
 
এটি অস্বাভাবিক নয়, যে দুঃখ ও শোকের সময়ও হাসি প্রকাশ হবে। বিশ্বের বিখ্যাত হাসি আমাদের যথেষ্ট প্রভাবিত করে কারণ এটি নির্দেশ করছে নির্দিষ্ট কিছু মুড। বব ডাইলেন ব্যাখ্যা করেছেন, মোনালিসার হাসিতে রয়েছে “Highway Blue”! ( হার্ভাডের নিউরোবায়োলজিস্ট মার্গারেট লিভিংস্টোন তার ২০০০ সালের একটি আর্টিকেলে দাবি করেন, La Gioconda Smile আপনার মস্তিষ্কের পেরিপেরাল ভিজুয়াল ফিল্ডে অবস্থান করে, কিন্তু ভেনিস হয়ে যায় যখন আপনি তার ঠোঁটের দিকে সরাসরি তাকান, সাইডবার দেখেন)
 
 
 
 
যাহোক, আমাদের শরীর ভালোবোধ করলে আমরা হাসি। ক্যাথোলিক ইউনিভার্সিটির কেল্টনার ও জজ, সন্তান হারানো বাবা মায়ের ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন পড়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে জার্নাল অব পার্সোনালিটি ও সোশ্যাল সাইকোলজিতে বলা হয়, যারা ডুচেন হাসি প্রকাশ করে তাদের স্ট্রেস হয় নিন্মমাপের। বারবারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেডরিকসন ও রবার্ট লেভিনসন ৭২ জন লোকের ফেসিয়াল এক্সপ্রেসন পর্যবেক্ষণ করেন যারা ফিনিউয়ারেল স্কিন দেখেছিলো। ৫০ জন অন্তত একবার হলেও হেসেছিলো। লেখক ১৯৯৮ সালে Cognition and Emotions এর উপর একটি পেপারে বিবৃতি প্রদান করেন, যারা অন্তত একবারও শোকের সময় হেসেছিলো তারা অন্যদের তুলনায় কার্ডিওবাস্কুলার লেভেলের বেসলাইনকে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিলো।
 
 
 
 

একটি শর্তযুক্ত সামাজিক প্রদর্শনীঃ

 
হাসি নিশ্চিতভাবে আমাদের প্রকৃতিতেই তৈরি হয়। ডারইউনের ১৮৭২ সালে লেখা The Expression of man and animal কে হাসির গবেষণার মূলভিত্তি মনে করা হয়, সেখানে তিনি প্রস্তাব করেন, হাসি সংস্কৃতির কোনো অনন্য শিক্ষা নয়, এটি মানব বিবর্তনের একটি বিশ্বজনীন প্রোডাক্ট। জেফরি কোহন বলেন, Zygomatic Major এর একটি দীর্ঘকালীন বিবর্তনীয় ইতিহাস রয়েছে। হাসির ফেশিয়াল মাসল সব মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়। কোহন বলেন, মোটর রুটিন জন্মগতভাবে আমাদের স্মাইলের সাথে জড়িত। এখানেই তার হার্ডওয়্যার।
 
 
 
যেহেতু হাসি আমাদের মস্তিষ্কের হার্ডওয়্যার সেহেতু এটা বিস্ময়ের বিষয় নয় যে শিশুরা ফেসিয়াল এক্সপ্রেসনের মাধ্যমে নিজেদের নির্ভুলভাবে প্রকাশ ও ব্যাখ্যা করবে। দশমাস বয়সী শিশুরা ফলস স্মাইল প্রদর্শন করে যখন কোনো আগন্তুক রিয়েল চরিত্র হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চায়। শিশুরা মাকে দেখলেই ডুচেন হাসি প্রকাশ করে। কোহন পর্যবেক্ষণ করেন, তিন মাসের একটি শিশু তার মায়ের ডিপ্রেসন দেখে তার কোমল ক্ষুদ্র দুটি হাত মুঠোয় ধরে রাখে এবং ৩ মিনিট পর ছেড়ে দেয়। তারমানে শিশুরা ফেসিয়াল এক্সপ্রেসন দিয়ে মায়ের মন পড়তে পারে। আমাদের কাছে যেটা হাসি শিশুদের কাছে সেটা কথা, কোডিং দিয়েও কথা বলা যায় যদিও কোড সবাই বুঝেনা, ঠিক তেমনি শিশুরা ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন দিয়ে মূলত আপনার সাথে কথা বলে, সাইলেন্টলি কথা বলে ও আপনি তাদেরকে না বুঝলেও তারা আপনার এক্সপ্রেসন বুঝে কারণ তাদের ব্রেনের এটাই হার্ডওয়্যার।
 
 
 
লিঙ্গভেদে হাসির পার্থক্য আছে। ডুচেন হাসি নারী ও পুরুষ উভয়েই তৈরি করতে পারে। ছেলেরা মনে করে মেয়েরা বেশি হাসে আর মেয়েরা ভাবে তার উলটো। কিন্তু আচরণ বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, মেয়েরাই বেশি হাসে। সাইকোলজিস্ট ম্যারিয়ান লাফ্র্যান্স একটি বিশাল মেটা এনালায়সিস করেন, ১ লাখ লোকের উপর ১৬২ টি স্টাডির পর তারা বলেন লিঙ্গভেদে হাসির অসমতা দেখা যায়।
 
 
একটি মডারেটর হলো লিঙ্গের নিয়ম। যখন তারা জানে যে তারা দেখছে এটি ট্রিগার হয়। সেক্সের তারতম্যে হাসি বৃদ্ধি পায় যখন কেউ মনে করে যে সে একা। পরের পরিস্থিতি হলো গতানুগতিক প্রথা, যখন নারী ও পুরুষ কোনোকিছু শেয়ার করে তখন সেটা কঠোর কিছু সুত্র মেনে চলে। যেমন ফ্লাইট এটেডেন্সে হাসতে হবে এবং শোকের সময় মন খারাপ করে রাখতে হবে, এভাবে হাসি ধবংস হয়ে যায়। তৃতীয় মডারেটর হলো, ইমোশনাল ক্লাইমেট, লজ্জাজনক ও সামাজিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নারীদের পুরুষদের চেয়ে বেশি বেশি হাসতে হয় কিন্তু এতে করে সুখ ও দুঃখের উপর কোনো প্রভাব পড়েনা। ল্যাফ্র্যান্স এবং তার সহকর্মীরা ২০০৩ সালে এ ইস্যুটি সাইকোলজিক্যাল বুলেটিং এ প্রকাশ করেন যে, এটি খুবই উচ্চমাত্রিকভাবে কন্টিজেন্ট সামাজিক প্রদর্শনী। সমাজে টিকে থাকার জন্য, নারীদের কারণে অকারণে সুখে দুখে হাসতে হয়, তাদের হাসির মাধ্যমে তারা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মস্তিষ্ককে ঠান্ডা রাখে, যেনো এই আদিম বর্বর পুরুষদের মস্তিষ্কের বিবর্তনীয় কাপুরুষ মাথা ছাড়া দিয়ে না উঠে। নারীর হাসি ছিলো একটি সামাজিক আনন্দের সংবাদ, যা সবাইকে রিজোন্যাট রাখে।
 
 
 
আপনি যদি কাউকে প্রশ্ন করেন, কে বেশি হাসে, সবাই একবাক্যে জবাব দেবে, মেয়েরা। ল্যাফ্রান্স বলেন, মেয়েরা সবসময় সমাজে লিপ সার্ভিস দেয়, সমাজের ব্রেনকে ঠোঁটের হাসির স্পর্শ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে, নারীর হাসি একটি পাবলিক প্রোপার্টি। W.W Norton Summer এ Lip Service আর্টিকেলটি প্রকাশ করা হয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও চাপে পড়ে নারীরা হেসে উঠে, তারা টেনশন ডিফিউস করতে চায়। নারীর ঠোঁটের মিলিয়ন মিলিয়ন হাসি সামাজিক শোষণ, অনাচার, চাপ ও অস্থিতিশীলতার ফলাফল। নারীর অতিরিক্ত হাসি সমাজেরই সৃষ্টি, সমাজই নারীর ঠোঁটের কম্পনের নিয়ন্ত্রণকারী।
 
২০০৭ সালে Journal of Experiential Social psychology জাপানি ও আমেরিকানদের হাসি বোঝার ভিন্ন একটি উপায় হাইলাইট করে। ইমোটিকন দেখার পর আমেরিকানরা ☺ সুখ ও দুঃখের জন্য 😐 চিহ্ন দুটি চিহ্ন ব্যবহার করে । জাপানিদের মধ্যে দেখা যায় তারা ∧–∧ সুখের জন্য এবং দুঃখের জন্য ;_; ব্যাবহার করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় আমেরিকানরা আবেগ প্রকাশ করে আর জাপানিজরা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে।
 
 

 

হাসি পরার্থপরতা ও আকর্ষণের তাৎপর্য প্রদান করেঃ

 
 
 
 
যদি সমাজ আমাদের হাসিকে নিয়ন্ত্রণ করে তবে হাসি একটি সোশ্যাল সার্ভিস। সাম্প্রতিক গবেষণা নির্দেশ করছে, হাসি সম্ভবত পরার্থপরতাকে নির্দেশ করে। ব্রিটিশ আচরণ বিজ্ঞানী, মার্ক মেহু বলেন, তার যে সকল পার্টিশিপেন্ট তার বন্ধুদের সাথে হাসি শেয়ার করেছিলো, তারা এটা করেছিলো, বেতন হিসেবে কারণ তারা বন্ধুদের সাথে একসাথে স্টাডি করার সুযোগ পেয়েছিলো। যখন মানুষ এ ধরণের শেয়ারিং এ প্রবেশ করে  তারা তখন অধিক ডুচেন হাসি প্রকাশ করে , নিউট্রাল পরিস্থিতির তুলনায়। সম্ভবত ডুচেন হাসি পরার্থপরতা প্রকাশেরও একটি বিশ্বাসযোগ্য উপায়।
 
ডুচেন বলেন, কো-অপারেটিভ ন্যাচার সেন্স তৈরি করে। সবশেষে, প্রতিজ্ঞার একটি মাত্রায় রয়েছে সুস্পষ্ট সামাজিক মর্জাদা। সত্যিকার হাসিগুলো অনুভূত করা শক্ত। সত্যিকার গ্রুপ মাইন্ডের ব্যক্তিদের সনাক্ত করতে পারা, ঝুকিপূর্ণদের তুলনায় কার্যকর হবে।
 
 
হাসির মাধ্যমে শুধু মানুষ ইনফরমেশন ডেডিউস করেনা, তারা আচরণ পরিচালনার জন্য জ্ঞানও ব্যবহার করে। ২০১০ সালে জার্নাল অব সোশ্যাল সাইকোলজিতে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলা হয়, যে সকল ব্যক্তিরা ডুচেন স্মাইল ব্যবহার করে ব্যয়বহুল মানুষরা তাদের সাথে কাজ করতে পছন্দ করে।মাইকেল বার্নেস্টাইন বলেন, ডুচেন স্মাইল কো-অপারেশন ও আলট্রুইজমের একটি সংকেত। নন-ডুচেন স্মাইল খারাপ নয়, এর মানে এই নয় যে আপনি কৃপণ কিন্তু ডুচেন হাসি একটি মহান সংকেত।
 
 
হাসির আর একটি উদ্দেশ্য হলো এটি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। আমেরিকান বর্ণমালার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অংশ F। এফ স্কট বলেন, একটি দুর্দমনীয় হাসি আপনাকে নিশ্চিত করে আপনি যথাযথ ইম্প্রেসন দিয়েছেন, সর্বোচ্চ, এবং আপনি এটি বহন করার আশা করবেন। আংশিকভাবে বিজ্ঞানীরা গ্রেট স্মাইল এলউরের একটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন। ফাংশনাল এম আর আই এর মাধ্যমে দেখা যায়, আমরা যখন আকর্ষণীয় কোনো চেহারা দেখি, সেই মুখটি আমাদের মস্তিষ্কের অর্বিটোফ্রন্টাল কর্টেক্স একটিভেট করে। একটি হাসি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগনাল বহন করে একটি পুরস্কার আমি পাবো বা অর্জনযোগ্য। যদিও কেউ কেউ দাবি করে ব্রেন কারো হাসি দেখার এটা মনে করেনা যে সে কোনো পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বরং সে ধরেই নেয় যে তার জন্য পুরস্কার অলরেডি উপস্থিত হয়ে গেছে। নারীর হাসি পুরুষের বীজয়!
 
 
 

 

তথ্যসুত্রঃ

 
6) https://www.nationalgeographic.com/culture/article/140606-laughter-jokes-medicine-health-science-laughing-yoga
 

Abel E. and Kruger M. (2010) Smile Intensity in Photographs Predicts
Longevity, Psychological Science, 21, 542–544.
Bernstein M.J., Young, S.G., Brown C.M., Sacco D.F., and Claypool,
H.M. (1998) Adaptive Responses to Social Exclusion Social
Rejection Improves Detection of Real and Fake Smiles,
Psychological Science, 19, 10, 981–983.
Bernstein M.J., Sacco D.F., Brown, C.M. Young, S.G. and Claypool,
H.M. (2010) A pre ference for genuine smiles following social
exclusion. Journal of Experimental Social Psychology, 46,
196–199.
Cohn, J.F., and Tronick E.Z. (1983) Three-Month-Old Infants’ Reaction
to Simulated Maternal Depression, Child Development, 54,
185–193.
Darwin, C. (1872) The Expression of the Emotions in Man and Animals,
London: J. Murray.
Duchenne G.B., (1990) The mechanism of human facial expression, trans.
R.A. Cuthbertson, Cambridge University Press.
Ekman, P. (1985) Telling Lies: Clues to deceit in the marketplace,
politics, and marriage, Norton: New York.
Ekman, P., Davidson, R.J., Friesen, W.V. (1990) The Duchenne
Smile: Emotional Expression and Brain Physiology II, Journal of
Personality and Social Psychology, 58, 342–353.
Ekman, P. Wallace V. Freisen, O’Sullivan M. (1988) Smiles when lying,
Journal of Personality and Social Psychology, 54, 414–420.
Fredrickson, B.L., and Levenson, R.W. (1998) Positive emotions speed
recovery from the cardiovascular sequelae of negative emotions,
Cognition and Emotion, 12, 191–220.
Fridlund, A.J., Sabini J.P., Hedlund, L.E. Schaut, J.A., Shenker, J.I.,
and Knauer, M.J. (1990) Audience effects on solitary faces during
imagery: Displaying people in your head, Journal of Nonverbal
Behavior, 14, 113–137.
Harker L and Keltner D, (2001) Expressions of Positive Emotion in
Women’s College Yearbook Pictures and Their Relationship to
Personality and Life Outcomes Across Adulthood. Journal of
Personality and Social Psychology, 80, 112–124.
Hertenstein, M.J., Hansel, C.A., Butts A.M., Hile S.N. (2009) Smile
intensity in photographs predicts divorce later in life. Motivation
and Emotion. 33, 2, 99–105.
Keltner D., and Bonanno, G (1997) A Study of Laughter and
Dissociation: Distinct Correlates of Laughter and Smiling During
Bereavement, Journal of Personality and Social Psychology, 73,
687–702.
Kraut, R.E., Johnston R.E. (1979) Social and Emotional Messages of
Smiling: An Ethological Approach, Journal of Personality and
Social Psychology, 37, 9, 1539–1553.
LaFrance M., Hecht, M.A., Paluck, E.L. (2003) The Contingent Smile:
A Meta-Analysis of Sex Differences in Smiling, Psychological
Bulletin, 129, 305–334.
Landis, C. (1924) Studies of Emotional Reactions II. General Behavior
and Facial Expression, Journal of Comparative Psychology, 4, 5.
Livingstone, M.S. (2000) Is it warm? Is it real? Or just low spatial
frequency? Science, 290, 1299.
Mehua, M., Grammerb K., and Dunbara, R.I.M., (2007) Smiles when
sharing, Evolution and Human Behavior, 28, 415–422.
O’Doherty, J., Winston, J., Critchley, H. Perrett, D., Burt, D.M.,
and Dolan R.J., (2003) Beauty in a smile: the role of medial
orbitofrontal cortex in facial attractiveness. Neuropsychologia, 41,
147–155.
Ozono H., et al. (2010) What’s in a Smile? Cultural Differences in the
Effects of Smiling on Judgments of Trustworthiness, Letters on
Evolutionary Behavioral Science, 1, 15–18.
Yuki, M., Maddux, W.W., Masuda, T. (2007) Are the windows to the
soul the same in the East and West? Cultural differences in using
the eyes and mouth as cues to recognize emotions in Japan and
the United States, Journal of Experimental Social Psychology, 43,
303–311.

 
 
 
 
 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!