হারুন নিজেই তার ব্রেন হ্যাকার

সম্প্রতি কক্সবাজারের এক ব্যক্তির মস্তিষ্ক হ্যাক করার অভিযোগ উঠে এসেছে। হ্যাকাররা তার মস্তিষ্কের মেমরি মুছে দেয়ার হুমকিও প্রদান করেছে বলে জানা যায়। ব্যাপারটা আমাদের কাছে সায়েন্স ফিকশন নয় শুধু বরং প্যারানরমাল রিয়েলিটি মনে হয়েছে। আমাদের মস্তিষ্কের চিন্তা পাঠ করা হয় মূলত র‍্যান্ডম রেডিয়ো ওয়েভ পাঠ করার মধ্য দিয়ে। আর এ জন্য বিজ্ঞানীরা কয়েকটি পদ্ধতি ইউজ করেন। তারা EEG স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের একটি Crude Approximation তৈরি করেন। এজন্য EEG সেন্সর সহকারে আপনাকে একটি হেলমেট পড়ানো হবে এবং আপনার সামনে কোনো একটি ছবি রাখা হবে। ছবিটি দেখার পর আপনার মস্তিষ্কে যে ইলেক্ট্রিক্যাল পালস তৈরি হবে EEG Sensor সেটা রেকর্ড করবে। আর এভাবে আপনার প্রতিটি ব্রেন পালস রেকর্ড করার মাধ্যমে আপনার চিন্তার একটি ডিকশনারি তৈরি করা হবে। যখন আপনার মস্তিষ্কের প্রতিটি পালসের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি চিন্তার সম্পূর্ণ ডিকশনারি তৈরি হয়ে যাবে ঠিক তখন হ্যাকাররা শুধুমাত্র আপনার ব্রেন পালস পড়ে ডিকশনারীর সাথে সে পালসটির কম্পাঙ্ক মিলিয়ে দেখবে। এ পদ্ধতিতে তারা আপনার চিন্তাকে হ্যাক করতে সক্ষম হবে। আমাদের আজকের বিজ্ঞান এখনো এরকম ডিকশনারী তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। অতএব মস্তিষ্ক হ্যাক করে হারুণের ব্রেইন থেকে ব্যাংক হিসেব ক্লোন করার প্রশ্নই আসেনা! এটি সম্পূর্ণভাবে একটি গুজব।

EEG Data Analysis | Kaggle

যদি সত্যিকার অর্থে হ্যাকারদের কাছে এ ধরণের কোনো ডিকশনারি থেকে থাকে তবে অবশ্যই তারা নোবেল প্রাইজ পাওয়ার উপযুক্ত! তাদের উচিত হারুণের মস্তিষ্ক হ্যাক না করে নোবেল কমিউনিটির সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা। এছাড়াও বিজ্ঞানীরা ব্রেন পাঠ করার জন্য ECOG বা ইলেক্ট্রোকর্টিওগ্রাম প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। যেটি EEG থেকে উন্নত। এটি বিস্ময়কর যথার্থতার সাথে মানুষের মনকে পড়তে পারে বলে জানা যায়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এ পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের সিগন্যালকে মাথার খুলির ভেতরেই সরাসরি শনাক্ত করা হয়। এ জন্য মেশিনটিকে বসানোর জন্য মাথার খুলির কিছু অংশ কেটে ফেলতে হয়। 8 by 8 গ্রিডের মধ্যে এর রয়েছে ৬৪ টি ইলেক্ট্রোড। সৌভাগ্যক্রমে বিজ্ঞানীরা এপিলেস্ফির পেশেন্টদের মস্তিষ্কের ওপর ECOG প্রযুক্তি প্রয়োগ করার অনুমোদন পেয়েছিলেন । ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি অব সানফ্রান্সিসকোর ডাক্তাররা পেশেন্টের ওপর ওপেন ব্রেন সার্জারী করে ECOG MESH টি বসিয়ে দেন। তারপর পেশেন্টকে বিভিন্ন শব্দ শোনানো হয় যা তার মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগন্যাল তৈরি করে যে সিগন্যালগুলো ইলেক্ট্রোডের ভেতর দিয়ে রেকর্ড হতে থাকে। এভাবে একটি ডিকশনারি তৈরি হয়ে যায়। যে ডিকশনারিটি মস্তিষ্ক থেকে নির্গত সিগন্যাল গুলোর সাথে শব্দগুলোকে ম্যাচ করে। যখন নির্দিষ্ট শব্দটি আবার পুনরাবৃত্তি করা হয় তখন যে কেউ শব্দটির বিপরীতে তার ব্রেনে একই ইলেক্ট্রিক্যাল প্যাটার্ন খুঁজে পাবে। এর মানে হলো আপনি যখন নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ড চিন্তা করবেন, তখন ECOG সেই ওয়ার্ডের সাথে রিলেটেড সিগন্যালের ক্যারাক্টারিস্টিক তুলে আনবে এবং একে আইডেন্টিফাই করবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কারও মস্তিষ্কের সাথে Telepathically Conversation করা সম্ভব। এমনকি স্ট্রোকের রোগী যে সম্পূর্ণ প্যারালাইজড সেও ভয়েস সিন্থেজিয়ারের মাধ্যমে কথা বলতে পারবে , যে ভয়েস সিন্থেজিয়ার মস্তিষ্কের প্রতিটি ওয়ার্ডের ওয়েভ প্যাটার্ন রিড করতে পারবে! কিন্তু এখনো এ প্রযুক্তি শিশুকালে।যদি তথাকথিত হ্যাকাররা সত্যিকার অর্থেই এ ধরণের সফলতা অর্জন করতে পারে তবে আবারও তারা নোবেল প্রাইজ পাওয়ার জন্য উপযুক্ত! কেনো তারা হারুনের মস্তিষ্ক হ্যাক করতে যাবে?

যুগান্তরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা Low Frequency Micro-chip শনাক্তকারী উবারপব দ্বারা হারুনের মাথায় নিউরো চিপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরপর বিদেশি একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী একাধিকবার চেষ্টার পর এমআরআই করে হারুনের মাথায় নিউরো চিপ ধরা পড়ে। তবে ভিকটিম হারুন এতদিন মনে করতেন তার শরীরের কোনো ধরনের কম্পিউটার ডিভাইস ইমপ্ল্যান্ট না করে তার ব্রেইন কন্ট্রোল করছে হ্যাকাররা।

দেখা গেছে, হারুন কোনো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন হাতে নিলে তার শরীর হাল্কা কেঁপে ওঠে। তার হাতের স্পর্শের পরপরই ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবজি গেমসসহ ৪ থেকে ৫টি ক্ষতিকর গেমস ডাউনলোড হয়ে যায়। হারুনের হাত দিয়ে স্পর্শ করা স্মার্টফোনটি মুহূর্তেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির বা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এতে ফোনে থাকা যাবতীয় ডকুমেন্ট ও তথ্য সহজে হ্যাকাররা পেয়ে যাচ্ছে।

হারুন বলেন, ‘এ ঘটনার পরদিন আমি একজন খুব পরিচিত কণ্ঠের গায়েবি আওয়াজ শুনতে পাই। সেখানে আমাকে গালাগাল করা হচ্ছিল। ইতোমধ্যেই আমার ফেসবুক এলোমেলো হয়ে যায়। ব্যবহৃত আইফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবজিসহ ৫টি গেমস ডাউনলোড হয়ে যায়। কয়েক দফায় আমার ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গায়েব হয়ে যায়। এরপর ক্রমাগত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। একান্ত আপনজনদের কেউই আমার এসব ভূতুড়ে বিষয় বিশ্বাস করা তো দূরের কথা হাসিঠাট্টার রসদ বানাতে থাকে আমাকে।’তিনি বলেন, ‘পরে পরিচিত একজন আইটি বিশেষজ্ঞকে আমার আইফোনের বিচিত্র আচরণ ও ফেসবুকের ওপর আমার নিয়ন্ত্রণহীনতার বিষয়টি শেয়ার করলে তার পরামর্শ অনুযায়ী Apple, google এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করে বার্তা পাঠাই। একপর্যায়ে নিশ্চিত হই Apple ID হ্যাক করে আমার Phone এর আইটিউনসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে হ্যাকাররা।

’এ কথাগুলো আমার নিকট সম্পূর্ণ হাস্যকর মনে হচ্ছে। মস্তিষ্কে চিপ বসিয়ে সেই চিপের মাধ্যমে ব্রেনকে ইন্টারনেটের সাথে কানেক্ট করার প্রযুক্তি এখনো পর্যন্ত এত চুড়ান্ত মাত্রায় বিজ্ঞানীরা অর্জন করতে পারেনি। যদি তাই হতো তবে আমরা ব্রেন পালস দিয়েই সরাসরি কম্পিউটারের সাথে অপারেট করতাম, আমাদের ব্রেন সিগনাল নিজেই ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন এপস ডাউনলোড করতো বা আমরা নিজেরাই ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে সরাসরি ব্রেনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতাম আর এটা আমাদের মধ্যে ব্রেন টু ব্রেন কমিউনিকেশন ক্রিয়েট করতো! যেটি এখনো পর্যন্ত অসম্ভব! সহজ কথা সর্বপ্রথম মেটা ( ফেইসবুক) নিজেই তার মেটা ভার্সে এ প্রযুক্তি এপ্লাই করতো, কোনো হেলমেটেরই দরকার পড়তো না , তাই নয় কি?

Metaverse of Facebook | What are you working on to achieve it? - 24 News  Recorder

হারুণের বক্তব্য থেকে যেটা বোঝা যায় তা হলো, হয়তো সে সিজোফ্রেনীয়া অথবা মাল্টিপল ক্যারেক্টারিস্টিক ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত অথবা হারুণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সম্পূর্ণ ঘটনাই ফেইক। তার মস্তিষ্কের ভেতর হ্যাকাররা সরাসরি শব্দ পাঠানোর অর্থ হলো BMI প্রযুক্তির সর্বোচ্চ শিখরে উঠে গেছে এই হ্যাকারের দল! তারা মস্তিষ্কগুলোকে নেটের মাধ্যমে কানেক্ট করতে সক্ষম হয়েছে। আবারও তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নোবেল প্রাইজ বা মেটার ডলার! কেনো এত বড় মাপের হ্যাকাররা হারুণ থেকে মাত্র ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করবে? তারা তাদের হ্যাকিং-এর প্রযুক্তি বিক্রি করেও তো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে পারে! তাই নয় কি?

একমাত্র সিজোফ্রায়েড ব্যক্তিরাই মস্তিষ্কের ভেতর অদ্ভুত কোনো শব্দ শুনতে পারে! “সাইকো” উপন্যাসে একজন মাল্টিপল ক্যারেক্টারিস্টিক আক্রান্ত মানসিক রোগীকে দেখানো হয় যে একইসাথে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। আর মাল্টিপল ক্যারেক্টার আক্রান্ত ব্যাক্তিরা এক চরিত্র থেকে অন্য চরিত্রে শিপ্ট করার পর তাদের মস্তিষ্কের ওয়েব সাইকেল চেঞ্জ হয়ে যায় এবং তারা পূর্বের ক্যারেক্টারের স্মৃতিই মনে রাখতে পারে না। এক্ষেত্রে আমাদের মতামত হলো, হারুন নিজেই নিজের মস্তিষ্কের হ্যাকার! মূলত, সম্পূর্ণ ঘটনাগুলোই হারুণের সাজানো নাটক। সে নিজেই এক চরিত্রে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছে আর অন্য আর একটি চরিত্রে এসে সে সকল ইনফরমেশন ভুলে গেছে যার ফলে তার মনে হচ্ছে, হয়তো কেউ তার মস্তিষ্কের ইনফরমেশন হ্যাক করেছে। আর এই যে কম্পিউটারে পাবজিসহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ টি গেম ডাউনলোড হয়ে যাওয়া! এ ঘটনাটির সাথেও মস্তিষ্কের ওয়েভ সাইকেল পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার একটা সম্পর্ক থাকতে পারে! তার ব্রেন সাইকেল যখন এক চরিত্র থেকে অন্য আর একটি চরিত্রে শিপ্ট করেছিল তখনি মূলত সে এ গেমগুলো ডাউনলোড করেছিল যা পরবর্তী সময়ে সে সম্পূর্ণরুপে ভুলে যায়। এছাড়া আরো একটি উপায়ে আপনার আইফোনে সরাসরি এপস ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে। আপনার ফোন নিজে নিজেই বিভিন্ন এপস ডাউনলোড করতে শুরু করবে। এটাকে অটোম্যাটিক এপস ডাউনলোড বলে। আপনি যখন মাল্টিপল iOS ডিভাইস ব্যবহার করেন তখন আপনি একটি ডিভাইসে যে এপস ডাউনলোড করেছেন সেটি অন্য কোনো ডিভাইসেও ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে। এ জন্য আপনি নিন্মোক্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে এ ধরণের Unwanted Download ঠেকাতেও পারেন।

How to Stop Apps from Downloading Automatically on All Your Apple Devices ( iOS 15 Update)
toggle off apps under automatic downloads

তথ্যসূত্রঃ

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

hsbd bg