স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স

স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স

Last updated:

জার পেনরোজ যেমনটি মনে করতেন , আমিও মনে করি, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন কনশাসনেসের আকার তৈরি করতে পারবে কিন্তু এর ফ্রি উইল থাকবে না..। ক্ষুদ্র কোয়ান্টাম ইফেক্টের কারণে রোবটের সাথে মানব মস্তিষ্কের একটু পার্থক্য থেকে যাবে যেটি ফ্রি উইলের অস্তিত্বকে অনুমোদন দেয়![ __মিচিও কাকু, Future Of The Mind, Quantum Consciousness]

আসলেই কী তাই? যাইহোক , কনশাসনেস এবং ফ্রি উইলের ডিভেট রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে । কানেক্টম প্রজেক্ট যদি সফলতার সাথে ট্রান্সজিস্টরের মাধ্যমে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন তৈরি করতে সক্ষম হয় তবুও এ ব্রেন সম্পূর্ণ ডিটারমিনেস্টিক এবং প্রেডিক্টেবল। (1) এটিকে যখন প্রশ্ন করা হবে, তখন এটি পুরোপুরিভাবে প্রতিবার একই উত্তর দেবে কিন্তু এর একটি প্রবলেম আছে। সেটি কেমন? চলুন, একটি থট এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি।মনে করুন, আজ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে আপনি আমাদের গ্রহের মতো অবিকল একই গ্রহ তৈরি করলেন এবং সেটিকে Evolve হওয়ার জন্য সুযোগ দিলেন। প্রশ্ন হলো তবে কি ঠিক ৪.৫ বিলিয়িন বছর পর আমার মতো এক্সেক্ট আর একজন লিহনের জন্ম হতো যে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন নিয়ে লিখবে এবং আপনি এ লেখাটি পড়বেন? স্টিফেন জে গুল্ড বলেন, আপনি এটা নিশ্চিত বলতে পারেন না যে ৪.৫ বিলিয়ন বছর পর আমারও বিকাশ ঘটবে এবং আমি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন নিয়ে লিখব কারণ কোয়ান্টাম আনসার্টেইনটি এবং কেওস থিয়োরি যেটি আমাদের বিশ্বকে সম্পূর্ণ ডিটারমিনেস্টিক হতে দেয় না, অতএব আমাদের ফ্রি উইলের জন্য এখানে একটি স্পেস থেকে যায়। (2)

আর অন্যদিকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রেনের প্রত্যেকটি ট্রান্সজিস্টর নিউটনিয়ান মেকানিজমে তৈরি৷ সুনির্দিষ্ট এবং প্রেডিক্টেবল, অতএব রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেনে ফ্রি উইলের জন্য কোনো ভ্যাকুয়াম নেই!

এখানে একটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে, কেওস থিয়োরি এবং কোয়ান্টাম আনসার্টেইনটি বলছে , ইউনিভার্স ডিটারমিনেস্টিক নয়, অতএব দেখা যাচ্ছে ফ্রি উইল অস্তিত্বশীল। আর অন্যদিকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন ডেফিনেশনের দিক থেকেই প্রেডিক্টেবল, আর আমরা জানি যে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন থিয়োরিটিক্যালি মানব মস্তিষ্কের আইডেন্টিক্যাল। অতএব এ দুটি স্টেটম্যান্ট একে অপরের সাথে কন্ট্রাডিক্ট করে! (3)কিছুসংখ্যক বিজ্ঞানী মনে করেন রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন অথবা ট্রু থিংকিং মেশিন কোয়ান্টাম থিয়োরির কারণেই তৈরি করা অসম্ভব। তাদের মতে মানব মস্তিষ্ক একটি কোয়ান্টাম ডিভাইস, এটি শুধুমাত্র ট্রান্সজিস্টরের কালেকশন নয়। অতএব এ প্রজেক্ট ব্যর্থ হবে। আইনস্টাইনের থিয়োরি অব রিলেটিভিটির একজন অথোরিটি অক্সফোর্ডের পদার্থ বিজ্ঞানী রজার পেনরোজ বলেন, মানুষের মস্তিষ্কের কনশাসনেসের জন্য কোয়ান্টাম প্রসেসকে গণনায় ধরতে হবে । রজার পেনরোজ বলেন, গোডেল দেখিয়েছিলেন, অ্যারোমেটিক কমপ্লিট নয়, অ্যারোমেটিকের একটি ট্রু-স্ট্যাটমেন্ট এর এক্সিওম দ্বারা প্রমাণ করা সম্ভব নয়। আর এভাবে পেনরোজ ডিসিশনে আসেন শুধুমাত্র ফিজিক্স নয়, ম্যাথমেটিক্সও ইনকমপ্লিট। পেনরোজ বলেন, ব্রেন হলো একটি কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল ডিভাইস কোনো মেশিনের পক্ষেই Gödel’s incompleteness প্রবলেম সমাধান করা সম্ভব নয়। (4)

রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন যতই কমপ্লেক্স হোক এটি তার ও ট্রান্সজিস্টরের কালেকশন, এটি সম্পূর্ণ ডিটারমিনেস্টিক সিস্টেম, এটির ভবিষ্যত আচরণ আপনি প্রেডিক্ট করতে পারবেন যেহেতু “ল অব মোশন” আপনার সম্পূর্ণ জানা।

আমরা হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার সূত্রের সাথে পরিচিত। যেটি আমাদের বলে, আপনি একটি (একই সময় ও একইসাথে) পার্টিকেলের মোশন জানলে পজিশন অনিশ্চিত হয়ে যায় এবং পজিশন জানলে মোশন অনিশ্চিত হয়ে যায়, কোয়ান্টাম সিস্টেম সম্পূর্ণ আনপ্রেডিক্টেবল। কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা আপনাকে এটা নিশ্চিত হতে দেবে না যে কী ঘটবে, এটি শুধু আপনাকে সম্ভাবনা গণনা করতে দেবে। কিন্তু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেন কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল ডিভাইস নয়, এটি ক্লাসিক্যাল যন্ত্র যেটি সম্পূর্ণ প্রেডিক্টেবল।(5)অতএব বিজ্ঞানীরা মনে করেন কোয়ান্টাম আনসার্টেইনটির কারণে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ার ব্রেনের পক্ষে কখনো মানব আচরণ রিপ্রডিউস করা সম্ভব নয়। রজার পেনরোজ বলেছিলেন, আমাদের নিউরনের ভেতর অতি-ক্ষুদ্র একটি স্ট্রাকচার আছে যেটাকে বলা হয়, মাইক্রোটিউবুলস যেখানে কোয়ান্টাম প্রসেস ডোমেইন করে । ( সাম্প্রতিক গবেষণায় , মস্তিষ্কে ফ্র্যাক্টাল স্ট্রাকচারের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছেন বলে একদল গবেষক জানিয়েছেন, ফ্র্যাক্টাল হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে সেইম প্যাটার্ন ইনফাইনিটলি রিপিট হয়, আর এর মাধ্যমে কনশাসনেসের জটিলতা নাকি ব্যাখ্যা করা যায়; Can consciousness be explained by quantum physics? My research takes us a step closer to finding out )

এদিকে মিচিও কাকু বলেন, At present, there is no consensus on this problem. Judging from the reaction to Penrose’s idea when it was first proposed, it would be safe to say that most of the scientific community is skeptical of his approach.

যা হোক, বিজ্ঞান কখনো জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা করে না এটি টেস্টেভল, রিপ্রডিউসিবল এবং ফলসিফিয়েবল থিয়োরির উন্নয়নে কাজ করে। মিচিও কাকু আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি ট্রান্সসিস্টর মানুষের প্রতিটি নিউরন সেলের মডেল নয়, যেটি একইসাথে ডিজিটাল এবং অ্যানালগ সিগন্যাল কেরি করে। আমরা জানি নিউরন মলিন, এটি লিক, মিসফায়ার হয়, এর বয়স বাড়ে মৃত্যুবরণ করে ও পরিবেশের প্রতি সেনসেটিভ। কাকু বলেন, ট্রান্সজিস্টর নিউরনের একটি আনুমানিক মডেল। তিনি উদাহরণস্বরূপ বলেছেন, মস্তিষ্কের ফিজিক্স আলোচনা করার সময় আমরা দেখি যে যদি নিউরনের এক্সিওম চিকন হয়ে যায় এটি ফুটো হয়ে যায় এবং কোনো কেমিক্যাল রিয়েকশন বহন করতে পারে না। এদের কিছুকিছু লিকেজ হয় এবং এই মিসফায়ার কোয়ান্টাম ইফেক্টের কারণে হয়ে থাকে।

তুমি নিউরনকে ইমাজিন করো যেটি চিকন, ঘন, গতিশীল এবং যেখানে কোয়ান্টাম ইফেক্ট পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। এর মানে হলো এমনকি নরমাল নিউরনেও লিকেজ এবং অক্ষমতা আছে এবং এটি ক্লাসিক্যাল এবং কোয়ান্টাম উভয় স্থানেই উপস্থিত। কাকু বলেন, আমি বিশ্বাস করি ট্রান্সসিস্টরের মাধ্যমে ডিটারমিনেস্টিক রোবট তৈরি করা সম্ভব যেটি কনশাসনেসের প্রতিভাস দিতে পারে কিন্ত তার কোনো ফ্রি উইল থাকবে না। মিচিও কাকু বলেন, ক্ষুদ্র কোয়ান্টাম ইফেক্টের কারণে রোবটের সাথে মানব মস্তিষ্কের পার্থক্য থেকে যাবে যেটি ফ্রি উইলের অস্তিত্বকে অনুমোদন দেবে!

তিনি বলেন, আল্টিমেটলি বলা যায় যে , ফ্রি উইলের অস্তিত্ব আছে, যদিও আমাদের ব্রেন অনেক আনকনশাস ফ্যাক্টর দ্বারা পরিচালিত যা আমাদের ভবিষ্যতের চয়েজকে নিয়ন্ত্রণ করে যদিও আমরা মনে করি সেগুলো আমাদের নিজের তৈরি। এ জন্য আমাদের নিজেদেরকে ফিল্মের অ্যাক্টর ভাবা উচিত নয়। কারণ মুভিটি এখনো লিখে শেষ করা হয়নি।

কিন্তু আপনি বলতে পারেন, আমাদের ব্রেন মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তনের ফলাফল , আর এটি জিনেরই অনুলিপি। মূলত, এক্সট্রারনাল ওয়ার্ল্ডের সাথে আমাদের পেশি সংকোচনের সময়কে সিনক্রোনাইজ করার জন্য মধ্যবর্তী একটি টাইম সিনক্রোনাইজারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় আর এভাবে ব্রেন বিবর্তিত হয়। আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিটি সেল আদিম স্যুপের সাঁতারু সেই জিনেরই দখলে, অতএব আমাদের কোনো ফ্রি উইল নেই! আসলেই কী তাই?

রিচার্ড ডকিন্স এর মতো করে যদি বলি, জিন যদি আমাদের মস্তিষ্ককে প্রতি পিকোসেকেন্ডে সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তবে আমাদের নিজেদের করার জন্য অবশিষ্ট কোনোকিছু থাকে না, কোনো পটেনশিয়ালিটিই থাকে না যেখান থেকে আমরা কোনোপ্রকার অনুমান করতে পারি, কোনোকিছু প্রেডিকশন করতে পারি অথবা পারি কোনোরকম Future Simulation তৈরি করতে! কিন্তু আমরা জিনের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়া ফিউচার সিমুল্যাশন তৈরি করতে পারি না বলেই কি আমাদের এমন কোনো তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা উচিত যেটি মস্তিষ্কের সাথে জিনের সম্পর্ক ছিন্ন করবে? না তা নয়! রিচার্ড ডকিন্স এক্ষেত্রে দাবা খেলায় পারদর্শী একটি কম্পিউটার এবং তার প্রোগ্রামারের সম্পর্ক তুলনা করেছেন! একজন প্রোগ্রামার যখন কম্পিউটারকে দাবা খেলার জন্য প্রোগ্রাম করেন তখন তিনি কি কম্পিউটারকে দাবার সম্ভাব্য সকল চাল সম্পর্কে পূর্ব থেকেই প্রোগ্রাম করতে পারেন?

ডকিন্স বলেন, সারা গ্যালাক্সিতে যতসংখ্যক পরমাণু আছে একটি দাবার বোর্ডে তার থেকেও বেশি রয়েছে চালের সংখ্যা, একজন প্রোগ্রামার তো দূরের কথা, কোনো গ্র্যান্ড মাস্টারের পক্ষেও পূর্ব থেকে এটা নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব নয় যে দাবার ভবিষ্যতের আসন্ন দানগুলো কেমন হতে পারে! অতএব কোনো প্রোগ্রামার কখনোই একটি কম্পিউটারে এমন কোনো অ্যালগোরিদম তৈরি করতে পারবে না যেটি কম্পিউটারকে দাবা খেলার সম্ভাব্য মাল্টি-ট্রিলিয়ন চাল সম্পর্কে পূর্ব থেকেই প্রোগ্রাম করে দেবে! এখন প্রশ্ন হলো কম্পিউটার তাহলে কীভাবে দাবা খেলে…? (৬)

একজন পিতা যখন তার সন্তানকে দাবা খেলা শেখায় তখন কি তিনি শিশুটির প্রতি মুহূর্তের প্রতিটি চাল কেমন হবে তার সবটা পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট করে দেন? উত্তর হলো- না, তিনি শুধু দাবার বেসিক নিয়মটা শিশুটিকে শিখিয়ে দেন আর এরপর শিশুটির মস্তিষ্কের সাথে পিতার কোনো সম্পর্ক থাকে না! ঠিক তেমনি একজন প্রোগ্রামার কম্পিউটারকে যেটা প্রোগ্রাম করেন সেটা হলো নিয়ম, গড়পড়তা কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম, এর বেশি কিছু নয়। আর এরপর কম্পিউটারের দাবা খেলার প্রক্রিয়ার সাথে প্রোগ্রামারের আর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকে না, থাকে না সচেতন কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার সম্পর্ক!অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, তবুও তো দাবার প্রোগ্রাম কোনো এক প্রোগ্রামারে তৈরি, প্রোগ্রামার থেকে নিরপেক্ষ থেকে কোনো কম্পিউটারের পক্ষেই দাবা খেলা সম্ভব নয়! যারা সচেতন সত্ত্বার হস্তক্ষেপ ব্যতীত কম্পিউটারের এমন রেন্ডমনেসকে অস্বীকার করেন তাদের জন্য রিচার্ড ডকিন্স উপস্থাপন করেছিলেন ফ্রেড হয়েল ও জন এলিয়টের লেখা বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন A for Andromeda থেকে চমৎকার একটি এনালজি! (5) আমি আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে এখানে সে ব্যাখ্যাটিকে অপেক্ষাকৃত সরলভাবে উপস্থাপন করছি! আমার এই অনেকটা নিজের মতো ব্যাখ্যার জন্য ডকিন্স নিশ্চয়ই আমাকে তিরস্কার করবেন না! যাই হোক, আমরা জানি যে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি থেকে পৃথিবীর দূরত্ব 2.5 Million আলোকবর্ষ কারণ সেখান থেকে পৃথিবীতে আলো প্রবেশ করতে 2.5 Million বছর সময় লাগে!

Our brains are separate and independent enough from our genes to rebel against them.. we do so in a small way every-time we use contraception. There is no reason why we should not rebel in a large way too.[Richard Dawkins, The Selfish Gene 1989]

সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে আট মিনিট বিশ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হয়, আর তাই সেখান থেকে পৃথিবীত আসা প্রতিটি আলোক তরঙ্গ প্রায় আট মিনিট অতীতের! আমরা যদি এ মুহূর্তে হাবল টেলিস্কোপের ভেতর দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির দিকে তাকাই তবে টেলিস্কোপ একটি স্বয়ংক্রিয় টাইম মেশিনের মতোই আমাদের মস্তিষ্কে 2.5 million বছর অতীতের তথ্য প্রকাশ করবে! এখন আমি যদি অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির কোনো এক অজানা সুন্দরীর সাথে প্রেম করতে চাই তাহলে আমার কী করা উচিত? আমি যদি তাকে এ মুহূর্তে মোর্স কোডের মাধ্যমে Hi লিখে পাঠাই তবে তার কাছ থেকে Hello শোনার জন্য আমাকে 5 million বছর অপেক্ষা করতে হবে, এত বিরাট টাইম ল্যাগ নিয়ে হয়তো বা আমি I love You বলার আরও কয়েক Million বছর পূর্বেই আমার মৃত্যু হবে! অতএব এটা মনের কথা প্রকাশ করার ভালো কোনো উপায় নয়!তাহলে আমরা এন্ড্রোমিডাবাসীকে কীভাবে আমাদের বার্তা পাঠাতে পারি? খন্ড খন্ড করে বার্তা আদান প্রদান করার জন্য আমাদের হাতে মাল্টি মিলিয়ন বছর TIME নেই কারণ আমরা তার পূর্বেই ধবংস হয়ে যাবো। তাহলে এখন উপায়? এক্ষেত্রে চিন্তা করুন মঙ্গলের পার্সিভারেন্সের কথা যে একজন রোবটিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী। (6) আমরা যদি তার কাছে পৃথিবী থেকে কোন বার্তা পাঠাতে চাই তবে আমরা কী করতে পারি? মঙ্গল থেকে বেতার তরঙ্গ আসা যাওয়া করতে সময় নেয় ৪ মিনিট। অতএব আমরা যদি পার্সিভারেন্সের কাছে কোন তথ্য প্রেরণ করতে চাই তবে সেক্ষেত্রে আমরা প্রতি চারমিনিট পর পর তথ্য প্রেরণ না করে তার কাছে চিঠি লিখতে পারি যেটাকে বলে দীর্ঘ মনোলোগ বা সলিলিকুই।

তিমির গানের কথা পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ অবগত। রজার পেইন দেখিয়েছিলেন, তিমি যদি একটি নির্দিষ্ট গভীরতায় সাঁতার কাটে তবে সেক্ষেত্রে সমস্ত বিশ্ব তাত্ত্বিকভাবে তার গান শুনতে পারবে। কিন্তু সমূদ্রে শব্দের গতি এমন যে তিমির একটি গান আটলান্টিক মহাসাগরের এপার থেকে ওপারে যেতে ও ফিরে আসতে দুই-ঘন্টা সময় লাগে! আর এ জন্য তিমিরা যখন একে অন্যকে বার্তা পাঠায় তখন সেটা মঙ্গলের পার্সিভারেন্সের কাছে নাসার পাঠানো কোন বার্তার থেকে পৃথক কোন উপায়ে নয় বা তারা দীর্ঘ মনোলোগ সলিলিকুই এর মাধ্যমে আটলান্টিকে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করে। (7)

আমি যদি অ্যান্ড্রোমিডার কোনো এক নাগরিককে মেসেজ সেন্ড করতে চাই তবে আমাকে আমি যা বলব তার সম্পূর্ণ মেসেজটা নিরবিচ্ছিন্নভাবে একসাথে বলে যেতে হবে বা একটি অখন্ড বার্তা সেন্ড করতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের চক্রে যেন তারা সেটি ক্রিপ্টোগ্রাফারের মাধ্যমে পরবর্তীতে একত্রে ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে পাঠ করতে পারে! A for Andromeda সায়েন্স ফিকশনে ঠিক একই প্রসেসে অ্যান্ড্রোমিডার বিজ্ঞানীরা আমাদের গ্রহে মোর্স কোডের মাধ্যমে একটি কম্পিউটারের নকশা প্রেরণ করেছিল পৃথিবীতে একনায়কতন্ত্র বিস্তার করার উদ্দেশ্যে। টাইমল্যাগের কারণে অ্যান্ড্রোমিডার প্রোগ্রামারদের এটা জানার কোনো উপায় ছিল না যে তাদের মেসেজ আদৌ কেউ পাঠ করতে পেরেছে কি-না, আদৌ সে কম্পিউটারটি কেউ তৈরি করেছে কি-না অথবা কম্পিউটারটি আদৌ সেই গ্রহটিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল কি-না! এককথায় সে প্রোগ্রামটির সাথে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির প্রোগ্রামারদের সরাসরি কোনো সম্পর্কই ছিল না, তাদের প্রোগ্রামটি ছিল সম্পূর্ণভাবে তাদের সচেতনতার আড়ালে মিলিয়ন আলোক বছর দ্বারা বিচ্ছিন্ন! হ্যাঁ, হয়তো বা পৃথিবী কোনো একদিন অ্যান্ড্রোমিডাকে তাদের কম্পিউটারের তথ্য জানাতে পারতো তবে সে তথ্যটি তারা সেই মুহূর্তে নয়! তথ্যটি জানার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হতো প্রায় 2.5 million বছর!এবার আমরা আমাদের জিনদের অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির সে প্রোগ্রামারদের সাথে তুলনা করতে পারি আর আমাদের মস্তিষ্ককে তুলনা করতে পারি একটি সুপার কম্পিউটারের নকশার সাথে যে সুপার কম্পিউটারটি মোর্স কোডের মাধ্যমে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির প্রোগ্রামাররা একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে আমাদের গ্রহে প্রেরণ করেছিল।(এক্ষেত্রে বলে রাখা উচিত যে কম্পিউটার সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি যার একটি বহুল প্রচলিত রূপ ট্রান্সজিস্টর আর অপরদিকে মানব মস্তিষ্ক নিউরনের তৈরি, ট্রান্সজিস্টর একটির সাথে অন্যটি নির্দিষ্ট তিনটি তার দ্বারা সংযুক্ত, আর একটি নিউরনের সাথে অন্য আর একটি নিউরন হাজার হাজার উপায়ে সংযুক্ত হতে পারে, একজন ব্যক্তির মস্তিষ্কে একশটি ট্রান্সজিস্টর রাখা যায়! আর অন্যদিকে মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা দশ বিলিয়ন, কম্পিউটার আর মস্তিষ্কের সম্পর্ক শুধু একটি বিশেষ স্থানে আর আর তা হলো দুটো যন্ত্রই সিগন্যালের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে)।তাহলে দেখা যাচ্ছে টাইম ল্যাগের কারণে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির জিনদের সাথে আমাদের মস্তিষ্কের দশ বিলিয়ন সেলের কোনো সচেতন যোগাযোগ নেই, আমাদের মস্তিষ্কের প্রতি মুহূর্তের চিন্তার সাথে আমাদের জিনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই (এখানে আমি “আমাদের” বলতে শুধু স্যাপিয়েন্স নয়, সকল প্রাণীদের ইঙ্গিত করছি)। আমরা কখন ছবি আঁকব, কখন কবিতা লিখব, কখন পড়াশুনা করব অথবা কখন পর্নো ভিডিয়ো দেখব এসব সিদ্ধান্ত আমাদের প্রতি মুহূর্তের আর আমরা এসকল সিদ্ধান্ত খুব দ্রুতগতিতে গ্রহণ করি, এটি মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যেতে পারে আর জিন অন্যদিকে মাসের পর মাস খরচ করে প্রোটিন সংশ্লেষণ করে!

একটি স্বয়ংক্রিয় মিসাইল, কম্পিউটার প্রোগ্রাম অথবা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের সাথে আবারও এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির বাসিন্দাদের মতোই তাদের প্রোগ্রামের কোনো সম্পর্ক নেই! অতএব একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স অবশ্যই তার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন।

কিন্তু মিচিও কাকু কোয়ান্টাম আনসার্টেইনটি ও কেওস থিওরিকে বিবেচনায় এনে বলেন, মানব মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ নিউটোনিয়ান ম্যাকানিজম মেনে চলেনা, আর কোয়ান্টাম আনসার্টেইনটির কারণে ফিজিক্স আমাদের জন্য নিশ্চিত কোন ভবিষ্যত রাখেনি অতএব রোবটিক ফ্রিডম ও আমাদের মস্তিষ্কের ফ্রিডমে সুক্ষ্মতর একটি পার্থক্য আছে।প্রথম দেখায় বিভ্রান্ত হলেও আমি কাকুর এ যুক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত হতে পারিনি! কারণ মহাবিশ্বের ভবিষ্যত একটি রোবট এবং মানুষ দুজনের জন্যই আনসার্টেইন। একটি দাবা খেলায় পারদর্শি কম্পিউটার ঠিক যেমনি ভাবে কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা অথবা কেওস থিওরির কারণে তার ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সকল চাল সম্পর্কে পূর্ব থেকে অবগত হতে পারেনা ঠিক তেমনি একজন মানব গ্রেন্ড মাস্টারও জানেনা তার ভবিষ্যতের পটেনশিয়াল চালগুলো কি ! হ্যাঁ, এটা ঠিক যে মানব মস্তিষ্কের নিউরন খুবই সুক্ষ্ম এবং সেখানে পেনরোজের মতে, কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তা জাগ্রত হয়ে উঠে! নিউটোনিয়ান ম্যাকানিজমে একটি জীবন্ত মানব মস্তিষ্ক তৈরি করা সম্ভব নয়, আর এ জন্য আমরা রোবটিক কনশাসনেসকে হিউম্যান কনশাসনেস এর সমরূপ ভাবতে পারছিনা! অতএব দেখা যাচ্ছে, ফিজিক্সের সূত্র রোবটের মধ্যে স্বাধীন নির্বাচনকে অনুমোদন দিলেও কনশাসনেসকে পুরোপুরি অনুমোদন দিচ্ছেনা! যদিও টুরিন টেস্টে রোবট ও মানুষের আচরণ পৃথক করা সম্ভব না হলে তাদের চেতনা ট্রান্সজিস্টরের তৈরি হোক অথবা নিউরনের তাতে কিছু যায় আসেনা! কারণ রোবটের বুদ্ধি যদি অনেক উন্নত হয় তবে আমি যেমন তার চেতনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারি ঠিক তেমনি সেও সন্দেহ প্রকাশ করে বলতে পারে, এই নির্বোধ মানুষের কী আসলেই কোন চেতনা আছে? চেতনা একটি শব্দ মাত্র। এর বিশ্বজনীন কোনো ডেফিনিশন রয়েছে বলে আমি মনে করিনা।

শন ক্যারল তার From The Eternity to Here গ্রন্থে স্বাধীন ইচ্ছার অস্তিত্বের সাপেক্ষে থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” কে ব্যবহার করেছেন। আমরা জানি যে, Closed System এ একটি বস্তুর এন্ট্রপি ক্রমশ বৃদ্ধি পায়। একটা গ্লাস ভেঙে গেলে সেটি আর জোড়া লাগেনা, লাল ও সবুজ রঙের পানি একসাথে মিশে গেলে সেটাকে আপনি আর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেননা, একজন মৃত কোনোদিনই জীবিত হয়না! এন্ট্রপির কারণে সময় সবসময় ভবিষ্যতের দিকে প্রবাহিত হয়( Arrows of Time) ! আমরা এটাকে এভাবে বলতে পারি X অক্ষ সবসময় Y কে অনুসরণ করে কিন্তু Y কখনোই X কে অনুসরণ করেনা।মনে করুন, মিঃ এবি এক চামচ চিনি ও দুধ মিশিয়ে এক কাপ চা তৈরি করল। মিঃ এসি তাকে বললেন, থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” অনুসারে তুমি আর কখনোই চিনি ও দুধকে পৃথক করতে পারবেনা! মিঃ এবি হেসে বলল, ভুল! আমি এটা করতে পারবো কারণ আমার কাছে এখন রয়েছে অজস্র বিকল্প পদ্ধতি নির্বাচন করার অসীম স্বাধীনতা! আর আসলেই তাই! আমরা উন্নত মাপের যন্ত্র ব্যবহার করে এ কাজটি নিমিষেই করতে পারি, আমাদের দেহ ঠিক একই কাজ প্রতিদিনই করে। আমাদের ব্রেনও বিক্ষিপ্ত ডেটা থেকে হিপ্পোক্যাম্পাসের এক একটি প্লেসে এক একটি মেমরিকে আলাদা আলাদা করে তাদের সিমিলারিটি অনুযায়ী সংরক্ষণ করে, এ ধরণের অর্ডার ক্রিয়েট করতে সামগ্রিক সিস্টেমের এন্ট্রপির কনস্ট্যান্টে কোনো পরিবর্তন হচ্ছেনা। এন্ট্রপি শুধু সময়ের সাথে বৃদ্ধি পায়না। এটি হ্রাসও পায়। আমরা আমাদের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে ব্যবহার করেও ল্যাবরেটরিতে এন্ট্রপি হ্রাস করতে পারি। আর এ জন্য পদার্থ বিজ্ঞানীরা এন্ট্রপিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। Open System Entropy এবং Closed System entropy! ওপেন সিস্টেম এন্ট্রপি হলো যেখানে অবজেক্ট বাহিরের জগতের সাথে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ইন্টারেক্ট করে, এন্ট্রপি ও এনার্জি বিনিময় করার মাধ্যমে। আর ক্লোজড সিস্টেম এন্ট্রপি সকল প্রকার এক্সট্রারনাল প্রভাব থেকে মুক্ত, এটি সম্পূর্ণ আইসোলেটেড। ওপেন সিস্টেমে, আমরা এক কাপ কফি ও দুধকে একটা মেশিনে রাখতে পারি আর এভাবে এন্ট্রপি হ্রাস পাবে। অথবা আমরা ফ্রিজে পানিকে ঠান্ডা করতে পারি, সাধারণত পানি নিজে নিজে বরফ হয়না কিন্তু ওপেন সিস্টেমে পানির এন্ট্রপি কমিয়ে বরফে পরিণত করা যায়। মনে রাখতে হবে মেশিন কিন্তু তার চারপাশের মহাবিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ আইসোলেটেড নয়, সে একটি আবদ্ধ সিস্টেমের( Closed System) অংশ, আর এ জন্য সামগ্রিক সিস্টেম যেমন কফি + দুধ+ মেশিন+ হিউম্যান অপারেটর+ফুয়েল এবং এভাবে অন্য সকলকিছুর এন্ট্রপি সবসময় বেড়েই চলেছে অথবা তাদের এন্ট্রপি কনস্ট্যান্ট ছিল। অতএব প্রকৃতি ও আমাদের উভয়ের স্বাধীনতা আছে বস্তুর এন্ট্রপি হ্রাস করে তাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার, বা অন্তত শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করার। এতে করে থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” লঙ্গিত হয়না। (9)

মিচিও কাকু বলেন, So strict determinism is destroyed by a subtle combination of quantum effects and chaos theory. In the end, we are still masters of our destiny.

থ্যসুত্রঃ

1) FREE WILL, DETERMINISM, QUANTUM THEORY AND STATISTICAL FLUCTUATIONS: A PHYSICIST’S TAKE

2) evolutionary biologist Stephen Jay Gould once dreamed about replaying the tape of life in order to identify whether evolution is more subject to deterministic or contingent forces. Greater influence of determinism would mean that outcomes are more repeatable and less subject to variations of history

3) Reverse-Engineering of Human Brain Likely by 2020

GizmodoAccording to Wikipedia Reverse engineering, also called back engineering, is the processes of extracting knowledge or design information from anything man-made and copying it or reproducing anything based on the extracted information. … The human brain is a product of evolution over a time frame of millions of years.

4) Gödel’s Incompleteness Theorems Kurt Gödel’s first incompleteness theorem (1931) proves that there cannot be a single logical theory from which the whole of mathematics is derivable: all consistent theories of arithmetic are necessarily incomplete. Principia Mathematica cannot, however, be dismissed as nothing more than a heroic failure.

5) Living with Scientific Uncertainty – Scientific American

6) The Selfish Gene, Richard Dawkins

7) A for Andromeda (The Story-Tellers): Hoyle, Fred, Elliot

8) Mars 2020 Perseverance Rover – NASA Mars

9) The Whale’s Monologue by thetawaves – SoundCloud

10) Can consciousness be explained by quantum physics? My research takes us a step closer to finding out

11) From Eternity to Here: The Quest for the Ultimate Theory of Time

ছবিঃ এটি মিচিও কাকুর হাইপারস্পেস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মূলত এ ছবিতে দ্বিমাত্রিক একটি প্রাণীকে দেখানো হয়েছে যে উচ্চতা নামক থার্ড ডায়মেনশনে মুভ করতে পারেনা। সে দ্বিমাত্রিক জগতের প্রিজনার আর তার ফ্রিডমও দ্বিমাত্রিক । কেবল, থার্ড ডায়মেনশন থেকেই তাকে মুক্তি দেয়া যায়। এ ছবিটি আর্টিকেলে স্বাধীনতার রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।বিঃদ্রঃ আর্টিকেলটি হয়তো বিরক্তিকরভাবে বড় হয়ে গেছে ও আর্টিকেলের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি দেখা যেতে পারে। এ জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। বড় মাপের কোন ভুল হলে আমাকে প্লিজ মেসেজ করে জানাবেন।

ধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স

স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স স্বাধীন ইচ্ছার ফিজিক্স

hsbd bg