স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস
মূলপাতা কনসাসনেস স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস

স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
160 বার পঠিত হয়েছে

 

আমরা আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্নিকে দেখিনা, ফোরথ ডায়মেনশনের ভেতর আমরা মেন্টালি কোনো অবজেক্টকে মুভ করতে পারিনা, ঠিক একইভাবে হয়তো আমরা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও কনসাসনেসের প্যারাডক্সও সমাধান করতে পারিনা।

 

  • পার্ট-১০

কনসাসনেসের ধারণা হাজার হাজার বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকের মস্তিষ্ককে শত শত বছর নির্যাতন করেছে।তারা কেউই এর সার্বজনীন কোনো ডেফিনিশন তৈরি করতে পারেনি।ডেবিড স্যালমার্স কনসাসনেসের উপর লিখা ২০ হাজার গবেষণাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন কিন্তু সেগুলি খুব সামান্য পরিমাণই কনসেনসাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।সতের শতকের বিজ্ঞানী লাইবনিজ বলেছিলেন, তুমি যদি তোমার মস্তিষ্ককে একটি মিল মনে করো তবে তুমি সেই মিল ফ্যাক্টরির ভেতর দিয়ে হাঁটবে ঠিকই কিন্তু কনসাসনেসকে খুঁজে পাবেনা।আপনি যদি আপনার মস্তিষ্কের একশত বিলিয়ন সেলের প্রত্যেকটিতে আলাদা আলাদাভাবে কনসাসনেসকে খুঁজেন আপনি আপনার কোনো নিউরনের ভেতরেই কনসাসনেস পাবেন না কারণ যিনি নিউরন সেলের ভেতর কনসাসনেসকে অনুসন্ধান করছেন তিনিই নিজেও কনসাস, তিনি যদি কনসাস না হতেন তবে তিনি ব্রেন নিউরন গুলির অনু-পরমাণুর ভেতর কনসাসনেসকে খুঁজতেন না।দেখা যায় যে কনসাসনেসকে ব্রেন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের ভেতর অনুসন্ধান করতে হলেও কনসাসনেস লাগে।তার মানে কনসাসনেস কনসাসনেসকে খুজে পাবেনা যদিও সেটি নিউরনের ভেতরেই বিদ্যমান কিন্তু নিউরনের ভেতর সেটিকে খুঁজতে গেলে মনে হবে এটি নিউরন সেলের বাহিরে Beyond the Cell।এটি একটি প্যারাডক্স।সতের শতকে লাইবনিজ এই প্যারাডক্স অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আমি আমার মস্তিষ্কের নিউরন সেল থেকে তৈরি হলেও, আমি যখন আমার ব্রেন সেলে আমাকে খুঁজতে চাই আমি আমাকে কোনো সেলের মাঝে খুঁজে পাইনা কারণ যে সেলের ভেতর খুঁজতেছে তাকে সেলের বাহিরে থাকতে হয়!ভেতর ও বাহির যেনো এখানে বিভ্রম!আমরা আমাদের মহাবিশ্বকে আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক থেকে রহস্যজনকভাবে তৈরি কনসাসনেসের ভেতর অনুসন্ধান করি, কিন্তু নিউরনের ভেতর আলাদা করে যেমন কনসাসনেস নেই ঠিক তেমনি আমাদের মস্তিষ্কের হার্ডওয়্যারের ভেতর কোনো মহাবিশ্বও নেই।

 

স্পেস টাইম থিওরি অব কনসাসনেস (The Space Time Theory of Consciousnes) 

কিছু দার্শনিক মনে করেন, কনসাসনেসকে এক্সপ্লেইন করা অসম্ভব ঠিক যেমনিভাবে থার্মো ডায়নামিক্সের সেকেন্ড “ল” এর পক্ষে নিজের উপস্থিতিকে নিজের পক্ষে এক্সপ্লেইন করা অসম্ভব।একটি অবজেক্ট যেমন নিজে সে অবজেক্টটিকে এক্সপ্লেইন করতে পারেনা ঠিক তেমনি কনসাসনেসও কনসাসনেসের ফিজিক্স এক্সপ্লাইন করতে পারেনা!আর আমরা সবাই যেহেতু কনসাস, অতএব আমরা এটির ফিজক্স এক্সপ্লেইন করতে পারবোনা!হার্ভার্ড সাইকিয়াট্রিস্ট

স্টিভেন পিঙ্কার বলেছিলেন, আমরা আল্ট্রা-ভায়োলেট রশ্নিকে দেখিনা, ফোরথ ডায়মেনশনের ভেতর আমরা মেন্টালি কোনো অবজেক্টকে মুভ করতে পারিনা, ঠিক একইভাবে হয়তো আমরা স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও কনসাসনেসের প্যারাডক্সও সমাধান করতে পারিনা

সাইকিয়াট্রিস্ট গিউলিও তন্ময় কনসাসনেসের একটি সরল ডেফিনিশন দাঁড় করিয়েছিলেন, তার মতে, আমরা সবাই জানি কনসাসনেস কী, রাত্রির অন্ধকারে, স্বপ্নহীন ঘুমে এটি আমাদের ছেড়ে পালায় এবং সকালে ফিরে আসে।এখন আমরা এডভান্স ব্রেন সায়েন্সের ভিত্তিতে চেতনাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করবো।এ জন্যে আমাদের প্রথমে জানতে হবে ফিজিক্স কিভাবে মহাবিশ্বকে দেখে।

একজন পদার্থ বিজ্ঞানী প্রথমে ডাটা সংগ্রহ করে আর তারপর মডেল তৈরি করে, একটি অবজেক্টের সিমপ্লিসাইজড ভার্সন যেটি বস্তুটির প্রয়োজনীয় ফিচারকে ধারণ করে।ফিজিক্সে একটি মডেলকে এক্সপ্লেইন করা হয় কিছু প্যারামিটার দ্বারা যার মধ্যে রয়েছে টেম্পারেচার,এনার্জি এবং টাইম।তারপর পদার্থ বিজ্ঞানীরা এর মোশনকে সিমুলেট করে সেই মডেলের ভবিষ্যতকে প্রেডিক্ট করে।(স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস)

যেমন নিউটনের মডেল।নিউটন মনে করতেন, একটি আপেলকে যদি উপরের দিকে ছুড়ে দেয়া হয় তবে এটি গ্র‍্যাভিটির আকর্ষণে পৃথিবীতে নেমে আসবে কিন্তু যদি আপেলটিকে প্রচন্ডশক্তিকে উপরের দিকে ছুড়ে দেয়া হয় তবে আপেলটি সমস্ত পৃথিবীকে আবর্তন করে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে, তখন তিনি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে, এই মডেল চাঁদের কক্ষপথকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারে।তিনি সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে মোশন আপেলকে পৃথিবীর চারপাশে আবর্তিত হতে বাধ্য করছে ঠিক একই মোশন চাঁদকে পৃথিবীর চারপাশে আবর্তিত হতে বাধ্য করছে।যদিও এই মডেলটি অনেকাংশেই ব্যার্থ কিন্তু তিনি এ মডেলের মাধ্যমে ভবিষ্যকে সিমুলেট করতে পেরেছেন, মহাকাশের যেকোনো গ্রহ নক্ষত্রের ফিউচার মুভমেন্ট এ মডেলটির মাধ্যমে সিমুলেট করা যায়।

 

স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস,  মিচিও কাকু

 

নিউটন এই ব্যার্থ মডেল দিয়ে চাঁদের ট্রাজেক্টরি প্রেডিক্ট করতে পেরেছেন, হেলির ধুমকেতুর সময় নিশ্চিত করে বলে দিয়েছেন, এবং গ্রহদের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ণয় করেছেন।তারমানে একটি মডেলের সত্য হওয়ার প্রয়োজন নেই,মডেলের কাজ হলো ভবিষ্যতকে সিমুলেট করা, একটি মডেল এবসলিউট গ্রাউন্ড থেকে প্রতিষ্ঠিত না

হওয়া সত্ত্বেও যদি এটি নির্ভূলভাবে ফিউচারকে সিমুলেট করতে পারে তবে একে সফল মডেল বলা যায়।আমরা ফাংশনের অংকে যেমন X=1,2,3…N যেকোনো একটি ধরে নিয়েই ম্যাথের ফিউচারকে সিমুলেট করতে পারি ঠিক তেমনি একটি মডেলকে সত্য বলে আপাত ধরে নিয়েও মহাবিশ্বের ফিউচার সিমুলেট করা যায়।নিউটনের মডেল থেকেই মেশিন,অটোমোবাইল এবং রকেটের প্রযুক্তি সিমুলেট করা সম্ভব হয়েছে!!একটি মডেলের সফলতা অথবা ব্যার্থতা নির্ধারিত হয় এর প্যারামিটার গুলির নিজেদের Reproduce করার ক্ষমতার উপর।এক্ষেত্রে বেসিক প্যারামিটার ছিল আপেল এবং চাঁদের স্পেস-টাইমে লোকেশন।

এবার আইনস্টাইন নিউটনের মডেলকে নতুন প্যারামিটারের মাধ্যমে আপডেড করলেন, তিনি দেখালেন আপেল পৃথিবীর কোনো গ্র‍্যাভিটির টানে নিচের দিকে পতিত হয়না বরং স্পেস-টাইম নিজেই বক্র আর আপেল সেই বক্রতাকে অতিক্রম করতে পারেনা আর এ জন্যেই গ্রহগুলি স্পেস-টাইম ফেব্রিকের বক্রতার ভেতর আটকে গিয়ে ঘুরতে থাকে।আইনস্টাইন স্পেস-টাইমের বক্রতার মডেল সমস্ত মহাবিশ্বের ফিউচারকেই প্রেডিক্ট করতে পারতো!এমনকি কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এই মডেল ব্লাকহোলের কোয়ালিশন পর্যন্ত বলে দিতে পারে।কিন্তু আমরা কিভাবে কনসাসনেসের ডেফিনেশন নির্ধারণ করতে পারি?

 

মিচিও কাকু তার Future of the Mind গ্রন্থে কনসাসনেসের ডেফিনিশন বলতে যা বুঝিয়েছেন তা ছিলো, কনসাসনেস হলো বিভিন্ন প্যারামিটারের ভেতর মাল্টিপল ফিডফ্যাক লুপ ব্যাবহার করার মাধ্যমে মহাবিশ্বের মডেল তৈরির একটি প্রসেস যে আনুমানিক মডেলগুলি মহাবিশ্বের ভবিষ্যতকে সিমুলেট করবে।টেম্পারেচার,স্পেস,টাইম এবং অন্যসবকিছুর সাথে আমাদের সম্পর্কের যে প্যারামিটার সেগুলির যে ফিডব্যাক লুপ সেই ফিডব্যাক লুপ থেকেই আমরা মহাবিশ্বের মডেল তৈরি করছি  মাংস,ফল অথবা আশ্রয়ের জন্যে।মিচিও কাকু এটিকে বলেছেন “Space Time Theory of Consciousness”!

মিচিও কাকু আরো বলেছেন,প্রাণীদের কনসাসনেস মহাবিশ্বের মডেল তৈরি করে স্পেস এবং তার সাথে অন্যদের সম্পর্কের ভিত্তিতে কিন্তু মানুষ তার বাহিরে গিয়ে সময়ের সাথে তার যে সম্পর্ক, সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে সময়ের অতীত ও ভবিষ্যতের দিকে মডেল তৈরি করে।মানুষ ব্যাতীত আর কোনো প্রাণী ফোর্থ ডায়মেনশনকে এত সুক্ষভাবে বুঝেনা, পৃথিবীতে অল্পকিছু প্রাণী আছে যারা ভবিষ্যতকে মেন্টালি সিমুলেট করতে পারে।একমাত্র মানুষের পক্ষেই মডেলের ভিত্তিতে ভবিষ্যতকে সিমুলেট করা সম্ভব কারণ সে ফোর্থ ডায়মেনশনের সামনে পেছনে মুভ করতে পারে, সময়ের ডায়মেনশনে হেঁটে ভবিষ্যতকে সিমুলেট করে সেপিয়েন্সের পক্ষেই মডেল তৈরি করা সম্ভব!

 

গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের প্রাইমেটরা মাত্র কয়েক মিনিট ভবিষ্যতকেই ইমাজিন করতে পারতো, অতএব নিউটনের মডেল তাদের জন্যে নয়।যাদের ব্রেনে ভবিষ্যতই নেই তারা মডেল সিমুলেট করবে কিভাবে?

হাইপারস্পেসের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি পড়ুন-

স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস; তথ্যসুত্র-

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!