Last updated:

সেকচুয়াল সিলেকশন

 
 

ডারউইন প্রকৃতিতে অর্নামেন্টস দেখে খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন। কেনো প্রকৃতিতে Sense of Beauty কাজ করছে? সেই সৌন্দর্য তৈরির জন্য কেনো এত সময় ও শক্তি অপচয়? সচেতনভাবেই নারী ও পুরুষ নিজের বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে পছন্দ করে! ধর্ম ও সংস্কৃতির তারতম্যে নারী ও পুরুষের মাঝে বিভিন্ন সাজসজ্জা প্রতিফলিত হয়। এ অলংকরণের পেছনে তারা অজস্র সময়, শক্তি ও অর্থ অপচয় করে, একজন নারী দিনের অধিকাংশ সময় শুধুমাত্র নিজের চুল ও ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন উন্নত করার জন্য খরচ করে, শুধুমাত্র দেহকে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও অভিজাত করে তোলার জন্যই যেনো তারা বিবর্তিত। তাদের বিবর্তনই ঘটেছে অঙ্গসজ্জার জন্য। হিরা,পান্না,সোনার গহনা কতকিছুই না তারা ব্যবহার করে নিজেদেরকে সুন্দর করে তোলার জন্য। আবার ভারতীয় উপমহাদেশে একধরণের চিন্তাশীল মানুষ বলছেন , নারীর অঙ্গসজ্জা আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই সৃষ্টি__নারীর চুড়ি, কানেরদুল অথবা নাকের ফুল অথবা তার কপালে টিপ সবকিছু আসলে পুরুষের আরোপিত চিহ্ন যা দ্বারা তারা নারীর উপর পুরুষতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। কিন্তু তারপরও আমরা দেখি অলংকার ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ, এমন নয় যে নারী ও পুরুষ বাধ্য হয়ে নিজেদের Show Up করে, এটা তাদের মধ্যে সহযাত। আমরা নিজেদের Show Up করার জন্য অলঙ্করণের পেছনে যে পরিমাণ সময় ও শক্তি অপচয় করি, প্রকৃতিও বিপুল সময়, শক্তি, ফিন্যান্স অপচয় করে ময়ুরের আকর্ষণীয় এক লেজ তৈরি করতে। তারা দুর্দান্ত কিছু নৃত্ত পরিবেশন করার জন্য তাদের এই লেজটি ব্যাবহার করে। কিন্তু এত বিরাট লেজ ময়ুরের শরীর থেকে অনেক ক্যালোরি শোষণ করে নেয়। যা তার টিকে থাকার জন্য ক্ষতিকর। ডারউইন একবার বলেছিলেন, আমি যখনই ময়ুরের লেজ দেখি তখন আমি অসুস্থ্য হয়ে যাই। কেন এটি বিবর্তিত হয়? এটা আমরা অস্বীকার করতে পারিনা যে ময়ুরের লেজ অসাধারণ।



resident peacock trying to attract a mate - Picture of Hotel Atitlan, Panajachel - Tripadvisor


পিকক স্পাইডার নামক একটি মাকড়সা রয়েছে, তার মধ্যেও রঙধনু রঙের উদর দেখা যায়। ডারউইন পরে বলেন., প্রাণীদের এ সুন্দর বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য।তার মতে, মূলত, মাঝেমধ্যে পুরুষ আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা এ ধরণের বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে সঙ্গীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে। মূলত, আমরা যদি জিনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি তবে দেখা যায়, সেলফিশ জিন চায় এ সকল প্রদর্শনীর মাধ্যমে সঙ্গীর মস্তিষ্কে Sense of Beauty তৈরি করতে  বা তার মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম

ট্রিগার করে, নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে ।৷


Peacock Spider 7 (Maratus speciosus) - YouTube



মানুষ যখন সুন্দর কিছু দেখে তখন তার মস্তিষ্কের অর্বিটোফ্রন্টাল কর্টেক্স ও মোটর এরিয়া একটিভ হয়ে উঠে, নিউরো-ট্রান্সমিটার ডোপামিন রিলিজ হয়। যে সকল নারী, পুরুষের মস্তিষ্কে যত বেশি ডোপামিন রিলিজ করতে পারবে, সে সমাজে ততবেশি জনপ্রিয় হবে, এবং তার গুরুত্ব বেড়ে যাবে আর পুরুষরা তার সাথেই মেটিং করতে চাইবে। মানব সমাজের প্রায় সব নারীই অর্নামেন্টসের মাধ্যমে পুরুষের মস্তিষ্কের নিউরোকেমিক্যালের সাথে সেক্স করে, এবং নিউরো-কেমিক্যালি তারা পুরুষের ব্রেনে যত বেশি ডোপামিন রিলিজ করছে তার প্রতি পুরুষ ততই আকৃষ্ট হয়ে উঠছে। অর্নামেন্টস পুরুষের পেনিস থেকে স্পার্ম আউট করছেনা ঠিকই কিন্তু ব্রেন থেকে এক প্রকার সুখকর স্পার্ম সে অবশ্যই আউট করছে আর তা হলো ডোপামিন।।   শারীরিক সেক্সের পূর্বে প্রতিটি নারী পুরুষই একে অন্যের মস্তিষ্কের সাথে কেমিক্যাল সেক্স করে আর সেক্ষেত্রে প্রাণীদের শরীরের অর্নামেন্টসগুলো একটা বড় মাপের ভূমিকা রাখে। মূলত, অর্নামেন্ট মস্তিষ্কে ডোপামিন ক্রিয়েট করে, আর ডোপামিন প্লেজার ক্রিয়েট করে, আর প্লেজার থেকেই আমরা অন্যের প্রতি রোম্যান্টিক এটাচম্যান্ট ও বায়োলজিক্যাল সেক্স ফিল করি এবং তার সাথে DNA Exchange করতে চাই। আর প্রকৃতিতে প্রায় প্রতিটি প্রাণী অচেতনভাবে এ এলগোরিদম বহন করছে, সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য, প্রতিযোগীদের অতিক্রম করে, নিজের স্পার্মকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য, জিনের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য। বিশেষ বিশেষ পরিবেশ ও পরিপার্শ্বিকতায় ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনীয় চাপে তাদের মধ্যে এ অর্নামেন্টসগুলো বিবর্তিত হয়। রিচার্ড ডকিন্স তার Greatest Show on Earth গ্রন্থটিতে অর্নামেন্টসের বিবর্তন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় অপচয় করেছেন।     মূলত, এ অর্নামেন্টসগুলো এক একটি সিগনাল যা Good gene এর বিজ্ঞাপন প্রচার করে। কারণ প্রকৃতিতে দূর্বল বৈশিষ্ট্যের কোন জিন সার্ভাইভ করতে পারেনা। আর এ জন্যই এ ধরণের অর্নামেন্টসগুলো যার মধ্যে যত বেশি উন্নত তাদের প্রতিই তাদের সঙ্গী বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। আর ঠিক এ কারণেই আমরা এলোপাতাড়ি সবার প্রতি সেক্স অনুভব করিনা। জিনের উদ্দেশ্য জিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, আর এ জন্য আমাদের উচিত ছিল, সবার সাথে বাচবিচারহীন লাগাতার সেক্স করতে থাকা। কিন্তু প্রাক্টিক্যালি তা হয়না, আমরা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির উপর আকর্ষণ অনুভব করি ও সম্পর্ক স্থাপন করি। আমাদের আবেগ অনুভূতি নির্দিষ্ট, একজন পিলেন্ডার্স বা পলিগেমাস পুরুষেরও নির্দিষ্ট কিছু পছন্দ থাকে। আর এই অর্নামেন্টস বা সৌন্দর্যই আমাদের মস্তিষ্কের পছন্দ ও অপছন্দের সীমারেখা ঠিক করে দেয়।   পুরুষ রেড ডিয়ারের রয়েছে বিরাট শিং যা তার সঙ্গীকে সিগনাল দেয় দেখো আমি কত শক্তিশালী! পাখিদের স্বর্গে রয়েছে সুন্দর সুন্দর পালক, কিছু কীট পতঙ্গের রয়েছে মাথা নষ্ট করে দেয়া রঙ, আর গানের পাখিদের রয়েছে সুন্দর সুন্দর গান! যে যত সুন্দর সুর তৈরি করতে পারে তার প্রতি সঙ্গী ততবেশি আকৃষ্ট হয়। যারা অপরিচিত কোন নারীর সাথে তাকে না দেখেই ফোন সেক্স করেছেন শুধু তার গলার ত্যাজ ও সতেজতায় আসক্ত হয়েই এ কাজটি করেছেন বলে আমি মনে করি। কারণ একটি মেয়ের বয়স যত কম হবে, তার দেহ যত কচি হবে তার গলার ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে ততবেশি মাধুর্য কাজ করবে যা আপনার মস্তিষ্কের ডোপামিন সার্কিটকে ট্রিগার করতে শুরু করবে এবং আপনি বলবেন, তুমি সুন্দর ।


নারী ও পুরুষের কন্ঠস্বরের সেকচুয়াল সিলেকশনে অনেক বড় একটা অবদান রাখে। আমি মনে করি, সঙ্গীতও সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার একটি জেনেটিক লজিক, গানের পাখির মতোই সেকচুয়াল সিলেকশনে সঙ্গীতেরও একটি বড় অবদান রয়েছে। আর যে সকল নারীর কন্ঠ যত সুন্দর হবে, তার সেক্সি হওয়ার সম্ভাবনাও ততবেশি কারণ হয়তোবা তার মধ্যে ভালো কোন জিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বা সুন্দর গলার স্বর স্বাস্থ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।  এখন প্রশ্ন? সঙ্গীতের মাধ্যমেও কী আমরা কেমিক্যাল সেক্স করি? আমি বলবো, উত্তর, হ্যাঁ! কিন্তু মনে রাখতে হবে, অর্নামেন্টসের উদ্দেশ্য কেমিক্যাল সেক্স নয়, এর উদ্দেশ্য জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি! নারী মুয়ুর সে সকল পুরুষকে পছন্দ করে যাদের লেজের চোখের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু বড় লেজ শিকারী প্রাণী থেকে পালানোর ক্ষেত্রে একটি বড় মাপের বাঁধা। এত বড় লেজ নিয়ে শিকারি থেকে পালানোটা ময়ুরের জন্য দুস্কর হয়ে উঠে। এত বড় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেনো এটি বিবর্তিত হয়েছে, কেনো এই জঘন্য সৌন্দর্যবোধ? তার উত্তর ডারউইন পুরোপুরিভাবে দিতে পারেননি সে সময়। বিবিসি’তে Why have animals Evolved sense of beauty নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশ হয়, সেখানে ১৯৯৪ সালের একটি গবেষণার রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়, যে সকল ময়ুরের বড় লেজ রয়েছে তারা অনেক বেশি স্বাস্থ্যবান সন্তান জন্ম দেয়। অতএব দেখা যাচ্ছে, বড় লেজ ব্যক্তির জন্য অসুবিধাজনক হলেও বিবর্তনীয় ভাবে সুবিধাজনক, কারণ জিনের উদ্দেশ্য জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি, কোনো প্রজাতি বা ব্যক্তির নয়।  ১৯৮২ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যান্সি বার্লি জেব্রা ফিন্সেস নামক এক ধরণের পাখি আবিষ্কার করেন। এ পাখিগুলো রঙিন পালকের পোশাক পরিহিত । তিনি বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করেন, যে সকল পাখিদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কালার আছে তারা অন্যদের তুলনায় খুব সহযেই তাদের সঙ্গী খুঁজে পেতে পারে এবং তারা শিশুদের প্রতি অনেক যত্নশীল হয়। নারীরা রেড ব্যান্ডেস পুরুষ পছন্দ করে, যেখানে পুরুষরা পছন্দ করেন ব্লাক এন্ড পিঙ্ক ব্যান্ডেড নারী। এমনকি ল্যাবরেটরিতে এ পাখিগুলোর মধ্যে খুব দ্রুত নতুন এক সেট সেকচুয়াল অর্নামেন্টের বিবর্তন দেখা যায়।


২০০৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায় রিসাস ম্যাকাও সিমেট্রিক্যাল ফেচ প্রদর্শন করে যা অধিক ক্ষমতাবান সঙ্গীর নির্দেশ দিচ্ছে, মানুষের মতই। একইভাবে, নারী ওরাংগুটান বড় Cheek Pads সম্পর্ন পুরুষ পছন্দ করে। এর মানে হলো মানুষ ও তাদের অন্যান্য আত্মীয়রা তাদের চেহারাকে ব্যবহার করে দীর্ঘ সময়ের জেনেটিক কোয়ালিটির এডভার্টাইজ হিসেবে। অলিভ ফ্রুট ফ্লাইসরা সে সকল পুরুষকে পছন্দ করে যারা দ্রুত পাখা নাড়াতে পারে কিন্তু তারমানে এই না যে এটা তাদের কনসাস চয়েজ, তারা জানেনা কেনো তারা পছন্দ করে। সৌন্দর্যের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া হল সহযাত।   রিসাস মেকাওর মতো মানুষও সিমেট্রিক্যাল ফেচ এবং আদর্শ Waist-to-Hip রেশিও পছন্দ করে। বিশেষত নারীরা পছন্দ করে গভীর গলার পুরুষ। মুয়ুর পুচ্ছের মতই, এ বৈশিষ্ট্য স্বাস্থ্যের একটি সত্যিকারের মার্কার এবং এ বৈশিষ্ট্য সম্পর্নদের শরীর প্যারাসাইট প্রতিরোধী। এছাড়া এগুলো সিগনাল দেয় আমরা কতটা উর্বর। পুরুষদের আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য নির্দেশ দেয় তারা কতটা উচ্চমাত্রিক টেস্টাস্টোরন সম্পর্ন এবং নারীদের আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য পুরুষদের নিকট হায়ার ইস্ট্রোজেনের সিগনাল প্রেরণ করে। এ দুটি হর্মোনই উর্বরতার সাথে জড়িত। আমাদের পূর্বসূরিরাও কী ত্রুটিহীন সিমেট্রিক্যাল মুখ ও প্রমিন্যান্ট চেকবোন পছন্দ করতো? আমরা সেটা জানিনা কারণ তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছে! কিন্তু আমরা আমাদের নিকটবর্তী প্রাইমেট মেকাওয়ের ক্ষেত্রে এর সত্যতা পেয়েছি।   জেব্রা ফিন্সেসের শরীরের অবয়ব তার সঙ্গী পছন্দ করে কারণ তারা এভাবেই হার্ডওয়্যার্ড। ঠিক যেমন মানুষ নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য পছন্দ করার জন্য হার্ডওয়্যার্ড। যদি সৌন্দর্যের প্রতি আমাদের সহযাত প্রতিক্রিয়া কাজ না করতো, এবং সঙ্গীর জন্য যদি প্রতিযোগীতা না থাকতো তবে জীবন হয়ে উঠতো অসম্ভব। এক্ষেত্রে আমরা Frut Flies বা ড্রোসোফিলা মেলানোজেস্টার এর কথা বলতে পারি। এরা আসলে বাচবিচারহীনভাবে সেক্স করে বা Promiscuous! 2001 সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যখন পুরুষদেরকে ফোর্স করা একগামী হওয়ার জন্য যাদের শরীর ক্রমশ ছোট হয়ে যায় এবং স্পার্ম খুব উৎপাদন করে। একইভাবে যখন নারীদেরকে জেনেটিক্যালি একগামী হওয়ার জন্য মোডিফাই করা হয় তখন তাদের উর্বরতা ক্রমশ কমে যায়। এর মানে হলো, সেকচুয়াল সিলেকশন যদি না থাকতো, তবে সেক্সও একটা সময় বন্ধ হয়ে যেতো। এ আর্টিকেলটি Female response to experimental removal of sexual selection components in Drosophila melanogaster শিরোনামে BMC তে ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।   ডারউইন এ ব্যাপারে পুরোপুরিভাবেই সচেতন ছিলেন যে নারী ও পুরুষের সকল পার্থক্যের সাথে সেকচুয়াল সিলেকশন জড়িত নয়। কিন্তু আমরা কে কার সাথে ব্রিড করবো, এই যে এই শ্বাশত দ্বন্ধ, এ দ্বন্ধের একমাত্র ব্যাখ্যাই হলো এ সকল অদ্ভুত অলঙ্কার, যার মধ্যে মানুষের লিঙ্গও জড়িত রয়েছে। মানুষের রয়েছে অনেক বড় পেনিস, পুরুত্বের দিক থেকে আর অন্যান্য প্রাইমেটদের ক্ষেত্রে এটি নির্ভর করে দৈর্ঘের উপর। আর এ ভিন্ন ভিন্ন সম্পত্তি তৈরি হয়েছে সেকচুয়াল সিলেকশনের কারণেই। হেলেন ফিশার বলেন, পুরুষের পুরুত্ব সম্পর্ন পেনিস Emerged হয়েছে বিবর্তনের মাধ্যমে কারণ লুসি, তার অন্যান্য নারী পূর্বসূরী এবং তাদের গার্ল্ডফ্রেন্ড হয়তো মোটা পেনিস পছন্দ করতো। তিনি বলেন, Lucy’s Female ancestors and their Girlfriends liked thick Penis!


ভ্যাজিনাল কেনেলের উপরের তিন ভাগ এ চর্বিযুক্ত লিঙ্গ ফুলিয়ে তোলে এবং ক্লাইটোরিসের অবগুণ্ঠন ধরে টান দেয়, ফ্রিকশন তৈরি করে আর এতে করে দ্রুত অর্গাজম অর্জন করা যায়। এবং অর্গাজমের পরপর নারীর সার্ভিক্স বা জরায়ু স্পার্মগুলো Suck করে খেয়ে ফেলে এবং গর্ভে নিয়ে যায় আর প্রেগন্যান্সির সুযোগ তৈরি করে দেয়। ফিশার বলেন, আর এ জন্য লুসির সময় যে সকল পুরুষের মোটা পেনিস ছিল, সে সকল পুরুষ অনেক বেশি স্পেশাল ফ্রেন্ড তৈরি করতে পারতো ও তাদের ছিল বেশি বেশি এক্সট্রা লাভার। এ পুরুষরা সম্ভবত অনেক শিশু জন্ম দিতে পারতো। আর এভাবেই মোটা পেনিস বিবর্তিত হয়। ডারউইন নারীদের এ আসক্তিকে বর্ণনা করেছেন, The Power of charm has Sometimes been more important than the power to conquer other males in battle.


আজ থেকে ৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্বে লুসি ও তার অন্য Girlfriend বা বান্ধবীরাই আমাদের পূর্বসূরী অস্ট্রোলোপিথদের পেনিস পছন্দ করেছে। যদি সে সময় তারা আমাদের পূর্বসূরীদের পেনিসের আকার পছন্দ না করতো তবে সে সব পুরুষ তাদের জিনকে ভবিষ্যতে পাঠাতে পারতোনা, আর জন্ম হতোনা আজ আমাদের, আধুনিক পেনিসগুলো। অতএব পুরুষের পেনিস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই কারণ এ পেনিস ৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্বে লুসির মস্তিষ্কে পাস করে সার্টিফিকেট আদায় করতে পেরেছিল বলেই কিন্তু আমরা আজ পুরুত্বসম্পন্ন পেনিস পেয়েছি কিন্তু তারপরও পুরুষ তার পেনিসের আকার নিয়ে আতঙ্কিত সে সবসময় ভয়ে থাকে, আমি হয়তোবা তার মস্তিষ্ককে সন্তুষ্ট করতে পারবোনা, আমি হয়তো তার যৌনিতে সঠিক ফ্রিকশন তৈরি করতে পারবোনা! পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই পুরুষদের মধ্যে সার্বজনীন একটি আতঙ্ক কাজ করছে? পুরুষ মনস্তাত্ত্বিকভাবে দূর্বল! সে নারীর যৌনিকে ভয় পায়! কিন্তু কেনো? কে ব্যাখ্যা হতে পারে এ আতঙ্কের?

স্পার্মওয়্যার




11 verrückte Sex-Vorlieben von Männern | MEN'S HEALTH



পুরুষের পেনিসের আকার, গড়ে ৫ ইঞ্চি লম্বা। গরিলার তুলনায় এটি অনেক বিরাট, একটি প্রাইমেট যার দেহ মানুষ থেকে তিনগুণ বড়। গরিলাদের পেনিস ছোট কারণ তারা আসলে যৌনির জন্য প্রতিযোগিতা করেনা। এরা স্থিতিশীল হারেমে বাস করে। পুরুষরা নারীর তুলনায় দ্বিগুণ বড়। নারীরা পুরুষদের তাদের যৌনির বিশালতা দিয়ে আকৃষ্ট করেনা, তারা আকৃষ্ট করে শরীরের আয়তন দ্বারা। উত্তেজিত অবস্থায় গরিলার পেনিসের আকার ১ থেকে ২ ইঞ্চি লম্বা হয়। Gray and Garcia 2013 সালে এ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। পুরুষ শিম্পাঞ্জিরা যখন একজন নারীর দিকে তাকায়, পা ছড়িয়ে, এরেক্ট পেনিস প্রদর্শন করে এবং আঙুল দিয়ে তাদের লিঙ্গ স্পর্শ করে। একটি পুরুষের ৩ ইঞ্চি লম্বা স্বতন্ত্র একটি পেনিস নারীটির কাছে পুরুষটির স্বতন্ত্রতা ও শক্তি প্রকাশ করে, যা শিম্পাঞ্জিকে আকর্ষণ করে। সম্ভবত আমাদের পূর্বসূরীরাও নারীদেরকে আকর্ষণ করতে এভাবেই পা ছড়িয়ে তাদের পেনিস প্রদর্শন করেছিলেন।   কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষের পেনিস কেনো এত বড়?    এ নিয়ে ১৯৯০ সালের ২ এপ্রিয় JSTOR জার্নালে Animal Genitalia and Female Choice শিরোনামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। সেখানে Sperm Competition থিউরি নামক একটি থিউরি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ থিওরির মূলকথা হলো, ইকোসিস্টেমের একটি প্রাণী যেমন টিকে থাকার জন্য একে অন্যের সাথে কম্পিটিশন করে ঠিক তেমনি স্পার্মের মধ্যেও কম্পিটিশন হয় আর সে জন্যই পুরুষের পেনিস বড় হয়ে যায়। এটাকে বলে Sperm War! তিনি এ তত্ব প্রদান করেন, Female insect এর জীবন পর্যবেক্ষণ করে। এরা খুবই বাচবিচারহীন। যার তার সাথে যখন তখন সেক্স করে বসে। তারা কয়েকজন পার্টনারের সাথে সহবাস করে, আর এক একজনের স্পার্মকে যৌনির ভেতর কয়েকদিন থেকে কয়েকমাস আটকে রাখে। আর এ জন্য একজন পুরুষের স্পার্ম আর একজনের সাথে যুদ্ধ করতে হয়।  একপ্রকারের ফড়িং আছে যাকে বলে Damselflies। এরা নারীর যৌনি থেকে পূর্বের সদস্যের স্পার্ম স্কুপ করে বের করে দেয় আর তারপর বীর্যপাত করে। পুরুষ পতঙ্গরাও এ কাজটি করে থাকে। আর হয়তো এ জন্যই পুরুষের পেনিসও বড়।   মূলত, আমরা আগেই জেনেছি জিন স্বার্থপর। আপনি আপনার ভাই আপনার ৫০ ভাগ জিন ধারণ করে, জেনারেশন ডিস্টেন্স যত বৃদ্ধি পায়, ততই আপনার উত্তরসূরীর সাথে আপনার জিনগত ডিস্টেন্স বেড়ে যায়। আপনার ভাই, বোন, মা, বাবার শরীরেও আপনার জিন আছে, আর এ জন্য আপনি তাদের ভালোবাসেন কিন্তু আপনার শরীরে আপনার ১০০ ভাগ জিন আছে, যে জন্য আপনি মহাবিশ্বের সকলকিছুর থেকে নিজেকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, আর এ কারণে আপনার প্রতি আপনার একটা পক্ষপাত রয়েছে। জিন যেহেতু Selfish সেহেতু সে চাইবেনা অন্য কোন পুরুষের জিন আপনার পার্টনারের যৌনিতে প্রবেশ করুক। আপনার ভাই যদি আপনার সঙ্গীর সাথে সেক্স করে আপনি ততবেশি রাগান্বিত হবেননা কারণ তার দেহে আপনার ৫০ ভাগ জিন আছে, এ জন্য তার প্রতি একটা মায়া কাজ করবে। আপনার বোনের সাথে যদি আপনি সেক্স করতে চান সে আপনার প্রতি অসন্তুষ্ট হবে কিন্তু আপনার প্রতি কঠোর কোন আচরণ করবেনা কারণ আপনার শরীরে তার ৫০ ভাগ জিন আছে, শুধু তাই নয় আপনার বাবাও যদি আপনার স্ত্রীর সাথে সেক্স করে আপনি হয়তো তার প্রতি সম্মান হারাবেন কিন্তু একেবারে ফেলে দিতে পারবেননা, আমার এক বন্ধু তার আপন মায়ের শরীরের উপর রাতের অন্ধকারে মাস্টারবেট করে সিমেন্স আউট করেছে, তার মা অনেক কান্নাকাটি করে কিন্ত সন্তানের প্রতি তার মায়া মমতা আগের মতোই আছে । বিবর্তনীয়ভাবেই আমরা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সেক্স ফিল করিনা কারণ সিমিলার জিন জিনের ভেরিয়েশন তৈরি করেনা।    কিন্তু যাদের সাথে আমাদের জিনগত সম্পর্ক নেই তাদের কেউ যদি আপনার সঙ্গীর যৌনিতে স্পার্ম রাখে তবে আপনার জন্য জিনগত কোন উপযোগ নেই। আপনার ভালোবাসার মানুষের গর্ভে অন্যের জিন প্রবেশ করলে আপনার জিন নিজেকে পরবর্তী প্রজন্মে পাঠাতে পারেনা। আমাদের পূর্বসূরী নারীরা হারেম ও হর্ডে বাস করতো। আর এ জন্য একজন নারী অজস্র পুরুষের সাথে সেক্স করতো এবং সম্ভবত, পতঙ্গদের মতোই ঐ স্পার্ম অনেকদিন তার যৌনিতে ধরে রাখতে পারতো, এটা ছিল একজন পুরুষের জন্য রিস্ক ফ্যাক্টর, কারণ প্রতি পুরুষের জিনই এক্ষেত্রে একটা রিস্কের মধ্যে পতিত হচ্ছে, আর এ জন্যই এখানেও একটা Sperm War কাজ করে ।      যে সকল পুরুষের পেনিস মোটা ও পুরুত্ব সম্পর্ণ ছিল তারা ডামিসেলফ্লাইসের মতো তার সঙ্গীর যৌনির ভেতর থেকে প্রতিযোগি পুরুষদের সিমেন্সকে বের করে দিতে চেষ্টা করে। যেহেতু সেক্স একটি যুদ্ধ, Sperm War, আর পেনিস হলো যুদ্ধের অস্ত্র। এ জন্য যোদ্ধারা তাদের অস্ত্রের ক্ষমতা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকে, আতঙ্ক কাজ করে আর এ আতঙ্ক থেকেই পুরুষ নারীর যৌনির ভেতর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট স্ট্রোক করে। যদিও প্রথম প্রথম ৩০ সেকেন্ড ৫ মিনিটের ভেতর Sperm আউট হয়ে যায়। যে পুরুষ যত ভালো স্লাইডিং করতে জানে, সে পুরুষই নারীকে পরিপূর্ণ অর্গাজম দিতে পারে, আর অর্গাজমের সময় নারীর যৌনি থেকে যে জল বের হয়, সে জলের সাথে সাথে অন্য পুরুষের স্পার্মও বের হয়ে যায় ও বড় পেনিস ও দক্ষ Fucker এর জিন তার জরায়ুর ভেতর দিয়ে ডিম্বাশয়ে চলে যায়।


যদি পুরুষের পেনিস ছোট হতো তবে, তারা প্রতিযোগীদের স্পার্মকে বের করতে পারতোনা। আর এ জন্যই প্রকৃতিতে পুরুষের বড় পেনিস বিবর্তিত হয়েছে, যেটা শিম্পাঞ্জি ও গরিলাদের নেই!


পুরুষরা সাধারণত Fuck করে আর নারীরা গ্রহণ করে, ও কান্না জড়ানো কন্ঠে শিৎকার করে, পুরুষের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম ট্রিগার হয়, ও সে আরো জোরে জোরে স্লাইডিং করে, অনেক সময় নারীর গলার আওয়াজ শুনলে পুরুষের পেনিস থেকে সাথে সাথে স্পার্ম বেরিয়ে যায়, তাদের গলার স্বর এতটাই যৌন উত্তেজক। মূলত, নারীরা এ প্রক্রিয়ায় পুরুষের গায়ের জোরও পরীক্ষা করে নেয়। আর এভাবে সে বুঝতে পারে, এ পুরুষটি ভবিষ্যতে তাকে ও পরিবারকে রক্ষা করতে পারবে কিনা! সেক্সের সময়ই নারী ও পুরুষের মধ্যে শক্তি ও মানসিকতার পরিচয় ঘটে থাকে। এর আগে তারা একে অপরকে পুরোপুরি বুঝতে পারেনা!     জিনের উদ্দেশ্য যদি জিনের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়, তবে কেনো পুরুষ নারীর যৌনিতে স্পার্ম সরাসরি ইজেক্ট করছেনা? কেনো অনর্থক সময় নষ্ট করছে? কেনো কয়েক ঘন্টা যাবত সে এত পরিশ্রম করছে? আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি, এটা একটা যুদ্ধ, সে মূলত যুদ্ধ করছে, যাতে নারীর যৌনি থেকে অন্য পুরুষের স্পার্ম বের করে দেয়া যায়। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, আমি তো আগে কারো সাথে সেক্স করি নি! আসলে ব্যাপারটাকে এভাবে ভাবা যাবেনা, এটাকে ভাবতে হবে আজ থেকে ৫-৬ মিলিয়ন বছর পূর্বের প্রেক্ষাপটে, আমাদের প্রাইমেটরা যখন হারেম ও হর্ডে বাস করতো! আর নারীরা অজস্র পুরুষের সাথে সেক্স করতো। আমাদের মস্তিষ্কের এ প্রবণতা বা হার্ডওয়্যার ঠিক তখনই Evolve হয়েছে! আর এ জন্যই পুরুষ সবসময় আতঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত। আর এছাড়া অনেক পুরুষের সাথে সেক্স করার ফলে, আমাদের অতীতের নারীদের অর্গাজম জটিল হয়ে যায়, , নারীর সেক্স বেড়ে যায়, যদি তারা সেক্সি না হতো তবে এত পুরুষের সাথে সহবাস করতে পারতোনা, মূল্যবান রিসোর্স হারাতো । পুরুষের চেয়ে নারীর অর্গাজম অনেক দীর্ঘতর। এর কারণ এটাই যে আজ থেকে ৩-৪ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের আদিম নারীরা অনেক পুরুষের সাথে সেক্স করতো, যদি তাদের যৌনির সব তরল পুরুষের মতো তাড়াতাড়ি নির্গত হয়ে যেতো, তবে এতগুলো পুরুষকে তার পক্ষে ম্যানেজ করা সম্ভব ছিলনা, আর এ জন্য নারীরা তাদের সকল তরল একসাথে বের করে দেয়না, সেটাকে অজস্র খন্ডে ভাগ করে ফেলে। আর এ জন্য পুরুষের স্পার্ম নির্গত হওয়ার পরও নারী অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাদের কষ্ট হয়।      অনেক পুরুষ প্রথমে নারীর যৌনিতে Suck করে, তার শরীর স্টিমুলেট করে আর তারপর তারা ফাইনালি স্লাইডিং এর দিকে যায়। অনেক নারী প্রথমে পুরুষের পেনিস Suck করে প্রাথমিক স্পার্মগুলো বের করে দেয়। এরপর সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার পর পুরুষটি ঠান্ডা মাথায় আবার প্রথম থেকে শুরু করে! নারীর শরীর মিলিয়ন মিলিয়ন বছর অতীতের একটি বিবর্তনীয় অভিযোজন বহন করছে যা নারীর মাঝে অসম্পূর্ণ আবেগ ও অতৃপ্তি বাড়িয়ে দেয় যা মিলিয়ন বছর পর আজও তাদেরকে মানসিকভাবে অশান্তিতে ফেলে দেয়। মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্বের বহুগামীতার সে মেমরি তার জিনে রয়ে গেছে। সমাজ এখন তাকে বহুগামীতা করতে দেয়না। অন্যদিকে একজন পুরুষও তাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারছেনা! পর্ণ ও ড্রাগে আসক্তি পুরুষের যৌন ক্ষমতা দূর্বল করে দেয়। নারীর জন্য এটা কত বড় মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক সংকট তা সমাজ ও রাষ্ট্র ভেবে দেখেনা !   কিন্তু এ দোষ কার? কেনো এ দায় সম্পূর্ণভাবে পুরুষের উপর উঠে ! আদিম নারীরা কী সাধু সন্নাসী ছিল? তাদেরকে কি পুরুষরা বহুগামীতা করতে জোরজবরদস্তি করেছিল? এর উত্তর সম্ভবত, না! মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্বে নারীর জন্য বহুগামীতাই টিকে থাকার জন্য উপযোগী ছিল তবে কিছুকিছু ক্ষেত্রে এ জন্য যে পুরুষও যে দায়ী ছিল না তা কিন্তু একদম ঠিক নয়! কারণ সেলফিশ জিন দ্বারা তাড়িত সে অজ্ঞ ও অশিক্ষিত পুরুষরা অনেক সময় নারীদেরকে সেক্সের জন্য থ্রেট প্রদান করতো এবং তাদের সন্তান হত্যা করার চেষ্টা করতো! তসলিমা নাসরিনের অনেক লেখায় অতৃপ্ত যৌন আকাঙখার এ আক্ষেপ ফুটে উঠে ! বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ না জানার ফলে অনেকের মাঝেই তীব্র বিতর্ক ও মতানৈক্য সৃষ্টি হয় এ ব্যাপারে। যার ফলে এদের কেউই আসলে একে অপরের সাথে সঠিক আন্ডারেস্টেন্ডিং ক্রিয়েট করতে পারেনা!

কিন্তু পুরুষ কেনো পেনিস নিয়ে অনর্থক আতঙ্কিত? এর জেনেটিক্যাল লজিক? এক্ষেত্রে আমার হাইপোথেসিস হলো, পুরুষ তার পেনিস নিয়ে বিবর্তনীয়ভাবে একটি বিশেষ কারণে আতঙ্কিত হতে পারে। মূলত, নারীর যৌন ক্ষমতা পুরুষের চেয়ে অনেক বেশি, তাদের অর্গাজম অত্যন্ত জটিল, অতএব একটা সম্ভাবনা থেকেই যায় যে নারী অন্য কোন পুরুষের সাথে হয়তো পূনরায় সহবাস করবে! বিবর্তন নারীর যৌনিতে প্রদান করেছে অসম্পূর্ণতা আর পুরুষের মস্তিষ্কে জাগিয়ে দিয়েছে আতঙ্ক। আর এ দুটো পরস্পরে বিরোধী ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় মানব মন হয়ে উঠেছে খুবই জটিল ও আনপ্রেডিক্টেবল, তার চিন্তা হয়ে উঠেছে ডায়নামিক, অস্থিতিশীল ও সৃষ্টিশীলও।

এলান ডিক্সোন, তার ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার প্রকাশ করেন। তিনি দেখেন, যে সকল প্রাইমেট বিশাল কমিউনিটিতে বাস করে তাদের কয়েকজন পুরুষের বড় পেনিস দেখা যায় এবং নারীদের মধ্যেও দেখা যায় বড় পেনিসের প্রতি আসক্তি। কিন্তু সেখানে পুরুষরা One-Male Unit এ বাস করে তাদের বডি সাইজের তুলনায় পেনিস ছোট। মানুষ শিম্পাঞ্জি ও গরিলাদের থেকে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম তার কারণ তারা One-Male Unit এ বাস করা সত্ত্বেও তাদের পেনিস বড়। কিন্তু যখন প্রাইমেটদের পেনিসের বড় স্যাম্পলগুলোর সাথে মানুষের পেনিসকে তুলনা করা হয়, দেখা যায়, তাদের পেনিস ওদের তুলনায় আকারে ছোট! তাহলে আমরা কি বুঝলাম? একবার কল্পনা করুন, অর্দি ও লুসির কথা! তাদের ক্যানাইন দাঁতগুলো ছোট হয়ে যাওয়ার পর এনথ্রোপোলোজিস্ট লাভজয় সিদ্ধান্তে এসেছিলেন, তারা এখন তার হারেম ও হর্ডে বাস করেনা, তারা এখন একগামী কারণ তারা যদি হারেমে বাস করতো, তবে তাদের দাঁত হতো আরো বড় যা তারা প্রতিযোগি পুরুষদের আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করতো নারীর যৌনি পাওয়ার জন্য। যেহেতু তাদের সে দাঁতগুলো এখন ছোট, তার মানে এখন তারা হারেমে বাস করেনা, তারা এখন একগামী। যদি বড় গ্রুপে বাস করার কারণে প্রাইমেটদের পেনিসও আমাদের তুলনায় বড় হয়, আর আমাদের পেনিস সে বড় বড় পেনিসের তুলনায় ছোট হয়ে থাকে তবে এর মানে কী এই নয় যে আজ থেকে ৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্বে আমরা One-male Unit এ বাস করতাম? যা Pair-bond এর আরো একটি দৃষ্টান্ত?? হেলেন ফিশার বলেন, হয়তোবা! আমাদের পেনিস একগামীতার ফলে ছোট হয়েছে ঠিকই কিন্তু আমরা এখনো নারীর যৌনিতে পেনিস দিয়ে স্ট্রোক করি, কারণ আমরা এখনো জিনগত একটি স্মৃতি দ্বারা পরিচালিত যে হয়তোবা নারীর যৌনিতে একটা কিছু রয়ে গেছে।



পুরুষের অন্ডকোষ ছোট কেনো?

 

যুগল ভালোবাসার সম্পর্কের সাপেক্ষে আরো একটি প্রমাণ হলো পুরুষের গড় টেস্টিকলস বা অন্ডকোষের আকার। এ ফিচারটি জানা গেছে শিম্পাঞ্জি ও গরিলাদের টেস্টিকোল গবেষণা করে। পুরুষ শিম্পাঞ্জিদের শরীরের টেস্টিকোল অনেক বড়। আর এটা ভাবা হয়ে থাকে যে, তারা এ ফ্যাক্টরি স্পোর্ট করে কারণ নারী শিম্পাঞ্জি বহুগামী( Promiscuous ) । তাই পুরুষদের মধ্যে অনেক বেশি প্রতিযোগিতা হয়,  যার কারণে  পুরুষরা তাদের অন্ডকোষে প্রচুর স্পার্ম জমা করে রাখে। কোয়ান্টিটি এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গরিলাদের টেস্টিকোল অনেক ছোট, সম্ভবত তারা অনিয়মিত সহবাস করতো এবং পুরুষদের মধ্যে কম্পিটিশন অনেক কম ছিল। (Short 1977; Moller 1988; Lewin 1988d.)]  মানুষের অন্ডকোষের যে এভারেজ আকৃতি তা তাদের ডুয়েল হিউম্যান রি-প্রোডাক্টিভ স্ট্রাটেজির প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা আগেই জেনেছি, আমাদের পূর্বসূরি অস্ট্রোলোপিথরা একইসাথে যুগল প্রেম ও গোপন পরকিয়ার সম্পর্কে জড়িত হতো। আমাদের পূর্বসূরীদের মধ্যে গরিলাদের তুলনায় অধিক স্পার্ম কম্পিটিশন কাজ করতো কিন্তু আমাদের নিকটবর্তী গরিলাদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। (Baker, 1996 Rapid decreases in relative testes mass among monogamous)



৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্বে সর্বপ্রথম যখন যুগল প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন প্রতিযোগী পুরুষের সংখ্যা কমে যায় আর যার কারণে পুরুষের অন্ডকোষ যে স্পার্ম তৈরি করতো সেটা ছিল অত্যন্ত নিন্মমাণের ও অস্বাভাবিক। আর পুরুষের স্পার্ম সংগ্রহ করার যে রিজার্ভর বা পাত্র সেটা ক্ষুদ্র হয়ে যায়। (Dixon 2009)। শিম্পাঞ্জি ও অন্যান্য বহুগামী প্রাইমেটের স্পার্ম দূর্বল ছিলনা, সেগুলোর কোয়ালিটি খারাপ ছিলনা, যদি তাই হতো তবে তারা এ যুদ্ধে পরাজিত হতো, আর অন্য কোন পুরুষের স্পার্ম নারীর যৌনি দখল করে নিতো। কিন্তু হেলেন ফিশার বলেন, Males of Monogamous Species can afford to have fewer, poorer sperm, as well as less reserve



কিন্তু আমরা যদি বিবর্তনীয় অতীতের ভিত্তিতে চিন্তা করি তবে দেখি যে আমাদের পূর্বসূরি একগামী ছিল, যদি তাই হয় তবে তাদের আজ যত বেশি স্পার্ম তৈরি হয় তা হওয়ার কথা ছিলনা। কিন্তু কেনো? সম্ভবত ৩.২ মিলিয়ন বছর আদিম পূর্বসূরি নারীরা, সে সময় থেকেও মিলিয়ন বছর অতীতের স্মৃতি ভুলতে পারেনি, তারা মনস্তাত্বিকভাবে তখনও লিঙ্গের সাইজ ও শেপ দেখেই সেটি পছন্দ করতো। তারা ঝুলন্ত অন্ডকোষের পুরুষদেরকেই নিজের মনেরই অজান্তে পছন্দ করে বসেছিল। আর এ জন্য তাদের অন্ডকোষ অপেক্ষাকৃত বড় ও মোটামুটি ভালোই স্পার্ম ক্রিয়েট হয় (Gray and Garcia 2013,183)   উপরোক্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে আমরা পুরুষের মনস্তত্ব সম্পর্কে একটি নিগুঢ় সত্য অনুধাবন করতে পারি। কেনো পুরুষরা একবার সেক্স করার পর পরই ক্লান্ত হয়ে যায়! আর নারীরা একইসময় একইসাথে কয়েকবার সঙ্গম করতে পারে! মূলত, একগামী জীবনে প্রবেশ করার পর, পুরুষের অন্ডকোষের উপর চাপ কমে যায়, তাদেরকে এখন বিপুল পরিমাণ স্পার্ম জমা করে রাখতে হয়না যা ছিলো প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষের বিপক্ষে অস্ত্র! প্রতিদ্বন্দ্বী কমে যাওয়ার ফলে তাদের স্পার্মের প্রোডাকশনও কমে গিয়েছিল। আর তাই তারা একবার সহবাস করলেই এখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু নারীরা এমনিতেই পুরুষের মতো আগ্রাসী ছিলনা, আর তাদের কোন স্পার্মও জমা করে রাখতে হতোনা। তাই তাদের অর্গাজমের জটিলতা পূর্বের মতোই রয়ে গেলো!    এ জন্যই পুরুষের স্পার্ম যখন সম্পূর্ণ বেরিয়ে যায় নারীর তরল তখনও পুরোপুরিভাবে বেরিয়ে আসেনা। কারণ নারীর মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন, অক্সিটোসিন ও ভেসোপ্রেসিন পুরোপুরিভাবে রিলিজ হয়না। সেক্সের পর পুরুষের ব্রেন ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত হয়ে উঠে। তার মস্তিষ্কের ডোপামিন, ভেসোপ্রেসিন অথবা অক্সিটোসিন ইত্যাদি নিউরো-ট্রান্সমিটার রিলিজ হয়ে যাওয়ার ফলে প্যারাসিম্পেথেটিক নার্ভাস সিস্টেম একটিভেট হয়ে উঠে। এ জন্য সেক্সের পরপরই সে নারী বিমূখ হয়ে যায়, তার মধ্যে Sense of attachment ও Sense of Attraction কাজ করেনা।  আর এদিকে বেচারি নারীর মস্তিষ্কে আগের মতোই এটাচম্যান্ট কাজ করছে। তাই সে পুরুষটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে রাখতে চায়, তার সাথে অন্তত কিছুক্ষণ সময় অন্তরঙ্গ ভাবে কাটাতে চায়। কিন্তু পুরুষটির ইচ্ছাশক্তি দূর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে সে আর চাইলেও আন্তরিক হয়ে উঠতে পারেনা। এর ফলে সম্পর্কে ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হয়। নারীরা পুরুষদের অনেকক্ষেত্রে ভুল বোঝে, তারা ভাবে তাদের স্বামী প্রবণতার দাস, দেহলিস্পু, ভোগবাদী , দেহের লোভ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন তার স্বার্থপরতা সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে গেছে, সে আসলে আমার মনই বুঝতে পারেনি! পুরুষদের মনস্তত্ব না বুঝে এ পৃথিবীতে অজস্র নারীর মধ্যে তাদের সম্পর্কে বিকৃত এক মনস্তত্ব তৈরি হয়েছে! তার বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্যগুলো তার ইচ্ছাশক্তির উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে! আর বার বার প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান সবকিছু এক্সপ্লেইন করতে পারেনা, সেলফিশ জিন আমাদের সকল আবেগ অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারনা! ফান্ডামেন্টালি বিবর্তন সম্পর্কে কোন ধারণা না রেখেই ঢালাওভাবে পুরুষের উপর তুলে দেয়া হয়েছে শত শত অপমান, পুরুষ চরিত্রটাকে করে তোলা হয়েছে কলঙ্কিত! পুরুষের কাছে নারী যেমন এক অন্তহীন অন্ধকারের নাম, ঠিক তেমনি নারীও বোঝেনি পুরুষের মন! 

পরের অংশটি পড়ুন- স্পার্মওয়্যার এন্ড অর্গাজম

hsbd bg