স্পার্মওয়্যার এন্ড অর্গাজম

নারীর ব্রেস্ট এত বড় হলো কেনো?


পুরুষ পুরুষের সাথে যুদ্ধ করে আর নারী শুধু পছন্দ করে! টেলিভিশনে প্রেম সংক্রান্ত প্রায় সব মুভিতেই এটা অত্যন্ত সাধারণ একটি প্যাটার্ন! হিরো সবসময় গুন্ডাদের সাথে যুদ্ধ করে জয় লাভ করে আর হিরোয়িন তারই প্রেমে পড়ে। জিনের দৃষ্টিতে সব পুরুষই এক একটি সার্ভাইভাল মেশিন। কিন্তু পরাজিতরা সবসময় গুন্ডা, অসভ্য বা মস্তান হিসেবেই বিবেচিত হয়ে এসেছে! নারীর চোখে সেই হিরো যে  জয়লাভ করে! চলচিত্রে কোনদিন কোন পরাজিত হিরোকে নারী পছন্দ করেছে বলে ইতিহাসে লিখা আছে কি? মূলত, পুরুষরা একে অন্যের সাথে মারপিট করে ব্রিডিং করার জন্য আর অন্যদিকে নারীরা তাদের ভালোবাসার মানুষ নির্বাচনে খুবই খুঁতখুঁতে! (Darwin 1871; Bateman1948, Triver 1972) এটি একটি জেনেটিক লজিক। বিভিন্ন প্রজাতির নারীর মধ্যে Reproduction এর খরচ অনেক বেশি। নারী একটি ভ্রুণ গর্ভধারণ করে। একটি ফিটাসের জন্য, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস একে একে যোগ করে এবং বছরের পর বছর শিশুটিকে লালনপালন করে।আর এ জন্য নারীরা পুরুষ নির্বাচনে খুবই সাবধানী, ব্রিডিং করার জন্য নারীর অজস্র সুযোগ নেই, একটাই সুযোগ! অন্যদিকে পুরুষরা লাগাতার একের পর এক নারীকে প্র‍্যাগন্যান্ট করতে পারে! আমাদেরকে এ ব্যাসিক তারতম্যটি বুঝতে হবে! অধিকাংশ আধুনিক নারী ও পুরুষ এ তারতম্যটিকে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ অন্ধভাবে!   অজস্র প্রজাতির পুরুষদের মাঝে প্রজনন তেমন একটা ব্যায়বহুল না। পুরুষরা শুধুমাত্র স্পার্ম ডোনেট করে। পুরুষরা ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তান জন্ম দিতে পারে যতক্ষণ না অন্য কোন প্রতিযোগীদের সাথে তার যুদ্ধ হচ্ছেনা, সে নারীদের আকৃষ্ট করে এবং যৌন ক্লান্তি সহ্য করে। অতএব বৈষম্যমূলকভাবে সেক্স করা পুরুষের জন্য প্রজননগত দিক থেকে সুবিধাজনক। পুরুষরা তাদের অজস্র সময় ও মেটাবোলিক এনার্জি অপচয় করে কোর্টশিপ করার জন্য। যেটাকে “Mating Effort” বলে আর নারীরা তাদের অজস্র সময় ও মেটাবলিক এনার্জি অপচয় করে, একটি শিশুকে লালন, পালন করার জন্য যেটাকে বলা “Parenting Effort”!   প্যারেন্টিং ইনভেস্টমেন্টের তারতম্যের কারণে, পুরুষরা পুরুষের সাথে প্রতিযোগীতা করতেই থাকে, আর নারী শুধুমাত্র দুজন পুরুষের মধ্যে অধিক আকর্ষণীয় জনকে নির্বাচন করে। কিন্তু সেকচুয়াল সিলেকশনের একটি অলটারনেটিভ ফর্ম রয়েছে।। একজন নারীও অন্য নারীর সাথে ব্রিডিং এর জন্য প্রতিযোগিতা করতে পারে আর পুরুষ দুজনের মধ্যে অধিক আকর্ষণীয় একজন নারীকে পছন্দ করবে। আমাদের বর্তমান সময়েও এর দৃষ্টান্ত দেয়া যাবে। আপনি বার অথবা ক্লাব অথবা পার্টিতে যান। সেখানে নারীরাই একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে নিজেকে যোগ্যতর প্রমাণ করার জন্য। H.L Mencken বলেন, “When Woman kiss it always one of prize fighter shaking hands.”   প্রকৃতপক্ষে, পুরুষে পুরুষে প্রতিযোগীতার ফলে যেমন শিম্পাঞ্জির পেনিস ও অন্ডকোষ বড় হয়ে যায়, নারী ও নারীর প্রতিযোগিতার ফলে তাদের ব্রেস্ট চিরস্থায়ীভাবে বড় হয়ে উঠে। কারণ বড় ব্রেস্টের মধ্যে সন্তানের জন্য নিউট্রিশন বেশি থাকে! আর একজন পুরুষ দুজন প্রতিযোগী নারীর মধ্যে তাকেই অগ্রাধিকার প্রদান করে যার ব্রেস্ট অপেক্ষাকৃত বড়। আর এভাবে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত বড় ব্রেস্ট সম্পর্ন নারীর জিনই ভবিষ্যত প্রজন্মে নিজেকে বিস্তার করতে পারে। তারমানে, দেখা যাচ্ছে, বিবর্তনীয়ভাবে নারীর মস্তিষ্কে ব্রেস্ট বড় করার একপ্রকার মানসিক প্রবণতাও কাজ করছে, কারণ মিলিয়ন বছর পূর্বে তাদের পূর্বসূরীদের ব্রেস্ট বড় ছিল বলেই তারা পুরুষের দৃষ্টিকে জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। যার জিনগত স্মৃতি এখনো আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। আর এ জন্য আজো নারীদের মধ্যে টেকনোলজিক্যালি ব্রেস্ট বড় করার প্রবণতা দেখা যায়।


নারীর ব্রেস্ট ও লাল ঠোঁট কেনো বিবর্তিত হলো?

1960 সালে ইথোলজিস্ট ডেসমোন্ড মোরিস প্রস্তাব করেন, যখন আমাদের পূর্বসূরীরা দু-পায়ে হাঁটতে শিখে, যে সকচুয়াল সিগনালটি প্রথম সুসজ্জিত হয় সেটি ছিল তাদের পশ্চাতদেশ, যা বুক ও মাথাকে সাজানোর জন্য Evolve হয়েছিল । এবার তাদের জিনের মধ্যে ইনভার্সন ঘটে। যার ফলে তাদের ঠোঁট লাল হয়ে যায় যৌনাঙ্গের লাল মুখকে মিমিক্রি করতে গিয়ে। এবং আনত মাংসল স্তন বিবর্তিত হয় যাতে করে পেছনের স্ফিত নিতম্বকে মিমিক্রি করা যায়৷ নারীর ব্রেস্ট মূলত নিতম্বের কপিপেস্টেশন আর তার রক্তিম ভেজা ঠোঁট তার ভেজাইনার রক্তাত্ব ঠোঁটেরই প্রতিফলন! কিন্তু কেন এ মিমিক্রি? আমাদের প্রাচীন পুরুষরা মূলত নারীর স্তন ও ঠোঁটের মধ্য দিয়ে তার নিতম্ব ও যৌনিকে দেখতে পেত! আর এ জন্য তারা নারীর প্রতি আকর্ষণ বোধ করতো! যদি তাই হয়ে থাকে তবে পোশাকের মাধ্যমে নারীর সৌন্দর্য গোপন করা যায়না! আমরা নারীর ঠোঁট দেখেই বলে দিতে পারি তার ভেজাইনা কতটা আকর্ষণীয়। কোমরের সাইজ গলার সাইজের দ্বিগুণ আর তাই আমরা গলার সাইজ মেপেই কোমরের আকার বলে দিতে পারি। নারীর ঠোঁটই তার ভেজাইনা, আর সম্ভবত এ জন্যই পুরুষ ঠোট চুষতে চায় এবং তার ঠোঁটের ফাঁকে পেনিস ইনপুট করতে তীব্র আগ্রহ অনুভব করে।   বিজ্ঞানীরা ব্রেস্টকে ব্যাখ্যা করার জন্য কয়েকটি হাইপোথেসিস উপস্থাপন করেছেন । সম্ভবত ব্রেস্ট বিবর্তিত হয়েছে “Ovulatory Potential “ এর একটি সিগনাল হিসেবে। কারণ আমাদের প্রাচীন পূর্বসূরিদের মধ্যে প্রজনন উপযোগী মেয়েদের ব্রেস্ট শিশু ও মেনোপজ পরবর্তী নারীদের  থেকে বড় ছিল। প্রাচীন পুরুষরা বড় ব্রেস্ট দেখলে এ জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণবোধ করতো কারণ সেটা উর্বরতার সংকেত! (Gallup 1982; Marlowe 1998)   আর একটি তত্ত্ব বলছে, প্রাইমেটদের ব্রেস্ট তখনই বড় হতো যখন তারা নার্সে পরিণত হয়, অতএব ব্রেস্ট সম্ভবত একটি পতাকা, যা নারীদের প্রজনন ক্ষমতার বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে এবং তরুণদের খাবার দেয় একজন ভালো মায়ের সিগনাল! (Lancaster 1986)আবার অনেকে বলছে, এটা আসলে একটা প্রতারণা, নারীর ব্রেস্ট পুরুষের ব্রেনকে প্রতারিত করে এটা ভেবে নিতে যে, ঐ নারীর ভালো প্রজনন ক্ষমতা আছে! (Low et al.1987)  অন্য আর একটি মজার প্রস্তাব হলো, ব্রেস্ট আসলে প্রাথমিকভাবে চর্বির গুদামঘর, একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণ। যা গর্ভকাল ও স্তন্যপানের সময় কাজে লাগে এবং কখনো দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে এটা খাওয়া যায়। সবগুলো থিয়োরিই জেনেটিক সেন্স তৈরি করে। হেলেন ফিশার বলেন, কিন্তু খারাপ ডিজাইনটি হলো, ম্যামারি গ্ল্যান্ডের চারপাশে স্ফিত অংশটি খুব খারাপভাবে স্থাপন করা হয়েছে। নারীরা যখন দৌড়ায় তখন এগুলো খুব ব্যাথাদায়কভাবে দুলতে থাকে। তারা সামনের দিকে আচড়ে পড়ে যায় তাদের ভিশন ঠিক রাখতে গিয়ে যখন সে খাবার সংগ্রহ করতে বের হয়। সন্তান যখন স্তন পান করে তখন তাদের ধম বন্ধ হয়ে আসতে পারে। এছাড়া ব্রেস্ট খুবই সেনসেটিভ। সামান্য স্পর্শে নারীর নিপলে ব্যাথা লাগে। অনেকগুলো ভালোবাসার বস্তুর মধ্যে ব্রেস্ট একটি যেটি সেকচুয়াল স্টিমুলেশন বাড়িয়ে দেয়।  ফিশার বলেন, অতএব আমরা মরিসের অরিজিনাল থিয়োরিটি বাতিল করে দিতে পারিনা যেটি বলছে নারীর স্তন যৌন উদ্দেশ্যে বিবর্তিত হয়েছে আরো কয়েকটি এডাপ্টিভ পারপাসের মধ্যে। প্রাচীন পুরুষরা সম্ভবত নারীর ব্রেস্ট পছন্দ করতেন এবং সেকচুয়ালি রেসপন্সিভ নারীদের সাথে ব্রিড করতেন, নারীদের বিশ্বজনীন সাজসজ্জার একটি অংশ হিসেবে।


দাঁড়ি, গোফ ও কন্ঠস্বর

আমাদের প্রাচীন পূর্বসূরিরা যেমন তাদের স্পাউজ ও ক্ল্যান্ডস্টাইন লাভারদের ঠকিয়েছে, অন্যান্য ফান্ডামেন্টাল সেকচুয়াল একটিভিটিগুলো ঠিক তখনই উৎপত্তি লাভ করেছে। পুরুষের ছিল দাঁড়ি, গোফ যেখানে নারীর ছিল মসৃন জটিলতা, বয়সন্ধীতে পুরুষের গভীর কন্ঠস্বর উন্নত হয়, যেখানে নারীর মধ্যে সুরেলা কন্ঠ। পুরুষের কন্ঠস্বরের এভারেজ ফ্রিকোয়েন্সী ৮৫-১৫৫ Hz আর নারীর গলার ফ্রিকোয়েন্সী রেঞ্জ ১৬৫ থেকে ২৫৫ Hz। কিন্তু এসব কিভাবে এলো? ফেশিয়াল  হেয়ার সম্পর্কে ডারউইন বলেন, পুরুষরা ফেশিয়াল হেয়ার বা দাড়ি অর্জন করেছে এমন একটি অলঙ্কার হিসেবে যা নারীর মস্তিষ্কে যৌন উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। (Darwin 1871,907)  দাঁড়ি বিবর্তিত হতে পারে কয়েকটি উদ্দেশ্যে। মূলত, এ দাঁড়িগুলো পুরুষের চেহারাকে প্রশস্ত করে তোলে, যার ফলে তাকে ডোমিন্যান্ট মনে হয়, অধিক নৃশংস। দাঁড়ি চেহারার কিছু নুইন্যান্স আড়াল করে রাখে, যার ফলে ঐ পুরুষকে অনেকটা আবেগহীন মনে হয়, যা অন্য পুরুষের মনের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করে। দাঁড়ি তৈরি হয় টেস্টাস্টোরন দ্বারা, যাইহোক, এ ফিচার তখনই দেখা যায় যখন একজন শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠে। অতএব পুরুষের দাঁড়ি আমাদের প্রাচীন পূর্বসূরী নারীদের আকৃষ্ট করতো দৃঢ়তা, পরিপক্কতা ও পুরুষত্বের প্রতিক হিসেবে আর অন্যদিকে নারীদের চেহারার স্মুথ কমপ্লেক্সেশন পুরুষকে বলতো, দেখো আমি কত তরুণ কত আবেগপ্রবণ এবং আমি সেকচুয়ালি খুবই এক্সাইটিং, আমার যৌনিতে তোমার DNA Input করে দাও। কিন্তু এ প্রক্রিয়াটি চেতনার অতীতে সংঘটিত হয়।  পুরুষের গলার Low Frequency নির্মিত হয়েছে টেস্টাস্টোরনের কারণে যা ম্যাচুরিটির একটি সিগনাল।   অতএব পুরুষের বিষাদময় শব্দগুলি অন্য পুরুষকে ভীতি প্রদর্শন করার আর একটি উপায় যা নারীকে আকৃষ্ট করে। সম্ভবত, মেয়েদের মিষ্টি গলার স্বর শিশুর ন্যায়, যা শুনলে পুরুষদের মনে কোন ভয় সৃষ্টি হয়না। ডারউইন নিজেই বলেছেন, উচ্চমাপের নারীদের গলার স্বর মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টের মতো এবং তিনি মন্তব্য করেন, We may infer that first acquired musical power in order to attract the opposite Sex! (Ibid 881)! কিন্তু আর্টিকেলের শুরু করার সময় আমি আনুমানিকভাবে ঠিক একই কথাটি বলেছি!  যাইহোক না কেনো! লুসির সময় কিছু নারী ও পুরুষ ছিল যারা অন্যদের তুলনায় অধিক তরুণ দেখতে। এ সব অদ্ভুত শারীর অলংকার নির্বাচন করার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারতো কে তার জন্য উপযোগী; গুরুত্বসম্পন্ন লম্বা পেনিস, শ্বাশ্বত প্রশস্ত স্তন, পুরুষের দাড়ি এবং নিন্মস্বর আর নারীদের মাদকাসক্ত কন্ঠ!


আমরা আমাদের শরীরের পশম কেনো হারিয়েছি?

আমরা মূলত উলঙ্গ বানর, যারা তাদের শরীরের পশম হারিয়েছে অন্ততপক্ষে আংশিকভাবে, যা সেকচুয়াল সিলেকশনের আর একটি রুপ। প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের শরীরের চুল হারাইনি। আমাদের শরীরে এখনো একই ফলিকেলস রয়েছে যেমনটি এপদের শরীরে রয়েছে। কিন্তু মানুষের শরীরের হেয়ার খুব একটা Develop না। এ বৈশিষ্ট্যের এক্সপ্লেইনেশন, আমাদের পুচকে লোমে রয়েছে, অজস্র সংখ্যক কালি ও পেপারের খরচ। প্রাথমিক এক্সপ্লেইনেশন হলো, এটি আমাদের শরীর এর হিটিং ও কুলিং সিস্টেমের একটি Part of revision হিসেবে বিবর্তিত হয়েছে। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন, আমাদের আদিম শিকারী সংগ্রাহকরা খেলার অনুসন্ধানে দূরদূরান্ত যেত, শরীরের অন্তরক চুলগুলো শরীরের চর্বি ও সুইট গ্ল্যান্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল যা ঢেলে দেয়া হতো ঠান্ডা তরল সর হিসেবে উন্মোক্ত বুক ও অবয়বের উপর যখন সেগুলি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠতো। কেউ কেউ দাবী করেন যে, আমাদের পূর্বসূরিরা মূলত শরীরের পশম হারিয়েছিল প্যারাসাইট সংক্রমণের মাত্রা হ্রাস করার জন্য। আবার কেউ কেউ বলছে, মানুষ তাদের পশম হারিয়েছে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অপরিপক্ক অবস্থায় জন্ম নেয়ার একটি সংযুক্তি হিসেবে।   কিন্তু মানুষের হেয়ার প্যাটার্ন সম্ভবত সেকচুয়াল আকর্ষণে সাহায্য করেছিল ক্রমহ্রাসমান লোমের মধ্য দিয়ে। বুকের কোমল অংশ এবং কোটিসন্ধির চারপাশে চুলগুলো পরিস্কার হয়ে উঠে, অধিক সুস্পষ্ট, অধিক সেনসেটিভ। কিন্তু অন্যদিকে নারীদের ঠোঁট ও স্তনের চারপাশে খুব কমই চুল জন্মেছে__এটি হলো এমন একটি স্থান যেখানে স্টিমুলেট করলে সরাসরি ইন্টারকোর্সের নেতৃত্ব দেয়া যায়। আর এ জন্য পুরুষের  মাঝে নারীর এ স্পোটটির প্রতি দূর্বলতা দেখা যায় আর নারীরাও এ স্থানটির ব্যাপারে ওভার এক্সাইটেড। আমাদের যে সকল পূর্বসূরির চুল ছিল সেক্সের ক্ষেত্রে তারা নারীর মস্তিষ্কে ততবেশি স্টিমুলেট করতে পারতো। এবং বগলের অন্তরালের চুলগুলো সুগন্ধযুক্ত ঘাম ধরে রাখতো এবং সেক্স ফ্র‍্যাগনান্স যা অনেক নারী ও পুরুষের কাছে সেকচুয়ালি খুবই উত্তেজনাদায়ক ছিল।দাঁড়ি, গভীর ভয়েস, স্মুথ কমপ্লেক্স, মধুরস্বর এবং এমনকিছু হিউম্যান সেকচুয়াল প্যাটার্ন বয়সন্ধীতে দেখা যেতো, সেক্স সিজনের শুরুতে। অতএব সাধারণ এক্সপ্লেইনেশন হল যে,  এ সকল ট্রেইট বিবর্তিত হয়েছে কয়েকটি কারণে__ সেগুলোর মধ্যে, সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য এবং প্রণয় যখন আমাদের পূর্বসূরিরারা কুঞ্চিত জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছে, এবং দলবদ্ধ হিসেবে তাদের শিশুদের লালন পালন করেছে।


হোরগ্লাস ফিগারঃ

কেউই জানেনা কেনো প্রাচীন নারীরা তাদের সুষম শারীরিক কাঠামো গ্রহণ করেছে? কিন্তু আজ বিশ্বজুড়ে সকল পুরুষ এ ফর্মটির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানী দেবেন্দ্রসিং সরলরেখার তীর অংকন করেছিলেন, যা একজন তরুণ নারীর শরীরকে ইঙ্গিত করে এবং একদল আমেরিকান পুরুষকে প্রশ্ন করেছিলেন, তারা বিশেষত কোন ধরণের বডি শেপ পছন্দ করছেন। অধিকাংশ পুরুষ সে সকল নারীকে পছন্দ করেছিল যাদের কোমরের পরিধি নিতম্বের ৭০ শতাংশ। এ এক্সপেরিমেন্ট পরবর্তীতে ব্রিটেন,জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া,ইন্ডিয়া, উগান্ডা এবং অন্যান্য কয়েকটি স্থানেও করা হয়। প্রতিক্রিয়া ছিল বিভিন্নধরনের কিন্তু অজস্র ইনফরমেশন একই জেনারেল WTHR ( Waist to hip Ratio) এর সমান ছিল। তারপর ইউরোপ, এশিয়া, আমেরিকার ৩৩০ টি শিল্পকর্ম এবং আফ্রিকার ৩২,০০০ বছর পূর্বের কিছু শিল্পকর্ম স্টাডি করা হয়, সিং দেখতে পান, অধিকাংশ নারীকেই চিত্রায়িত করা হয়েছে, একই জেনারেল অনুপাতের Waist to Hip ratio দিয়ে। মজার ব্যাপার হলো,প্লেবয় ম্যাগাজিনও একই রেশিও প্রদর্শন করে। এমনকি টগি ১৯৬০ এর গৌরবময় সুপার মডেল এর কোমর- হিপ রেশিও ঠিক ৭০%।   চিত্রঃ টগি ১৯৬০ এর গৌরবময় সুপার মডেল এর কোমর- হিপ রেশিও ঠিক ৭০%।     এই WHR মৌলিকভাবে উত্তারাধিকার সুত্রে পাওয়া এবং এটি জিন দ্বারা প্রডিউস হয়। তাছাড়া, এটি এক নারী থেকে অন্য নারীতে তারতম্য তৈরি করে, এ রেশিও ওভুলসানের সময় সমন্বিত হয় যা ৭০% এর কাছাকাছি। কেনো প্রকৃতি এই এক্সট্রা অর্ডিনারী দৈর্ঘ্য তৈরি করেছে যা বক্ররেখার নারী তৈরি করে? কেনো বিশ্বের সকল পুরুষ নারীদের একই ওয়েইস্ট এন্ড হিপ রেশিও দেখতে চায়? এর কারণ সম্ভবত বিবর্তনীয়। ৭০% ওয়েইস্ট এন্ড হিপ রেশিও সম্পর্ন নারীরা সম্ভবত সন্তানকে খুব সহযে বহন করতে পারে, সিং বিবৃতি প্রদান করেন। তাদের ডানদিকে সঠিক পরিমাণের চর্বি থাকে __ যা দেহের উচ্চমাত্রিক ইস্টোজেনের মাধ্যমে তৈরি টেস্টোস্টোরণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যে সকল নারীর মধ্যে এ রেশিও নেই, তাদের সন্তান গর্ভধারণ করতে দেরী হয়, বিয়ের অনেক বছর পর হয়তো তারা সন্তান গর্ভধারণ করে এবং তাদের গর্ভপাতের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে । ( Singh1993, Swami and Furnhan egg-shaped, Pear-Shaped, stick Sharpe)

 

স্পার্ম ওয়্যার এন্ড অর্গাজম


ভিন্ন ভিন্ন শেপের নারীরা বিভিন্ন প্রকারের ক্রোনিক রোগ যেমন-ডায়বেটিক্স, হাইপার টেনশন, হার্ট ডিজিজ, ক্যান্সার এবং ঋতু চক্রের সমস্যায় ভোগে। এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন রকম পারসোনালিটি ডিস-অর্ডার দেখা যায়। সিং থিওরাইজ করেন, পুরুষরা নারীদের কোমর ও নিতম্বের যে রেশিওর উপর আকৃষ্ট হয় তা আসলে স্বাস্থ্যবান ও উর্বর সঙ্গীদের একটি ন্যাচারাল প্রিফারেন্স। এটি পুরুষের মনস্তত্বের মধ্যে একেবারে গভীরভাবে খোদাই করা, সকল বয়সের পুরুষ এই টেস্টটি প্রকাশ করে, এমনকি যখন তাদের তরুণদের উপর দায়িত্ব পালনের কোন আগ্রহই নেই! পুরুষরা যেখানে Hourglass নারী সাইকি পছন্দ করে শঙ্কু আকৃতির পুরুষ। পুরুষের কাধ ও নিতম্বের রেশিও বিশ্বের সকল নারীর নিকট সার্বজনীনভাবে পছন্দের। নারীরা পুরুষের প্রশস্ত কাঁধ ও ন্যারো হিপ পছন্দ কর__ কারণ এটি উচ্চমাত্রিক টেস্টাস্টোরন লেভেলের একটি চিহ্ন একটি ফিজিক্যাল দৃঢ়তা। এমনকি এ ধরণের নারী ও পুরুষদের মধ্যে খুব অল্প বয়সেই সেক্স কাজ করে এবং তাদের সেক্স পার্টনারও হয় অনেক বেশি। (Hughes et al. 2004)


সিমেট্রিঃ

আমাদের মধ্যে আরো একটি যৌন আসক্তি সৃষ্টিকারী বৈশিষ্ট্য আছে যা আমরা উত্তারাধিকার সুত্রে লাভ করেছি আর সেটি হলো সিমেট্রি। আজ থেকে প্রায় ২৫০০ বছর আগে এরিস্টটল বলেছিলেন, ফিজিক্যাল সৌন্দর্যের কিছু বিশ্বজনীন স্ট্যান্ডার্ড আছে। একটি, তিনি বিশ্বাস করেন, ভারসাম্যময় শারীরিক অনুপাত_ সিমেট্রি। সিমেট্রি সুন্দর_কীট পতঙ্গ, পাখি, মামেল এবং মানুষ বিশ্বের সর্বত্র। নারী স্কোরপিয়ন ফ্লাইস এমন সঙ্গী পছন্দ করে যে একীভূত বা সুষমভাবে পাখা নড়াতে পারে৷। Barn Swallow এমন সব সঙ্গী পছন্দ করে যার রয়েছে সুষম লেজ। বানর সিমেট্রিক্যাল দাঁতের প্রতি পক্ষপাত করে, গবেষণায় দেখা যায় এমনকি এক মাস বয়সের শিশুও সিমেট্রিকাল চেহারার দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকে। (Langlois et al 1987)। আমরা সবাই সিমেট্রিতে রেসপন্স করি। কীট তার Ode on a Grecian urn বইটিতে লেখেন, Beauty is truth, truth is beauty! কিন্তু সিমেট্রির সৌন্দর্য আমাদেরকে আসল সত্য বলেনা। প্রতিটি সৃষ্টির ভারসাম্যময়, সমানুপাতিক কান, চোখ, দাঁত এবং চোয়াল রয়েছে, রয়েছে সিমেট্রিক্যাল কুনুই, হাঁটু ও ব্রেস্ট, যা তাদেরকে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্য শিকারি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, যা শরীরের প্রতিসাম্যতার অভাবে দেখা দিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে সিমেট্রিক্যাল মানুষদের ইমিউন সিস্টেম অনেক উন্নত। অতএব দেখা যাচ্ছে সিমেট্রি প্রদর্শন করার মাধ্যমে মানুষ রোগের বিরুদ্ধে সুপারিয়র অভিযান ঘোষণা করছে! অতএব সিমেট্রিক্যাল সঙ্গীর প্রতি আমাদের আকর্ষণ প্রাইমেটিভ বায়োলজিক্যাল মেকানিজম যা আমদের জেনেটিক্যালি বলিষ্ঠ সঙ্গী সিলেক্ট করতে গাইড করে। এবং প্রকৃতিতে কোন চাঞ্চ নেই; আমাদের মস্তিষ্ক প্রাকৃতিকভাবেই সুন্দর মুখের প্রতি রেসপন্স করে। যখন বিজ্ঞানীরা ২১-৩৫ বছর বয়সী হেট্রোসেকচুয়াল পুরুষদের ব্রেন একটিভিটি পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তারা দেখেন যে যখনই, কোন পুরুষ নারীর সুন্দর মুখের দিকে তাকায় তখন তার মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল এরিয়া (VTA) লাইট আপ হয়। মস্তিষ্কের এ এলাকা আমাদের মধ্যে চাওয়া বা Wanting তৈরি করে (Ahaton et al 2001)। এটা বিস্ময়কর নয় যে এদের অনেক সঙ্গী থাকে। একটি গবেষণায় দেখা যায় দেখতে সুন্দর নারীরা হায়ার স্ট্যাটাসের স্বামী পায়! ( Buss 1994) উচ্চমাত্রিক সিমেট্রিক্যাল পুরুষ প্রজননের পার্ক পায়। ভারসাম্যহীন পুরুষের তুলনায় তারা ৪ বছর পূর্বেই সেক্স করে। তাদের অনেক বেশি সেক্স পার্টনার থাকে ও বেশি বেশি পরকীয়ায় জড়ায় ( Gangestad and Thonrnaill)। আর এখানে সিমেট্রির একটি পে-অফ আছে। ডিম্বস্ফোটনের সময় নারীরা সিমেট্রিক্যাল পুরুষের শরীরের ঘ্রাণ পছন্দ করে। সুষম পুরুষের সাথে সেক্স করার সময় নারীদের যখন অর্গাজম হয়, তখন তার যৌনির সংকোচন পুরুষটির অধিক পরিমাণ বীর্য Suck করে খেয়ে নেয়, আর এভাবে তার DNA আনুকুল্যতা পায়। সিমেট্রিক্যাল চেহারার পুরুষদের ভালো কোয়ালিটির সিমেন্সও রয়েছে। যা শিশুর জন্য উপকারী। যেহেতু মেটিং গেমে সিমেট্রি একজনের পছন্দকে এক্সপেন্ড করে, নারীরা এটি অর্জন করার জন্য এক্সট্রা-অর্ডিনারী উচ্চতায় চলে যায়। পাউডার ব্যবহার করে তারা তাদের চেহারাকে অধিক সিমেট্রিক্যাল করতে চায়। মাসকারা ও আইলিনারের মাধ্যমে, তারা তাদের চোখকে অধিক সাদৃশস্যপূর্ণ করে তোলে। লিপিস্টিকের মাধ্যমে তারা তাদের ঠোঁট দুটোকে একে অপরের সাথে ম্যাচ করে। প্লাস্টিক সার্জারি, এক্সারসাইজ, বেল্ট, ব্রাস এবং টাইট জিন্স ও শার্ট তারা তাদের শরীরের কাঠামোকে Mold করে অধিক সিমেট্রিক্যাল করে তুলতে চায়। প্রকৃতিও তাদের হেল্প করে৷ বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে মাসিক Ovulation এর সময় নারীর হাত ও কান অধিক সিমেট্রিক্যাল হয়ে উঠে। (Mating and Scutt 1996)। তাছাড়া প্রজননের সময় নারী ও পুরুষ প্রায় সিমেট্রিক্যাল হয়ে উঠে। প্রজনন সময়ের পর আমরা ভারসাম্যহীন চেহারাও গ্রহণ করি।


স্পেশাল ইফেক্ট অব কিসিং

একাডেমিকরা মনে করেন চুম্বন হলো আর একটি প্রাকৃতিক স্ফুর্তি সঙ্গীকে মূল্যায়ন করার জন্য, যা তার এরোটিক ফায়ারওয়ার্কে চার্মিং দিয়ে থাকে এবং মেটিং গেমে জয় লাভ করে। কিন্তু আঠারটি সংস্কৃতির ৪০% সাম্প্রতিক স্টাডি করে দেখেছেন, নারী ও পুরুষ উত্তেজনাদায়কভাবে একে অন্যকে কিস করে _ দীর্ঘ সময় একে অপরের ঠোঁট স্পর্শ করে যতক্ষণ না মুখের লালা এক্সচেঞ্জ হয়। এবং অধিকাংশ সমাজ জটিল কৃষি ও শিল্পভিত্তিক। প্রকৃতপক্ষে ওয়েস্টার্নদের স্পর্শের পূর্বে সোমাল, সিক্কিমের লেপচা , সাউথ আফ্রিকার সিরিনো কিস করাকে বিরক্তিকর মনে করতো (Gray and Garcia 2013) । এরোটিক কিসিং বিশ্বজনীন কোন মানব বৈশিষ্ট্য নয়। আর এ জন্য অনেকে মনে করেন, এটি আসলে পেয়ার-বন্ডিং এর আসক্তি তৈরি করার জন্য বিবর্তিত হয়নি। কিন্তু আবার কোথাও কোথাও ভিন্ন ইস্যু রয়েছে, ওয়েস্টার্নরা বলেন, চুম্বন আসলে পার্টনারদেরকে একে অন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসে। তারা এটাকে ঠিক মনে করে।দীর্ঘকালীন সম্পর্কে আবদ্ধ সঙ্গীরা যখন একে অন্যকে কিস করে তখন তাদের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন তৈরি হয়, অক্সিটোসিন হলো এমন একটি নিউরো-কেমিকাল যা আস্থা, বন্ধন ও ইমোশনাল ইউনিয়নের সাথে জড়িত। এছাড়া চুম্বনের ফলে স্ট্রেস হর্মোন কর্টিসোল হ্রাস পায় যা Feeling of attachment এ কন্ট্রিবিউট করে। চুম্বন আমাদের পালস ও ব্লাড প্রেসার বুস্ট করে, চোখের পাতা ডাইলেটস করে ও নিঃশ্বাস গভীর করে৷ যেগুলো হলো সেকচুয়াল রেসপন্স যা আপনার সহবাসকে ত্বরাণ্বিত করে। এবং আপনি জানেন, অর্গাজমের সাথে অক্সিটোসিনের একটি স্রোত আসে যা আরো বেশি Feeling of attachment তৈরি করে।

চুম্বন সুক্ষ্মভাবে আপনার মধ্যে প্রজনন ও সন্তান লালন পালনের ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু চুম্বন মাঝেমাঝে সেডাকশনের কারণ হয়। মুখের লালার মধ্যে টেস্টাস্টোরণ থাকে __ যা আকাঙখার সেকচুয়াল হর্মোন। মূলত, চুম্বনের মাধ্যমে আপনি কোন একজন পুরুষ বা নারীকে বিছানায় নেয়ার জন্য তার মস্তিষ্কে কেমিক্যাল ইনজেক্ট করে দিতে পারেন। নারী নিশ্বাস ও লালা ঋতুচক্রের সময় পরিবর্তন হয়ে যায়। এই লালাগুলোর মস্তিষ্কে কতটুকু অক্সিটোসিন তৈরি করে তার উপর নির্ভর করে পুরুষ নারীর উর্বরতা সম্পর্কে জানতে পারে। (Vice versus) আর এভাবে চুম্বন হলো এডাপ্টিভ সেকচুয়াল প্রলোভন যা Pair-bond ও Reproduction’ কে সুবিধা দেয়।  প্রথম কিস রোম্যান্টিক ভালোবাসা ট্রিগার করে। কারণ নতুন যেকোনো কিছু মস্তিষ্কের ডোপামিন সিস্টেম ট্রিগার করে। আর আপনি জানেন যে ডোপামিন ফিলিং অব রোম্যান্সের সাথে জড়িত। অতএব প্রথম কিস যদি উত্তেজনাদায়ক হয়, তবে এটি আপনাকে মেটিং এর শুরুতেই_মারাত্মক প্রেমের জ্বালে ফাঁসিয়ে দিতে পারে। অতএব আমি মনে করি যে, কিসিং একটি বায়োলজিক্যাল ম্যাকানিজম। এটি যুগল প্রেমের সম্পর্ক প্রবর্তন ও ধরে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এই সহযাত ম্যাকানিজম বিকৃত হয়ে গিয়েছিল আমাদের পূর্বসূরীদের কিছু সোসাইটিতে, যা এখন যৌনসজ্জা হিসেবে ব্যাবহারিত হচ্ছে।


চুম্বন ও মৃত্যু

চুম্বন হতে পারে খুবই ডেঞ্জারাস। এই সামান্য একটি কাজের মাধ্যমে আপনি আপনার সঙ্গী সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। আপনি যেনো তার মস্তিষ্কের ভেতরের ক্রিয়াকলাপ পরিস্কারভাবে দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে রয়েছে তার স্মেল ও টেস্ট। আপনি তাকে শুনবেন এবং অনুধাবনও করতে পারবেন। একটি কিস হতে পারে অন্য একটি মহাবিশ্বের সিগনাল। আপনার প্রেমিক যখন আপনার ঠোঁটে তার ক্ষুদার্থ মুখটি ডুবিয়ে দেবে, দু-ঠোঁটের অন্তরালে উঠিয়ে নেবে জিহবা, আপনার সেন্স থেকে এ সিগনালটি ১২ টি করোটিক নার্ভের মধ্যে ৫’টি নার্ভ গ্রহণ করবে এবং সরাসরি মস্তিষ্কের দিকে ছুটে যাবে। এখানে এসে এ সিগনালটি বিস্ফোরিত হবে, আর সাথেসাথে আপনার মস্তিষ্ক তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে যাবে, জেনে যাবে আপনার খাদ্যাভ্যাস, পানীয় ও স্মোকিং হেভিট সম্পর্কে, আর এ জন্য তাদের State of mind থেকে একটি কিস শুধুমাত্র কিস নয়__ হেলেন ফিশার বলেন।   একবার কল্পনা করুন, আমি এ আর্টিকেলের শুরুর দিকে বলেছিলাম, সেক্স হলো এমন একটি প্রসেস যার মাধ্যমে আমরা সঙ্গীর শরীর ও মস্তিষ্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি, সেক্সের মাধ্যমে একজন নারী একজন পুরুষকে যতটা গভীরভাবে জানতে পারে তা আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। একজন পুরুষের সম্পূর্ণ মস্তিষ্ক খোলা কাগজের মতোই নারীর মস্তিষ্কের নিউরনে প্রকাশ হয়ে যায়, জিভ চুষে বা ঠোঁট  সাক করে নারী ও পুরুষ একে অন্যের মস্তিষ্কের সাথে নিউরো-কেমিক্যালি কমিউনিকেট করে, শব্দ ছাড়াই তারা একে অন্যের ব্রেন স্টেট ও শরীরের বিস্তারিত তথ্য গুলো পেয়ে যায়। আর এ জন্য সেক্সের পর দুজনের ভালোবাসা অনেক সময় বেড়ে যেতে পারে আবার হুট করে অনেক বছরের অত্যন্ত দারুণ একটা সম্পর্ক আকস্মিক হালকা হয়ে যেতে পারে। দেখা যাবে আপনার girlfriend “কে একদিন কিস করেছেন আর সেদিন থেকে আপনার প্রতি তার গুরুত্ব কাজ করছেনা, সে এখন অন্য কোনো ছেলের সাথে ফেচবুকে চ্যাট করে, আপনার কল রিসিভ করতে চায়না, অন্য কোন ছেলের সাথে রিক্সায় ঘুরে বেড়ায়! মূলত, কিস করার সময় আপনার লালা থেকে যে অক্সিটোসিন নির্গত হয়েছিল তা আপনার প্রেমিকার ব্রেন কেমিক্যালি অনুবাদ করে ফেলেছে, আর এজন্য আপনার সম্পর্কে তার থটও চেব্জ হয়ে গেছে। সে জানেনা যে কেন আপনার প্রতি তার মস্তিষ্ক রেসপন্স করেনা, সে এখন শুধু বিরক্ত হয়। আর আপনার থেকে একা থাকতে চায় কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো অন্যদের সাথে সে অনেক কেমিস্ট্রি নিয়ে কথা বলে! তাহলে কী আমরা প্রেমে পড়ার পূর্বেই কিস করবো? সেক্স করে তার মাইন্ড এক্স-রে করে নেবো! রিচার্ড ডকিন্স তার Selfish Gene গ্রন্থে লিখেছেন, লং টার্ম রিলেশনের পূর্বে কিছু প্রাণী সেক্সের মাধ্যমে সঙ্গীর শরীরকে বোঝার চেষ্টা করে! কিন্তু মানুষ কখনো বাচবিচারহীনভাবে সেক্স করে? রোম্যান্টিক এট্রাকশ, প্রেমে পড়া, কোর্টশিপ আরো কত আনুষ্ঠানিকতা মানবীয় সম্পর্কগুলোতে! বলতে পারেন, অন্তত তো কিস করতে পারি?   ২০০৭ সালে Sex difference in romantic kissing College Studentsনামক কটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় সেখানে হিউজেস বলেন, প্রথম কিস অনেক সময় ভয়ানক দুর্যোগ নিয়ে আসে। তার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৮ জন পুরুষ ও ১২২ জন নারীর মধ্যে ৫৯% পুরুষ ও ৬৬% নারী বলেছেন প্রথম কিসের পরেই তাদের রোম্যান্স শেষ হয়ে গেছে!! এটি ছিলো The Kiss of Death! সবাই অবশ্যই কিস করতে পছন্দ করেনা। কিছু সংস্কৃতিতে চুম্বন পাওয়ার জন্য নারী ও পুরুষ বিদ্রোহ করে। কুকুর অন্য কুকুরের ঠোঁট ও মুখ চুষে। মোলরা নাক। হাতিরা অন্য হাতির মুখে তাদের ধড় রাখে,  আলব্যাট্রোস একসাথে আলতো চুম্বন করে, আমাদের নিকটবর্তী শিম্পাঞ্জি বনোবো, খুব ভালো মৌখিক শিল্প জানে, তারা ফ্রেন্স কিস করে!


নারীরা কেনো Face to Face সেক্স করে?

মানব সভ্যতার অজস্র সেকচুয়াল সাজসজ্জার মধ্যে সবচেয়ে স্ট্রাইকিং ও সবচেয়ে আনন্দদায়ক সজ্জা হচ্ছে ; নারীদের Face to Face সহবাস করার ক্ষমতা। নারীদের তীব্র কিন্তু অর্গাজমের পরিবর্তনশীল প্যাটার্ন। হেলেন ফিশার ( যিনি নিজেও একজন নারী? তার এনাটমি অব লাভ গ্রন্থে বলেন , সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো নারীরা ঘড়ির চারপাশে সহবাস করতে পারে। এর মানে হলো, ঘড়ির কাটা যেমন ঘুরতে ঘুরতে চব্বিশঘণ্টা সৃষ্টি করে। একজন নারীর মধ্যেও ২৪ ঘন্টা লাগাতার সেক্স করার ক্ষমতা আছে!! নারীর এ ক্ষমতা পুরুষকে মিলিয়ন বছর না হলেও সহস্র বছর বিস্ফোরিত করেছে। লুসিও কী ফেস টু ফেস সেক্স করতে পারতো?

ফিশার বলেন, আমি মনে করি পারতো। আধুনিক সব নারীর ভেজাইনা নিন্মমূখী-কাত হওয়া কিন্তু অন্যদিকে প্রাইমেটদের ভেজাইনা পশ্চাতদিকে সাজানো। কারণ আমাদের মানব নারীদের জন্য Face to Face সহবাস খুবই কম্পোর্টেবল। মূলত, এ পজিশনে পুরুষের শ্রোণিচক্রের হাড় নারীর ক্লাইটোরিসে প্রচন্ড ঘর্ষণ তৈরি করে, যার ফলে ইন্টারকোর্স চুড়ান্তভাবে স্টিমুলেটিং হয়ে উঠে। কিন্তু এটা বিস্ময়কর নয় যে, অধিকাংশ সংস্কৃতিতে মিশনারী পজিশনকে সহবাসের পোস্টার হিসেবে পছন্দ করা হয়, যদিও রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র্যতা। এমেজোনিয়ার একাকী লোকজন ঘরের মেজেতে বিছানা পেতে শোয় আর এ জন্য প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য কিছুটা প্রাইভেসি থাকে। তবুও একটি ভুল পদক্ষেপ তাদেরকে রাতের আগুনে আটকে দিতো।

সমস্যা হলো, স্বামী ও স্ত্রীদের কারণে গোপন প্রণয়িনীরা জঙ্গলে চলে যেতো যেখানে মাটি অসম ও প্রায়শ ভেজা। এ জন্য নারীরা সহবাস করার সময় শুতে পারতোনা। তার পরিবর্তে সে উবু হয়ে পেছনে হেলান দিতো। সে তার নিতম্বকে মাটিতে হাতের সাপোর্ট দিয়ে  উপরের দিকে ধরে রাখতো এবং পা। কিন্তু তারপরও সে যখন তার প্রেমিকের দিকে তাকাতো তখন ভালোবাসা অনুভব করতো।       মানুষ সেকচুয়াল ইন্টারকোর্সের শত শত সেকচুয়াল পজিশন আবিষ্কার করেছে। Sex Moves নামক আমার সংগ্রহে একটি অসাধারণ বই আছে। যেটিতে শুধুমাত্র সেকচুয়াল পজিশনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এমন অকল্পনীয় সব পজিশন যা আপনি হয়তো সারাজীবনেও কল্পনা করতে পারেন নি। হই মোশন, লাস্টি লোটাস, মি- ক্লিন, হ্যাপিং স্প্রি, প্যারালাল পার্কিং, গো ফর স্ট্রোক, এন্ডলেস এম্ব্রেস, সিট এন্ড স্পিন, বেন্ডেড ক্নি, দি ইজি চেয়ার, রিভার্স পিগিব্যাক, দি হাইড্র‍্যান্ট হ্যাম্প, দ্যা স্ট্যান্ডিং ওভেশন, এক্সটেন্ডেড ব্লিচ, দি মাল্টি-টাস্কার,এক্স-রেটেট, দি ডিপ “সি”, দি এক্রোবাট, দি গেটওয়ে এবং দি স্টিয়ারিং। প্রায় ৩৬৫ টি আইনগতভাবে কপিরাইট করা সেকচুয়াল পজিশনের মধ্যে আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ হয়েছিল Tilt Steering, Captain Crunch, The passionate Push, The chair-Raising Adventure, Climbing Climax, Delivery, The filching Extension, Docking Bay,String Duet, The rubbernecker, Calf Roping এবং The rolling Brone! আপনি যদি সহবাসের এক একটি পজিশনের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চান তবে আপনাকে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলার চেয়েও অনেক বেশি প্রাক্টিস করতে হবে। আর এ পজিশনগুলো এতটাই ক্রিটিক্যাল ও আকর্ষণীয় যে, একবার দেখলেই তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে স্থির হয়ে! কিন্তু এ পজিশনগুলোর একটা সীমাবদ্ধতা আছে, অনেক সময় পজিশনের দিকে গুরুত্ব দিতে গেলে, মস্তিষ্কের এক্সাইটেশন কমে যায়। হেলেন ফিশার বলেন, People invented dozen of other position for intercourse. But face-to-face copulation is depicted in artworks around the world ; it probably badge of the Human animal.        আজ থেকে ৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্বে লুসির ছিল উলটানো ভেজাইনা এবং সে আগ্রহী ছিল Face to face Copulation এর প্রতি, সে ফিশফিশ শব্দ করতো, নিশ্বাসের উষ্ণ বাতাস ছড়িয়ে দিতো তার সঙ্গীর কানে, এক ফলকে তাকিয়ে থাকতো, আর এক্সপ্রেসনের মাধ্যমে নুইস্যান্স প্রকাশ করতো। কিন্তু ফেস টু ফেস সহবাসের কী এমন বিবর্তনীয় উপযোগীতা ছিল যার জন্য এটি প্রকৃতিতে এত সাধারণ। এ প্রশ্নটি আমাকে অনেক ভাবিয়েছে, আমি অভিজ্ঞতার আলোকে জানতে পেরেছি, নারীরা পজিশন চেঞ্জ করতে আগ্রহী নয়, অনেক নারীই আছে ঘুরেফিরে একই পজিশনেই সহবাস করতে চায়, পজিশন পরিবর্তন করতে গেলেই চিতকার করে ও বিরক্ত হয় আবার অনেক সময় সেটা ঝগড়ায় রুপ নেয়। তারা ফেস টু ফেস সহবাস করতেই বেশি আরাম বোধ করে। হেলেন ফিশার বলেন, Face to face Copulation foster intimacy, Communication and Understanding! আপনার সঙ্গী যদি আপনার চোখে চোখ না রাখে তবে সে আপনার ব্রেনের সাথে ডিসকানেক্টেড হয়ে যায়, যেটা সহবাসের সময় দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে। মিশনারী পজিশনের একটি আধুনিক ভার্সন ডগি। এটাতে খুব কম নারীই আগ্রহ বোধ করতে পারে। তাদের শরীরে বিশেষ একপ্রকার চাপ তৈরি হয় বলেও শোনা যায়। তারমানে, মুখোমুখি সেক্স নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের মাঝে একটি কানেকশন তৈরি করে, সেক্স শুধু স্পার্ম ইনপুট করার একটি নিছক যুদ্ধ নয়, এখানে রয়েছে যোগাযোগ ও রিয়েলাইজেশন ফ্যাক্টর! যা তাদের ভেতরকার বন্ধন আরো অটুট করে দিতে পারে। যা পরবর্তী জীবনের জন্য একটি ইতিবাচক ভাইব তৈরি করে দিতে পারে। ১৯৮১ সালের Ashley Montague প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রের রেফারেন্স দিয়ে হেলেন ফিশার বলেন, I suspect that the downward-tilting human Vaginal canal Evolved via Sexual selection. ফিশার বলেন, আদিম নারীদের সংশয়গ্রস্ত দোদুল্যমান ব্রেস্টের মতো, উলটানো ভেজাইনা এবং মুখোমুখি কোপিউলেশন হয়তো স্পেশাল ফ্রেন্ডদের সাথে তাদের অনেক বেশি শক্তিশালী বন্ধন তৈরি করে দিতো এবং যার কারণে তারা শিশুদেরকে অপেক্ষাকৃত বেশি যত্ম করতো এবং এভাবেই একে অপরের মাঝে যে গভীর বোধ ও ঐক্য তৈরি হতো তা তাদের জিনকে সফলতার সাথে ছড়িয়ে দিতে পারতো ভবিষ্যতে! মজার ব্যাপার হলো, ৩৬৫ টি সেকচুয়াল পজিশনের মধ্যে প্রতিবারই আমি Face to Face সহবাসের ছবিকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছি ও অবচেতনে, তার মানে আমাদের মস্তিষ্কের গভীরেই হয়তো আজ থেকে তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে এ মানসিক পছন্দের হার্ডওয়্যার তৈরি করে দেয়া হয়েছে!


ফিমেইল অর্গাজম


LELO Outlines some of the Facts of Faking Orgasms


নারীর অর্গাজম বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের সবচেয়ে প্যারাডক্সিক্যাল একটি বিষয়। এ পর্যন্ত কেউই ফিমেইল অর্গাজমের সঠিক এক্সপ্লেইনেশন দিতে পারেনি বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। নারীর মনস্তত্বের মতোই তার অর্গাজমকে বোঝা খুবই জটিল। কেনো এটি বিবর্তিত হলো? এর বিবর্তনীয় উপযোগীতা কী? অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন নারীর অর্গাজমের কোন বিবর্তনীয় উপযোগীতা নেই, একসময় যেটি প্রজননের উদ্দেশ্যে বিবর্তিত হয়েছিল। তারা কারণ প্রদর্শন করেন যে ফিমেইল অর্গাজম পুরুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই পালসেশনের মাধ্যমে পুরুষের স্পার্ম তাদের ভ্যাজাইনাতে যায়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই নারীর ডিম্বশয় থেকে ডিম্বস্ফোটন ঘটে, সেকচুয়াল রেসপন্স ছাড়াই। তাহলে নারীদের তো অর্গাজমের কোন প্রয়োজম ছিলনা? ওয়েট, বুঝিয়ে বলছি, পুরুষ সেক্সের সময় স্পার্ম আউট করে, আর সেই স্পার্ম নারীর ভ্যাজাইনাতে প্রবেশ করে। কিন্তু নারীর ডিম্ব এমনি এমনি প্রডিউস হয়, একদম স্বতস্ফূর্তভাবে, কোন প্রকার স্টিমুলেশন ছাড়াই। পুরুষের অর্গাজম প্রয়োজনীয় কারণ শুক্রাণুগুলো নারীর জরায়ুতে প্রবেশ করে, কিন্তু নারী সে তরল নিঃস্বরণ করছে এটা তো শুধু শুধু অপচয়! এর তো কোন কাজ নেই! তার যৌনিতে স্টিমুলেশন তৈরির পূর্বেই তার ডিম্বস্ফোটন স্বতস্ফুর্তভাবেই ঘটছিল। তাহলে কেনো আবার অযথা নতুন করে এই তরল নিসৃত হচ্ছে? এর উপযোগ কী? অন্যকিছু প্রজাতি যেমন বেড়াল এবং র‍্যাবিট এদের শরীরে স্টিমুলেশন ছাড়া কোনপ্রকার ডিম্ব রিলিজ হয়না, ওভুলেশনের জন্য তাদের স্টিমুলেশন প্রয়োজন। কিন্তু মানুষের মধ্যে এ ধরণের কোন স্টিমুলেশন প্রয়োজন নেই। যৌনিকে কোনকিছু ছেদ করা ছাড়াই এটি তৈরি হয়। Smithsonian এ প্রকাশিত The Evolutionary Reason why Woman orgasm নামক একটি আর্টিকেলে বলা হয়, ১০০০ নারী বলছে ৬১.৬ শতাংশ ইন্টারকোর্সের সময় অর্গাজম ফিল করেনা। নারীদের যৌনিতে ক্লাইটোরিস নামক একটি অর্গান রয়েছে ,যেটিকে মনে করা হয় পুরুষের পেনিসের Female ভার্সন । ১৫৫৯ সালে ইতালিয়ান এনাটমিস্ট রিয়েল্ডো কলোম্বো ক্লাইটোরিস আবিষ্কার করেন, এর আগে নারীরাও জানতোনা তাদের দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা অর্গান আছে। BBC তে নারীর অর্গাজমের রহস্য নিয়ে প্রকাশিত একটি আর্টকেলে বলা হয়, ভেজাইনা ও ক্লাইটোরিসের মস্তিষ্কের সাথে বিভিন্ন ডাইরেক্ট রুট রয়েছে। ক্লাইটোরিস মস্তিষ্কের স্পাইনাল কোর্ডের সাথে সম্পৃক্ত। যদি মেয়েদের মস্তিষ্কের স্পাইনাল কর্ড ডেমেজ হয়ে যায় তবে ক্লাইটোরিসে স্টিমুলেট করলেও কোন ফিল তৈরি হবেনা। কিন্তু ভ্যাজাইনাল অর্গাজম কাজ করবে। এর কারণ হলো ভ্যাগাস নার্ভ, যা স্পাইনাল কর্ডের বাহিরে অবস্থিত, সরাসরি ভেজাইনা থেকে ব্রেনে স্টিমুলেশন নিয়ে যায়।


নারীরা বলছে, ক্লাইটোরিসের অর্গাজম সুনির্দিষ্ট ও দৃশ্যমান। আর ভেজাইনাল অর্গাজম ইন্টারনাল এবং এখানে সম্পূর্ণ শরীর জড়িত থাকে। এর কারণ হয়তো যে নার্ভ ক্লাইটোরিস থেকে ব্রেনে স্টিমুলেশন নিয়ে যায় তা ভেজাইনাল নার্ভ থেকে আলাদা। বিস্ময়কর ব্যাপার হল ভেজাইনাল অর্গাজম পেইন রিলিজ করে , যে নার্ভ স্পাইনাল কর্ডের সাথে সম্পৃক্ত তা হয়তো ব্যাথার সাথে সম্পৃক্ত নিউরোট্রান্সমিটার রিলিজ করে। এ সিগনাল যখন ব্রেনে যায় তখন নিউরোকেমিক্যাল এন্ডোরপিন রিলিজ হয় যা পেইন রিলিভ করে।


FMRI এর মাধ্যমে জানা গেছে অর্গাজমের সময় নারী ও পুরুষের মস্তিষ্কের একটিভিটির সমতা অনেক বেশি। তাহলে তাদের অনুভূতিও কী আসলে একই? আমি নারী নই, তাই আমি জানিনা, পেনিস ইনচার্ট করার পর তাদের কেমন উপলব্ধি হয়! ব্রেন একটিভিটিজ যদি একইরকম হয় অনুভূতিও কী একই হওয়ার কথা নয়? কিন্তু অর্গাজম কোথায় থেকে শুরু হয়, সেটা এখনো জানা যায়নি। যদি অর্গাজমের সময় মস্তিষ্কের সব অংশ একটিভ হয়ে উঠে, তবে শুরুর পয়েন্ট নির্ণয় করা খুবই জটিল। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, অর্গাজমের পরও নারীর ব্রেন যৌনি থেকে সিগনাল রিসিভ করে যার জন্য তারা মাল্টিপল টাইম ক্লাইম্যাক্স ক্রিয়েট করতে পারে।  তবে কোমিসারুকের মতে, অর্গাজম বিশেষ করে নিউক্লিয়াস একুম্বেন্সের সাথে জড়িত যা ডোপামিন রিলিজ করে, অর্গাজমের পর পুরুষের মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট এলাকা ডি-একটিভ হয়ে যায় কিন্তু নারীর মস্তিষ্ক তখনও একটিভ থাকে। কিন্তু অর্গাজম কেনো বিবর্তিত হলো? এর উপযোগীতা কী? এটি কী মানুষের শরীরের এপেন্ডিক্স অথবা পেঙ্গুইনের ডানার মতো একটি ভেস্টিজিয়াল অর্গান যা একটা সময় কোন একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহারিত হতো কিন্ত এখন আর কাজ নেই কিন্তু অন্য উদ্দেশ্য কাজ করছে? যেমন- পেঙ্গুইনের ডানা দিয়ে এখন তারা উড়তে পারেনা ঠিকই কিন্তু সুইম করে? আমরা দেখেছি যে নারীর অর্গাজমের সময় এন্ডোক্রিন রিলিজ হয়। প্রোলেকটিন ও অক্সিটোসিন ইঁদুর ও অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে  রিলিজ হতে দেখা যায়, এগুলো হলো প্রাকৃতিক ক্যামিকেল যা তাদের শরীরকে ডিম্বস্ফোটনের কথা বলে।   Oxford Academy তে The effect of intercourse on pregnancy Rats during assisted human Reproductions নামক একটি আর্টিকেলে বলা হয়, মানুষের ব্রেন কানেকশন রয়েছে অন্যান্য অর্গানিক প্রাণীদের সাথে যে কানেকশনগুলো ডিম্বস্ফোটনের নির্দেশনা দিতো। মানুষের বিবর্তনের পূর্বেই-অর্গাজমের ব্রেন কানেকশন বিবর্তিত হয়েছিল যা মূলত ডিম্বস্ফোটনের প্রক্রিয়াকে ট্রিগার করতো কারণ তখন স্বতস্ফূর্তভাবে ডিম্বস্ফোটন হতোনা। কিন্তু একটা সময় মানুষের মধ্যে স্বতস্ফূর্ত ডিম্বস্ফোটন বিবর্তিত হয় আর কোন স্টিমুলেশন ছাড়াই এখন তাদের ডিম্বস্ফোটন ঘটতে থাকে কিন্তু মিলিয়ন মিলিয়ন বছর অতীতের সেই হর্মোনাল রিয়েকশন যা অর্গাজমের সাথে সম্পৃক্ত  ছিলো সেটি এখনো রয়ে গেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা বলছে, স্বতঃস্ফূর্ত ওভিউলেশনের কারণেই নারীদের ক্লাইটোরিসের অবস্থান পরিবর্তন হয়েছে এবং সম্ভবত এ জন্যেই ক্লাইটোরিস ও ভেজাইনার নার্ভ সম্পূর্ণ আলাদা। মাঝেমাঝেই শোনা যায়, কিছুকিছু নারী সবসময় অর্গাজম অনুভব করেনা, পাভলিয়েভের গবেষণা বলছে, এর মানে এই নয় যে এ সকল নারীদের মধ্যে কোন ত্রুটি আছে, এর মানে হলো এদের মধ্যে একটি ত্রুটি নেই, কারণ অর্গাজম একটি ভেস্টিজিয়াল বৈশিষ্ট্য, এটার আসলে এখন প্রয়োজন নেই আর যে সব নারীদের অর্গাজম কম হয় তারা এনাটিক্যালি ডিফেক্টিভ নয় বরং উচ্চমাত্রিকভাবে বিবর্তিত!


বিজ্ঞানীরা বলেন, শরীরের সবচেয়ে বড় সেকচুয়াল অর্গান পেনিস, ক্লাইটোরিস বা ভেজাইনা কোনটাই নয়, ব্রেনই হলো সবচেয়ে বড় সেক্স অর্গান,  অর্গাজমের জন্য ব্রেনের জাগরণও প্রয়োজন।


হেলেন ফিশার বলেন, যে সকল নারীর অর্গাজম বেশি হয়, তাদের সন্তান রেগুলারলি যাদের অর্গাজম হয় তাদের তুলনায় আসলে বেশি না। কোন অর্গাজমিক নারীর জীবনে অধিক সংখ্যক সেক্স পার্টনার থাকে তাও কিন্তু না , এর কোন প্রজনগত সুবিধা নেই! ( Lioyd 2005)। অনেকেই মনে করেন, পুরুষের নিপলের মতোই নারীর অর্গাজমও ইউজলেস, এটি অতীতে হয়তো প্রজননগত সুবিধা দিতো কিন্তু এখন এর কাজ নেই। এটা কোন এডাপসন নয় (Symon1979) কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, অর্গাজমের গুরুত্ব থাকুক বা না থাকুক। ক্লাইটোরিস কিন্তু পুরুষের নিপলের মতো নিষ্ক্রিয় কোন অঙ্গ নয়, এটা অত্যন্ত সেনসেটিভ নার্ভের ঝোপ যা অর্গাজমের প্রধান ভূমিকা পালন করে। নারীর অর্গাজম একটা জার্নি, চেতনার একটি বিকৃত অবস্থা, এটি বিশৃঙ্খলা কমিয়ে দেয়, প্রশান্তি তৈরি করে, তৈরি করে আগ্রহ ও বন্ধন। আর ফিলিংস অব এটাচম্যান্ট যুগল বন্ধনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুগল বন্ধনের কারণেই সন্তান টিকে থাকার ক্ষেত্রে উপযোগীতা পায়। আবার নারীর অর্গাজম পুরুষের ব্রেনকে একটা সিগনাল দেয় যে আমি তোমার উপর সন্তুষ্ট। কারণ এতে পুরুষ বুঝবে ঐ নারী তার উপর কৃতজ্ঞ আর সে অন্য কোন পুরুষ অনুসন্ধান করবেনা। নারীর অর্গাজম পুরুষের মস্তিষ্ককে আশ্বস্ত করে, তাকে আত্মবিশ্বাস প্রদান করে, যে তুমি সত্যিকারের পুরুষ, তুমি একদম পারফেক্ট , যার ফলে পুরুষের মস্তিষ্কে Sense of attachment আরো বেড়ে যায়। আর পুরুষটির তার প্রতি ভালোবাসা ও মায়া ক্রমশ বাড়তে থাকে। সেক্সের পর একজন পুরুষ যদি নারীকে প্রশ্ন করে, তোমার হয়েছে? আর সে যদি উত্তর দেয়, আমি কিছুই অনুভব করতে পারিনি! তবে ঐ পুরুষটি মনে কষ্ট পাবে, আত্মবিশ্বাস কমে যাবে,নিজের উপর ঘৃণা তৈরি হবে, ডিপ্রেসনে ফিল করবে এবং এর প্রভাব তার জীবনের সর্বত্র কাজ করতে পারে, তার মধ্যে সবসময় অক্ষমতার একটা উপলব্ধি কাজ করবে। অনেক নারী এভাবে পুরুষকে মানসিকভাবে বিকালঙ্গ করে দেয়। আর এভাবে আপনার প্রতি তার সন্দেহ ও ক্ষোভ বেড়ে যাবে এবং Sense of attachment হারিয়েও ফেলতে পারে! নারীর অর্গাজম পুরুষের কাছে অনেক সময় মহাবিশ্বের সবকিছু থেকে মূল্যবান! পুরুষ নারীর মধ্যে কৃতজ্ঞতা ও বিনয় দেখতে চায় এবং যদি সেটা পায় তবে পুরুষটির কোন সেকচুয়াল সমস্যা বা জড়তা থাকলেও সেটা কেটে যাবে। সে আপনাকে আরো বেশি বেশি সুখ দেয়ার আগ্রহবোধ করবে! অর্গাজমের ফলে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে অক্সিটোসিনও নির্গত হয় যা প্লেজার, সেকচুয়াল পরিপূর্ণতা ও এটাচমেন্ট তৈরি করে! নারীদের সে সকল পুরুষের প্রতি ক্লাইম্যাক্স ক্রিয়েট হয় যারা সেকচুয়ালি খুবই এটেনটিভ, দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য পার্টনার। নারীরা তার স্বামীর সাথেই বেশি অর্গাজম অর্জন করে। কোন গোপন প্রেমিক বা এক রাতের পার্টনারের তুলনায় তারা স্থিতিশীল প্রেমিকের সাথেই অর্গাজম অর্জন করে। ফিমেইল অর্গাজম বিবর্তনের পেছনে আরো একটি কারণ থাকতে পারে বলে হেলেন ফিশার মনে করেন, মূলত অর্গাজম সত্য ও মিথ্যার প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। নারীর অর্গজম ভুল ও সঠিক মানুষের প্রতি আলাদা আলাদা রেসপন্স করে। যদি সঠিক ব্যক্তির সাথে সেক্স হয় তবে অর্গাজম জরায়ুকে ট্রিগার করে, আর জরায়ু একটি নির্দিষ্ট ছন্দে সংকোচিত হয়, পাম্পের মতো, এবং স্পার্মগুলো চুষে খেয়ে ফেলে, যেনো জরায়ুর ভেতর ডিম্বাশয়ে পৌঁছে যেতে পারে (Bake and Bills 1995)।


আপনি যখন নারীর যৌনি থেকে তরলগুল  বের করে দিতে পারবেন তখন সে রিলাক্স হয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবে, স্পার্মগুলো ভ্যাজাইনাল ক্যানেলে অনেক্ষণ ধরে রাখবে, প্রকৃতপক্ষে সেক্সের পর, যে সকল পুরুষ তাদের যৌনি থেকে তরলগুলো নিঃস্বরণ করে দেয় বা অর্গাজম প্রদান করে তাদের স্পার্মগুলোকে আটকে ধরে রাখে আর এতে করে পুরুষটির DNA পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নারীকে যদি পুরুষ রিলাক্স করতে না পারে তবে তার জিন ফিউচারে নাও যেতে পারে! কারণ সেক্সের পর নারী নাড়াচাড়া করবে এবং তার জরায়ু ছন্দায়িত ভাবে সংকুচিত হবে না!


অবশেষে বলতে হয়, নারীর অর্গাজম বিবর্তিত হয়েছে, মিঃ সঠিক ও মিঃ ভুল মানুষের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করার জন্য , সেন্স অব এটাচম্যান্ট বাড়ানোর জন্য। যা যুগল সম্পর্ক তৈরি করে এবং প্রজনন সঙ্গীর প্রতি যত্ম বাড়ায়। নারীর অর্গাজম অধিক সন্তান তৈরির জন্য বিবর্তিত হয়নি। কিন্তু এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ফিট ও সন্তান লালন পালনে সক্ষম পুরুষ চেনা যায়__ যা শিশুদের টিকে থাকতে সাহায্য করে।


2021 সালে Do woman pretend orgasm নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় সেখানে বলা হয় নারীরা ফেইক অর্গাজম ক্রিয়েট করতে পারে,এটা হল Mate Retention Stagey। আপনি বুঝতেও পারবেন না! সে আপনার সাথে প্রতারণা করেছে। মূলত অসভ্য ও ছিনাল পুরুষ যারা নারীকে, নির্জন ঘরে একা পেয়ে অথবা তার কোন আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে তাকে ব্লাকমিলের মাধ্যমে সেক্স করে তাদের ক্ষেত্রে সে এটা করতে পারে। পরকিয়া প্রেমিক যার কাছ থেকে টাকার জন্য নিজের শরীর প্রদান করে তাদের ক্ষেত্রেও। অতএব নারী পরকীয়ায় জড়ালেও, তার যৌনিতে অন্য কারো পেনিস প্রবেশ করার সুযোগ প্রদান করলেও, মস্তিষ্ক থেকে ডোপামিন ও এন্ড্রোপিন রিলিজ হলেও, তার যৌনি কিন্ত ঠিকই তার স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত আচরণ করে!


মূলত আমরা অর্গাজম পেয়েছি আমাদের বৃক্ষবাসী পূর্বসূরী থেকে। নারী প্রাইমেটদের মধ্যেও ক্লাইটোরিস দেখা যায়। শিম্পাঞ্জির ক্লাইটোরিস আমাদের থেকে বড়। নারী একবার এক্সাইটেড হলে, সে তার পছন্দের পুরুষের সাথে মিশতে চায়, যা বলে যে নারী শিম্পাঞ্জির মধ্য বেশ কয়েকবার ক্লাইম্যাক্স ক্রিয়েট হয়। অর্গাজমের পর ব্লাড প্রেসার, রেসপায়ারশন, হৃদস্পন্দন, পেশির টেনশন, হর্মোন লেভেল চেঞ্জ হয়ে যায়, ভোকাল টোন স্বতন্ত্র হয়ে উঠে, তারা খুবই নরম ও বিনীত গলায় কথা বলে, এ স্বর এমন একটি স্বর যা পুরুষের নিকট মহাবিশ্বের যে কোনোকিছু অপেক্ষা অধিক মূল্যবান। অন্যান্য সৃষ্টির মধ্যেও অর্গাজম আছে। লুসির মধ্যেই সর্বপ্রথম অর্গাজম দেখা গিয়েছিল যা সে আর্দি বা আদির কাছ থেকে উত্তরাধিকার সুত্রে পেয়েছে, অর্গাজমই নির্বান, অর্গাজমই শান্তি ও মুক্তি।  ফিমেইল অর্গাজমের সাপেক্ষে আমার নিজস্ব হাইপোথেসিস হলো, মূলত পুরুষরা দেখতে চায় নারীর যৌনি থেকে কিছু একটা বের হোক। কারণ সে আসলে নারীকে সন্দেহ করে। আমাদের আদিম পূর্বসূরীরা যখন হারেম ও হর্ডে বাস করতো তখন থেকেই এ সন্দেহ জন্মলাভ করেছে এবং জিনগতভাবে আমরা এখনো সে সন্দেহ লালন করছি। একটি তত্ত্ব অনুসারে, পুরুষ নারীর যৌনিতে ১০-২০ মিনিট স্ট্রোক করে শুধু মাত্র তার যৌনি থেকে অন্য পুরুষের স্পার্ম থাকলে সেটা বের করে দেয়ার জন্য। এইবার মনে করুন, বিশ মিনিট পর নারী যৌনি থেকে সেই তরল নিসৃত হলোনা। এটা কী পুরুষটিকে সফলতার সিগনাল দিচ্ছে? নিশ্চয় নয়! পুরুষটি তখন থেকেই আপনাকে অকৃতজ্ঞ ও অসভ্য ভাবতে শুরু করবে! সে ভাববে আপনি বহুগামী! সে ভাববে, নারীটি হয়তো আসলে অনেক পুরুষের পেনিস নিতে নিতে এখন তার পেনিস নারীর যৌনিতে কোন স্টিমুলেশন তৈরি করতে পারছেনা! নয়তো, খামোখা নারীর যৌনি থেকে একটা তরল বের করার জন্য পুরুষ পেনিস দিয়ে এতবার স্ট্রোক করছে কেনো? আমার জানা মতে জগতে এমন একটা পুরুষ পাওয়া যাবেনা যে নারীর যৌনিতে স্ট্রোক করতে চায়না, সে এটাকেই,  তার বিরত্ব মনে করে, আমি নিজেও চাই,যদি ক্ষমতা থাকতো তবে মানুষ সব  ছেড়ে অনন্তকাল নারীকে  স্ট্রোক করতো  কিন্তু এটি কেনো? আমি কী সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য এমন করছি! How funny! পৃথিবীর ৩.৮ বিলিয়ন পুরুষের মধ্যে একজন পাগলও খুঁজে পাওয়া যাবেনা যে সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য বা জিনের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেক্স করে, আমরা পুরুষরা শুধু নারীর গলার শিটকার শুনতে চাই, তার চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু জল দেখতে চাই, আর তার যৌনিতে অর্গাজম দেখতে চাই! নারীর অর্গাজম আমাদের মনে আত্মবিশ্বাস জন্ম দেয় বলে আমি তার প্রতি সেন্স অব এটাচম্যান্ট ফিল করবো এটা আমি মানিনা, কারণ আমার মধ্যে একপ্রকার জেলাসি ছিলো, তাই আমি তাকে স্ট্রোক করছি। আর এখানেই আমার হাইপোথিস, আমি মনে করি নারীর যৌনি থেকে নির্গত তরল আমাকে বলে যে, অন্য কোন পুরুষের স্পার্ম এখন আমার ভ্যাজাইনায় নেই, সেটা আমি বের করে দিলাম, আমি তোমার, আমি শুধুই তোমার! এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, যে নারী কখনো সেক্সই করনি, তার ক্ষেত্রে? উত্তর সহয, মিলিয়ন বছর অতীতের জিনগত সন্দেহ পুরুষের মধ্যে কাজ করে আর নারীর যৌনিও সে সন্দেহ দূর করার জন্য বিশেষভাবে দক্ষ আর মিঃ পারফেক্ট পেলে সে তাকে নিশ্চতার সিগনাল দেবেই! প্রাইমেটদের অনেক প্রজাতি আছে যারা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সেক্স করেনা। মাসের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি সময় আছে যেটিকে বলে এস্ট্রাস। তারা শুধু এস্ট্রাসের সময় সেক্স করে। কিন্তু মানুষ এস্ট্রাস হারিয়ে ফেলেছে, আমাদের নারীরা যেকোন সময় যেকোন মুহূর্তে তার ভালোলাগলেই সে সেক্স করতে পারে। কিন্ত কেনো তারা এস্ট্রাস হারালো? আমেরিকার বিবাহিত মহিলারা প্রতি সপ্তাহে তিনবার সেক্স করে। এটা নির্ভর করে বয়সের উপর। আবার অনেক সংস্কৃতিতে তারা প্রতিদিন, প্রতিরাত সহবাস করে, নারীর যৌনিতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও তারা পেনিসটা রাখতে চায় কিন্তু যুদ্ধ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা অন্যান্য কাস্টমের সময় তারা এটা স্থগিত রাখে। মেনোপজের সময়ও সেক্স শেষ হয়ে যায়না। এর মানে এই নয় যে নারীর মধ্যে সবসময় লিবিডো বা যৌন আসক্তি কাজ করে কিন্তু হেলেন ফিশার বলেন, তারা তাদের Period of Heat হারিয়েছে যা তাদেরকে যেকোনো মুহূর্তেই সেক্স করতে সক্ষম করে তোলে, যেকোনো পরিস্থিতিতে!


কিন্তু কেনো সেপিয়েন্স Period of Heat হারালো?

এর  সাপেক্ষে কয়েকটি থিয়োরি আছে। একটি তত্ত্ব বলছে, আদিম পূর্বসূরীরা যুগল ভালোবাসার সম্পর্ক গঠন করার জন্যই Period of Heat হারিয়েছে। যেনো তারা পুরুষের সাথে যেকোনো মুহূর্তে সেক্স করতে পারে কারণ পুরুষ জেনেটিক্যালি বহুগামী, তাকে নিজের সাথে বেধে রাখার উপায় একটাই, যেকোনো মুহূর্তেই প্রস্তুত থাকো। এছাড়া তাদের শাশ্বত স্পেশাল ফ্রেন্ড তো আছেই। পরকিয়ারও একটা ভুমিকা আছে। গোপন পরকিয়া লুসি ও তার বান্ধবীদের এক্সট্রা-রিসোর্স এনে দিতো আর যারা যেকোনো সময় উত্তক্ত হতে পারতো তারাই সে এক্সট্রা-সাপোর্ট পেতো। লুসির স্পেশাল ফ্রেন্ড যখন অনেক দূরে শিকার সংগ্রহের জন্য যেতো আর তার ভাই লুসির সাথে বাদাম সংগ্রহ করতে যোগ দিতো, লুসি নিশ্চয় এস্ট্রাসের জন্য অপেক্ষা করতো না। লুসির সেকচুয়াল রিসেপ্টিভিলিটির পিরিয়ড এক মাস সক্রিয় ছিল, অন্তত ২১ দিন, সে দীর্ঘকালীন সম্পর্ক করতো আবার পাশাপাশি গোপন পরকিয়া, যার মধ্য দিয়ে সে অধিক নিরাপত্তা আদায় করতো। আর এভাবে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর সেকচুয়াল রিসেপ্টিভিলিটি তার মধ্যে তৈরি হয়েছিল। যে নারীরা গর্ভকালীন অবস্থায় বেশি বেশি সেক্স করতো, সন্তান জন্মের পর তারা এক্সট্রা সাপোর্ট পেতো। আর এভাবেই আধুনিক নারীদের মধ্যে কন্টিনিউয়াল সেকচুয়াল একটিভিটি বিবর্তিত হয় বলে, হেলেন ফিশার মনে করেন।


সাইলেন্ট অভিউলেশন

নারীরা তাদের এস্ট্রাস হারিয়েছে। তাদের মধ্যে এখন মিড সাইকেল অভিউলেশন দেখা যায়না। কিন্তু তার মানে কী এই যে তারা শাশ্বত এস্ট্রাস লাভ করেছে? ওভারি থেকে ডিম্বস্ফোটনের পূর্বে, সার্ভিক্সের আঠালো শ্লেষা পিচ্ছিল হয়ে যায়, মসৃণ ও প্রসারণযোগ্য। কিছু নারী ক্র‍্যাম্পিং ফিল করে। সে সময় কিছু রক্ত নিসৃত হয়। তাদের চুল তৈলাক্ত হয়ে উঠে, ব্রেস্ট খুব সেনসেটিভ হয়ে যায়, স্বাভাবিক অবস্থার থেকে শক্তি বেড়ে যায়। অভিউলেসনের সময় নারীর শরীরের তাপমাত্রা পরিপূর্ণভাবে বেড়ে যায় বলে হেলেন ফিশার মনে করেন অথবা নরমাল থাকে পরবর্তী মাসিক পর্যন্ত। তাদের বডি ভোল্টেস উচ্চতর হয়ে যায়,তারা ইলেক্ট্রিক্যালি অনেক বেশি চার্জড হয়ে উঠে। কিন্তু এ সময় ছাড়া বাকি সময়ও অভিউলেসন কাজ করে কিন্তু তাদের মধ্যে কোনরকম শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা যায়না। এটাকে সাইলেন্ট অভিউলেশন বলে?


 সাইলেন্ট অভিউলেশন এর বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা কী?

নারীরা অন্যান্য প্রাইমেটদের মতো মিড সাইকেলে সেক্স পাগল হয়ে উঠেনা, যাদের যৌনি এস্ট্রাসের সময় স্ফিত ও রক্তিম হয়ে উঠে এবং সুস্পষ্ট ডিম্বস্ফোটনের ফলে লোভনীয় এরোমেটিক ঘ্রাণ নির্গত করে এবং সুসংহত কোর্টিং এর ঈশারা। আর মানব নারীরা জানেইনা যে তারা কখন উর্বর হয়েছে। অনেক সময় তারা সেক্স করতেই থাকে প্রেগন্যান্ট হওয়ার জন্য এবং পূর্ব সতর্কতা অর্জনের জন্য যদিনা সে সন্তান জন্ম দিতে চায়। মানব নারীদের ক্ষেত্রে অভিউলেসন ক্যান্সেল হয়ে যায়। কিন্তু এ সাইলেন্স অভিউলেশনের সবচেয়ে অপ্রাসঙ্গিক ও বিরক্তিকর দিক হল, এই সাইলেন্ট অভিউলেশন এর কারণে, মিলিয়ন মিলিয়ন নারীর মধ্যে , বিলিয়ন বিলিয়ন অপ্রত্যাশিত প্র‍্যাগন্যান্সির ঘটনা সংঘটিত হয়। কিন্ত লুসির সময় এ সাইলেন্ট অভিউলেসন টিকে থাকার জন্য উপযোগী ছিল। যদি লুসির পার্টনার এটা বুঝতে না পারে যে কখন সে উর্বর তবে সে রেগুলারলি সেক্স করবে যাতে সন্তান জন্ম হয়। আর অন্যদিকে সাইলেন্ট অভিউলেশন “স্পেশাল ফ্রেন্ডদের” নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাছে ধরে রাখে। আর এতে করে সে এক্সট্রা প্রোটেকশন পায় ও মাংস। প্রণয়ীরাও জানতোনা যে লুসি আসলে কখন অভিউলেটিং হয়। এজন্য তারও লুসির প্রতি অনেক বেশি মনোযোগ কাজ করে। আর যেহেতু এই এক্সট্রা-লাভার সন্তানের জন্য খুবই বিগলিত, অতএব লুসির গর্ভে যার সন্তানই জন্ম হোক সে যত্ম নেবে। এছাড়া পুরুষও অনেক বেশি সেক্স চায়। এস্ট্রাস হারানোর ফলে, নারী সঙ্গী নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেকচুয়ালি Available হয়ে উঠে।এক্সট্রা ফিমেইল লাভাররাও সেক্স করতে প্রস্তুত। সাইলেন্ট অভিউলেশন এর কারণে পুরুষ এখন প্রতিযোগী পুরুষের সাথে যুদ্ধ করতোনা কারণ তার স্ত্রীর মধ্যে উর্বরতার কোন সিগনাল দেখা যাচ্ছেনা। হেলেন ফিশার তার এ তত্বে আরো বলেন, Silent Ovulation kept peace! সাইলেন্ট অভিউলেশনের কারণে একটা সময় লুসিও হয়তো সঙ্গী নির্বাচনে একটু সতর্ক হয়ে উঠে। নারীদের মধ্যে আজো সেই সতর্কতা দেখা যায়। তারা সেক্সের ব্যাপারে অনেক বেশি রক্ষণশীল। আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে এখন সাইলেন্ট অভিউলেসন তেমন কোন সমস্যা সৃষ্টি করেনা কিন্তু এর আরো একটি উপকারীতা আছে। আধুনিক সমাজে একজন নারীর কখন অধিক উত্তপ্ত থাকে সেটা বিশেষজ্ঞ পুরুষ ছাড়া সাধারণ পুরুষ বুঝতে পারেনা। কোন সময় নারীকে স্পর্শ করলে সে বিগলিত হয়ে যাবে এটা বোঝার ক্ষমতা পুরুষের নেই, যার জন্য সে চাইলেই নারীর সে দূর্বলতার সুযোগ নিতে পারেনা! নারী শিম্পাঞ্জির মতো যদি মানুষেরও এস্ট্রাসের সময় সুস্পষ্ট কিছু শারীরিক পরিবর্তন ঘটতো তবে তার প্রতি অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতো। ফিশার ঠিকই বলেছেন, সাইলেন্ট অভিউলেশন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, যদিও এর মূল্য চুকাতে হয়েছে, Unwanted Pregnancy জটিলতাকে বরণ করে নিয়ে, আর ঠিক একই কারণে নারীদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব গ্রহণ করার প্রবণতাও বেড়েছে অনেক বেশি! দুঃখ্যজনক ব্যাপার হলো আমরা নারীর মনস্তত্ব আসলে বুঝতে পারিনা। বড় পেনিস, পুরুষের দাঁড়ি, গভীর গলার স্বর, নারীর স্মুথ কম্পপ্লেক্সিটি, মাদকাসক্ত গলার স্বর,ঝুলন্ত স্তন, মুখোমুখি সহবাস, নারীর অর্গাজম, নিরবিচ্ছিন্ন সেকচুয়াল রিসেপ্টিভিটি; সিরিয়াল পেয়ার বন্ডিং এর বিবর্তন এবং গোপন পরকিয়ার সম্পর্ক আমাদের দেহকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে শুরু করে। আর সময়ের সাথে আমরা পোশাক পরিধান করতে শুরু করি। আদিম নারী ও পুরুষরা বন্ধন গঠন করতো এবং দলবদ্ধভাবে বাস করতো; তাদের ব্রেনও এর প্রভাবে বিবর্তিত হয়েছিল। মানব মন এখন উড়ে যেতে পারে।


দি ম্যাটিং মাইন্ড

মনোবিজ্ঞানী জেফরি মিলার মানুষের ব্যাতিক্রমী কিছু দক্ষতা দেখে খুবই সংকট অনুভব করেছিলেন। তার The mating Mind নামক গ্রন্থে মিলার লিখেন, ডারউইনের মূল তত্ত্ব বলছে, মানুষ বিবর্তিত হয়েছে এক্সট্রা-টেরিস্টিয়াল মেন্টাল ট্যালেন্টের একটি হোস্ট হিসেবে আর এসবের বিবর্তন ঘটেছে শুধুমাত্র সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য। আমাদের হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স, লিঙ্গুইস্টিক স্কিল অথবা মিউজিক্যাল এবিলিটি, আমাদের ভিজুয়াল আর্ট, স্টোরিস, মিথ, কমেডি এবং ড্রামা। খেলাধুলার প্রতি আমাদের তৎপরতা, আমাদের সুতীব্র কৌতুহল, আমাদের কমপ্লেক্স প্রবলেম সমাধান করার সক্ষমতা, আমাদের নৈতিক গুণ, আমাদের ধর্ম, আমাদের দয়া ও দান করার মানসিকতা(Charitable Giving),আমাদের রাজনৈতিক উপলব্ধি, সেন্স অব হিউম্যার, সাহসিকতা, বাতুলতা, অধ্যাবসায় এবং করুণা, মিলার দাবি করেন, এগুলো অনেক বেশি অলংকৃত এবং বিপজ্জনকভাবে ব্যায়বহুল, একটা উদ্দেশ্যেই বিবর্তিত হয়েছিল আমরা যেনো শুধু আর একটি ন্যানোসেকেন্ড, আর একটি মিনিট, আর একটি দিন, আর একটি মাত্র বছর একটু বেশি টিকে থাকতে পারি! এ সকল এক্সেপশনাল মানবীয় বৈশিষ্ট্য বিবর্তিত হয়, অন্ততপক্ষে, মেটিং গেমের এর একটি অংশ হিসেবে। মিলারের মতে, আমরা কোর্টশিপ মেশিন। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করেন, আমাদের যে সকল পূর্বসূরী, কাব্যিকভাবে কথা বলতে পারতো, চাতুর্যের সাথে অংকন করতে পারতো, ঈশ্বর্যময়তার সাথে নৃত্ত করতে পারতো, নিপুনতার সাথে যন্ত্র তৈরি করতে পারতো, ভালো কুড়েঘর তৈরি করতে পারতো, যারা বেশি বেশি জ্বালাময়ী নৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারতো, তারা বিপরীত লিঙ্গের কাছে ততবেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠতো। আর এভাবে এ সকল বুদ্ধিমান নারী ও পুরুষের অধিক সংখ্যক ভালোবাসার মানুষ থাকতো ও তারা অনেক বেশি সন্তান উৎপাদন করতে পারতো। আর ধীরে ধীরে আমাদের এমন অজস্র অত্যাশ্চর্য মানসিক ক্ষমতা আমাদের জেনেটিক্যাল কোডে লিপিবদ্ধ হয়ে উঠে। কারণ যে সকল জিন হায়ার ইন্টেলেকচুয়ালদের মানুষের ব্রেন স্ট্রাকচার তৈরি করেছে সে সব মানুষের ব্রেনই শুধু তাদের জিনকে ভবিষ্যত প্রজন্মে রেখে যেতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের পূর্বসূরীরা যদিও স্বতন্ত্র কিন্তু তারা মানব দক্ষতার বিপুল বৈচিত্র‍্যতা তৈরি করে রেখে গেছে।মিলার একমত যে এগুলো সাধারণ রুপ। এসবের মধ্যে অনেক বৈশিষ্ট্য ছিল, যা প্রাচীন আফ্রিকার তৃণভূমিতে সার্ভাইভ করার জন্য উপযোগী ছিল। এ ট্যালেন্টের অজস্র উদ্দেশ্য আছে। কিন্ত আমাদের পূর্বসূরিদের এসব উন্নত প্রবণতা প্রয়োজন ছিল টিকে থাকার জন্য, শিম্পাঞ্জিও তার মধ্যে এসব মানসিকতা উন্নত করতে পারতো কিন্তু তারা পারেনি। অতএব আমাদের এরকম অসংখ্য প্রবণতা অধিক থেকে অধিকতর জটিল হয়ে উঠে কারণ আমাদের অপজিট সেক্স এসকল বৈশিষ্ট্য পছন্দ করতো, তারা সেসব মানুষকেই পছন্দ করেছিল যাদের ভার্বাল, মিউজিক্যাল, আর্টিস্টিক ও অন্যান্য ট্যালেন্ট আছে আর এভাবে শুধু সে সকল মানুষের DNA’ ই ভবিষ্যত সময়ে ভ্রমণ করতে পেরেছে। মিলার বলেন, The mind Evolved by Moonlight! কিন্তু প্রশ্ন হল, কিভাবে আমাদের এনসেস্ট্রাল নারীরা এক্সট্রা-অর্ডিনারী ক্ষমতাসম্পন্ন পুরুষদের নির্বাচন করেছিল? নিশ্চয়, ঠিক সে সময় তাদের মস্তিষ্কে এমন কোন ম্যাকানিজম বিবর্তিত হয়েছিল যার মাধ্যমে তারা প্রেমময় কবিতা, গানের সুর, তান, লয়, রাগ, রাগীনি বুঝতে শুরু করছিল, তারা আকর্ষণীয় চিত্রকল্প ও অন্যান্য চিত্তাকর্ষক বৈশিষ্ট্য অনুভব করতে পেরেছিল যা কোন একজন প্রযোজক তৈরি করেছে। হেলেন ফিশার ও তার সহকর্মীরা একদল ব্যক্তির মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখেন, মস্তিষ্কের ঠিক কোন অংশ সৌন্দর্যের উপলব্ধিতে একটিভিটি প্রকাশ করে, তারা প্রদর্শন করেছিলেন, Left ventral Tegmental এরিয়ার একটিভিটি( Right VTA এর পরিবর্তে যেটি রোমান্টিক ভালোবাসার জন্য দায়ী)। এরপর তার দল সিদ্ধান্তে আসেন, Right VTA সৌন্দর্য বা অলঙ্কারিক উপলব্ধির সাথে সম্পৃক্ত, রোমান্টিক ভালোবাসার পরিবর্তে! আর এ ব্রেন সার্কিট যা আমাদের সৌন্দর্যের উপলব্ধির সাথে সম্পৃক্ত, এটিও বিবর্তিত হয়েছে ৩.২ মিলিয়ন বছর পূর্বে লুসির সময়ে। লুসি সে পুরুষে প্রতিই ক্রাশ খেয়েছিল যার ছিল সুরেলা কন্ঠ, উত্তেজনাদায়ক চিত্রকলা, সে মাথা খারাপ করে দেয়ার মতো চোখের পলক ফেলতো অথবা আরো এক্সেপশনাল কোন ট্যালেন্ট ছিল। কিছু এক্সেপশনাল অস্ট্রোলিপিথ তার মস্তিষ্কের L-VTA তে স্টিমুলেট করেছিল, তার ব্রেন থেকে ডোপামিন নিসৃত হয়েছিল তার ব্রেন মাদকাসক্ত হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে কোন অস্ট্রোলিপিথের সুরেলা কন্ঠের ওয়েবসাইকেল শুনে লুসির কেঁপে কেঁপে উঠেছিল, তার নেশাগ্রস্ত মস্তিষ্ক সেই বুদ্ধিমান পুরুষের কাছে নিজেকে সমর্পন করেছিল কোন এক বিশাল মেহহুনী বৃক্ষের তলায় আর বারবার অনুনয়ের চোখে তাকিয়ে ছিলো, তার ঈশ্বর অস্ট্রোলোপিথের দিকে তার মনে উচ্চারিত হয়েছিল, আমি আর পারছিনা দেব , আমায় আপনি যা খুশি করুন, যেখানে খুশি নিয়ে যান, আমাকে মেরে ফেলুন, আমার সামনে এখন আর কোন লজ্জা নেই, কোন ভয় নেই, কোন সংশয় নেই, আমি সময় ও স্থানের সীমারেখা অতিক্রম করে শূন্য মহাশূন্য হয়ে গেছি! এভাবেই নারীরা ঈশ্বরের সাথে মেটিং করে, ঈশ্বরের জিনকে তার যৌনিতে প্রবেশ করার অনুমোদন দেয়, আর তারা ঈশ্বরের সন্তান প্রসব করে, তার জরারু ছিটকে কোটি কোটি বুদ্ধিমান ঈশ্বরপুত্র বেরিয়ে আসে ও সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়, একদিন হয়তো তারা ছড়িয়ে যাবে অন্য কোনো গ্রহে অথবা গ্যালাক্সিতেও!


কোর্টশিপে প্রতারণা

হেলেন ফিশার বলেন, নারী ও পুরুষ দুজনেই একে অন্যকে ইম্প্রেস করার জন্য অতিরঞ্জিত কথাবার্তা বলে। কোর্টশিপ আসলে সততার কিছু নয়; এটি হলো একটি প্রতিযোগিতা, এটি জয় করার বিষয়। তিনি বলেন, আমাকে ভুল বুঝবেননা, সততা হলো সঙ্গী পাওয়ার খরচ! আমরা যেমন একটা কম্পিউটার ক্রয় করার জন্য একটা নির্দিষ্ট এমাউন্টের ডলার খরচ করি ঠিক তেমনি একজন পুরুষ নারীকে পাওয়ার জন্য সততা নামক একটি ডলার ব্যয় করে! কোন হরিণই তার শিঙকে ছোট হিসেবে প্রদর্শন করতে চায়না,সবাই যার যার শিং উপরের দিকে মেলে ধরে! নারীরা সততা দ্বারা প্রতারিত হয় এবং পুরুষও! অধিকাংশ নারী সততার ফ্যান্টাসিতে আক্রান্ত! ফেসবুকে যদি কেউ সামান্য শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে মার্জিত ভাষায় একটা পোস্ট করে আর আপনি যুক্তিসঙ্গতভাবে উত্তর দেন তবে অধিকাংশ নারী ও পুরুষ সে ব্যক্তিকে সাপোর্ট করবে যে সততা নামক একটা মুখোশ পরিধান করেছে। এবং আপনি দেখবেন, সোশ্যাল মিডিয়াগুলোয় প্রতিটি মানুষ হরিণের শিঙের মতো নিজেদের মতামতকে সার্বাধিক নৈতিক, যৌক্তিক ও সৎ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। মূলত, তাদের এ আচরণগুলো হলো জেনেটিক্যাল লজিক, তারা চাচ্ছে সম্ভাব্য কোন নারীর কাছে তার জ্ঞান, বুদ্ধি, সততা ও নিষ্ঠার মেসেজ পাঠাতে!  স্বভাবতই যেখানে নারী দেখবে সেখানে পুরুষরা নিজেকে শো-আপ করবে এবং সে একেবারে মূর্খ হওয়ার পরও বোঝাতে চাইবে সে আসলে কোন না কোন দিক থেকে খুবই অনেস্ট ও একদম একা! যে সংঘঠনে নারী আছে সে সংঘঠনে পুরুষরা অনেক বেশি ক্রিয়েটিভ হয়ে উঠে, তাদের মধ্যে সততা, নিষ্ঠা, ভদ্রতা ও আত্মসংযম বেড়ে যায়। কোনো না কোনো ভাবে কোন না কোন ক্ষেত্র থেকে সে তার শিঙ তুলে দেখানোর চেষ্টা করে আমিও আসলে কোনো অংশে কম নই! এ প্রতারণামূলক আচরণগুলো বিবর্তিত হয়েছে তখন যখন আমাদের পূর্বসূরিরা বৃক্ষ থেকে আকস্মিক তৃণভূমিতে নেমে আসে। ভদ্রতা, নম্রতা, সৌজন্য, ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতি অথবা শালীনতা সেটা যত তীব্র হোক, যত নিবিড় হোক, সেটা যতোই সীমাহীন হোক এগুলো এক একটি প্রতারণা, আর আমরা এটা করছি আমাদের জেনেটিক্যাল লজিক মেনে, কারণ আমাদেরকে অবশ্যই ভবিষ্যত প্রজন্মে আমাদের DNA রেখে যেতে হবে! সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অচেতন হওয়ার কারণে ধার্মিক ও স্প্রিচুয়ালিস্ট ও মহান কবি, সাহিত্যিকরা আমাদের অপছন্দ করেননা ! তারা বলেন, তাদের চেতনার পক্ষে ডিএনএ’র সিকোয়েন্স যেমন চেঞ্জ করা সম্ভব ঠিক তেমনি তাদের পক্ষে এটাও সম্ভব যে তারা জিন ও ব্রেন স্ট্রাকচারের বাহিরে চলে যাবে! একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে সেই অতীতের স্বার্থপর আত্ম বিশেষত্বেরই একটি বিজ্ঞাপন, এখানেও বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কীসের সেলফিশ জিন, কীসের বিবর্তন, আমি এসবের কিছুই মানিনা, এখানে বরাবর সে বিবর্তনের সত্যকেই বাস্তবায়ন করে, মূল উদ্দেশ্য একটা যৌনাঙ্গ বা পেনিস অথবা আরো সুক্ষ্মতরভাবে বললে, মূল উদ্দেশ্য শুধুই জিনের কপিপেস্টশন! আমরা সবাই সবাইকে প্রতারিত করছি, সততা নামক একটি সুন্দর মুখোশ পরিধান করে, কারণ আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি আমাদের স্বার্থপর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে! মেটিং এর ক্ষেত্রে সভ্যতা, ভদ্রতা ও নৈতিকতা অনেক বড় মাপের একটি ব্যায়। কল্পনা করুন, পুরুষের উচ্চতার কথা। সমস্ত বিশ্ব জুড়ে নারীরা লম্বা পুরুষের দ্বারা আকৃষ্ট হয়। কারণ লম্বা পুরুষরা ভালো জব পায়, বেশি বেশি উপার্জন করতে পারে। আর এ জন্য পুরুষরা তাদের উচ্চতা সম্পর্কে ইন্টারনেট সাইটগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিথ্যা বলে! কারণ পুরুষরা মনে করে নারী তার এই গুল মারাকে উপেক্ষা করবে যখন সে তার অন্যান্য কোয়ালিটিগুলো দেখবে। আর নারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার শরীরের ওজন ও বয়স লুকাতে পছন্দ করে। আপনি এখন জানেন যে যার কোমরের পরিধি নিতম্বের ৭০ শতাংশ তার মধ্যে সঠিক মাত্রার ইস্ট্রোজেন, টেস্টাস্টোরন ও অন্যান্য হর্মোনগুলো উপস্থিত রয়েছে। যা একটি স্বাস্থ্যবান সন্তান তৈরি করার জন্য দায়ী। অতএব একজন আকর্ষণীয় পুরুষ অবশ্যই সে নারীর প্রতিই প্রভাবিত হবে যার ভারসাম্যময় ফিগার আছে। কিন্তু এত সুস্পষ্ট বিষয়ে কেনো তারা মিথ্যা বলছে? Mae west উত্তর দেন, দেখিয়াও না দেখা একেবারে উপেক্ষা করা থেকে উত্তম। (It is better to be looked over than overlooked) । প্রাণীদের মধ্যেও প্রথম দেখায় মিথ্যা প্রদর্শনীর একটি স্বভাব রয়েছে। আপনি যদি একটা বস্তুবাদী গ্রুপ খোলেন তবে সেখানে দু-রকম মানুষ দেখবেন। এক- যারা নিজেরাও বস্তুবাদী কিন্তু আপনার থেকে অনন্য। অথবা এক্সট্রিম ভাববাদী, আপনার থেকে অনন্য! এর মাঝামাঝি অনেক রুপও দেখা যাবে আর এর কারণ নয়তো তারা মেটিং গেমে জয় লাভ করতে পারবেনা! এমনকি সেখানে যদি কোন নারী নাও থাকে পুরুষের মধ্যে এ অদ্ভুত বৈচিত্র্যতা দেখা যাবে। যেটাকে বলে মাল্টিপল ট্যালেন্ট। বুদ্ধিমত্তা, খিলাড়ি মেন্টালিটি, কৌতুহল, সৃষ্টিশীলতা, সেন্স অব হিউমার, ব্যক্তির মূল্যবোধ, ব্যক্তির উতসাহ, গণিত সমাধান করার ক্ষমতা এবং অন্যান্য ব্যাতিক্রমী গুণগুলো অবশ্যই বিবর্তিত হয়েছিল কারণ লুসি ও তার সঙ্গীরা এবং আরো অনেকেই তাদের স্পেশাল ফ্রেন্ড ও প্রেমিকের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন রকমের ট্যালেন্ট প্রত্যাশা করতো! আর এ যে ক্ষমতার ঘাটতি সে ঘাটতি পূরণ করার জন্য সে অন্যদিক থেকে সমৃদ্ধ হয়ে উঠতো! যেমন- আমি অর্থনৈতিকভাবে উন্নত নয়, আর এ জন্য আমি শারীরিক সৌন্দর্য, চিন্তার সৌন্দর্য, লিখার সৌন্দর্য ও মহাবিশ্বকে বোঝার ব্যাসিক মেকানিজম উন্নত করছি । আমার মাঝে কাব্য তৈরি হচ্ছে, সাহিত্য তৈরি হচ্ছে , সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে , বিজ্ঞানিক জ্ঞান ও অতি- নৈতিকতার মুখোশ তৈরি হচ্ছে! অচেতনভাবেই আমার সেলফিশ জিন আমার মস্তিষ্কের ভেতর ভিন্ন ভিন্ন ডায়মেনশনের ট্যালেন্ট ডেভেলাপ করে দিচ্ছে, যেনো আমি এক্সট্রিমলি কোন নারীর দ্বারা রিজেক্ট না হই, অন্তত কেউ না কেউ যেনো আমার পাশে এসে দাঁড়ায় কিন্তু আমার যদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি থাকতো তবে হয়তো আমি এখন নিজের মস্তিষ্কের ডোপামিন সার্কিটকে ট্রিগার করার জন্য একের পর এক নারী বদলাতাম, দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াতাম, আমিও নোংরা ও ফালতু ভোগবাদী স্রোতে মিশে যেতাম! তবুও আমার স্বার্থপর জিন আমাকে এমন কিছু কোয়ালিটি প্রদান করেছে যে, অন্তত আমাকে কেউ গিলতে না পারলেও পুরোপুরি ফেলে দিতে পারবেনা ঠিক তেমনি আদিম পূর্বসূরীদের এক একজন এক এক দিকে পারদর্শী ছিলো আর নারীদের মন জয় করতে একজন খাটো পুরুষ হয়তো নিজের অদ্ভুত সুন্দর চুল তৈরি করেছিল, হয়তো সে খুব ভালো সংগীত পরিবেশন করতো, তার নৈতিক ও দার্শনিকবোধ ছিল মোটা বেটে সক্রেটিসের মতোই উন্নত, আর এভাবেই বুদ্ধিমত্তা ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠে, স্থুল দৃষ্টিতে, নারীরাই পুরুষের মস্তিষ্কের ঈশ্বর ( Vice versus) ! হেলেন ফিশার বলেন, Nature Has Excluded almost no one from the mating Dance! (অস্ট্রোলোপিথের ভালোবাসার সন্তান)

hsbd bg