মূলপাতা কনসাসনেস সেপিয়েন্স কনসাসনেস

সেপিয়েন্স কনসাসনেস

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
207 বার পঠিত হয়েছে

 

সেপিয়েন্স কনসাসনেস; আমাদের ব্রেন কিভাবে ফোর্থ ডায়মেনশনকে ব্যাবহার করে ফিউচার সিমুলেট করতে পারে?

Part-11

স্পেস এন্ড টাইম থিওরি অব কনসাসনেস অনুসারে মানুষের চেতনা এনিমেলদের থেকে আলাদা কিছু নয়।চার্লস ডারউইন বলেছিলেন, মানুষের সাথে নিন্মমাত্রিক প্রাণীদের চেতনার পার্থক্য ডিগ্রিগত,প্রকারভেদগত নয়।কিন্তু মানুষের কনসাসনেসকে পশুদের থেকে কোন বৈশিষ্ট্যগুলি আলাদা করে দিয়েছে?পশুদের রাজত্বে মানুষই একমাত্র “Concept of Tomorrow” কে বুঝতে পারে।আগামীকাল সম্পর্কে আর কোনো প্রাণীর মস্তিষ্কেই ইমাজিনেশন কাজ করেনা।বিজ্ঞানীরা পশুদের মস্তিষ্ককে স্ক্যান করে দেখেছেন স্বপ্ন দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্ক যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সিতে রেসপন্স করে তাদের মস্তিষ্কও ঘুমের মধ্যে একই ফ্রিকোয়েন্সীতে রেসপন্স করছে এর থেকে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে এসেছিলেন, কিছুকিছু মানুষের মস্তিষ্কে স্বপ্নের মতো একটি প্রকৃয়া সংঘঠিত হয়।কিন্তু মানুষ ব্যাতীত কোনো প্রাণী সপ্তাহ,মাস এবং বছরের ব্যাপারে চিন্তা করতে পারেনা।

 

এককথায় তাদের মস্তিষ্কে “Tomorrow” বলতে কিছুই নেই তাদের নিকট শুধুমাত্র “Today” অস্তিত্বশীল বা তারা “Now” তে বাস করে।মানুষের মস্তিষ্ক মহাবিশ্বের মডেল তৈরি করতে পারে এবং সেটিকে ফিউচারে সিমুলেট করতে পারে আর এ থেকে মিসিও কাকু মানুষের কনসাসনেসকে লেভেল-III কনসাসনেস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এর একটি ডেফিনিশন তৈরি করেছেন যা এখন আমরা আপনাদের কাছে এক্সপ্লেইন করবো।

“Human consciousness is a specific form of consciousness that creates a model of the world and then simulates it in time, by evaluating the past to simulate the future. This requires mediating and evaluating many feedback loops in order to

make a decision to achieve a goal”

আমরা গতকালের মেমরি স্মরণ করতে পারি এবং সেই মেমরির ভিত্তিতে আগামীকালকে সিমুলেট করতে পারি যেটা অন্যান্য প্রাণীদের পক্ষে সম্ভব নয়, তারা শুধুমাত্র এক্সট্রারনাল ইউনিভার্সের বিভিন্ন উদ্দীপনা অনুসারে তাদের জেনেটিক্যাল শিক্ষা অনুযায়ী রেসপন্স করে বা তারা তাদের সহযাত প্রবণতা দ্বারা পরিচালিত।লেভেল থ্রি কনসাসনেসে অনেকগুলি ফিডব্যাক লুপ আছে যেগুলির ভেতর দিয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ ও ভবিষ্যত সিমুলেট করার জন্যে আমাদের CEO প্রয়োজন।

আমাদের মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাণীদের থেকে আলাদা হওয়ার কারণ হলো আমাদের একটি প্রসস্ত প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স রয়েছে, যেটি আমাদের কপালের পেছনে অবস্থিত এবং আমাদেরকে ভবিষ্যতের ভেতর দিয়ে মহাবিশ্বকে দেখতে সাহায্য করে!

হার্ভাড সাইকিয়াট্রিস্ট ডঃডেনিয়েল গিলবার্ট বলেছিলেন, মানুষের মস্তিষ্কের শ্রেষ্ঠতম অর্জন হলো মানুষের ব্রেন সে সকল অবজেক্ট এবং এপিসোডকে স্মরণ করতে পারে রিয়েল্ম অব রিয়েলে যার কোনো অস্তিত্বই নেই।যা এখনো ঘটেনি তার কোনো অস্তিত্ব নেই, আমাদের ব্রেন সাইকোলজিক্যালি সেই অস্তিত্বহীন এপিসোডকে বাস্তবতা দিয়ে সিমুলেট করতে পারে যার জন্যে আমরা ভবিষ্যতকে চিন্তা করতে পারি!অস্তিত্বহীন অবজেক্টকে অস্তিত্বশীল করে তোলার মানসিক ক্ষমতা আমাদের মধ্যে বিবর্তন বিকশিত করেছে।

ব্রেন স্কেনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ইতমধ্যে মস্তিষ্কের সেই লোকেশনটিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন যেটি ফিউচার সিমুলেশন তৈরি করে।নিউরোলজিস্ট Michael Gazzaniga মানুষের মস্তিষ্কে “এরিয়া-১০”  (the internal granular layer IV) নামক একটি স্পোট আবিষ্কার করেন যেটি প্রি-প্রন্টাল কর্টেক্সে অবস্থিত।এপসদের থেকে এই অংশটি আমাদের মাঝে অনেক বড়।এরিয়া-১০ আমাদের মেমরি এবং প্লানিং, কগনেটিভ ফ্লাক্সিবিলিটি,এবস্ট্রাক্ট থিংকিং, যথাযথ আচরণ এবং অপ্রাসঙ্গিক পরিবেশে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ, বিভিন্ন নিয়ম এবং প্রাসঙ্গিকতা বুঝতে সহযোগীতা করে যা আমরা ফিফথ সেন্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করি।(সেপিয়েন্স কনসাসনেস)

অন্যান্য প্রাণীরা শুধুমাত্র থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেসে তাদের প্লেস বুঝতে পারে, কিন্তু এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এটা পরিস্কার নয় যে তারা সিষ্টেমেটিক্যালি ফিউচার প্লান তৈরি করতে পারে “Understanding of Tomorrow” এর ভিত্তিতে।

অধিকাংশ প্রাণীদের মধ্যে সুসঙ্গায়িত Limbic System রয়েছে যার মাধ্যমে যার মাধ্যমে তারা সিচুয়েশন অনুযায়ী রিয়েক্ট করতে পারে প্রধানত তাদের ভেতরকার সহযাত প্রবণতার মাধ্যমে।কোনো প্রাণী আমাদের মতো আগামীকালের অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের উদযাপন করেনা তারা শুধুমাত্র বর্তমান মুহূর্তকেই রেসপন্স করে থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেসে তাদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে।তারা ফোরথ ডায়মেনশন বা সময়ের ভবিষ্যত ডিরেকশনকে সাইকোলজিক্যালি উপলব্দি করতে পারেনা আর এ জন্যেই প্রাণীদের মস্তিষ্কে মহাবিশ্বের কোন মডেল নেই, তাদের মাঝে বিজ্ঞানী অথবা দার্শনিক অস্তিত্বশীল নয়।(সেপিয়েন্স কনসাসনেস)

প্রাণীদের কনসাসনেস তাদের ফিফথ সেন্সের তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত।এমন কোনো প্রমাণ নেই, তারা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের অসীম সম্ভাব্য ইতিহাস থেকে নির্দিষ্ট একটি ইতিহাসকে নির্বাচন করে।তাদের অধিকাংশ প্লান শর্ট টার্ম যেটার ডিউরেশন তাদের সহযাত প্রবণতার মাঝেই সীমাবদ্ধ।

মানুষ তাদের থেকে আলাদা।আমরা যদিও অনেকক্ষেত্রেই সহযাত প্রবণতা এবং আবেগ দ্বারা পরিচালিত কিন্তু আমরা বিভিন্ন ফিডব্যাক লুপের মাধ্যমে ইনফরমেশনকে এনালায়সিস এবং ইভালুয়েট করতে পারি।আমরা অনেক সময় এমন অনেক ভবিষ্যকে সিমুলেট করতে পারি যেটা শত শত বছর ভবিষ্যতের, আমরা আমাদের লাইফ স্পেনের অতীতে চলে যেতে পারি যেমন-আইনস্টাইন দুইশত বছর পূর্বেই থিওরি অব রিলেটিভিটির মাধ্যমে গ্রেভিটেশনাল ওয়েভের অস্তিত্বকে সিমুলেট করেছে যে সিমুলেশনের সাথে প্রাক্টিক্যাল বাস্তবতা ২০০ বছর পরে পুরোপুরিভাবে মিলে গেছে যদিও আইনস্টাইনের বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই!(সেপিয়েন্স কানসাসনেস)

ভবিষ্যত সিমুলেশনের আমাদের যে এবিলিটি সেটি আমাদের মধ্যে এভোলিউশন এ জন্যেই উন্নত করেছে কারণ এর রয়েছে ব্যাপক বিবর্তনীয় উপযোগীতা।ফোর্থ ডায়মেনশনের ভেতর দিয়ে আমরা ফিউচারকে সিমুলেট করতে পারছি বলেই অজস্র বিকল্প থেকে আমাদের টিকে থাকার জন্যে সর্বোচ্চ সম্ভাবনাময় বিকল্পকেই আমরা  নির্বাচন করতে পারছি।আমাদের মস্তিষ্কের কনসাসনেসের বিভিন্ন লেভেল আছে।লেভেল-১ এবং লেভেল-২ কনসাসনেস, এবং ফিফথ সেন্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত বিভিন্ন নিউরাল ইনফরমেশনের মধ্যে প্রতিনিয়ত কনফ্লিক্ট হচ্ছে।এমতাবস্থায় আমাদের মস্তিষ্কে ফিডব্যাক লুপের ভেতর দিয়ে  সিদ্ধান্তগ্রহণের একটি CEO প্রয়োজন যদি সেটি না থাকতো তবে সেন্সরি ওভারলোডের কারণে আমাদের ব্রেন ডিসিশন নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতো।

সেপিয়েন্স কনসাসনেস

 ছবির সোর্স- Startup

 

ডেভিড ইগলম্যান স্টিকলব্যাক ফিশের উপর একটি এক্সপেরিমেন্ট করে এ বিষয়টি প্রমাণ করেছেন, এই মাছগুলি জেনেটিক্যালি এই শিক্ষা পেয়েছে যে নারীদের সাথে সেক্সের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে হয় এবং একইসাথে নিজের ভূখণ্ড বা টেরিটরি রক্ষা করতে হয়।তো আকষ্মিক যখন কোনো একটি ফিমেইল স্টিকলব্যাক ফিশ তার টেরিটরিতে প্রবেশ করে তখন তার মস্তিষ্কে একইসাথে দুটি ফিডব্যাক লুপ কাজ করে,সে কনফিউজড হয়, এবং সে ফিমেইল ফিশটাকে প্রচন্ডরকমে আক্রমণ করে আবার তারসাথে সেক্স করতেও চায়।একইসাথে ও একইসময় যুদ্ধ ও প্রেম।সে আসলেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলোনা যে তার কী করা উচিত।আর এর একমাত্র কারণ হলো প্রাণীরা অলটারনেটিভ কোনো ফিউচারকে সিমুলেট করতে পারেনা যেটা মানুষের পক্ষে সম্ভব।( সেপিয়েন্স কনসাসনেস)

কিন্তু আসলে মানুষের ব্রেন কিভাবে ফিউচারকে সিমুলেট করে?মানুষের মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ডে ৪৬ মিলিয়ন বিট ইমোশনাল এবং সেন্সরি ডাটা গ্রহণ করছে!কিন্ত ফিউচার সিমুলেশনের জন্যে সে এই ডাটাগুলির মধ্যে একটি কজাল লিংক তৈরি করে,

যেমন-যদি A সংঘঠিত হয় তবে B ঘটনাও সংঘঠিত হবে কিন্তু যদি B সংঘঠিত হয় তবে C এবং D সংঘঠিত হতে পারে।যেটাকে বলা যায় চেইন রিয়েকশন অব ইভেন্ট,মূলত সে আঁকাবাঁকা একটি সম্ভাব্য ফিউচারের বৃক্ষ তৈরি করে যার রয়েছে অজস্র শাখাপ্রশাখা।আমাদের মস্তিষ্কের CEO যেটাকে আমরা প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স বলি সেটি আমাদের মস্তিষ্কের কজাল ট্রি কে Evaluate করে এবং আল্টিমেট ডিসিশন গ্রহণ করে!

 

কেনো আমরা কৌতুকবোধ করি?কেনো মানুষ একে অপরের সাথে গল্প করতে ভালোবাসে?

স্পেস-টাইম থিওরি অব সেপিয়েন্স কনসাসনেসঃ

Part-12

মিসিও কাকু বলেছিলেন,স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস দ্বারা যদি মানব চেতনার সকল ডায়মেনশনকে এক্সপ্লেইন করা সম্ভব না হয় তবে এ থিওরিটিকে ব্যার্থ বলে গণ্য করা হবে।যদি আমাদের চিন্তার এমন কোনো প্যাটার্ন থাকে যেটাকে আমরা স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস দিয়ে এক্সপ্লেইন করতে পারছিনা তবে এটি ব্যার্থ।অনেকে সমালোচনা করে বলতে পারেন আমরা কেনো কৌতুক অনুভব করি এটা ব্যাখ্যার অতীত।আমরা কেনো বন্ধুদের সাথে গল্প করি অথবা  কমেডিয়ানদের গল্প শুনে আকষ্মিক হেসে উঠি?যেমনঃশিক্ষক তার ছাত্রদের বলল ১৭৭৩ সালে অক্সিজেন আবিষ্কৃত হয়েছে।তখন একজন ছাত্র আকষ্মিক ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে উঠলো, থ্যাংক্স গড!আমি ১৭৭৩ সালের পর জন্মগ্রহণ করেছি, নয়তো অক্সিজেনের অভাবে আমার মৃত্যু হতো!এই জোক্সটা শোনার পর আপনি হয়তো  সেন্স অব হিউমার ফিল করেছেন কিন্তু কেনো?অথবা মনে করুন আপনার একজন ফ্রেন্ড আপনাকে এসে বলল, এটমকে বিশ্বাস করোনা!আপনি সিরিয়াসলি প্রশ্ন করলেন, কেনো!সে বলল, কারণ এটমের পক্ষে যেকোনো কিছু করা সম্ভব, সে সমস্ত ইউনিভার্স তৈরি করেছে!অথবা আলো শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে পথ চলে অতএব তোমার শব্দ আমার কানে আসার পূর্বেই আমি দেখবো তুমি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছো!এ কৌতুক গুলি শোনার সাথেসাথে আমরা কেনো সেন্স অব হিউমার ফিল করি?এটা কী স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেসের মাধ্যমে এক্সপ্লেইন করা যাবে?

যখন আমরা একটি কৌতুক শুনি তখন আমাদের ব্রেন ফিউচারকে সিমুলেট করে, আমরা মনেমনে কৌতুকটা কমপ্লিট করার চেষ্টা করি।আমরা ফিজক্যাল এবং সোশ্যাল ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতা থেকে এটা খুব ভালোভাবেই জানি যে কৌতুকটির একটি সামাধান আমি নিশ্চয় বের করে ফেলতে পারবো।কিন্তু গল্পটি যখন পাঞ্চ লাইনে আমাদেরকে একেবারে Unexpected কোনো সমাধান দেয় তখন আমরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ি।যেমন-অপু দেয়ালে তার গার্লফ্রেন্ডের নাম লিখছে, একজন ডাকলো, অপু ভাই!

অপু বলল, হ্যা ভাই!

__কী করছেন?

এক্সের নাম লিখছি!

কেনো ভাই?

যেনো কুকুর এসে মুতে [ইউরিনেট] দেয়!

এতটুকু শোনার পরেই লক্ষ লক্ষ মানুষ অট্ট হাসিতে ফেটে পড়বে!কিন্ত কেনো?কারণ মনে মনে আমাদের মস্তিষ্ক অপুর এক্সের নাম লিখার যে সম্ভাব্য কারণকে সিমুলেট করতে চেয়েছিলো সেটির বদৌলে সম্পূর্ণ Unexpected একটি সলিউশন সে পেয়েছিলো যা তার মধ্যে সেন্স অব হিউমার তৈরি করে।আমাদের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স যদি ফোরথ ডায়মেনশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অনেকগুলি বাস্তবতাকে সিমুলেট করতে না পারতো তবে Unexpected সলিউশনের কারণে তার মধ্যে কোনো সেন্স অব হিউমার তৈরি হতোনা!পৃথিবীর অন্য কোনো প্রাণী “Concept of Tomorrow” বুঝেনা তাই তারা একটি কৌতুক শুনতে শুনতে তার ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সলিউশনকে মনে মনে সিমুলেট করতে পারেনা আর এতে করে  Unexpected কোন সলিউশনের মুখোমুখি হয়ে সে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েনা।অতএব অন্য কোন প্রাণীর মাঝে সেন্স অব হিউমার নেই।মিসিও কাকু বলেছেন,The essence of humor is When our simulation of the future is suddenly disrupted in surprising ways.

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, কৌতুকের সাথে ফোর্থ ডায়মেনশনের সম্পর্ক কী!সম্পর্ক আছে!একজন কমেডিয়ান জানেন মানুষকে হাসানোর জন্যে টাইমিং জিনিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।তারা যদি অনেক দ্রুত গতিতে একটি কৌতুক উপস্থাপন করে তবে আমাদের ব্রেন কোনো সিমুলেশন তৈরি করার সময় পাবেনা আর এতে করে এর ইফেক্টিভিটি নষ্ট হয়ে যাবে।আবার কেউ যদি অত্যন্ত ধীরে ধীরে কৌতুক বলে তাহলে ব্রেন অনেকগুলি সম্ভাব্য ভবিষ্যত সিমুলেট করে ফেলবস এবং তাতেও সেন্স অব হিউমার নষ্ট হয়ে যাবে।

হিউমারের অন্যকিছু ফাংশন আছে।বিবর্তন আমাদের মাঝে এটি রেখেছে কারণ হিউমারের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন উন্নত হয়।হিউমারের মাধ্যমে আমরা অন্যের চরিত্রকে সাইজ আপ করি যা আমাদের স্ট্যাটাস ডিটারমাইন করে এবং হাসির মাধ্যমে সামাজিক বিশ্বে আমরা আমাদের পজিশন প্রকাশ করি।

আমরা কেনো একে অপরের সাথে গল্প করি?গল্প হলো আমাদের প্রজাতির টিকে থাকার জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টুলস।আমাদের জটিল সামাজিক ইন্টারেকশন কনস্ট্যান্টলি পরিবর্তিত হচ্ছে, আর এই প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল সোশ্যাল ইন্টারেকশন সম্পর্কে আমাদের সেন্স তৈরি করা প্রয়োজনীয়।গল্পগুজবের মাধ্যমে আমাদের ব্রেন সমাজে তার নিজস্ব অবস্থানকে সিমুলেট করতে পারে।হাজার বছর পূর্বে গল্পই ছিলো বিভিন্ন সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার একমাত্র উপায়।।

আমরা কেনো খেলাধুলা করি?একটি শিশুকে আপনি প্রশ্ন করেন, তুমি কেনো খেলতে পছন্দ করো সে হয়তো উত্তর দেবে, it’s Fun!কিন্তু ফান কী?প্রকৃতপক্ষে একজন শিশু যখন খেলে তখন সে কমপ্লেক্স হিউম্যান ইন্টারেকশনে সরলভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে চায়।মানুষের সমাজ অত্যন্ত জটিল আর এ জন্যেই শিশুরা বড়দের সমাজের একটি সরল সিমুলেশন তৈরি করে।যেমনঃতারা পুতুল বিয়ে দেয়, পুলিশের ভূমিকায় অভিয়ন করে, ডাকাত সাজে অথবা খেলার মাঝেই স্কুল তৈরি করে, অনেক সময় সন্তান জন্ম দেয়।আমরা ছোটবেলায় দুধভাত খেলা যেটাকে বলতাম!প্রতিটি গেমই শিশুদেরকে বড়দের আচরণের অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি সেগমেন্টকে এক্সপেরিমেন্ট করতে হেল্প করে যার ভিত্তিতে তারা ফিউচার সিমুলেশন তৈরি করে।আর এভাবেই তারা ক্রোনোলজিক্যালি  বড়দের জগতকে বুঝতে পারে…!(সেপিয়েন্স কনসাসনেস)

 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি পড়ুন;

স্পেস-টাইম থিওরি অব কনসাসনেস

অদৃশ্য হওয়ার প্রযুক্তি

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

 

সেপিয়েন্স কনসাসনেস; তথ্যস্যত্রঃ

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!