সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন
মূলপাতা বিজ্ঞানজেনেটিক্স সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন

সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
159 বার পঠিত হয়েছে

নারীর মন; সেক্স, সেকচুয়াল  ইভ্যোলুশন, গ্রুপ সেক্স, এক্সট্রা-মেরিটাল সেক্স, এনাল সেক্স, ওরাল সেক্স ও সমকামীতা …

 
 
 
 
 
সেক্স অনেক প্রাচীন। মহাদেশ থেকেও পুরাতন, ডায়নোসর থেকেও বৃদ্ধ এবং প্রাচীন সকল বৃক্ষ থেকে! পাখি, মৌমাছি অথবা প্রাইমেট সবাই এটি করেছে, আর নারীরা এটা তখনই করেছিলো যখন সুপারনোভার জন্ম হয় , কিন্তু সবসময় পুরুষই প্রথম ডিস গ্রহণ করেছে।  একটি স্টেরিওটাইপ, নিশ্চয়,  কিন্তু এটা কী সত্য? আসলেই কী পুরুষের মধ্যে নারীদের তুলনার অনেক বেশি সেকচুয়াল তাড়না কাজ করে?
 
 
 
 
Sex in the Stone Age: Pornography in Clay

Sex in the Stone Age: Pornography in Clay

 
 
 
রিচার্ড সাইন Sex Drive: How Do men and Woman  Compare নামক একটি আর্টিকেলে লিখেছিলেন, পুরুষের সেকচুয়াল তাড়না শুধু নারীদের তুলনায় বেশিই নয়, তারা এ ব্যাপারে অত্যন্ত স্ট্রেইট- ফরোয়ার্ড। এটি আমাদের অত্যন্ত সাধারণ একটি প্রজ্ঞা যে, একজন নারী সেকচুয়াল নক্ষত্র জন্মানোর পূর্বে ইমোশনাল কানেকশনটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে। আরো দেখা যায় নারীরা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফ্যাক্টর দ্বারাও আলোড়িত হয়। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর সোশিওবায়লজির প্রফেসর এডওয়ার্ড ও ল্যাওমেন বলেন, নারীদের যৌন আকাঙ্খা অত্যন্ত উচ্চমাত্রিকভাবে পরিবেশ ও প্রসঙ্গের উপর নির্ভর করে। তিনি WebMD একটি ওয়েবসাইটে নারী ও পুরুষের সেকচুয়াল তাড়নাকে প্রভাবিত করে এমন সাতটি প্যাটার্নের কথা উল্লেখ করেন। মনে রাখবেন যে, এ নিয়মে মানুষে মানুষে বৈচিত্র আছে। পুরুষরা অনেক বেশি সেক্স চায়। এমনকি যখন এটি আইনের বাহিরেও চলে যায়।  পেনিসের বিবর্তন নারীর নিউরনে)
 
 
১. ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত একজন পুরুষ দৈনিক একবার এর জন্য হলেও সেক্সের কথা চিন্তা করে। এক চতুর্থাংশ মহিলা বলেছেন, তারা এটি বারবার চিন্তা করে। নারী ও পুরুষ তাদের বয়সকালে কম বা বেশি ফ্যান্টাসাইজ হয়  কিন্তু পুরুষরা নারীদের তুলনায় অনেক বেশি ফ্যান্টাসাইজ হয়। নারী পুরুষের উপর একটি পরিসংখ্যানে, Roy Baumeister,  একজন সামাজিক জীব বিজ্ঞানী দেখান যে, পুরুষরা সবচেয়ে বেশি সেকচুয়াল জাগরণের বিবৃতি প্রদান করেছে, এবং বারবার এবং আক্রান্ত হয়েছে বৈচিত্রময় ফ্যান্টাসিতে।
 
২. সম্পর্কের শুরুতে একজন পুরুষ অনেক বেশি সেক্স চায়, সম্পর্কের মাঝখানে ও অনেক বছর পরও। ব্যাওমেস্টার কয়েকটি পরিসংখ্যান রিভিও করার পর মন্তব্য করেন, এটি শুধুমাত্র হেট্রোসেকচুয়ালদের ক্ষেত্রেই সত্য নয়, তিনি বলেন, সমকামী পুরুষরাও সমকামী নারীর তুলনায় অনেক বেশি সেক্স চায়। এবং পুরুষরাও একজন সেক্স পার্টনারের চেয়ে অনেক বেশি সেক্স পার্টনার চায়।
 
 
A) তিনভাগের ২ অংশ বলে যে,  তারা মাস্টারবেট করে। অর্ধেক বলে তারা অনুশোচনা অনুভব করে। বিপরীতে ৪০℅ নারী বলে তারা মাস্টারবেট করে, নারীদের মধ্যে মাস্টারবেসনের ফ্রিকোয়েন্সি কম।
 
B) প্রস্টিটিটিউশন পুরুষের মস্তিষ্কের বাসস্থান,  এটি পুরুষের যৌন আকাঙ্খা পূরণ করে কারণ তারা নারীদের অনুসন্ধান করে।
 
C) নানরা তাদের সতীত্ব রক্ষার জন্য খুব ভালোই কাজ করতে পারে। কিন্তু পাদ্রীবর্গের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ পাদ্রী সেকচুয়াল একটিভিটির কথা স্বীকার করেন ৪৯ শতাংশ নান বা প্রব্রাজিকার তুলনায়।
পুরুষরা নারীদের থেকে গড়ে বেশি সংখ্যক সঙ্গিনীর কথা নিশ্চিত করেন!
 
 
৩. নারীদের সেকচুয়াল কার্যক্রম পুরুষের থেকে অত্যন্ত জটিল। এমনকি নারীরা এ ব্যাপারে জানেওনা। নর্থান ইউনিভার্সিটির গবেষক, মেরেডিথ চিভার এবং তার সহকর্মীরা সমকামী এবং স্ট্রেইট নারী ও পুরুষকে এরোটিক ফিল্ম দেখান। তারা তাদেরকে তাদের সেকচুয়াল জাগরণের মাত্রা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন এবং তাদের যৌনাঙ্গে ডিভাইস সংযুক্ত করে তাদের সেকচুয়াল জাগরণের মাত্রাও পরিমাপ করা হয়। পুরুষদের মন খুব সহযেই প্রেডিক্ট করা সম্ভব , তারা বলেন যে তারা নারী-পুরুষ ও নারীর-নারীর মধ্যকার পর্ণ ভিডিও দেখে জাগ্রত হয়েছিলো। সমকামী পুরুষরা বলেন যে, তারা শুধুমাত্র ছেলেদের ভেতরকার সেকচুয়াল একটিভিটিজ দেখে জাগ্রত হয়েছে। কিন্তু স্ট্রেইট নারীরা বলেন, তারা পুরুষ ও নারীর ভেতরকার সেকচুয়াল একটিভিটি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। কিন্তু জেনিটালি তারা পুরুষ-নারী ও নারী-নারীর মধ্যকার সেক্সেও একই রি-একশন দেখায়। মাইকেল বেইলে বলেন, পুরুষরা কার প্রতি জাগ্রত হবে, কার সাথে সেক্স করবে, কাকে ভালোবাসবে এ ব্যাপারে খুবই সুনির্দিষ্ট।  তিনি নর্থসাউথার্ন ইউনিভার্সিটির সেক্স রিসার্চার এবং শিবারের গবেষণাপত্রের সহকারী লেখক।
 
 
 
 
Science, Sport, Sex, and the Case of Caster Semenya | Issues in Science and Technology
 
 
 
 
 
 
এটা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট যে সমকামী নয় এমন পুরুষরা যদিও পুরুষে পুরুষে সেক্স দ্বারা একেবারেই প্রভাবিত হয়না কিন্তু নারীদের ভেতর Same Sex Relationship এর প্রতি উন্মোক্ততা দেখা যায়। বেইলে বলেন,  নারীরা নিজেদের সাথে নিজেদের সেক্স করার প্রবণতা পুরুষের চাইতে অনেক বেশি। তার মানে এই নয় যে তারা অনিবার্যভাবেই এটি করবে কিন্ত তাদের ভেতর সেই ক্ষমতা আছে!
 
 
 
এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা  করে পরবর্তীতে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়,  যেখানে বেইলের ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয় সেখানে দেখানো হয় যে, Homosexuality is a more Fluid Sate among Women !  আর একটি গবেষণায় ব্যাওমেইস্টার দেখেন যে, অনেক লেসবিয়ানই বলেছেন,  তারা পুরুষের সাথেও সেক্স করেছে কিন্তু কোন Gay বা সমকামী পুরুষ, নারীদের সাথে সেক্স করে বলে খুব একটা জানা যায়নি। নারীরা পুরুষের চেয়ে নিজেদের বেশি BI-SEXUAL মনে করে। এবং তাদের সেকচুয়াল অরিয়েন্টেশনকে একটি পছন্দের ব্যাপার বলে মনে করেন।
 
 
 
 
lesbian women making love, erotic art by Samarel Digital Arts by Hm Samarel | Artmajeur

lesbian women making love

 
 
৪) নারীদের সেকচুয়াল তাড়না সামাজিক ও সাংস্কৃতিক  ফ্যাক্টর দ্বারাও  প্রভাবিত। ব্যাওমেস্টার তার একটি গবেষণার রিভিওতে প্রদর্শন করেন যে নারীদের সেকচুয়াল মানসিকতা, চর্চা ও আকাঙ্খা যতটুকু না পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তার চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রিত হয় তার পরিবেশ দ্বারা।
 
 
a) পুরুষের তুলনায়  নারীদের যৌণ আচরণের মানসিকতা বৈচিত্রময় যৌনতা চর্চা করতে তাদের অনুপ্রাণিত করে।
 
b) যে সকল নারীরা নিয়মিত চার্চে যাতায়াত করে তাদের সেক্সের প্রতি অনুমতিদায়ক কোন মানসিকতা নেই। আবার অন্যদিকে চার্চের সাথে পুরুষের যৌন আকাঙ্খার কোন সম্পর্ক নেই।
 
c) নারীরা তাদের সমকক্ষ গ্রুপের সাথে সেক্সের ব্যাপারে বেশি মনোযোগ প্রদান করে।
 
d) উচ্চশিক্ষিত নারীদের মাঝে সেকচুয়াল আচরণে সুবিস্তৃত বৈচিত্রতা দেখা যায়। যেমন তারা- Oral Sex বা মুখের স্পর্শ নিয়ে সেক্স করতে ভালোবাসে। কিন্তু একজন পুরুষ অনেক বেশি উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পরও তার আচরণ প্রায় একই থাকে।
 
e) নারীরা তাদের প্রিম্যারিটাল সেক্স ও এক্সুয়াল আচরণের মধ্যে তাদের প্রকাশ্য মূল্যের অসঙ্গতি প্রকাশ করে।
 

নারীর মনস্তত্ব

 
কেনো নারীদের যৌন তাড়না দৃশ্যমানভাবে দূর্বল এবং বিভিন্ন প্রভাব দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত? অনেকে বলেন এটা নির্ভর করে একজন পুরুষের সমাজে চরম ক্ষমতার উপর, এবং নারীর তুলনার পুরুষের সেকচুয়াল প্রত্যাশার ভিন্নতার উপর। ল্যাওম্যান মনে করেন, এই ব্যাখ্যাটি সোশিওবায়লজির জগতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য প্রায়  নিকটবর্তী।  ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করা যাক। মূলত নারীরা শুধু একজন পুরুষের সৌন্দর্য বা সেকচুয়াল ক্ষমতা নয়, সে পুরুষটির পরিবেশ ও সমাজে তার প্রতিপত্তিকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কারণ একজন পুরুষের পেনিসের আকার অথবা তার কাঁধের প্রশস্ততা থাকলেই শুধু হবেনা, সে পুরুষটির সমাজে প্রতিপত্তিও থাকতে হবে। সমাজে একজন পুরুষ  যদি প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে তার পক্ষে সন্তানের লালন পালন ও উন্নতর জীবন দেয়া সম্ভব নয়। আর যার সমাজে কোন অবস্থান নেই তার সন্তানরা সামাজিকভাবে কোনো মর্জাদা পায়না। আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে আমাদের প্রাইমেটদের মধ্যে একজন নারী যদি এমন কোনো পুরুষকে নির্বাচন করতো, যে পুরুষটির আদর্শ পেনিস এবং বুকের প্রশস্ততা আছে তবে সে পুরুষটির পক্ষে তার স্ত্রী ও সন্তানকে জঙ্গলের সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু  আদিম প্রাইমেটদের মধ্যে যারা আলফা মেল  , তাদের ছিলো সমাজে  আধিপত্য, তারা শুধুমাত্র পেশির জোরেই যে সেই নির্দিষ্ট সমাজে আধিপত্য বিস্তার করেছিলো তা কিন্তু একদম ঠিক নয়। তারা সে সমাজে আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছিলো কারণ তাদের মস্তিষ্কে শক্তিশালী প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ছিলো, তাদের Sense of Tomorrow ছিলো খুবই উন্নত, তারা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিকল্পগুলোকে সিমুলেট করতে পারতো, ফোর্থ ডায়মেনশনের ভেতর দিয়ে ভবিষ্যতকে সিমুলেট করার ক্ষমতার কারণে অথবা সাইকোলজিক্যাল টাইম ট্রাভেলার্স হওয়ার কারণে তারা খুব স্মুথলি, সেই সমাজকে নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করতে পারতো এবং একটি সুষম  পরিকল্পনার ভেতর দিয়ে সে গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচালনা করতো! আর তাই এ সকল Alfa Male যদিও পেনিসের আকার ও শারীরিক কাঠামোর দিক থেকে উন্নত ছিলোনা কিন্তু সে তার বুদ্ধি দিয়ে বিরাট ক্ষমতাবান পেশি শক্তিসম্পন্ন প্রাইমেটদেরকেও তার নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখতো! ইন্টেলেকচুয়ালিটির যে ক্ষমতা সে ক্ষমতার কাছে শারীরিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাইমেটরা ছিল অসহায়! যেমন জন হুইলার যিনি পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি কিন্তু জনসিনার শারীরিক শক্তির কাছে কিছুই না। কিন্তু জনসিনার মতো কোটি কোটি শরীর জন হুইলারের একটা বোমা ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে! আইনস্টাইনের E=MC2 এর ক্ষমতা ধবংস করে দিতে পারে নিউইয়র্ক এর মতো একটি শহর মুহূর্তে!  আইনস্টাইন এ জন্যই E=MC2 পেয়েছিলো কারণ তার Future Simulate করার ক্ষমতা আছে, তার মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স টাইম ট্রাভেল করতে পারে। মিচিও কাকুর স্পেস-টাইম থিওরি অব কনশাসনেস অনুসারে, মস্তিষ্কের টাইম ট্রাভেলিং এর ক্ষমতা নেই বলে শিম্পাঞ্জি কম্পিউটার বা রকেট আবিষ্কার করতে পারেনি! তারা জানেনা যে মহাবিশ্ব ফিজিক্সের নিয়ম অনুসরণ করে কাজ করে! আমি মনে করি, আমাদের পূর্বসূরিরা একটা সময় পেনিসের আকার ও শারীরিক শক্তিকে প্রাধান্য দিতো। কিন্তু  ৭০-১ লাখ বছর পূর্বে FOX2, HAR1 জিনের আকষ্মিক একটি মিউটেশনের কারণে তাদের নিউরনের সংযোগ পদ্ধতি বদলে যায় আর প্রশস্ত বুক আর আদর্শ পেনিসের জায়গায় বুদ্ধি এসে আধিপত্য বিস্তার করে! একটা সময় নারীরা সে সকল পুরুষকেই নিজের যৌনসঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করতো যার শারীরিক ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু আনুমানিক ৭০ হাজার বছর পূর্বের নারীরা সম্ভবত প্রথমবারের মতো একপ্রকার  সেপিও সেকচুয়াল হয়ে উঠে, যে সকল পুরুষের ব্রেন টাইম ট্রাভেল করতে পারতো,  নারীরা তাদেরকেই পছন্দ করতে শুরু করে! কারণ সে সকল পুরুষের সন্তান গর্ভে ধারণ করলে তার জিন ভবিষ্যত প্রজন্মে টিকে থাকতে পারবে! রিচার্ড ডকিন্সের সেলফিশ জিন তত্ত্ব অনুসারে, জিন স্বার্থপর। একজন নারী যদি সামাজিক অবস্থান ও বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে শুধু অন্ধভাবে প্রশস্ত কাঁধ ও সুঠাম দেহকেই গুরুত্ব দিতো তবে তার জিন সমাজে সুবিধা পেতোনা, অতএব টিকে থাকার জন্য তাকে তীব্র সংগ্রাম করতে হতো! তাই একজন নারী তার সন্তানের কথা ভেবে, সুগঠিত শরীরকে হয়তো কম্প্রোমাইজ করতো এবং  তারা এমন একটি শরীর নির্বাচন করতো যেটি দৈহিকভাবে জনসিনার মতো না হয়ে আইনস্টাইনের মতো ইন্টেলেকচুয়াল  ছিলো।
 
অভিজিত রায় তার বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান গ্রন্থটিতে এ ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, এ জন্য  আমাদের সমাজে টাকলু ও পেটুকরা অনেক সুন্দরী বউ পায়( তার ভাষা আলাদা ছিলো)।  অনেক সময়  দুর্দান্ত সুন্দর সুগঠিত একটি ছেলের স্ত্রী দেখতে তেমন সুন্দরী  না হলেও সামাজিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি সম্পন্ন  একজন গবেটের বউ হয় অত্যন্ত  আকর্ষণীয় হয়। সে মেয়ে অনেক গর্বের সাথে সেজেগুজে তার নমনীয়, কোমল, তুলতুলে ও ফুটফুটে শরীরটি উঠিয়ে দেয় প্রতিপত্তির কাছে! এর কারণ ঐ পুরুষের সামাজিক অবস্থান আছে, তার সন্তান সমাজে টিকে থাকার ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগীতা পায়, আর এভাবে জিন খুব সহযে নিজের প্রজন্ম তৈরি করতে সক্ষম হয় ! জিন নামক এ স্বার্থপর ভাইরাসগুলো নারীর ব্রেনকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করে যেনো তারা ক্ষমতা ও বুদ্ধির কাছে নিজের প্রেগন্যান্সিকে বিক্রি করে। এ জন্য নারীর মনস্তত্বে একজন পুরুষের সাথে সেক্স করার সময়, তার প্রতিপত্তিও সেকচুয়াল জাগরণে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে! রিচার্ড ডকিন্স তার সেলফিশ জিন গ্রন্থে লিখেছিলেন, হেরিং গার্লরদের মধ্যে একজন নারী যতোটা না তার স্বামীর সাথে মানসিকভাবে জড়িত তার চেয়ে মানসিকভাবে বেশি জড়িত স্বামীর ভূখন্ড বা টেরিটোরির সাথে কারণ স্বামী মারা গেলেও সেই ভূখন্ডটি তার জন্য থেকে যায়! ঠিক একই কথাটি আমরা প্রাইমেটদের উপরও প্রয়োগ করতে পারি। একজন নারী একজন পুরুষের প্রতি তখনই পরিপূর্ণভাবে সেকচুয়ালি জাগ্রত হয় যখন তার একটি সামাজিক অবস্থান থাকে অথবা যদি অন্তত সাইভারস্পেসেও তার ভার্চুয়াল কোনো প্রতিপত্তি থাকে। প্রতিপত্তি ও পরিবেশ দেখেই  একজন নারী সে পুরুষটিকে পছন্দ করবে।।
 
 
 
সেলফিশ জিন তত্ব অনুসারে, প্রতিটি পুরুষ জিনগতভাবে অধিক সংখ্যক নারীর প্রতি আগ্রহী, তারা এ ব্যাপারে বিদ্রোহী ও একরোখা, পুরুষের মন ভার্চুয়ালি অনেকের সাথেই জড়িত থাকে, অনেকজনকেই ভেবেই মাস্টারবেট করে কারণ সেলফিশ জিন চায় করোনার মতো অধিক নারীর দেহে  সংক্রমিত হতে! কিন্তু একজন নারী পুরুষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতা ও সতর্কতার পরিচয় দেয়!  তার মধ্যে কিছুটা সংযম ও দূরত্ব কাজ করে। এর কারণ একজন নারী চাইলেই গর্ভাবস্থায় পরক্রিয়া করতে পারেনা, আর দ্বিতীয়ত, দুধের শিশুকে একা ছুড়ে ফেলে সে অন্য কোনো সঙ্গী নির্বাচন করতে পারেনা! আর এদিকে পুরুষের মস্তিষ্ক অসভ্য, সে চুড়ান্ত লম্পট, কারণ তার মধ্যে প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন শুক্রাণু তৈরি হচ্ছে, টেস্টোস্টোরিনের প্রভাব কাজ করছে, তার উপর তার অনিচ্ছায় বায়োলজিক্যাল প্রেসার কাজ করছে যা বিবর্তনীয়ভাবে প্রাপ্ত! একজন নারী যদি কোন কিছু না ভেবে এমন কোন পুরুষের সাথে সেক্স করে যে আসলে অস্থিতিশীল, স্বার্থপর ও বহুগামী তবে সে নারীর উপর এমন পুরুষ বড় মাপের চাপ সৃষ্টি করবে। সন্তান গর্ভকালীন অবস্থায় সে পুরুষটি যদি অন্য কোনো নারীর কাছে চলে যায় তবে তবে সে নারীটি একা ও অসহায় হয়ে উঠবে ! এ জন্য স্বার্থপর জিন নারীর মস্তিষ্কে একটি কৌশল তৈরি করে দেয় বলে আমার মনে হয় ! যার নাম লজ্জা! ডকিন্স তার সেলফিশ জিন গ্রন্থে বলেন, এখান থেকেই লজ্জা, অভিমান, ঢং ইত্যাদির উদ্ভব হয়! একজন পুরুষ যখন একজন নারীকে স্পর্শ করে মেয়েটি লজ্জা পায় ও অভিমান করে! আর এতে করে পুরুষটির সাথে সে নিজের একটি দূরত্ব তৈরি করে! পুরুষটি নারীর এমন লজ্জা ও অভিমান দ্বারা মানসিকভাবে প্রেস্টিজ ফিল করে! তার প্রেস্টিজে এই মধুর অবমাননা আঘাত করে।
 
 
 
আর তাই নিজের পৌরুষত্ব প্রমাণ করার জন্য নারীটি থেকে সে  দূরত্ব বজায় রাখে, নিজেকে যথাসম্ভব ভদ্র ও আত্মমর্যাদাবান প্রমাণ করতে চায়। খেলাধুলা, গান, বাজনা, শিল্প, বিরহ অথবা বৈজ্ঞানিক কোন উদ্ভাবন দিয়ে সে মেয়েটির অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করে, তাকে দূর্বল করতে চায়! মেয়েটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে যেয়েও সে ভদ্র আচরণ করে! নিজেকে মহানুভব প্রমাণ করতে চায়। সে মানবতাবাদী আচরণ করে, শিশুদের সাথে খেলা করে, ধর্মীয় আচরণ করে এবং অনেক সময় মেয়েটির জন্য দামী কোন উপহার নিয়ে আসে, তাকে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়! মেয়েটি সামান্য ভণিতা করে, ঢং করে, তারপর সে পুরুষটিকে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত স্পর্শ করার অনুমোদন দেয়। তার ব্রেস্ট স্পর্শ করতে পারা যায়, ঠোঁট চোষা যায়! কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে নারীটি আবার রাগ ও অভিমানে দাউদাউ করে জ্বলে উঠে! আর পুরুষটি নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করার জন্য সে সীমার ভেতর থেকেই নারীটির সাথে যৌন আচরণ করে! আর এভাবে মেয়েটি ছেলেটির জীবন থেকে ৩-৪ বছর সময় ও বিপুল পরিমাণ, শক্তি ও মানসিক শ্রম আদায় করে নেয়, আদায় করে নেয় অর্থ ও দামী উপহার! সমাজের সব মেয়েরা জেনে যায় এই ছেলেটি ঈশিতার প্রেমিকা! আর তখন থেকে কেউই ঐ ছেলেটির দিকে ফিরেও তাকায়না! ছেলেটির তারুণ্যের প্রভাব সমাজে কমে যায়! মেয়েটির লজ্জা, ভণিতা আর অভিমান ছেলেটির জীবন থেকে প্রায় সকল সম্ভাবনা নষ্ট করে দেয়! আর  সে লাজুক মেয়েটি এক সময়  বিয়েতে সম্মত হয়। কিন্তু এবার পুরুষটি কারো সাথে নতুন করে প্রেম করার কথা ভাবতেও শিহরিত হয়ে উঠে! পুরুষের জীবন থেকে প্রয়োজনীয়  সময় ও তারুণের প্রভাব নষ্ট করে দিতেই নারীদের মস্তিষ্কে লজ্জার বিবর্তন ঘটেছে! তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি,  কেনো একজন নারী একজন পুরুষের তুলনায় সেকচুয়াল দিক থেকে অনেক বেশি দূর্বল! তার এই দূর্বলতা মূলত পুরুষকে পঙ্গু করে দেয়ার একটি কৌশল! কারণ নয়তোবা জীনগতভাবে নষ্ট এই ছেলেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিলো না! আর যদি তা ঘটতো তবে সন্তান অনিশ্চয়তা ও ধবংসের মূখে পতিত হতো! তবে এ প্রক্রিয়াটি মোনার্ড স্মিথের ইভোলুশনারি স্ট্যাটিক স্ট্রাটেজি দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকবে।
 

Sources of Early Akkadian Literature: Love Literature

 
 
আমরা দেখতে পাই, পুরুষের মধ্যে এনাল সেক্সের প্রতি এক প্রকার আগ্রহ আছে! আমরা কিভাবে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের আলোকে এনাল সেক্সের প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করতে পারি? যৌন মনোবিজ্ঞানের গ্রেন্ডফাদার  ফ্রয়েড বলেন, একটি শরীরকে সম্পূর্ণভাবে একটি পেনিস অথবা ভেজাইনা হিসেবে চিন্তা করা যায়  বা তিনি পুরো দেহকেই সেকচুয়াল অর্গান মনের  করতেন। তার মতে আমরা চাইলে শরীরের যে কোনো অংশকে সেকচুয়ালাইজ করতে পারি। লস এঞ্জেলস ক্যালিফোর্নিয়ার জয় ডুনকান MEDIUM নামক একটি ওয়েবসাইটে The Psychology of anal Sex শিরোনামে একটি আর্টিকেল লিখেন। প্রায় শতাধিক ওয়েবসাইট ও সায়েন্স জার্নাল অনুসন্ধানের পরও Anal sex এর বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান সংক্রান্ত আর্টিকেল আমি তেমন একটা  পাইনি।
 
 
 
 
সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন

Babylonian Marriage Market by Edwin Long, 1875 CE, Royal Holloway College, London.

 
 
সায়েন্টিফিক আমেরিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিও অনুসন্ধান করেছি। সম্ভবত আমার অনুসন্ধানে ভুল ছিল। আর বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান নিয়ে বেশকিছু কঠিন গ্রন্থ থাকলেও সহয ভাষায় এ নিয়ে আলোচনার পরিমাণ অত্যন্ত সীমাবদ্ধ।  যাহোক  ৪০০০ হাজার বছর পূর্বেও মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন মানুষদের মধ্যে এনাল সেক্সের  প্রবণতা দেখা যায়। World History of Encyclopedia নামক একটি সাইটে Love, Sex and Marriage in Ancient Mesopotamia তেও বলা হয়, আমাদের আবিষ্কারের পূর্বেও এনাল সেক্স প্রাচীন সময়ে ছিল খুবই সাধারণ। Marie Daire নামক একটি ম্যাগাজিনে Is Anal Sex the New Oral নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। সেখান থেকে ২০১০ সালের একটি স্টাডি সম্পর্কে জানতে পারি।
 
Erotic Plaque
 
 
This terracotta plaque dates back to the old Babylonian period. It depicts a male and female having sex in a missionary position. Such scenes were mass-produced in southern Mesopotamia during the old Babylonian era. The precise idea behind producing these erotic scenes is unknown but there may well been a religious purpose. However, they absolutely reflect the private aspect of people's lives during this period. 2000-1500 BCE, from southern Mesopotamia, Iraq. Istanbul Archaeological Museums/ Ancient Orient Museum, Istanbul, Turkey.
 
 
The Journal of Sexual Medicine এর রেফারেন্স দিয়ে বলা হয়, ২০১০ সালে ২০-৩৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ অন্তত একবার এনাল সেক্স করেছে বলে জানান। যা ১৯৯২ সালে ছিলো ৩৩ শতাংশ। পূর্বের যেকোনো সময় থেকে এনাল সেক্স এখন অনেকবেশি প্রচলিত। অনেক নারী সাম্প্রতিক এর সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে এবং তারা এটা স্বীকার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধও করছে। পিএইচডি  Debby Herbenick বলেন, পুরুষ ও মহিলারা এনাল সেক্স উপভোগ করছে কিন্তু আমি জানিনা যে,  এটি আকষ্মিক বৃদ্ধির কারণ কী! পামেলা ক্লিও গোডার্ড,  নিউইয়র্ক এর ২৮ বছর বয়সী একজন অফিসার এসিটেন্ট জানান, তার দুজন পুরুষের সাথে এনাল সেক্স আছে যার মধ্যে একজন তার সাম্প্রতিক বয়ফ্রেন্ড। তিনি বলেন, It is Just isn’t Big deal anymore, it’s like how oral sex used to be something only a certain type of Girl did।  কিন্তু এটি কেনো? জিনের উদ্দেশ্য যদি শুধু তার সংখ্যাবৃদ্ধিই হয় তবে এনাল সেক্সের বিবর্তনীয় উপযোগীতা কী? ২০১১ সালে পিএইচডি ডেভিড জে.লি সাইকোলজি টুডে’ তে Back Door psychology নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন, সেখানে বলা হয়, হেট্রোসেকচুয়ালদের মধ্যে এনাল সেক্স হাজার হাজার বছর ধরে চলমান একটি বিষয়, জাপান, চায়না ও ইউরোপের প্রাচীন মানুষদের এমন অনেক চিত্রকল্প আছে যেখানে দেখা যায় পুরুষরা নারীদের সাথে এনাল সেক্সে জড়িত হয়েছে।
 
 
 
The Art of Anal Intercourse Between Heterosexual Couples

The Art of Anal Intercourse Between Heterosexual Couples

 
 
মেডিয়াটারিয়ান ও সাউথ আমেরিকাতে এনাল সেক্স নিয়ে কবিতাও লেখা হয়। পলিনেসিয়ান সংস্কৃতিতে এনাল সেক্সকে বার্থ কন্ট্রোল এর একটি উপায় হিসেবে দেখানো হয়। বর্তমানে এনাল সেক্সের ছড়াছড়ি দেখা যায় সেকচুয়াল রোগের সম্ভাবনাকে পাশ কাটিয়েই। একদিকে এর কোন উপযোগ নেই এটি কোনো জিন ছড়ায়না। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি কঠিন যুক্তি হলো, যে সকল নারীরা বর্তমানে এনাল সেক্স করে তারা স্বাভাবিকভাবেই জাগ্রত হয়, নারীরা এটা গ্রহণ করে কারণ এতে কোনো প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা নেই, ডেভিড জে. লি বলেন। নারীর সম্মতিতে এনাল সেক্সের বিষয়টিকে স্টারটার্ক মুভির একটি অজানা স্থানে ভেঞ্চারের মতো ভাইব্রেশনাল মনে হয়। এটাকে তারা অনন্য, অসাধারণ মনে করেন । নারীরা তাদের দেহকে এখন সম্পূর্ণ সেকচুয়াল অর্গানে পরিণত করতে চাইছে। গবেষণায় দেখা যায় যে সকল নারীরা এনাল সেক্স করে, তারা অনেক কৌতুহলী, অনেক সংবেদনশীল, স্বাচ্ছন্দময় ও প্রচন্ড উত্তেজনাপূর্ন।
 
 
 
 
 
 
samarel Sex Stories on Twitter:

Oral Sex art

 
 
 
কিন্তু এনাল সেক্সে পেইনের ব্যাপারটি একটি মিশ্র ইস্যু। তিনি বলেন, কিছুকিছু সম্পর্কে সেখানে পারস্পরিক বন্ধন ও শৃঙ্খলা প্রধান ভূমিকা পালন করে তারা এনাল সেক্সকে একপ্রকার মোহনীয় মনে করে। অন্য কাপলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তারা ব্যাথা কমানোর জন্য লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করে, যেনো উভয়পক্ষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে। অজস্র সম্পর্কে এনাল সেক্সকে একপ্রকার গিফট মনে করা হয়। ভালোবাসা, সম্মান ও আকাঙ্ক্ষার চুড়ান্ত রুপ হিসেবে প্রেমিকাকে বিশেষ কিছু প্রদান, মনস্তাত্বিকভাবে ভিন্ন কোন গ্রহে অনুপ্রবেশ। এটি সাধারণত প্রচন্ড বিশ্বাস ও ভালোবাসা থেকে আসে।। এনাল সেক্সের মাধ্যমে একজন নারী তার সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস অর্জন করে, সে বুঝতে পারে তার সঙ্গী তাকে ঠিক কতটা নমনীয় ও সুন্দরভাবে যত্মের সাথে ডিল করতে পারে। সাইকোলজির সাথে পরিচয়ের এটি একটি নতুন পথ।
 
কিছুকিছু মানুষ মনে করে এনাল সেক্স পুরুষের ডোমিন্যান্ট মাইন্ডের পরিচয়। আমরা জানি আদিম আলফা পুরুষরা অনেক বেশি প্রভাবশালী ছিলো। তারা তাদের ক্ষমতার প্রয়োগ করতো নারীর সমস্ত শরীরে, সে সম্পূর্ণ শরীরটিকে অনু অনু করে দেখার তাড়নাবোধ করতো, এ ধরণের সেকচুয়ালাইজেশন  তার আগ্রাসী মানসিকতারই প্রকাশ। মূলত আলফা মেলরা তাদের ক্ষমতার জোরে নারীর  “Ass to Mouth” সর্বত্র বিচরণ করতো। একজন নারীর সাথে এনাল সেক্স করার পর সে তার মুখে পেনিসটি স্থাপন করতো। আমরা দেখতে পাই যে অধিকাংশ পর্ণ ভিডিওতে দেখানো হয় যে নারীরা সবসময় এ ব্যাপারে প্রস্তুত, উত্তেজিত ও স্বতঃস্ফূর্ত থাকে। মূলত তারা এটা করে কুসংস্কার বা ট্যাবু ভাঙার জন্য সেটা তাদের পক্ষে যতোই ডিস্ট্রেসফুল হোক না কেনো!
 
বিষ্ময়করভাবে অজস্র মানুষ এনাল সেক্সকে আসল সেক্স মনে করেননা। ১৯ শতাংশ কলেজ স্টুডেন্ট এটাকে আন্তরিকতাহীন, প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার অভাব এবং ভেজিনাল সেক্স থেকে গুরুত্বহীন মনে করে। পুরুষরা নারীদের সাথে এনাল সেক্স করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু অধিকাংশ নারী বারবার তাদের অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং তারা এটিকে পুনরাবৃত্তি করতে চান না!
 
 
সাইকোলজি টুডে’তে বলা হয়, প্রথম দিকে ওরাল সেক্সকেও ট্যাবু মনে করা হতো। কারণ এটি জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করেনা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময় ওরাল সেক্স ছাড়া কেউ সেক্সের কথা ভাবতেই পারেনা। এটা যেনো আজকের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ম।  এনাল সেক্সও আর একটি ট্যাবু যেটা ভেঙে যাচ্ছে।
 
Finger Insertion এনাল সেক্সের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ রোল। ২০০৮ সালের একটি স্টাডিতে দেখা যায় হেট্রো সেকচুয়ালরা এনাসে ফিঙ্গার ইনসার্ট করেছে। ৫৩% নারী এটি স্বীকার করেছেন। Hetrosexual Anal Play : increasingly Popular নামক একটি আর্টিকেলে Michael Castleman , M. A বলেন, ১৯৯৪ সালের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৯-১০ শতাংশ নারী বিগত এক বছর এনাল সেক্সের সাথে জড়িত আছে। ২.৩ শতাংশ পুরুষ ও ১.২ নারী  সাম্প্রতিক এর অভিজ্ঞতা নিয়েছে।  ২০০০ সালের একটি স্টাডিতে দেখা যায়  ১, ২৬৮ জন HIV নেগেটিভ নারীর মধ্যে ৩২ শতাংশ এনাল সেক্স করেছে। ২০০৮ সালের একটি পরিসংখ্যানে ১, ৪৭৮ জন নারীর মধ্যে ১৮ শতাংশ এনাল সেক্সের কথা জানিয়েছেন। ৫৩ শতাংশ এনাল ফিঙ্গারিং এর অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। Newyork Magazine এ এনাল সেক্সের যে সকল কারণ জানা যায় তার মধ্যে রয়েছে-
 
১. এক্সট্রাসোলার প্লানেট আবিষ্কারের নেশা।
২. অন্তরঙ্গত্ব
৩. পরীক্ষা করে দেখি, আমরা পারবো, আমরা এটি পছন্দ করি।
৪. এনাল ট্যাবু, ওয়াও!! এক্সাইটিং!  চলো ভেঙে ফেলি!
৩. ডোমিনেশন ও সাবমিশন
 
 
শুধু তাই নয় যারা এনাল সেক্স করতে পছন্দ করে তাদের জন্য The Ultimate Guide to sex for Woman নামক একটি বিখ্যাত গ্রন্থও আছে যেটি লিখেছেন Jack Mornin!
 
 
 
The Ultimate Guide to Anal Sex for Women
 
 
 
 
5. নারীরা যৌন আকাঙ্খার সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি পথে ভ্রমণ করে। নিউইয়র্ক সিটির সাইকোথেরাপিস্ট Esther Perel বলেন, আমি শুনেছি আমার অফিসের এক নারী বলছে তার কান ও পায়ে স্পর্শ করলে সেকচুয়াল আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। তিনি বলেন, For woman there is a need of Plot __Hence the romance novel। এটি অপেক্ষা থেকে বেশি কিছু, আপনি যতবেশি কাজ দেবেন, তাদের নক্ষত্র ততই উজ্জ্বল হবে। নারীদের সেক্স অনেক, কনটেক্সসুয়াল , অধিক সাবজেক্টিভ এবং অনেক আবরণ সম্পর্ণ,  তিনি বলেন। প্রকারন্তরে একজন পুরুষের তেমন কোনো ইমাজিনেশন প্রয়োজন নেই। তাদের কাছে সেক্স খুবই সহয ও স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড।  তারমানে এই না যে একজন পুরুষ অন্তরঙ্গতা, ভালোবাসা ও সংযোগ চায়না। তারা শুধু সেক্সের নিয়মটাকে ভিন্নভাবে দেখে। একজন নারী প্রথমে কথা বলে, সংযুক্ত হয় এবং তারপর সেক্স করে!  পুরুষের জন্য, Sex is Connection!  Sex is the language men use to express their tender loving Vulnerable Side.
 
6. নারীরা পুরুষের চেয়ে ভিন্নভাবে অর্গাজম লাভ করে। পুরুষরা ইজালুলেশনের পর থেকে চার মিনিটের মধ্যে। নারীরা অর্গাজমের জন্য ১০ থেকে ১১ মিনিট সময় নেয়।  The Conversation ওয়েবসাইটে ৪ এ এপ্রিল ২০১৬ সালের একটি আর্টিকেলে বলা হয়, প্রতিটি জোড়ার সেক্সের ডিউরেশন ৩৩ সেকেন্ড থেকে ৪৪ মিনিট। অতএব এটা পরিস্কার যে সেক্সের টাইমিং এ কোন নর্মাল রেট নেই। প্রতি জোড়ার মধ্যে গড় সময় ৫.৪ মিনিট। এর মানে হলো আপনি ক্ষুদ্রতর থেকে দীর্ঘতর সময় পর্যন্ত ভ্রমণ করেন, প্রতিবার তারা মাঝখানে গড়ে ৫.৪ মিনিট সময় পাবে!
 
 
৭) সেক্স ড্রাইভের সাথে টেস্টাস্টোরেন জড়িত নারী ও পুরুষ উভয়ের মাঝে ।সিডার- সিনাই মেডিক্যাল কলেজের নারীদের টেস্টাস্টোরেন এর গবেষক গ্লিন ব্রাওনেস্টাইন বলেন,  টেস্টাস্টোরন নারীদের তুলনার পুরুষের মধ্যে অতিদ্রুত কাজ করে। সেক্স ড্রাইভে যে হরমোনাল ফ্যাক্টর কাজ করে তা নারীদের তুলনায় পু্রুষের ক্ষেত্রেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
 
 
 
 

কেনো বিবর্তিত হলো এনাল সেক্স?

 
মিউজিক, আর্ট অথবা অন্যান্য সাংস্কৃতিক উপাদান যেমন কোনো Reproductive Success কে নির্দেশ করেনা, এনাল সেক্সেরও কোন জিনগত মর্জাদা নেই কিন্তু একটি গান শুনলে যেমন আমাদের ভালো লাগে ঠিক তেমনি এনাল সেক্সও আমাদের মাঝে আনন্দ তৈরি করে। বিবর্তন লিনিয়ার নই, এটি কোনো পরিপূর্ণ বস্তু তৈরি করেনা। যেমন- মুখের প্রাথমিক বিবর্তন ঘটেছে, এক্সটারনাল জগতের টেস্ট গ্রহণের মাধ্যমে কোনটা আমাদের জন্য ভালো এবং কোনটা মন্দ সেটা নির্ণয় করার জন্য। কিন্তু আমাদের ওরাল সেক্স করার জন্য সেটি বিবর্তিত হয়নি। আর আমরা যে কন্ঠস্বরের চর্চা করে একদিন টেইলর সুইপ্ট অথবা ডেমি লোভাটো হবো সেটা বিবর্তনের জানা ছিলোনা। ঠিক তেমনি এনাসের বিবর্তনও আসলে সেক্সের জন্য হয়নি। এটি বিবর্তিত হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণে! মানুষ তার মস্তিষ্কের গঠনগত কারণে অন্যপ্রাণী থেকে আলাদা। তারা চিন্তা, ধারণা ও অনুভূতির মাধ্যমে গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, যদিও সেখানে জিনগত কোনো সফলতা নেই!
 
 
কিন্তু এক্ষেত্রে আমার মতের একটি ভিন্নতা আছে। একজন মিউজিশিয়ান যদিও মিউজিকের মাধ্যমে কোনো  জিন ভবিষ্যত প্রজন্মে ছড়াতে পারেনা কিন্তু মিউজিক তার জন্য সমাজে যে বিশাল অবস্থান তৈরি করে দেয় সেখানে তার জিন খুব সুন্দরভাবে সম্মান ও প্রতিপত্তির সাথে সার্ভাইভ করতে পারে। সমকামীতার মাধ্যমে সমকামীরা ভবিষ্যত প্রজন্মে তাদের জিন ছড়ায় কী?  ওরাল সেক্স  থেকে যেমন সন্তান আসেনা ঠিক তেমনি সমকামীদের পক্ষেও সেক্স করে সন্তান উৎপাদন করা সম্ভব না! কিন্তু সেলফিশ জিন তত্ব অনুসারে, একজন মা যখন কয়েকটি সন্তান জন্ম দেয়,  তখন পরবর্তী সন্তানদের সমকামী হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় কারণ নয়তো সবাই যদি সন্তান জন্ম দেয় তবে,  সেই পরিবারের শিশুসন্তানরা পর্যাপ্ত নার্সিং পায়না,  আর এতে করে সমকামীদের পরিবারে তাদের যে জিন উপস্থিত রয়েছে সেটি ভবিষ্যত প্রজন্মে যেতে পারেনা।
 
এ জন্য সমকামীতা একপ্রকার পপুলেশন কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সমকামীদের মায়া মমতা অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি! তারমানে সমকামী তৈরির মাধ্যমে প্রকৃতি প্রেম,ভালোবাসা, স্নেহ, দয়া ও মঙ্গল বিস্তার করতে চেয়েছে!  আমি মনে করি এনাল সেক্স বার্থ কন্ট্রোলিং এর একটি আদিমতম রুপ।  আর এটি পুরুষদের বহুগামী মনোভাবকেও নিয়ন্ত্রণ করে,  যেনো স্ত্রীর মধ্যে সে এক্সট্রাসোলার প্লানেট আবিষ্কার করতে পারে ও তার সন্তানের প্রতি মনোযোগী হয়। এর মানে এই নয় যে , এনাল সেক্স একজন পুরুষকে সম্পূর্ণ একগামী করে তুলবে কিন্তু এটি পুরুষটির জীবন থেকে সময় কেড়ে নেবে যাতে সে পরিবারের প্রতি মনোযোগী হয়। অনেকে বলতে পারেন, এনাল সেক্সের অনেক ক্ষতিকারক দিক আছে। কিন্তু প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই ক্ষতিকর দিক বহন করে। অবাধ যৌন মিলনেও এইডস হয়, বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। আদিম প্রাইমেটদের ব্রেন বড় হওয়ার পর তার পেশির শক্তি কমে যায়। একদিক উন্নত হলে অন্যদিকে দন্ড দিতে হয় এবং অনেক সময় মৃত্যুর বিনিময়ে! কারণ প্রাকৃতিক নির্বাচনের কাছে আপনি কেমন আছেন সেটা ফ্যাক্টর নয় আপনার জিন টিকে থাকছে কিনা সেটাই মূল।
 
এক্ষেত্রে আমি আরো একটি হাইপোথেসিস প্রস্তাব করছি। আমরা উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝতে পারছি পুরুষের মধ্যে এনাল সেক্সের প্রতি এক প্রকার আগ্রহ আছে, নারীদের মাঝেও ! আমরা আরো একভাবে  বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের আলোকে এনাল সেক্সের প্রবণতাকে ব্যাখ্যা করতে পারি । আমার মতে, এনাল সেক্সের জন্ম হয়েছে সন্তানের বড় মস্তিষ্কের কারণে! প্রায় এক লাখ বছর পূর্বে সেপিয়েন্সদের মস্তিষ্ক অন্যান্য প্রাইমেট থেকে বড় হয়ে গিয়েছিলো ! আর সে সময় বড় মস্তিষ্কের পাশাপাশি সেপিয়েন্সরা সোজা হয়ে দাঁড়াতেও  শিখেছিলো। সেপিয়েন্সদের ব্রেন বড় হওয়ার পর,  যখন তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে শেখে তখন সেই বড় মস্তিষ্ককে সাপোর্ট দিতে গিয়ে নারীদের কোমর সরু হয়ে যায়, তার জন্মনালীও সংকোচিত হয়ে যায়। যে সকল সেপিয়েন্স  বড় মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মেছিলো, তারা জন্মের সময় তাদের মা’কে হত্যা করেছিলো। কারণ এত বড় মস্তিষ্ক এই সরু জন্মনালী দিয়ে বের হতে  পারতোনা! আর তাই সে সকল নারীই কেবল সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতো যাদের সন্তান অপরিণত অবস্থাতেই অপেক্ষাকৃত তুলতুলে শরীর ও মস্তিষ্ক নিয়ে জন্মগ্রহণ করতো। নমনীয় এই শিশুটিকে একা মায়ের পক্ষে লালন পালন করা সম্ভব ছিলোনা আর  এ জন্য বাবার সাপোর্টও খুব জরুরি ছিলো। কিন্তু পুরুষ যদি তার জিনগতবহুগামীতা চর্চা করে তবে শিশুটির ভবিষ্যত হয়ে উঠে অনিশ্চিত। এ জন্য নারী হয় তীব্র সন্দেহপ্রবন ও সতর্ক। সে পুরুষটিকে কোনভাবেই অন্য কোনো নারীর সাথে সহ্য করতে পারেনা । আর এদিকে  পুরুষটিও গর্ভকালীন সময় সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু সময় সেক্স করা থেকে দূরে থাকতো ! এটা তার মস্তিষ্কে একপ্রকার চাপ সৃষ্টি করে, সে হয়তো উত্তেজিত হয়ে উঠে, মনোযোগের সাথে ব্যাবসা বাণিজ্য করতে পারেনা! নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য,  আমাদের প্রাইমেটরা হয়তো তাদের প্রেমিককে  বিকল্পপথ ব্যবহার করার অনুমোদন দিতো! অথবা যে সব নারীরা তাদের সঙ্গীকে এনাল সেক্স করার সুযোগ দিতো বা অন্তত পেনিসের প্রেসার ভেজাইনার পরিবর্তে বিপরীত পথে গ্রহণ করতে সম্মত ছিলো, তাদের প্রেমিকের পরক্রিয়া করার সম্ভাবনা কম ছিলো! আর এতে করে গর্ভকালীণ অবস্থায়ও তাদের দুজনের মাঝে সম্পর্ক অনেক উন্নত হতো  যা সন্তানের জন্য ছিলো অনুকূল।  আবার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যেও আমাদের আদিম প্রাইমেটদের মধ্যে এনাল সেক্স করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কারণ সন্তান যত বেশি হবে, পরিবারে খাদ্যসঙ্কট ততোই বৃদ্ধি পাবে। আর এতে করে অধিক সংখ্যক সন্তান জন্ম হওয়ার পরও পুষ্ঠির অভাবে হয়তো প্রায় সব সন্তান মারা যাবে। এত সময় শক্তি আর সম্পদ ব্যয় করার পরও সন্তান মারা গেলে তাদের জিনের উদ্দেশ্য ব্যহত হয়। অতএব স্বার্থপর জিন তার স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে বরং নিজেকে ধবংস করে দিতে বাধ্য হয় ! জিন যদি পুরুষ ও নারীর মধ্যে এনাল সেক্সের প্রতি কিছুটা মানসিক প্রবণতা তৈরি করে, তবে সে তার প্রেমিককে প্রতিযোগি নারীদের থেকে রক্ষা করতে পারবে আর পুরুষটিও ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা অথবা সন্তান জন্মের পরের মুহূর্তগুলোকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকবে! আলফা মেলকে শান্ত করার জন্য নারীদের মধ্যে একপ্রকার এনাল প্রবণতা তৈরি না হলে তবে আলফা মেলের অস্থিতিশীলতা  পরিবারকে বিপদে ফেলে দিতো!  আমি এমন কিছু দাবি করছিনা যে পুরুষের মধ্যে এনাল সেক্স করার প্রবণতা  ঠিক এ কারণেই বিবর্তিত হয়েছে। আমি শুধু অনুমান করার চেষ্টা করছি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এনাল সেক্সের মতো একটি যৌন আচরণ আমাদের মাঝে বিবর্তিত হওয়া সম্ভব। আমার সাম্প্রতিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা দিয়ে আমি ব্যাপারটা বোঝাবার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে আমার আরো জানা প্রয়োজন। আমি মূলত সবকিছুর মধ্যে ইতিহাস খোঁজার চেষ্টা করছি কারণ ইতিহাস ছাড়া আমাদের আবেগগুলো সম্পর্কে আমরা যা জানি তা অসম্পূর্ণ,  বা আমরা বুঝতেই পারিনা যে আমি কখন, কেনো, কিভাবে কী করছি, ইতিহাস নামক একটি ডায়মেনশন সময়ের মধ্যে লিখা আছে বলেই, আমরা আমাদের সাম্প্রতিক অনুভূতি বুঝতে পারছি বা বোঝার চেষ্টায় ব্যস্ত আছি।
 
 

এক্সট্রা- ম্যারিটাল সেক্স  ও গ্রুপ সেক্সের বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান।

 

 

সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন

Illustration from De figuris Veneris by Édouard-Henri Avril — orgy scene or orgy fantasy

 
 
আমরা বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের আলোকে নারীদের মধ্যে পরক্রিয়ার প্রবণতাকেও ব্যাখ্যা করতে পারি। আমরা দেখেছিলাম, একজন নারী সে পুরুষটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতো যার মস্তিষ্ক টাইম ট্রাভেলার্স। কিন্তু একটি ব্রেন ফিউচার সিমুলেট করতে পারে বলে এ নয় যে সে ভালো সেক্সও করতে পারে। জিনগতভাবে নারীদের মধ্যে সুগঠিত শরীর ও আদর্শ পেনিসের প্রতিও আগ্রহ আছে! কিন্তু সন্তানের কথা ভেবে একজন নারী এমন একটি পুরুষকে নির্বাচন করে যে যৌনতায় এতটা পারদর্শী না হলেও  সন্তানের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয়। আর এ ধরণের পরিস্থিতিতেই পরক্রিয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে, কারণ আত্মসন্তুষ্টি না থাকলে পরিবারে মনোযোগ দেয়া যায়না, আর স্বামীর প্রতিও আনুগত্য কাজ করেনা! আর তাই একজন নারী তার মস্তিষ্কের সন্তুষ্টির জন্য একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারে! কারণ আত্মসন্তুষ্টি নারীদের মধ্যে আনুগত্য ও সন্তানের প্রতি যত্ম বাড়িয়ে দেয়! এ হাইপোথিসিস যদি সত্য হয় তবে পরক্রিয়া প্রেমিকাদের মধ্যে স্বামীর প্রতি আন্তরিকতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হবে, তার আনুগত্য অস্বাভাবিক ও অন্যরকম হয়ে উঠবে! মেনে নেয়ার প্রবণতা হবে তার মধ্যে প্রবল থেকে প্রবলতর ! আমরা প্রায়শ দেখতে পাই বড় বড় ব্যাবসায়ী ও রাজনীতিবিদ এর স্ত্রী পরক্রিয়ায় লিপ্ত হয়। কিন্তু সাংসারিক জীবনে তারা যথেষ্ট সভ্য ও মনোযোগী। সন্তানের প্রতি প্রবল আন্তরিকতা! পরক্রিয়াকে দেখা যেতে পারে একটি বিবর্তনীয় কমপেন্সেশন হিসেবে! যেমন বাদুড় অন্ধ হওয়ার কারণে তার শ্রবণশক্তি অনেক বেশি হয়, যেনো সে শব্দের মাধ্যমে দৃশ্যের ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। ঠিক তেমনি একজন নারী জিনের আদিম  তাড়নায় সন্তানের কথা ভেবে যদিও কোনো সেলিব্রেটি বা বুদ্ধিমান আলফা পুরুষের সাথে সম্পৃক্ত হয় কিন্তু তার মস্তিষ্কের সন্তুষ্টির জন্য সে পরক্রিয়ার মাধ্যমে তার সেই সিদ্ধান্তের ক্ষতিপূরণ নিতে পারে,  অতএব পরক্রিয়া মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং এটি টিকে থাকার জন্য নারীদের মধ্যে সুন্দর একটি অভিযোজন।  আর একটি তত্ব অনুসারে,  অধিক সংখ্যক পুরুষের সাথে সেক্স করাটাকে আদিম সমাজের নারীরা উন্নত মাপের সন্তান সৃষ্টির জন্য জরুরি মনে করতো। কারণ অনেকের সাথে সেক্স করলে হয়তো হয়তো তার মধ্যে শেরা সিমেনটি প্রবেশ করার সম্ভাবনা ছিলো। নারীদের যৌনি এ জন্য অজস্র পুরুষের জন্যও হয়তো তখন উন্মোক্ত ছিলো। আমরা এখনো সঠিকভাবে জানিনা কোন তত্বটি সম্পূর্ণ ঠিক। হয়তো দুটোর একটি সমন্বয় থাকতে পারে! অথবা একটি । কিন্ত কোনো স্বতন্ত্র তত্ত্ব  দিয়ে নারীর মনস্তত্বের ডুয়ালিটি এক্সপ্লেইন করা যায়না। ফান্ডামেন্টাল ফোর্সগুলোকে যুক্ত করতে যেমন হায়ার ডায়মেনশনাল স্পেস প্রয়োজন ঠিক তেমনি নারীর মস্তিষ্ককে ব্যাখ্যা করার জন্যও ভিন্ন ভিন্ন ডায়মেনশনের চিন্তা একসাথে ঐক্যবদ্ধ করা প্রয়োজন।
 
 
Women cheating: looking for passion, don't leave spouse
 
 
 
 
 তত্ত্ব অনুসারে, আদিম সমাজে এমন এক মিথ প্রচলিত ছিলো যে,  যতবেশি পুরুষের সাথে সেক্স করা হবে সন্তানের কোয়ালিটি হবে অনেক উন্নততর। বারী ইন্ডিয়ানরা এখনো গ্রুপ সেক্স করে। আমরা এখনো পর্ণের জগতেও গ্রুপ সেক্সকে মেনে নিতে পারিনি অথচ আদিম নারীদের মধ্যে এটা ছিলো একদম সাধারণ। যতবেশি পুরুষের সিমেন যৌনির অতলে প্রবেশের  অনুমোদন পাবে , জরায়ু ছিটকে মহাবিশ্বের বুকে উড়ে বেড়াবে আর  তারা ততো ক্ষমতাবান সার্ভাইভাল মেশিন। আধুনিক ভ্রুণ তত্বের বিকাশের পরই কেবল আমরা জানতে পারি, গ্রুপ সেক্স করলেও গ্রুপের সকল মেম্বারদের সিমেন থেকে সন্তান হয়না! কেবল একজনের ভ্রুণ থেকেই সন্তান জন্ম নেয়।
 
 
এখন প্রশ্ন হলো গ্রুপ সেক্স কেনো বিকশিত হলো? তারা কেনো এত অত্যাধুনিক ছিলো! একটি অবৈজ্ঞানিক মিথের উপর ভর করে কেনো তারা অধিক পুরুষকে তাদের যৌনিতে প্রবেশ করার সুযোগ দিতো। এর কারণ ছিলো টিকে থাকা। সবাই যদি এমন একটি অবৈজ্ঞানিক ধারণায় বিশ্বাস করে যে আমাদের সবার সম্মিলিত জিন একত্রিত হয়েই এ শিশুটি জন্ম হয়েছে তবে সে শিশুটি গ্রুপের সকল মেম্বারদের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়ে যায়।  আদিম সেই প্রতিযোগিতামূলত পরিস্থিতিতে একটি বিরাট গ্রুপের সাপোর্ট নিয়ে, সে শিশুটি ভবিষ্যত প্রজন্মে নিজেকে  হস্তান্তরিত করতে পারে। অপবিজ্ঞান সমাজে থাকবেনা এটা একদম ঠিক নয়, কখনো কখনো অ্পবিজ্ঞান সমাজকে টিকে থাকার ক্ষেত্রে উপযোগিতা দিতে পারে, বিজ্ঞানের কাজ সমাজকে পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা, সমাজকে এটা বোঝানো যে তারা অপবিজ্ঞানের উপর দাঁড়িয়ে আছে, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায়…!
 
আমি মনে করি, নারীর মস্তিষ্কের গভীরে গ্রুপ সেক্সের প্রতি একটি প্রবণতা রয়ে গেছে। এটা সম্পূর্ণ মিডিয়ার সৃষ্টি নয়। গ্রুপ সেক্স আমরা কেনো করি তার মনস্তত্ব যদি বিবর্তন ব্যাখ্যা করতে না পারে তবে এ তত্বটি নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। মানব জীবনের প্রতিটি অনুভূতির ব্যাখ্যা বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের কাছে থাকতে হবে। নিউরোলজির কাজ মস্তিষ্কের কোন সেক্টর কি কাজ করে তা দেখা। আর বিবর্তনের কাজ মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অংশ কোন বিশেষ পরিবেশঘত চাপে এমন আচরণ করে তা খোঁজ করে দেখা। আমি একজন বিবর্তনবাদীর চোখেই মানবীয় আবেগগুলো ব্যাখ্যা করতে চাইছি! এগুলো আমার ব্যাখ্যা নয় ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা!  আমরা আজ গ্রুপ সেক্সের মধ্যে বিভিন্ন ভেরিয়েশন দেখি। এর মাঝে সংযুক্ত হয়েছে যথেষ্ট শিল্প।  আমি মনে করি এ ভ্যারিয়েশন আমাদের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স সিমুলেট করেছে, কারণ প্রাণীজগতে আমাদেরই Sense of Tomorrow আছে। আমরাই কেবল যে ঘটনা এখনো ঘটেনি সে ঘটনাকে মনস্তাত্বিক টাইম মেশিনে ভ্রমণ করে সিমুলেট করতে পারি, ভিন্ন ভিন্ন নারীর সাথে নিজের নিউরনকে বিছানায় শোয়াতে পারি, যা ইচ্ছে তা অসভ্য আচরণ করতে পারি। গ্রুপসেক্সের উপাদানগুলো ফিউশন ঘটিয়ে আমাদের কল্পনা থেকে সৃষ্টি হয় থ্রিসাম, কাপল গ্রুপ সেক্স, দি গ্যাংব্যাং, ORGY,!
 
 
সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন

wo men embracing naked woman is a photograph by Maxim Images Prints which was uploaded on June 16th, 2014.

 

 

কেনো আমরা দীর্ঘতর  সময় সেক্স করতে চাই?

 
 
The Conversation এ বলা হয় যে এর উত্তর লুকিয়ে আছে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানে। Why does it last any Time at all? আমরা মূলত সেক্স করি, ভেজাইনাতে আমাদের স্মার্ম রাখার জন্য। সেলফিশ জিন তত্ত্ব অনুসারে, ভেজাইনাতে জিন সংক্রমণ করাটাই জিনের মূখ্য উদ্দেশ্য। তাহলে আমরা কেনো যৌনির ভেতর প্রচন্ড ধাক্কা দেই ও কম্পন সৃষ্টি করি? প্রতি সেকচুয়াল সেশনে শতবার যৌনির ভেতর ও বাহিরে স্লাইডিং না করে কেনো আমরা এক ধাক্কায়, সম্পূর্ণ সিমেন গভীরে গেথে দিচ্ছিনা? তাহলে অন্তত সময় ও শক্তি বেচে যেতো! শরবত পান করে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে সেদিনের বিশ্রামে চলে যেতে পারতেন! তাহলে কী আমরা কোন ফান করছি? এটা কি একটা হাসির কৌতুক? না! ব্লাইন্ডওয়াচম্যাকার মজা করেনা!  মূলত বিবর্তন এটা ডিজাইন করেছে যেনো আমাদের পূর্বসূরিরা তার জিনকে ফিউচার জেনারেশনে ছড়িয়ে দেয় কিন্তু এখানে যদি আনন্দের উপলব্ধি না দেয়া হতো তবে তারা জিনকে ছড়াতে মজা পেতোনা, এ জন্য স্বার্থপর জিন ব্রেনকে একপ্রকার আনন্দের উপলব্ধি দিয়ে দিয়েছে, তাদের ব্রেন হ্যাক করে রেখেছে। তারমানে এই না, যে খাবার খেতে মজা লাগে বলে আপনি একটু মুখে দিয়ে ৫ মিনিট চিপাবেন!
 
২০০৩ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায়, পুরুষরা মূলত থ্রাস্টিং করে নারীর যৌনি থেকে অন্য পুরুষের স্পার্ম বের করে দেয়ার জন্য, যাতে করে তার স্পার্ম সর্বপ্রথম সুইম করতে পারে। কিন্তু এ কাজটা ক্রমাগত করে যাওয়া   একজন পুরুষের জন্য খুব ব্যাথাদায়ক কারণ এ প্রক্রিয়ায়  অনেক সময় তারা নিজেদের সিমেনও বের করে ফেলে!
 
যাইহোক। পরিশেষে আমি বলতে চাই যে আমাদের নিজেদের বোঝার জন্য সেকচুয়াল সিলেকশন ও বিবর্তনীয় মনস্তত্ব বোঝা প্রয়োজন। আপনার শরীর এর এক একটি অংশ যেমন এক একটি বিবর্তনীয় পরিবেশে অভিযোজিত হয় ঠিক তেমনি আপনার মনও একটি এডাপসন। আপনার মনকে বোঝার জন্য নিউরোলজি অথবা সাইকোলজি যথেষ্ট নয়। এ জন্য আপনাকে বুঝতে হবে আপনার মনের বিবর্তনীয় ইতিহাস। নারীর মনস্তত্ব বোঝা আমাদের জন্য খুবই জরুরী! আপনার এক একটি ইমোশন মিলিয়ন থেকে মিলিয়ন বছর অতীতের কোন পরিবেশগত চাপের সাথে সমন্বিত হওয়ার জন্যই বিবর্তিত হয়েছে। আমি মনে করি ইমোশনের ট্রান্সজিশনাল ফসিল পেতে হলে ইমোশন তৈরির পেছনের বিবর্তনীয় ব্যকগ্রাউন্ড জানা খুব জরুরী। কোনো কোনো ইমোশন এক লক্ষ বছর অতীতে পাবেন, আবার সেক্সের মতো ইমোশনগুলো তো ডায়নোসর থেকেও বহু আগের। লাখ লাখ বছর অতীত এর সময়ের এক একটি শিলাস্তর থেকে আপনার মনের এক একটি টুকরোকে কুড়িয়ে এনে জোড়া লাগানোর পরই আপনার আসল ইমেজ তৈরি হবে! আর বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান আপনার মনের মিসিং লিংক গুলো খুঁজে বেড়ায়, তারা আপনার মনকে জানার জন্য মানব সভ্যতার অতীতে টাইম ট্রাভেল করে! আমরা নারী ও পুরুষের মনের সম্পূর্ণ একটি ছবি চাই। কিন্তু একজন হেট্রোসেকচুয়াল হিসেবে আমি মনে করি আমাকে নারীর মনের সম্পূর্ণ এনাটমি জানা উচিত, নারীর একটি পরিপূর্ণ ছবি আমি তৈরি করতে চাই। অনেক কবি সাহিত্যিক নারীর মন বুঝেনি, এক লেখক নারীর মন নিয়ে লিখতে গিয়ে তার গ্রন্থের সম্পূর্ণ পাতাগুলোই শূন্যস্থান রেখে দেন, কারণ নারী তার কাছে শূন্যস্থান, সে নারীর মনের মিসিং লিংক বুঝতে পারেনি! নারীর চরিত্র সম্পূর্ণ ভাবে তারা এ জন্যই বুঝেনি কারণ তারা নারীর চরিত্রকে সাম্প্রতিক সময়ের ফ্রেমওয়ার্ক থেকে দেখেছে , কিন্ত একজন নারীর যে একটি বিবর্তনীয় ইতিহাস আছে, তার আবেগ অনুভূতিগুলো যে লাখ লাখ বছর পূর্বে অভিযোজিত, তাকে জানতে হলে যে টাইম মেশিন প্রয়োজন, তার সামগ্রিক ইতিহাস বোঝা প্রয়োজন তা আমরা জানিনা! নজরুল বলেছিলেন, অর্ধেক নারী তুমি অর্ধেক কল্পনা! আর ছফা বলেছেন, অর্ধেক নারী তুমি অর্ধেক ঈশ্বরী! আরে ভাই! আপনি তো নারীর ইতিহাসই জানেননা, আপনি তার ফসিল রেকর্ডই সংগ্রহ করেননি, আপনি তাকে বুঝবেন কী করে! তার অর্ধেক ঈশ্বরী কারণ তার অর্ধেক তথ্য আছে ইতিহাসে,লাখ লাখ বছর অতীতে, আপনি তাকে দেখার চোখই অর্জন করেননি! আর এই যে নজরুল সাহেব! আপনি নারীকে অর্ধেক কল্পনা বলেছেন! সঠিক বলেছেন।।। কল্পণার টাইম মেশিনে ছড়েই নারীর অতীত ইতিহাস জানা যায়,তবে আবোলতাবোল চিন্তা করলে হবেনা জীববিজ্ঞানের আলোকে সঠিকভাবে চিন্তা করতে হবে! আপনি এও বলেছেন, মদ, গ্লাস, মগ অথবা ঘামলা যেখানেই ঢেলে খাওয়া হয় স্বাদ একই, আপনি নারীকেও তার সাথে তুলনা করছেন, যে পাত্রেই ঢালি, নারীর নেশা একই! যদি তাই হয়, এত নারী পাল্টান কেনো? আইনস্টাইন তো মা-মেয়ে দুজনকেই ভোগ করেছে! আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, নারী বহুগামী? যদি তাই হয় তবে আপনি নিজেও বহুগামী! কিন্তু আপনি বুঝতে পারেননি যে আপনার কেনো নারীর জন্য এত ফাটে! আপনি নারীর যৌনিতে অন্য পুরুষের শুক্রাণু ভ্রমণ করুন এটা সহ্য করতে পারেননা কারণ আপনার মন রিচার্ড ডকিন্সের সেলফিশ জিনের তৈরি, আপনি একটা আদিম নরবানর বা সাধারণ একটি জন্তু।
 
যাক নারীর বিরহেই আপনি বিদ্রোহী কবি হয়েছেন! আর সেটা স্বীকারও করেছেন! নারীই আপনার ঈশ্বর! আর ঈশ্বরের মনস্তত্ব বুঝতে হলে ডারউইনের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করুন। যাহোক, আর ঝগড়া নয়! আমার বন্ধুদের অনেকেই একটা ব্যাপারে কষ্ট পায়! সেটা হলো প্রেমিকার আগেই তাদের সিমেন্স আউট হয়ে যায়। তাদের পুরুষত্ব নাকি অপমানিত! তাদের কষ্ট আর আতঙ্কের শেষ নেই। নারীর আগে পুরুষের সিমেন আউট হয় কারণ পুরুষ টেস্টাটোরন  চালিত, তার ব্রেনে এটি খুব দ্রুত কাজ করে! সাধারণত গড়ে পুরুষের ৫ মিনিট পর নারীর অর্গাজম হয়! তারমানে, প্রকৃতি আপনাকে ৫ মিনিট সময় চিন্তা করার সুযোগ দিয়েছে, আপনার ব্রেনকে সুযোগ দিয়েছে নারীর সম্পূর্ণ শরীর ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য। তাকে স্নেহ,ভালোবাসা ও বিশ্বাস জাগানোর জন্য। তার দেহের মাঝে আপনার ধৈর্য, সহ্য, অনুভূতি, নিস্তব্দতা ও হাহাকার মিশিয়ে এমন একটি শিল্পৈক সত্ত্বা তৈরি করার জন্য যা আপনাকে নারীর মনে মহাপুরুষ করে তুলবে, আপনার কোমলতা, আপনার প্রতিটি নরম স্পর্শ, নারীর মস্তিষ্কের ভেতর সিমুলেশন ক্রিয়েট করবে, আপনি তার সাথে স্পর্শের অনুভূতি দিয়ে কথা বলতে পারবেন! ৫ মিনিট নারীর সাথে স্পর্শ অনুভূতি দিয়ে কথা বলুন, তাকে বোঝান, ও বুঝুন। সময়ের ডিউরেশন নয়, আপনার পজেটিভ এনার্জি, আপনার আন্তরিকতা, আপনার জ্ঞান এবং নারীর দেহ ও মনকে বোঝার ক্ষমতাই প্রধান। বিবর্তন আপনার থেকে নারীর জন্য ৫ মিনিটের বিশুদ্ধ ভালোবাসা আদায় করে নিতে চেয়েছে। যা আপনাদের সম্পর্কের গভীরতা ও সান্তোষ বাড়ায়! আমি এটাকে একটি এডাপসনই বলতে চাই।
 
 

তথ্যসুত্রঃ

1)  How long does sex normally last? – The Conversation

2) Sex Drive: How Do Men and Women Compare?

3) What Is Sexual Orientation?

4) Women’s Preferences for Penis Size: A New Research Method Using Selection among 3D Models

5) Why Women Engage in Anal Intercourse: Results from a Qualitative Study

6) Reality Check: Anal Sex, Goop

7) Back Door Psychology

8) Sexual Hookup Culture: A Review

9) Sexual Hookup Culture: A Review

10) The Psychology of Anal Sex

11) Love, Sex, and Marriage in Ancient Mesopotamia

সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন  সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন 
সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন সেকচুয়াল ইভোল্যুলিউশন ও নারীর মন 

আরও পড়ুন

0 মন্তব্য

Mahin Mahmood April 29, 2021 - 4:57 pm

আপনার প্রবন্ধে আপনি এনাল সেক্সের প্রতি অত্যধিক অবসেশন দেখিয়েছেন। একটা গবেষণামূলক প্রবন্ধে অবসেশন জিনিসটা থাকা উচিত না, এতে প্রকৃত সত্য উঠে আসে না। আর এনাল সেক্স-এর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে লিখলে ভাল হত, কারণ আপনার এই প্রবন্ধ পড়ে কোন নির্বোধ পাঠক হয়তো এনাল সেক্স করতে গিয়ে anal incontinence, piles, fistula, anal fissure ইত্যাদি রোগ বাধিয়ে বসবে। লেখাটা আরেকটু ক্রিটিক্যাল হলে ভাল হত। আশা করি কিছু মনে করেননি আমার মন্তব্যে।

প্রতিউত্তর

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!
%d bloggers like this: