সমকামীতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি!

সমকামিতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি!

সমকামীরা সন্তান তৈরি করেনা ঠিকই কিন্তু তারা পারিবারিক DNA Exchange করার জন্য অন্যদের সাপোর্ট করে। আর এতে করে পারিবারিক জিনের ভেতর দিয়েই তার জিন ফিউচারে স্থানান্তরিত হয়।

২০১৯ সালে Why Is Same-Sex Sexual Behavior So Common in Animals? শিরোনামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয়,  সমকামিতা আর বিবর্তনীয় কোনো বিভ্রম নয় বরং আমরাই এটাকে ভুলভাবে চিন্তা করছি। সায়েন্টিফিক আমেরিকার প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় পনেরশত প্রজাতির প্রাণী সমকামিতা করে , অতএব এটি প্রকৃতিতে আকস্মিক ঘটনা নয়। সমকামিতা ন্যাচারাল।

Why Is Same-Sex Sexual Behavior So Common in Animals?
Credit: Scientific America  Starfish exhibiting mating behavior.

                    

সেখানে বলা হয়, বিগত দশকে সমকামিতার উপর অনেকগুলো হাইপোথেসিস প্রস্তাব করা হয়েছে এবং প্রায় সবগুলোতে এটিকে একটি বিবর্তনীয় প্যারাডক্স বলে আখ্যায়িত করার কথা বলা হয়েছে যেহেতু এটি প্রজননের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখেনা। হয়তো এ প্যারাডক্সের অনেক বড় মাপের কোনো বিবর্তনীয় উপযোগীতা আছে অথবা এটি  প্রাকৃতিক নির্বাচন দ্বারা নির্মুল হয়ে যেতো।

Same-Sex Behavior in Animals Was Evolution's Baseline, Not Anomaly | The  Swaddle

SSB (Same Sex Behaviour) কে অনেক সময় খুব বেশি ব্যায়বহুল মনে হয় কারণ এসএসবি একজন ব্যাক্তিকে অনর্থক বিপুল সময়, শক্তি ও ক্ষমতার অপচয় করার জন্যে অনুপ্রাণিত করে কোনোপ্রকার সুস্পষ্ট বিবর্তনীয় উপযোগ ব্যতীত। আর অন্যদিকে DSB (Different Sex Behaviour) ভেনিফিশিয়াল কারণ এটি সন্তান উৎপাদনে সহযোগিতা করে আর এ জন্যে এটি খুবই এফিশিয়েন্ট। যাইহোক, প্রাণীরা অনেক সময় বহুবার সেক্স করার পর মাত্র একটি সন্তান জন্ম দেয়। এক বছরে একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে কয়েক হাজারবার মিলিত হয় কিন্তু তার পক্ষে কী কয়েক হাজার সন্তান জন্ম দেয়া আদৌ সম্ভব? তাহলে আমরা দেখছি শুধুমাত্র এসএসবি নয়, ডিএসবিও  একজন ব্যক্তির  ব্যপক সময়, শক্তি ও সম্পদের অপচয় করে। আমরা বলতে পারি সমকামিতা এক্ষেত্রে  একটু ব্যয়বহুল কারণ এটি সন্তান উতপাদন করতে কোনো সাহায্য করেনা। একজন ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হাজার হাজার বার সেক্স করে, মিলিয়ন মিলিয়ন শুক্রানু অপচয় করে কিন্ত তার পরিবর্তে সে সন্তান জন্ম দেয় মাত্র ১ থেকে ৫ জন। অতএব সমকামিতাকে আমরা ঢালাওভাবে সময়, শক্তি ও সম্পদের অপচয় বলতে পারিনা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো গবেষকরা বলছেন সমকামিতাও জিনকে ফিউচার জেনারেশনে নিয়ে যেতে পারে । যদি তাই হয় তবে আমরা আর এটা বলতে পারিনা যে সমকামিতার কোনো জিনগত উপযোগ নেই! কিন্তু কীভাবে সমকামীতার মাধ্যমে জিন হস্তান্তর করা যায়?

সমকামিতার মাধ্যমে জিন হস্তান্তরঃ

সহবাস একমাত্র উপায় নয় যার মাধ্যমে আমরা আমাদের জিনকে ভবিষ্যত প্রজন্মে হস্তান্তর করি। আরো একটি উপায় যে পদ্ধতিতে কোন জীব তাদের DNA ছড়াতে পারে সেটিকে বলা হয় কিন সিলেকশন। এটি রিয়েলিটির প্রকৃতি থেকেই নির্গত হয়। আমরা সবাই আমাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে জিন শেয়ার করেছি। সন্তান মা ও বাবা থেকে অর্ধেক করে জিন পায়। যদি একজন শিশুর Full brother /sister থাকে তবে সে তার অর্ধেক জিন তাদের সাথে শেয়ার করে। আট ভাগের একভাগ জন পায় তার কাজিন আর এভাবেই চলতে থাকে। একজন ব্যক্তি যদি সারাজীবন তার জেনেটিক রিলেটিভদের দেখাশুনা করে, যদি সে কোনোদিনও রোম্যান্টিক প্রেমে না পড়ে, কোনোদিন যদি সে এক বিন্দুও স্পার্ম বিচ্ছুরিত না করে, তবুও তার জিন ভবিষ্যত প্রজন্মে যাবে। কারণ সে মূলত, তার পরিবারিক ডিএনএ কে সাপোর্ট করছে। আপনার আত্মীয় যদি সার্ভাইভ করে, আপনিও সার্ভাইভ করবেন আর এটাকেই বলে “Inclusive Fitness”!

হেল্পিং নেস্ট হাইপোথেসিস অনুসারে, সমকামিতার বিবর্তন ঠিক এ জন্যই ঘটেছে। সমকামিরা সন্তান তৈরি করেনা ঠিকই কিন্তু তারা পারিবারিক DNA Exchange করার জন্য অন্যদের সাপোর্ট করে। আর এতে করে পারিবারিক জিনের ভেতর দিয়েই তার জিন ফিউচারে স্থানান্তরিত হয়। কারণ জিনের মূখ্য উদ্দেশ্য নিজের অনুলিপি তৈরি করা, কোনো শরীর তৈরি করা নয়। আর তাই সমকামিতা সেলফিশ জিন থিউরি অথবা বিবর্তনের বিপক্ষে যায়না। মূলত, সমকামিতার বিবর্তন ঘটে পপুলেশন কন্ট্রোল ও পারিবারিক DNA প্রমোট করার জন্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমকামিদের মধ্যে এ জন্য মায়া মমতার পরিমাণ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের মস্তিষ্কে কিছু কিছু নিউরোট্রান্সমিটারের আধিক্যতা কাজ করে। যার জন্য তারা পরোপকারী ও অনুভূতি প্রবণ হয়ে উঠে। এদের বিবর্তনই ঘটেছে পারিবারিক জিনের বিকাশে সহযোগী ভূমিকা পালন করার জন্য। অনেকটা কর্মী মৌমাছির মতো যারা বন্ধ্যা বা সেক্সের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম। আর এ জন্য তারা রানী মৌমাছির শরীরের জিনকে প্রমোট করতে সাপোর্ট করে। রানী মৌমাছি হলো মৌমাছিদের যমজ বোন, যে তাদের ১০০ ভাগ জিন বহন করে। তাই যদিও তারা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম কিন্তু জিন ট্রান্সফর্ম করার ক্ষেত্রে তারা মোটেও অক্ষম নয়। কারণ জিনের প্রধান লক্ষ্য কোনো শরীর তৈরি করা নয়, তার নিজের অনুলিপি তৈরি করা। কর্মী মৌমাছির মতোই বিবর্তন সমকামিদের অনুমোদন দেয়, যেনো এই টিকে থাকার যন্ত্র সমকামিরা সফলতার সাথে তাদের পারিবারিক জিন তথা তার নিজের জিনের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরবর্তী প্রজন্মে রেখে যেতে পারে।

২০১২ সালে সমকামিতার উপর Empathy and Spirituality: Is there a Gay Advantag? শিরোনামে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সাইকোলজি এন্ড বিহেভয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা একটি পরিসংখ্যান পরিচালনা করেছিলেন যেখানে অনলাইনে ৫৮ জন হোমোসেকচুয়াল ও ৪৬ জন হেট্রোসেকচুয়াল অংশগ্রহণ করেন । পরিসংখ্যানে দেখা যায় হোমোসেকচুয়ালরা হেট্রোদের তুলনায় অন্য মানুষদের প্রতি অনেক বেশি এম্পেথি অনুভব করে ও তাদের স্প্রিচুয়াল চিন্তা উচ্চমাত্রিক!

সমকামীতার জিন ও বিবর্তন

hsbd bg