ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস

ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস

সাধারণ আপেক্ষিকতা হল মহাকর্ষের তত্ত্ব যা ৪র্থ মাত্রার বক্রতার ফল । ইহা স্যার আইনস্টাইনের দ্বারা 1907–1915 সালে বিকশিত হয়েছিল। এ তত্ব শিক্ষানবিশ মহলে উত্থাপিত হবার পর এর পক্ষে এবং বিপক্ষে অগনিত  সমর্থন আসতে থাকে । ঠিক  এই  সময়টার ভিতর  Flatland A Romance of Many Dimensions by A Square  নামক  একটা উপন্যাস খুবই  জনপ্রিয়  হয়ে উঠে , উচ্চ মাত্রিক জগৎকে অনুধাবন করার জন্য যা ছিল একটি খুবই কার্যকরি লিখা । সিটি অব লন্ডন স্কুলের হেড টিচার এডুইন এবাট  উনার এই উপন্যাসের মাধ্যমে জন সাধারনের মাঝে হাইপারস্পেস নিয়ে পরিস্কার ধারনা ও আগ্রহ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলেন । ১৯১৫ সালের পুর্বে এই উপন্যাস নয় বার পুনমুর্দ্রিত হয়েছিল ।

                                 চিত্র : ফ্ল্যাটল্যান্ড উপন্যাসের প্রচ্ছদ ।

এবাটই  সর্বপ্রথম  উনার ফ্ল্যাটল্যান্ড উপন্যাসের মাধ্যমে  জনসাধারনের সাথে  হাস্যরস করেন ।

ফ্ল্যাটল্যান্ডের গল্প :

ফ্ল্যাটল্যান্ড বলতে একটি  দ্বিমাত্রিক জগৎকে বুঝান হয়েছে । উপন্যাসের নায়ক মি. স্কয়ার এই জগতে বসবাস করেন ।

ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস
   চিত্র : মি. স্কয়ার এবং তার বান্ধবী ।


এখানে দেখান হয়েছে স্ট্রেইট লাইনরা হচ্ছে  নারী , যারা সমাজের সবথেকে নিচু স্তরে অধিষ্ঠিত । একটি বহুভুজ, যে মহত্বের প্রতিক । এখানে যার বাহু সংখ্যা যত বেশি তার  মর্যাদা আর মাহত্ম্য ততো বেশি ।

ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস

                                চিত্র: ভিন্ন ভিন্ন ফ্ল্যাটল্যান্ডারস

আর বৃত্ত হচ্ছেন মহাপুরোহিত , যার মতে ফ্ল্যাটল্যান্ডে উচ্চ মাত্রা নিয়ে চিন্তা করাও অপরাধ । চার্চের নিয়মও তাই , উচ্চমাত্রা নিয়ে আলোচনাকারী ব্যক্তিকে  শাস্তি প্রদানের বিধান প্রনয়নও করা হয়েছে ।

গল্পের নায়ক মি. স্কয়ার ভাবত সে একজন বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তি । সে কখনোই উচ্চমাত্রা নিয়ে বিশেষ কোনো ভাবনা ভাবেনি । সৌভাগ্যবশত একদিন তার সাথে একটা স্ফেয়ারের দেখা হয়ে যায় , যা ত্রিমাত্রিক জগৎ থেকে এসেছিল ।

কিন্তু  মি. স্কয়ার খুবই অবাক ছিলেন । কারন প্রভু গোলক বারবার তাহার নিজের আকার পরিবর্তন করছিলেন , যা মি. স্কয়ারের পক্ষে সম্ভব নয় ।

ভীত সন্ত্রস্ত স্কয়ারকে অভয় দিয়ে গোলকটি বলে , “ ভয় পেওনা । আমি অন্য একটি জগৎ থেকে এসেছি , যেটির নাম স্পেসল্যান্ড । আমার জগতে সব কিছু ত্রিমাত্রিক , তাই আমিও ত্রিমাত্রিক ।”

কিন্তু  সহজ সরল স্কয়ার প্রভু গোলকের এই ত্রিমাত্রিক জগতের প্রস্তাবকে  পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে, কারন প্রভু গোলককে ফ্ল্যাটল্যান্ড থেকে একটি পরিপুর্ন বৃত্ত মনে হচ্ছিল । কোনো অবস্থাতেই মি. স্কয়ার এটা মানতে চায়না যে ত্রিমাত্রিক জগৎ থাকতে পারে । ত্রিমাত্রিক জগৎকে অস্বীকার করার দোষে দুষ্ঠ মি. স্কয়ারকে দোষমুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রভু গোলক । যে কথা সেই কাজ  , প্রভু গোলক মি. স্কয়ারকে ফ্ল্যাটল্যান্ড থেকে তুলে  সাথে নিয়ে নিজের স্পেসল্যান্ডে আসেন ।

ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস
         চিত্র : স্পেসল্যান্ডে মি. স্কয়ার

মি. স্কয়ার স্পেসল্যান্ডের তৃতীয় মাত্রায় ট্রাভেল করছিল । কিন্তু দেখে তাকে মনে হচ্ছিল একট টুকরো কাগজ । এর কারন যথেষ্ট পরিস্কার ।  আমরা জানি ফ্ল্যাটল্যান্ড দ্বিমাত্রিক । তাই বাধ্যতামুলকভাবেই ফ্ল্যাটল্যান্ডের নাগরিকগন হাইপারবিং হতে পারেনা । স্পেসল্যান্ডের Z ডাইমেনশনে মি. স্কয়ারকে ফ্রী ফল করতে দেওয়া হয় । মি. স্কয়ার এমন ভাবে ভূমিতে পতিত হচ্ছিল যেন গাছ থেকে কোনো শুখনো পাতা মাটিতে পরছে । (দশমাত্রিক জগতের কল্পনা)

তবে হ্যাঁ, মি. স্কয়ার কিন্তু স্পেসল্যান্ডকে ত্রিমাত্রিক দেখেনি । ত্রিমাত্রিক জগৎটির যেদিকেই সে তাকাচ্ছিল সেদিকেই সে দ্বিমাত্রিক স্লাইস দেখতে পাচ্ছিল । যখনই সে কোনো বস্তুকে দেখছিল তখনই সে বিস্ময় দেখছিল । মনে হচ্ছিল দ্বিমাত্রিক বস্তুগুলো প্রতিমুহূর্তে তাদের আকার পরিবর্তন করছে ; কখনও ছোট হচ্ছে আবার পরক্ষনেই বড় হয়ে যাচ্ছে । আবার মনে হচ্ছিল এমন যে সে একই বস্তুর ‍ভিন্ন ভিন্ন খন্ড পাশাপাশি নারাচারা করতে দেখছে । তার কাছে প্রতি ক্ষেত্রে দ্বিমাত্রিক খন্ড চিত্রই দৃশ্যমান হচ্ছিল । বস্তুগুলো কখনও দৃশ্যমান হচ্ছিল আবার অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিল । যেন তাহারা এক যাদু জানে , এক স্থান থেকে অদৃশ্য হয়ে অন্য কোনো স্থানে দৃশ্যমান হতে পারে আর ইচ্ছানুযায়ী নিজের রূপ পরিবর্তন করতে পারে । এভাবে চলতে থাকল ।   এক সময় মি. স্কয়ারকে তার নিজের ফ্ল্যাটল্যান্ডে ফিরিয়ে আনা হলো । ফিরে এসে সে তার অভিজ্ঞতার কথা সবাইকে বলতে শুরু করল । সবাই শুনল কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করলনা । মহা পুরোহিত বৃত্ত তাকে পাগল বলে ঘোষনা করল । সবাই তাকে মিথ্যা অপবাদ দিতে লাগল । কষ্ট সইতে না পেরে মি. স্কয়ার মানসিক বিদ্রোহ শুরু করল ।   সে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইল । আর এই স্বাধীন চিন্তাকে  সমাজের উচ্চ পদস্থদের  কাছে বুঝানোর চেষ্টা করতে লাগল । সে তাদের এটা বলতে লাগল যে , “ আমাদের জগৎ দুই মাত্রার হলেও তিন মাত্রার জগৎও সম্ভব ।   দিনকে দিন বুদ্ধিমান লোকেরা  তার কথা বুঝতে শুরু করল এবং তিন মাত্রার জগৎকে অনুধাবন করতে পারল । মি. স্কয়ারের প্রস্তাবে অনেকেই সমর্থন করেছিল । তাই মহা পুরোহিতের চোখে  মি. স্কয়ার হয়ে উঠল এক আতঙ্ক ।   গল্পের শেষটাতে দেখা যায়  চার্চের নিয়ম অনুযায়ী মহা পুরোহিত তার নিজ প্রতিষ্ঠিত মতবাদকে অক্ষুন্ন রাখতে মি. স্কয়ারকে কারাগারে প্রেরন করেন । বাকি জীবন তাকে সেই কারাগারেই  কাটাতে হয় ।


 লেখক  এবাট  তার উপন্যাসের মাধ্যমে যে ইন্টার ডাইমেশনাল ট্রাভেলকে হাইলাইট করেছেন আপাত দৃষ্টিতে তা অসম্ভব মনে হলেও কিন্তু তা গাণিতিকভাবে সত্য এবং সম্ভব । যদি আমরাও এমন একটি ইন্টার ডাইমেশনাল ট্রাভেল করতে পারি তবে তা আমাদের জীবনের সমস্ত রোমাঞ্চক অভিজ্ঞতাকেও পেছনে ফেলবে । একটি ইন্টার ডাইমেশনাল ট্রাভেল কতটা বিস্ময়কর হতে পারে তা অনুধাবন করার জন্য আমরা মি. স্কয়ারের স্পেসল্যান্ড ভ্রমনের কথা চিন্তা করি । যদি তিনি আমার সামনে চলে আসেন তবে কি দেখবেন ? উত্তর অবাক করার মত । হয়তো তিনি দেখবেন দুটো চামড়াসদৃশ বৃত্ত তার সামনে ঝুলে আছে , যেগুলো আমার পা । আমি যখন হাটব তখন তিনি মনে করবেন বৃত্ত দুটো এক যায়গা থেকে ভ্যানিশ হয়ে অন্য যায়গায় গিয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে । এবার যদি সে ল্যান্ড ছেড়ে Z ডাইমেনশন থেকে আমাকে অবজার্ভ করে তবে সে আর সেই দ্বৈতবৃত্ত দেখবেনা । চোখের সামনে হয়তো ভেসে উঠবে একটি কাপড়ের বৃত্ত , কখনো তা দুটো বৃত্তে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে আবার কখনও দুটো মিলে একাকার হয়ে যাচ্ছে । সে যদি ক্রমশ Z+ ডাইমেনশনে মুভ করতে থাকে তবে সে আমার দিকে তাকালে প্রতিমুহূর্তেই বৃত্তগুলোর রঙ্গের পরিবর্তন দেখতে পাবে । এখন মি. স্কয়ারের এই  নিরীক্ষনের উপসংহারটা হবে এমন , সে যাই দেখুকনা কেন সে এর কোনো অর্থ তৈরী করতে পারবেনা । আমি তাহাকে যতই বুঝানোর চেষ্টা করিনা কেন সে তার অবস্থান থেকে আমাকে বিন্দু মাত্রও অনুধাবন করতে পারবেনা । তার দেখা বস্তুগুলোর এই ডিসফাংশনাল মুভমেন্টকে সে তার কোনো গনিত দিয়ে ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারবেনা ।  

      মি. স্কয়ারের কথা নাহয় বাদই দিলাম । ধরুন আমি যদি কোনো চার মাত্রিক জগতে  গিয়ে উপস্থিত হই  তবে আমি কি দেখতে পাব ? আমিও মি. স্কয়ারের মতই সমমাত্রিক বস্তুর অদ্ভুত  মুভমেন্ট দেখব । আমার চারপাশের সকল বস্তুই চারমাত্রিক তবুও আমি সকল কিছুকেই তিন মাত্রায় দেখব । বস্তুগুলোর তিনটে মাত্রার মুভমেন্ট আমি ভালভাবেই অনুধাবন করতে পারব কিন্তু  ৪র্থ  মাত্রার মুভমেন্টকে আমি সামান্যতমও  অনুধাবন করতে পারবনা । আমার কাছে মনে হবে চারপাশের সকলবস্তুই এক অতি আশ্চর্য  গড়নের কিন্তু  গ্রহনের অযোগ্য  এবং তিন মাত্রার ।  আমরা দেখব প্রতিনিয়ত তাদের আকার পরিবর্তন হচ্ছে । তাদের সকল কিছুই  আমার বিবেচনায় অর্থহীন মনে হবে । আমি এর কারন বা রহস্য কোনোটাই বুঝতে সক্ষম হবনা । মনে হবে আমি যেন এক আশ্চর্য যাদুর দুনিয়ায় চলে এসেছি ।    


যাদু ও যাদুকর :   আমাদের জগতে যে কাজগুলো খুব সম্ভব সেই কাজগুলোই  কম মাত্রার জগতে অসম্ভব । ঠিক তেমনি যে কাজটা চার মাত্রিক জগতে বাম হতের খেল তা কিন্তু আমাদের তিন মাত্রার দুনিয়ায় হয়তো অসম্ভব । ধরুন আপনি কোথাও যাচ্ছেন , সামনে পাহাড় । এখন আপনি কি করবেন ? পাহাড় কেটে রাস্তা বানাবেন , তারপর সেই রাস্তা দিয়ে হেটে আপনি আপনার গন্তব্যে পৌছাবেন ? আপনাকে আসলে সেটাই করতে হবে । কিন্তু যদি আপনি চার মাত্রিক জীব হতেন তবে কিন্তু আপনাকে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরী করতে হতোনা । পাহাড়ের ভেতর দিয়ে কাল্পনিক ভুত পেত্নীর মত পার হয়ে যেতেন চোখের পলকে ।
  • ঘর তালাবদ্ধ । চাবিও আপনার কাছে নেই কিন্তু ঘরে আপনাকে প্রবেশ করতেই হবে । এটা কিভাবে সম্ভব ? সম্ভব নয় । তবে যদি আপনি চার মাত্রিক জগতের কোনো প্রাণী হতেন তবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই সম্ভব হতো ।
  • যদি আপনি পেশেন্ট এর বডিতে কোনো প্রকার ক্র্যাশ না করে তার বডিতে সার্জারী করতে পারেন তবে আপনি হবেন এ জগতের শ্রেষ্ঠ সার্জন । এটা সম্ভব হতো যদি আপনি চার মাত্রিক জগতের কেউ হতেন ।

একটা জীবের কথা ভাবুন যে তার ইচ্ছানুযায়ী অদৃশ্য হতে পারে । সে তার বাসা থেকে অদৃশ্য হয় এবং অফিসে গিয়ে ফের দৃশ্যমান হয় । ধরুন কোথাও ভবন ধসে পরেছে । সেই জীবটা ধংসস্তুপের আনাচে কানাচে আটকে যাওয়া অদৃশ্য লোকগুলোকে দেখতে পাচ্ছে । এ জগতের কোনো বাক্সকে না খুলেই তার ভেতরের জিনিস সে বের করতে পারছে ফের রাখতেও পারছে । সে চাইলেই কোনো অপরাধীকে মুক্ত করতে পারছে , সে যত সুরক্ষার ভেতরেই অপরাধীকে রাখা হোক ।

ভাবছেন এমন অসম্ভব কিভাবে সম্ভব হবে ? হ্যাঁ , এগুলো সবই উচ্চ মাত্রার জীবের পক্ষে সম্ভব । আপনার মনে হতে পারে তা কিভাবে সম্ভব ? উত্তর হচ্ছে  ৪র্থ মাত্রা । ত্রিমাত্রিক জগতের জ্যামিতিক গোপনিয়তাকে ভাংতে সবথেকে সহজ যে মাধ্যম সেটা হচ্ছে ৪র্থ মাত্রায় মুভ করা । একটা চার মাত্রিক জীব তাই ত্রিমাত্রিক জগতের যেকোনো জ্যামিতিক গোপনিয়তাকে ৪র্থ মাত্রা ব্যবহার করে দেখতে পারে এবং লুকাইত বস্তুকে প্রকাশ্যেও আনতে পারে ।

যেভাবে সম্ভব :

হাইপারবিং এর চমৎকার বুঝতে হলে আমাদের এই ধারনায় পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে যে আমরা কোনো ফ্ল্যাটল্যান্ডে উপস্থিত হলে সেখানকার জীবরা আমাদের আচরনকে কিভাবে দেখবে ? যা ফ্ল্যাটল্যান্ড উপন্যাসে খুবই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।

ফ্ল্যাটল্যান্ডে উপস্থিত  সকল জীবই দুই মাত্রার হয় । তাদের কোনো উচ্চতা নেই । এদের একটি বিশেষ বৈশষ্ট্য হলো এরা মুখছিদ্র দিয়ে খাদ্য গ্রহন , পয়:নিষ্কাসন এবং রেচন কার্য সম্পন্ন করে । এর কারন হচ্ছে যদি তারা  পয়:নিষ্কাসন এবং রেচনের জন্য অন্য কোনো ছিদ্র ব্যবহার করে তবে তাদের দেহ ছিড়ে টুকরো হওয়া কাগজের মত দু টুকরো হয়ে যাবে ।

ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস

এবার ভাবা যাক একটা জেলের কথা । আমাদের জগতে একটা আবদ্ধ ঘরই একটা জেল হতে পারে , যার তিনটে মাত্রা বিদ্যমান কিন্তু কোনো দ্বিমাত্রিক ক্ষেত্র আমাদের জগতের জেল হতে পারেনা এবং ঠিক সেই ভাবে আমাদের জগতে জেল তৈরী করার জন্য কোনো চার মাত্রার আবদ্ধ ক্ষেত্রেরও প্রয়োজন হয়না ।

N ডাইমেনশনাল স্পেসে কোনো বস্তুকে লুকিয়ে রাখার জন্য N ডাইমেনশনাল আবদ্ধ ক্ষেত্রই একমাত্র জ্যামিতিক উপায় ।

তাই কোনো দ্বিমাত্রিক জীবকে তার জগতে লুকিয়ে রাখার জন্য একটা দ্বিমাত্রিক আবদ্ধ ক্ষেত্রই একমাত্র জ্যামিতিক উপায় , যদিও আমাদের জন্য তা হাস্যকর ।

ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস
         চিত্র : বর্গাকার জেলে আবদ্ধ মি . স্কয়ার ।

               

ধরুন আপনি ফ্ল্যাটল্যান্ডের একজন বিজ্ঞানী । উচ্চ মাত্রা নিয়ে কথা বলার অপরাধে আপনাকে মহা পুরোহিত জেলে পুরেছেন । আর এদিকে আমি ত্রিমাত্রিক জগতের একজন সাধারন ইন্টার ডাইমেশনাল ট্রাভেলার । আমি আপনার জগৎকে প্রত্যক্ষ্য করছি । আমি জানতে পারলাম আপনাকে অন্যায়ভাবে জেলে আটক করা হয়েছে ।

এমতবস্থায় পুরোহিতকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আপনাকে আমি জেল হতে মুক্ত করলাম । পুরোহিত তো অবাক । তার মনে একটাই ভাবনা , সে কিভাবে জেল হতে বাহিরে বের হলো ?  

উত্তর হচ্ছে ৩য় মাত্রা । আমি আপনাকে ৩য় মাত্রা দিয়ে ইন্টার ডাইমেশনাল ট্রাভেল

করিয়ে বাহিরে নিয়ে এসেছি ।

দ্বিমাত্রিক জগতের একটা প্রাণী কখনোই ৩য় মাত্রার বেপারগুলো বুঝতে পারবেনা , যেমনটা কোনো অন্ধকে লাল আর নীলের ভিন্নতা বুঝানো সম্ভব না । তাদের দুনিয়ায় উচ্চতা নামক কিছু নেই ।

  ৩য় মাত্রা থেকে তাদের জগৎকে একটা সাদা কাগজে আঁকা ছবির মতো মনে হয় যা কোনো প্লে করা চলচিত্রের মতোই দেখায় । সকল প্রাণীকে এক টুকরো কাগজের মতো মনে হবে , যার কোনো উচ্চতা নেই ।

   চিত্র: ফ্ল্যাটল্যান্ডে একটি বাড়ি

                         

তাই তার শরীরের সকল অঙ্গ হবে ৩য় মাত্রা থেকে দৃশ্যমান । ফ্ল্যাটল্যান্ডে কোনো প্রাণী নিজেদের অঙ্কিয় বা পৃষ্ঠিয়ভাবে টার্ন করতে পারেনা ।

এমন অবস্থায় যদি কোনো ত্রিমাত্রিক জীব তাদেরকে ৩য় মাত্রায় তুলে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে ফের আগের স্থানে বসিয়ে দেয় তবে সে কখনোই বুঝতে পারবেনা যে তার সাথে এটা কি হলো ? এতে করে তার বামের হৃদপিন্ড ডানে চলে যাবে । বাম হাত হয়ে যাবে ডান হাত আর ডান হাত হযে যাবে বাম হাত । মানে বাম আর ডানের মধ্যে পরিবর্তন ঘটবে ।

ম্যাজিক এন্ড হাইপারস্পেস

চিত্র: ফ্ল্যাটল্যান্ডে একটি বাড়ি


যেহেতু তাদের সম্মুখ এবং পশ্চাৎকে আলাদা করে ডিটেক্ট করা যায়না তাই তাহাদের পার্শ পরিবর্তন হলেও দেখতে আগের মতই দেখাবে । পার্শ পরিবর্তন যে হয়েছে সেটা বুঝা যাবে যখন আপনি খেয়াল করবেন যে হৃদপিন্ড বাম পাশে না থেকে ডান পাশে চলে এসছে ।

কিন্তু দ্বিমাত্রিক জগতের শ্রেষ্ঠ ডাক্তারও এ ঘটনার কোনো হদিস খুজে পাবেননা , কারন তিনি ৩য় মাত্রার ভ্রমনের বেপারে অজ্ঞ ।

আমাদের জগতে হাইপারবিং :

ঠিক যেভাবে দ্বিমাত্রিক জগতের প্রানীরা আমাদের বুঝতে পারেনা ঠিক সেই একই ভাবে আমরাও চার মাত্রার প্রাণীদের বুঝতে পারবনা । যদি  চার মাত্রার জগৎ থেকে কোনো প্রাণী আমার সামনে আসে তবে সে হবে এক চমৎকার ।  যদিও সে চার মাত্রিক তবুও আমি তাকে ত্রিমাত্রিকই দেখব । মনে হবে এক আশ্চর্য্য সত্তা , যে প্রতি মুহূর্তে তার আকৃতির পরিবর্তন করবে ।কখনো দেখে মনে হবে তার বডির কিছু অংশ আলাদা হয়ে গেল আবার মনে হবে এইতো কিছু অংশ জুড়ে গেল ।

  • চার মাত্রার একজন হাইপারবিং চাইলেই  আমাদের তিন মাত্রার জগতে কিছু চমৎকার করতে পারে ।
  • যেমন : অবদ্ধ ঘর থেকে পালায়ন , বন্দুকের গুলি থেকে নিজেকে রক্ষা করা , বাক্স না খুলেই তাতে জিনিস রাখা বা তার থেকে জিনিস বের করা , শরীর না কেটে সার্জারী করা , হঠাৎ কোথাও অদৃশ্য হয়ে অন্য কোথাও দৃশ্যমান হওয়া ।
  • মুলকথা তিন মাত্রার এই জগতে তাকে কোনো জ্যামিতিক বাঁধায় অবদ্ধ করা যাবেনা । সে ৪র্থ মাত্রা ব্যবহার করে পালিয়ে যাবে । যদি তাকে আমরা গুলি করি সে গুলি তো তিনটে ডাইমেনশনেই ট্রাভেল করবে কিন্তু সে ৪র্থ মাত্রায় নিজেকে সরিয়ে নিয়ে রক্ষা করবে । তখন আমরা দেখব সে অদৃশ্য হয়ে গেল ।
  • সে যদি ডাক্তার হয় তবে সে আমাদের শরীর না কেটেই সার্জারী করবে , কারন সে ৪র্থ মাত্রা থেকে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীন সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেই সে দেখতে পাবে ।
  • সে চাইলেই কোনো কারাবন্দীকে মুক্ত করতে পারে । জেলার দেখবেন কোনো আশ্চর্য্য সত্তা এসে তার বন্দীকে নিয়ে উধাও হয়ে গেল । আবার তাকে জেলের বাহিরে কোনো যায়গায় মুক্ত অবস্থায় পাওয়া গেল । জেলার এ ঘটনার রহস্য না জানলেও সত্য হচ্ছে  হাইপারবিং এ বন্দীকে ৪র্থ মাত্রা দিয়ে জেলের বাহিরে বের করে এনেছে ।

ফোর ডাইমেনশনের চমৎকারের লেভেলটাকে অনুধাবন করার জন্য আমাদের বাস্তবিক জগৎ থেকে একটা উৎকৃষ্ট উদাহরন  দেখানো হলো ।

এটি ক্লেইন বটল । আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এর বহিঃভাগ ও অন্তঃভাগ ভিন্ন কিন্তু তা নয় ।  আপনি যদি এতে প্রবেশ করেন তবে কোনো প্রকার জ্যামিতিক  চ্ছেদ বা স্পর্শ না করেই আপনি ভেতর বাহির যাতায়াত করতে পারবেন ,যেমনটা স্থানকে না ভেঙ্গেই  হাইপারবিং সেই অপরাধীকে জেল থেকে মুক্ত করেছিল ।

ক্লেইন বটলে  প্রবেশ করার পর আপনি নিজেকে গমন পথের বাহিরে আবিস্কার করবেন ।

☬☬☬

  • গনিতবিদ ও পদার্থবিদগন হাইপারস্পেস নিয়ে এমন  কনক্লুশন এস্টাবলিশ্ড করার পর  কিছু  অসাধু জাদুকর এ ধারনাকে নিজেদের বিজনেস আইডিয়াতে পরিনত করে ।
  •  আমরা প্রায়শই দেখি জাদুকররা অদৃশ্য হন । যদিও তারা নানা প্রকারের মন্ত্র উচ্চারনের ভাব ভঙ্গিমা প্রদর্শন করেন কিন্তু আমরা জানি যে তারা কোনো একটি সাইন্টিফিক সিস্টেমকে ব্যবহার করেন ।
  •  যেহেতু গানিতিকভাবে প্রমানিত যে আমরা হাইপার ডাইমেনশন দেখতে পারবনা বা তাতে ট্রাভেল করতে পারবনা কিন্তু অদৃশ্য হবার ক্ষমতা তো উচ্চ মাত্রায়ই থাকে । এখানেই জাদুকরেরা তাদের আইডিয়ার প্রয়োগ করেন । তারা বলে বসেন , “ আমরা ৪র্থ মাত্রা ব্যবহার করে নিজেদের অদৃশ্য করি । যে কাজ মহান বিজ্ঞানীগন পারেননা তা আমরা পারি ।”

এখানে আমরা স্পষ্ট দেখতে পেলাম নিম্নমাত্রিকদের জন্য যা অসম্ভব তা উচ্চ মাত্রিকদের জন্য স্বভাবতই সম্ভব ।

 আমরা ৩ মাত্রার ভেতর থেকে ৪ মাত্রাকে বুঝতে পারিনি কারন আমাদের ত্রিমাত্রিক জগৎটার প্রতিটা কো- অর্ডিনেট নিজ নিজ ডাইমেনশনাল এক্সিসের সাথে সমান্তরালে আছে । এক্সিস গুলোর প্রতিটা মুভমেন্টের সাথে জগৎ সমান্তরালে মুভ করছে । আমাদের জগৎ যখন ৪র্থ মাত্রায় বেঁকে যায় তখনো আমরা ৪র্থ মাত্রাকে বুঝতে পারিনা এবং ত্রিমাত্রিক বিশ্বে থেকে ৪র্থ মাত্রায় কো-অর্ডিনেট নিতে পারিনা  ।  যে কারনে আমাদের সকল মুভমেন্ট ৩ মাত্রার মধ্যেই আবদ্ধ ।

এক্সিস গুলোর সাথে জগতের স্লোপ শূন্য রেখে যে আপেক্ষিক স্থানের ব্যাখ্যা দাড় করানো হয় তা বুঝার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে স্যার রেইম্যানের জ্যামিতি জানা আবস্যক ।

রেইম্যানের জ্যামিতিতে স্থান তার রেফারেন্স ফ্রেমের সমান্তরালে বেঁকে যায় ।

যে কারনে জগৎ চাঁদরের মত ডেউ খেললেও তা আমাদের কাছে কাছে স্থিতিশীল মনে হয় মনে হয় ।

hsbd bg