মেমরি সংরক্ষণ ও স্মরণ
মূলপাতা কনসাসনেস মেমরি সংরক্ষণ ও স্মরণ

মেমরি সংরক্ষণ ও স্মরণ

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
197 বার পঠিত হয়েছে

মেমরি সংরক্ষণ ও স্মরণ ; মস্তিষ্কে কিভাবে মেমরি সংরক্ষিত হয়?কোন প্রকৃয়ায় আমরা অতীতের স্মৃতি স্মরণ করতে পারি?

 

Tʜᴇ Sᴇᴄʀᴇᴛ Oғ ᴛʜᴇ Bʀᴀɪɴ

ᴘᴀʀᴛ1

“Total Recall” মুভিতে আমরা ফলস মেমরির একটি ভয়ানক দৃষ্টান্ত দেখতে পাই।আধুনিক জেনেটিক্স,ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এবং ড্রাগ থ্যারাপির মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্কের মেমরি যেমনিভাবে অল্টার করা যায় তেমনি কখনো বা প্রয়োজনে মস্তিষ্কের ইন্টিলিজেন্স বৃদ্ধি করাও যায়।মেমরি ডাউনলোডিং, কমপ্লেক্স কারিগরি শিক্ষা এবং সুপার ইন্টিলিজেন্ট হওয়ার প্রকৃয়া সায়েন্স ফিকশন ছেড়ে ক্রমশ বাস্তবতার দিকে এগিয়ে চলছে।মেমরি ছাড়া আমরা অতীতকে স্মরণ করতে পারিনা আর অতীত ছাড়া আমাদের মস্তিষ্ক কেন্দ্রহীন স্টিমুলেশনের মহাসমূদ্রে পরিণত হয়,আমরা আমাদের চিনতে পারিনা।যদি আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল মেমরি ডাউনলোড করে দেয়া হয় তবে কী ঘটতো?কী ঘটতো যদি আমার মস্তিষ্কে আইনস্টাইনের ব্রেন মেমরি ডাউনলোড করে দেয়া হতো?যদি আমরা রিয়েল এবং ফেক মেমরির মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে না পারি?তাহলে আমরা কে?Total Recall মুভিতে আর্নল্ড তার মস্তিষ্কে ফলস মেমরি ডাউনলোড করেছিলো যার জন্যে তার কাছে রিয়েলিটি এবং ফিকশনের পার্থক্য ব্লার হয়ে যায়।প্রচন্ড আক্রোশে সে মঙ্গলের একদল খারাপ লোকের বিপক্ষে যুদ্ধ করতে থাকে কিন্তু আকষ্মিক সে বুঝতে পারে সে নিজেই তাদের লিডার।ফলস মেমরি ফিকশনাল মুভির একটি অন্যতম দিক কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞান মানুষের মস্তিষ্কে ফিকশনাল মেমরি ডাউনলোড করে দিতে পারে, একজন সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কে যদি জাকারবার্গের মস্তিষ্কের মেমরি ডাউনলোড করা হয় তবে সে তার ফিকশনাল চরিত্রের সাথে তার বাস্তব আমির পার্থক্য খুঁজে পাবেনা।আমার আমি বলতে আমরা যে অনুভূতিটাকে ডিফাইন করি সেটি আমাদের মস্তিষ্কের মেমরি, সেটি আমাদের ব্রেনের ইনফরমেশন, ইনফরমেশন দিয়েই নির্দিষ্ট হয় আমি আসলে কে…!

 

আমাদের মন আমাদের কাছে এখনো সম্পূর্ণ বিষ্ময়কর।টেলিকেনেসিসের মাধ্যমে আমরা হয়তোবা একদিন আমাদের মস্তিষ্কের পালস দিয়েই এক্সট্রারনাল অবজেক্টকে মুভ করতে পারবো।একসময় পরিবেশের মধ্যে ভাইরাসের মতো অনেকগুলো ন্যানোচিপ লুকানো থাকবে যে চিপগুলি আমাদের মস্তিষ্কের চিন্তাকে ইন্টারনেটের ভেতর দিয়ে সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেবে।ফোর্স ফিল্ডের মাধ্যমে আমরা এক্সট্রারনাল জগতকে নিয়ন্ত্রণ করবো।আমরা যা চিন্তা করবো তাই সংঘঠিত হবে।দেখা যাবে EEG সেন্সরের মাধ্যমে আপনি অনেক দূরে থেকে যোদ্ধা রোবটদের পরিচালনা করতে পারবেন, যুদ্ধ ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেই! মানব সদৃশ রোবট বা সরোগেটের মাধ্যমে টেলিপ্যাথিক্যালি যুদ্ধ ক্ষেত্র নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারবেন কিন্তু প্রশ্ন হলো যখন আমরা আমাদের মনের চিন্তা দিয়ে ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা অর্জন করবো তখন কী হবে পৃথিবীর সাথে, আমাদের সিভিলাইজেশন কী আরো বেশি ক্রুদ্ধ হয়ে উঠবেনা?তারা কী নিজেদেরকে নিজেই ধবংস করে দেবেনা?

উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটকের উপর রচিত মুভি The Forbidden planet হয়তো দেখেছেন অনেকেই।সেই গ্রহে এমন এক সিভিলাইজেশন ছিলো যারা ছিলো আমাদের চেয়ে প্রযুক্তিগতভাবে অনেক উন্নত।তারা মনে মনে যা চিন্তা করতো তাই ঘটতো, ফোর্স ফিল্ডের মাধ্যমে তারা তাদের চিন্তার ভেতর দিয়েই যেকোনো বাস্তবতাকে ম্যাটারিয়ালাইজ করতে পারতো।একবার একজন প্রফেসর এবং তার কন্যা সে গ্রহটিতে ভ্রমণ করে। তারা দেখে প্রতিদিন রাতে সে গ্রহটিতে ব্যাপক ধবংসযজ্ঞ হয় যার কারণ কেউ জানতোনা।এত ক্ষমতাবান গ্রহের বাসিন্দাদের রাতের অন্ধকারে কোন এক অজ্ঞাত শক্তি এসে আক্রমণ করে, হাজার হাজার মানুষকে জবাই করে রেখে যায়।প্রফেসর একদিন আকষ্মিক বুঝতে পারেন এই ধবংস যজ্ঞের কারণ আর কেউ নয় এর কারণ হলো তাদের “EGO”!মূলত এটি ছিলো এমন একটি সিভিলাইজেশন যাদের মস্তিষ্কের ভেতর টেলিকেনেসিস মেশিন বসানো ছিলো তারা যখন ঘুমাতো তখনও টেলিকেনেসিস মেশিন অন থাকতো, ঘুমের মধ্যে তাদের সাব-কনসাস মাইন্ড জাগ্রত হয়ে উঠে,তারা তাদের মনের চিন্তাকে ঘুমের মাঝে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতোনা,আর তাই তাদের অবদমিত সাব-কনসাস ইচ্ছাগুলি টেলিকেনেসিস মেশিনকে ব্যাবহার করে বাস্তবায়িত হতে থাকে এবং তারা নিজেরাই নিজেদের অজান্তে ধবংস হয়ে যায়!মিসিও কাকু বলেছেন আমরা যদিও টেলিকেনেসিসের মাধ্যমে এক্সট্রারনাল জগতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি কিন্তু আমাদের নিজেদের Subconscious Mind কে নিয়ন্ত্রণ করাটা কঠিন।(মেমরি সংরক্ষণ ও স্মরণ)

এখন আমরা জানবো কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ক মহাবিশ্বের ইনফরমেশনকে স্মরণ করে!আমরা জানবো আমাদেরর মেমরি প্রসেস সম্পর্কে।বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন আমাদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসই আমাদের মেমরির জন্যে দায়ী।যারা নিউরোলজি নিয়ে পড়াশুনা করেছেন তারা নিশ্চয় Henry Gustav Molaison নাম শুনে থাকবেন যাকে সায়েন্টিফিক কমিউনিটিতে HM নামে ডাকা হয়।১৯৫৩ সালে ২৫ বছর বয়সে তার মস্তিষ্কে প্রচন্ড যখম হয় যখন থেকে তার মধ্যে  debilitating convulsions নামnক একটি মানসিক রোগ দেখা দেয়।

অপারেশনের মাধ্যমে ডাক্তাররা সফলতার সাথে তার রোগটি সারাতে সক্ষম হয়েছিলেন কিন্তু দূর্গাগ্যজনকভাবে অপারেশনের সময় তার মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসের কিছু অংশ কেটে যায়।প্রথমে সবকিছু নরমাল মনে হয়েছিলো কিন্তু একটা সময় দেখা গেলো সে আর নতুন কোনো মেমরি মনে রাখতে পারছেনা।

 যে প্রজেন্টের মধ্যে বন্দী হয়ে যায়, একই ব্যাক্তিদের সাথে সে একই এক্সপ্রেসনে কথা বলতে থাকে মনে হয় যেনো সে তাদের সর্বপ্রথম দেখছে।"Groundhog Day" মুভির মতোই HM তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত Same Day কেই ফিল করেছে।তার কাছে আগামীকাল বা গতকাল বলতে কিছু ছিলোনা। 

গ্রাউন্ডহোগ মুভিতে বিল মুরি তার সার্জারীর পূর্বের স্মৃতিগুলি স্মরণ করতে পারতো, দীর্ঘকালীন মেমরি গুলি তার মধ্যে তখনও ইন্ট্যাক্ট ছিলো কিন্তু সে শর্ট টার্ম মেমরি মনে রাখতে পারতোনা আর অন্যদিকে HM তার হিপোক্যাম্পাসের ফাংশনিং এ সমস্যার কারণে নতুন কোনো ইনফরমেশন মস্তিষ্কের মধ্যে সংরক্ষণ করতে পারতোনা।বাংলাদেশেও পরিচালক মোস্তফা ফারুকীর এমন একটি নাটক ছিলো যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র অপূর্ব প্রতিটি দিনকে একই দিন মনে করতো এবং পূর্বের সকল পরিচিত জনদের সে ঘুম থেকে উঠার সাথেযাথেই ভুলে যেতো!সে এমনভাবে কথা বলতো যেনো তাদের সাথে তার এই মাত্রই দেখা!প্রতিদিন তাকে একদিন সময়ের জন্যে জগত সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন দেয়া হতো এবং সে ইনফরমেশন দিয়েই সে সারাদিন কাটাতো।এলাকার ছেলেরা তাকে কখনো বলতো সে একজন বিখ্যাত কবি আর সে সারাদিন এলাকায় কবিতা আবৃত্তি করে বেড়াতো, কখনো সে বোবার অভিনয় করতো, আবার কখনো তাকে বুঝানো হতো সে অনেক বড় বিজনেসম্যান, আর সে বাজারের টাকা দিয়ে বিশাল মাছ কিনে বাড়ী ফিরতো।একটা চকলেট দিয়ে তাকে যেকোনো কিছুই কনভিন্স করানো যেতো আর সে ঠিক সেভাবেই সবার সাথে রিয়েক্ট করতো কারণ অপূর্বের মেমরি তার ছেলেবেলায় ব্লক ছিলো।HM এর মতোই অপূর্বের কাছে প্রতিটি দিন ছিলো “Same day”।

মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণেই তার কাছে গতকাল ও আগামীকালের তারতম্য মুছে সকল দিনই ” Today” তে পরিণত হয়েছিলো।মিসিও কাকু এদেরকে The prisoner of Present বলেছিলেন।

সময়ের সাথে HM এর বয়স বাড়ছিলো।২৫ বছর বয়সে তার ব্রেন সার্জারীর পর সে আর নতুন কোনো ইনফরমেশন মেমরিতে এন্টি করতে পারেনি, তার কাছে মনে হচ্ছিলো তার বয়স এখনো ২৫।কিন্ত কী হবে যদি আয়নায় সে নিজের চেহারা দেখে?সে দেখবে একজন বৃদ্ধ লোক আয়নার ভেতর প্রতিফলিত হচ্ছে কিন্তু তার কাছে তখনও মনে হবে তার বয়স ২৫।এই ভয়ানক ঘটনাটি HM কে কতটুকু আহত করতো?মিসিও কাকু মনে করেন, যেহেতু HM কোনো নতুন মেমরিই সংরক্ষণ করতে পারেনা অতএব সে এটাকে মুহূর্তেই ভুলে যেতো!মিসিও কাকু HM কে Level-2 কনসাসনেসের এনিমেল মনে করেন।কারণ সে ইমিডিয়েট পাস্ট অথবা ফিউচার কোনটাকেই সিমুলেট করতে পারেনা।(মেমরি সংরক্ষণ ও স্মরণ)

কম্পিউটার এবং আধুনিক ব্রেন স্ক্যানিং এর মাধ্যমে আমরা বর্তমানে মস্তিষ্কের টোটাল ফাংশনিং বুঝতে পারছি।আমরা কীভাবে ইনফরমেশন সংরক্ষণ করি?এবং কিভাবে সময় মতো সে সকল ইনফরমেশনকে আমরা স্মরণ করতে পারি?শব্দ,গন্ধ বা দৃশ্য আমাদের সকল সেন্সরি ইনফরমেশন প্রথমে আমাদের মস্তিষ্কের থালামাসে প্রবেশ করে, যেটাকে বলা যায় বিশ্রামাগার, সেখান থেকে বিভিন্ন সেন্সরি লোবে এবং সেন্সরিলোব থেকে প্রক্রিয়াজাত হয়ে সে সকল তথ্য প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের ভেতর দিয়ে আমাদের কনসাসনেসে প্রবেশ করে।তারপর সেগুলি শর্ট টার্ম মেমরি তৈরি করে যার স্থায়ীত্ব কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট।

এই মেমরিগুলিকে যদি long term memory তে পরিণত করতে হয় তবে প্রথমত সেগুলিকে হিপ্পোক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে যেখানে মেমরিগুলি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভেঙে যায়।ট্যাপ রেকর্ডারের মতো মস্তিষ্কের সকল মেমরিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রেকর্ড করার পরিবর্তে হিপ্পোক্যাম্পাস মেমরি গুলিকে বিভিন্ন কর্টেক্সে ভাগ করে দেয়।এ পদ্ধতিতে মেমরি সংরক্ষণ করাটা খুবই কার্যকরী, যদি কম্পিউটারের মতো সিকোয়েন্সিয়ালি মেমরি সংরক্ষণ করা হতো তবে এক্ষেত্রে বিশাল মাপের মেমরি স্টোরেজ প্রয়োজন হতো।উদাহরণ স্বরুপ, ইমোশনাল মেমরি এমিগডালাতে সংরক্ষণ করা হয় আর অন্যদিকে শব্দকে সংরক্ষণ করা হয় টেম্পোরাল লোবে।বিজ্ঞানীরা বিশ প্রকারের মেমরি আবিষ্কার করেছেন যা আমাদের ব্রেনের বিভিন্ন অংশে সংরক্ষণ করা হয় যেমনঃ ফল, শাকসবজি,গাছপালা,শরীরের বিভিন্ন অংশ,সংখ্যা,বর্ণ,সর্বনাম,ক্রিয়া,নাম, চেহারা, চেহারার ভঙ্গিমা; এছাড়া বিভিন্ন আবেগ এবং আওয়াজ।কালার এবং ভিজুয়াল ইনফরমেশন সংরক্ষণ করা হয় অকুপিটাল লোবে।সেন্স অব টাচ এবং মুভমেন্ট সংরক্ষণ করা হয় পেরিটিয়াল লোবে।

আপনি যখন পার্কের ভেতর দিয়ে হাঁটেন, এ ক্ষুদ্র ঘটনাটি হিপোক্যাম্পাস মস্তিষ্কের কয়েকটি অংশে ভেঙে ভেঙে সংরক্ষণ করে।মেমরি নিয়ে গবেষণার আল্টিমেট লক্ষ্য হলো এটা জানা যে কিভাবে মস্তিষ্কের ফ্র‍্যাগমেন্টেড মেমরি গুলি একে অপরের সাথে জোড়া লেগে আমাদের স্মরণে আসে যখন আমরা একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে কোনোকিছু স্মরণ করতে চাই?এটাকে বলা হয় Binding problem।উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় ড.অন্টোনিও ডামাসিওর কথা তিনি স্ট্রোকের রোগীদের উপর গবেষণা করে দেখেছেন তারা যদিও প্রায় সকল ইনফরমেশন স্মরণ করতে পারে বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ইনফরমেশন স্মরণ করতে পারেনা।কারণ স্ট্রোক মস্তিষ্কের এমন কিছু এরিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে যে এরিয়াগুলিতে নির্দিষ্ট মেমরি সংরক্ষিত থাকে!

 

কিন্তু কিভাবে আমরা যখন স্মরণ করি তখন প্রতিটি আলাদা আলাদা কর্টেক্সের মেমরি গুলি একে অপরের সাথে কানেক্ট হয়ে আমাদের মস্তিষ্কে ধরা পড়ে?Memory Bingding এর এ সমস্যা সামাধান করার জন্যে আমাদেরকে প্রথমেই বুঝতে হবে আমাদের মস্তিষ্কের সর্বত্র ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ভাইব্রেশন দোদুল্যমান রয়েছে প্রতি সেকেন্ডে ৪০ সাইকেল হারে যেটি EEG স্ক্যানের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করেছে।মেমরির প্রত্যেকটি অংশ আলাদা আলাদা ফ্রিকোয়েন্সিতে ভাইব্রেট করছে এবং একটি ফ্রিকোয়েন্সী মস্তিষ্কের দূরের আরো একটি কর্টেক্সের মেমরিকে স্টিমুলেট করছে।এক সময় মনে করা হতো মস্তিষ্কের মেমরি সংরক্ষিত হয় স্থানিকভাবে কিন্তু পরে আমরা জানতে পারি সম্পূর্ণ মেমরি ইউনিজোন থেকে ইন্টারেক্ট করে।এ থিওরি অনুসারে, আমাদের মস্তিষ্কের সর্বত্র ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ভাইব্রেশন প্রবাহিত হয় এবং এভাবে EM Field মস্তিষ্কের একটি পার্টের সাথে অন্য আর একটি পার্টকে কানেক্ট করে এবং সম্পূর্ণ মেমরিটিকে রি-ক্রিয়েট করতে পারে।আর এ জন্যে আমরা বলতে পারি হিপোক্যাম্পাস, প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স, থালামাস এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের মাঝে তথ্যের প্রবাহ সম্পূর্ণ নিউরাল নয়।

 

কিন্ত প্রশ্ন হলো আমাদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস কেনো কম্পিউটারের মতো সিকোয়েন্সিয়ালি আমাদের ব্রেনের তথ্য গুলিকে সেভ করেনা, কেনো সে মেমরি গুলিকে আলাদা আলাদা করে ভেঙে ভেঙে আলাদা আলাদা কর্টেক্সে সংরক্ষণ করে?এভোলিউশন কেনো জেনেটিক্যালি আমাদের ব্রেনকে এভাবে পোগ্রাম করেছে?

 

বাস্তব জীবনে দেখা যায় যে বিলিয়নিয়াররা তাদের টাকা একটি ব্যাংকে জমা রাখেনা অথবা একজন বিজনেসম্যান তার ব্যাবসার টাকা শুধুমাত্র একটা খাতে খাটায় না, সে সেটাকে বিভিন্ন খাতে ইনভেস্ট করে কিন্তু প্রশ্ন হলো কেনো!এর উত্তর আমরা সবাই জানি, এটা একেবারেই সহয যে আমরা অর্থকে ফ্রেগম্যান্ট করে অর্থনৈতিক ক্ষতির ঝুকি কমিয়ে আনি।একটি ব্যাংক,বীমা বা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান যদি কোন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে আমরা অন্তত সম্পূর্ণ দেউলিয়া হবোনা।আমাদের মস্তিষ্কের মেমরির ক্ষেত্রেও একই সুত্রটা খাটানো যায়।আমাদের জিন মিলিয়ন মিলিয়ন বছরের বিবর্তনীয় পথ পরিক্রমায় এটা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছে আর পরিবেশ তাকে এমনভাবে বিবর্তিত হতে বাধ্য করেছে যেনো সে মেমরিগুলিকে বিভিন্ন কর্টেক্সের ভেতর ভাগ করে দেয়।বিভিন্ন আঘাত এবং অনাবশ্যক দূর্ঘটনার কারণে আমাদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমরা যেনো সম্পূর্ণ মেমরিকে হারিয়ে না পেলি!সেজন্যেই এভোলিউশন আমাদের মেমরিকে কম্পিউটারের মতো সিকোয়েন্সিয়ালি সংরক্ষণ না করে এটাকে ফ্র‍্যাগমেন্ট করে দেয়।বিবর্তন আমাদের ব্রেনকে এমন অনেক প্রবলেম সমাধান করার ক্ষমতা দিয়েছে যা দেখলে মনে হয় আমদের সৃষ্টিটা পূর্ব পরিকল্পিত এবং এতে করে অনেকে গ্রেন্ড ডিজাইনারের অস্তিত্বে বিশ্বাসী হয়ে উঠে!

 

মেমরি সংরক্ষণ ও স্মরণ প্রকৃয়া; তথ্যসুত্র-

 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি-

 

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!