শুনলে কেমন লাগে, মহাবিশ্বের একটি নক্ষত্রের বয়স মহাবিশ্ব থেকেও অনেক বেশি? ২০০ আলোকবর্ষ দূরে কনস্টেলেশন লিব্রার নিকটে বিজ্ঞানীরা আমাদের গ্যালাক্সির ভেতর HD140283 নামক একটি নক্ষত্র আবিষ্কার করেন যেটি প্রায় বার বিলিয়ন বছর অতীতের নাটকীয় ইতিহাসে একটি বিভ্রান্তিকর গতি; যখন মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিটি তার তখনকার ঘরে ছিলো । এটি ছিলো মহাবিশ্বে সর্বপ্রথম অবজেক্ট যেটি আমাদের পর্যবেক্ষিত প্রাচীন বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রথমদিকে, এ নক্ষত্রটির বয়স নির্ণয় করা হয়েছিলো ১৬ বিলিয়ন বছর কিন্তু ২০০৩ সালে WMAP স্যাটেলাইটের ডেটা এনালায়সিস করে আমরা জানতে পেরেছিলাম আমাদের মহাবিশ্বের বয়স এক ভাগ অনিশ্চয়তার ভেতর যথাযথভাবে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর যেটি এই ডেটার সাথে সম্পূর্ণ কন্ট্রাডিক্টরি ! একটি মাকড়সার ডিম মাকড়সার থেকে বয়সে কিভাবে বড় হতে পারে? সন্তানের বয়স কিভাবে বেশি হতে পারে তার মায়ের বয়সের চেয়ে?
এটি ছিলো সায়েন্টিফিক কমিউনিটিতে একটি বিশাল প্যারাডক্স। এখন অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন আমরা কিভাবে নক্ষত্রদের বয়স ও দূরত্ব নির্ণয় করি? এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার এ আর্টিকেলের উদ্দেশ্য নয়। তবুও একটা জিনিস জেনে রাখবেন, মহাকাশ একটি টাইম মেশিন, এ টাইম মেশিনের ভেতর দিয়ে আলোকতরঙ্গ আমাদের মহাবিশ্বের অতীত ও ভবিষ্যতে নিয়ে যেতে পারে। আয়না থেকে আমার চোখে আলো প্রবেশ করতে এক সেকেন্ডের এক বিলিয়ন ভাগের এক ভাগ সময় প্রয়োজন আর তাই আয়নায় আমি আমার যে প্রতিফলন দেখছি সেটি আমার অতীত, আমার মস্তিষ্কের প্রতিটি চিন্তা সংঘটিত হতেও সময় প্রয়োজন। আর তাই আমার মস্তিষ্কের অনুভূতিগুলোও আমার অতীত , ঠিক তেমনি সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন আর তাই আমরা যে সূর্যকে দেখি সেটি আমাদের থেকে আট মিনিট অতীত, এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি ২.৫ মিলিয়ন বছর অতীত, কোয়েসার ১৫০ মিলিয়ন বছর অতীত আর তাই মহাবিস্ফোরণের পর মহাবিশ্বে যে রেডিয়েশন তৈরি হয়েছিলো সে রেডিয়েশন আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর অতীত। মহাকাশ নামক এই টাইম মেশিনে আলোক তরঙ্গ প্রতি মুহূর্তেই ৩ লাখ মাইল বেগে যাতায়াত করছে আর সেজন্যই WMAP স্যাটেলাইট ভ্রমণ করতে পেরেছিলো মহাবিশ্বের অতীতের ঠিক সে সময় যে সময় মহাবিশ্ব ছিলো শিশু কারণ আলোকতরঙ্গের মধ্যে এখনো শিশু মহাবিশ্বের প্রাথমিক মেমোরি রয়ে গেছে।
অনেকে মনে করেন, যদি প্রাচীন ডেটা অনুসারে HD 140283 নক্ষত্রটি মহাবিশ্ব থেকে বয়সে ৩ বিলিয়ন বছর বড় হয়, তবে বিগব্যাং তত্ত্ব সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে যায়। কিন্তু গ্যালাক্সিগুলোর স্পেস ক্রমাগত দূরে সম্প্রসারণ ও মহাবিশ্বে হিলিয়াম গ্যাসের প্রাচুর্যতা আমরা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব ছাড়া ব্যাখ্যা করতে পারিনা। একসময় ফ্রেড হোয়েল মনে করতেন, হিলিয়াম গ্যাস তৈরি হয় মূলত নক্ষত্রে। যদি হিলিয়াম গ্যাস নক্ষত্রের ভেতরেই তৈরি হয় তবে ইন্টারস্টেলার স্পেসে অথবা আন্তঃ নাক্ষরিক শূন্যস্থানে হিলিয়াম গ্যাস পাওয়া যাওয়ার কথা ছিলোনা। কারণ হিলিয়াম গ্যাস তৈরি করতে উচ্চতাপমাত্রা প্রয়োজন। যদি তাই হয় তবে, নিশ্চয়, সে সব স্থান যেখানে কোনো নক্ষত্রই নেই, সেখানে হিলিয়াম পাওয়া যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমরা মহাবিশ্বের প্রায় সর্বত্রই এ দূর্লভ হিলিয়াম গ্যাসের অস্তিত্ব পেয়ে থাকি। তাহলে, এ বাড়তি হিলিয়াম কোথায় থেকে আসে, আমরা একে কোন ম্যাকানিজমে ব্যাখ্যা করতে পারি? ফ্রেড হোয়েলের স্টিডি স্টেট তত্ত্ব এ বাড়তি হিলিয়ামের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। হোয়েলের তত্ত্ব, আয়রন থেকে বিশাল ভরের উপাদানগুলোর উৎপত্তির ব্যাখ্যা খুব দারুণভাবে সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রদান করতে পারলেও তার তত্ত্ব এটা ব্যাখ্যা করতে পারেনা যে, মহাবিশ্বের যে সব স্থানে কোনো নক্ষত্র নেই, সে সব স্থানেও কেনো আমরা হিলিয়াম গ্যাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাই? মূলত, জজ গ্যামোই সর্বপ্রথম এ ব্যাপারটি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, নিশ্চয় অতীতে মহাবিশ্বের সকল গ্যালাক্সি ও তাদের কোয়াড্রিলিয়ন নক্ষত্র একটি ক্ষুদ্র পয়েন্টের মধ্যে আবদ্ধ ছিলো, যেটিকে বলা হয় সিঙ্গুলারিটি , আর সেই সিঙ্গুলারিটি পয়েন্ট বিস্ফোরিত হয়ে, বিস্ফোরণের বিশাল উত্তাপ থেকে তৈরি হয়েছিলো মহাবিশ্বে হিলিয়ামের সাম্প্রতিক প্রাচুর্যতা কারণ নয়তোবা আমরা নক্ষত্রহীন ইন্টারস্টেলার ও ইন্টারগ্যালাক্টিক স্পেসে কোনো হিলিয়াম গ্যাস খুঁজে পেতাম না। তার মানে দেখা যাচ্ছে, আপনি যখন ছেলেবেলায় হিলিয়াম গ্যাসের বেলুন নিয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতেন তখন আপনার বেলুনের ভেতর শুয়ে ছিলো বিগব্যাং এর দু-মিনিট পরের স্মৃতি, আপনি হয়তো সে হিলিয়াম নিয়েই ছুটে বেড়িয়েছেন যা এসেছে আজ থেকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছর অতীতের মহাবিশ্ব থেকে, মহাবিস্ফোরণের ঠিক দু-মিনিট পরের।
তাই HD140283 নক্ষত্র যদি মহাবিশ্ব থেকে বয়সে ৩ বিলিয়ন বছর বড়ও হয় তবুও আমরা সিঙ্গুয়ালারিটি পয়েন্টের অস্তিত্বকে পুরোপুরিভাবে অস্বীকার করতে পারছিনা। তারপরও যদি আমরা যুক্তির খাতিরে ধরেও নেই যে, মহাবিশ্বের একটি নক্ষত্র তার নিজের থেকেও অনেক বেশি প্রাচীন তবুও এ ডেটার সত্যতা, ডফলার ইফেক্ট এবং মহাবিশ্বে হিলিয়ামের সাম্প্রতিক প্রাচুর্যতা ব্যাখ্যা করতে পারেনা এবং এ ছাড়াও আমরা প্রকৃতিতে মোনোপোল সমস্যার সমাধান করতে পারিনা, একইভাবে আমরা সমাধান করতে পারিনা যে, কেনো ওমেগার মান পুরোপুরিভাবে ১ এর মধ্যেই রয়েছে, আর কেনোইবা আমরা মহাসম্প্রসারণের পেছনে বিস্ফোরণকে অস্বীকার করে মহাবিশ্বের ফ্ল্যাটনেস প্রবলেমকেও পুরোপুরিভাবে সমাধান করতে পারছিনা।
মহাবিস্ফোরণের সাপেক্ষে আমাদের কাছে বিভিন্ন পিয়ার রিভিও জার্নালের সোর্স থেকে প্রায় শতাধিক প্রমাণিত ডেটা রয়েছে, সমস্ত ডেটাকে শুধুমাত্র একটি নক্ষত্র ভেঙে চুরমার করে দেবে এটা আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারিনা! হয়তোবা আমাদের গণনায় মারাত্মক কোনো ত্রুটি রয়েছে অথবা মহাবিশ্ব আজ থেকে ১৩.৮ বিলিয়ন বছর পূর্বেই তৈরি হয়েছে ঠিকই কিন্ত ১৬ বিলিয়ন বছর প্রাচীন নক্ষত্রটি টাইম ট্রাভেল করে প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে আমাদের ইউনিভার্সে প্রবেশ করেছে, অথবা আমাদের মহাবিশ্বের ভেতরই আর একটি মহাবিশ্বের একটি অংশ বাস করছে যে মহাবিশ্বটি সম্পর্কে আমাদের কাছে পূর্বে কোনো ডেটা ছিলোনা অথবা এখানে কাজ করছে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের অদ্ভুত কোনো নিয়ম যা আমাদের সাধারণ জ্ঞানকে ( Common Sense) পুরোপুরিভাবে ভেঙে চুরমার করে দেয়।
কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশন অনুসারে, মহাবিশ্বে কোন একটি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা পুরোপুরিভাবে শূন্য নয়, কিন্তু এ জন্য আমাদেরকে আমাদের মহাবিশ্বের বয়স থেকেও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। আর এ জন্য হয়তোবা আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন বছর। যদি তাই হয় তবে আমাদের ম্যাক্রো মহাবিশ্বের উপর কী কোয়ান্টাম আনসার্টেইনটির কোনো প্রভাব কাজ করছে? হাস্যকরভাবে অনেকে মনে করেন, HD140283 নক্ষত্রটি কোয়ান্টাম টানেলিং এর মাধ্যমে আমাদের মহাবিশ্বে এন্টার করেছে ( কমপ্লেক্স স্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে যেটা সাধারণত ঘটেনা) । যদি তাই হয় তবে আমাদের মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকেও অন্য কোনো মহাবিশ্বে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই নয় কী? আর এভাবে মহাবিশ্বগুলো একে অন্যের সাথে এমনভাবে মিশ্রিত হয়ে আছে, আর এ ইনফিনিট লুপের ভেতর আমাদের পক্ষে এটা খুঁজে পাওয়া দুস্কর যে কোনটা সত্যিকার অর্থে আমাদের মহাবিশ্ব!
কিন্তু এগুলো সবই নিন্মমানের মনগড়া ঝল্পনা কল্পনা যার সায়েন্টিফিক কোনো মিনিং নেই।
এর বয়সের সবচেয়ে আধুনিক অনুমানটি 14.46 ± 0.8 বিলিয়ন বছর, মহাবিশ্বের বয়সের বর্তমান অনুমানের চেয়েও ভাল, যা 13.799 ± 0.021 বিলিয়ন বছর। চুড়ান্ত ধরণের বয়স উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মেথিউসিলা , HD 140283 অপ্রতিষ্ঠানিকভাবে মেথিউসিলাহ নক্ষত্রকেই সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিয়েছে যেটির নামকরণ করা হয় বাইবেলের পিতৃপুরুষ ম্যাথিউসিলাহর নাম অনুসারে যিনি ৯৬৯ বছর বেঁচে ছিলেন বলে জানা যায়।
প্রাকৃতিকভাবে যদি মেথিউসিলা মহাবিশ্ব থেকে বয়সে বড় হয়, এটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টান্তকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, বিগব্যাং সহকারে। এটি একটি বড় মাপের চ্যালেঞ্জ। আমাদের মহাবিশ্বে কয়েকটি স্বতন্ত্র পপুলেশন রয়েছে। পপুলে্শন I – নক্ষত্রের মধ্যে থাকে সব ভারী এলিমেন্ট। ম্যাথুসেলাহ পপুলেশন I I নক্ষত্রের সদস্য। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ভারী বস্তু থাকে, বিশেষ করে আয়রন। আর এক ধরণের হাইপোথেটিক্যাল নক্ষত্র আছে, যাকে বলে পপুলেশন –III যেগুলো হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ধারণ করে। এখনো মহাবিশ্বে পপুলেশন III নক্ষত্রের পরীক্ষামূলক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই স্বতন্ত্র তিন ধরণের নক্ষত্র মহাবিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন যুগে বাস করে। আমাদের সূর্য পপুলেশন I এর সদস্য। মহাবিস্ফোরণের শুরুতে মহাবিশ্বে শুধুমাত্র হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ছিলো। এটমকে গণনা করলে হাইড্রোনের রেশিও ৯২% এবং হিলিয়ামের রেশিও ৮%। যেহেতু হিলিয়াম হাইড্রোজেন থেকে চারগুণ ওজন সম্পর্ন আর তাই আমরা যখন ওজনের দিক থেকে সেগুলোকে প্রকাশ করতে যাই তখন রেশিও হয় হাইড্রোজেন ৭৫% এবং হিলিয়াম ২৫ % ।
পপুলেশন III এর নক্ষত্রগুলো জন্মায় প্রাচীন মহাবিশ্বে যা সম্পূর্ণ ভাবে আদিম বৃক্ষ থেকে তৈরি। সেগুলো অনেক বিরাট ও উত্তাপ সম্পন্ন এবং তারা মহাজাগতিক ফুয়েল জ্বালিয়ে হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামকে ভারী উপাদানগুলোতে পরিণত করে। নাক্ষত্রিক দৈত্য বিস্ফোরিত হয় যা এ ধরণের ভারী উপাদানগুলোকে মহাবিশ্বের অন্যত্রও ছড়িয়ে দেয়।
পপুলেশন II নক্ষত্র একটুপর গঠিত হয় কিন্তু তবুও তারা গঠিত হয় মহাবিশ্বের ইতিহাসের একেবারে প্রারম্ভে। তাদের আসল উপাদানগুলো ভারী উপাদান যেমন আয়রণে অনুপস্থিত থাকে। এদের অধিকাংশ নক্ষত্র স্টেলার জীবন চক্রের একটি পর্যায়ে সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটায় যা মহাবিশ্বকে আরো ভারী ও শক্তিশালী উপাদানগুলোর সমৃদ্ধ মিশ্রণে লবণাক্ত করে দেয়।
পপুলেশন- I নক্ষত্র, উদাহরণস্বরুপ- আমাদের সূর্য একটি গ্যাসের সমৃদ্ধ মেঘ দ্বারা ঘনীভূত হয়েছিলো পপুলেশন II নক্ষত্রের মৃত্যুতে। বিভিন্ন রকমের উপাদানের মিশ্রণের একটি প্রভাব ছিলো তাদের কেন্দ্রের ফিউশন প্রসসের বিস্তারিত অবস্থার উপর। যেহেতু ম্যথুসেলাহ পপুলেশন II নক্ষত্র , এটি বৃদ্ধ। ২০১৩ সালে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ Fine Guidance Sensor ব্যাবহার করে সুনির্দিষ্টভাবে এর দূরত্ব নির্ণয় করেছিলো। গবেষকরা অত্যাধুনিক Star Formation এর মডেল ও নক্ষত্রের বিবর্তনের সাথে সমন্বয় করে , এটির উজ্জ্বলতা ও স্প্রেক্ট্রাল ইনরফরমেশন ব্যবহারের ভেতর দিয়ে মেথিউসিলাহর আরো নিপুন একটি বয়স নির্ণয় করেছিলো 14.46 ± 0.8 বিলিয়ন বছর যা ছিলো আমাদের মহাবিশ্বের বয়স ১৩. ৭৯৯ বিলিয়ন বছর থেকে বেশি।
আর এখান থেকে কী আমরা সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারি যে মহাবিস্ফোরণ তত্ব হুমকির মুখে পড়ে গেছে? মহাবিশ্বের সাম্প্রতিক জ্ঞান অনিশ্চিত?
কখনোইনা !!! আর এর কারণ হলো, আমরা নক্ষত্রের যে সেন্ট্রাল ভ্যালু অনুমান করেছিলাম তাতো মাত্র গল্পের শুরু। এখানে আমাদেরকে গণনার অনিশ্চয়তার পরিমাণকেও আমাদের গণনায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা যখন আনসার্টেইনটিকে পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারি, আমরা এখান থেকে এটাও বুঝতে পারি যে , ম্যাথুসেলাহর ৭০ ভাগ সম্ভাবনা রয়েছে ১৩.৬৬ এবং ১৩.৩৬ বিলিয়ন বছর অতীতে অবস্থান করার। প্রথম নির্ণিত অনুমানটি মহাবিশ্বের স্বীকৃত বয়সের মধ্যে । আর দ্বিতীয়ত সেখানে ৩০% সম্ভাবনা রয়েছে যে মেথিউসেলাহ নক্ষত্রের বয়স সেই সীমার বাহিরে, ১৫% সম্ভাবনা আছে যে এ নক্ষত্রটির বয়স তার চেয়েও কম।
আমরা যখন সকলকিছুকে গণনার মধ্যে নিয়ে আসি, মেথিউসিলাহ নক্ষত্রের হাবল মেজারমেন্ট প্রদানের মধ্য দিয়ে তখন দেখতে পাই যে, এটি অন্ততপক্ষে ২০%, মহাবিশ্বের এক্সুয়াল এইজ ১৩.৮ বিলিয়ন বছর থেকে বয়সে ছোট। মেথিউসিলাহ নক্ষত্র অনেক প্রাচীন এতে আমার কোনো দ্বিমত নেই, এটি অন্ততপক্ষে মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন নক্ষত্র। কিন্তু এর অস্তিত্ব কখনোই আধুনিক বিশ্বতত্ত্বকে ধবংস করতে পারেনা। থিংক বাংলা কিছুদিন পূর্বে মেথিউসিলাহ নক্ষত্রের উপস্থিতিকে মহাবিশ্বের সাম্প্রতিক বোধের অনিশ্চয়তা বলে যে মেসেজ প্রদান করেছিলো তা মূলত আমাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত একটি মেসেজ- বলে আমি মনে করি। মূলত, আমরা মেথিউসিলা নক্ষত্রকে কখনোই আধুনিক কসমোলজির ধবংস বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বের মৃত্যু বলার মতো প্রমাণ হাতে পাইনি।
কিন্তু মেথিউসিলাহ নক্ষত্রের ত্র্যটিপূর্ণ বয়সের পরিমাণ যদি সত্যও হতো তবে এতে বিজ্ঞানের কিছুই তারতম্য ঘটতোনা কারণ বিজ্ঞান আমাদের নতুন নতুন অজ্ঞতাকে উত্তোলন করে ও সে সকল অজ্ঞতার রহস্য উন্মোচন করে – ম্যাট রিডলির ভাষায় যদি আমরা বলি।
আরো জানতে পড়ুন- (বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু)
তথ্যসুত্র-
Parallel Universe, Michio Kaku, Pictures of the Baby Universe , part-1, chapter-1Does The Methuselah Star Disprove The Big Bang? ForbesHow Can a Star Be Older Than the Universe? www.Space.comCan a star be older than the universe?
ম্যাথুসেলাহ নক্ষত্র কী মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করে? ম্যাথুসেলাহ নক্ষত্র কী মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করে? ম্যাথুসেলাহ নক্ষত্র কী মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করে? ম্যাথুসেলাহ নক্ষত্র কী মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বকে মিথ্যা প্রমাণ করে?


