প্যারালাল ওয়ার্ল্ড- এ এইচ লিহন

মিসনার স্পেস ; আপনার শয়নকক্ষে মহাবিশ্ব

Last updated:

মিসনার স্পেস ; আপনার শয়নকক্ষে মহাবিশ্ব

 

১৯৯২ সালে, স্টিফেন হকিং সময় ভ্রমণের প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছিলেন প্রথম ও শেষবারের মতো, তিনি সময় ভ্রমণের বিপক্ষে ছিলেন। সহয কথায়, যদি সময় ভ্রমণ সান্ডে পিকনিকের মতো সাধারণ ব্যাপার হতো তবে আমরা ফিউচারের ভ্রমণকারীদের এখনো দেখতে পেতাম , যারা আমাদের সাথে মজা করতো এবং ছবি তুলতো!
( থিওরি অব রিলেটিভিটি অনুসারে, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত একসাথে ঘটে আছে। আজ থেকে কোটি কোটি বছর পর নিশ্চয় মানুষ আরো উন্নত প্রযুক্তির অধিকারী হবে, তবে তারা হয়তো টাইম মেশিন আবিষ্কার করতেও সক্ষম হবে, যদি সময়ের ভেতর প্রতিটি মুহূর্ত এ মুহূর্তেই অস্তিত্বশীল হয় , তবে সময় ভ্রমণকারীদেরও টাইম মেশিন নিয়ে আমাদের সময়ে ভ্রমণ করার কথা কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমরা কোনোদিন সময় ভ্রমণকারীদের দেখিনি)

পদার্থবিজ্ঞানীরা মাঝেমাঝে T.H হোয়াইটের এপিক নোবেল The Once and The Future এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, Everything not forbidden is Compulsory। অন্যকথায়, যদি পদার্থবিজ্ঞানে এমন কোন বেসিক প্রিন্সিপাল না থাকে যা সময় ভ্রমণকে নিষিদ্ধ করে তবে সময় ভ্রমণ অবশ্যাম্ভাবী ভাবে একটি সম্ভাবনা!


এর কারণ হলো অনিশ্চয়তার নীতি( Uncertainty Principles)। যদি কোন একটি ঘটনা অসম্ভবও হয়, কোয়ান্টাম ইফেক্ট এবং ফ্ল্যাকচুয়েশন এটাকে একদিন অবশ্যই সম্ভব করে তুলবে যদি আমরা যথেষ্ট পরিমাণ সময় অপেক্ষা করি, তাহলে যদি এমন কোনো নীতি না থাকে যা সময় ভ্রমণকে অসম্ভব করে তোলে তবে অবশ্যই সময় ভ্রমণ সম্ভব!

সময় ভ্রমণের প্রতিবাদে স্টিফেন হকিং উপস্থাপন করেছিলেন “Chronology protection Hypothesis” যা সময় ভ্রমণকে অসম্ভব করে তোলে আর ” ঐতিহাসিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে ইতিহাস”!! এ হাইপোথেসিস অনুসারে, সময় ভ্রমণ সম্ভব নয় কারণ এটি নির্দিষ্ট পদার্থবিদ্যার সুত্র লঙ্গন করে! যখন ওয়ার্মহোলের সমাধান চুড়ান্তভাবে কঠিন প্রমাণিত হয় এটিকে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে, হকিং তার যুক্তি শুরু করেন, ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের চার্লস মিসনারের “সিমপ্লিফায়েড ইউনিভার্স ” ধারণাটি এনালায়েজ করার মাধ্যমে যেখানে সময় ভ্রমণের সকল উপাদান উপস্থিত আছে! মিসনারের স্পেস ছিল একটি আইডিয়ালাইজ স্পেস ,যেখানে আপনার বেডরুম নিজেই মহাবিশ্ব হয়ে উঠে! ধরা যাক, আপনার বেডরুমের বাম দিকের দেয়াল ডান দিকের দেয়ালের প্রতিটি প্রতিনিধিত্বকারী বিন্দুর সমরুপ! এর মানে হলো আপনি যদি বাম দিকের দেয়ালের ভেতর হাঁটতে থাকেন তবে আপনার নাক রক্তাত্ব হবে না, কিন্তু এর ভেতর হাঁটার মাধ্যমে দেয়ালটি আপনার কাছে ডানপাশ থেকে দৃশ্যমান হতে শুরু করবে! তার মানে,  বাম ও ডান দিকের দেয়াল সিলিল্ডারের মতো কোনোকিছু একটা দ্বারা সংযুক্ত!

এছাড়াও, সামনের দেয়ালের প্রতিটি বিন্দু পেছনের দেয়ালের সমরুপ এবং সিলিঙের প্রতিটি বিন্দু ফ্লোরের সমরুপ। এভাবে আপনি যদি যেদিকেই হাঁটেন, আপনি যদি আপনার বেড রুমের দেয়াল ভেদ করে চলেও যান আপনি পূনরায় আপনাকে বেডরুমের ভেতরেই খুঁজে পাবেন! আপনি এখান থেকে বের হতে পারবেন না! অন্যকথায়, আপনার বেডরুম সত্যিকার অর্থে সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব! মিসনার স্পেসে, সমস্ত মহাবিশ্ব আপনার শয়নকক্ষেই উপস্থিত। প্রতিটি বিপরীত দেয়াল একে অপরের সমরুপ, অতএব আপনি যদি একটির ভেতর দিয়ে ঢোকেন আপনি তাৎক্ষণিক বিপরীত দেয়াল থেকে নির্গত হতে থাকবেন। সিলিঙ পুরোপুরিভাবে ফ্লোরের মতোই। মিসনার স্পেস সম্পর্কে মাঝেমধ্যে স্টাডি করা হয় কারণ ওয়ার্মহোলের মতো এরও একই টপোলজি। কিন্তু গাণিতিকভাবে এটিকে মোকাবিলা করা একেবারেই সহয, যদি দেয়ালটি মুভ করে তবে মিসনোমার ইনিভার্সের ভেতর দিয়ে সময় ভ্রমণ সম্ভব।


কারণ আপনি মিসনার স্পেসে সামনের দিকে গেলে আবার পূণরায় পেছনের দিকে ফিরে আসবেন! সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো যে, আপনি যদি যত্নের সাথে ডানদিকের দেয়াল দেখেন, আপনি দেখবেন যে এটি প্রকৃতপক্ষে স্বচ্ছ এবং অন্যপাশে আপনার বেড রুমের একটি কার্বন কপি আছে। প্রকৃতপক্ষে, আপনার যথাযথ একটি ক্লোন অন্য কক্ষটিতে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও আপনি শুধুমাত্র আপনার পেছনের দিক দেখবেন, সামনের দিকে কোনোকিছু দেখবেন না। আপনি যদি উপরে ও নিচে থাকান তবুও আপনি আপনার কার্বন কপি দেখবেন। আসলে , আপনার সামনে অসীম সিকোয়েন্সের আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, পেছনে, নিচে ও উপরে!


আপনার নিজের সাথে নিজের দেখা হওয়াটা খুবই কঠিন। যতবার আপনি আপনার মাথা ঘোরাবেন তারাও তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেবে, অতএব আপনি তাদের মুখ দেখবেন না। কিন্তু যদি বেডরুমটি অনেক বেশি ছোট হয়, আপনি আপনার দুটি হাত দেয়ালের ভেতর ঢুকিয়ে দিতে পারবেন এবং আপনার সামনের ক্লোনটির কাঁধে হাত রাখতে পারবেন যতক্ষণনা আপনার অসীম সংখ্যক সিকোয়েন্স একে অপরের কাঁধে হাত রাখে। যার ফলে সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব ঘুরে অবশেষে আপনি নিজের কাঁধে নিজেই হাত রাখবেন! ( তবে আপনাকে এমন কোন উপদেশ দিতে চাইনা যে, আপনি আপনার ক্লোনের কোন ক্ষতি করুন, যদি আপনি একটি বন্ধুক নেন এবং সেটি তাক করেন আপনার সামনের ক্লোনকে হত্যা করার জন্য, তবে ট্রিগার টানার পূর্বে আপনার আর একবার চিন্তা করা উচিত কারণ আপনার পেছনের ক্লোন নিজেও আপনার দিকে বন্ধুক তাক করে রেখেছে!)


মিসনার স্পেসে, মনে করুন, দেয়াল আপনার চারপাশে পতিত হচ্ছে। এখন ব্যাপারটা আরো মজার হয়ে উঠবে। মনে করুন, বেডরুম সংকোচিত হচ্ছে, ডান পাশের দেয়াল আপনার দিকে ঘন্টায় ২ মাইল বেগে ছুটে আসছে , আপনি যদি আতঙ্কিত হয়ে বাম দেয়ালের দিকে ছুটে যান, তবে আপনি আবার ডান দেয়ালের দিকে ফিরে আসবেন এবং প্রতি ঘন্টায় নতুন ২ মাইল যুক্ত হতে থাকবে! এবার আপনি প্রতি ঘন্টার চার মাইল ভ্রমণ করছেন। কিন্তু প্রতিবার আপনি যখন বাম দেয়ালের দিকে একটি সার্কিট সম্পন্ন করছেন, আপনি নতুন করে দুই মাইল যোগ করছেন। অতএব এবার আপনি প্রতি ঘন্টায় ৬ মাইল ভ্রমণ করছেন।


আপনি যদি মহাবিশ্বের চারপাশে আপনার ভ্রমণকে পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন, আপনি প্রতি ঘন্টায় ৬,৮,১০ মাইল অতিক্রম করবেন, যতক্ষণ না আপনি অবিশ্বাস্য গতি অর্জন করছেন, আলোর গতির কাছাকাছি! কিছু নির্দিষ্ট ক্রিটিক্যাল পয়েন্টে, আপনি মিসনার স্পেসে এত দ্রুত ভ্রমণ করবেন যে, আপনি অতীত ভ্রমণ করতে শুরু করবেন। মূলত, আপনি স্পেস- টাইমের পূর্বের বিন্দুতে চলে যাবেন! হকিং সতর্কতার সাথে মিসনোমার স্পেসকে বিশ্লেষণ করেছেন। মিসনার স্পেসের ডান ও বাম দিক, গাণিতিক ভাবে ওয়ার্মহোলের দুটি মুখের মতো, যেখানে ডান দেয়াল ও বাম দেয়াল সমান। তারপর তিনি মন্তব্য করেন যে, মিসনোমার স্পেস ক্লাসিক্যালি ও কোয়ান্টাম ফিজিক্যালি খুবই অস্থিতিশীল। আপনি যদি বাম দেয়ালে একটি ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালান, তবে আলোকরশ্মি প্রতিবার ডান দেয়াল দিয়ে বের হওয়ার সময় শক্তি অর্জন করবে। আলোক রশ্নি নীল বর্ণালী সম্পর্ণ হয়ে যাবে। এর মানে হলো, এটি আরো অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যতক্ষণ না অসীম শক্তিতে পৌঁছে যা অসম্ভব। অথবা আলোক রশ্নি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠবে যে এটি তার নিজের দানবীয় গ্রেভিটেশনাল ফিল্ড তৈরি করবে ,  বেডরুম বা ওয়ার্মহোলকে কলাপ্স করবে! এভাবে আপনি যদি ওয়ার্মহোলের ভেতর হাঁটেন তবে এটি কলাপ্স করবে।


এছাড়া, যে কেউ প্রদর্শন করতে পারে, যাকে বলে এনার্জি মোমেন্টাম টেন্সর, যা স্পেসের এনার্জি ও ম্যাটারের পরিমাণ পরিমাপ করে, যা অসীম হয়ে গেছে কারণ রেডিয়েশন এ দুটি দেয়ালের ভেতর অসীম সংখ্যকবার ভ্রমণ করে! হকিং এর মতে, এটি হবে সময় ভ্রমণের জন্য একটি চরম আঘাত (Coup de grace)। কোয়ান্টাম রেডিয়েশন এর নির্মাণে  প্রভাব ফেলবে, যতক্ষণ না তারা অসীম হয়ে উঠে, একটি বিচ্ছ্যুতি তৈরি করে, টাইম ট্রাভেলার্সকে হত্যা করে এবং ওয়ার্মহোলটি বন্ধ করে দেয়!

হকিংসের এ পেপার থেকে, তিনি যে বিচ্ছ্যুতির প্রশ্ন এনেছিলেন, তা পদার্থবিজ্ঞানের সাহিত্যে অনেক প্রাণবন্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ক্রোনোলোজি প্রোটেকশনের ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা উভয় অবস্থানই (Pro and Con) গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু কিছু পদার্থ বিজ্ঞানী হকিংসের প্রমাণে লুপহোল খুঁজে পেতে শুরু করলো, ওয়ার্মহোলের উপযোগী নির্বাচনের মাধ্যমে, যেমন- তাদের আকার, আকৃতি ইত্যাদি পরির্তন। তারা দেখতে পায় যে, কিছু ওয়ার্মহোলের সলিউশনে, এনার্জি মোমেন্টাম টেন্সর মূলত, বিচ্চ্যুত হয় কিন্তু অন্যান্যগুলো সুসঙ্গায়িত! রাশিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী সার্গেই ক্রাসনিকভ এ বিচ্ছ্যুতির প্রশ্নটি পরীক্ষা করেন বিভিন্ন ধরণের ব্লাকহোলের জন্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, এমন কোন প্রমাণের অস্তিত্ব নেই যা নির্দেশ করে যে টাইম মেশিন অবশ্যই অস্থিতিশীল হবে!



হকিং এর বিরুদ্ধে এই ঢেউ এতটাই দূরে আন্দোলিত হয়েছিলো যে প্রিন্সটনের পদার্থবিজ্ঞানী Li-Xin Li এমনকি এন্টি-ক্রোনোলজি প্রোটেকশন কনজেকচার প্রস্তাব করেছিলেন, ” There is No law of physics Preventing of closed timelike Curves”! ১৯৯৮ সালে, হকিং কিছুটা পিছু হটে আসতে বাধ্য হন। তিনি লিখেন, এনার্জি- মোমেন্টাম টেন্সর মাঝেমাঝে বিচ্ছ্যুত হতে ব্যর্থ হয়( কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে) যা থেকে বোঝা যায় যে অতীত ভ্রমণ ক্রোনোলজি প্রোটেকশন’ কে এনফোর্স করেনা! এর মানে এ নয় যে সময় ভ্রমণ সম্ভব, এর মানে হলো আমাদের বোধ এখনো সীমাবদ্ধ।


ফিজিসিস্ট ম্যাথু ভিজার দেখেন হকিং এর অনুমানের ব্যর্থতা সময় ভ্রমণের আগ্রহে কোনপ্রকার তারতম্য তৈরি করেনা কিন্তু এটি হলো একটি ইঙ্গিত যে ক্রোনোলজি প্রোটেকশনের সমাধান করার জন্য প্রয়োজন পরিপূর্ণ ভাবে উন্নত কোয়ান্টাম থিওরি অব গ্র্যাভিটি! এরপর হকিং আর বলেননি যে, সময় ভ্রমণ আল্টিমেটলি অসম্ভব, শুধু এটা ছাড়া যে সময় ভ্রমণ খুবই অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক! মতভেদ ছিল সময়ের ভ্রমণের বিপক্ষে অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু কেউ এটিকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে দিতে পারে না। কেউ যদি বিশাল মাপের পজেটিভ এনার্জি কাজে লাগাতে পারে এবং স্থিতিশীলতার সমস্যা সমাধান করার জন্য নেগেটিভ এনার্জি, তবে সময় ভ্রমণ মূলত সম্ভব। ( এবং সম্ভবত, আমরা যে জন্য ভবিষ্যতের ভ্রমণকারীদের দ্বারা প্লাবিত হচ্ছিনা তা হলো তারা হয়তো সময় ভ্রমণ করে সে সময়ে চলে গেছে যখন টাইম মেশিনটি তৈরি হচ্ছিলো, এবং সম্ভবত টাইম মেশিন এখনো তৈরি হয় নি)


গোট টাইম মেশিন

GooTT Time Machine

 

1991 সালে প্রিন্সটনের জে. রিচার্ড গোট আইনস্টাইনের ইকুয়েশন থেকে সময় ভ্রমণের আর একটি সলিউশন উপস্থাপন করেন। তার প্রদক্ষেপ ছিল খুবই মজার কারণ তিনি শুরু করেছিলেন সামগ্রিকভাবে বিশুদ্ধ একটি প্রদক্ষেপ থেকে, যা স্পিনিং অবজেক্ট, ওয়ার্মহোল ও নেগেটিভ এনার্জিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে!

গোট জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৪৭ সালে কেন্টাকির লুইসভিলে। এবং কথা বলতেন দক্ষিণের বিশুদ্ধ উচ্চারণে যা থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সের বিশৃঙ্খল জগতে কিছুটা বহিরাগত মনে হতো। তিনি বিজ্ঞানে তার অগ্রযাত্রা শুরু করেন শিশুকালে অপেশাদারি এস্ট্রোনোমি ক্লাবে যোগদান করার মাধ্যমে এবং নক্ষত্র বিজ্ঞানীদের উপভোগ করছিলেন। উচ্চমাধ্যমিকে থাকাকালীন তিনি Westinghouse Science Talent Search Cotest এ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘসময় এর সাথে জড়িত ছিলেন, বহুবছর তিনি সেখানে জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হার্বাড থেকে গণিতে গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করার পর তিনি প্রিন্সটনে যান আর সেখানে তিনি খুব কমই কাজ করতে পারেন।
বিশ্বতত্ব নিয়ে তিনি যখন কাজ করছিলেন তখন তিনি কসমিক স্ট্রিং দ্বারা আকৃষ্ট হয়। মহাবিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ যা অনেক তত্বে ভবিষ্যৎবানী করা হয়। এ কসমিক স্ট্রিং এটমের নিউক্লিয়াস থেকেও সুক্ষ্ম, তাদের ভর নাক্ষত্রিক, এবং তারা স্পেসের মিলিয়ন মাইল বিস্তৃত হয়ে থাকতে পারে। গোট সর্বপ্রথম আইনস্টাইনের ইকুয়েশন থেকে কসমিক স্ট্রিং এর সলিউশন বের করেছিলেন। কিন্তু তিনি কসমিক স্ট্রিং এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু একটা দেখতে পেলেন। আপনি যদি দুটি কসমিক স্ট্রিং “কে একে অপরের দিকে পাঠান তবে এ দুটি তন্তু একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করার পূর্বে আপনি তাদেরকে টাইম মেশিন হিসেবে ব্যাবহার করতে পারবেন। প্রথমত, তিনি দেখেন যদি আপনি কসমিক স্ট্রিং এর চারপাশে বৃত্তাকারে ভ্রমণ করেন, স্পেস সংকোচিত হয়ে যাবে যা এটিকে এক অদ্ভুত প্রোপার্টি প্রদান করবে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি একটি টেবিলের চারপাশে ভ্রমণ করি তবে আমরা পূর্বের জায়গায় ফিরে আসবো, ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে। কিন্তু রকেট যখন দুটি কসমিক স্ট্রিং এর চারপাশে ভ্রমণ করে তখন তারা একে অপরকে অতিক্রম করে, এটি আসলে ৩৬০ ডিগ্রি থেকে কম ভ্রমণ করে কারণ স্পেস নিজেই সংকোচিত হয়ে যায়। (এটা অনেকটা শম্ভু বা কোনের বৈশিষ্ট্যের মতো, আমরা যখন কোনের চারপাশে ভ্রমণ করি তখন আমরা বুঝতে পারি যে আমরা ৩৬০ ডিগ্রি থেকে কম অতিক্রম করেছি)। আর এভাবে আপনি যদি খুব দ্রুত এ দুটি তন্তুর চারপাশে দ্রুতগতিতে ভ্রমণ করতে থাকেন তবে, দ্রুত স্পেস সংকোচিত হতে থাকবে আর আপনি আলোর গতিকে ছাড়িয়ে যাবেন( দূরবর্তী কোন পর্যবেক্ষক সাপেক্ষে) কেননা সামষ্টিক দূরত্ব প্রত্যাশার চেয়ে কম। এটি স্পেশাল থিওরি অব রিলেটিভিটি লঙ্গন করেনা কারণ রকেটের ভেতর আপনার প্রসঙ্গকাঠামো আলোর গতিকে অতিক্রম করেনি।
আবার এর মানে এটাও বোঝায় যে আপনি যদি দুটো কোলাডিং স্ট্রিং এর চারপাশে ভ্রমণ করেন তবে আপনি অতীত ভ্রমণ করবেন। গোট স্মরণ করেন, আমি যখন এ সমাধান আবিষ্কার করেছিলাম, আমি খুব উত্তেজিত হয়েছিলাম। এ সমাধানে শুধুমাত্র পজেটিভ এনার্জি ব্যবহার করে এমন একটি গতিতে ভ্রমণ করা যায় যা আলোর গতি থেকে নিন্মতর! আমরা দেখি মহাবিশ্বে উচ্চমাত্রিক শক্তিসম্পন্ন প্রোটন সাধারণত এ গতিতে ভ্রমণ করে, অতএব গতি সম্ভব, তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। কিছু সমালোচক মন্তব্য করেন, কসমিক স্ট্রিং খুবই দূর্লভ। তখন গোট প্রস্তাব করেন, উন্নত কোন সভ্যতা স্পেসে কোন একটি কসমিক স্ট্রিং খুঁজে পাবে, দৈত্যাকার স্পেসশিপ ও বিরাট যন্ত্র ব্যবহার করে তারা হয়তো Rectangular Loop এ পরিণত করবে যা কিছুটা বক্র হয়ে যাবে। এ লুপ তার নিজের গ্রেভেটি দ্বারা কলাপ্স করবে। আর দুটি কসমিক স্ট্রিং আলোর গতিতে একে অপরকে অতিক্রম করতে শুরু করবে যা সংক্ষিপ্তভাবে টাইম মেশিন তৈরি করবে। এভাবে পতনশীল স্পিন আপনাকে তার চারপাশে ভ্রমণের অনুমোদন দেবে, আপনি এক বছরের কাছাকাছি অতীতে চলে যাবেন সম্ভবত তা হবে সম্পর্ণ গ্যালাক্সির অর্ধেক ভর ও শক্তির সমান।



আগের পর্বগুলো পড়ুন এখান থেকে-

 



অনুবাদ-

মিচিও কাকু, প্যারালাল ওয়ার্ল্ড 

hsbd bg