মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র
মূলপাতা বিজ্ঞাননিউরোসায়েন্স মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র

মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
198 বার পঠিত হয়েছে

লাই ডিটেক্টর মেশিনের [ মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র ] কার্যপদ্ধতি এবং হিউম্যান ব্রেন

আপনারা কী জানেন লাই ডিটেক্টর মেশিন বা মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র কোন প্রযুক্তিতে কাজ করে? শুনুন তবে। আপনারা হয়তো ফাংশনাল এম আর আই সম্পর্কে শুনেছেন যেটি MRI প্রযুক্তির আপডেট ভার্সন। ১৯৯০ সালে বিজ্ঞানীরা FMRI প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে যেটি মস্তিষ্কে অক্সিজেনের উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে। কিন্তু শুনলে হয়তো বিষ্মিত হবেন যে এম আর আই প্রযুক্তির মাধ্যমেই মস্তিষ্কে মিথ্যা সনাক্ত করা যায়। এম আর পযুক্তি সরাসরি নিউরাল ইলেক্ট্রিসিটি শনাক্ত করতে পারেনা। কিন্তু অক্সিজেন নিউরনের এনার্জির জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়, অক্সিজেনেটেড ব্লাড পরোক্ষ ভাবে মস্তিষ্কে নিউরনকে ইলেক্ট্রিক্যাল এনার্জি প্রদান করে যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের ইন্টারেকশন দেখা যায়।

এম আর আই এর মাধ্যমেই আমরা জেনেছি চিন্তা কোনো নির্দিষ্ট পয়েন্টে ঘটে না, চিন্তা করার সময় আমাদের ব্রেন ইলেক্ট্রিসিটি সমস্ত মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয়। আমাদের চিন্তার বিভিন্ন নিউরাল পথকে পর্যবেক্ষণ করে এম আর আই বিভিন্ন মানসিক রোগ যেমন সিজোফ্রেনিয়া, আলজেইমার এবং পারকিনসন সম্পর্কে ভিন্ন মাত্রিক কিছু তথ্য আবিষ্কার করেছে। এরপর বিজ্ঞানীরা আরও একটি এম আর আই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন যেটিকে বলা হয় Diffusing tenso imaging যেটি মস্তিষ্কের পানির প্রবাহ ডিটেক্ট করতে পারে এবং এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রান্তের থ্রিডি ভোর্টেক্স তৈরি করতে পারে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এম এর প্রযুক্তিতে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে মিথ্যাবাদীকেও শনাক্ত করা যায়।

মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র : মূল কার্যপ্রণালী

লাই ডিটেক্টর মেশিন বলা হয় যাকে; এর মূল থিমস হলো, একজন ব্যাক্তি যখন মিথ্যা বলে একই সময় তার মস্তিষ্কের কাছে সত্য তথ্যটাও জানা থাকে, এতে করে দুটি মিশ্রিত হয়ে যায়, রেডিও ওয়েভের মাধ্যমে দেখা হয় যে কোন তথ্যটি বেশি স্থির, তার পূর্বের জানা সত্য তথ্যটি নাকি মিথ্যা তথ্যটি। তথ্যের কনসিসটেন্সির ওপর ভিত্তি করে মিথ্যাবাদীকে শনাক্ত করা হয়!

বর্তমানে কিছু কোম্পানী এম আর প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষণা করে দেখেছেন যে একজন ব্যাক্তি যখন মিথ্যা বলে তখন তার মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল এবং পেরিটোরিয়াল লোব লাইট আপ বা আলোকিত হয়ে উঠে। অধিকতর সুস্পষ্টভাবে মস্তিষ্কের অরবিটোফ্রন্টাল কর্টেক্স একটিভেট হয়ে উঠে যার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি লোকটি মিথ্যাবাদী।এখানে দুটি ফিলসফি আছে।প্রথমত অনেকে মনে করেন মিথ্যার কোন অস্তিত্ব নেই!কিন্তু এম আর আই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা জেনেছি সত্য ও মিথ্যা সম্পূর্ন আলাদা, সত্য এবং মিথ্যা ম্যাটারিয়ালি অস্তিত্বশীল নয়তো মিথ্যা বলার সাথেসাথে প্রি-ফন্টাল ও পেরিটিয়াল লোব আলোকিত হয়ে উঠত না!

আর অন্য ফিলসফিটা হলো- মিথ্যাবাদী মিথ্যাকে জগতের সকলের কাছ থেকে লুকালেও তার নিজের নিউরন সেল থেকে লুকাতে পারেনা, অতএব মিথ্যা প্রমিমকাশ হবেই!যাইহোক, অরবিটোফ্রন্টাল কর্টেক্স আমাদের চোখের ভেতরের অংশে অবস্থিত, এবং এটি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে!

আমাদের আরও কিছু আর্টিকেল পড়তে ক্লিক করুন এখানে: পোস্ট বায়োলজিক্যাল মাইন্ড

Reference:

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!