মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?
মূলপাতা বিজ্ঞান মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?

মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
158 বার পঠিত হয়েছে
ডারউইন যখন সার্ভাইভাল ফিটেস্টের কথা বলেছিলেন তখন তিনি এটা বলেননি যে আপনার ব্যাংক একাউন্টে কত মিলিয়ন ডলার রয়েছে বরং তিনি গণনা করেছেন আপনার সন্তানের সংখ্যা। আপনার যদি একটা সন্তান থাকে যে আর একটা সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম তবেই আপনি ফিট। কারণ আপনি সফলতার সাথে পরবর্তী প্রজন্মে জিন হস্তান্তর করতে পেরেছেন। আর এ জন্যই সেক্স মেটিং ড্যান্সের মধ্যেই অবরুদ্ধ, যারা অনবরত একে অন্যের পরিপূরক হওয়ার জন্য পরস্পর তাল মেলায়। নারী বা পুরুষ যাইহোক তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো পরবর্তী প্রজন্মে তাদের জীবনের স্পন্দন রেখে যাওয়া।এই ম্যাটিং ড্যান্স – হিউম্যান রিপ্রডাক্টিভ স্ট্রাটেজির মূল, যা আজ থেকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর সময় অতীতে শুরু হয়েছে, যখন এ গ্রহ ছিলো তরুণ এবং আমাদের আদিম পূর্বপুরুষরা দুটি ভিন্ন সেক্সে আত্মপ্রকাশ করেছে।
 
_____ হেলেন ফিশার
 
 
red green and yellow round stone

 

 

 

কেনো সেক্স?

 
 
বিভিন্ন প্রজাতি বিভিন্নভাবে বংশবৃদ্ধি করে। হুইপটেলের কয়েকটা টিকটিকি পুরোপুরিভাবে যৌনতা থেকে মুক্ত। আমেরিকায় দক্ষিণ পশ্চিমে সেমারিড চ্যাপরাল নামক একপ্রকার ক্ষুদ্র সরিসৃপ বিচরণ করেছিলো। বংশবৃদ্ধির সময়ে তাদের প্রত্যেকে আট থেকে দশটি উর্বর ওভা উন্নত করেছিলো। তাদের ডিম যা তাদের অনুরূপ প্রতিলিপি তৈরি করতে পারতো। এ ধরণের অযৌন প্রজনন __ পার্থোজেনেসিস অথবা ভার্জিন বার্থের একটি প্রাকটিক্যাল দিক ছিলো। তারা যদিও অন্যান্য হুইটপিলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতো , তাদের ডিমের উৎপাদনকে ট্রিগার করার জন্য। হুইটপিল কোর্টিং করে অনর্থক সময় ও শক্তি অপচয় করতোনা। যেখানে আমরা সেক্সের পূর্বে শুধু রিলেশনশিপেই অজস্র সময় ও শক্তি অপচয় করি সেখানে তারা একে অন্যকে আকর্ষণ করার চেষ্টাই করেনা। অথবা কোনো প্রতিযোগি পুরুষের সাথে তারা যুদ্ধও করেনা। আর এ জন্য তাদের হরিণের মতো বড় শিং দরকার ছিলোনা, অথবা ময়ুরের মতো সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য তাদের কোনো লেজও ছিলো না। সবচেয়ে বড় কথা হলো তারা সে সকল হুইটপিলের সাথে তাদের জিনকে মিক্স করতোনা , যাদের জেনেটিক্যাল মেকআপ স্বল্প। তারা শুধু সন্তান জন্ম দিতো যারা তাদের ১০০% DNA বহন করতো।
 
 
 
 
কিন্তু সেক্সের পূর্বে ভালোবাসার কোনো প্রয়োজন আছে? মরুভূমির তৃণ ভূমিতে চড়ে বেড়ানো হুইটপিল ছাড়াও কিছু ডেন্ডেলিওন, ব্ল্যাকবেরিস, অ্যাস্পেন বৃক্ষ, অথবা এস্যাকচুয়াল বন্য ঘাস আছে। এ ধরণের প্রজাতিদের মধ্যে কোনো মেটিং প্রয়োজন হয়না। অযৌন প্রজনন পদ্ধতির মধ্যে বিপুল পরমাণ ডারউইনীয় সফলতা থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর অনেক প্রাণী সেকচুয়াল সম্পর্কে জড়িত হয়েছে। এর পেছনে অন্ততপক্ষে দুটি কারণ কাজ করে, যে সকল ব্যক্তি কোর্টশিপ করে তারা তাদের সন্তানের মধ্যে একটি প্রধান সম্পত্তি তৈরি করতে পারে। এমন একটি মেষরক্ষক কুকুর কোলাই ও একটি পোডল একটি কুকুরছানা তৈরি করতে পারে যেটি তার মা ও বাবা কারো মতো নয়। কিন্তু এর থেকে একটি খারাপ প্রভাব সৃষ্টি হয়। মাঝেমাঝে এমন মিক্সার খুবই দূর্বল একটি সমন্বয় তৈরি করতে পারে। কিন্তু পূনরায় সমন্বয় বা রিকম্বিনেশন একটি নতুন জেনেটিক পারসোনালিটি তৈরি করে। এদের কেউ কেউ মারা যাবে আর অন্যরা জীবিত থাকবে যারা তাদের দূর্বল স্ট্রেইনগুলো কাটিয়ে উঠার জন্য অক্লান্তভাবে চেষ্টা করতে থাকবে।
 
 
 
কিন্তু ঠিক কেনো আমাদের পূর্বসূরিরা যৌনতাকে নির্বাচন করলো? যদি অযৌন প্রজনন পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করতো তবে তাদেরকে তো আর কোর্টিং এর জন্য এত বিপুল সময় আর শক্তি অপচয় করতে হতো না! সেক্সের জন্য এত শিল্প, সংস্কৃতি আর দর্শন তৈরি করতে হতোনা। কেনো তারা অনর্থন এই জটিল পথের দিকে পা বাড়ালো? যদি তারা সেক্স ছাড়াই সন্তান জন্ম দেয়ার নীতিতে স্থির থাকতো! তবে আজ পরকীয়া, সমকামীতা, বহুগামীতা অথবা এর সাথে এত এত ধর্মের উদ্ভব লাভ করতোনা, কেউ কাউকে ধর্ষণ করতোনা, ধর্ষণের কারণে একজন ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ডও হতোনা, প্রেকিকার জন্য কেউ কখনো সুইসাইড করতো না, তাকে আকৃষ্ট করার জন্য প্রতি বছর নতুন নতুন শার্ট আর জুতার বিবর্তনও হতোনা, প্রয়োজন ছিলোনা কোনো হেয়ার স্টাইল, আমাদের লিখতে হতোনা, কোনো কবিতা, গান অথবা উপন্যাস, অনর্থক সেক্সের জন্য রাতের পর রাত জাগ্রত থাকতে হতোনা, মাস্টারবেট করতে হতোনা, পর্ণভিডিও দেখতে হতোনা, পাশের বাসার কোনো এক আন্টির প্রতি আসক্ত হয়ে তার সাথে সেক্স করার ফলে কাউকে ধর্মচ্যুত হতে হতোনা। আজ এত এত এত কোটি আইন পালন করতে হতোনা, শুধুমাত্র সেক্স করে মস্তিষ্কে একটু ডোপামিন ও সেরেটোনিন তৈরি করার জন্য। শুধু একটু ভালো থাকার জন্য, একটু শান্ত থাকার জন্য আমাদেরকে নিতে হয়েছে এক অন্তহীন জটিলতা ও অশান্তি। কারণ জিন মূলত আমাদের ভালো বা মন্দ কোনোটাই দেখেনা, সে দেখে আমাদের অনুলিপি তৈরি ও টিকে থাকার ক্ষমতা, আমরা যদি আজ সেক্স না করি তবুও আমাদের স্বার্থপর জিন আমাদেরকে আঘাত করবে, আমাদের ব্রেন প্রতি রাতে অজস্র নারীর শরীরের ক্রিটিক্যাল ও অস্থির করে দেয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে স্বপ্ন ও কল্পনায় পর্ণ আকারে চেতনার ভেতর প্রদর্শন করতে থাকবে এবং বলবে- দেখো এই শরীর কত স্বাস্থ্যকর( সন্তান লালন  পালনের ক্ষমতা) , মসৃন( ভালো জিনের প্রতিক) , এর চোখে কী সীমাহীন গভীরতা ( সুস্থ্য হৃদপিন্ড ও ভালো জিন) , তার ব্রেস্টে গুলো খুবই আকর্ষণীয় (কারণ সেখানে আছে তোমার সন্তানের জন্য নিউট্রিশান) । এ জন্য আমাদের কাছে আমাদের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স একটার পর একটা নারীর শাড়ী উন্মোচন করবে আর আমাকে দেখাবে, দেখো, দেখো কী সুন্দর, আহ! তুমি কত দারুণ একটি সুযোগ হাত ছাড়া করেছো! যাও তোমার কাজিনের ঘর এখন খালি আছে! যেয়েই মুখ চেপে ধরো, তার ব্রেস্ট স্পর্শ করো, কানে চুমু দাও, চিতকার করতে চাইলে স্ট্রোক করা শুরু করো। অনুনয় বিনয় করে ক্ষমা চাও! ঐ মেয়ে কিছুতেই রাজি হচ্ছেনা তো? ধর্ষণ করো! যা হওয়ার পরে দেখা যাবে, আগে  সিমেন্স নিক্ষেপ করো, তার দেহের সাত অক্টিলিয়ন এটমের ভেতর তোমার জিনকে কপি করো। তারপর তুমি মরে যাও, তাতে আমার কিছুই আসে যায় না! কারণ তুমি সফল! কারণ তুমি জেনারেশন ক্রিয়েট করেছো!
 
 
 
 
 
 
এ কথাগুলো লেখা আছে ব্রেন সার্কিট, হর্মোন আর নিউরোট্রান্সমিটারে আর তার মধ্যে অল্পকিছু দেখা দেয় মস্তিষ্কের চিন্তায়, আর নিষিদ্ধ কোনো নারীদেহকে নিয়ে চিন্তা করে মাস্টারবেশন করার সময়ে।
 
 
 
 
লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে বিবর্তিত ব্রেন নারীর যৌনি ছাড়া এ মহাবিশ্বে আর কিছুই চায়না। কারণ আপনি মহান বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন কিনা অথবা আপনার ব্যাংক একাউন্টে কত কোটি ডলার আছে, আপনি সেলিব্রেটি কিনা, সেটা জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, জিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার কয়টি সন্তান আছে, আর সন্তানের জন্য প্রয়োজন একটি যৌনি, সেক্স। এই যে এখন আমি একজন হোমো সেপিয়েন্স আপনাদের সাথে এখন কথা বলছি, এখানে আমার মূল উদ্দেশ্য কোয়ান্টাম ফিজিক্স ও বিবর্তনের রহস্য উন্মোচন করা হলেও আমার জিনের উদ্দেশ্য সেক্স, সে আপনাদের সাথে কথা বলছেনা, বিছানায় নেয়ার জন্য বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করছে, আমাকে আপনাদের সামনে মহান ও শ্রেষ্ঠতম করে তোলার চেষ্টা করছে যেনো আমি আপনাকে কাছে টেনে নেই, আর আপনিও প্রভাবিত হোন, আমি আপনার শরীরকে উন্মোচন করি, আপনার যৌনির প্রতি ভালোবাসা বোধ করি, স্লাইডিং করি ও জিন ছড়িয়ে দেই। আর ঠিক এ কাজটি করানোর জন্য আমার ব্রেনের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সকে শাটডাউন করে দেয়া হয়, আমার ব্রেনে হেরোইন, কোকেইন ও এম্পেটামিনের মতো ড্রাগের নেশা তৈরি করে আমাদের উভয়ের ব্রেনকে লক করে দেয়া হয়! কিন্তু কেনো আমরা পার্থোজেনেসিসের মধ্য দিয়ে বংশবৃদ্ধি করিনা! কেনো আমরা এ অসীম জটিল একটি জগতে প্রবেশ করলাম? কেনো একটা পেনিস বিকল্প একটি শরীরের ভেতর নিজেকে প্রবেশ করার জন্য এত সীমাহীন এক সামাজিক ষড়যন্ত্র তৈরি করে? সেক্স ছাড়াও তো আমরা জিনের অনুলিপি করতে পারতাম? তাহলে জিনের উদ্দেশ্য কেনো সেক্স হবে? তার উদ্দেশ্য তারই অনুলিপি! যা আমরা অযৌন পদ্ধতিতেও স্প্রে করতে পারতাম!
 
 
 
 
জীববিজ্ঞানীরা এর অত্যন্ত সুক্ষ্ম একটি উত্তর দিয়েছেন, কেনো আমাদের প্রাইমেটিভ পূর্বপুরুষদের মধ্যে সেকচুয়াল রিপ্রোডাকশন পদ্ধতি বিবর্তিত হয়েছে। একে বলে Red Queen Hypothesis যেটি লুইস ক্যারলের বই Through the looking Glass নামক একটি গ্রন্থ থেকে ঘটনাক্রমে নির্গত হয়েছে। একজন ডানাওয়ালা লাল পরী এলিসকে তার বাহুতে তুলে নেয় এবং তাকে বাহুর উপর নিয়ে খুব দ্রুত গতিতে দোড়াঁতে থাকে কিন্তু যখন তারা থামে তখন তারা দেখে যে তারা যেখান থেকে শুরু করেছিলো বিস্ময়করভাবে সেখানেই এসে থেমে গেছে।
 
 
 
 
পরী এলিসের কাছে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করেছেন অনেকটা এভাবে যে, Now Here, You see, it Takes all the running you can do, To keep in the Same place ( তুমি এখন যেখানে আছো, যা দেখছো, তার জন্য তুমি এতক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করেছো, যেনো তুমি নিজেকে একই প্লেসে রাখতে পারো)।
 
এবার আমরা ব্যাপারটিকে একটু বিবর্তনের ভাষায় ট্রান্সলেট করি। এলিস অজস্র কিলোমিটার দ্রুত গতিতে অতিক্রম করার পর সে দেখলো যে সে প্রচন্ড গতিতে এ জন্যই ভ্রমণ করেছে যেনো সে তার পূর্বের স্থানে খুব দ্রুত নিজেকে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়, যেনো সে চোখের পলকে তার আগের স্থানে চলে আসতে পারে, আর এ জন্যই এত দ্রুত ছোটা। ইভোল্যুশনের ভাষায় অনুবাদ করার পর এখান থেকে যা দাঁড়ায় তা হলো, যে সকল প্রাণী নিয়মিত পরিবর্তন হয়ে যায়, যাদের মধ্যে পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি তাদেরকে ভাইরাস অথবা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমিত করে সুবিধা করতে পারেনা, কারণ দ্রুত বদলে যাওয়া একটি প্রাণীর শরীরের সাথে তার পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে উঠা সম্ভব না। যে প্রাণী দ্রুত বদলে যায় ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া তার দেহকে অল্টার বা হত্যা করতে পারেনা আর ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়া যেহেতু তাকে হত্যা করতে পারেনা সেহেতু সে বায়োলজিক্যালি আগের মতোই থাকে। এ তত্ত্ব মতে, আমাদের মধ্যে সেক্সের ববর্তন ঘটেছে মূলত জার্মদেরকে প্রতারিত করার জন্য, সেক্সের মাধ্যমে আমরা আমাদের জিনকে মিশ্রিত করি একটি শক্তিশালী সার্ভাইভাল মেশিনের সাথে যে অন্য সবার চেয়ে শক্তি ও সাহসের দিক থেকে উন্নত আর তার সাথে আমার জিনগুলো মিশ্রিত হলে সেখান থেকে জন্ম নেয় একটি শক্তিশালী শিশু।
 
 
 
 
যার ফলে এ নতুন নতুন জিনের ভেরিয়েশনে গঠিত শরীরের পরিবেশ জার্ম সহ্য করতে পারেনা, তারা বারবার ধোকা খায়, আর আমরা বায়োলজিক্যালি আগের মতোই গতিশীল থাকি।
 
 
 
কিন্তু প্রশ্ন জাগে, কেনো সেক্সের জন্য শুধু দুজন নারী ও পুরুষই লাগবে? কেনো তারা এমন কোনো রিপ্রোডাক্টিভ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করলোনা যেখানে একজন ব্যক্তি যে কারো সাথে তার জেনেটিক্যাল ম্যাটার শেয়ার করতে পারে? ব্যাক্টেরিয়া এটি করে। দুটি অর্গানিজম একে অন্যের কাছাকাছি আসে এবং DNA Exchange করে। A চাইলে B এর সাথে ম্যাটিং করতে পারে, B ম্যাটিং করতে পারে C এর সাথে, আবার একইভাবে C ম্যাটিং করতে পারে A এর সাথে, তারা সবাই সবার সাথে সেক্স করতে পারে, তাদের কাছে A,B,C,D….ইত্যাদির ব্যক্তিদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, এর মানে আসলে তাদের কোনো সেকচুয়াল পার্থক্যই নেই। তারা যে কেউ যে কারো সাথে DNA Exchange করতে পারে। তাদের মধ্যে কোনো নারী বা পুরুষ নেই অথচ সেক্স আছে। তারা কোনো রোম্যান্টিক কবিতা লিখেনা, একটি ব্যাক্টেরিয়ার কাছে রবি ঠাকুরের কবিতার কোনো মিনিং নেই। তারা শুধু DNA Exchange করে।
 
 
 
 
 
কিন্তু কেনো আমাদের আদিম পূর্বসূরীরা সবাই সবার সাথে DNA Exchange করেনি? যদি তাই ঘটতো, তবে তো আজ সমকামিতা বলতে আলাদা কোনো কিছুর অস্তিত্বই থাকতোনা! আমরা হয়ে উঠতাম হোমোসেকচুয়াল। তখন হোমোসেকচুয়ালিটিই হতো জিন ট্রান্সমিশনের একমাত্র উপায়। তারা দুটি সতন্ত্র লিঙ্গে Evolve হলো- বড়, ডিএনএর তৈরি মন্থর ও সমৃদ্ধ ডিম্ব, যা পুষ্টি উপাদান দিয়ে আবৃত এবং পুরুষদের রয়েছে ক্ষুদ্র ভঙ্গুর বীর্য যা সম্পূর্ণভাবে জিন থেকে ছিনিয়ে নেয়া। আদিম “গু” থেকে কিভাবে আলাদা করে এ দুটি পৃথক সেক্স Evolve হলো তা কেউ জানেনা।
 
 
 
 
আমাদের প্রথম সেকচুয়াল পূর্বসূরি ছিলেন আদিম দাদা ব্যাক্টেরিয়া যার কাছে আমরা যৌনবিজ্ঞানের প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেছি, মাল্টিসেলুলার জীবন কাঠামো একপ্রকার সেক্স সেল তৈরি করতে পারে যাকে বলে গ্যামেট, আর এই গ্যামেটের মধ্যে তার DNA মলিকিউল এর অর্ধেক থাকে। ব্যাক্টেরিয়ার মতো, প্রতিটি ব্যক্তি গ্যামেট তৈরি করে যা অন্যান্য গ্যামেটের সাথে কম্বাইন হতে পারে। কিন্তু কিছু অর্গানিজম বড় মাপের গ্যামেট বিচ্ছুরিত করে যা নিউট্রিয়াস সাইটোপ্লাজম দ্বারা আবৃত।
 
 
অন্যরা অত্যন্ত কম খাদ্যসহ ক্ষুদ্র সেক্স সেল সামনের দিকে স্প্রে করে, আর অন্যরা ক্ষুদ্র গ্যামেটের জাহাজ চালায় সেই জাহাজে বাড়তি কোনো খাদ্য যোগ না করেই।
 
 
 
এ ধরণের সেকচুয়াল ক্রিয়েচাররা তাদের সেক্স সেল সংগ্রহ করে সমূদ্রের কারেন্ট থেকে। যখন দুটি ক্ষুদ্র গ্যামেট ইউনাইটেড হয়, তখন সার্ভাইভ করার জন্য তাদের মধ্যে খাবারের অভাব থাকে। কিন্তু যখন দুটি বড় সেল একে অন্যের সাথে জয়েন করে তারা টিকে থাকার জন্য খুব কদর্য থাকে । যখন একটি নমনীয়, ক্ষুদ্র, ভারমুক্ত গ্যামেট, একটি প্রোটো স্মার্ম, পুষ্টিতে ভরপুর একটি গ্যামেটের সাথে মিলিত হতো, একটি প্রোটো ডিম, একটি নতুন জীব তার মধ্যে বাস করতো অনিশ্চিত এক সূচনার মধ্য দিয়ে। আর একসময় দুটি আলাদা সেক্স বিবর্তিত হয়, একটি ডিম বহন করে আর অন্যটি স্পার্ম ট্রান্সপোর্ট করে। এই হাইপোথেসিসের একটি ত্রুটি আছে এবং এর বিকল্পও আছে।
 
 
 
 
 
কিন্তু এখনো পর্যন্ত মহাবিশ্বে জীবিত এমন কোনো অর্গানিজম নেই , যারা পরিপূর্ণভাবে এটা জানতে পেরেছে যে কিভাবে সর্বপ্রথম আমাদের আদিম পূর্বসূরীদের মধ্যে দুটি সেক্স আলাদা হয়েছিলো। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে বিলিয়ন বছর পূর্বে, ব্যক্তির মধ্যে দুটি স্বতন্ত্র স্ট্রেইন জন্ম হয়েছিলো। আলাদা দুটি সেক্স Evolve হলো তারপর। তাদের নিরবিচ্ছিন্নভাবে বৈচিত্র্যময় সন্তানরা বসবাস করতে লাগলো এবং যুগ যুগ ধরে এটি মাল্টিপ্লাই হতে থাকলো, অতীত পরিবর্তন করে।
 
 
এটা খুবই বিস্ময়কর আমাদের প্রাচীন পূর্বসূরিরা একটি স্ট্রবেরির যৌনজীবন বেছে নেয়নি। হুইটপেলের টিকটিকির মতো প্রাণীরা অযৌন পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে; কিন্তু তারা আবার সেকচুয়াল কর্মকান্ডেও অংশ নেয়। যখন স্ট্রভেরি নিরাপত্তাবোধ করে, তার প্রতিটি টুকরা অব্যক্ত থাকে এবং পরিবেশ অপরিবর্তিত থাকে, তারা ক্লোন করে। কিন্তু তাহলে কেনো সেক্স দ্বারা বিরক্ত হওয়া? তখনই স্পেস শেষ হয়ে যায়, যখন যখন স্ট্রভেরিকে অচেনা স্থানে ছড়িয়ে পড়ার জন্য বলপ্রয়োগ করা হয়, তারা উদাত্তভাবে ফুল ফোটায় ও মেটিং করে আর যখন আগ্রগামী বেরী স্থির হয়, তারা আবার ক্লোন করতে শুরু করে।
 
 
 
আর্থওয়ার্ম সেকচুয়ালিটির আর একটি ভেরিয়েশন পছন্দ করে। এ ধরণের সৃষ্টি একইসাথে নারী ও পুরুষ; তারা নিজেদের Impregnate করতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণী অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয় সেল্ফ ফার্টিলাইজেশন প্রসেসকে অতিক্রম করার জন্য, এমন একটি প্রসেস যেটি সেকচুয়ালিটি এবং এস্যাকচুয়ালিটি দুটো ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। সম্ভবত, হিউম্যান স্ট্যান্ডার্ড থেকে আমরা প্রজননের জন্য অদ্ভুত একটি পদ্ধতি খুঁজে পাই আরো অনেক প্রজাতির মধ্যে, যারা এক সেক্স থেকে অন্য সেক্সে নিজেদেরকে ট্রান্সফর্ম করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার একটি বিরাট প্রবাল প্রাচীরের প্রতিবন্ধকার কাছে বাস করে এক ধরণের মাছ যাদেরকে ল্যাব্রয়েড বলা হয়। এই প্রবাল প্রাচীর সংযোগকারীরা এমন একটি গ্রুপে বাস করে যেখানে একজন পুরুষ এবং পাঁচজন মহিলা। যদি ঐ একজন মাত্র পুরুষ কোন কারণে মারা যায় তবে সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীটির শরীর পুরুষের দেহে রুপান্তরিত ( Metamorphos) হয়।
 
 
 
মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই মিসেস ল্যাব্রয়েড মিস্টার ল্যাব্রয়েড হয়ে যায়। (Within Few day’s She become He)! ভাবতে পারেন, যদি হোমোসেপিয়েন্স এমন হতো তবে তাদের মধ্যে সত্যিকারে কী ঘটতো…?
 
 
 
হয়তো মিসেস ত্রিশা তার স্বামীর সাথে গত সপ্তাহে সেক্স করার সময় রিসিভার ছিলো কিন্তু এখন সে ইনসার্টার আর তাই তিনি হয়তো মিস্টার ত্রিশাল হয়ে অন্য কোনো নারীর সন্ধ্যানে পথ চলতেন । Now she is both fucker and Fucking Hole ! যদি নারী ও পুরুষ তাদের নিজেদের ক্লোন তৈরি করতে পারতো, যদি আমাদের মধ্যে একইসাথে দুটি সেক্সই থাকতো অথবা যদি আমরা নিজেদেরকে এক ঘন্টার মধ্যেই Different সেক্সে পরিণত করতে পারতাম তবে একজন পুরুষ বুঝতে পারতো যে যখন নারীদের যৌনি ট্রিগার করা হয় , তখন আসলে তাদের মস্তিষ্কে কেমন উপলব্ধি জাগে, আর এর ফলে আমরা হয়তো সঙ্গীর সাথে প্রেমময় সম্পর্ক গড়ে তুলতাম না, ফ্লার্টিং করতাম না, আমাদের মস্তিষ্কে রোম্যান্টিক ভালোবাসার সাইকোলজি সম্পূর্ণ রকমভাবে বদলে যেতো। আমাদের মস্তিষ্কের সংযোগ পদ্ধতি হতো সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের বুদ্ধিমত্তার উপর এটি হয়তো নেতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলতে পারতো। হয়তো আজ আমরা সেপিয়েন্স বলতে যে মহাবিশ্বজয়ী দুর্দান্ত প্রাণীকে জানি তার বুদ্ধিমত্তা হতো অন্য কোনো মাত্রার। কিন্তু আমাদের পূর্বসূরিরা স্ট্রভেরির মতো ক্লোনিং স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করেনি, অথবা হার্মাপ্রোডেটিক আর্থ-ওয়ার্মের মতো অথবা ট্রান্সসেকচুয়াল। তার পরিবর্তে আমরা নারী ও পুরুষ হয়েছি, উপপ্রজাতি যা আমাদের জিনকে মিশ্রিত করে, অথবা বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়।
 
 
 

 

 

সেক্স ছাড়াও কী জিনের বিস্তার করা যায়?

 
 
 
কপিউলেশন একমাত্র উপায় নয় যার মাধ্যমে আমরা আমাদের জিনকে ভবিষ্যত প্রজন্মে হস্তান্তর করি। আরো একটি উপায় যে পদ্ধতিতে সেকচুয়াল অর্গানিজম তাদের DNA ছড়াতে পারে সেটিকে বলা হয় কিন সিলেকশন। এটি রিয়েলিটির প্রকৃতি থেকেই নির্গত হয়। আমরা সবাই আমাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সাথে জিন শেয়ার করেছি। সন্তান মা ও বাবা থেকে অর্ধেক করে জিন পায়। যদি একজন শিশুর Full brother /sister থাকে তবে সে তার অর্ধেক জিন তাদের সাথে শেয়ার করে। আট ভাগের একভাগ জন পায় তার কাজিন আর এভাবেই চলতে থাকে। একজন ব্যক্তি যদি সারাজীবন তার জেনেটিক রিলেটিভদের দেখাশুনা করে, যদি সে কোনোদিনও রোম্যান্টিক প্রেমে না পড়ে, কোনোদিন যদি সে এক বিন্দুও স্পার্ম বিচ্ছুরিত না করে, তবুও তার জিন ভবিষ্যত প্রজন্মে যাবে। কারণ সে মূলত, তার পরিবারিক ডিএনএ কে সাপোর্ট করছে। আপনার আত্মীয় যদি সার্ভাইভ করে, আপনিও সার্ভাইভ করবেন আর এটাকেই বলে “Inclusive Fitness”!
 
 
 
 
হেল্পিং নেস্ট হাইপোথেসিস অনুসারে, সমকামীতার বিবর্তন ঠিক এ জন্যই ঘটেছে। সমকামীরা সন্তান তৈরি করেনা ঠিকই কিন্তু তারা পারিবারিক DNA Exchange করার জন্য অন্যদের সাপোর্ট করে। আর এতে করে পারিবারিক জিনের ভেতর দিয়েই তার জিন ফিউচারে স্থানান্তরিত হয়। কারণ জিনের মূখ্য উদ্দেশ্য নিজের অনুলিপি তৈরি করা, কোনো শরীর তৈরি করা নয়। আর তাই সমকামীতা সেলফিশ জিন থিউরি অথবা বিবর্তনের বিপক্ষে যায়না। মূলত, সমকামীতার বিবর্তন ঘটে পপুলেশন কন্ট্রোল ও পারিবারিক DNA প্রমোট করার জন্য। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমকামীদের মধ্যে এ জন্য মায়া মমতার পরিমাণ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তাদের মস্তিষ্কে কিছু কিছু নিউরোট্রান্সমিটারের আধিক্যতা কাজ করে। যার জন্য তারা পরোপকারী ও অনুভূতি প্রবণ হয়ে উঠে। এদের বিবর্তনই ঘটেছে পারিবারিক জিনের বিকাশে সহযোগী ভূমিকা পালন করার জন্য। অনেকটা কর্মী মৌমাছির মতো যারা বন্ধ্যা বা সেক্সের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম। আর এ জন্য তারা রানী মৌমাছির শরীরের জিনকে প্রমোট করতে সাপোর্ট করে। রানী মৌমাছি হলো মৌমাছিদের যমজ বোন, যে তাদের ১০০ ভাগ জিন বহন করে। তাই যদিও তারা সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম কিন্তু জিন ট্রান্সফর্ম করার ক্ষেত্রে তারা মোটেও অক্ষম নয়। কারণ জিনের প্রধান লক্ষ্য কোনো শরীর তৈরি করা নয়, তার নিজের অনুলিপি তৈরি করা। কর্মী মৌমাছির মতোই বিবর্তন সমকামীদের অনুমোদন দেয়, যেনো এই টিকে থাকার যন্ত্র সমকামীরা সফলতার সাথে তাদের পারিবারিক জিন তথা তার নিজের জিনের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরবর্তী প্রজন্মে রেখে যেতে পারে।
 
 
 
 
 
hands formed together with red heart paint
 

 

 

আমরা কত ধরণের সম্পর্ক করতে পারি?

 
 
আমাদের উত্তরসূরী তৈরির একমাত্র উপায় মেটিং। আসলে আমাদের মানব সংস্কৃতির সম্পূর্ণটাই কোর্টশিপ, মেটিং ও ম্যারিজের উপর গড়ে উঠে। আমরা একটি স্ক্রিপ্ট মেনে কাজ করি। পুরুষ ও নারী একে অন্যকে সম্মোহিত করে, তাদের নিজেদের অনুলিপি তৈরি করার জন্য__ যেটাকে বায়োলজিস্টরা রি-প্রোডাক্টিভ স্ট্র্যাটেজি বলে। কিন্ত এই মেটিং গেম আসলে কী?
 
বেশ, পুরুষদের হাতে কয়েকটি অপশন রয়েছে, নারীদেরও; এটা এতটাই নমনীয় যে তাদের মাথা গণনা করেই তাদেরকে আলাদা করা যায়। একজন পুরুষ একটা নির্দিষ্ট সময় একজন নারীকে তার স্ত্রী করে, সে একগামী হয়ে যায়। ( Monogamy শব্দটি গ্রীক শব্দ Mono “One” এবং Gyny “Female” শব্দটি থেকে এসেছে)। অথবা একজন পুরুষ একইসাথে মাল্টিপল নারীর সাথে থাকতে পারে। এটাকে বলে Polygyny (Poly means Many)। নারীদেরও ঠিক একইভাবে দুটি অপশন রয়েছে, মোনার্ডি( Monandry) যার মানে একজন হাজব্যান্ড অথবা পলিয়ান্ড্রি ( Many Husband at the same time) বা একসাথে অজস্র স্বামী। আবার অনেক সময় মনোগ্যামি বলতে একটি স্পাউজকে (One Spouse) বোঝায় তবে এখানে লিঙ্গের কোনো গুরুত্ব নেই। আর পলিগ্যামি বলতে বোঝায় “Several Spouse” , জেন্ডারকে তাৎপর্য না দিয়েই। শেষেরটি হলো গ্রুপ ম্যারিজ বা Polygyndry __ এটি একটি রিপ্রোডাক্টিভ স্ট্র্যাটেজি যেখানে একাধিক পুরুষ সামাজিকভাবে দুই বা ততোধিক নারীকে Spousal Marriage এর অনুমোদন দেয়।
 
আপনি খুব শীঘ্রই দেখবেন, আমরা খুব প্রকটভাবে একগামী একটি প্রজাতি। আর আমরা এটা করি তরুণদের লালনপালন করার জন্য। একাডেমিকদের মধ্যে একগামীতা বিশ্বাসযোগ্যতার দিকে গুরুত্ব দেয়না। সবচেয়ে বড় কথা হলো, একগামিতার পাশাপাশি এডাল্ট্রি একসাথে হাত ধরাধরি করে পথ চলে, আর সেটিও আমাদের প্রজননেরই একটি কৌশল।
 
 
 
মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?

 

 

পিল্যান্ডারিয়ার্সের প্রকৃতি

 
 
লাল-ডানাযুক্ত পুরুষ ব্লাকবার্ড, উদাহরণস্বরুপ, প্রজনন মৌসুমে বিশাল টেরিটরি দেখাশুনা করে। বেশ কয়েকটি মহিলা তার রিয়েল এস্টেটের এক খন্ড জায়গায় এসে একটি নির্দিষ্ট পুরুষের সাথে যোগ দেয় এবং তার সাথে সহবাস করে। বিজ্ঞানীরা প্রজননের পূর্বে এই পুরুষদের মধ্যে কয়েকজনকে ভ্যাসেক্টমাইজ ( যে টিউবটি সিমেন বহন করে সেটা কেটে ফেলে দেয়া, আর এ জন্য সে কাউকে প্রেগন্যান্ট করতে পারেনা কিন্তু স্পার্ম আগের মতোই প্রডিউস হয়) করেছিলেন। নারীরা সেই পুরুষটির সাথে একত্রিত হয়, তার সাথে সহবাস করে এবং তার বাড়ির রেঞ্জের মধ্যেই বাসা বাঁধে__ কোনোকিছুই অস্বাভাবিক ছিলোনা।
 
যেহেতু সে,ই পুরুষ পাখিটির সিমেন কেরিয়ার টিউব কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে, অতএব তার সাথে সেক্স করলে সন্তান জন্ম হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এরপরও তারা প্র্যাগনেন্ট হয়েছে। আর এখান থেকেই প্রমাণিত হয় এই নারীরা সেকচুয়ালি বিশ্বস্ত নয়।
 
বিজ্ঞানীরা ইতিবাচক ধারণা থেকে, ত্রিশটি লাল-ডানার ব্লাকবার্ড পাখির ছানাদের রক্তের স্যাম্পল সংগ্রহ করেন। পাখিদের বাসার ভেতরের প্রায় ৫০ ভাগ বাচ্ছা এমন কারো DNA বহন করছে যাদের পিতা আসলে এই বিরাট টেরিটোরির মালিক বা ল্যান্ডলর্ড নয়। অধিকাংশ নারী “ভাসমানদের” সাথে সেক্স করেছে, যারা তাদের পরবর্তী ঘরে বাস করে।
 
অন্যান্য প্রজাতিগুলোর মধ্যেও এডাল্ট্রি খুবই কমন। ৮০০০ প্রজাতির শকুনের মধ্যে প্রায় ৯০ ভাগ গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে তরুণদের লালন পালন করার জন্য, তারা একগামী। তাদের যেকোনো একজনকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ডিমের মধ্যে তা দিতে হয় আর যদি তাদের সঙ্গী তাদের মুখে খাবার না তুলে দেয় তবে তারা সেখানেই মারা যায়। আর যদি শকুনটি মারা যায় তবে তাদের ডিম ফোটানো সম্ভব হয়না। যা তাদের জিনকে পরবর্তী প্রজন্মে হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাপের বাধা। আর এ জন্যই ৯০ ভাগ শকুন এডালট্রিতে জড়ানোর সেই সুযোগ পায়না। আর এ জন্যই তারা একগামী। কিন্তু পক্ষীবিদরা একশত প্রজাতির একগামী পাখির মধ্যে এক্সট্রা-পেয়ার সহবাসের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।
 
শুধুমাত্র ৩% স্তন্যপায়ী গভীর ভালোবাসার সম্পর্কে গড়ে তোলে তাদের সন্তানকে লালন পালন করার জন্য কিন্তু এরাও আসলে পিল্যান্ডার বা ছিনাল। এদের মধ্যে রয়েছে গিবন, এপস যারা চায়না, ইন্ডিয়া অথবা ইন্দোনেশিয়া ও সাউথ এশিয়ার রেইন ফোরেস্টে বাস করে, এর মধ্যে সুমাত্রা, বোর্নিও এবং জাভা দ্বিপগুলি। গিবনকে একসময় Paragon of Virtue বা পূন্যের প্যারাগন মনে করা হতো। কিন্তু আসলে তা নয়, এদের নারীরা এমন সব সন্তান জন্ম দেয় যারা তাদের স্পাউজের সাথে জিনগত ভাবে রিলেটেড নয়। হেলেন ফিশার বলেন, পৃথিবীর জলাভূমি, তৃণভূমি, বনভূমি সবকিছু লুচ্ছা/ ছিনালদের আস্তানা।
 
 
ইউনাইটেড স্টেটের সকল নারী ও পুরুষ সঙ্গা অনুযায়ী একগামী। একইসাথে কয়েকটি স্পাউজ থাকা আইন বিরোধী। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা বলছে, ২০-৪০ % আমেরিকান হেট্রোসেকচুয়াল পুরুষ ও ২০-২৫% আমেরিকান হেট্রোসেকচুয়াল বিবাহিত মহিলা এক্সট্রা- ম্যারিটাল বা পরকিয়া সম্পর্কে আবদ্ধ। আমেরিকান ডেটিং কাপলরা ৭০% ঘটনার কথা জানিয়েছেন বিশ্বাসঘাতকতা থেকে ঘটেছে। ২০০০ সালের একটি গবেষণায় বুস দেখিয়েছেন, আমেরিকান ৬০% পুরুষ ও ৫৩% নারী “Mate Poaching” স্বীকার করেছেন এবং একটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্ক ছেড়ে দূরের কারো সাথে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। মেট পোচিং এমন প্রায় ৩০ টি সংস্কৃতিতে খুবই সাধারণ।
 
আমাদের পক্ষে পরকিয়া প্রেমিকদের সঠিক সংখ্যা আসলে উপস্থাপন করা সম্ভব না কিন্তু বিশ্বের কোনো মানুষই এডাল্ট্রির অস্তিত্ব অস্বীকার করেনা। তাহলে এখান থেকে আমরা কী সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারি?
 
দুজন মানুষের সাথে যে ম্যাগনেটিক ফোর্স কাজ করে যার জন্য তারা গভীর ভালোবাসার একটি জুটি তৈরি করে, এটি DNA Exchange এর একটি পদ্ধতি, আর এক্সট্রা-ম্যারিটাল সেক্স DNA Exchange এর অন্য আর একটি পদ্ধতি। এ দুটি পদ্ধতি আমাদের দ্বৈত ম্যাটিং কৌশলের একটি কমপ্লিমেন্টারি আচরণ। অবিশ্বাস বা পরকিয়া ছড়িয়ে আছে, সম্পূর্ণ একগামী শকুন থেকে শুরু করে, স্তন্যপায়ী প্রজাতি পর্যন্ত যার মধ্যে মানুষও অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা বর্তমানে একগামী প্রজাতিদের বলেন, সোশ্যাল মনোগ্যামি যেখানে সঙ্গীরা যুগলবন্দী হয়ে সামাজিক ও প্রজনন সংক্রান্ত আচরণ প্রদর্শন করে যা গভীর বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু আবার তারা সম্পূর্ণভাবে যৌন বিশ্বস্ততা নিশ্চিত করছেনা। মোটকথা, প্রাণীরা সামাজিকভাবে একগামী হলেও, তারা আসলে পরকীয়া করতে ভালোবাসে।
 
 
 

বিয়ে

 
 
সম্ভবত সেক্সের সবচেয়ে সাধারণ রুপটি হলো যে তারা একে অন্যকে বিয়ে করার জন্য বিরক্ত করে। যদিও বিয়ে একটি বিশ্বজনীন সংস্কৃতি । ২০০৯ সালের পরিসংখ্যানে ৮৩% আমেরিকান পুরুষ ও ৮৮.৫% আমেরিকান নারী ৪৯ বছর বয়সে বিয়ে করেছে বলে জানা যায়। আর আজ ৮৫-৯০ ভাগ আমেরিকান পুরুষ ও নারী বিয়ে করে। ৯৭ টি ইন্ডিস্ট্রিয়াল ও এগ্রিকালচার সমাজের চার্চ লিডগার ও কোর্ট রেকর্ড থেকে ইউনাইটেড নেশনের স্ট্যাটিকাল অফিস ১৯৪০ সাল পর্যন্ত ডেটাগুলো জমা করেন। গড়ে ৯০.২℅ নারী ও ৮৮.৯% পুরুষ ৪৯ বছর বয়সে বিয়ে করেন। ব্রাজিলের ক্যাসিনাহুয়া ইন্ডিয়ানদের মধ্যে বিয়ে অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। যখন একজন টিনেজ বিয়ের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে এবং তার বাবার অনুমোদন পায় তখন সে তার স্বামীকে তার বিছানায় ডেকে আনে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো তাদের পরিবার যখন ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে তখনই সে তার স্বামীকে বাসায় আসতে বলে। দিনের শেষের দিকে সে প্রেমিকার কাছে যায়। আর ধীরে ধীরে সে মেয়েটির পরিবারের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু তখনও তাদের পরিবার এ ব্যাপারটি সিরিয়াসলি নেয়না। যখন মেয়েটি প্র্যাগনেন্ট হয়ে যায় অথবা এই অবৈধ সম্পর্কটি অন্তত এক বছর অতিবাহিত হয়। বিপরীতে, হিন্দু বাবা মা মাঝেমধ্যে একটি ছেলেকে তার কন্যার জন্য সাজেস্ট করে এবং তার অনুমোদন নিয়ে তারা একটি সুবিস্তৃত ওয়েডিং প্লান তৈরি করে। এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি বৈবাহিক কীর্তন। এভাবে বিয়ের অনেকদিন পর দুটো পরিবার আলোচ্য টার্ম মেনে প্রোপার্টি বিনিময় করে। এছাড়াও বিয়ের কাস্টমের মধ্যে বিভিন্নতা আছে।
 

 

হারেম গঠন

 
পুরুষ জিনগতভাবে পলিগ্যামাস, আর তাই বিয়ের সরল গান একদিন অতিবাহিত হয়। ৮৫৩ সংস্কৃতির মাত্র ১৬% রেকর্ড একগামীতাকে প্রেসক্রাইভ করে। এগুলোর মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সোসাইটিও অন্তর্ভুক্ত। মানব সভ্যতার সব সংস্কৃতির ৮৪% স্বীকার করে যে, পুরুষরা একের অধিক সঙ্গী গ্রহণ করে।
 
যদিও এনথ্রোপোলোজিস্টরা গণনাতীত কলমের কালি শেষ করেছে ব্যাপকভাবে হারেম গঠনের সাংস্কৃতিক কারণ ব্যাখ্যা করার জন্য। তারা এটিকে খুব সিম্পলি ব্যাখ্যা করেছেন- বহুগামীতা পুরুষকে সুবিশাল জেনেটিক্যাল পুরস্কার প্রদান করে। জিশু খ্রিষ্ট থেকে শুরু করে মোহাম্মদ প্রত্যেকেই এডাল্ট্রিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। মোহাম্মদ একসাথে এগারজন স্ত্রীকে গ্রহণ করেছিলেন, তার মধ্যে একজনের বয়স ছিলো ৬ বছর।
 
মূলত, যিশু ও মোহাম্মদ ছিলেন আলফা মেল যে জন্য নারীরা তাদের কাছে নিজের যৌনিকে সমর্পন করেছিলেন। তারা একসাথে একাধিক নারী গ্রহণ করেন এ জন্য নয় , যে এটা তাদেরকে তাদের ধর্ম করতে প্ররোচিত করেছিলো, তারা এটা করেছিলো কারণ এডাল্ট্রি পুরুষের DNA Exchange করার এক অনবদ্য সুযোগ। জিনের কাছে এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে আপনি যিশু অথবা মোহাম্মদ। আপনি বিশ্বনবী বা গ্যালাক্টিক দূত; জিনের কাছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার অনুলিপি, আর আপনার কয়টি সন্তান আছে, তার উপরই ডিপেন্ড করবে, আপনার টিকে থাকার সফলতা, আপনি কত মিলিয়ন মানুষকে মুসলিম করতে পেরেছেন এর মাঝে প্রত্যক্ষ জিনগত কোনো সফলতা নেই। মোহাম্মদ এডাল্ট্রিতে জড়িত ছিলেন। কিন্ত একজন বহুগামী পুরুষ হয়েও তিনি হারেম গঠনের মাধ্যমে অজস্র সংখ্যক সন্তান জন্ম দেননি। তারমানে দেখা যাচ্ছে, তিনি আসলে পুরোপুরি সেলফিশ জিনের তৈরি প্রবণতা দ্বারা অন্ধ ছিলেন না তিনি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছেন অথবা তিনি মূলত জিনের আদিম প্রবণতায় তাড়িত হয়ে সেকচুয়াল ফিলিংস শেয়ার করেছেন অনেকের সাথে। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, জিনের উদ্দেশ্য যদি তার সংখ্যাবৃদ্ধি হয় তবে কেনো মোহাম্মদের সন্তান এত কম? আসলে একজন নারীর সাথে আমরা অজস্র বার সেক্স করলেও প্রতিবার তার সন্তান জন্ম হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, যদি তাই হতো তবে আমরা কয়েক লক্ষ সন্তানের পিতা/ মাতা হতাম ৭০ বছরেই। আমরা শুধু সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য সেক্স করিনা, জিন টেলিপোর্ট করার সময় আমাদের ব্রেনে যে যৌনতার ক্যামেস্ট্রি তৈরি হয় বা আমাদের ব্রেন রিওয়ার্ড পাওয়ার জন্যও সেক্স করে, আমরা ব্রেনকে ট্রিগার করে ডোপামিন প্রডিউস করতে ভালোবাসি। মূলত, মোহাম্মদ ভবিষ্যত প্রজন্মে তার জিন হস্তান্তর করেছেন কিন্তু অধিকসংখ্যক শরীর তৈরি করেনি।
 
 
 
 
বিশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হারেম বিল্ডার ছিলেন মাওলা ইসমাইল, তার চোখে ছিলো রক্তের নেশা, তিনি ছিলেন মরোক্কের সম্রাট। The Guinness Book of World রেকর্ডে বলা হয়েছে ইসমাইল অজস্র স্ত্রীর সাথে DNA Exchange করে ৮৮৮ জন সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। মুসলিমরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করে না। তারা সন্তান জন্ম দেয়াটাকে প্রমোট করে। জিন যেমন অন্ধভাবে তার অনুলিপি তৈরি করতে ব্যস্ত তারাও অনেকটা স্বার্থপর জিনের ভাষায় কথা বলে। কিন্তু চায়নিজ সম্রাটরা ইসমাইলকেও পরাজিত করবে এক্ষেত্রে। চায়নিজ এম্পেরররা কয়েক হাজার নারীর সাথে সহবাস করতো। তারা খুব সতর্কতার সাথে রাজকীয় শয়নকক্ষে চলে যেতো যখন তারা গর্ভ ধারণ করার জন্য প্রস্তুত হতো। বহুগামিতা ওয়েস্ট আফ্রিকার সমাজগুলোতেও প্রচলিত ছিলো। যেখানে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধ পুরুষের দুই থেকে তিনটি স্ত্রী ছিলো।
 
 
 
 
মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?
 
 
ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ডে হারেম তৈরির সবচেয়ে রঙিন উদাহরণ ছিলো Tiwi, যারা মেলভিন দ্বীপে বাস করেন, প্রায় ২৫ মাইল দূরে, অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে। এ সংস্কৃতিতে সাংস্কৃতিকভাবে সকল নারীকেই বিবাহিত মনে করা হয়, এমনকি যদিও তারা গর্ভধারণের জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। প্রথম ঋতুস্রাবের পর, একটি যুবতি মেয়ে কয়েকদিন ঝোপের মধ্যে একা থাকে এবং সেখান থেকে সে তার বাবা ও ভবিষ্যত জামাইয়ের সাথে দেখা করতে বের হয়। এবং তাদেরকে দেখা মাত্রই সে ঘাসের মধ্যে শুয়ে পড়ে এবং ঘুমের ভান করে। সাবধানতার সাথে তার বাবা একটি কাঠের বর্শা রেখেছিলেন তার পায়ের মধ্যে, তারপর তিনি আনুষ্ঠানিক অস্ত্রটি তাঁর সঙ্গীর হাতে দিয়েছিলেন, যে এটি আঘাত করেছে, জড়িয়ে ধরেছে এবং এটিকে তার নিজের স্ত্রী বলেছে।
 
 
 
আর এই সাধারণ একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার পিতার বন্ধু, ত্রিশ বছর বয়স্ক একজন ব্যক্তি তার সকল কন্যাকে একসাথে বিয়ে করে নিয়েছিলেন, এমনকি গর্ভধারণ করেনি বা এখনো অনস্তিত্বশীল এমন কন্যাদেরও। যেহেতু একজন পুরুষ অনাগত সন্তানদেরও প্রতারিত করে, একজন বালক প্রায় ৪০ বছর অপেক্ষা করে একজন যুবতি মেয়েকে পাওয়ার জন্য। তবে তরুণরা যুবতিদের সাথে ঝোপঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে সেক্স করে। কিন্তু তরুণরা প্রত্যাশা করতো বিয়ে তাদের প্রেস্টিজ ও পাওয়ার প্রদান করবে। আর এ জন্য তারা ঘুরে দাড়াতে শিখলো, মোকাবিলা করতে শিখলো, প্রতিজ্ঞা, খাদ্য ও সম্পদের জন্য শ্রম দিতে শুরু করতো, তাদের পরবর্তী জীবনের সম্ভাব্য স্ত্রীর জন্য। তারপর তারা পত্মী গ্রহণ করতো এবং জন্ম নেয়া সন্তান, পুরুষরা তাদের কন্যাদের অনাগত কন্যাদের উপর দখল নিতো, যাদেরকে বন্ধুর কাছ থেকে সে বিয়ে করেছিলো এমনকি আরো অনেক বেশি সম্ভাব্য স্ত্রী বিনিময় করার মধ্য দিয়ে।
 
ইউরোপিয়ানদের আগমনের পূর্বে এই ঐতিহ্যবাহী Tiwi Marriage কাজ করতো। পত্নীদের মধ্যকার বয়সের তারতম্যের কারণে পুরুষ ও মহিলারা বিভিন্ন সময় বিয়ে করতো। পুরুষটি যখন বৃদ্ধ হয়ে যেতো তখন নারীরা তরুণ স্বামী অনুসন্ধান করতো।
জেলাসি ও তার উর্ধ্বে নারীরা সাধারণত তার স্বামীকে জুনিয়র ওয়াইফ গ্রহণ করতে নিষেধ করতো। কিন্তু তাদের নিজের বোনকে বিয়ে করতে চাইলে সেক্ষেত্রে কো-ওয়াইফ গ্রহণ করতে খুব একটা নিষেধ করতোনা। ক্রোনিক জেলাসির উর্ধবে এসে নারীরা মাঝে একই পুরুষকে বিয়ে করতো যাদের দুজন খাদ্য ও সম্পদের জন্য একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করতো।
 
 

বহুগামিতা ও জিন সম্প্রসারণ

 
পুরুষদের বহুগামীতার প্রতি একটি প্রবণতা ছিলো তাদের জিন সম্প্রসারণ করার জন্য। যেখানে একজন মহিলা হারেমে যোগদান করে সম্পত্তি অর্জন ও তরুণদের টিকে থাকাকে নিশ্চিত করার জন্য। আপনি যখন একজন পুরুষকে প্রশ্ন করবেন সে কেনো দ্বিতীয় একজন নারীকে পছন্দ করেছে সে হয়তো আপনাকে বলবে- আমি তাকে পছন্দ করি কারণ সে প্রবল ব্যবসায়িক বুদ্ধি সম্পন্ন, তার বলিষ্ঠ আত্মা বা দুর্দান্ত উরু। আপনি যখন একজন নারীকে প্রশ্ন করবেন সে কেনো একজন পুরুষের সাথে নিজেকে শেয়ার করতে চায়, সে বলবে- তার দেখার দৃষ্টিকোণ উন্নত, সে খুব সুন্দর করে হাসে অথবা তাকে অবসরে বেড়াতে নিয়ে যায়।
 
আমরা এভাবে আমাদের বহুগামীতার সাপেক্ষে অজস্র যুক্তি তৈরি করতে পারি। সে অনেক ইন্টেলেকচুয়াল, সে একজন কোয়ান্টাম ফিজিসিস্ট, সে অনেক বিশাল ব্যাবসায়ী অথবা ইন্টারস্টেলার মুভির একজন স্টার, এভাবে মিলিয়ন মিলিয়ন রেসপন্স আসতে থাকবে কিন্তু মূল কারণ আসলে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যা তারা জানেওনা।
 
একজন মানুষ সচেতনভাবে এটা জানেনা যে কিভাবে তার ডিএনএ’র তিনটি বেস পেয়ার যখন অনুদিত হয় তখন সেটি ১৯ টি এমাইনো এসিডের অনুক্রম নির্ধারণ করে দেয়। আর এমাইনো এসিডের অনুক্রম নির্ধারণ করে দেয় প্রোটিনের শিকলটি কুন্ডলি পাকিয়ে কিভাবে “গিট” তৈরি করবে, গিটের আকৃতি নির্ধারণ করে দেয় কিভাবে এটি একটি এনজাইম হিসেবে কাজ করবে, আর এনজাইম নির্দিষ্ট করে দেয় কখন কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া কোষের মধ্যে সক্রিয় হবে। আর রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো নির্দিষ্ট করে দেয় কোষটি কেমন হবে অথবা কিভাবে এটি আচরণ করবে। আমরা আমাদের একটি ক্ষুদ্র কোষের ভেতর কী হচ্ছে বা না হচ্ছে তার কোনোকিছুই সচেতনভাবে জানিনা। আমরা আমাদের দেহের Whole Mechanism না জানা সত্ত্বেও সেটি এ কাজ করছে, আমরা না জানা সত্ত্বেও অজস্র রাসায়নিক বিক্রিয়া কোষের ভেতর ফিউশন ঘটিয়ে কোনো বিস্ফোরণ তৈরি করছেনা। এনজাইম ঠিকই কোষের ভেতর কখন কোন বিক্রিয়া ঘটবে তার গতিকে প্রভাবিত করছে। এসবের সবটাই ঘটছে আপনার মস্তিষ্কে Conscious Input প্রদান করার কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই। কেনো আপনি একজন নারীকে ভালোবাসেন, আপনি কেনো বহুগামীতায় জড়িত হোন , তার সত্যিকার কারণ আপনি জানেন না। না জানা সত্ত্বেও আপনার মধ্যে একটি ম্যাকানিজম কাজ করছে আর সেটি হলো – আপনার কোষের ভেতরের সেলফিশ জিন, আপনি কোনো নারীর প্রেমে পড়ে, তার সৌন্দর্যে অভিভূত হয়ে, হয়তো মহাকবি হয়ে উঠতে পারেন! হয়তো আপনি বলতে পারেন তার ব্রেস্ট অসাধারণ, তার উরু দুর্দান্ত, তার নিতম্ব হৃদপিন্ডে আঘাত করে, তাকে সুইঙ্গামের মতো খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে! কিন্তু এসবের সবটাই আপনার কনশাস ডায়মেনশনের কথা। মূলত, আপনি এডাল্ট্রি অথবা পলিগ্যামি আচরণ করছেন না, আপনি আপনার জিন স্প্রে করছেন , যখন একজন মহিলা একটি হারেমের মধ্যে যোগ দেয় তখন সে মূলত এ কাজটিই করে। কিন্তু এটা আমাদের কনশাস মোটিভেশান নয়।
 
 
 

মানব সভ্যতা একটি একগামী সভ্যতা

 
পলিগ্যামির মধ্যে আমাদের জিনগত উপযোগীতা রয়েছে। আমাদের জিন ব্লাইন্ডওয়্যাচমেকার। সে অন্ধভাবে শুধু তার অনুলিপি তৈরি করে। অনেক এনথ্রোপোলোজিস্ট মনে করেন যে, হারেম নির্মান মানব প্রাণীদের একটি পদবি। কিন্তু হেলেন ফিশার এক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। তিনি বলেন- যদিও পলিগ্যামি জিনের অনুলিপি তৈরি করার সেকেন্ডারি স্ট্র্যাটেজি, শুধুমাত্র ৫-১০ ভাগ পুরুষেরই একসাথে কয়েকজন স্ত্রী থাকে। পলিগ্যামি ব্যাপারটা অনেক বেশি আলোচিত কিন্তু এটি খুব একটা চর্চা করা হয়না, পৃথিবীর সকল সংস্কৃতির মানুষ যুগল সম্পর্ক গড়ে তোলে, একগামীতা মানব সভ্যতা সাধারণ মেটিং প্যাটার্ন।
 
 

হর্ড লিভিং

 
যদিও খুবই পলিয়ান্ড্রি যেটাকে বলে “গ্রুপ ম্যারেজ”, পলিগিয়ান্ড্রি যার গ্রীক অর্থ ” Many Female Males”!
আমরা এখন এ যৌনতার কৌশল সম্পর্কে ফ্রিকোয়েন্সীগত কারণে আলোচনা করছিনা কিন্তু এটি একটি অনন্য ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার প্রকাশ করেছে হিউম্যান বন্ডিং সম্পর্কে। গ্রুপ ম্যারিজে অংশগ্রহণ করেছে এমন মানুষের সংখ্যা জানার জন্য হাতের আঙুল গণনা করুন, আপনার আঙুলের সীমা যত তার মধ্যে নর্থান ইন্ডিয়ার ঐতিহ্যবাহী পাহাড়িরা ছিলো। তাদের স্ত্রী এতটাই মহামূল্যবান ছিলো যে মাঝেমাঝে দুই ভাই কনের দাম পরিশোধ করার জন্য একসাথে পোল গঠন করতো। আর দুজন একসাথে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করে কণেকে তার পিতার কাছ থেকে অনেক কষ্টে ক্রয় করতো। মেয়েটি দু-ভাইকে একসাথে বিয়ে করতো। যখন এক ভাই অনেক সমৃদ্ধ হতো, সে আর একটি কণে ক্রয় করতো। সুস্পষ্টভাবে দুটি নারী দুটি পুরুষের সাথে একসাথেই সহবাস করতো।
 
এ ধরণের গ্রুপ ওয়েডলক সংঘটিত হয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রে যা দশকের পর দশক আবৃত করে রেখেছিলো। এর একটি ক্লাসিক এক্সাম্পল ছিলো ওনিডা কমিউনিটি। এ কলোনিতে যা সংঘটিত হয়েছিলো তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার অংকন করেছিলো যা মানব সভ্যতার লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলমান মেটিং গেমসের একটি গুরুতর সত্য। এই অ্যাভেন্ট গার্ডে কলোনি ১৮৩০ দশকে গঠিত হয়। এটি শুরু হয়েছিলো একজন ধর্মগুরু, নয়েসের নেতৃত্বে। তিনি ছিলেন মারাত্মকভাবে দুর্দান্ত রকমের সেকচুয়াল ক্ষমতার অধিকারী, যিনি ইউটোপিয়া নামক একটি খ্রিশ্চিয়ান কমিউনিটি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। ১৮৪৭ সালে, তার কমিউনিটি গঠিত হয় অনিডা, নিওইয়র্কে। যেখানে এটি ১৮৮১ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিলো। তাদের এই শুভদিনে, ৫০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ছিলো যারা কমিউনাল ল্যান্ডে কাজ করতো এবং ইস্পাতের ফাঁদ তৈরি করতো যেটা তারা বাহিরের বিশ্বে বিক্রি করতো। এদের সবাই একটি বিল্ডিং এ বাস করেছিলো, ম্যানশন হাউজ, যা এখনো দাড়িয়ে আছে। প্রতিটি প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির তার নিজের রুম ছিলো। কিন্তু তারা তাদের সবকিছু শেয়ার করতো, এমনকি যে শিশুটিকে তারা কমিউনে নিয়ে এসেছিলো তাকে, তারা তাদের জামাকাপড় ও সেক্স পার্টনারকেও শেয়ার করতো। নোয়েস নিয়ম করেছিলো যে, কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে রোম্যান্টিক ভালোবাসা একটি সেলফিশনেস। সবাইকে নিষেধ করা হলো যেনো তারা তাদের সঙ্গীর যৌনিতে মেনোপসের পূর্বে বীর্যপাত না করে। কোনো শিশুই জন্মগ্রহণ করবেনা। আর সবাই সবার সাথে সহবাস করবে।
 
১৮৬৮ সালে, নোয়েস প্রজননের উপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেন, পরবর্তী কয়েক বছরে নোয়েস ও তার পুত্র প্রায় ৬২ জন সন্তান জন্ম দিয়েছিলো। কিন্তু কমিউনিটির সদস্যদের সাথে আকস্মিক সংঘর্ষ তৈরি হয়। তরুণরা প্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের সাথে সেক্স করার প্রত্যাশা করতো কিন্তু সেখানে নোয়েস তরুণীদের প্রথমেই দাবি করলো। ১৮৭৯ সালে পুরুষরা প্রতিবাদ শুরু করে এবং নোয়েসকে কয়েকজন তরুণী নারীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। সে পালিয়ে যায়। কয়েকমাসের মধ্যে কমিউনিটি ডিসব্যান্ডেড হয়ে যায়।
 
অনিডা সেকচুয়াল এক্সপেরিমেন্টের সবচেয়ে মজার দিক ছিলো ডিক্টরিয়াল রেগুলেশন আরোপ করে নোয়েস নারী ও পুরুষদের প্রেমে পড়া থেকে দূরে সরাতে পারেনি এবং থামাতে পারেননি গোপন ভালাবাসার সম্পর্ক। দুজন নারী ও পুরুষের মধ্যকার রোম্যান্টিক ভালোবাসার আকর্ষণ তার ডিক্রির চেয়েও ক্ষমতাবান ছিলো। ওয়েস্টার্নদের গ্রুপ ম্যারিজের উপর পরিচালিত কোনো এক্সপেরিমেন্টই এক বছর সময়ের বেশি টিকতে পারেনি।
 
মার্গারেট মিড বলেন, No matter How many communes anybody invent, the family always Creeps back.
মানুষ নামক এ প্রাণীরা সাইকোলজিক্যালি ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরির জন্যই নির্মিত, তারা একজন স্বতন্ত্র সঙ্গীর সাথেই মেটিং করতে পছন্দ করে।
 
 
 

একগামীতা কী প্রাকৃতিক?

 
হ্যাঁ, প্রাকৃতিক। মাঝেমধ্যে একজন ব্যক্তি অজস্র পত্মী গ্রহণ করে অসচেতনভাবে তার পরবর্তী জেনেটিক্যাল লাইন তৈরি করার জন্য। পলিগনি বা একাধিক স্ত্রীও ন্যাচরাল তবে সমস্যা হলো দুজন স্ত্রী ঝগড়া করে। নারীরা হারেমে যোগ দেয়। নারীরা হারেমে যোগ দেয় যেনো জমানো সম্পত্তিগুলো অসুবিধাগুলো ছাড়িয়ে যায়। পলিয়ান্ড্রিও ন্যাচরাল তবে, দুজন স্বামীর মাঝে আপত্তি দেখা যায়। মূলত, সম্পত্তি প্রদানের মাধ্যমে নারী ও পুরুষ দুজনকে ভুলানো যেতে পারে। যেখানে গোরিলা, ঘোড়া এবং অন্যান্য অনেক প্রাণী সবসময় হারেম গঠন করে, সেখানে মানুষের মধ্যে পলিগনি ও পলিয়ান্ড্রি অপশনাল। একগামীতা একটি নিয়ম। মানুষ কখনো বন্ধনকে ভুলতে পারেনা। আমরা এটা প্রাকৃতিকভাবে করি। আমরা ফ্লার্ট করি। আমরা কোর্ট করি। আমরা প্রেমে পড়ি। এবং আমরা অধিকাংশ একজনকেই বিয়ে করি। ভালোবাসার বন্ধন মানব সভ্যতার একটি ট্রেডমার্ক। গভীর বন্ধন সত্ত্বেও, এটা সত্য যে, অনেক মানুষ একসাথে দুটো রিপ্রোডাক্টিভ স্ট্রাটেজি অনুসরণ করে। একগামীতা ও বহুগামীতা। তার দুটো পদ্ধতিতেই জিন ছড়ায়। কেনো আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সেকচুয়ালি আমাদের প্রতিজ্ঞার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করি?
 
 
 

তথ্যসুত্র-

 

পূর্বের লেখাগুলো পাঠ করুন;

 
 
মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?
মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?মানব সভ্যতা কী আসলেই একগামী?

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!