মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট
মূলপাতা বিজ্ঞান মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট

মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
86 বার পঠিত হয়েছে

তিন মিলিয়ন বছর পূর্বে আমরা চির বর্তমানের কারাগারে অবরুদ্ধ ছিলাম…সেদিন আমাদের আগামীকালের উপলব্ধি ছিলোনা। জ্ঞানের বিকাশের পূর্বে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পর্যন্ত আমরা নির্বোধভাবে এ পৃথিবীতে শুধু টিকে থাকার যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম। আর তাই যদি আমরা তিন মিলিয়ন বছর অতীতে ভ্রমণ করে পূর্বের পৃথিবীকে ইন্টারনেট অথবা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স প্রদর্শন করি,  তারা আমাদের দিকে করে তাকিয়ে থাকবে বিস্ময়কর চোখে। মিলিয়ন বছর পর আজকের এ গ্রহে রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার অথবা ইন্টারনেট অত্যন্ত সাধারণ কিছু ঘটনা। আমরা সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেটের সাথে নিজেদের  সম্পৃক্ত করে ফেলেছি। আজ আমাদের ব্রেনের মধ্যে তেমন কোনো ইনফরমেশন জমিয়ে রাখার প্রয়োজন হয়না। গুগলই আমাদের ব্রেন। গুগলের উপর আমরা পুরোপুরিভাবে তথ্যের জন্য নির্ভরশীল। এক লাখ বছর পূর্বেও আমাদের আদিম পূর্বসূরীদের অনেক তথ্য মনে রাখতে হতো, বিপদসংকুল সে পরিবেশে টিকে থাকার জন্য তাদের  মস্তিষ্ককে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ করতে হতো। চারপাশের পরিবেশ, পরিস্থিতি ও আবহাওয়া সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবটা  ছিলো আদি মানবদের জন্য মৃত্যুর সমতূল্য। শিকারী প্রাণীদের থেকে নিজের প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য এবং সম্ভাব্য কোনো প্রাণীকে দক্ষতার সাথে শিকার করে টিকে থাকার গতিকে সমুন্নত রাখার জন্য, তারা হয়ে উঠেছিলো স্পেস-টাইম সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ সচেতন। আজ বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান আমাদের বলে, আদি পুরুষদের থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেসের জ্যামিতি সাব-কনসাসলি অনেক ভালোভাবে অনুধাবন করতে হতো, তারা যদি স্পেসে তাদের অবস্থান ও সময়কে সঠিকভাবে সমন্বিত করতে না পারতো তবে তারা হয়তোবা তাদের জীবন হারানোর ঝুৃঁকিতে থাকতো অথবা হারাতো কোনো সম্ভাব্য শিকার। তাদের মতে, এ জন্যেই পুরুষদের মধ্যে থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেস এবং এর সাথে সম্পৃক্ত জ্যামিতিক ও গাণিতিক স্ট্রাকচার বোঝার একপ্রকার জিনগত প্রবণতা গড়ে উঠে। নারী ও পুরুষের মনস্তত্বে একটি বিশাল পার্থক্য ছিলো, নারীরা সন্তানের ভরণপোষণ, পরিবারের পরিচর্চা ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলোতেই বেশি গুরুত্ব প্রদান করতো এবং পুরুষদেরকে থ্রি-ডায়মেনশনাল স্পেসে তাদের মুভমেন্টের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হতো, কারণ একটু এদিক ওদিক হলেই যেকোন কিছু ঘটে যেতে পারে। এই যে আমরা আজকের সমাজেও নারীদের মধ্যে সেবামূলক কাজের প্রতি এক প্রকার মানসিক প্রবণতা দেখছি, এ প্রবণতার পেছনের বিবর্তনীয় ইতিহাস সম্ভবত এটাই। ফিজিক্স, ক্যামিস্ট্রি বা গণিতের মতো বিষয়গুলোর প্রতি নারীর আগ্রহ কিছুটা কম তারা বরং নার্সিক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেই সময় কাটাতে বেশি পছন্দ করে। একজন নারী সমাজের সাথে যত সুন্দরভাবে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে সেটা অনেক ক্ষেত্রেই পুরুষের পক্ষে বজায় রাখাটা সম্ভবপর হয়ে উঠেনা। বয়সের সাথেসাথে অনেক পুরুষ ডাইসেলসিয়া নামক একটি রোগে আক্রান্ত হয় যার কারণে সে ভালো ভাবে সমাজের সাথে কমিউনিকেশনও রক্ষা করতে পারে না।

পুরুষের মস্তিষ্কের দুটি হেমিস্ফিয়ারের সংযোগের জন্য সামনে ও পেছনে তারগুলো চলাচল করে। নারীদের মস্তিষ্কের নিউরাল পথগুলো বাম থেকে ডানদিকে Cris Cross সম্পর্ক রাখে। National Academy of Science এর গবেষকরা বলেন, এ থেকেই আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি কেনো পুরুষরা নির্দিষ্ট কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে এত বেশি দক্ষতা অর্জন করে, যেমন- সাইকেল বা জাহাজ চালানো আর অন্যদিকে নারীরা কোনো সিঙ্গেল কাজ নয়, তারা মাল্টিপল টাস্কে অংশগ্রহণ করে। আমরা প্রায়শ দেখি একজন পুরুষের তুলনায় নারীরা খুব অল্প বয়সেই ম্যাচিউর হয়ে উঠে। একজন পুরুষ যখন রাস্তায় খেলাধুলা, গানবাজনা বা শিশ দিতে দিতে ঘুরে বেড়ায় তখনও একজন নারী তার পরিবারের সদস্যদের দেখাশুনা করে। কারণ পুরুষদের কোনো গর্ভাশয় নেই, তারা স্বাধীন, সন্তান লালন পালন ও তার যত্নের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন মানসিক শ্রম দেয়ার প্রয়োজন পুরুষের নেই, তাদের কাজ ছিলো শিকার সংগ্রহ আর যৌনসঙ্গী সন্ধান করা। এ জন্য পুরুষরা যখন হিংস্রতা আর আগ্রাসী আচরণ দিয়ে পরিবারের প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতো,  তখন নারীদেরকে পরিবার ও সন্তানের দেখাশুনা করতে হতো। এ জন্যই নারীদেরকে খুব অল্পবয়সে শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরুষের চেয়ে শান্ত, স্থির ও স্থিতিশীল থাকার অভ্যাস গঠন করতে হতো। আর যারা এ ধরণের মানসিকতার সাথে নিজেকে সমন্বয় করতে পেরেছিলো তাদের উত্তরসূরীরাই পরবর্তী প্রজন্মে টিকে ছিলো, এভাবেই জিনগতভাবে নারী ও পুরুষ ভিন্ন ভিন্ন ব্রেন সার্কিট অর্জন করে। পুরুষরা যখন একটি নির্দিষ্ট শিকারী প্রাণীর দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে , তখন নারীরা সংসারের শত শত কাজ লাগাতারে করতেই থাকে, এরা খেতে খেতেও কাজ করে, কথা বলতে বলতেও অনেক সময় কাজ করে।  নারীর মস্তিষ্কে মাল্টিপল টাস্কে অংশগ্রহণ করার এ এক বিরাট মানসিক ক্ষমতা। BBC’ তে Men and Woman’s Brain are Wired Differently নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয় ২০১৩ সালে। সেখানে একটি গবেষণার ফল প্রকাশ করে বলা হয়, Woman Scored well on attention, word, and face Memory and Social Cognition while Man performed Better on Spatial Processing and Sensory Speed! তারমানে দেখা যাচ্ছে,  নারী ও পুরুষ দুজনই তাদের অবস্থান থেকে অনন্য। তাদের মস্তিষ্কের আকার মাত্র দশ শতাংশ পার্থক্য . তবে এ পার্থক্য তাদের বুদ্ধিমত্তার তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করেনা বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট

photo credit: Bruno Campello de Souza, Ph.D Cognitive Psychology & Developmental Psychology, Federal University of Pernambuco (2004)

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্সের বিশেষজ্ঞ প্রফেসর হেইডি জোহানসেন বার্গ বলেন, ব্রেন এতটাই জটিল যে একে সাধারণীকরণ করা খুবই কঠিন। তিনি বলেন, আমরা জানি যে আমরা যখন মস্তিষ্কের কথা বলি তখন মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশনের ভেতরকার হার্ডওয়্যারিং এর ব্যাপারটা খুবই নমনীয়, কারণ ব্রেনের নিউরাল কানেকশন নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই প্রতিনিয়ত চেঞ্জ হচ্ছে, আমরা যখনই নতুন কিছু শিখছি , নতুন কোনো অভিজ্ঞতা অর্জন করছি তখনই আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন আপডেট হচ্ছে, আমাদের ব্রেনের সেলগুলো যদিও সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তন হয়না ( ১০ বিলিয়ন নিউরন সেলের জন্য নিউরাল কানেকশন প্রায় ১০ বিলিয়ন মিলিয়ন) কিন্ত নিউরাল কানেকশন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে অভিযোজন করার জন্য Rewire হয়। আমাদের ব্রেন এতটাই ফ্লেক্সিবল যে সে নতুন নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে সমন্বয় করে নিতে পারে। মিচিও কাকু তার ফিউচার অব দ্যা মাইন্ড গ্রন্থে বলেন, আপনি যদি নিয়মিত ম্যাথ সমাধান করেন তাবে আপনার মস্তিষ্কের পেরিটিয়াল লোব ( যেটি নাম্বার প্রসেসিং এর সাথে জড়িত) এবং ফ্রন্টাল লোব (যা সাংখ্যিক জ্ঞান স্মরণ করার সাথে জড়িত) উন্নত হবে। এটাকে বলা হয় নিউরোপ্লাস্টিসিটি। যদি এমন হতো যে নারীরা বিবর্তনীয়ভাবে ফিজিক্সের প্রতি মানসিকভাবে আগ্রহী নই, আর সেজন্য তাদের পক্ষে কখনো ফিজিসিস্ট হওয়া সম্ভব নয় তবে আমরা ভেরা রুবিনকে পেতাম না যে নারী দেখিয়েছেন গ্যালাক্সির ৯০ ভাগ শক্তি মিসিং অথবা আমরা লিসা র‍্যান্ডেলকে পেতাম না যে ইন্টারস্টেলার নারী গাণিতিকভাবে দেখিয়েছেন গ্রেভেটি কেনো অন্যান্য ফোর্সগুলো থেকে অনেক দূর্বল, তিনি M-ব্রেন তত্ব দিয়ে ফান্ডামেন্টাল চারটি বলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বলকে হায়ার ডায়মেনশনের মাধ্যমে সমন্বয় করেছেন! বিবর্তনীয়ভাবে ব্রেনে সামান্য তারতম্য থাকলেও নিউরোপ্লাস্টিসিটির কারণে নারী ও পুরুষ যে কেউই এ মহাবিশ্বের ফিজিক্স ও ম্যাথ খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে! আপনারা নিশ্চয় তনিমা তাসনিমের নাম শুনেছেন, প্রথম বাংলাদেশী নারী যিনি ব্লাকহোলের প্রায় সম্পূর্ণ চিত্র অংকন করেছেন? অথবা মহমুদা সুলতানা যিনি নাসার Goddard Space Flight এর নেতৃত্বশীল দলে কাজ করছেন? যদিও ইসরায়েলের একটি গবেষণায় পরীক্ষামূলকভাবেই প্রমাণিত হয়েছে, নারীরা সেবামূলক কাজের প্রতি বেশিই আগ্রহী কিন্তু আমরা নিউরোপ্লাস্টিসিটিকে সম্পূর্ণভাবে উড়িতে দিতে পারিনা।      ইন্টারনেট আমাদের মস্তিষ্কের বিবর্তনে কোনো প্রভাব বিস্তার করে কিনা অথবা নিউরাল স্ট্রাকচারে; এ প্রশ্নটির সাথে নিউরোপ্লাস্টিসিটির ব্যাপারটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবে জড়িত! একটা জিনিস খেয়াল করুন, আমরা আজ আবহাওয়ার সংবাদ জানার জন্যে পরিবেশকে পর্যবেক্ষণ করিনা, আমাদের চারপাশে কোনো অশুভ শক্তি আছে কিনা তা জানার জন্য রাতের অন্ধকারে অস্ত্র সস্ত্র দিয়ে বাহিরের কোথাও কুচকাওয়াজ করিনা, আমাদের সিসি ক্যামেরাই আমাদের বলে দেয় আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা। আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রীয়ের কাজগুলি আজ প্রযুক্তি নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। একটা সময় আসবে যখন আমাদের করার জন্য তেমন কোনো কাজ খুঁজে পাওয়া যাবেনা, সব আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, রোবট ও এলগোরিদমের কাছে চলে যাবে। আমরা দিন দিন আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরের ব্যাবহারকে সীমাবদ্ধ করছি। আর গবেষণায় দেখা গেছে, ঠিক এ জন্য আমাদের ব্রেনের আকারও ছোট হয়ে আসছে। ইউভাল  হারারি তার সেপিয়েন্স গ্রন্থে বলেছিলেন, প্রাচীন শিকারী সংগ্রাহকরা তাদের ব্রেনকে খুব দৃঢ়ভাবে ব্যবহার করতো, আর এ জন্য ইতিহাসে তারাই ছিলো সবচেয়ে জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। যদিও তাদের কাছে আমাদের মতো এত বিপুল ডেটা ছিলোনা কিন্তু তারা প্রখর বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রাণী ছিলো। যদি ক্রমাগতভাবে ইন্টারনেটই আমাদের ব্রেন মেমরিতে পরিণত হয়, যদি গুগলের এলগোরিদমই আমাদের মস্তিষ্কের কাজ করে দিতে থাকে,তবে একটা সময় আমাদের ব্রেনে আর কোন তথ্যই আমরা জমা রাখতে চাইবোনা, শুধুমাত্র কিছু লিংক, পাসওয়ার্ড ও অতি ব্যক্তিগত তথ্য ছাড়া। যদি আজ থেকে ৭০ হাজার বছর পূর্বে মস্তিষ্ককে ব্যবহার করার ফলে এর নিউরাল কানেকশন জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠে এবং সে সকল পূর্বসূরিদের জিন থেকেই আমাদের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীর বিকাশ হয় তবে আমাদের মস্তিষ্কের ব্যবহার কমে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে কী আমাদের প্রজন্ম কোনোভাবেই প্রভাবিত হবেনা? অনেকেই মনে করেন, ব্যবহারের উপর কোনো অর্গান বিবর্তিত হয়না, বিবর্তিত হয় পরিবেশের পরিবর্তন ও সে পরিবেশের সাথে লাখ লাখ বছরের জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফলে। যেমন- লামার্ক বলেছিলেন, জিরাফের গলা লম্বা কারণ তারা উঁচু গাছের পাতা খাওয়ার জন্য কোটি কোটি বছর তাদের গলাকে মহাকাশের দিকে বাড়িয়েছিলো কিন্তু ডারইউন বলেন, আসলে ব্যাপারটা ঠিক এমন নয়, বিবর্তনের পেছনে ইচ্ছা বা চেষ্টার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, পরিবেশ পরিবর্তনের ফলে, গাছের পাতাগুলো ঝরে গিয়েছিলো, আর যে সকল জিরাফ অপেক্ষাকৃত উঁচু গাছের পাতা খেতে পারতো তারাই পরবর্তী প্রজন্মে টিকে ছিলো, দলের মধ্যে সব জিরাফেরই যে গলা খাটো ছিলো তা নয়, কিছুকিছু জিরাফের গলা সামান্য লম্বা ছিলো, আর এরাই প্রজননের মাধ্যমে বড় গলার জিরাফকে ভবিষ্যতে ছড়িয়ে দেয়। তারমানে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করি বা না করি এতে ব্রেনের কিছুই এসে যায়না! গার্ডিয়ানে The Internet: is it Changing the way we think একটি আর্টিকেলে নোয়ামি এল্ডারম্যান নামক একজন উপন্যাসিকের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়, তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, ইন্টারনেট ব্রেনে এফেক্ট করে কি না? তিনি উত্তর দেন, যদি আমি একটা গরু হতাম তবে আমার মস্তিষ্ক পরিবর্তনের মতো কিছু ঘটতোনা। আমি শুধু ঘাস খাওয়ার জন্য নতুন নতুন লোকেশনের ব্যাপারে শিখতাম, আমি কোনো রচনা পড়তে পারতাম না আর আমার জীবনকে পরিবর্তন করার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতেও পারতাম না। কিন্তু যেহেতু আমি গরু নই, আমি একজন মানুষ, আর এ জন্য আমি যখন কোনোকিছুর সংস্পর্শে আসি সেটি আমার ব্রেনকেও বদলে দেয়। মূলত, জিরাফের গলার বিবর্তন আর মস্তিষ্কের বিবর্তন আমার কাছে সম্পূর্ণ একরকম নয়। প্রথমত, জিরাফের গলার পক্ষে চিন্তা করা সম্ভব হয়না, আর চিন্তার ফলে তার গলার সেলগুলোর মধ্যে যে স্নায়ুসংযোগ সেটাও বদলে যায়না কিন্ত অন্যদিকে মানুষ যখন কোনোকিছু শেখে তখন তার মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন আপডেট হয়। যদি লাখ লাখ বছর মানুষের ব্রেন ইনফরমেশনের জন্য গুগলের উপর ডিপেন্ড করে অথবা মিলিয়ন মিলিয়ন বছর, তবে ক্রমাগত নিউরাল কানেকশন বিবর্তিত হয়ে ভিন্ন রকম হয়ে যাওয়ার কী কোনো সম্ভাবনা নেই? জিরাফ গলা লম্বার করার চেষ্টা করলেই তো আর গলা লম্বা হবেনা, যদিনা পরিবেশ পরিবর্তন  হয়। আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত। কিন্তু আমাদের ব্রেন কী জিরাফের মতো কোনোকিছু বড় বা ছোট করার চেষ্টা করছে? নাকি ইন্টারনেট আসার পর থেকে তার মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম একটা পরিবেশে পড়ে গেছে? আপনি যদি এক মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যেই বিশ্বের যেকোনো সংবাদ মুহূর্তেই পেয়ে যান তবে আপনার ব্রেনের কী এখানে কোনোকিছু করার থাকে? এমন নয় যে আমরা জোর করে কোনো তথ্য মনে রাখতে চাইছিনা! বা আমরা ইনফরমেশন ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছি ঠিক যেমন লামার্কের জিরাফ গলা লম্বা করার চেষ্টা করেছিলো! এখানে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন, মিলিয়ন মিলিয়ন বছর আমরা ইনফরমেশন সংগ্রহ করার জন্য ব্রেনকে অনেক বেশি পরিশ্রম করিয়েছি আর আকষ্মিক আমাদের মস্তিষ্কের পরিশ্রম ব্যাপকভাবে কমে গেছে, অন্তত আমাদেরকে অনর্থক ডেটার  জন্য  প্রচুর সময় ও শক্তি খরচ করতে হচ্ছেনা, আমাদের শক্তি সাশ্রয় হচ্ছে। এ শক্তিটা আমাদের শরীরের দিকে যাচ্ছে, ব্রেনে নয়, যা হয়তো আমাদের স্থুলতার জন্য দায়ী। স্টিফেন হকিং বলেছেন, একুশ শতকে অধিকাংশ মানুষ স্থুলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে, যুদ্ধ বা রোগাক্রান্ত হয়ে নয়।এবার স্মরণ করুন। আজ থেকে ৭০ হাজার বছর পূর্বে রান্না করা খাবার খাওয়ার কারণে, আমাদের অন্ত্রের উপর চাপ কমে গিয়েছিলো। আগে আমাদের খাবার পরিপাক করতে যেখানে ৪-৫ ঘন্টা সময় প্রয়োজন হতো সেখানে রান্না করা নরম খাবার আমাদের অন্ত্রের শক্তি শাস্রয় করে, অবশিষ্ট শক্তি মস্তিষ্ককে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলো, যার ফলে আমাদের নিউরাল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হয়ে উঠে, আর আমরা উন্নত বুদ্ধির পথে যাত্রা শুরু করি। আজ ইন্টারনেট আমার ব্রেনকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। আমরা এখন খুব অল্প সময় ও শক্তি অপচয় করেই যে কোনো তথ্য পেয়ে যাচ্ছি, তারমানে অবশিষ্ট শক্তি আবার আমাদের ব্রেন থেকে দেহে ফিরে যাচ্ছে। আমি বলছিনা, যে ইন্টারনেট নিশ্চিত ভাবে আমাদের ব্রেনের বিবর্তনে ঠিক এ ভাবেই প্রভাব বিস্তার করবে। এর কারণ দুটি- প্রথমত, আমি খুব সহযে তথ্য পেয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে আমার ব্রেন অন্য কোনোকিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেনা, দ্বিতীয়ত- ইন্টারনেট যদিও আমাদের ব্রেনের ব্যবহারকে কমিয়ে দেবে কিন্তু আমাদের ব্রেনের নিউরোপ্লাস্টিসিটি এ পরিবেশের সাথে নিজেকে খুব সুন্দরভাবে মানিয়ে নেবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো এখানেই যে, যদি এ মানিয়ে নেয়ার প্রবণতাটা এক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর কাজ করে তবে এটি কী মানব মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলবেনা? আমরা কী একটা সময় নির্বোধ নরবানরে পরিণত হয়ে যাবো না? যে নর বানরদের পরিচালক কিছু রোবট, এলগোরিদম ও সুপার কম্পিউটার? আর আর ঠিক এ সময় যদি কোনো কারণে আমাদের সুপার কম্পিউটার ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ডিজেবল হয়ে যায়? যদি কোন এক মহাজাগতিক দুর্ঘটনায় সব প্রযুক্তি ধবংস হয়ে যায়, তবে বুদ্ধিভিত্তিকভাবে প্রতিবন্ধী এ মানব সভ্যতা কী সেদিন এ গ্রহে প্রবল প্রতাপে টিকে থাকতে পারবে? আগুনের আবিষ্কারের পর যে মানব সভ্যতা খাদ্য শৃংখলের চুড়ান্তে এসেছিলো, ৪৫ হাজার বছর পূর্বে অস্টেলিয়া পা রাখার পর যারা বাস্তুতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলো, আত্মপ্রকাশ করেছিলো এক নৃশংস প্রাণী রুপে, এমনকি যারা নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদেরও টিকে থাকতে দেয়নি, ইন্টারনেট ও অধুনিক প্রযুক্তিগুলো কী তাকে আবার পূনরায় মস্তিষ্কের দিক থেকে শেয়াল বা কুকুরের পর্যায়ে নিয়ে যাবে?? হ্যাঁ-  এটা ঠিক যে বিবর্তন সরল রেখায় পথ চলেনা, এর পথ অনেক জটিল ও নাটকীয় আর তাই আমরা এখন যা বলবো সবটাই বিশুদ্ধ অনুমান নির্ভর। যাক, বিজ্ঞানী নিকোলিসের মতো অনেকেই BMI প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। যারা সরাসরি আমাদের ব্রেনকেই ইন্টারনেটের সাথে কানেক্ট করে দেয়ার চিন্তা করছেন। যদি এমনটি হয় তবে আক্ষরিক অর্থেই গুগলই হবে আমাদের একমাত্র মস্তিষ্ক, আমরা মনে মনে যা চিন্তা করবো, তাই আমাদের চেতনায় এসে উপস্থিত হবে। আধুনিক বিজ্ঞান মিলিয়ন মিলিয়ন বছর অপেক্ষা করবেনা মানব সভ্যতার দুর্ভোগ দেখার জন্য ,  তার পূর্বেই হয়তো মানুষের শরীরকে তার রোবটে পরিণত করবে অথবা কানেক্টম প্রজেক্ট মস্তিষ্ককে স্থাপন করবে কম্পিউটারে!  আমার এ আর্টিকেলটির উদ্দেশ্য কোনো সুপ্রষ্ঠিত তত্বের ভিত্তিতে নয়, বিনয়ের সাথে বললে, এটি সত্য অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এক চিন্তা প্রক্রিয়া। আটলান্টিকে নিকোলাস কের একবার খুবই প্রভাবশালী আর্টিকেল প্রকাশ করেছিলেন, Is Google Making us Stupid? আসলে তিনি এখানে গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের বিপক্ষে কিছু বলেননি। তিনি শুধু এটাই বলেছেন, ক্রমাগত ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেটের সাথে সম্পৃক্ত থাকাটা আমাদের কগনিটিভ প্রসেসের উপর প্রভাব বিস্তার করে। তার মতে, টেকনোলজি শুধুমাত্র আমাদের চিন্তার প্রণালিই পরিবর্তন করেনা এটি আমাদের ব্রেন স্ট্রাকচারও পরিবর্তন করে। ক্যারের এ আর্টিকেল অনেক তর্ক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলো। তিনি তার ধারণাটিকে পরে তার লেখা The Shallows: What the Internet is DOING is doing to our Brain নামক বইটিতে বর্ণনা করেছেন। শুধুমাত্র গুগলই কেনো? প্রিন্টিং, ফটোগ্রাফি অথবা টেলিভিশনও সে হিসেবে আমাদের মস্তিষ্কে একই কাজ করছে। সক্রেটিস এবং প্লেটো এক সময় ভয় পেতেন যে লিখার যন্ত্র আবিষ্কার হলে মানুষের স্মৃতিশক্তি কমে যাবে। কিন্তু আমরা লিখার যন্ত্র আবিষ্কার করেছি ঠিকই অথচ আমাদের মেমরির উপর কী আদৌ এর কোনো প্রভাব পড়েছে? এর মানে এই নয় যে আমরা এ ধারণাটিকে পুরোপুরিভাবে ছুড়ে ফেলে দেবো; গার্ডিয়ানে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে Jhon Naughton এ কথা বলেন। ক্যার নিজেও আসলে আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম একটি গবেষণার শাখা নিউরোপ্লাস্টিসিটির উপর নির্ভর করে তার ধারণাটি প্রকাশ করেছিলেন। তাই এখন আমাদের ভেবে দেখার সময় এসেছে আসলে আমরা এ ব্যাপারটিকে কিভাবে মূল্যায়ন করবো।   সকল নিউরোসায়েন্টিস্ট যে ক্যারের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন তা কিন্তু ঠিক নয়। কিছুকিছু মনোবিজ্ঞানী এ ব্যাপারে সন্দিহান। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিভেন পিঙ্কার নিউইয়র্ক টাইমে প্রকাশিত Mind over Mass media নামক একটি আর্টিকেলে এ ধারণার বিপক্ষে উন্মোক্তভাবে প্রতিবাদ করেন। Pew Research Center’s Internet and American life Project একবার ৩৭০ জন ইন্টারনেট এক্সপার্টকে এ ইস্যুতে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার জন্য বলেন। যাদের মধ্যে ৮১% People’s Use of Internet has Enhanced human intelligence এ প্রস্তাবটিতে ভোট দিয়েছেন।


ইন্টারনেট কী আমাদের ব্রেনকে হত্যা করে?

আমরা এবার ব্যাপারটিকে আরো গভীরভাবে অনুসন্ধান করে দেখি। আসলেই কী ইন্টারনেট আমাদের মস্তিষ্ককে সীমাবদ্ধ করছে কি না। আমি প্রথমে বলেছিলাম, ইন্টারনেট আমাদের ব্রেনকে মুহূর্তেই যেকোনো ইনফরমেশন এনে দিতে পারে। যার ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ব্যবহার লাখ লাখ বছর পূর্বের শিকারি সংগ্রাহকদের থেকে অনেক সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, এ কথাটি আমরা কেউই অস্বীকার করতে পারবোনা যে আমরা আবহাওয়ার সংবাদ জানার জন্য এখন আকাশ দেখিনা! কিন্তু মস্তিষ্কের ব্যবহার সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়া আর মস্তিষ্কের স্ট্রাকচার, চিন্তা ও মেমোরি সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়া এ দুটি ব্যাপার সম্পূর্ণ আলাদা। মস্তিষ্কের ব্যবহার সীমাবদ্ধ হওয়ার ফলে হয়তোবা কোটি কোটি বছর পর এমন কোনো নেগেটিভ প্রভাব আমাদের উপর কাজ করতে পারে, আবার সেই পরিবর্তন নেগেটিভ না হয়ে হয়তো আমাদের জন্য আরো অনেক বেশি পজেটিভও হতে পারে কিন্তু কোটি কোটি বছর পরের সম্ভাব্য কোনো ফলাফল দ্বারা আমাদের বর্তমান মস্তিষ্ক একেবারেই প্রভাবিত হবেনা, আমাদের ব্রেনের কার্যপ্রণালী স্বাভাবিক অবস্থাতেই চলমান থাকবে, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আমরা এর মধ্যে তারতম্য দেখতে পাবো। আর সে তারতম্য নিয়ে Is The internet Killing our Brain শিরোনামে ৮ ই অক্টোবর ২০১৬ সালে আরো একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়, গার্ডিয়ানে। সেখানে ইন্টারনেট ব্রেনকে হত্যা করে কিনা এ প্রসঙ্গে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছিলেন, Dean Burnett। আমি এখনে সেগুলোকে সম্প্রসারিত ভার্সনে উপস্থাপন করছি-


১. ইনফরমেশন ওভারলোড

ইন্টারনেটের উপর আমরা সর্বপ্রথম যে দোষটি আরোপ করি,  সেটি হলো অতিরিক্ত তথ্য। ইন্টারনেট আমাদের মস্তিষ্কের উপর ওভার ইনফরমেশন ঢেলে দেয়। কিন্তু এ কথা কী আসলেই ঠিক? আমাদের ব্রেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে কোনো না কোন তথ্য নিয়ে কাজ করছে। প্রতি মুহূর্তেই আমরা কিছু না কিছু পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষুদ্র স্ক্রিনে ভিডিও গেমস দেখার ক্যাপাসিটি না থাকলে খেলার মাঠে বাস্তব খেলা দেখছি। ইন্টারনেটে থাকলে আমাদের মস্তিষ্কের ভিজুয়াল সিষ্টেম যতটা কাজ করতো বাস্তবেও কিন্তু ঠিক একই পরিমাণই কাজ করছে! আরো একটি মজার ব্যাপার হলো, যদিও আমরা সারাদিন অনেক কিছুই পর্যবেক্ষণ করি, আমাদের ব্রেন সকল ইনফরমেশন মনে রাখেনা, সে ক্ষমতা আমাদের মস্তিষ্কের নেই। হাজার হাজার মানুষের ভীড়ে যখন আমি আমার প্রেমিকা অথবা সন্তানকে নিয়ে হাঁটি তখন আমার ব্রেন শুধু আমার সন্তানকেই দেখেনা, আরো শত শত মানুষের ইনফরমেশন আমার ব্রেনে প্রবেশ করে। কিন্তু তার মানে, এই নয় যে, আমি আমার ব্রেনে ইনরফরমেশন ওভারলোড হয়ে  ভীড়ের মধ্যে আমার সন্তানের হাত ছেড়ে দিয়েছি। কারণ বিবর্তন আসলে আমাদের ব্রেনকে পূর্ব থেকেই এভাবে প্রোগ্রাম করেছে, আমাদের ব্রেন এ জন্য তথ্যগুলোকে ফিল্টার করে এবং যেটা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেটাকেই বাছাই করে। আমি বলতে চাইছি, আমাদের ব্রেন ইনফরমেশন ওভারলোড থেকে নিজেকে সুরক্ষা করার জন্য পূর্ব থেকেই অভিযোজিত। গুগলে হাজার হাজার ওয়েবসাইট আছে, আমার কাছে শত শত নোটিফিকেশন আসছে কিন্তু আমি সব ওয়েবসাইট ও নোটিফিকেশনকে গুরুত্ব দিচ্ছিনা। আমি যখন ইন্টারনেটের হাজার কোটি তথ্যের ভীড়ে পথ চলি তখনও আমার ব্রেন আমার জন্য যে তথ্যটি প্রয়োজনীয়  তার হাত ধরেই পথ চলে। আপনি যখন এক হাজার জন মানুষকে নিয়ে একটা গ্রুপ পিকচার তোলেন যখন আপনার চোখ সর্বপ্রথম আপনার দিকেই পড়ে, তাই নয় কী? নিশ্চয় আপনি ইনফরমেশন ওভার লোডের শিকার হননা? Sott,sign of the time নামক একটি ম্যাগাজিনে The Variability of perception : The brain Doesn’t Capture Everything নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়, সেখানে বলা হয়, আপনি যখন একজন ব্যক্তিকে ছাতা নিয়ে পথ চলতে দেখেন তখন আপনি এটা দেখেন না যে একজন মানুষ ও একটি ছাতা, আপনি যেটা দেখেন সেটি হলো,  একজন ব্যক্তি ছাতা বহন করছে। আমাদের দৃশ্যের সংবেদন সবসময় “বিগ পিকচারই” দেখে। আবার একটি গ্রুপ পিকচারে আপনি কখনো সকলের মাঝে আপনাকে একা  দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেননা, আপনি যেটা দেখেন তা হলো আপনার সাথে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে। এমআইটির Nancy Kanwisher বলেন, A ton of work support that this perception that our Visual experience is So rich and Vivid is just totally Wrong. But even if we can see a handful of items, we definitely have an understanding of the world around us, A sense of what kind of Scene we are in.


২) গুগল কী আমাদের ব্রেন মেমরি নষ্ট করে?

আর একটি উদ্বেগ হলো, অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্যের যে অবিচ্ছিন্ন অধিকার সেটি আমাদের মেমরিকে ব্যাহত করে। যেহেতু গুগলের কাছেই তথ্য থাকে আমরা কেনো কোনোকিছু মনে রাখবো? আসলে মেমরি এভাবে কাজ করেনা। আমরা যা কিছুর অভিজ্ঞতা অর্জন করি তা আমাদের মেমরিতে সংরক্ষিত হয় অবচেতনভাবে। যে বিষয়টি আমাদের ইমোশনের সাথে রিজোন্যাট করে আমরা সেটিই মনে রাখি। অতীত জীবনে আমরা বিলিয়ন বিলিয়ন ঘটনা দেখেছি কিন্তু যা আমাকে ইমোশনালি চার্জ করেনি তা আমি জোর করে মুখস্ত করার চেষ্টা করেছি হয়তো কিন্তু মনে করতে পারিনি। তার মানে আমি কী মনে রাখবো বা রাখবোনা ব্যাপারটা অবচেতনভাবেই আমার আবেগ নির্ভর আর এ জন্যেই এবস্ট্রাক্ট ও অদৃশ্য কোনোকিছু আমাদের মনে থাকেনা, আর এ জন্য গণিত ও জ্যামিতির মতো ব্যাপারগুলো আমরা অনুশীলন করি মনে রাখার জন্য। তার মানে গুগল আমার স্মরণ শক্তির উপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা। আমি গুগলের কাছে অনায়াসে কোটি কোটি তথ্য যদি পেয়েও যাই তবুও আমার ব্রেন সব তথ্য মনে রাখার বদৌলে তার ইমোশনের সাথে জড়িত তথ্যটি বরং বেশি মনে রাখবে( মিচিও কাকু বলেন, বিপুল পরিমাণ তথ্য মনে রাখতে ব্যাপক এনার্জি প্রয়োজন, যদি ব্রেন একসাথে অজস্র তথ্য মনে রাখতে চায় তবে মস্তিষ্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠবে ও তার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যাবে আর যদি তাই হতো আমাদের শরীর কোনো এনার্জিই পেতোনা, সব এনার্জি ব্রেন খেয়ে ফেলতো আর আমরা সাথে সাথেই মারা যেতাম ) । কিন্তু গুগল মাঝেমধ্যে অনেক অপ্রয়োজনীয় তথ্যও আমাদের দেয়, যেটা আমাকে বিরক্ত করে, আমি কষ্ট পাই, তবুও বারবার চোখের সামনে এসে উপস্থিত হয়, ইন্টারনেটের এসব্য বিরক্তিকর এপস আমার ব্রেনে কোনো ডেমেজ তৈরি করে কিনা সেটাই আমাদের গবেষণার বিষয় হওয়া উচিত।   কোনোকিছু করা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই ভালো একটি ব্যাপার। উদাহরণস্বরূপ, একজন এক্সপার্ট মিউজিশিয়ানের মোটর কর্টেক্স নন-মিউজিশিয়ান থেকে অনেক বেশি নিখুঁত। বিজ্ঞানীরা একজন শিক্ষিত মানুষের ব্রেন স্ট্রাকচারের সাথে অশিক্ষিত মানুষের ব্রেন স্ট্রাকচারের পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন। আর এভাবে আমরা একটা যুক্তি তৈরি করতে পারি যে, নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কোনোকিছু করা, প্রয়োজনের সময় একটা কিছু করার চেয়ে মস্তিষ্কের মেমরিকে অনেক বেশি উন্নত করে। এ ব্যাপারে PubMed জার্নালে Memory System of the brain; a Brief History and Current Perspective নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়।


৩) ইন্টারনেট কী আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয়?

ইন্টারনেট কী আমাদের মনোযোগ কেড়ে নেয়? অনেক বেশি ইনফরমেশন কী উন্মাদনা সৃষ্টি করে? আমাদের মনোযোগের দুটি লেয়ার আছে। একটি সচেতন আর অন্যটি অবচেতন। সচেতন মনোযোগ হলো যা আমাদের মনোযোগকে কোনো নির্দিষ্ট দিকে তাড়িত করে আর অবচেতন মনোযোগ হলো যা গুরুত্বপূর্ণ কোনো দিকে আপনার মনোযোগকে শিপ্ট করে। কোনোকিছুর দিকে ১০০% মনোযোগ দেয়া আমাদের পক্ষে আসলে সম্ভব না কেনোনা নিন্মচাপ তৈরি হলে আপনি তখন আসলে ফেসবুকে কাউকে লাভ রিয়েক্ট সেন্ড করতে পারেন না। আমাদের ব্রেন ক্ষুদা, তৃষ্ণা, রাগ, অভিমান বিভিন্ন আনকনসাস ফ্যাক্টর দ্বারা চালিত, তাই ইন্টারনেট আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে দেয় এটা পুরোপুরি ঠিক না। কিন্তু এটা সত্যি যে, ইন্টারনেট আমাদের ব্রেনকে একটি নির্দিষ্ট দিকে ধরে রাখে বাস্তবজীবনে যেখানে আমরা খুব অল্প সময় খরচ করি। এটা উদ্বেগজনক যে এপস ও কোম্পানি আমাদেরকে এ ধরণের তুচ্ছ বিষয়ে সময় ব্যয় করার জন্য মেন্টালি টর্চার করছে। আপনি একটা এপস ডাউনলোড করলে সেখানে অনেকপ্রকার এড শো করবে, ওয়েবসাইটে গেলে আপনার সামনে বিভিন্ন কোম্পানির অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন ভেসে উঠবে। কিন্তু তাই বলে আমাদের এটা বলা ঠিক হবেনা যে ইন্টারনেটই আমাদেরকে কাজকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। মূলত, আমাদের মস্তিষ্কের Preference for Novel Experience ইন্টারনেট আবিষ্কার হওয়ার পূর্বেই অস্তিত্বশীল, লাখ লাখ বছর পূর্বেই এটি বিবর্তিত হয়েছে। একটি গাছও খারাপ রাসায়নিক পদার্থের দিকে তার শিকড় বিস্তার করেনা, তার মধ্যেও জিনগতভাবে ভালো দিক নির্বাচন করার প্রবণতা কাজ করে। ইন্টারনেট হয়তো আমাদেরকে এ বিষয়গুলো থেকে উদাসীন করে তোলে।


৪) লাইক, শেয়ার ও লাভ রিয়েক্টের জন্য যুদ্ধঃ

আমরা একা থাকতে পারিনা। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুসারে, একাকীত্ব একটি ব্যাথা, আগুনের ব্যাথা যেমন আমাদেরকে আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে দূরে রাখে ঠিক তেমনি একাকীত্বের ব্যাথা আমাদের পূর্বসূরীদের কাছাকাছি রাখার মাধ্যমে হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে এক সময় রক্ষা করতো। কোন কারণে তারা যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তো তখন হয়তো ভয়ানক কোনো হিংস্র প্রাণীর শিকারে পরিণত হতে হয়েছিলো তাদের। এর থেকে আমরা অনুমান করতে পারি, একটা সময় ছিলো যখন আদি পূর্বসূরীরা একাকীত্বকে খুব একটা ভয় পেতোনা অথবা তারা দলবদ্ধ ভাবে জীবন যাপনের দক্ষতা পুরোপুরিভাবে করেনি। যার ফলে লাখ লাখ প্রাইমেট প্রাণ হারিয়েছিলো বিপদসংকুল পরিবেশে, হিংস্র প্রাণীর থাবায়। তাই আজও আমরা একাকীত্বকে মৃত্যুর মতো ভয় পাই। সেন্সরি ডেপ্রিভেসন ট্রাংকে অথবা কোনো অন্ধকার সুড়ঙ্গে কাউকে কয়েকদিন রাখা হলে তাদের মৃত্যু হয় আবার অনেকে হিংস্র জীবজন্তু দেখে।    এর থেকে প্রমাণিত হয় একাকীত্বের সাথে হিংস্র জন্তুর নিশ্চয় একটা সম্পর্ক আছে। আমাদের ডিএনএ এখনো অবচেতনে সে স্মৃতি মনে রেখে দিয়েছে যখন একাকীত্বের ফলে আমাদের কোনো পূর্বসূরি সিংহের খাদ্যে পরিণত হয়েছিলো। আর এ জন্য এখনো যখন কোনো ব্যক্তিকে সেন্সরি ডেপ্রিভেসন ট্রাঙ্কে রাখা হয় যেখানে কোনো হিংস্র জন্তু নেই তখনও সে তার চারপাশে হিংস্রতা ও মৃত্যু দেখে। আর এ জন্যই আমরা দলবদ্ধ থাকতে চাই। আর ফেসবুক, টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদেরকে লাখ লাখ মানুষের সংস্পর্শে এনে দেয়। মানুষের সাথে আমাদের সামাজিক ইন্টারেকশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর যার মাধ্যমে আমরা নিউরোলজিক্যাল লেভেল থেকে উন্নত হতে পারি এবং অনেককিছু শিখতে পারি। মূলত, যোগাযোগের মাধ্যমেই আমরা পরিবর্তনশীল সমাজ সম্পর্কে বিস্তারিত ও খুটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।    মানুষ খুবই সামাজিক প্রাণী। কিন্তু ইন্টারনেট আমাদের যোগাযোগ ব্যাবস্থাটাকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে আমরা পূর্বে যেখানে শতাধিক ব্যক্তির সাথে সম্পৃক্ত থাকতাম এখন সেখানে আমরা একইসাথে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের সংস্পর্শ পাচ্ছি, হাজার হাজার মাইল দূরত্ব মুছে গিয়ে, আমরা আজ একত্রিত হই মুহূর্তে, এ প্রক্রিয়া প্রতিদিন পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এর মানে হলো আমরা যা কিছু শেয়ার করছি এর একটি প্রভাব আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আমরা যে পজেটিভ এপ্রুভাল পাচ্ছি, এটি ড্রাগের নিউরোলজিক্যাল বেসিসের সসমতূল্য। আপনি যখন ড্রাগ সেবন করেন তখন ডোপামিন সিষ্টেমের মাধ্যমে আপনি একপ্রকার পুরস্কার প্রাপ্ত হন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ওভার পজেটিভ রিয়েকশন আমাদের ব্রেনে ঠিক একই প্রভাব সৃষ্টি করছে যেটা সাধারণ করতে পারে ড্রাগ। অতএব ক্রমশ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং একটি এডিকশনে পরিণত হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত অন্যকে ইম্প্রেস করতে ও তাদের আকর্ষণ পেতে চাইছি। সম্ভবত ইন্টারনেট আমাদের ব্রেনের সাথে আসলে ভালো কিছু করছেনা! MDPI জার্নালে Online social Networking addiction শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়,  সেখানে সামাজিক যোগাযোগের আসক্তি নিয়ে Daria J. Kuss এবং Mark D Griffith বিস্তারিত আলোচনা করেন। মিচিও কাকু তার Future of the mind গ্রন্থে লিখেছিলেন, ডোপামিনের ওভার প্রোডাকশনের কারণে আমাদের মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস ক্ষয় হয়, যা স্মৃতি সংরক্ষণের সাথে জড়িত, যদি কারো মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস এর একটি বিশেষ অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষয় হয় তবে সে নতুন কোনো ইনফরমেশন জমা করতে পারবেনা, তার কাছে জীবনের প্রতিদিনকে একইদিন ( Same Day) মনে হবে। তার মস্তিষ্ক “Today Paradox” এর শিকার হবে। তবে হ্য.. এখান থেকে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি, লাইক ও কমেন্টের প্রতি এডিকশন আমাদের স্মৃতিশক্তিকে দূর্বল করে দিতে পারে। আমরা হয়তো সবকিছু মনে রাখতে পারবো কিন্তু দু-মিনিট পূর্বে কী ঘটেছিলো তা স্মরণ হবে না। আলজিমার রোগের পেছনে ফেসবুকের কোনো ভূমিকা আছে কি না তা বিজ্ঞানীরা খাতিয়ে দেখতে পারেন। তবে আমি দৃঢ়ভাবে প্রেডিকশন করছি, যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অধিক পজেটিভ ভাইব অতিরিক্ত ডোপামিন প্রডিউস করে তবে এটি অবশ্যই এবং অবশ্যই মেমোরি ডেমেজ করবে, যদি আমি মারাত্মকভাবে ভুল না বুঝে থাকি। আর তাই অনলাইন যদিও আমাদের অনেক বেশি ইন্টেলেকচুয়াল করে তুলছে কিন্তু অনলাইন এডিকশন মেমরির জন্য খুবই ক্ষতিকর। আর এমন একজন ইন্টেলেকচুয়াল যিনি আসলে অতীত স্মরণ করতে পারেননা অথবা নতুন কোন তথ্য মনেই রাখতে পারেননা তার সুস্থ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।     আমার এ প্রেডিকশন আসলে কতটা সত্য? এটি পরীক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের উপর প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম । এরপর অন্য একটি প্রসঙ্গ নিয়ে লিখতে শুরু করি। কিন্তু আকষ্মিক সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি উদ্দেশ্যে গুগলে How Does internet affect our brain Function লিখে অনুসন্ধান করলাম। উদ্দেশ্য ছিলো একটি জার্নাল থেকে এডিশনাল কিছু ইনফরমেশন নেয়া। কিন্তু তাৎক্ষণিক তার বদৌলে তালিকায় প্রথমে THE OHIO STATE UNIVERSITY WEXNER MEDICAL CENTER এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি আর্টিকেল চোখে পড়লো। সেখানে বলা হয় সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে না কি দেখা গেছে অতিরিক্ত পরিমাণ ইন্টারনেটের ব্যবহার নেতিবাচকভাবে কগনিটিভ প্রসেস, বিশেষ করে মনোযোগ ও শর্টটার্ম মেমরিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমার শুধু “শর্ট টার্ম” মেমরির ব্যাপারটিই নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন ছিলো। যেটিকে আমি এর পূর্বেও অবশ্যই এবং অবশ্যই বলে জোর প্রদান করেছিলাম।


আমাদের ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তির পেছনে জিনের কোনো ভূমিকা আছে?

আজ থেকে মিলিয়ন বছর পূর্বে কোনো ইন্টারনেট ছিলোনা, তাহলে এমন কোনো জিনের অস্তিত্ব থাকা কী সম্ভব যা আমাদেরকে বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত করবে? PlOS ONE জার্নালে, Personalised Media: A Genetically Informative Investigation of individual differences নামক একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। কিং কলেজ লন্ডনের একদল গবেষক বলেন, অনলাইন মিডিয়া যেমন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এবং গেমিং খুব কঠিনভাবে আমাদের জিন দ্বারা প্রভাবিত। এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো গবেষকরা এটা কিভাবে খুঁজে বের করলেন? উপায়টা একদম সাধারণ। তারা প্রথমে ১৬ বছর বয়সী ৮,৫০০ জন যমজের উপর গবেষণা করেন। যদি কম্পিউটার গেমস এবং সোস্যাল নেটওয়ার্কিং পরিবেশের দ্বারা সম্পূর্ণ প্রভাবিত না হয়ে হেরিটেবিলিটির উপর ডিপেন্ড করে তবে যমজদেরকে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে লালন পালন করা হলেও গেমিং ও অনলাইনের প্রতি তাদের আকর্ষণ প্রায় সমান হবে। আমরা বংশানুক্রম বা হেরিটেবিলিটি থেকে প্রাপ্ত কোনো বৈশিষ্ট্যকে পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নির্মুল করতে পারিনা। যদি তাই হয় তবে যমজরা একে অন্যের ১০০ ভাগ জিন ধারণ করে এবং তাদের দুজনের জিন বংশানুক্রমে প্রাপ্ত। আর তাই তাদের মন মানসিকতাও হবে একে অন্যের মিরর ইমেজ। যদি তাই হয় তবে, তাদেরকে আলাদা আলাদাভাবে লালন পালন করা হলেও তাদের জিনগত স্বভাব তথা পছন্দ, অপছন্দ, ভালোলাগা ও ভালো না লাগার ব্যাপারগুলো একই হবে। গবেষকরা মূলত বুঝতে চেয়েছেন ফেসবুক, টুইটার ও চ্যাটরুমে সময় কাটানোর মানসিকতার পেছনে জিন ও পরিবেশের ইন্টারেকশন যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলো গেম, এনটারটেইনমেন্ট এবং এডুকেশন।    তারা দেখতে পান বিভিন্ন রকমের সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানোর পেছনে হেরিটেবিলিটি খুবই বাস্তব একটি বিষয়। বিনোদনের ক্ষেত্রে ৩৭ শতাংশ, শিক্ষা ৩৪ শতাংশ, অনলাইন গেম ৩৯ শতাংশ, সোশ্যাল ওয়ার্কিং ২৪ শতাংশ। হেরিটেবিলিটি শিশুদের অনলাইন ব্যাবহার করার মানসিকতার ক্ষেত্রে তারতম্য দেখিয়েছিলো_ যা জেনেটিক্যাল ফ্যাক্টর দ্বারা ইনহেরিটেড, পরিবেশের কোন প্রভাবের পরিবর্তে।এছাড়া, ইউনিক এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টর ২/৩ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার প্রবণতা ব্যাখ্যা করতে পারে। একটি অনন্য এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাক্টর হলো, পরিবারের কারো পারসোনাল ফোন আছে আর কারো নেই। পরিবার হয়তো একজনের তুলনায় অন্যজনের সোশ্যাল নেটওয়ার্কের ব্যাপারটা অনেক বেশি ভারী ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। অতএব আমরা এটা ঢালাওভাবে বলতে পারিনা যে, মিডিয়াই আমাদের ব্রেনকে পরোক্ষভাবে তার নিজের প্রতি অন্ধ করে রেখেছে বা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আমাদের আকর্ষণ পরোক্ষভাবে সমাজের সৃষ্টি; আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে অনলাইন মিডিয়া ব্যবহার করার জন্য আমাদের রয়েছে  অন্যন্য এক জেনেটিক প্রবণতা। ( এটাকে আমরা বলতে পারি জিন ও এনভায়রনমেন্টাল কো-রিলেশন)    Ziada Ayorech যিনি ছিলেন কিং কলেজ লন্ডনের Study from the Institute of Psychiatry, Psychology and Neuroscience এর প্রথম আথর, তিনি বলেন, আমাদের আবিষ্কার জনপ্রিয় মিডিয়া ইফেক্ট থিওরির সাথে কন্ট্রাডিক্ট করছে, যেখানে বলা হয়, মিডিয়া একটা এক্সটারনাল এন্টিটি যেটি অসহায় ভোক্তার উপর ভালো ও মন্দ প্রভাব বিস্তার করে। তিনি বলেন, আমরা ডিএনএ’র মধ্যে যে মৌলিক পার্থক্য পেয়েছি তা আমাদের বলে যে,  জিনই নির্ধারণ করে দেয় আমরা কিভাবে মিডিয়ার সাথে ইন্টারেক্ট করবো। এখানে অসহায় ভোক্তাকেই ড্রাইভারের সীটে বসানো হয়, যে নির্বাচন করে ও পরিমার্জন করে তাদের মিডিয়াকে তাদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুসারে। জিন কিন্ত আপনাকে বলবেনা, লিয়া গোট্টির পর্ণ ভিডিও দেখো , জিন লিয়াকে চেনেনা এবং সে এটাও জানেনা পর্ণ কী কিন্তু সে আপনার মধ্যে সেক্স নামক একটি প্রবণতা তৈরি করে দেয় বংশবিস্তার করার স্বার্থে। আর এ জন্য পর্ণ যদিও আপনাকে বলেনা, আমাকে দেখো কিন্তু আপনি সেটার প্রতি আকৃষ্ট হোন। এবং পরে সারাবিশ্বের পর্ণ তারকাদের পূর্বসূরি উদ্ধার করেন! আসলে আমাদের ভেতরকার আকাঙ্ক্ষা ও প্রবণতাগুলো কিন্তু ইন্টারনেটের তৈরি নয়,  ইন্টারনেট শুধু জিনগতভাবে আমাদের মধ্যে উপস্থিত প্রবণতাগুলোকে বুঝে কাজ করে। কিং কলেজের প্রফেসর, রবার্ট প্লোমিন, যিনি IoPPN এর সিনিয়র আথর, তিমি বলেন, The Key component of this Gene and Environment Correlation is Choice , Such individual are not simply Passive Recipient of their Environment but instead actively select their Experiences and this Selections are Correlated with their Genetic Propensities.


ইন্টারনেট কী আপনার মস্তিষ্ককে Rewire করে?

২৪ শে এপ্রিয় ২০১২ সালে BBC একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন Being online does changes your brain, but so does making a cup of tea, A better question to ask is what part of the brain are regular internet user using শিরোনামে। শিরোনাম দেখেই বুঝতে পারছেন নিউরোপ্লাস্টিসিটির কথা বলা হচ্ছে। যদি আমরা এমন কোনো দাবি উপস্থাপন করি যে ইন্টারনেট আমাদের ব্রেন চেঞ্জ করে তবে একই যুক্তিতে আমরা বলতে পারি এক কাপ চা খেলেও আমার মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন Rewire হয়, আমি যখনই কিছু করি, তখনই আমার মস্তিষ্কের কানেকশন জটিল হচ্ছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, আসলে আমাদের এই প্রশ্নটা করা উচিত নয়,ইন্টারনেট ব্রেন চেঞ্জ করে কিনা, তার চেয়ে বরং আমাদের প্রশ্ন করা উচিত ইন্টারনেট ঠিক আমাদের মস্তিষ্কের কোন অংশটি চেঞ্জ করে?    আমরা একটা সময় শরীরের ওজন ও আত্মা নিয়ে চিন্তা করতাম আর এখন আমরা চিন্তা করি আমাদের ব্রেন ফিটনেস নিয়ে। আসলেই কী ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং  আমাদের মস্তিষ্কের এটেনশন সেন্টারকে জাগ্রত করে? ফেসবুক এবং টুইটার কী আপনাকে নরমাল হিউম্যান বন্ড থেকে দূরে রাখে? এবং এই ইমেইলটিও ভুলে যাবেন না যে, এর ফলে ঠিক একই আসক্তিমূলক নিউরোকেমিক্যাল রিলিজ হয় যা কোকেইনের মতো। কিন্তু যদি সত্যি সত্যি অনলাইন ব্রেনকে Rewire করে তবে একই যুক্তিতে আমরা বলতে পারি আমাদের চারপাশে আমরা যা কিছু দেখি সবকিছু আমাদের ব্রেনকে Rewire করে। আমরা এ অন্তর্জাল থেকে বের হতে পারিনা। তাহলে ইন্টারনেট তো এক কাপ কফি  বা একটা বই থেকে বেশিকিছু করছেনা? তবে ব্যাপারটা কী ডিপেন্ড করছে আমরা ঠিক কতটা সময় ইন্টারনেটে অপচয় করি এবং আমরা ঠিক অনলাইনে কোন বিষয় গুলোর সাথে সম্পৃক্ত থাকি সে অন্তর্নিহিত ব্যাপারটির উপর?    আমরা পূর্বেই বলেছি, প্রাচীন গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস ও প্লেটো এ ব্যাপারটি নিয়ে সংশয়ে ছিলো। তারা ভেবেছিল লিখিত বইয়ের বিকাশ মানুষের স্মরণ করার ক্ষমতা কেড়ে নেবে। একই ব্যাপার ঘটেছিলো টেলিভিশন ও টেলিফোনের উপর। এ সকল প্রযুক্তি আমাদের পরিবর্তন করেছে, এবং আমাদের জীবন যাপনের পদ্ধতি। কিন্তু ধবংস-বিক্রেতাদের পূর্ভাবাসের মতো করে কোনোকিছু এ পর্যন্ত আমাদের সাথে ঘটেনি- টম স্ট্যাফোর্ড বলেন।   তিনি বলেন, ইন্টারনেট কী আমাদের ভিন্ন কোনোভাবে এফেক্ট করে? কোনো এক্সট্রা-অর্ডিনারী উপায়ে? খুব কমই প্রমাণ আছে যা বলে এটি ক্ষতিকর। আমরা মিলিয়ন মিলিয়ন, আমি ও তুমি, এ মুহূর্তে ইন্টারনেট ইউজ করছি এবং আমরা ঠিক আছি। কিছু ব্যক্তি চিন্তা করে যে, কেউ কেউ মনে করে যদিও আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ইন্টারনেটের প্রভাব অনুভব করিনা কিন্তু কিছু একটাতো ভেতরে ভেতরে অবশ্যই চলছে।   আসলে তার মতে, আমরা প্রাত্যহিক যা কিছুই করি সবকিছুরই আমাদের মস্তিষ্কের উপর এফেক্ট আছে, আমরা কোনোকিছু পড়ি অথবা প্রতিযোগিতামূলক কোন খেলা খেলি, তখন কিন্তু আমরা ব্রেনের ফিটনেসের কথা একবারও চিন্তা করিনা। PNAS জার্নালে ২০০০ সালে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলা হয়, Navigation- related Structure Change in the hippocampus of Taxi Driver। ট্যাক্সি ড্রাইভারদের বড় হিপ্পোক্যাম্পাস থাকার কারণ হলো ক্রমাগত ড্রাইভিং এর ফলে নেভিগেশনের সাথে সম্পৃক্ত মস্তিষ্কের সে অংশটি উন্নত হয়ে গেছে।।অনেকেই আছেন যারা গাড়িতে উঠলে ব্রেন সহ্য করতে পারেনা কিন্তু ক্রমাগত গাড়িতে ভ্রমণ করলে তার ব্রেনের সেই নির্দিষ্ট অংশটি উন্নত হয়ে উঠে। মিউজিশিয়ানদের মস্তিষ্কের অনেক বেশি নিউরাল টেরিটোরি প্রয়োজন হয় যাদের ইনস্ট্রুমেন্ট প্লে করার জন্য, আর এ জন্য আপনি যদি একজন স্ট্রিং প্লেয়ারের মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স পরীক্ষা করে দেখেন,  তবে দেখবেন যে এর একপাশ স্ফিত ( এর কারণ যে ভায়োনিনের সুর তোলার জন্য একটি হাতকেই বারবার মুভ করে)। আবার অন্যদিকে একজন Keyboard Player এর মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্সের উভয় অংশই স্ফিত ( কারণ পিয়ানো বাজানোর সময় দুটো হাতেই কন্ট্রোল প্রয়োজন)।   অতএব প্রাক্টিস নিশ্চিতভাবে আপনার মস্তিষ্ককে পরিবর্তন করে। আমরা যদি এ ধারণাটি গ্রহণ করি, তবে আমরা ইন্টারনেটকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে দুশ্চিন্তা করতে পারি যে, যদি আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেট ইউজ করি তবে আমরা আসলে কী প্রাক্টিস করছি?

জীবন দানঃ

মৌলিক কোনো প্রমাণ ছাড়া, আমরা বিশৃংখলভাবে অনুমান করতে পারি যে, অধিকাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ, ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য। যদি তাই হয়ে থাকে, ইন্টারনেটের ব্যবহার অবশ্যই আমাদের ব্রেনকে প্রভাবিত করতো আর আমরা এ সব ক্ষেত্রে উন্নত হয়ে উঠতাম। সম্ভবত, এটি ইতোমধ্যে ঘটছে, আমাদের সাধারণ সংস্কৃতির একটি অংশ এবস্ট্রাক্ট ইনফরমেশনের সাথে নিপুন থেকে নিপুনতর ভাবে ডিল করছে। আমেরিকান সায়েন্টিস্টে এ নিয়ে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছিলো যা পরে রিমুভ করে দেয়া হয়। Sage Journal এ প্রকাশিত একটি আর্টিকেলের রেফারেন্স দিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারনেট দুশ্চিন্তার বিষয় হতো যদি আমরা ভিন্ন কোনো জীবন বাস্তবতা চর্চা করতাম। যদি ফেসবুক বন্ধুদেরকে একসাথে মিশতে না দিতো তবে আমরা বলতে পারতাম যে এর ক্ষতিকারক প্রভাব আছে। কিন্তু প্রমাণ বলছে যে সেরকম কিছু ঘটেনি। আমরা অধিকাংশই ইন্টারনেটকে যোগাযোগের একটি কমপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করছি, বিকল্প (Substitute) হিসেবে নয়।  BBC এর এ আর্টিকেল অনুসারে, অতএব ইন্টারনেটের কোনো এক্সট্রা রিস্ক নেই। এটি আমাদেরকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় প্রাকটিস করার সুযোগ দেয়। প্রাকটিস আমাদের ব্রেনকে চেঞ্জ করে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, আমরা এ প্রসেসেরই একটি অংশ, এটি এমন কিছু নয় যে আমাদের ব্রেনের নিউরাল কানেকশন আগে কখনো চেঞ্জ হয়নি, এটি সবেমাত্র আমাদের সাথে ঘটছে। আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ঠিক কতটা সময় আপনি ফানি কেটের পিকচার দেখবেন। ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি আপনার চিন্তাকে আরো অনেকের সাথে ফিট করতে পারেন। আপনার মস্তিষ্কে আকষ্মিক কোনো ডেমেজ বা বিষ্ময়কর ফিটনেস তৈরি হবেনা। আপনি হয়তো এটা ভেবে বোকা হবেন যে, ইন্টারনেট আপনাকে আপনার ব্রেনের প্রয়োজনীয় সবকিছু চর্চা করার সুযোগ দিচ্ছে এবং আপনি আরো বোকা হতে পারেন এটি আপনাকে যে সব অফার দিচ্ছে সেগুলোকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে। আর সে সব পিকচার হলো মজার মজার বেড়ালের…।

২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত গবেষণা পত্র –The “online brain” ; How the internet may be Changing নামক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ওয়াল্ড সাইকিয়াট্রিতে। BBC এর আর্টিকেলটি প্রকাশিত হয়েছিলো ২০০০ সালে এবং আমি মনে করি সেটি  ত্রুটিপূর্ণ। অতএব আমরা সাম্প্রতিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যাপারটি আর একবার পুনর্বিবেচনা করবো-

সাম্প্রতিক সাইকোলজিক্যাল, সাইকিয়াট্রিক ও নিউরোইমেজিং পরীক্ষা করে দেখেছে সেই হাইপোথেসিস যেটি বলে যে, ইন্টারনেট আমাদের ব্রেনের কগনেটিভ প্রসেসকে ডেমেজ করে। গবেষকরা বলেন, আমরা দেখেছি, ক্রমবর্ধমানভাবে বিবর্তিত মাল্টিপল মিডিয়া থেকে নির্গত, অনলাইন ইনফরমেশন আমাদেরকে কয়েকটি ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে; a) আমাদের এটেনশনাল ক্যাপাসিটি  মেমোরি প্রসেস, যেহেতু অনলাইন তথ্যের সুবিস্তৃত এবং সর্বব্যাপী সোর্স আমাদের জ্ঞান পুনরুদ্ধার,সঞ্চয় ও এমনকি মূল্যকে পরিবর্তন করতে শুরু করে এবং C) সোশ্যাল কগনিশন, এটি হলো সে ক্ষমতা যা অনলাইন সোশ্যাল সেটিংস’কে রিয়েল ওয়ার্ল্ডে জাগ্রত করার ক্ষমতার সাথে জড়িত, একটি সামাজিক প্রসেস যা ইন্টারনেট ও রিয়েল লাইফের সাথে নতুনভাবে ইন্টারপ্লে করে, যার মধ্যে আমাদের সেল্ফ- কনসেপ্ট ও সেল্ফ ইস্টিম জড়িত। মোটকথা, আমাদের কাছে বিদ্যমান প্রমাণ নির্দেশ করছে যে, ইন্টারনেট খুব তীব্রভাবে ও অত্যন্ত টেকশই পদ্ধতিতে আমাদের কগনিটিভ সিষ্টেমের সাথে জড়িত এ এরিয়া গুলোকে মারাত্মকভাবে অল্টারেশন তৈরি করে।  যার ফলে আমাদের ব্রেন চেঞ্জ হয়ে যায়। আমাদের ভবিষ্যত গবেষণা দেখাবে যে, সুবিস্তৃতভাবে অনলাইনে থাকার ফলে তরুণদের কগনিটিভ ডেভেলাপমেন্টটে কী ধরণের ক্ষতি হবে এবং পার্থক্য প্রদর্শন করবে এই কগনেটিভ ডেভেলাপমেন্ট সে সকল ব্যক্তিদের থেকে কতটা পৃথক যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে।

ইন্টারনেট খুবই সুবিস্তৃত ও দ্রুত অভিযোজিত একটি প্রযুক্তি মানব সভ্যতার ইতিহাসে। মাত্র কয়েক দশকেই ইন্টারনেট আমাদের তথ্য অনুসন্ধান, কনজিউম মিডিয়া ও আনন্দ উপভোগের পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উদ্ভাবন করেছে। অতি- সাম্প্রতিক আবিষ্কার স্মার্টফোনের কল্যাণে ইন্টারনেট এতটাই  পোর্টেবল ও সর্বব্যাপী হয়ে উঠেছে যে আমরা উন্নত রাষ্ট্র বলতে “অনলাইনকেই” বুঝি। কিন্ত এ নতুন চ্যানেলের কানেকশন, ইনফরমেশন, কমিউনিকেশন ও স্ক্রিনের কী প্রভাব রয়েছে আমাদের মস্তিষ্কে সেটি অপরিচ্ছন্ন। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পূর্ব থেকেই আমরা জানি যে , আমাদের ব্রেন খুবই নমনীয় ও এটি নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে খুব সহযে সমন্বয় করতে পারে যেটাকে বলে নিউরোপ্লাস্টিসিটি। অনেকগুলো ক্ষেত্র এক্সপেরিমেন্ট করে দেখা যায় যে , আমাদের নিউরাল আর্কিটেকচার ব্যাপক পরিবর্তন হয় যখন আমরা সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ শিখি অথবা কোনো মোটর স্কিল অর্জন করি, এমনকি ফর্মাল কোনো পরীক্ষার প্রস্তুতির পূর্বেও আমাদের ব্রেনের নিউরাল স্ট্রাকচার চেঞ্জ হয়ে যায়।

বিশ্বের সর্বত্র ইন্টারনেটের ব্যবহার যদিও আমাদেরকে বিষ্ময়কর উপায়ে অনেক কিছু জানার সুযোগ করে দিয়েছে, পরিবর্তন করেছে সমাজের সাথে আমাদের ইন্টারেকশনের পদ্ধতি এটি একই সাথে পরিবর্তন করে দিয়েছে আমাদের নিউরাল স্ট্রাকচার। এর একটি অত্যন্ত সাধারণ উদাহরণ হলো টাচস্ক্রিন মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইনে ইন্টারেক্ট করার কারণে আমাদের মস্তিষ্কের নিউরোকগনিটিভ অল্টারেশন সংঘটিত হয় কর্টিয়াল এলাকার নিউরাল চেঞ্জিং এর মাধ্যমে যা আমাদের হাত ও আঙুলের সেন্সরি ও মোটর প্রসেসিং এর সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু এর উর্ধ্বে ইন্টারনেট একটি নোবেল প্লাটফর্ম নতুন ও জটিল তথ্য জানার এক অশেষ প্লাটফর্ম, যা অনলাইন ও অফলাইন দুটোর সাথেই সম্পৃক্ত।

নিউরোপ্লাস্টিক ম্যাকানিজমের কারণে অন্যান্য পরিবেশগত ও জৈবিক ফ্যাক্টরগুলোও আমাদের ব্রেন স্ট্রাকচার ও ফাংশন চেঞ্জ করে। একটি উদাহরণ হলো বয়সের ফলে আমাদের বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞানীয় হ্রাস কিছুটা এট্রপি বা ক্ষয় দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে সারাজীবন রিয়েল লাইফ স্টাইলের সাথে আমদের কম সম্পৃক্ততা আমাদের কগনিটিভ ফাংশনের ক্ষয়কে ত্বরাণ্বিত করে যেটি ঘটে নিন্মমানের Cognitive Reserve এর কারণে। কিছু উচ্ছ্বসিত প্রমাণ নির্দেশ করছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জন্য রিয়েল ওয়ার্ল্ডের সাথে আমাদের সম্পর্কহীনতা আমাদের মধ্যে প্রতিকূল নিউরো-কগনিটিভ পরিবর্তন তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক Randomize Cotrol Trial (RCT) দেখিয়েছে, এক নাগাড়ে ছয় সপ্তাহ অনলাইনের গেমিং এর সাথে সম্পৃক্ততা মস্তিষ্কের অর্বিটোফ্রন্টাল কর্টেক্সের ভেতরকার গ্রে-ম্যাটারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, এটি এমন একটি অংশ যেটি আমাদের মস্তিষ্কের ডিসিশন মেকিং এর সাথে জড়িত।

কিন্তু এ গবেষণার ফলাফল অনলাইম গেমিং এর বিস্তৃত বা অন্যকোনো ক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত বলেনা। তবুও এটি সম্ভাবনা উপস্থাপন করে যে বিভিন্ন ধরণের ইন্টারনেটের ব্যবহার আমাদের মস্তিষ্ক ও জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলোকে পৃথকভাবে প্রভাবিত করে, প্রতিকূল ও উপকারী দুটি উপায়েই। শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশের সাথে এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ অনেক জ্ঞানীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ জন্মগত নয় এবং পরিবেশগত কারণগুলো দ্বারাও প্রভাবিত। যদিও খুব সাম্প্রতিক এটা নির্গত হয়েছে যে, আমরা মৌলিক গবেষণা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পেরেছি মাল্টিপল পটেনশিয়াল নিউরাল পথ যা আমাদের ব্রেন স্ট্রাকচারকে প্রভাবিত করে। যেমন- ১) মনোযোগ; অনলাইনের নিরবিচ্ছিন্ন ইনরফরমেশনের ইনফ্লাক্স, প্রোম্পট ও নোটিফিকেশন আমাদের মনোযোগ আকৃষ্ট করার জন্য প্রতিযোগীতা করছে, আর এতে করে আমরা কোন নির্দিষ্ট একটিতে মনোযোগ স্থাপন করতে পারছিনা, আমাদের মস্তিষ্কের মনোযোগ পিংপং বলের মতো এদিক ওদিক লাফালাফি করছে, মাল্টিপল মিডিয়া আমাদের ব্রেনের এক একটি মনোযোগের অংশকে এক এক দিকে টানছে, আর এই টানাটানির ফলে, প্রভাব পড়ছে Attentional Switching Versus Sustain-Attention Task এর মধ্যে। ২) স্মৃতি ও জ্ঞান ( আমরা আমাদের প্রাইমারী ইনফরমেশন সোর্স হিসেবে এখন ইন্টারনেটকে মানি, এবং অনলাইন ইনফরমেশন সম্ভবত এফেক্ট করতে পারে আমরা যে পদ্ধতিতে নতুন ইনফরমেশন সংগ্রহ করি সে পদ্ধতিকে এবং প্রভাবিত করবে আমাদের ইন্টারনাল মেমরির মূল্যকে। ৩) সোশ্যাল কগনিশন ( আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রভাবগুলো এখন ধীরে ধীরে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক,ইন্টারেকশন ও স্ট্যাটাসে এ প্রোথিত হয়ে যাচ্ছে। গবেষকরা বলেন, আমরা অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষার পর আমরা ইন্টারনেটের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলো হ্রাস করার জন্য এবং নতুন অন্তদৃষ্টি অর্জন করার লক্ষ্যে ভবিষ্যত গবেষণার মূল অগ্রাধিকারগুলো উপস্থাপনের জন্য বিদ্যমান সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকগুলো দেখিয়ে দিয়েছি, যাতে করে আমাদের সমাজের এ নতুন ফিচারগুলোকে মূলধন করে নিউরোকগনিটিভ প্রসেসকে উপকারী উপায়ে প্রভাবিত করতে পারে।

ইন্টারনেট ও ট্রান্সসেকটিভ মেমোরিঃ

ইন্টারনেট বিশেষ করে মানুষের সিমেন্টিক মেমরি সিষ্টেমকে রিপ্লেস করছে। যেটিকে বলা হয় Memory of Fact। যেটি হিউম্যান ব্রেন মেমরি থেকে কিছুটা আলাদা। Sparrow B, Liu J, Wegner DM যৌথভাবে Google affect on Memory শিরোনামে বলেন, অনলাইনে দ্রুত তথ্য পাওয়ার ক্ষমতা, মানুষের মধ্যে এমন একটা প্রবণতা তৈরি করবে যে, আমরা এ ফ্যাক্টটি কোথায় থেকে পুনরুদ্ধার করবো, স্বয়ং ফ্যাক্টটিকে পুনরুদ্ধার করার পরিবর্তে। এর মানে হলো আপনি তথ্য থেকে তথ্যের সোর্সকে বেশি মনে রাখার চেষ্টা করবেন, এর মানে হলো খুব দ্রুত মানুষ ইনফরমেশন রেট্রিভাল হিসেবে ইন্টারনেটের উপর ডিপেন্ড করতে শুরু করছে। খুবই ভয়ানকভানে তাদের গবেষণাপত্রে তারা দাবি করেন যে, অনলাইন ওয়ার্ল্ড আমাদের এক্সটারনাল মেমরিতে পরিণত হবে অথবা যেটাকে গবেষকগণ নাম দিয়েছেন “Transactive Memory”! আর এই ট্রান্সসেকটিভ মেমরির কারণে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর সমাজ শুধু ইনফরমেশন এর সোর্সকে মনে রাখবে এবং তারা তাদের পরিবার, সমাজ ও দলকে শুধু সোর্সের রেফারেন্স দেবে, স্বয়ং ইনফরমেশনগুলো নিজে মনে না রেখে। Wegner DM, Transactive memory: a contemporary analyses of the group mind নামক একটি গবেষণাপত্রে এ কথা বলেন।

এর মানে হলো, গুগল যদি আমাদের মেমরি হয়ে যায়, তবে আমরা শুধু কোন জার্নাল থেকে ইনফরমেশন পেয়েছি সে জার্নালের সোর্স মনে রাখবো কিন্তু ইনফরমেশন মনে রাখতে চাইবো না। আর এতে করে ইনফরমেশন মনে রাখার আমাদের প্রাচীন ক্ষমতা, যা আমরা মিলিয়ন বছরের বিবর্তনে প্রাপ্ত হয়েছি সেটি ক্রমশ দূর্বল হতে থাকবে এবং কোন কারণে যদি গুগল ধবংস হয়ে যায় তবে আমাদের ব্রেনও ধবংস হয়ে যাবে।

লুইস কে, হার্ডন বি গুগল স্কলারে প্রকাশিত Transactive Memory system: current issue and future research Direction নামক একটি গবেষণাপত্রে লেখেন, যদিও এতে করে আমরা গ্রুপ পর্যায়ে উপকৃত হবো কিন্তু স্পেসিফিক মেমরি বা এক্সটারনালি মেমরি সংরক্ষণের ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। যাইহোক, এটি পরিস্কার যে পূর্বের তুলনায় ইন্টারনেট অনেক মহান ও স্বতন্ত্র ট্রান্সসেকটিভ মেমরি সিস্টেমে পরিণত হচ্ছে। প্রথমত- ইন্টারনেটের উচিত হবেনা মানুষের উপর এমন কোনো দায়িত্ব অর্পন করা যে তাকে অন্যের জন্য ইউনিক ইনফরমেশন ধারণ করতে হবে। ইন্টারনেটের উচিত হবে একটি একক ব্যক্তির মতো আচরণ করা যা ফ্যাকচুয়াল ইনফরমেশন ধারণ করে ও সেটাকে পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং কোন ব্যক্তির সাহায্য ছাড়াই সে এক্সটারনালি সংরক্ষিত ইনফরমেশন মনে রাখতে পারবে, এমনকি কোথায় সে তথ্য লোকেট করছে। আর এভাবে ইন্টারনেট “সুপার স্টিমুলাস ” হয়ে উঠবে। ট্রান্সসেকটিভ মেমরি আমাদের অন্যান্য Cognitive offloading যেমন- বই, বন্ধু ও কমিউনিটিকে বাহুল্যে পরিণত করবে।


কিভাবে সুপারনরমাল স্টিমুলি আমাদের সাধারণ জ্ঞানের সাথে ইন্টারেক্ট করবে?

আমরা যদিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব দ্রুত ইনফরমেশন সংগ্রহ করতে পারি কিন্তু আমরা খুব ভালোভাবে ইনফরমেশন মনে রাখতে পারিনা। 2015 সালে প্রকাশিত Behavior and brain response Related to internet Search and Memory নামক একটি গবেষণাপত্রে ডং জি, পোটেঞ্জা এমএন বলেন, যখন একজন ব্যক্তিতে অনলাইনে কোনো একটি তথ্য খুঁজে বের করতে বলা হয়, সে খুব দ্রুত ইনফরমেশন খুঁজে বের করতে পারে ও তথ্যের ভীড় জমাতে পারে কিন্তু সে পরবর্তীতে যথাযথভাবে ইনফরমেশন স্মরণ করতে পারেনা।ইন্টারনেট এবং এনসাইক্লোপিডিয়া একত্রিত করর প্রচেষ্টা চলাকালীন সময়,  এফএমআরআই ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়, ভেন্ট্রাল ও ডর্সাল স্ট্রিমের ইমেজ। এ দুটো এলাকা “What” ও “Where” এর স্রোতের সাথে জড়িত। তারা নির্দেশ করছে যে, তারা তাদের নির্দিষ্ট কনটেন্ট ভেন্ট্রাল স্ট্রিমে সংরক্ষণ করবে নাকি ডর্সাল স্ট্রিমে যেটা আগত ইনফরমেশনের এক্সট্রারনাল সোর্স।   যদিও ডর্সাল স্ট্রিমের একটিভেশনে কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়না কিন্তু ফলাফল প্রদর্শন করেছে যে ইন্টারনেটের ইনফরমেশন মনে করতে না পারার অক্ষমতার সাথে ভেন্ট্রাল স্ট্রিম (What) এর একটিভেশন হ্রাস পাওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। এটি আবারও স্পারোর গবেষণাপত্রকে সত্যায়িত করে যেখানে বলা হয়, আমরা যদিও দ্রুত অনলাইন ইনফরমেশন জমা করি কিন্তু এসব ইনফরমেশন আমরা দীর্ঘস্থায়ী মেমরিতে ধারণ করতে পারিনা। সম্ভাব্য অনলাইন সার্চিং আমাদের কগনিটিভ সিষ্টেমকে প্রভাবিত করে। এটি প্রমাণ করার জন্য আরো একটি পরীক্ষা করা হয়। এ স্টাডিতে তরুণ ও বৃদ্ধদের প্রতিদিন এক ঘন্টা সময় দেয়া হয় অনলাইনে বিভিন্ন জিনিস সার্চ করার জন্য। এ সময় তাদের মস্তিষ্কের কগনিটিভ ও নিউরোইমেজিংকে মূল্যায়ন করা হয়। প্রশিক্ষণের পূর্বের ও পরের ব্রেন রেকর্ড। ফলাফলে দেখা যায়,ছয়দিন ইন্টারনেট প্রশিক্ষণ দেয়ার ফলে তাদের Long-Term মেমরির সাথে সম্পৃক্ত Regional Homogeneity and Functional Connectivity হ্রাস পেয়েছে। এর মানে হলো অনলাইন সার্চিং আমাদের মেমরি পুনরুদ্ধার করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে ফাংশনাল কানেক্টিভিটি ও ব্রেন এরিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সিনক্রোনাইজেশন হ্রাস করার মাধ্যমে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যখন ছয়দিন পর তাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা হয়, প্রশিক্ষণ প্রাপ্তরা দ্রুত ইন্টারনেটের স্মরণাপন্ন হয়,  যা প্রি-ফ্রন্টাল ব্রেন এরিয়ায় প্রতিফলিত যেটি আচরণ ও ইমপালস কন্ট্রোলের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ইন্টারনেটের উপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল হয়ে উঠার এ প্রবণতা পরবর্তী স্টাডিগুলোতেও প্রমাণিত হয়। ইন্টারনেটের “সুপারনরমাল স্টিমুলাস” ন্যাচার, সম্ভবত আমাদের উপদেশ দেয়, অনলাইন ইনফরমেশন খুব দ্রুত মানুষকে এই টুলসের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠার নির্দেশ দেয়। (Short-Term Internet-Search Training Is Associated with Increased Fractional Anisotropy in the Superior Longitudinal Fasciculus in the Parietal Lobe)

যাইহোক রেগুলার অফলাইন মেমরির ক্ষতিকর প্রভাব থাকা সত্ত্বেও এর কিছু উপকারী দিকও রয়েছে। ছয়দিন যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো তাদের ইনফরমেশন ব্যবহার ও পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলো এবং একুরেসির কোনো ঘাটতি ছাড়াই তারা দ্রুতগতিতে যে কোনো কাজ করতে সক্ষমও হয়েছিলো। সার্চ ট্রেনিং এর ফলে তাদের মস্তিষ্কের ফাইভার ট্র‍্যাকের হোয়াইট ম্যাটারের ঘণত্ব বেড়ে গিয়েছিলো যা ফ্রন্টাল, অকুপিটাল, প্যারিটাল ও টেম্পোরাল লোবের সাথে জড়িত, বিশেষভাবে Non-Search Control Condition থেকে উন্নত। এ আবিষ্কার সেই হাইপোথেসিসকে সমর্থন করছে যা বলে আমাদের ফ্যাকচুয়াল মেমরির জন্য ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীলতা অন্যান্য কগনেটিভ এরিয়াগুলোর উপকার করে যা সম্ভবত কগনিটিভ রিসোর্স থেকে আমাদের মুক্ত করে। যা আমাদেরকে নতুন ধরণের একটি কগনিটিভ ক্যাপাসিটি প্রদান করে যা পূর্বে যেমন ভাবা হতো তার থেকেও বিলাসবহুল। সামগ্রিক মানুষের কালেক্টিভ ডোমেইনের বিন্দুটিকে গবেষকরা সমর্থন করেছেন যা ইতোমধ্যে শিক্ষা, সাংবাদিকতা এবং এমনকি একাডেমিয়াতেও সুপারনরমাল ট্রান্সঅ্যাকটিভ মেমরির ইন্টারনেটের নিয়ম দ্বারা রুপান্তরিত হয়েছে। দূর্ভাগ্যবশত ইন্টারনেটের সর্বব্যাপীতার উপর একটি বিচক্ষণ অনুসন্ধান মানব বুদ্ধিমত্তার এক নতুন উচ্চতাকে সম্ভবপর করে তোলে। বার এট, যিনি পর্যবেক্ষণ করেন যারা এনালিক্টিক্যাল থিংকার, উচ্চতর জ্ঞানীয় সক্ষমতার অধিকারী, তারা তাদের দৈনান্দিন পরিস্থিতির জন্য ট্র‍্যান্সঅ্যাকটিভ মেমরি পেতে তাদের স্মার্টফোন কম ব্যবহার করে নন-এনালিক্টিক্যাল থিংকিং স্টাইলের তুলনায়। যদি ও এতে করে সোশ্যাল মিডিয়া বা এন্টারটেনমেন্ট ব্যবহারের উপর এর কোনো প্রভাব পড়েনা। এটি নির্দেশ করছে যে বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা করতে অক্ষম ব্যক্তিরা তাদের এ জ্ঞানীয় কৃপণতা ইন্টারনেটের কারণেই অর্জন করেছে। বা তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এতটাই অভ্যস্ত যে তারা স্বাধীন বিশ্লেষণমূলক চিন্তা করতে পুরোপুরিভাবে সক্ষম নয়।  আবার ইন্টারনেটের উপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার কারণে ব্যক্তি ও ডিভাইসের ক্যাপাসিটির মধ্যকার তারতম্যটি অপরিচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফিশার তার নিজস্ব গবেষণার একটি পরম্পরার দেখান যে, ইন্টারনেট আমাদের আত্ম- অর্জিত জ্ঞানের উপর প্রভাব খাটায়।ফলাফল থেকে জানা যায়, ইন্টারনেট অনুসন্ধান আমরা কতটা জানি এ বোধ বৃদ্ধি করে, এমনকি আমাদের স্বীয় জ্ঞানের ইলুশন আমরা শুধু তখনই বুঝতে পারি যখন ইন্টারনেট শূন্যস্থানটি পূরণ করে দেয়। এ এক্সপেরিমেন্ট থেকে এটাও জানা গেছে যে কতটা দ্রুততার সাথে একজন ব্যক্তি ইন্টারনেটের এক্সট্রারনাল জগতকে তার নিজের বলে ইন্টারনালাইজড করে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে সে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়। আরও গবেষণা দেখায় যে, স্মার্টফোনগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে তথ্য পুনরুদ্ধার করার সময়ও স্বজ্ঞানের বিভ্রম বজায় থাকে। একজন ব্যক্তি তার পারসোনাল ডিভাইসের উপর অনেক বেশি কানেক্টেড হয়ে উঠে। এবং এটি জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশের মধ্যে অপরিহার্যভাবে ব্যক্তি ও ডিভাইসের পার্থক্য একসময় বিভ্রম করে তোলে, যা ধারাবাহিকভাবে একটি নিরবিচ্ছিন্ন ইলুশন তৈরি করে এবং মনে হয় যেনো আমি আমার প্রকৃত জ্ঞান থেকেও অনেক বড় কিছু।   মোটের উপর, ইন্টারনেট একটি সুপার স্টিমুলাস ট্রান্সঅ্যাকটিভ মেমরি প্রদান করে যা আমাদের সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও জ্ঞান মান পদ্ধতি বদলে দেয়। যাহোক, জনপ্রিয় গুগল ও উকিপিডিয়ার বয়স ২১ বছরের মতো। আর এই একুশ বছরের মধ্যেই এটি আমাদের মস্তিষ্কের লং টার্ম স্ট্রাকচার ও ফাংশন চেঞ্জ করে দিয়েছে। যতই সময় যাচ্ছে, আমরা আমাদের ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে ইন্টারনেটের প্রতি আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছি বাস্তব তথ্য সংগ্রহের জন্য। ইন্টারনেট বর্তমানে স্থানিক ইনফরমেশনের একটি বিরাট সুপারস্টিমুলাসে পরিণত হচ্ছে। অনলাইন ম্যাপ ও গ্লোবাল পজিশনিং সিষ্টেম প্রদানের মাধ্যমে। মানব মস্তিষ্কের স্থানিক মেমরি সিমেন্টিক মেমরি থেকে আলাদা, পরবর্তী গবেষণা বিভিন্ন রকমের উপায়ে এটা বের করবে স্থানের এই এক্সটারনাল মেমরি সিষ্টেম ইউজ করার ফলে আমাদের কগনিটিভ ক্যাপাসিটি হ্রাস পাচ্ছে নাকি বাড়ছে অথবা অল্টার হচ্ছে।

অনলাইন সামাজিক নেটওয়ার্ক, অনুষদ কানেকশন অথবা মিথ্যা বৈপরিত্যঃ

সামাজিক সম্পর্ক এবং সেন্স অব কানেকশন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের সুখ ও চাপ মুক্তিকে নির্ধারণ করে এবং এমনকি মৃত্যু। প্রথম দশকে, মানুষ ক্রমাগত সামাজিক যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকছে। ফেসবুক,টুইটার ও ইনস্টাগ্রামের সাথে আমাদের সংযুক্তি নাটকীয়ভাবে আমাদের অফলাইন ওয়ার্ল্ডের সাথে সমন্বিত হচ্ছে। এর কয়েকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে আমাদের কাছে। মিডিয়া বিভিন্ন গ্লোবাল এফায়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেমন- London Riots একটি আয়োজিত মুভমেন্ট, আরাব স্প্রিং, Uk European Union Referendum (Brexit) এবং ২০১৬ সালের ইউ এস ইলেকশন। রিয়েল ওয়ার্ল্ড ইন্টারেকশন থেকে অনলাইন সোশ্যাল এনভায়রনমেন্টে ইন্টারেকশন আমাদের জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে তাৎপর্যবাহী।। কিন্তু এতে করে যে আমাদের মস্তিষ্ক রিয়েল ওয়ার্ল্ড থেকে বিপরীতভাবে চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে তা একটি বিতর্কের বিষয়। কিন্তু The internet, Cognitive Enhancement and the valu of Cognition নামক একটি আর্টিকেলে বেল বি বিশপ বলেন, অনলাইন এবং অফললাইন কগনেটিভ ডোমেইন সম্পূর্ণ আলাদা হবে যা সেই বিকল্প এনভায়রনমেন্টে নেভিগেট করার জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে।

কিভাবে অনলাইন এনভায়রনমেন্ট আমাদের ফান্ডামেন্টাল সোশ্যাল স্ট্রাকচারকে প্রভাবিত করে?

অনলাইন ও অফলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর আকার নিউরোইমেজিং এর এর মাধ্যমে কোরিলেট করার জন্যে কানাই এট এল একটি গবেষণা করেন। তিনি রিয়েল ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ড ও ফেসবুক ফ্রেন্ডের আকার নির্ধারণ করেন। যেখানে ম্যাগনেটিক ইমেজিং ১২৫ জন পার্টিশিপেন্টকে স্ক্যান করেছিলো। ফলাফল থেকে জানা যায়, রিয়েল ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইজ ও ফেসবুক ফ্রেন্ডের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে এমিগডালার ভলিউমের সাথে সম্পৃক্ত। এ ফলাফল মানব মস্তিষ্কের অনলাইন ও অফলাইনের মধ্যকার ওভারল্যাপের সুকঠিন কেস উপস্থাপন করে। ( গবেষণাপত্র- Online social network size is reflected in human brain structure) 

মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট

Grey matter volume correlated with quantitative measure of participation in social networks. Areas where the number of friends reported on Facebook correlated significantly with variability in grey matter density across the entire group (n = 125) are shown superimposed on a standard T1-weighted template brain in MNI stereotactic space. Correlated areas are shown at T > 3.0 for visualization purposes. See table 1 for full details of activated loci. L-MTG, left middle temporal gyrus.

মানব মস্তিষ্কের বিবর্তনে ইন্টারনেট

Replication of the main results with an independent dataset (n = 40). The relationships between the number of Facebook friends and the normalized grey matter (GM) density at the peak coordinates for (a) left MTG, (b) right STS, (c) right entorhinal cortex, (d) left amygdala and (e) right amygdala are plotted (see table 1 for stereotactic coordinates and figure 1 for visualization of these loci from first exploratory study). Normalized grey matter density was computed for the peak voxel coordinates after regressing out the factors of age, gender and total grey matter volume, as for the main VBM analysis (see §2 for full details). The scale of grey matter density was normalized by computing the z-scores across the 40 participants. In all of the three regions, significant (p < 0.05) correlations were observed, replicating the main VBM findings (figure 1) with an independent dataset.  An external file that holds a picture, illustration, etc. Object name is rspb20111959-g3.jpg

Results of the social network size questionnaire. (a) Geometric mean of individual’s social network size is plotted for the nine item questions in the questionnaire, namely, FBN (number of friends on Facebook), Pho (number of friends in their phonebook), Par (number of friends to be invited to a party), OS (number of friends outside school), IS (number of friends from school), BD (number of friends present at birthday party), Txt (number of friends one would send a text message for a celebratory event), Cha (number of friends one would meet for a chat) and Fav (number of friends one could ask a favour). Note that the mean network size is much larger for FB. (b) Correlation between number of friends on Facebook and other measures. Statistical significance is denoted by asterisks (*p < 0.05 and **p < 0.01, Bonferroni-corrected for multiple comparison across the eight scores). Correlation was computed based on the square root of the declared number of friends for each question to correct for strong skew in the distribution. Influences of age and gender were regressed out by computing partial correlations.  


এছাড়া, লেখক দেখান যে, আমাদের মস্তিষ্কের অন্য এলাকার গ্রে-ম্যাটার ভলিউম (বিশেষ করে টেম্পোরাল গাইরুস এবং সুপারিয়র টেম্পোরাল সেলকুস ও ডান এন্টোরিনাল কর্টেক্সের ভেতর) বৃদ্ধি পায় যা অংশগ্রহণকারীদের ফেসবুক ফ্রেন্ডের উপস্থিতি দ্বারা প্রেডিক্ট করা যায়। এটি আমাদের উপদেশ দেয় যে, সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু ইউনিক দিক আমাদের মস্তিষ্কের এমনকিছু দিকের তাৎপর্য প্রদান করে যা “রিয়েল ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল সেটিংসে” কেন্দ্রীয় বিষয় নয়। উদাহরণস্বরূপ- অনলাইন নেটওয়ার্ক এর প্রবণতা আমাদের মধ্যে খুবই দূর্বল সোশ্যাল ইন্টারেকশনের অনুপ্রেরণা দেয়। নাম ও মুখের সাথে সম্পৃক্ত এসোসিয়েটিভ মেমরি হলো এন্টোরিনাল কর্টেক্স, এটি স্বতন্ত্র রিলেশনশিপকে ব্যাখ্যা করতে পারে আর এ জন্য এটি অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ধরে রাখে( যেটি রিয়েল ওয়ার্ল্ডে কাজ করেনা)।মূলত, সত্যিকার পার্থক্য যা অনলাইন ও অফলাইন জগতকে ব্রেন কিভাবে পরিচালনা করবে তা মোকাবিলা করে সেটা হলো ইন্টারনেটে লোকদের ধরে রাখার ক্ষমতা, তাদের সাথে যুগপৎভাবে যোগাযোগ, মিলিয়ন ফ্রেন্ডশিপ। এ হাইপোথেসিসের একটি এম্পেরিক্যাল পরীক্ষা অনুসন্ধানের খুবই ফলপ্রসূ একটি এরিয়া যা গবেষণা থেকে প্রবাহিত হয়েছে, বায়োলজিক্যাল মাত্রা থেকে এ দুটো জগতের পার্থক্য। যখন ব্রোড কনটেক্স এর ভিত্তিতে ফ্রেন্ডশিপ ডিফাইন করা হয়( যে সকল ব্যক্তিরা যোগাযোগ রক্ষা করে ও আবেগ শেয়ার করে) রিয়েল ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর মধ্যে দুটি প্যাটার্ন বিখ্যাত হয়ে উঠে। ১) প্রতিটি ব্যক্তির ১৫০ জনের মতো বন্ধু থাকে( কিন্তু ব্যক্তিভেদে এটি খুবই উচ্চতর ভিন্নতা প্রদর্শন করে)। ২) এবং এটি ৫ টি পরম্পরাগত লেয়ার তৈরি করে, প্রাইমারী পার্টনার, অন্তঃরঙ্গ সম্পর্ক, বেস্ট ফ্রেন্ড, ক্লোজ ফ্রেন্ড এবং অল ফ্রেন্ড। যা সাইজ স্ক্যালিং রেশিওতে ৩ সংখ্যাটি অনুসরণ করে ( এখানে ৩ বলতে মূলত বোঝানো হচ্ছে, ক্রমসঞ্চিত লেয়ার শেষেরটি থেকে ৩ গুন বড়) এবং এ জন্য ১.৫, ৫,১৫, ৫০ এবং ১৫০ আকার পাওয়া যায় যথাক্রমে। গড় ১৫০ জন বন্ধু ও সাইজ স্ক্যালিং এ ৫ টি পরম্পরার প্যাটার্ন বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের মধ্যেই দেখা যায়, এমনি শিকারী সংগ্রাহকদের মধ্যেও, ঐতিহাসিক গ্রামে, আর্মিতে, রেসিডুয়াল ক্যাম্পে, আধুনিক ইউরোপের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে।      কিন্তু বিষ্ময়করভাবে সত্য যে, অনলাইনেও একজন ব্যক্তি ১৫০ জনের বেশি সদস্যের সাথে ইন্টারেক্ট করতে পারেনা। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর এই স্ট্রাকচারাল প্যাটার্ন এটি সার্বজনীন। আপনার যদি একশত মিলিয়ন বন্ধুও থাকে আপনার এভারেজ বন্ধুর সংখ্যা হবে ১৫০। সাম্প্রতিক আবিষ্কার আমাদের কাছে ব্যবহারকারীর থেকে ব্যবহারকারীর ( user to user) কানেকশনের বিষয়টি পরিচ্ছন্ন করেছে। পোস্টিং প্যাটার্ন এবং টুইটার, ফেসবুক ও অনলাইন গ্যামিং  প্লাটফর্মও ইন্ডিকেট করছে এভারেজ জেনারেল ফ্রেন্ডশিপ ১৫০ জন।অতএব একজন ব্যক্তি বিশাল সেলিব্রেটি হয়ে গেলেও ভয় পাবেন না। তার মস্তিষ্কের বিবর্তনীয় স্ট্রাকচারের কারণেই সে ১৫০ জন বন্ধুকে ক্রস করতে পারবেনা। শিম্পাঞ্জি, নিয়ান্ডারথাল এবং ডেনিসোভান কেউই এ পর্যন্ত পারেনি। সেপিয়েন্সরা এ সংখ্যাটিকে ক্রস করেছিলো ভাষার মাধ্যমে গল্প তৈরি করে কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে তারপক্ষে এ ধরণের সামষ্টিক গল্প তৈরি করা এত সহয না। আর একা একা গল্প তৈরি আর সে গল্প দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে পরিচালনাও সম্ভব না। ব্রেনের বেসিক ম্যাকানিজমের কাছে বিশ্বের যে কোনো সেলিব্রেটিই ধরা! সে হয়তো মনে করছে তার মিলিয়ন মিলিয়ন ফ্রেন্ড কিন্তু আসলে সে জানেনা তার ব্রেন স্টাকচারগত কারণেই তার বন্ধুর সংখ্যা ১৫০। তার মানে অনলাইন ওয়ার্ল্ড আমাদের মস্তিষ্কের এ স্ট্রাকচার চেঞ্জ করতে পারেনা।। আমাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর স্ট্রাকচারাল প্যাটার্ন সে ড্রাইভিং ফোর্স টেকসই রাখে, যখন সে অনলাইন ওয়ার্ল্ডের বিশাল সংযোগেরও মুখোমুখি পড়ে। এটিকে দুটি ওভারল্যাপিং ম্যাকানিজম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত, মানুষের মস্তিষ্কে সামাজিকভাবে উপলব্ধ বাধাগুলি সামাজিক প্রেক্ষাপট অতিক্রম করেছে বলে মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ – একজন ব্যক্তি রিয়েল জগতে একইসময় তিনজনের সাথে বিজড়িত হয়ে ইন্টারেক্ট করার জন্য যুদ্ধ করে। এ লিমিটেশন অনলাইনেও দেখা যায়। এ প্রমাণ থেকে আমরা এই হাইপোথেসিস নিশ্চিত করতে পারি যে সামাজিক সম্পর্কের উপর আমাদের জ্ঞানীয় বাধা এমনকি অনলাইন জগতেও কঠিন হয়ে উঠতে পারে এমনকি প্রকৃতি যখন অতিপ্রাকৃত সুযোগগুলি ব্যবহার করার অনুমোদন দেয়। আপনার মেসেঞ্জারে একশত কোটি মেসেজ আসলেও তিনজনের বেশি সংখ্যক  ব্যক্তির সাথে আপনি ইন্টারেক্ট করতে পারবেননা কারণ এটা আপনার কগনিটিভ লিমিটেশন যা বিবর্তনীয় ভাবে অর্জিত।   আপনার ব্রেন এর অধিক লোকের সাথে একই সময় যোগাযোগ করতে গেলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে বা আপনার জ্ঞান আর কাজ করবেনা! একজন ব্যক্তির পক্ষে পৃথিবীর আট বিলিয়ন মানুষ থাকলেও সে আসলে দূর্বল কারণ সে একইসময় তিনজনের সাথে কথা বলতে পারে এবং তার গড় বন্ধু মাত্র ১৫০ জন, যদিও অন্যরা তার পোস্ট পড়ে এবং নিয়মিত তার বক্তব্য শুনে। এত মিলিয়ন বন্ধু থাকা সত্ত্বেও তার জ্ঞানীয় সীমা দূর হয়না। মূলত, আমার মধ্যে ক্ষুদা কাজ করলেও আমি কয়েক মিলিয়ন প্লেট বিরিয়ানি খেতে পারিনা, আমাদের মস্তিষ্কের গঠনগত কিছু সীমাবদ্ধতা আছে আর তাই আমরা যা চাই তা আমাদের ব্রেন অনেক সময় বোঝার ক্ষমতাও রাখেনা।  সেকেন্ড ড্রাইভার যা সোশ্যাল একটিভিটির মধ্যে সীমা আরোপ করে তা হলো সময়। এটি একটি লিমিটিং ফ্যাক্টর যা সামাজিক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আর একই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় অনলাইন জগতেও। সুস্পষ্টভাবে সামাজিক সম্পর্কের জন্য আমাদের ব্যয়গুলো টাইম প্রতিবন্ধকতা দ্বারা আক্রান্ত। এটি অনলাইন ও অফলাইন দুটো জগতেই সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। বিভিন্ন সামাজিক প্রসঙ্গের উপর স্টাডি করে দেখা গেছে, অধিকাংশ সামাজিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয় টেম্পোরাল লিমিটেশন দ্বারা যেটাতে মানুষ জড়ায় এবং কিভাবে তারা এটা ডিস্ট্রিবিউট করে বিভিন্ন রকম সম্পর্কে। এক্ষেত্রেও জেনারেল ইন্টারেকশনের হার অনলাইন ও অফলাইন দুটো জগতেই সমান। এ ধরণের সোশাল স্ট্রাকচার প্রাণীদের মধ্যেও দেখা যায়। তাদের কেউ মারা গেলে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে সে একা হয়ে যায়, সামাজিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে।  এর সাপেক্ষে শক্তি প্রমাণ রয়েছে যে, কিছু অন্তর্নিহিত ব্যাপার আমাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এর সাধারণ প্যাটার্ন নির্দেশ করে যেটি কম্পিউটেশনালি সিমুলেটেড সিষ্টেমের ভেতরকার ইন্টারেকশনের মধ্যেও পাওয়া যায় যা মানুষের সোশ্যাল স্ট্রাকচারের কিছু সুস্পষ্ট জটিলতার পুনরাবৃত্তি করে, এমনকি তুলনামূলকভাবে সহয সুত্রের ভেতর। উদাহরণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় যে , এজেন্ট বেসড সমাজে একইরকম সামাজিক আবরণমুলক গঠন (Social generalizing Structure) জেনারেট হয়, যেখানে সামাজিকতা সঙ্গায়িত হয় সময় দ্বারা। আমাদের সাম্প্রতিক গবেষণার আলোকে আমরা বলতে পারি,  ইন্টারনেট সম্ভবত মানুষের চিন্তাপ্রণালীকে সোশাল নেটওয়ার্ক এর চারপাশে এফেক্ট করতে পারে, এটা অনস্বীকার্য যে, অনলাইন এনভায়রনমেন্ট একটি অনন্য সম্ভাবনা ও প্রসঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে সোশ্যাল একটিভিটির জন্য। যেটি মস্তিষ্কের কিছু অসনাক্ত কগনিটিভ প্রসেসকে জাগ্রত করতে পারে এবং মস্তিষ্কের কিছু এলাকা অফলাইন ওয়ার্ল্ডের তুলনায়। তারপরও, তুলনামূলক এই ফাইন স্কেলের পার্থক্যকে একপাশে রাখলে, এটি পরস্কার হয়ে যায় যে, আমাদের ব্রেন অনলাইন ও অফলাইন ওয়ার্ল্ডকে বিষ্ময়করভাবে একই উপায়ে প্রসেস করে, যেনো তারা চিত্রায়িত করছে কগনিটিভ ক্যাপাসিটি ও সরল অন্তর্নিহিত ফ্যাক্টর শেয়ারের মাধ্যমে যা আল্টিমেটলি তাদের ফান্ডামেন্টাল স্টার্কচার গভার্ন করে। আর এ জন্য, অনলাইম ওয়ার্ল্ড শুধুমাত্র হিউম্যান সোসাইটিকে পরিমাপ ও বোঝার ক্ষেত্রেই সাহায্য করেনা, এটি জীবনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সামাজিক প্রসেসের ফলাফলগুলোও শাসন করে।

অনলাইন বিশ্বের প্রতি সামাজিক কগনিটিভ রেসপন্সঃ

আমরা উপরে অনলাইন ওয়ার্ল্ড এবং রিয়েল ওয়ার্ল্ডের অনেকগুলো রুপক ব্যবহার করেছি। এ দুটি জগতের মধ্যে সম্পর্কে খেলার নতুন একটি মাঠ। যদিও রিয়েল ও অনলাইন দুটি জগতেই আমাদের মস্তিষ্কের বেসিক স্ট্রাকচার একই। ফান্ডামেন্টাল স্ট্রাকচারের উর্ধ্বে অনলাইন নিউরোকগনিটিভ রেসপন্স রিয়েল লাইফ ইন্টারেকশনের সমরুপ। উদাহরণস্বরূপ, অনলাইন রিজেকশন খুব শক্তিশালী ভাবে আমাদের সামাজিক জ্ঞানীয় ধারার সাথে সম্পৃক্ত এবং বাস্তব জগতের রিজেকশনের সাথে (মেডিয়াল প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স, শিশু ও তরুণ উভয়ের মাঝে)। যাইহোক মানব সমাজের সেই “প্রাচীন খেলা” __সম্ভাব্যনার দিক থেকে ইউজারের একটি ব্যয়। উদাহরণস্বরূপ – আমাদের বাস্তব জগতের গ্রহণ ও বর্জনগুলো খুবই দূর্বোধ্য এবং সেল্ফ ইন্টারপ্রিটেশনের জন্য উন্মোক্ত। সোশ্যাল মিডিয়া সরাসরি আমাদের সামাজিক সফলতা( ব্যর্থতা) কোয়ান্টিফাই করে। একটি পরিস্কার ও স্পষ্ট মেট্রিক প্রদানের মাধ্যমে ফ্রেন্ড, ফলোয়ার এবং লাইকের মাধ্যমে( অথবা ব্যাথাদায়ক ক্ষতি / এবং এসবের অনপুস্থিতি)। এ ধরণের তাৎক্ষণিক আসক্তিমূলক ন্যাচার, সেল্ফ ডিফাইনিং ফিডব্যাক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মূলধন হিসেবে বিনোয়োগ করে সর্বত্র সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের। কিন্তু ক্রমবর্ধমান সংখ্যক প্রমাণ আমাদের বলছে যে, অনলাইনে আত্মসম্মান সংক্রান্ত ফিডব্যাক পাওয়ার প্রবণতা তরুণদের উপর বিরুপ প্রভাব সৃষ্টি করে, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যার জন্য নিন্মমাত্রিক আবেগীয় কল্যাণ, উচ্চমাত্রিক সাইবারবুলিং, উত্তেজনা ও হতাশা বৃদ্ধি করে, তারা সামাজিক একাকীত্ব বোধ করে এবং নিজেকে তাদেরই একজন মনে করে যারা অনুভব করে অনলাইন তাদের রিজেক্ট করেছে। অনলাইন ও অফলাইন দুটো জগতেই আমাদের একটি বিশেষ প্রবণতা রয়েছে আর তা হলো “Upward Social Comparison! আমাদের স্বাভাবিক জীবন পরিস্থিতিতে এটি হতে এডাপ্টিভ অথবা ভেনিফিশিয়াল। আমাদের ভেতরকার এই সহযাত কগনিটিভ প্রসেস সোশ্যাল মিডিয়ার তৈরি আর্টিফিশিয়াল এনভায়রনমেন্টাল উৎপাদনগুলো দ্বারা অপহরণের ( Hijacked) শিকার হয়।.যেটি আমাদের প্রদর্শন করে হাইপার সাকসেসফুল ব্যক্তিত্ব ধারাবাহিকভাবে তাদের পা খানি সামনের দিকে সমর্পনের মাধ্যমে। ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন অব ইমেজ আমাদের শারীরিক সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করছে। মূলত, আমরা এসব ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন দ্বারা আকৃষ্ট কারণ টিকে থাকার জন্য সমাজে আমরা সবসময় নিজেদের এক্সট্রা অর্ডিনারী কোনো উপায়ে প্রেজেন্ট করতে চাই, আমাদের মধ্যে আনকমন, অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয় কিছু একটা করে সবার মধ্যে তাক লাগিয়ে দেয়ার একটি আভ্যন্তরীণ প্রবণতা কাজ করে। ডিজিটাল মিডিয়া শুধু আমাদের ভেতরকার ইচ্ছার প্রতিফলনটাকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করছে কারণ এলগোরিদম আমাদের মনোবিজ্ঞানী, সে আমাকে জানে, আমি কী চাই, কী ভালোবাসি, কী পেলে আমি সুখী হবো। আমাদের মধ্যে অগ্রগামী ধ্বংসাত্মক কিছু সামাজিক কম্পারিজন তৈরি করে( যা আমরা রিয়েল লাইফে খুব কমই মোকাবিলা করি) অনলাইন মিডিয়া আমাদের মধ্যে আনরিয়েলিস্টিক এক্সপেক্টশন তৈরি করে দেয়___ তাদেরকে এমনভাবে নেতৃত্ব দেয়া হয় যেনো দারিদ্র কোনো দেহাবয়ব একজন তরুণের সেল্ফ কনসেপ্টকে নেগেটিভ করে তোলে। আর এ জন্যে মেয়েদের মধ্যে যে সকল তরুণী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যতবেশি সময় কাটায় অথবা স্মার্টফোনে তাদের মধ্যে অনেক বেশি মানসিক সমস্যার সন্ধান পাওয়া যায়। ডিপ্রেশন সহকারে, তাদের তুলনায় যারা বেশিরভাগ সময় নন-স্ক্রিনে কাটায়। গুগল স্কলারে, Digital media may explain a Substantial portion of the rise in depression symtoms among odsolescent girl: Response to dely নামক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় যেখানে Twenge JM, Jointer TE, Martin G et Al বলেন, যারা দিনের মধ্যে ৫ ঘন্টা (Versus 1hr/Day) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটায় তাদের মধ্যে 66% আত্মহত্যা করার ঝুঁকি রয়েছে।

তাহলে আমরা কী সিদ্ধান্তে আসতে পারি?

বিশ্ব স্বাস্থসংস্থা ইন্টারনেটের প্রতি এডিকশনের ব্যাপারে চিন্তিত। এর রয়েছে শারীরিক ও মানসিক অনেক প্রতিক্রিয়া। ২০১০ সালে চায়নার স্কুল ছাত্ররা জানিয়েছেন, ইন্টারনেট এডিকশন ২.৫ ভাগ বেশি ডিপ্রেসিভ উপসর্গ তৈরি করে। ড. কেইথ ডব্লু বিয়ার্ড ২০০৫ সালে বলেন, অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার আমাদের সামাজিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীদের ইমিউন সিষ্টেম দূর্বল হয়ে যায় এবং Carpal Tunnel Syndrome দেখা দেয়, চোখ ও পিঠের উপর চাপ পড়ে। প্রত্যাখানের উপসর্গ বিরক্তি, ডিপ্রেসন, রাগ এবং উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এ সাইকোলজিক্যাল সিন্ড্রোমগুলো ফিজিক্যাল সিন্ড্রোমে পরিণত হতে পারে যেমন দ্রুত হার্টবিট, কাধের ব্যাথা এবং নিশ্বাঃস ছোট হয়ে আসা। বিভিন্ন রকম মানসিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে Online Gambling addiction, online gaming addiction, Communication Addiction Disorder, Virtual Reality Addiction, Video Streaming addiction ইত্যাদি।   আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক এর উপর ইন্টারনেটের প্রভাব মিশ্র। যেমন- ইন্টারনেট আমাদের এক্সটারনাল মেমরির ক্ষমতা হ্রাস করলেও এটি আমাদের মেমরির অন্য একটি দিক উন্নত করে যেটি তথ্যের লোকেশনের স্মরণ ক্ষমতার সাথে জড়িত । কিন্তু ট্রান্সঅ্যাকটিভ মেমরির প্রতি আমাদের ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা এবং ইনফরমেশন মনে রাখার প্রতি অনিহা আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশনকে সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রিকভাবে Rewire করছে। আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পজেটিভ ও নেগেটিভ দু-ধরণের নিউরাল ফিডব্যাক পাচ্ছি। আবার ইন্টারনেটে বৈচিত্র‍্যময় ইনফরমেশন এর চর্চা আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে Rewire করছেনা সেটাও কিন্তু আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারিনা কারণ এটা মানব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ফিচার। এমনকি ঘুড়ি উড়ানোর সময়ও আমাদের ব্রেন কানেকশন Re-wire হয়। মূলত, ইন্টারনেট আমাদের মস্তিষ্ককে সামগ্রিকভাবে পরিবর্তন করছেনা, এটি মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অংশের গঠনগত পরিবর্তন সাধন করছে। তাই উদাত্তভাবে, আমাদের এমন কিছু বলার সময় হয়নি যে ইন্টারনেট ব্রেনকে ধবংস করে দেবে। কিন্তু এটাও ঠিক যে অনলাইনের উপর নির্ভরশীলতা আর আমাদের মস্তিষ্কের ব্যবহার প্রণালী বদলে দিয়েছে, আর তাই ভিন্ন ভিন্ন নিউরাল এরিয়া ভিন্ন ভিন্ন ভাবে নিজেকে গঠন করছে। আমাদের জিনের সাথে মস্তিষ্ক প্রতি মুহূর্তে সংযুক্ত নয়। মস্তিষ্কের ভেতরকার এ পরিবর্তনগুলো জিনকে প্রভাবিত করেনা। আমাদের গ্রহ থেকে কোয়েসারের দূরত্ব ১৫০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ আর তাই সেখানে আমি যদি আজ একটি মেসেজ সেন্ড করি সেটি যেতে ১৫০ মিলিয়ন বছর সময় প্রয়োজন। ঠিক তেমনি জিন আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল পরিবর্তনের এ ব্যাপারটিকে লিপিবদ্ধ করতে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে৷ মূলত, পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মস্তিষ্ককে সমন্বিত করার জন্য আমাদের মস্তিষ্কের কিছু ফিচার হয়তো পরিবর্তন হতে পারে, যার মধ্যে এক্সট্রারনাল মেমরি অন্যতম। আমাদের মস্তিষ্কের পরিবর্তনের সাথে অনলাইনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পর্ণ। সম্ভবত পর্ণই সবচেয়ে ডেস্ট্রাকটিভ ভাবে আমাদের মস্তিষ্কের গঠন প্রণালী পরিবর্তন করছে। ফেসবুক, টুইটার অথবা গুগল আমাদের মস্তিষ্কে যতটুকু নেগেটিভ প্রভাব বিস্তার করে তা অনলাইন পর্ণের তুলনায় একেবারেই তুচ্ছ।    ইন্টারনেট মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটারের পরিমাণ পরিবর্তন করে, ফেসবুক ফ্রেন্ডের সংখ্যা এমিগডালার আকার পরিবর্তন করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা এখন সেল্ফ ও নন-সেল্ফের তারতম্য ভুলে যাচ্ছি। ইন্টারনেটকেই আমি আমার মস্তিষ্ক ভাবতে শুরু করেছি, যার ফলে আমি যা নই আমি আমাকে তার চেয়ে আরো অনেক বিরাট কিছু ভাবছি। আমাদের মস্তিষ্কের এন্টারিয়র সিঙ্গুলেট প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স যেটি রিয়েলিটি ও ফ্যান্টাসির মধ্যা তারতম্য সৃষ্টি করে সেটি ক্রমাগত দূর্বল হয়ে উঠছে। রিয়েলিটি ও ফ্যান্টাসির ভেতর পার্থক্য সৃষ্টিকারী এ কর্টেক্স আজ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পর হয়তো এমনভাবে বিবর্তিত হবে যে আমরা ইন্টারনেটকেই আমাদের একটি অংশ মনে করবো। এছাড়া মেডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স, যেটি আমাদের বলে কোনটি আমি বা আমি নই , সে সম্পর্কটিও ক্রমশ আমাদের কাছে ব্লার হয়ে যাবে বলে আমরা অনুমান করতে পারি। কারণ আমাদের মধ্যে এখনো একটি ফেইক পারসোনালিটি কাজ করে যার জন্য আমরা ইন্টারনেটের উপর বিশ্বাস রেখে নিজে যা জানি তার থেকে অনেক বেশি প্রদর্শন করি। অতএব আমাদের সেল্ফ কিন্তু এখন আর মস্তিষ্ক ও শরীরের ভেতর নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখছেনা। সে এর থেকে উর্ধ্বে আরোহন করার চেষ্টা করছে। আর এ ব্যাপারটি আমাদের মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশনের ভেতরও প্রতিফলিত হবে। এতে করে আমি ও নন- আমি এর তারতম্য ক্রমশ অস্পষ্ট হতে থাকবে।। লক্ষ লক্ষ বছরের ফ্রেমওয়ার্ক থেকে চিন্তা করলে আমাদের মস্তিষ্কের গঠনে নাটকীয় রকমের কিছু পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত, আমি বলতে চাইছি যে, আমরা একটা সময় সত্যি সত্যিই কম্পিউটার ও ইন্টারনেটকে আমাদের শরীরের অবিচ্ছিন্ন অংশ মনে করতে শুরু করবো। আমরা এলগোরিদমকেই আমাদের ব্রেন মনে করার জন্য প্রোগ্রামড হবো। আর এতে করে আমাদের মধ্যে একটি বিভ্রম স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে যে আমি অনেক বিশাল, আমি চাইলেই মুহূর্তে শুধু হাতের ঈশারায় বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কোনো তথ্য পেতে পারি। এ ব্যাপারটি আমাদের কগনিটিভ সিষ্টেমে জিনগতভাবেই প্রোথিত হয়ে যাবে, বা এটি আমাদের বিবর্তনীয় মনস্তত্বে পরিণত হবে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগে কখনো পৃথিবীতে ইন্টারনেট নাও থাকে তখনও মানুষ এই বিভ্রম থেকে বের হতে পারবেনা। সে তখনও সবাইকে বলে বেড়াবে- আমাকে তুমি চেনো? আমার ব্রেন গুগল, আমি চাইলে এক ক্লিকে বিশ্বের যেকোনো তথ্য পেতে পারি! আজ থেকে কোটি কোটি বছর পর যদি এমন কোনো বিবর্তন সত্যিই ঘটে তবে মানুষের মধ্যে সত্যি সত্যিই নিজেকে ঈশ্বর ভাবার একটা প্রবণতা তৈরি হয়ে যাবে এবং সম্পূর্ণ জিনগতভাবে।    তখন হয়তো সে যুগের অগ্রসরমান বিজ্ঞানমনস্করা তাদেরকে- অপবিজ্ঞানী ও স্প্রিচুয়ালিস্ট বলে গালি দেবে। আমরা গবেষণাপত্র ও বিভিন্ন আর্টিকেল বিশ্লেষণ করে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি যে ইন্টারনেট আমাদের ব্রেন ফাংশন পরিবর্তন করতে পারে কিন্তু আমরা এখনো এটা নিশ্চিত নই যে এ সব পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ীভাবে আমাদের মধ্যে জিনগত কোন প্রভাব সৃষ্টি করবে কিনা। আর তাই ইন্টারনেট আমাদের ব্রেনের বিবর্তনে কোন ধরণের পরিবর্তন সাধন করতে পারে সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়াটা গভীর গবেষণার বিষয়।


Additional Reference

 

  1. Online media use shows strong genetic influence, Science Daily
  2. Men and women’s brains are connected in different ways which may explain why the sexes excel at certain tasks, say researchers, BBC
  3. Massive study reveals few differences between men and women’s brains, Eurekka Alert
  4. Is the internet killing our brains?, The Guardian 
  5. Does the internet rewire your brain?, BBC 
  6. How does the internet affect brain function?, Oiho University 
  7. The “online brain”: how the Internet may be changing our cognition 

 

প্রাসঙ্গিক আর্টিকেল ;

    ১) সমকামীতার জিন ও বিবর্তন

   ২) ডিপ্রেসনের বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!