মানব মনের ফসিল

মানব মনের ফসিল

Last updated:

নারী ও পুরুষের মধ্যে অন্যতম একটি পার্থক্য হলো পুরুষ নারীদের তুলনায় অত্যাধিক আগ্রাসী । যেমনটি ডারউইন বলেছিলেন, পুরুষ গড়ে, অনেক বেশি এগ্রেসিভ যেখানে নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি সহানুভূতিশীল। জাপান, ফিলিপাইন, ম্যাক্সিকো, কেনিয়া ও ইন্ডিয়ার গ্রাম, এমনকি শহর এবং ইংল্যান্ডের নাম না জানা নগরীগুলোতে নৃতাত্ত্বিক বেট্রিস ও জন হুইটিং আগ্রাসনের উপর একটি স্টাডিতে দেখতে পান, ছেলেরা প্রতিটি সংস্কৃতিতেই অনেক দূর্দমনীয় হয়!

 

মনোবিজ্ঞানীরা আমেরিকাতেও  এটি নিশ্চিত করেছেন। পুরুষ টোডলাররা খাবলে ধরে ও আঁচড় দেয়। নার্চারি স্কুলের ছেলেরা ধাওয়া করে ও কুস্তি। কিশোর ছেলেরা যোগাযোগের সময় খেলতে পছন্দ করে৷ সমস্ত শিশুকালজুড়ে ছেলেরা একচেটিয়াভাবে শুধু খেলাধুলা করে, যেমনটি ঘটেছে  অন্যান্য প্রাইমেটের ক্ষেত্রে। অধিক পুরুষ সংঘর্ষমূলক যুদ্ধের তান্ডব ঘটায়, বিশ্বের অধিকাংশ নরহত্যা পুরুষদের দ্বারাই সংঘটিত হয়, মাঝেমাঝে তরুণদের দ্বারা যারা উচ্চমাত্রিক টেস্টোস্টারণ দ্বারা চালিত। এই আক্রমণাত্মক চেতনা অবশ্যই আমাদের পূর্বসূরীদের একসময় টিকে থাকার ক্ষেত্রে উপযোগিতা প্রদান করেছিল,  এ দুর্দমনীয়, দূর্দম আর আগ্রাসী চেতনাই আজ থেকে মিলিয়ন বছর পূর্বে আফ্রিকার তৃণভূমিতে এ সকল দুঃসাহসী পুরুষদের শিকারী প্রাণী ও শত্রুদের মুখোমুখি করে তুলেছিল। এর মানে এই নয় যে নারীরা এগ্রেসিভ ছিলনা। আমরা সবাই জানি যে নারীরা কখনো কখনো কঠোর মনোভাবের হতে পারে, এবং কখনো শারীরিকভাবে হিংস্র, বিশেষ করে সন্তানের জন্য। আপনি যদি সন্তানকে আঘাত করেন তবে আপনাকে অবশ্যই মায়ের ক্রোধের সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবেশ অনেক বিরাট ভূমিকা পালন করে  নারীদের এগ্রেসিভ ইন্টারেকশনের পেছনে, যেখানে পুরুষের এগ্রেসন হর্মোন দ্বারা অধিক চালিত, বিশেষ করে টেস্টোস্টারন!

 

নারীরা কেনো এত যত্মশীল?

 

সেবাকে মাঝেমাঝে আগ্রাসনের বিপরীতে ভাবা হয়। আমরা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জাতিগত গ্রুপ ও সংস্কৃতিতে দেখি নারীরা শিশুদের প্রতি অধিক আগ্রহ বোধ করে ও নিজ প্রয়োজনীয়তার সময়ও তারা বেশি ধৈর্য প্রকাশ করে। তাছাড়া প্রায় প্রতিটি সংস্কৃতিতে নারীরা সন্তান লালন পালনেই দিনের অধিকাংশ সময় অপচয় করে। ( Rossi 1984; Frayser 1985, Konner 2015)

আবার কেউ বলেন যে নারীদেরকে এ সকল সেবামূলক আচরণ মূলত শিক্ষা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ডেটা ইন্ডিকেট করছে যে, নারীদের সেবামূলক মনস্তত্বের জৈবিক ভিত্তি রয়েছে। সেবামূলক আচরণ মূলত ভ্রুণের ইস্ট্রোজেনের সাথে সম্পৃক্ত, এটি মস্তিষ্কের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জড়িত। এর প্রভাব নারীদের পরবর্তী জীবনেও পরিলক্ষিত হয়। (Knickmeyer et al 2006)

শিশু বালিকারা বকবক করে, হাসে এবং সোহাগভরে অন্যের চেহারার দিকে তাকায়, তারা কানেক্টেড হতে চায়। ছোট শিশুদের রয়েছে দীর্ঘ এটেনশন স্প্যান, তারা খুবই ধৈর্যশীল, তারা অল্পকিছু প্রজেক্টের জন্য অধিক সময় অপচয় করে। যেখানে পুরুষরা অধিক বিভ্রান্ত, অধিক একটিভ এবং অনেক বেশি উদ্ভাবনী। নারীরা নতুন নতুন মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। আর ছেলেরা আকৃষ্ট নতুন নতুন খেলনার প্রতি। নারীরা আপনার কন্ঠস্বর থেকে আপনাকে ডিকোড করার ক্ষেত্রে বেশি পারদর্শী। আবার যে সকল মেয়ে একটি মাত্র X ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মায়, তারা Turner Syndrome এ আক্রান্ত, এরা অত্যন্ত নারীবাদী। তাদের মধ্যে খেলাধুলা ও  মারপিটের প্রতি কোন আগ্রহ নেই এবং তারা সাধারণ নারীদের চেয়ে ব্যক্তিগত সাজ সজ্জায় খুবই খারাপ স্কোর করে। কিন্তু এ সকল মেয়েরা বিয়ের ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে আগ্রহী এবং তারা অনেক দক্ষতার সাথে সন্তানের দেখাশুনা করে।

ক্যারল গিলিগ্যান তার ক্লাসিক In a Different Voice গ্রন্থে লিখেছেন, ইন্টারপারসোনাল সেনসিটিভিটি সম্পর্কে নারীদের অসাধারণ সংবেদনশীলতা রয়েছে। শতাধিক নারী ও পুরুষের একটি ইন্টারর্ভিউতে , বালক ও বালিকা, তিনি ও তার সহকারী নারীরা নিজেদেরকে অন্যদের প্রতি জটিলভাবে আকৃষ্ট, সম্পৃক্ত, আনুগত ও দায়িত্বশীল বলে গণনা করছেন। তারপর নারীরা সে বন্ধন লালন করে।

মূলত, চাপের পরিস্থিতিতে নারীরা সামাজিক কৌশলে তাদের উত্তেজনা প্রকাশ করে যেটাকে বলে “Tend and Befriend”! তারা আরাম ও সংযুক্তির জন্য তাদের কাছেই ছুটে যায়। আর অন্যদিকে পুরুষরা চাপের মধ্যে অনেক এগ্রেসিভ হয়ে যায়। (Taylor 2000)

আমরা এক্ষেত্রে আমাদের নিজের পরিবারের সদস্যদেরকেই উদাহরণ হিসেবে নিতে পারি। একটি বড় বাড়ীর মধ্যে শত শত মেম্বার থাকে। আপনার বোন বা মা সে অজস্র মানুষের মধ্যে কয়েকজনের মধ্যে বন্ধন তৈরি করে, আর যেকোনো মানসিক সংকটে তারা তাদের কাছে ছুটে যায়, এবং সামাজিকভাবে নালিশের সুরে কথা বলে অথবা কান্নাকাটি করে। ( Kinckmeyar et al.2006)

 

নারীরা কেনো প্রো- সোশ্যাল?

এ ধরণের মেয়েলি বা নারীবাদী আচরণ সামাজিক বন্ধন তৈরি করে, তারা অজস্র মস্তিষ্ককে এক তারে বেঁধে ফেলে, আর এ মানসিকতা সরাসরি ইস্ট্রোজেন ব্রেন সিস্টেমের সাথে সম্পৃক্ত। নারী হলো তা বিজ্ঞানীরা যাকে বলেন, প্রো-সোশ্যাল এবং তারা খুবই বিশুদ্ধভাবে নিজেদের এম্পেথি প্রকাশ করতে পারে।

আমরা জানি যে নারীরা খুবই বিশ্বস্ত, তারা অন্যের ইমোশন ও ইনট্যুইশনের পাঠক। অক্সিটোসিন খুব নিবিড় এক ফিমেইল হর্মোন । যেটি আবারও খুব গভীর ভাবে এ সকল প্রো-সোশ্যাল বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ফিশার বলেন, প্রকৃতপক্ষে যখন আমি ও আমার ব্রেন স্ক্যানিং পার্টনার দুটি গ্রুপকে FMRI স্ক্যানারের নিচে রাখি, আমরা দেখতে পাই যে যারা ব্যক্তিত্বের স্কেলে ভালো করেছে তাদের মস্তিষ্ক ইস্ট্রোজেন সিস্টেমের সাথে সম্পৃক্ত, যেগুলো মস্তিষ্কের সে সকল এলাকার একটিভিটি প্রকাশ করে যা এম্পেথির সাথে সম্পৃক্ত, এটি এমন একটি ব্রেন এরিয়া যেটি আবার গর্ভাবস্থায় ইস্ট্রোজেনের তৈরি।

নারীদের ইনট্যুইশন, ওয়েভ থিংকিং, নতুন নতুন মানুষের চেহারার প্রতি তাদের আগ্রহ, তাদের ধৈর্য, মেন্টাল ফ্ল্যাক্সিবিলিটি এবং তাদের দীর্ঘস্থায়ী দৃষ্টি, ইন্টারপারসোনাল রিলেশনশিপে তাদের সংবেদন এবং সামাজিক এফিলেশন বা সংযোজনের ক্ষুদা এসবকিছু নারীর মন, যেগুলো সন্তান লালন-পালনের উদ্দেশ্যে আমাদের পূর্বসূরী নারীদের মধ্যে বিবর্তিত হয়েছিল।

ডারউনীয় মানুষ যদিও ভালো আচরণ করতো কিন্ত তারা ছিল বানরের রুপ। বিজ্ঞানীরা প্রথমে ভাবতে পারেননি যে মানুষ ও জন্তুর মধ্যে একটি নিরবিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এটি নিশ্চিত করার ভেতর দিয়ে, নৃবিজ্ঞানী McGrew বলেন, শিম্পাঞ্জিদের মধ্যেও তিনি এ লিঙ্গ বৈষ্যমের স্তরটি খুঁজে পান। লেক ইস্ট আফ্রিকার তাঙ্গানিকায়, যে সকল পুরুষ শিম্পাঞ্জি বাস করতো, আমরা দেখেছি,  তারা একে অপরকে গোপনে অনুসরণ করে, তাড়া করে ও হত্যাও । তারা খুবই স্থানিক এবং অত্যন্ত এগ্রেসিভ কর্মকাণ্ড ঘটায়। এ শিম্পাঞ্জি পুরুষরা তাদের নিজের বর্ডার সুরক্ষা করে, তাদের কমিউনিটির ভূখন্ড পাহারা দেয়__ একটি পেশা যেটি নিজেও স্থানিক, নিস্তব্ধ ও আগ্রাসী। পুরুষ শিম্পাঞ্জিরা একে অপরকে পাথর ছুঁড়ে  মারে ও বৃক্ষরাজি নাড়ায় যার সাথে সরাসরি __মোটর টাস্কের সম্পর্ক আছে। (McGrew 1981.)

নারী শিম্পাঞ্জি একজন সংগ্রাহক। তারা ক্ষুদ্র টারমাইট ও পিঁপড়া শিকার করে। এ জন্য তাদের হাতে অনেক বেশি দক্ষতা প্রয়োজন। তারা এ কাজটা করতো চিকন কাঠি দিয়ে। নারী শিম্পাঞ্জি সোশ্যাল গ্রুমিং এ অনেক বেশি সম্পৃক্ত হয়। যখন তারা খাবার অনুসন্ধান করে, তারা তাদের সঙ্গীকে গ্রুমিংও করে এবং শিশুদের দেখাশুনা। তাদের স্পর্শ করে ও বাক শক্তি প্রদান করে। আর এটা তাদের শব্দকেও শানিত করে।

অন্যান্য প্রাইমেটদের মতো, পুরুষ শিম্পাঞ্জি ডাক দেয়, গোঁ গোঁ শব্দ করে এবং গর্জন করে। তারা অধিক কর্কশ শব্দ তৈরি করতে পারে,  যেখানে নারীরা অধিক পরিচ্ছন্ন ডাক তৈরি করে এবং সংযুক্তির আবেদন। ( McGuinness 1979.) আমরা শিম্পঞ্জিদের পর্যবেক্ষণ করলে, আফ্রিকাতে বসবাসরত আমাদের আদিম পূর্বসূরীদেরও আমরা বুঝতে পারি। আমাদের পূর্বসূরিরা ক্ষুদ্র শিকার করতো, সংগ্রহ করতো, বীজ ও বেরি অনুসন্ধান করতো বৃক্ষভূমিতে এবং তার বাহিরের সমভূমিতে , আর এখান থেকেই লিঙ্গ বৈষ্যম্য পরিচ্ছন্ন হয়ে উঠে, লিঙ্গ বৈষ্যম্যই টিকে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। যা আজকের নারী ও পুরুষদের স্থানিক ও শাব্দিক দক্ষতায় পার্থক্য সৃষ্টি করে এবং তাদের রয়েছে সজ্ঞা, ওয়েভ থিংকিং, হ্যান্ড আই, কো-অর্ডিনেটর ও এগ্রেসিভনেস।

 

হাড়ের বিভ্রম

ট্যাপোনোমি হলো দুর্দান্ত এক বিজ্ঞান যা পেছনের দিকে ফসিল হয়ে যাওয়া হাড় নিয়ে কাজ করে। কিভাবে আধুনিক মানুষরা মাংস কাটে, কিভাবে অন্যান্য মাংসাশী যেমন সিংহ ও হায়েনারা হাড় চিপায় এবং কিভাবে পানি ও বাতাস হাড়ের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ট্যাপোনোমি প্রতিষ্ঠিত হয় কিভাবে প্রাচীন হাড় অবতরণ করে তাদের বর্তমান অবস্থান এবং অবস্থায় যা এখন সেগুলো প্রাপ্ত হয়েছে। যেমন- টপোনোমিস্ট দেখে যে, শিকারীরা পশুর মৃতদেহ কাটে এবং তারা বিবৃতি প্রদান করে কখন শিকারীরা মাংস সরিয়েছে, তারা হাড়ের কেন্দ্রে কাটার একটা দাগ রেখে যায়। উর্বর চামড়া ও কান্ডে তারা স্বতন্ত্র কাটার চিহ্ন খোদাই করে যা হাড়ের কাছে এসে শেষ হয়। হায়েনারা অন্যদিকে পা চিবায় এবং হাড়ের শেষভাগ। আর পরিত্যাক্ত হাড়ে তারা ভিন্ন রকম একটি চিহ্ন রেখে যায়। (Behrensmeyer and Hill 1980; Brain 1981.)

এ ধরণের অজস্র ট্যাপোনোমিক ইঙ্গিত ব্যাবহার করে ওলডুবাইতে আজ থেকে ২ মিলিয়ন বছর পূর্বে আসলে কী ঘটেছিল;  হেনরি বুন ও এলেন ক্রোলের কাছ থেকে আমরা এ ব্যাপারে জানতে পারি। এসব প্রাচীন হাড় পর্যবেক্ষণ করে নৃতাত্ত্বিকরা বলতে শুরু করেন, আমাদের পূর্বসূরিরা কচ্ছপ, কলম, হার্জস এবং অন্যান্য প্রাণী দড়ির জ্বাল দিয়ে শিকার করতে শুরু করেছিলেন অথবা তাদের নিজের হাতে। কারণ সিংহরা মাঝারি আকারের প্রাণীদের টেনে এনে ফেলতো যেমন গ্যাজেল, আমাদের পূর্বসূরীরা সম্ভবত শিকার করেছিলো যাদের হাড় এখানে পাওয়া গেছে।

 

 

মানব মনের ফসিল
তথ্যসুত্রঃ Olduvai Gorge | archaeological site, Tanzania | Britannica

 

 

যে সকল বড় বড় প্রাণীদের শরীরে মাংসাসীদের দাঁতের দাগ নেই, সেগুলো সম্ভবত সে সকল প্রাণী, যেগুলো আমাদের পূর্বসূরীরা শুকনো মৌসুমে সংগ্রহ করেছিল যখন তারা তৃষ্ণায় পতিত হয়। এবং সে সকল হাড়ের মধ্যে মাংসাশীদের দাঁতের চিহ্ন দেখে মনে হয় আমাদের পূর্বসূরিরা নিশ্চয় সংগ্রাহক ছিল। হয়তো তারা তাদের প্রতিযোগিতা থেকে মাংসাসীদের সরিয়ে রেখেছে তাদের খাবার দলবদ্ধভাবে চুরি করার মধ্য দিয়ে। হয়তো তারা প্রতিযোগীদের অবশিষ্টাংশ চুরি করেছে যখন তারা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল। তারা সে সব মৃতদেহ চুরি করেছে যেসব শবকে চিতারা গাছের ডালে এনে জমা রাখতো। Cavallo 1990; Cavallo and Blumenschine 1989.

আমাদের প্রাচীন পূর্বসূরিরা শুধুমাত্র সংগ্রাহকই নয়, তারা টোকাইও ছিল, তারা আবর্জনা কুড়াতো ও শিকার করতো এবং এছাড়াও ( আজ আমরা যাদেরকে টোকাই বলে গালি দেই, তারাই ছিল আমাদের পূর্বসূরী) এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে তারা পশু জবাই করতো। কিছু কিছু যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে যা হাড় থেকে মাংস কাটার সময় ব্যবহারিত হতো আর মাইক্রোস্কোপিক যন্ত্র দিয়ে বিশেষজ্ঞরা সেই দাগও খুঁজে পেয়েছে। অজস্র হাড়ের প্যারালাল কাট মার্ক রয়েছে মাংসের কান্ডের ঠিক মাঝখানে যেঅংশগুলো  অবশ্যই মাংসের সাথে কেউ কেটে ফেলেছিল । এবং অন্যান্য জীবাশ্মের হাড়ের সন্ধীতে এমনকিছু সরঞ্জামের কাটা দাগ রয়েছে যেখানে কেউ তার অঙ্গপ্রতঙ্গগুলো ছড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘ হাড়গুলো বহন করে উপকূলে নিয়ে যায়।

একেবারে অবশেষে , অনুপাতহীনভাবে, বিরাট সংখ্যক মাংসল হাড়ের কান্ড পাওয়া যায় বন্য হরিণের মতো মধ্য আকারের প্রাণীদের যা নির্দেশ করছে যে আমাদের পূর্বসূরিদের যথেষ্ট মাংস ছিল কো-অপারেটিভ গ্রুপ শেয়ারিং এর জন্য। মানুষ আস্তে আস্তে কষাই হতে শুরু করলো, তারা পশুর মাংস বহন করতো এবং সে মাংস বাঘ করতো আজ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে! আমরা মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকেই কষাই শ্রেণীর মনস্তত্ব পেয়েছি, এই যে আজ প্রতি বছর এত লক্ষ লক্ষ পশু হত্যা করা হয় তা আমাদের সে আদিম মনস্তত্বেরই একটি প্রতিফলন। এখনো আমাদের মাঝে পশু জবাই, মাংস সংগ্রহ ও বিতরণের মানসিকতা আগের মতই কাজ করে!

তবে এই হাড় ও পাথরগুলো কেনো পৃথক স্তুপে রয়েছে? হাড়, যন্ত্র, আশপাশের জায়গা এবং কম্পিউটার সিমুলেশনের উপর দীর্ঘ সময় এনালায়সিসের পর, শক্তির অপচয়, ভ্রমণ সময় ও অন্যান্য চলকগুলো সমন্বয় করে নৃ-বিজ্ঞানী রিচার্ড পট থিওরাইজ করেন Olduvai এর হাড় ও পাথরের আচ্ছাদন, যেখানে আমাদের পূর্বসূরিরা তাদের যন্ত্রগুলো এবং পাথরের কাঁচামাল লুকিয়ে রেখেছিল !! এখানে তারা টুলস তৈরি করেছে, পরিত্যাগ করেছে, তারপর দ্রুত অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রাণীদের শরীরের অংশগুলো কেটে নিয়েছে, মাংস কর্তন করার পর, তারা মজ্জা আহরণ করতো, সংগ্রহ করতো গরুর চামড়া, আর তারপর কষাইখানা ত্যাগ করতো হায়েনারা পৌঁছানোর পূর্বেই! তারপর তারা যখন এ এলাকায় আসতো তারা আবার এসব স্টোন ক্যাশে ভ্রমণ করতো। বছর দশক ধরে হাড় এবং সরঞ্জাম এবং কাঁচামাল পুঞ্জিভূত হতো। আর তারপর মেরি লিকি এ আবর্জনার স্তুপ খুঁজে পান।

 

 

195 Olduvai Gorge Stock Photos, Pictures & Royalty-Free Images - iStock

 

এই পরিত্যাক্ত আবর্জনা নারী, পুরুষ ও লিঙ্গের ভিন্ন ভিন্ন দক্ষতা সম্পর্কে আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলে। মিলিয়ন বছর পূর্বে আমাদের পূর্বসূরীদের যদি ভূপৃষ্ঠে পাথরের গুপ্ত ভান্ডার থেকে থাকে, যা ছিল পশু জবাইয়ের যন্ত্র ও কাঁচামাল দ্বারা পরিপূর্ণ, তাহলে এ প্রাচীন মানবরা তাদের কাজকে সমন্বয় করতে পারতো, ভয়ানক সব প্রচেষ্ঠায় লিপ্ত হতো , মধ্য মাপের চেয়ে বড় মাপের প্রাণীদের মাংস পাওয়ার জন্য এবং তারা এটিকে খেতে বিলম্ব করতো এবং লেকের পাশে নির্দিষ্ট একটি স্থানে একত্রিত হতো ভাগ করার জন্য, তারা মাংস কাটতো এবং তাদের কাছে যথেষ্ট খাবার ছিল তাদের আত্মীয়দের মধ্যে এটি শেয়ার করার জন্য এবং বন্ধুবান্ধব।

 

 

মানব মনের ফসিল
The Oldupai Gorge Site Museum and Visitor Center

 

 

এবং এটা খুবই উচ্চমাত্রিকভাবে বৈশাদৃশ্যপূর্ণ, অনেক প্রাচীন নারী, মাঝেমাঝে ক্ষুদ্র শিশুদেরকে পরিবহন করতো, শিকার ও সংগ্রহের মারাত্মক সব কর্মকান্ডে জড়িত হতো এবং মাঝেমাঝে মধ্যবর্তী আকারের প্রাণী ! কারণ এত ভয়ানক কাজ নারীদের জন্য রীতিমত অসম্ভব ছিলো। প্রায় এক দশক ধরে, ডারউইন “পুরুষ শিকারী” কনসেপ্ট প্রবর্তন করার পর, একাডেমিকরা প্রাচীন নারীদের রুলসকে অস্বীকার করেছেন। কারণ  ১৯৮০ সালে সংশোধনবাদী নৃ-তাত্বিক সরলরৈখিকভাবে একটি রেকর্ড সেট করেন। আজকে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাচীন নারীরা খুব সহযভাবে অত্যন্ত উৎপাদনশীল কাজে জড়িত ছিল, অধিক নির্ভরযোগ্য কর্মকান্ড, বাদাম, বেরী, সবজি ও সুস্বাদু ডিম সংগ্রহ। দূর্ভাগ্যবশত, সংগ্রহের একটি মূল টুলস__খননকারী লাঠি ও ক্ষুদ্র থলি__ সাধারণত ফসিলাইজ হয়না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক এন্টিলোপের ভাঙা হাড়ের টুকরা Swartkran, সাউথ আফ্রিকাতে খুঁজে পান, যে হাড়ের সামনের অংশ খুবই মসৃন ।

 

 

মানব মনের ফসিল

 

হাড়ের ডগায় মাইক্রোস্কিপ প্যাটার্ন ধরা পড়েছে যে হয়তো কেউ সবজি কাটার জন্য এটি  ব্যবহার  করেছিল মিলিয়ন বছর আগে । এই এরিয়ার দাঁত ইঙ্গিত করেছে যে, আমাদের পূর্বসূরিরা প্রচুর পরিমাণ ফল খেতো। পট নির্দেশ করেন যে, মাংস ২০ শতাংশের কম ডায়েট দ্বারা গঠিত হতো। (Potts 1984, 1988.)

অতএব পুরুষ যদি অধিক পরিমাণ শিকার ও আবর্জনা সংগ্রহ করে থাকে। নারীরা ফল ও শাকসবজি সংগ্রহ করেছিল । নারীদের ছিল একটি অপরিহার্য জব দুই মিলিয়ন বছর পূর্বে। সময়ের সাথে, এ প্রতীয়মান লিঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে  (যা আমাদের প্রাচীন প্রাইমেট রিলেটিভদের মধ্যে উন্নত হয়ে উঠে) পুরুষরা ম্যাপ, ম্যাজ ও অন্যান্য স্থানিক দক্ষতার দিক থেকে উন্নত হয়  এবং তাদের গ্রস মোটর কো-অর্ডিনেশন। একটা সময় দিন শতাব্দীতে পরিণত হয়, নারীদের স্থানিক স্টেশনারী মেমরি, শাব্দিক দক্ষতা, তাদের সেবামূলক সুবিধা, ফাইন মোটর দক্ষতা, তাদের ভূতুড়ে ইনট্যুইশন এবং ওয়েভ থিংকিং সবকিছু দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠে।

 

ন্যাচার অব ইনটিমেচি

লিঙ্গের অসমতা সম্ভবত ব্যাখ্যা করতে পারে দুটি সেক্সের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পার্থক্য। আমরা সংগ্রাম করি, আমি ও তুমি, অন্তরঙ্গতার সাথে। মাঝেমাঝেই নারীরা তাদের হতাশা প্রকাশ করে এই বলে যে, তাদের সঙ্গীরা কখনো তাদের সমস্যার কথাগুলো প্রকাশ করতে চায়না, তারা তাদের আবেগ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে, তারা শুনতে চায়না, তারা নিজেদের মধ্যে একাকীত্ব চর্চা করে। নারীরা অন্তরঙ্গভাবে কথা বলতে চায়। সমাজবিজ্ঞানী, হ্যারি ব্রোড বিবৃতি প্রদান করেন যে, পুরুষরা ভিন্ন রকমভাবে তাদের অন্তরঙ্গতা প্রকাশ করতে চায়, সাইড বাই সাইড  কাজ করে অথবা  খেলাধুলা করার মাধ্যমে  আর অন্যদিকে তারা নারীদের সাথে Face to Face কথা বলতে পছন্দ করে।। (Zihlman 1981.)

পুরুষের ব্রেন খেলতে ভালোবাসে। তাদের ব্রেন প্লেয়ার! ক্রিকেট বা ফুটবল গেম কী এখানে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় এখানে । কিন্তু ম্যাপ, ধাঁধা, বিভ্রম, স্থানিক কর্মকাণ্ড এবং আগ্রাসী প্রতিযোগিতা __ এবং এ সকল বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত দক্ষতা যা পুরুষের মস্তিষ্কের নিউরাল কর্টেক্সে প্রতীয়মান হয় আর ঠিক এজন্যই পুরুষ ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। এখানেও একদল অন্যদলকে শিকার করছে। এখানেও ম্যাপ, ধাঁধা, ইলুশন ও স্পেসের মাত্রার সাথে সম্পৃক্ত কর্মকাণ্ড আছে, আছে এগ্রেসিভনেস । হেলেন ফিশার বলেন, প্রকৃতপক্ষে টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখা আর আফ্রিকার সমতল ভুমিতে বসে বসে একটি জেব্রা কোন রুটে পথ চলতে পারে সেটি বিচার করার চেষ্টা করা পৃথক কিছু নয়!

 

 

আমাদের মধ্যে এখনো সে’ই মিলিয়ন বছর অতীতের হান্টার নিউরাল সার্কিট কাজ করছে, আমাদের ডিএনএ তে এখনো অবচেতনে সেই শিকারী মনস্তত্ব! সেই প্যারাডক্স সমাধান করার আকাঙ্খা, আমাদের মধ্যে সেই স্পেসার মেন্টালিটি, ত্রিমাত্রিকতার ভেতর শিকারী প্রাণী খোঁজ করা ও ছুটে পালানোর প্রবণতা। আর আজ এত মিলিয়ন বছর পরও আমরা সে হান্টার মনস্তত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। তাই  আজ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মিলিয়ন মিলিয়ন সমর্থক, সমস্ত বিশ্বের মস্তিষ্ক তাদেরকে ভেবে সুখী হয় এবং কষ্ট পায়! ফুটবল খেলার সাথে আমাদের সার্ভাইভালের কোন যোগসুত্র নেই কিন্তু সার্ভাইভ করার জন্য যে মনস্তত্ব বিকশিত হয়েছিল মিলিয়ন বছর পূর্বে, আমাদের শিকারী পূর্বসূরীদের সে মনস্তত্বের এক গভীর যোগসুত্র আছে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কম্পিউটার গেমস এবং অলিম্পিক খেলার সাথে! বিবর্তনের দৃষ্টিতে, শিকার হলো একটা খেলা।

বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানীরা, অনেক সময় হান্টিং করা বোঝাতে Gaming শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কারণ শিকার করাটা আসলে হাডুডু খেলা থেকে বেশি কিছু না! হাডুডু খেলার মধ্যেও আমরা একে অন্যকে শিকার করতে চাই, এজন্য আমাদেরকে ম্যাপ বুঝতে হয়, ধাঁধা বুঝতে হয়, স্পেসের বিভিন্ন মাত্রা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হয়  নয়তো আমরা প্রতিপক্ষের কাছে ধরা পড়ে যাই, ডিফেন্সের জন্য আমাদের মধ্যে থাকতে হয় জ্যামিতিক অনুভূতি ও  আগ্রাসন আর এ জন্যই আমরা অনেক সময় রক্তারক্তি লড়াইয়েও অবতীর্ণ হই! আমাদের পূর্বসূরীদের মস্তিষ্কে গেমিং নিউরাল সার্কিট বিবর্তিত হয়েছিল যেনো সে এ প্রসেসের সাথে নিজেকে অভিযোজন করতে পারে প্রাণী শিকার করার জন্য। আমরা হাডুডু বা ফুটবল খেলায় যথেষ্ট এগ্রেসিভ আচরণ করি, পার্থক্য এখানেই যে আমরা  সরাসরি একে অপরকে খেয়ে ফেলিনা ! যদি জিনগত পার্থক্য যথেষ্ট বেশি হত তবে আমরা তাদের সাথে ফুটবল খেলতাম না, সে আদিম কষাই খানার কষাই  ও আবর্জনা সংগ্রহকারীদের মতো একে অন্যকে জবাই করে খেতাম! মেসি খেয়ে ফেলতো নেইমারকে! আধুনিক সভ্য মানুষরা আগের মতো শিকারি সংগ্রাহক নয়, যদিও তাদের ডিএনএ এখনো দুই মিলিয়ন বছর অতীতের আফ্রিকার কোন এক  জঙ্গলেই ঘুরে  বেড়ায়,  প্রাণীদের সাথে টিকে থাকার আদিম প্রতিযোগীতায় অবচেতন ভাবে মেতে উঠে  আর ফুটবল ও ক্রিকেট হলো সেই আদিম মনস্তত্বেরই আধুনিক প্রতিফলন।

আমরা এখানে একে অন্যের মাংস খাইনা কিন্ত বিশ্বকাপ বা ট্রপি খাই! প্রাচীন একজন শিকারী সংগ্রাহক একটি গ্যাজেল শিকার করলে তার মস্তিষ্কে যতটুকু ডোপামিন ও সেরেটোনিন তৈরি হতো, এখন আর্জেন্টিনা অথবা স্পেন দুর্দান্ত একটি গোল করলে আমাদের মস্তিষ্কে একই ডোপামিন সার্কিট ট্রিগার হয়। আমাদের ব্রেন রিওয়ার্ড সিস্টেম এটাকে গ্যাজেল বা এন্টিলোপ হিসেবে গণনা করে!

আমরা বর্তমানে বেশি বেশি ভিডিও গেমস খেলছি। এটা আমাদের আসক্তিতে পরিণত হয়েছে! আমাদের আইফোন অথবা কম্পিউটার এ প্রাচীন সিস্টেমটির উপর অনেক বেশি চাপ প্রয়োগ করছে যা আমাদের মস্তিষ্কের জটিল কিছু মানসিক সমস্যার কারণ। আজকের নারীরা এটা জানেনা যে কেনো পুরুষ খেলাধুলার মধ্যেই অধিক আনন্দ অনুভব করে, তাদের কাছে এটাকে সম্পূর্ণ অনর্থক মনে হয়, পুরুষ চরিত্রের এ দিকটা তাদের কাছে খুবই দুর্বোধ্য ও অন্ধকার! ছেলেবেলায় যখন আমরা খেলাধুলার মাঝে  মগ্ন হয়ে উঠি , তখন আমাদের মায়েরা এটার কোন অর্থ খুঁজে পায়না! যদিও সন্তানের প্রতি স্নেহবশত তারা সেটাকে ডেডিকেট করতে পছন্দ করে। আমরা খেলার জন্য মারপিট করি, জুয়াখেলায় আসক্ত হয়ে নিজের আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করি , অনেক সময় স্ত্রীকেও বাজির দান হিসেবে ব্যবহার করি ! আমাদের সবকিছুর মধ্যেই Goal থাকে! ঠিক যেমনি ফুটবলের একটি Goal থাকে! কিন্ত কেনো নারীরা খেলার প্রতি পুরুষের আসক্তির এ সাধারণ মনস্তত্ব ধরতে পারছেনা?

এর একটি বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা আছে। মূলত, নারীদের উচিত অন্তত একটি শব্দহীন, পাশাপাশি অবসর কাটানো যা তাদের সঙ্গী পছন্দ করে, যেখানে পুরুষ তাদের হোম লাইভস একটিভিটি উন্নত করেছে নারীদের পছন্দ অনুযায়ী আর যেজন্য তারা সাইড বাই সাইড ক্রিয়া না করে সরাসরি তাদের চোখের দিকে তাকায় এবং কনভার্সেশনে যোগ দেয় একজন এক্টিভ লিসেনার হিসেবে! ( Brod 1987, Goleman 1986) পুরুষরা নারীর কাছে এলে তাদের শিকারী মনস্তত্বকে কিছুক্ষণের জন্য জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের চোখে চোখ রাখে ও অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদের কথা শুনে! আর এ জন্যই নারীরা বুঝতে পারেনা পুরুষরা কেনো শুধু শুধু খেলাধুলার প্রতি বেশি আগ্রহবোধ করে!

লিঙ্গভেদে আমাদের অন্তরঙ্গতার পার্থক্যের আরো একটি উদাহরণ রয়েছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারীরা সবসময় অন্তর্ভুক্ত, সংযুক্ত ও বন্ধনে থাকতে চায়, যেখানে পুরুষরা প্রায়শ স্পেস, প্রাইভেসি ও অটোনোমি বা স্বেচ্ছাচারীতা পছন্দ করে। আর এ জন্য নারীরা পুরুষদের দোষারোপ করে যে তাদের সঙ্গী বড্ড ফাজি ও ফাঁকিবাজ। আর পুরুষরা বলে যে তারা আসলে নারীদের দ্বারা মর্মান্তিকভাবে নির্যাতিত। নারীরা মনে করে পুরুষের প্রাইভেসীর পেছনে নিশ্চয় কোন কিন্তু আছে! তারা পুরুষের এ প্রাইভেসিতে হস্তক্ষেপ করতে চায়! কিন্তু এটা পুরুষের  মস্তিষ্কের এনাটমি! নারী মনে করে, পুরুষের প্রাইভেসিতে ইন্টারফেয়ার করলে সংসারে শুধু অশান্তিই সৃষ্টি হয় আর হস্তক্ষেপ না করলে বেড়ে যেতে পারে সংসার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা! ( Gilligan 1982)

এই যে নারীদের অন্তঃরঙ্গ ও সংযুক্ত থাকার প্রবণতা এটি কী সে সমাজের জিনগত স্মৃতি যেখানে সামাজিক গ্রুপের আরামের জন্য নারীদের সেবা প্রদান করতে হতো? আর পুরুষের স্বেচ্ছাচারীতা সম্ভবত সে সময় থেকে এসেছে যখন তারা ছিল একাকী, নির্জন স্কাউট ও গুপ্তচর?

পুরুষরা বহু হাজার বছর পুরাতন একটি প্রশ্ন করে, মেয়েরা আসলে কী চায়? আর নারীরা অন্যদিকে সর্বদা মনে করে, Men just don’t Understand! হেলেন ফিশার বলেন, I suspect our ancestor had begun to mystify one another by two million years ago, When males and female began to hunt and forage around emerald lake at Olduviai and our Fundamental skills to started Emerge!

 

কিন্তু ওল্ডুভাইয়ের মানুষরা আসলে কারা ছিলো?

 

আমাদের প্রাচীন হোমিনিন প্রজাতির মধ্যে দুই ধরণের হাড় পৃথক ভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটের পলল স্তরের নিচে। কিন্তু নৃতাত্বিকরা তাদের মধ্যে একজনকে আমাদের পূর্বসূরি হিসেবে পৃথক করেছেন, যাকে বলে, “হ্যান্ডি ম্যান অথবা হোমো হ্যাবিলস!

এদের ছিল সৌষ্ঠব মাথার খুলি এবং ক্ষুদ্র কেশর দাঁত। এ স্পিসিম্যানদের মূল চারটি আবিষ্কৃত ফসিলের নাম রাখা হয়েছে ” Twiggy( ভগ্ন ক্রেনিয়াম ও সাতটি দাঁত), জর্জ ( দাঁত ও মাথার খুলি), চিন্ডি ( নিচের চোয়াল, উপরের চোয়ালের একটি টুকরো, কিছু দাঁত ও মাথার খুলি)। এরা সবাই একটি স্রোতস্বিনীর ধারে মৃত্যুবরণ করে। যেখানে পানযোগ্য পরিশুদ্ধ পানি লবনাক্ত নোনতা জলভূমিতে বিগলিত হয়ে গেছে আজ থেকে দুই মিলিয়ন বছর পূর্বে। (Johanon and Shreeve)

মানব মনের ফসিল

 

 

টুইগি ও অন্যান্য স্পিসিম্যান ছিল খুবই বিশেষ। তারা সম্ভবত শুধুমাত্র ৩ ফুট লম্বা ছিল। কিন্তু তাদের ক্রানিয়ালের আয়তন ছিল ৬০০-৭০০ কিউবিক সেঃ মি! কিন্তু লুসি ও অন্যান্য অস্ট্রোলিপিথের গড় ক্রানিয়াল ক্যাপাসিটি ছিল ৪৫০ কিউবিক সেঃমি আমার আর আপনার থেকে প্রায় অর্ধেক। আমাদের দল ক্রমশ স্মার্ট হয়ে গেছে। নৃতাত্বিক রাল্প হলোওয়ে মস্তিষ্কের একটি সীমাসূচক রেখা আবিষ্কার করেন, তাদের ফসিলের খুলির ভেতরের ল্যাটেক্স গণনা করার মাধ্যমে। তিনি বিবৃতিপ্রদান করেন যে, মস্তিষ্কের একটি অংশ যেটি পার্থক্য তৈরি, শ্রেণীবিভক্তকরণ, প্রতিফলন ও রিজনের সাথে জড়িত তা ঠিক তখন থেকে আধুনিক কাঠামো অর্জন করে। টুইগি ও তার আত্মীয়রা সম্ভবত তখনই পরিকল্পনা তৈরি করতে শিখেছিল, তারা ভবিষ্যতের কল্পনা তৈরি করতে পারতো। ফিশার বলেন, এমনকি তারা নিজেদের মধ্যে পরিকল্পনাকে আলোচনাও করতে পারতো। হলওয়ের এন্ডোকাস্ট টুইগির মস্তিষ্কের ব্রোকা ব্রেন এরিয়ায় খানিকটা স্ফিতি দেখে। ব্রোকা এরিকা বাম কানের উপরের দিকে ব্রেনের একটি এলাকা। যা আমাদের মুখ পরিচালনা করে,জিহবা, গলা ও ভোকাল কর্ড কথার শব্দ তৈরির জন্য। হ্যান্ডিম্যানদের মস্তিষ্কের এই এলাকা স্ফিত হতে শুরু করে।

ভাষা হলো মানব সভ্যতার একটি হলমার্ক। কেউ জানেনা কখন মানব সভ্যতা যাদৃচ্ছিক শব্দ উচ্চারণ করতে শিখেছিল। তারপর সে শব্দকে ভিন্ন ভিন্ন সাউন্ডে ভাঙতে শিখেছিল। এবং তারপর এই ক্ষুদ্র নয়েসকে পূনরায় সমন্বিত করেছিল, মহান সব মিনিং দ্বারা। কিন্তু সকল প্রকার মিনিংলেস ক্ষুদ্র বিক্ষিপ্ত শব্দ, ক্লিক, হিসহিস, সন্নিবদ্ধ হয়েছিল শব্দ তৈরির জন্য, আমাদের প্রতিটি শব্দ আবার ব্যাকরণের নিয়মের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলো একটি বাক্য তৈরির জন্য। আর এভাবে মানব সভ্যতা পৃথিবীর উপর আধিপত্য বিস্তার করে।

টুইগি তার ভালোবাসার মানুষকে কী বাদাম কুড়িয়ে ঘরে ফিরে এসে ‘হেলো” বলতে পারতো?সে কী শব্দ দিয়ে কোন প্রাণীর চিহ্ন প্রকাশ করতে পারতো? সে কী তার ভালোবাসার মানুষকে ঘুম পাড়ানোর জন্য শিশ দিতে পারতো? জর্জ ও চিন্ডি কী তাদের শিশুদের কৌতুক, গল্প, মিথ্যা উপদেশ, আগামীকাল ও গতকাল নিয়ে আলোচনা করতে পারতো? নিশ্চিত, আমার আর আপনার মতো নয়।অঙ্গভঙ্গি, ঈশারা ও ফেশিয়াল এক্সপ্রেসন এবং ইন্টোন্যাশন সম্ভবত মেসেজের জন্য খুবই ক্রিটিক্যাল।

বিজ্ঞানীরা আজ বলছে মানুষের ভাষা ৫০০,০০০ বছরের পূর্বে নির্গত হয়নি। কিন্তু যেহেতু মস্তিষ্কের ব্রোকা এরিয়া প্রশস্ত হয়েছে, টুইগি সম্ভবত প্রাক-মানবিক কোন আদিম ভাষায় কনভার্সেশন করতে পারতো! তাদের থেকেই দুটি লিঙ্গে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় । পুরুষ ছিল শিকারী ও আর নারী ছিল সংগ্রাহক।  ( আগের অংশ- নারী ও পুরুষের মনস্তত্ব)

hsbd bg