মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?
মূলপাতা প্রকাশনাঅনুবাদ গ্রন্থ মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
52 বার পঠিত হয়েছে

মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

Is Universe Computer Program?


জন হুইলার,  বিশ্বাস করতেন যে, বাস্তবতাকে ইনফরমেশনে রেডিউস করা যায়। বেকেস্টাইন ব্লাকহোলের ইনফরমেশনের ধারণাটি গ্রহণ করেন এবং আর এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলেন, আমরা কী শুধুই কসমিক সিডির বিট?

আমরা কম্পিউটার প্রোগ্রাম কি না এ প্রশ্নটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্তভাবে  ” দ্যা মেট্রিক্স” মুভির সিলভার স্ক্রিনে নিয়ে আসা হয়, যেখানে এলিয়েনরা সকল ফিজিক্যাল রিয়েলিটিকে কম্পিউটার প্রোগ্রামে পরিণত করেছে। বিলিয়ন মানুষ মনে করে যে তারা তাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপন করে এ সত্য সম্পর্কে অসচেতন থেকে যে সবকিছু কম্পিউটারের মধ্যে উৎপন্ন ফ্যান্টাসি, যেখানে তাদের মূল শরীর পডে( Pod)  ঘুমন্ত। কেউ যদি ক্যারাটে মাস্টার অথবা হেলিকপ্টার পাইলট হতে চায়, সে শুধু কম্পিউটারে সিডি ইনসার্ট করবে এবং প্রেস্টো! সে ইনস্ট্যান্ট এ জটিল দক্ষতা শিখে ফেলবে! যখন সিডি চালু হবে, সামষ্টিকভাবে নতুন এক সাব-রিয়েলিটি তৈরি হবে। কিন্তু এটি একটি ভয়ানক প্রশ্নের জন্ম দেয়, সকল বাস্তবতাকেই কী সিডি’তে স্থাপন করা যায়? বিলিয়ন বিলিয়ন ঘুমন্ত মানুষের রিয়েলিটি সিমুলেট করার জন্য যে কম্পিউটার পাওয়ার প্রয়োজন তা সত্যিই বিস্ময়কর।  কিন্তু তাত্বিকভাবে,  সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকেই কী সীমিত একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামে ডিজিটালাইজড করা যায়? এ প্রশ্নের মূল নিউটনের গতির সুত্রের কাছে চলে যায়, জীবন ও ব্যাবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাপ্লিকেশন। মার্ক টোয়েন একটি উক্তির জন্য বিখ্যাত,



সবাই আবহাওয়ার কথা বলে কিন্তু কেউ এ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু করতে পারেনি। আমাদের আধুনিক সভ্যতা এখনো একটি বজ্রপাতের প্রবাহও পরিবর্তন করতে পারেনি। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানী খুব বিনয়ী একটি প্রশ্ন করেন, আমরা কী আবহাওয়াকে প্রেডিক্ট করতে পারি?  এমন কোন কম্পিউটার প্রোগ্রাম কী স্থাপন করা যায় যা পৃথিবীর আবহাওয়ার জটিল প্যাটার্ন প্রেডিক্ট করতে পারবে?  এর রয়েছে অত্যন্ত ব্যবহারিক একটি অ্যাপ্লিকেশন সবার জন্য যারা আবহাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, কৃষকরা জানতে চায়, কখন তাদের ভালো ফলন হবে আর বায়ুবিজ্ঞানীরা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কার্যধারা বুঝতে চায়।



মূলনীতি অনুসারে, কম্পিউটার নিউটনের গতির সূত্র ব্যবহার করে যাদৃচ্ছিক যথার্থতার সাথে আবহাওয়ার মলিকিউলগুলো গণনা করতে পারে। কিন্তু ব্যবহারিকভাবে,  কম্পিউটার প্রোগ্রাম চূড়ান্ত ভাবে অপরিশোধিত এবং কয়েকদিনের বেশি সময়ের আবহাওয়া প্রেডিক্ট করার জন্য এগুলো বিশ্বাসযোগ্য নয়। আবহাওয়াকে প্রেডিক্ট করার জন্য, একজন ব্যক্তির প্রয়োজন প্রতিটি মলিকিউলের মোশন ডিটারমাইন করা __ এমনকিছু যার বিশালতা  আমাদের শক্তিশালী কম্পিউটার থেকেও অনেক উদ্ধে; এখানে রয়েছে কেওস থিওরি ও বাটারফ্লাই ইফেক্টের একটি সমস্যা, যেখানে এমনকি প্রজাপতির পাখার অতি-ক্ষুদ্র একটি ভাইব্রেশন  রিপল ইফেক্ট তৈরি করতে পারে, মূল সংযোগে, প্রতারণামূলক ভাবে কয়েশত মাইল দূরের আবহাওয়াকে পরিবর্তন করে দিতে পারে।



গণিত এ পরিস্থিতিতিটাকে সামারাইজ করতে পারে এমন একটি বিবৃতি প্রদানের মাধ্যমে যে, সবচেয়ে ক্ষুদ্রতর মডেল যা আবহাওয়াকে সামারাইজ করতে পারে তা হলো আবহাওয়া নিজেই।  প্রতিটি মলিকিউল মাইক্রো এনালাইজ না করে আমাদের আগামীকালকের আবহাওয়া অনুমান করা উচিত এবং বিশাল প্রবণতা ও ধরণ। ( যেমন- গ্রীন হাউজ ইফেক্ট)



অতএব নিউটনের জগতের জন্য এটি হ্রাস অযোগ্যভাবে কঠিন কম্পিউটার প্রোগ্রামকে রেডিউস করা। যেহেতু এখানে অনেক বেশি চলক ও অজস্র প্রজাপতি। কিন্তু কোয়ান্টাম জগতে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। বেকেস্টাইন যেমনটি আমরা দেখেছি, দেখিয়েছেন যে, ব্লাকহোলের ইনফরমেশন কন্টেন্ট এর ঘটনা দিগন্তের পৃষ্ঠ এলাকার সমানুপাতিক।  এটাকে দেখার জন্য রয়েছে একটি স্বজ্ঞামূলক উপায়।  অনেক পদার্থবিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতর দূরত্ব হলো প্লাঙ্ক ল্যাংথ  10-33  এ অবিশ্বাস্য ক্ষুদ্র দূরত্বে, স্পেস-টাইম আর মসৃন থাকে না, কিন্তু ফেনিল হয়ে যায়, বাবলের ফেনার অনুরুপ। আমরা ঘটনা দিগন্তের গোলাকার পৃষ্ঠকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্কয়ারে ভাগ করতে পারি, প্রতিটির আকার প্লাংক ল্যাংথের মতো। যদি এর প্রতিটি স্কয়ার এক বিট ইনফরমেশনও বহন করে এবং আমরা প্রতিটি স্কয়ার যোগ করি, আমরা মোটের উপর ব্লাকহোলের সকল ইনফরমেশন কন্টেন্ট পেয়ে যাই।  এর মানে হলো, প্রতিটি প্লাঙ্ক ল্যাংথ তথ্যের ক্ষুদ্রতম একক। যদি এটি সত্য হয় তবে বেকেস্টাইন বলেন, ইনফরমেশন হলো ফিজিক্সের সত্যিকার ভাষা, ফিল্ড থিওরি নয়। যেমন তিনি বলেন, ফিল্ড থিওরি, তার অসীম নিয়ে, ফাইনাল থিওরি হতে পারেনা।



এখনো পর্যন্ত, উনিশ শতকের মাইক্যাল ফ্যারাডের কাজ, ফিল্ডের ভাষায় গঠিত হয়েছে, যা ছিল মসৃন ও প্রবাহমান এবং যা ম্যাগনেটিজম, ইলেক্ট্রিসিটি ও গ্র্যাভিটির  দৃঢ়তা পরিমাপ করে এবং স্পেস-টাইমের যে কোন বিন্দু থেকে।  কিন্তু ফিল্ড থিওরি নিরবিচ্ছিন্ন গঠনের উপর নির্ভর করে, ডিজিটালাইজড কোনোকিছুর উপর নয়। একটি ফিল্ড যেকোনো ভ্যালু ধারণ করতে পারে, যেখানে ডিজিটাইজড নাম্বার সবসময় বিক্ষিপ্ত নাম্বারের প্রতিনিধিত্ব করে OS এবং IS। পার্থক্য এখানে, উদাহরণস্বরূপ,   আইনস্টাইনের থিওরিতে প্রাপ্ত মসৃন রাবার সিট ও সুক্ষ্মভাবে বুনা একটি জালের মধ্যে, রাবারশিটকে অসীম বিন্দুতে ভাগ করা যায় কিন্তু জ্বালের রয়েছে একটি ক্ষুদ্রতম দূরত্ব, একটি মেস ল্যাংথ।



বেকেস্টাইন সাজেস্ট করেন, পরবর্তী তত্ত্ব অবশ্যই ফিল্ড সংশ্লিষ্ট হবেনা, স্পেস-টাইমও না, কিন্তু তার বদৌলে তথ্য বিনিময় হবে ফিজিক্যাল প্রসেসে। যদি মহাবিশ্বকে OS এনং 1S এ ডিজিটালাইজড করা যায়, তাহলে মহাবিশ্বের সামষ্টিক তথ্যের সারাংশ কী? বেকেস্টাইন ধারণা করেন, একটি ব্লাকহোল সেঃমি এর মধ্যেই ১০৬৬ বিট ইনফরমেশন ধারণ করে। কিন্তু যদি সেঃমি সাইজের একটি অবজেক্ট অজস্র ইনফরমেশন ধারণ করে,  তিনি অনুমান করেন, দৃশ্যমান মহাবিশ্ব তার চেয়ে বেশি তথ্য ধারণ করে,  যা 10100 বিট ইনফরমেশন এর চেয়ে কম নয়। ( যেটিকে মূলনীতি অনুসারে এমন একটি গোলকে সংকোচিত করা যায় যা দশ লাইট ইয়ার্স বিস্তৃত,  একটি বিশাল নাম্বার, ১ অনুসরণ করে ১০০ টি শূন্য , যেটাকে Google বলে)



যদি এ ছবি সঠিক হয়, আমরা একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি পাই। এটি সম্ভবত বোঝায় যে, যদিও নিউটনের জগতকে কম্পিউটারে সিমুলেট করা যাবেনা ( অথবা সিমুলেটেড করা যেতে পারে, একটি সিষ্টেম দ্বারা, বিশাল সিষ্টেম হিসেবে), কোয়ান্টাম জগতে সম্ভবত মহাবিশ্বকেই CD এর মধ্যে রাখা যাবে। আমরা আমাদের জগতের যে কোন ইভেন্ট আমাদের শয়ন কক্ষে প্রকাশিত হতে দেখতে পাবো। মূলনীতি অনুসারে, যে কেউ এই CD এর বিটকে রি-প্রোগ্রাম অথবা সাজাতে পারে, যে জন্য ফিজিক্যাল রিয়েলিটি ভিন্নভাবে অগ্রগতি লাভ করবে। একটি সেন্স থেকে যে কারো হয়তো ঈশ্বরের মতো ক্ষমতা আছে স্ক্রিপ্টটি পূনরায় লিখার জন্য।


( বেকেস্টাইন স্বীকার করেন যে, মহাবিশ্বের সামষ্টিক তথ্য তার চেয়েও বেশি। প্রকৃতপক্ষে,  ক্ষুদ্রতর ভলিউম যা মহাবিশ্বের ইনফরমেশন কনটেইন করতে পারে , তা সম্ভবত মহাবিশ্বের আকারের সমান। যদি এটি সত্য হয় তবে আমরা সেখানেই ফিরে যাবো যেখান থেকে শুরু করেছি; ক্ষুদ্রতর সিষ্টেম যা মহাবিশ্বের মডেল তৈরি করতে পারে , সেটি মহাবিশ্ব নিজেই)



স্ট্রিং থিওরি যাইহোক, “ক্ষুদ্রতর দূরত্বের” কিছুটা ভিন্ন ইন্টারপ্রিটেশান প্রদান করে এবং আমরা মহাবিশ্বকে সিডি ‘তে ডিজিটালাইজ করতে পারবো কি না।  M-Theory Possess করে যেটাকে বলে T-duality। স্মরণ করো,গ্রীক দার্শনিক জেনো মনে করতো, একটি রেখাকে অসীম সংখ্যক বিন্দুতে ভাগ করা যায় কোন সীমা ছাড়াই। বর্তমানে বেকেনস্টাইনের মতো অধিকাংশ কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানী মনে করে যে, ক্ষুদ্রতর দূরত্ব সম্ভবত প্লাঙ্ক দূরত্ব যা 10-33 সেঃ মি। যেখানে স্পেসটাইম ফেনীল ও বুদ্ধুদ হয়ে যায়, এম-থিওরি আমাদের নতুন টুইস্ট প্রদান করে। মনে করো, আমরা একটি স্ট্রিং তত্ত্ব গ্রহণ করলাম এবং একমাত্রায় কুকড়ে দিলাম একটি বৃত্ত যার রেডিয়াস R। তারপর আমরা আর একটি স্ট্রিং গ্রহণ করলাম তারপর সেটাকে একমাত্রার একটি বৃত্তে কুকড়ে  দিলাম যার রেডিয়াস 1/R। এ দুটো আলাদা থিওরিকে তুলনা করে আমরা পেলাম যা পুরোপুরি একই। (প্যারালাল ওয়ার্ল্ড- মিচিও কাকু)



এখন মনে করুন, R এক্সট্রিমলি ছোট হয়ে গেলো, প্লাঙ্ক ল্যাংথ থেকেও ক্ষুদ্র। এর মানে হলো প্লাঙ্ক ল্যাংথের ফিজিক্স ও প্লাঙ্ক ল্যাংথের বাহিরের ফিজিক্স একই। প্লাঙ্ক ল্যাংথে স্পেস-টাইম ফেনীল ও বুদবুদযুক্ত হয়ে যায় কিন্তু প্লাঙ্ক ল্যাংথের ভেতরের ফিজিক্স ও বিশাল দূরত্বের ফিজিক্স একই, মসৃন ও সমরুপ! এ ডুয়ালিটি সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন ওসাকা ইউনিভার্সিটির কেজি কিক্কাওয়া এবং তার ছাত্র মাসামি ইমাসাকি। যদিও স্ট্রিং তত্ত্ব সুস্পষ্টভাবে অন্তঃভূক্ত করেছে যে, একটি ক্ষুদ্রতর দূরত্ব আছে যেটি প্লাঙ্ক দূরত্ব, ফিজিক্স আচমকা প্লাঙ্ক লিমিটে ভেঙে পড়েনা। নতুন টুইস্ট হলো যে প্লাঙ্ক ল্যাংথের চেয়ে ক্ষুদ্রতর ফিজিক্স ও প্লাঙ্ক ল্যাংথের চেয়ে দীর্ঘতর ফিজিক্স সমান।


যদি এই উলটপালট ইন্টারপ্রিটেশান কারেক্ট হয়। এর মানে হলো, এমনকি ক্ষুদ্রতর দূরত্বেও সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব অস্তিত্বশীল। অন্যকথায়, আমরা এখনো ফিল্ড থিওরি ব্যাবহার করতে পারি এর প্রবাহমান( নট ডিজিটালাইজ) স্ট্রাকচার ব্যাখ্যা করার জন্য, যা মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করে, এবং পাঙ্ক এনার্জির ক্ষুদ্রতর দূরত্বেও। অতএব সম্ভবত মহাবিশ্ব কম্পিউটার প্রোগ্রাম নয়। যেকোনো মুহূর্তে,  যেহেতু এটি সুসঙ্গায়িত সমস্যা, সময়ই বলে দেবে।


( এ T- Duality হলো একটি জাস্টিফিকেশান, Pre Bigbang দৃশ্যপটের যা আমি ও ভেনিজিয়ানো আগেই মেনশন করেছি। এ মডেলে ব্লাকহোল  প্লাঙ্ক ল্যাংথে কলাপ্স করে তারপর বিগব্যাং এ বাউন্স ব্যাক করে। এ বাউন্স আকষ্মিক নয়, কিন্তু এটি একটি মসৃন T-Duality যে, ব্লাকহোল প্লাঙ্ক ল্যাংথ থেকে ক্ষুদ্র এবং সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব প্লাঙ্ক ল্যাংথ থেকে বড়)



অনুবাদ

প্যারালাল ওয়ার্ল্ড , মিচিও কাকু

মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

মহাবিশ্ব কী একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম?

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!