মনের সাথে জড়িত ভবিষ্যত প্রযুক্তি
মূলপাতা বিজ্ঞাননিউরোসায়েন্স মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
160 বার পঠিত হয়েছে

নিউরাল ম্যাপিং এবং মনের সাথে জড়িত ভবিষ্যতের প্রযুক্তি( মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যত)

পর্ব-১

কোয়ান্টাম ব্রেন মডেল তৈরির পূর্বে আমরা মনের নিউরোসায়েন্স এবং তার সাথে সম্পৃক্ত প্রযুক্তিগুলি নিয়ে আলোচনা করবো।প্রথমত আমরা আলোচনা করবো ব্রোকা ব্রেন নিয়ে।পিয়ের পাউল ব্রোকা একবার একজন পেশেন্টের উপর গবেষণা করে দেখেছেন তার কথা বলার সমস্যা ব্যাতীত তার মধ্যে আর সবকিছুই স্বাভাবিক ছিলো যেটাকে ডিফিসিট স্পিচ বলে।পেশেন্ট সবকিছু সঠিকভাবেই বুঝতে পারতো কিন্তু যখন কথা বলতে যেতো তখন শুধু সে একটি শব্দই উচ্চারণ করতে পারতো আর সেটা ছিলো Tan।পেশেন্টের মৃত্যুর পর ব্রোকা অটোপসির সময় বুঝতে পারলেন যে ঐ পেশেন্টের মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবে সমস্যা ছিলো যা তার কথা বলার ক্ষমতাকে প্রায় নষ্ট করে দিয়েছে।বর্তমানে যারাই তাদের লেফট হেমিস্ফিয়ারের টেম্পোরাল লোবে আঘাত প্রাপ্ত হয় তাদেরকে বলা হয় ব্রোকা আফাসিয়া। (মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যত) 

আর এদিকে ১৮৭৪ সালে জার্মান ফিজিশিয়ান কার্ল ওয়ারনিচ সম্পূর্ণ বিপরীত একটি মানসিক সমস্যা আবিষ্কার করেন।যেখানে দেখা যায় একজন ব্যাক্তি কোনো বক্তব্যই বুঝতে পারেনা।আপনি তাদের কাছে লিখে মনের ভাব প্রকাশ করেন অথবা মৌখিকভাবে তারা কিছুই বুঝবেনা কিন্তু বিষ্ময়করভাবে খুব ফ্লুয়েন্টলি কথা বলতে পারে, এমনকি যথাযথ গ্রামার ও সিন্টেক্স ঠিক রেখে।দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা যা বলে তা ননসেন্সিয়াল এবং মিনিংলেস।অটোপসির মাধ্যমে এবার ওয়ারনিচ এক্সপেরিমেন্ট করে দেখলেন এই পেশেন্টদের মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবের অন্য আর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ছিলো।আরো পড়ুন কম্পিউটারে হিউম্যান কনসাসনেস আপলোড এবং অমরত্ব!

ব্রোকা এবং ওয়েরনিচের কাজ ছিলো নিউরো-সায়েন্সের জগতে খুবই যুগান্তরকারী।তারাই দেখিয়েছিলো কিভাবে আমাদের ভাষা এবং আচরণ আমাদের ব্রেনের স্পেসেফিক অংশ দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।( (মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ওReference:

১৮৬৪ সালে প্রুসো এবং ডেনিস যুদ্ধের সময় হাজার হাজার সৈন্য মৃত্যু মুখে পতিত হয়।এটি ছিলো এমন একটি সময় সময় যখন তাদেরকে ইমার্জেন্সিভাবে সুস্থ্য করে তোলার জন্য বিশেষ কিছু মেডিসিনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।ডাক্তার গুস্তব প্রিটিস তার কিছু পেশেন্টের মস্তিষ্কের ক্ষতস্থান নিয়ে কাজ করছিলেন।একদিন তিনি বিষ্ময়করভাবে দেখলেন যখনই তার একজন পেশেন্টের একটি হেমিস্ফিয়ারকে টাচ করা হয় শরীরের অন্য অংশ  টুইস্ট  করে।যখন তিনি ইলেক্ট্রিক্যালি ব্রেনকে স্টিমুলেট করলেন তিনি দেখলেন ডান হেমিস্ফিয়ার শরীরের বাম দিকের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নিয়ন্ত্রণ করে [Vice Versus]।

মস্তিষ্ক এবং দেহকে কানেক্ট করার জন্যে সে ইলেক্ট্রিক্যাল পথের প্রয়োজন সেটা ১৯৩০ সালে পেনফিল্ডের পূর্বে আর কেউ সঠিকভাবে বুঝতে পারেন নি।তিনি মানুষের মস্তিষ্কের বিভিন্ন কর্টেক্সে ইলেক্ট্রোড পাঠিয়ে দেখেছেন, মস্তিষ্কের যে কর্টেক্সে ইলেক্ট্রোড পাঠানো হয় সে অংশের সাথে জড়িত শরীরের নির্দিষ্ট একটি অঙ্গ প্রভাবিত হচ্ছে।তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আমাদের সম্পূর্ণ শরীর নিউরাল।পেনফিল্ড মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবে ইলেক্ট্রোন পাঠিয়ে দেখেছিলেন যখনই টেম্পোরাল লোবলে স্টিমুলেট করা হয় তখন একজন পেশেন্ট তার অতীতের স্মৃতি স্মরণ করতে পারে এমন কিছু স্মৃতি যা স্মরণাতীত।১৯৫০ সালে তিনি মস্তিষ্কের একটি ম্যাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন যা আমাদের দেখায় মস্তিষ্কের কোনো অংশ শরীরের

ঠিক কোন অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে।।

আমাদের মস্তিষ্কের প্রত্যেকটি লোবস ফিফথ সেন্সের সিগনাল প্রসেস করে শুধুমাত্র ফ্রন্টাল লোব ব্যাতীত।ফ্রন্টাল লোবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রি-ফ্রন্টাল লোব আমাদের মাথার খুলির পেছনে যেটির অবস্থান।এখানেই আমাদের চিন্তা প্রসেস হয়।আপনারা এ মুহূর্তে যে আর্টিকেলটি পড়ছেন সেটি প্রি-প্রন্টাল লোবেই প্রসেস হচ্ছে।যদি এটি নষ্ট হয়ে যায় তবে আপনি কোনো প্লান তৈরি করতে পারবেন না,ভবিষ্যতকে সিমুলেট করার ক্ষমতা আপনার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।এ সম্পর্কিত আরো একটি আর্টিকেল পড়ুন আমাদের কনসাসনেসকে কী ট্যাকনোলজিক্যালি দেহের বাহিরে অস্তিত্বশীল করা যাবে?

পেরিটরিয়াল লোব আমাদের মস্তিষ্কের উপরের অংশে অবস্থিত।রাইট হেমিস্ফিয়ার আপনার এটেনশন এবং বডি ইমেজ তৈরি করে।আপনার মস্তিষ্কের রাইট হেমিস্ফিয়ার যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে আপনি আপনার নিজের শরীরের কিছু অংশকে হারিয়ে ফেলবেন, আপনি তাদের উপস্থিতি অনুভব করতে পারবেন না।লেফট হেমিস্ফিয়ার আপনার মুভমেন্ট এবং ল্যাঙ্গুয়েজকে নিয়ন্ত্রণ করে।এর  কোনো ক্ষতি হলে আপনার মুভমেন্ট এবং ভাষায় জটিল সব সমস্যা দেখা দেবে।অকুপিটাল লোব মস্তিষ্কের একেবারে পেছনে অবস্থিত।এটি ডেমেজ হয়ে গেলে আপনি অন্ধ হয়ে যাবেন এবং ভিজুয়াল ইম্পায়ারমেন্ট দেখা দেবে।টেম্পোরাল লোব Visual Recognition of Face,Language এবং Emotional Feeling তৈরি করে।এর কোনো ক্ষতি হলে আপনি Speechless হয়ে যাবেন।শুধু তাই নয় আপনি পরিচিত কারো চেহারাকেই সনাক্ত করতে পারবেন না…!( মস্তিষ্কের প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ)

Reference:

১.Mcgill University 

2. Neuroskill

3. Broka Brain, Brittanica 

4. Left and right hemisphere, made brain simple

আরও পড়ুন

2 মন্তব্যসমূহ

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!
%d bloggers like this: