মস্তিষ্কের প্রযুক্তি
মূলপাতা কনসাসনেস মস্তিষ্কের প্রযুক্তি

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
161 বার পঠিত হয়েছে

EEG, অপটোজেনেটিক্স,প্যাট স্ক্যান এবং ট্রান্সপারেন্ট ব্রেন।

( মস্তিষ্কের প্রযুক্তি)।

part-5

ব্রেন ম্যাপিং শব্দটি আমাদের অত্যন্ত পরিচিত।এর মানে হলো মস্তিষ্কের নিউরাল সার্কিটকে পরিমাপ করা, মস্তিষ্কের সামগ্রিক একটিভিটিজকে কোডিফায়েড করার একটি পদ্ধতি।আমরা জেনেছি এম আর আই, ফাংশনাল এম আর আই,মেগ এবং টেস প্রযুক্তি সম্পর্কে।এখন আমরা আলোচনা করবো ইলেক্ট্রো-এনসি-পলোগ্রাম বা EEG নিয়ে।EEG একটি হেলমেট যার মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইলেক্ট্রোডের একটি সিরিজ থাকে।এটি যখন মস্তিষ্কে বসানো হয় তখন ইলেক্ট্রোডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে আবর্তিত ইলেক্ট্রিক্যাল পালস ডিটেক্ট করা যায়।

 

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি EEG

 

এম আর আই প্রযুক্তির সাথে EEG এর একটি পার্থক্য হলো, এম আর আই প্রথমে মস্তিষ্কে রেডিও পালস সেন্ড করে, তারপর যখন রেডিও তরঙ্গ প্রতিধবনিত হয় তখন সেই ইকো এনালায়সিস করে মস্তিষ্কের ডায়াগ্রাম তৈরি করা হয়।কিন্তু EEG হেলমেট সম্পূর্ণ আলাদা, এটি মস্তিষ্ক থেকে প্রাকৃতিকভাবে নির্ঘত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক সিগনাল রিড করে যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা একজন ব্যাক্তির ঘুম,মনযোগ,বিশ্রাম ও স্বপ্নের সামগ্রিক ব্রেন একটিভিটিজ পড়তে পারে।কনসাসনেসের বিভিন্ন স্টেট বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে কম্পন করে।যেমনঃ গভীর ঘুম ডেল্টা ওয়েভের প্রতিনিধিত্ব করে যেটি সেকেন্ডে ১ থেকে ৪ সাইকেলের ভেতর ভাইব্রেট করে।একটিভ মেন্টাল স্টেট,বিশেষ করে প্রবলেম স্লোভ করার সময় Beta Wave এমিট হয় যেটি সেকেন্ডে ১২-৩০ বার কম্পন করে।এই ভাইব্রেশনগুলি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে একে অপরের সাথে ইনফরমেশন কমিউনিকেট করতে সাহায্য করে।EEG মেশিন ব্যাবহার করা একেবারেই সহয, এর খরচও অত্যন্ত কম, একজন হাইস্কুলের ছাত্রের পক্ষেও এটি খুব সহযে ব্যাবহার করা সম্ভব।কিন্তু EEG মেশিনের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, এটি মস্তিষ্কের এবনরমাল পরিস্থিতি ডিটেক্ট করতে পারেনা, ডিপ ব্রেন একটিভিটিজ পর্যবেক্ষণ করতে পারেনা, সামান্য আঙুল নাড়ালেও এর সিগনাল বিকৃত হয়ে উঠে।

 

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি, PET Scan এবং DBS

 

এছাড়া রয়েছে PET Scan বা পজিট্রন এমিটিং টপোগ্রাফি।যেটি মস্তিষ্কে গ্লুকোজের উপস্থিতির ভিত্তিতে এনার্জির প্রবাহ ডিটেক্ট করে।কিন্তু PET স্ক্যান কিছুটা রেডিও একটিভ এ জন্যে পেশেন্ট এটি নিয়মিত নিতে পারেনা।

পেটের পরেই আসে DBS বা ডিপ ব্রেন সিমুলেশনের কথা।এই মেশিনটি সর্বপ্রথম ডঃ পেনফিল্ড ব্যাবহার করেছেন।ডি বি এস এর মধ্যে চুলের মতো দেখতে অনেকগুলি ইলেক্ট্রোড বসানো থাকে যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের গভীর লেবেলের অবস্থা বোঝা যায়।DBS যে বিজ্ঞানীদের শুধুমাত্র মস্তিষ্কের ভেতরের ফাংশনগুলি বুঝতে সাহায্য করেছে তাই নয় এর মাধ্যমে Mental Disorder পর্যন্ত পরিমাপ করা যায়।ডি ভি এস পারকিনসন রোগের কারণকে যথাযথভাবে নিরুপণ করতে পেরেছে, এটি দেখিয়েছে মস্তিষ্কের কোন অংশ ওভার একটিভ হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদের হাত কম্পন করে।মস্তিষ্কে Brodmann Area number 25 নামক একটি লোকেশন আছে।ডি ভি এস ইলেক্ট্রোডের মাধ্যমে এই অংশটিকে টার্গেট করে বুঝতে পেরেছে মস্তিষ্কের এই এরিয়াটির ওভার একটিভিটির কারণে কিছু কিছু ডিপ্রেসনের রোগী সাইকো থেরাপি এবং ড্রাগের প্রতি রেসপন্স করেনা।ডিপ ব্রেন সিমুলেশনের মাধ্যমে বহুদিনের এই সমস্যাটি থেকে এখন রিলাক্স পাওয়া যায়।

 

মস্তিষ্কের প্রযুক্তি, Optogenetics

 

এরপরই আসে OPTOGENETICS—LIGHTING UP THE BRAIN এর কথা।নিউরোলজিস্টদের কাছে যেটি খুব মজার একটি যন্ত্র, যার অস্তিত্ব ছিলো একসময় সায়েন্স ফিকশনে।এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন নিউরাল পথকে একটিভেট করে তুলে একটি  আলোকিত লাইট বিম প্রবেশ করানোর মাধ্যমে আপনার বিভিন্ন আচরণ পরিবর্তন করতে পারে।অবিশ্বাস্যভাবে লাইট সেনসেটিভ জিন,যা সেলগুলিকে ঝোনাকির মতো আলোকিত করতে সহযোগিতা করে, সেই জিনগুলি নিউরনের ভেতরে সার্জিক্যালি প্রবেশ করানো হয়।তারপর লাইট বিম অন করার সাথেসাথে নিউরনগুলি একটিভেট হয়ে উঠে।যখনই লাইট সেনসেটিভ সেলগুলি আলোকিত হবে তখন আপনার বিভিন্ন আচরণ পরিবর্তন হয়ে যাবে।এভাবে লাইট বিম অন অফ করার মাধ্যমে আপনার আচার আচরণকেও একটিভ ও ডি-একটিভ করা যায়।যদিও এই ট্যাকনোলজি সম্পূর্ণ নতুন, তবুও এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পশুদের আচার আচরণ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন।।লাইট বিম অন করার মাধ্যমে দেখা যায় ফল পোকারা উড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে,ইঁদুররা একটি সার্কেলের ভেতর আবর্তিত হতে শুরু করেছে এবং ওয়ার্মরা কাগজ কাটা বন্ধ করে দিয়েছে।এমনকি বানরের উপর বর্তমানে এর ট্রায়াল চলছে!

এরপরপরেই বলতে হয় The Transparent Brain প্রযুক্তির কথা।বিজ্ঞানীরা বর্তমানে সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের স্বচ্ছ ছবি তৈরির করার ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে দাবী করছে।২০১৩ সালে স্ট্যান্ডফোর্ড ইউনিভার্সিটি দাবী করেছে যে তারা ইদুরের মস্তিষ্কের কমপ্লিট ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এমনকি মানুষের মস্তিষ্কের প্রায় অর্ধেকের পরিচ্ছন্ন ইমেজ তৈরি করেছে।এই ঘোষণা এতটাই বিষ্ময়কর ছিলো যে নিউইয়র্ক টাইম ম্যাগাজিন এটিকে ফন্ট পেজ করে, হেডলাইন ছিলো “Brain

as Clear as Jell-O for Scientists to Explore.”।

কিন্তু প্রশ্ন হলো এই প্রযুক্তি গুলি সৃষ্টিতে মহাবিশ্বের কোন ফোর্সগুলি কাজ করে।আমরা জানি প্রকৃতিতে চারটি ফোর্স আছে।ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স,গ্রেভিটেশনাল ফোর্স, স্ট্রং ফোর্স ও উইকফোর্স।এই চারটি ফোর্সের মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্স আমাদের রেটিনায় মহাবিশ্বকে আলোকিত করে এবং ইলেক্ট্রিসিটি ও ম্যাগনেটিক এনার্জি রিপ্রেজেন্ট করে, ব্রেন স্ক্যানের সাথে জড়িত সকল প্রযুক্তি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফোর্সের সাথে বিজড়িত শুধুমাত্র PET SCAN ব্যাতীত!

 

আমাদের আরো কিছু আর্টিকেল পড়ার জন্যে ক্লিক করুনঃ

১.টেস প্রযুক্তি

২.মিথ্যা সনাক্তকারী যন্ত্র

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!