মূলপাতা কনসাসনেস মনকে পড়ার প্রযুক্তি

মনকে পড়ার প্রযুক্তি

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
136 বার পঠিত হয়েছে

মনকে পড়ার প্রযুক্তি ; 𝐕𝐢𝐝𝐞𝐨 𝐨𝐟 𝐭𝐡𝐞 𝐦𝐢𝐧𝐝 𝐚𝐧𝐝 𝐌𝐑𝐈

 

part-2

কিভাবে মনের ভিডিও তৈরি করা যায়?ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক মনের ভিডিও ফুটেজ তৈরি করার জন্যে বহু বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছেন।যাহোক আমি এখন সীমিত পরিসরে মনের ভিডিও তৈরি করার ট্যাকনোলজি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করবো।যদিও ট্যাকনিক্যাল ভাষাগুলি অনেকের বুঝতে কষ্ট হবে তবুও অন্তত আমাদের এ ব্যাপারে প্রাথমিক ধারণা থাকা উচিত।

মনের ভিডিও তৈরির করার জন্যে প্রথমে আপনাকে একটি স্ট্রেসারে শুয়ে পড়তে হবে এবং যেটাকে স্টেট অব এম আর আই বলা হয় যে যন্ত্রের মূল্য তিন মিলিয়ন ইউ এস ডলার।তারপর আপনাকে এক থেকে দেড় ঘন্টা যাবত একটি মুভি দেখানো হবে এবং মুভিটি দেখার সময় আপনার মস্তিষ্ককে 𝑀𝑅𝐼  যন্ত্র স্ক্যান করবে।

যখন আপনি মুভিটি দেখবেন তখন 𝑀𝑅𝐼 মেশিন আপনার মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ অনুসারে থ্রিডি ইমেজ তৈরি করবে।সেই থ্রিডি ইমেজটিতে প্রায় ত্রিশ হাজার ডট বা ভোক্সেলের একটি কালেকশন।প্রতিটি 𝑉𝑂𝑋𝐸𝑙  নিউরাল এনার্জির এক একটি অতি-ক্ষুদ্র অংশকে রিপ্রেজেন্ট করে।এবং প্রতিটি কালার অব ডট সিগনালের ইনটেনসিটি এবং রক্ত প্রবাহের প্রতিনিধিত্ব করে।রেড ডট বড় মাপের নিউরাল একটিভিটিজ রিপ্রেজেন্ট করবে এবং ব্লু ডট রিপ্রেজেন্ট করবে ছোট মাপের নিউরাল একটিভিটিজ।

বিজ্ঞানী গ্যালেন্টের এম আর আই মেশিন এতটাই শক্তিশালী যে এ যন্ত্রটি মস্তিষ্কের প্রায় ৩০০ আলাদা আলাদা পার্ট সনাক্ত করতে পারে।প্রতিটি অংশের স্ন্যাপসুট নিতে পারে, এবং এর প্রতিটি পার্টে রয়েছে একশটি ডট।প্রথমে এই কালার ডটের থ্রিডি কালেকশনকে অর্থহীন মনে হয়।কিন্তু অনেক বছর গবেষণা করে ডঃ গ্যালেন্ট এবং তার সহকর্মীরা একটি ম্যাথমেটিক্যাল ফর্মুলা উন্নত করে যে ফর্মুলার মাধ্যমে থ্রিডি পিকচারটির বিভিন্ন ফিচার যেমন- 𝐸𝑎𝑑𝑔𝑒,𝑇𝑒𝑥𝑡𝑢𝑟𝑒 𝑎𝑛𝑑 𝐼𝑛𝑡𝑒𝑛𝑠𝑖𝑡𝑦 ইত্যাদির মাধ্যে রিলেশনশিপ পাওয়া যায়।

যেমনঃ আপনি যদি ইমেজটির বাউন্ডারির দিকে তাকান তনে দেখবেন এর কিছু অংশ অনেক বেশি উজ্জ্বল এবং কিছু অংশ অপেক্ষাকৃত কম।ছবিটির কিনারায় কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্নের ভোক্সেল আছে।বিভিন্ন ব্যাক্তির মস্তিষ্কের মুভি ক্লিপ দেখে দেখে এই ম্যাথমেটিক্যাল ফর্মুলাকে রিফাইন করা হয় এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে সবগুলি ইমেজকে এনালাইসিস করে এম আর আই ভোক্সেলে পরিণত করা হয়।আকষ্মিক বিজ্ঞানীরা ভোক্সেলের এম আর আই প্যাটার্নের মধ্যে প্রতিটি পিকচারের বিভিন্ন ফিচারের মিল পেতে শুরু করেন।

মনে করুন আপনাকে আরো একটি মুভি দেখানো হলো।মুভিটি দেখার সময় কম্পিউটার প্রত্যেকটি ভোক্সেলকে এনালায়সিস করবে এবং প্রকৃত ছবির একটা আনুমানিক রুপ তৈরি করবে।

এভাবে কম্পিউটার আপনার মস্তিষ্কের ভিজুয়াল ইমেজারির একটি অস্পষ্ট ভিডিও তৈরি করে ফেলবে।শুধু তাই নয় গ্যালেন্টের এম আর আই মেশিন আপনার মস্তিষ্কের ইমাজিনেশন বা কল্পনাকেও ডিকোড করতে পারবে।মনে করুন আপনি মোনালিসার ছবি কল্পনা করলেন।এতে করে আপনার মস্তিষ্কের ভিজুয়াল কর্টেক্স লাইট আপ হবে।গ্যালেন্টের এম আর আই মেশিন ঠিক তখন আপনার ব্রেন স্ক্যান করবে এবং মোনালিসার একটি আনুমানিক ছবি তৈরি করে ফেলবে।

𝗘𝗘𝗚  𝖲𝖾𝗇𝗌𝗈𝗋 এর কাজ হলো আপনার মস্তিষ্কের প্রতি সেকেন্ডে পরিবর্তনশীল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালসকে রিড করা কিন্তু আমরা জানি 𝗘𝗠- 𝗐𝖺𝗏𝖾 এত সহযেই পরিবর্তন হয়ে যায় যে যথার্থ ভাবে তার প্রকৃত অর্থ উদঘাটন করাটা খুবই কষ্টের যেমন 𝗘𝗘𝗚 সেন্সর 𝗘𝗠-𝗐𝖺𝗏𝖾 কে রিড করার পরেও এক্সেক্টলি বলতে পারেনা যে আমাদের ব্রেন সত্যিকার অর্থে গাড়ী নিয়ে ভাবছে নাকি গোড়া নিয়ে!সে শুধু একটি সম্ভাবনাই প্রদর্শন করে..!

 

মনকে পড়ার প্রযুক্তি; 𝐑𝐞𝐚𝐝𝐢𝐧𝐠 𝐓𝐡𝐞 𝐌𝐢𝐧𝐝; 𝐁𝐫𝐚𝐢𝐧 𝐓𝐞𝐜h

অসিমভ মানুষের মনের জটিলতাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একে কোয়ান্টাম আনসারটেইনটির সাথে তুলনা করেছিলেন।একটি পার্টিকেলের টাইম এন্ড ভেলোসিডি যেমন একসাথে জানা যায়না ঠিক তেমনি মানুষের মনও অনিশ্চিত।সে যাইহোক!আধুনিক বিজ্ঞান এই অতি-জটিল মনকে রিড করার অভিনব এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করে ফেলেছেন!হ্যা বন্ধুরা!আমরা এখন আপনাদের সাথে আলোচনা করবো Mind Reading Machine সম্পর্কে!

এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে মনকে পড়া যায়?শুনুন তবে! বিজ্ঞানীরা বর্তমানে মনকে পড়ার জন্যে ECOG (electrocorticogram) প্রযুক্তি ব্যাবহার করেন।ইলেক্ট্রোকর্টিওগ্রাম EEG থেকে অনেক উন্নত একটি ভার্সন।এটি বিষ্ময়কর যথার্থতার সাথে মানুষের মনকে পড়তে পারে।কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এ পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের সিগনালকে মাথার খুলির ভেতরেই সরাসরি সনাক্ত করা হয়।

এ জন্যে মেশিনটিকে বসানোর জন্যে মাথার খুলির কিছু অংশ কেটে ফেলতে হয়।এর 8 by 8 গ্রিডের মধ্যে এর রয়েছে ৬৪ টি ইলেক্ট্রোড।সৌভাগ্যক্রমে বিজ্ঞানীরা এপিলেস্ফির পেশেন্টদের মস্তিষ্কের উপর ECOG প্রযুক্তি প্রয়োগ করার অনুমোদন পেলেন।ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি অব সানফ্রান্সিসকোর ডাক্তাররা পেশেন্টের উপর ওপেন ব্রেন সার্জারী করে ECOG MESH টি বসিয়ে দেন।

তারপর পেশেন্টকে বিভিন্ন শব্দ শোনানো হয় যা তার মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনাল তৈরি করে যে সিগনালগুলি ইলেক্ট্রোডের ভেতর দিয়ে রেকর্ড হতে থাকে।এভাবে একটি ডিকশনারী তৈরি হয়ে যায়।যে ডিকশনারীটি মস্তিষ্ক থেকে নির্ঘত সিগনাল গুলির সাথে শব্দগুলিকে ম্যাচ করে।যখন নির্দিষ্ট শব্দটি আবার পূণরাবৃত্তি করা হয় তখন যে কেউ শব্দটির বিপরীতে তার ব্রেনে একই ইলেক্ট্রিক্যাল প্যাটার্ন খুজে পাবে।এর মানে হলো আপনি যখন নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ড চিন্তা করবেন তখন ECOG সেই ওয়ার্ডের সাথে রিলেটেড সিগনালের ক্যারাক্টারিস্টিক তুলে আনবে এবং একে আইডেন্টিফাই করবে।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কারো মস্তিষ্কের সাথে Telepathically Conversation করা সম্ভব।এমনকি স্ট্রোকের রোগী যে সম্পূর্ণ প্যারালাইজড সেও ভয়েস সিন্থেজিয়ারের মাধ্যমে কথা বলতে পারবে যে ভয়েস সিন্থেজিয়ার মস্তিষ্কের প্রতিটি ওয়ার্ডের ওয়েভ প্যাটার্ন রিড করতে পারবে!!

এটি এখন আর বিষ্ময়কর নয় যে BMI বা ব্রেন মেশিন ইন্টারফেস কিছু রাষ্ট্রে খুবই গুরুত্ব লাভ করেছে।২০১১ সালে ইউনিভার্সিটি অব উথাহও একই ফলাফল অর্জন করেছে।বিজ্ঞানীরা এ জন্যে প্রথমে আপনাকে দশটা শব্দ বলবে Hi, Hello,By,PI ইত্যাদি এবং দশটা শব্দের সাথে রিলেটেড ইলেক্ট্রিক্যাল সিগনালগুলি কম্পিউটার রিড করবে।এরপর যখন এই শব্দগুলি আপনি পরে মনে মনে ভাববেন তখন আপনার ব্রেন পালস পড়েই কম্পিউটার বলে দেবে আপনি ঠিক কোন অর্থটি তৈরি করেছেন।

আমরা জানি যে মৃত্যুর পরেও অধিকাংশ মানুষের ব্রেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে জীবিত থাকে।যদিও তাকে জীবিত করা সম্ভব হয়না।EGOC মেশিনের মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের সাথে Conversation করা সম্ভব, আদালতে সাক্ষী গ্রহণ করা সম্ভব।হয়তো ECOG এর মাধ্যমে একটা সময় মানব মস্তিষ্ক চলে আসবে সম্পূর্ণভাবে আমাদের হাতের মুঠোয়!

 

আমাদের প্রাসঙ্গিক আর্টিকেলগুলি পড়ুন;

 

মনকে পড়ার প্রযুক্তি ; তথ্যসুত্রঃ

 

 

 

 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!