ব্লাঙ্ক ওয়াল বলবে ডিটেক্টিভ গল্প

শূন্য দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আপনি জানতে পারবেন আপনার অজান্তে আপনার ঘরে কে কে এসেছিলো। অবাক হচ্ছেন? না না না! অবাক হওয়ার কিছু নেই, আধুনিক প্রযুক্তির পক্ষে এটা সম্ভব। A Blank wall can show how many people are in a room and what they are doing শিরোনামে সায়েন্টিক আমেরিকা ৬ই অক্টোবর ২০২১ সালে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নতুন এ প্রযুক্তি অস্পষ্টভাবে আপনার চোখের অজান্তে আপনার দেয়ালে পতিত ছায়া অথবা প্রতিফলন স্ক্যান করবে, তারপর সেগুলো এনালাইজ করে বিস্তারিত বের করবে, কক্ষে কতজন লোক ছিলো আর তারা কী করছিল ইত্যাদি। এ পদ্ধতিতে আপনি ঘরের কর্ণার থেকে স্পাইগিরি করতে পারবেন অথবা কেউ যদি ক্যামেরা লাইন এভোয়েড করে তাকেও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

একজন ব্যক্তি যখন কোনো একটি রুমে মুভ করে তাদের শরীর উপস্থিত আলোর একটি অংশ ব্লক করে রাখে যা অত্যন্ত সুক্ষ্ম এবং অস্পষ্ট “কোমল ছায়া” তৈরি করে। উজ্জ্বল জামা পরিধান করলে মৃদু ও উজ্জ্বল প্রতিফল তৈরি হয়। কিন্তু এ দূর্বল সিগনাল মূল সোর্সের ডিরেকশনাল লাইটের কারণে ডুবে যায়। ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটির গ্রেজুয়েট স্টুডেন্ট প্রফুল শর্মা বলেন, আমরা যদি এ ডিরেকশনাল লাইট টার্মকে মুছে ফেলতে পারি আমরা যা দেখছি তা থেকে তবে যা অবশিষ্ট থাকে তা হল ক্যামেরার নয়েজ ও সিগনাল। তিনি ও তার সহকর্মীরা একটি দেয়ালকে ফিল্মিং করার সময় এই ডিরেকশনাল টার্মকে আলাদা করেন যখন কক্ষের বাসিন্দারা এদিক ওদিক মুভ করছিলো এবং সময়ের সাথে ফ্রেমের গড় তৈরি করছিল।। তারা মানুষের দ্বারা নিক্ষিপ্ত পরিবর্তনশীল ছায়া হ্রাস করেন, শুধুমাত্র মূল সোর্সের আলো পরিত্যাগ করার মাধ্যমে যার সাথে অন্তর্ভুক্ত ছিলো ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য স্থির বস্তুর ছায়া।

আরো পড়ুনঃ অদৃশ্য হওয়ার প্রযুক্তি

তারপর গবেষকরা এ টার্মটি রিয়েল টাইমের ভিডিও থেকে অপসারণ করেন এবং দেয়ালে চলন্ত ছায়া প্রকাশ করেন।শর্মা ও তার দল আরো কয়েকটি ঘরের দেয়াল রেকর্ড করেছিলেন তারা সেখানে বিভিন্ন দৃশ্যকল্পে অভিনয় করেন।। গ্রুপের দু-একজন ক্যামেরার বাহিরে মুভ করে। কেউ কেউ লাফায় ও হাত নাড়ায়। তারপর এ দল একটি মেশিন লার্নিং সিস্টেমকে সম্পূর্ণ ভিডিওটি প্রদান করে, এই মেশিন লার্নিং সিস্টেম বলে দেয় কোন ছায়ার কোন প্যাটার্ন কোন আচরণ নির্দেশ করছে। এ সিস্টেম নিজে নিজেই ব্লাঙ্ক ওয়ালের ফুটেজ রিয়েল টাইমে এনালাইসিস করে, ঘরের মানুষের সংখ্যা ও তাদের কর্মকাণ্ড নির্ণয় করে। অক্টোবর ২০২১ সালে এই কাজের একটি মৌখিক প্রেজেন্টেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কম্পিউটার ভিশন গ্রহণ করেছিল। সায়েন্টিফিক আমেরিকায় বলা হয়, বিজ্ঞানীরা ফ্লোর-বেসড সেন্সরও উন্নত করেছেন যা ভাইব্রেশনের মাধ্যমে যে কারো পায়ের উপস্থিতি বুঝতে পারে, ব্যক্তির আইডেন্টিটি নির্ণয় করে ; এমনকি ভাইব্রেশন পড়ে ঐ ব্যক্তির শরীরের কিছু রোগও ধরে ফেলে। যদিও অধিকাংশ টেকনিক মেশিন লার্নিং-এর উপর নির্ভর করে যা হিউম্যান ইন্টিলিজেন্সের পক্ষে সম্ভব নয়।

তথ্যসূত্রঃ

hsbd bg