বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু

বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু

লিখেছেন অ্যান্ড্রোস লিহন
88 বার পঠিত হয়েছে
                                                                                              
১৯৯৫ সালের ৬ ই মার্চ, Time Magazine এর কাভারে স্পাইরাল M100 গ্যালাক্সিকে দেখানো হয় এবং দাবি করা হয় ” জোতির্বিদ্যা বিশৃঙ্খল”! জোতির্বিদ্যাকে অশান্তিকর মনে করা হয়েছিলো কারণ হাবল স্পেস টেলিস্কোপের নতুন ডাটা নির্দেশ করছে যে মহাবিশ্ব প্রাচীন নক্ষত্রের চেয়েও অনেক বেশি তরুণ যেটা ছিলো একটি বৈজ্ঞানিক অসম্ভাব্যতা। এ ডাটা দেখিয়েছিলো মহাবিশ্ব ৮ থেকে ১২ বিলিয়ন বছর বৃদ্ধ যেখানে কেউ কেউ বিশ্বাস করতো প্রাচীন নক্ষত্রতা ১৪ বিলিয়ন বছর পূর্বের। ইউনিভার্সিটি অব এরিজোনার ক্রিস্টোফার বলেন, আপনি কখনো আপনার মায়ের থেকে বড় হতে পারেন না! কিন্তু আপনি যখন সুক্ষ্ম মূদ্রন দেখবেন আপনি বুঝতে পারবেন যে মহাবিস্ফোরণ তত্ব খুবই স্বাস্থ্যকর। মহাবিস্ফোরণকে মিথ্যা প্রমাণ করেছিলো একটি স্বতন্ত্র গ্যালাক্সি, M100 যেটি ছিলো বিজ্ঞানের পরিচালিত একটি সন্দেহজনক পথ। সেই আর্টিকেল, ছিদ্রকে (অস্পষ্টতা) স্বীকার করেছিলো “সেটি যথেষ্ট বড় ছিলো, যে ছিদ্র দিয়ে অনায়াসে একটি স্টারশিপ এন্টারপ্রাইজ ঢুকে যেতে পারতো।” হাবল টেলিস্কোপের অপরিপক্ক ডাটার উপর ভিত্তি করে, মহাবিশ্বের বয়সকে কখনো ১০-২০ শতাংশের বেশি যথার্থতার সাথে নিরূপণ করা সম্ভব ছিলো না! আমার বক্তব্য হলো যে মহাবিস্ফোরণ কোনো জল্পনা কল্পনা নয়, এর সাপেক্ষে বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রায় শতাধিক ডাটা আছে যাদের প্রত্যেকটিকে একত্রিত করে একটি অনন্য স্বনির্ভর থিওরি গড়ে তোলা সম্ভব। ( বিজ্ঞানে কোনো থিওরি সমানভাবে গড়ে উঠেনা, যেখানে যেকেউ তাদের নিজস্ব ভার্সনের মহাবিশ্বের মডেল প্রস্তাব করতে সক্ষম, এর অবশ্যই প্রয়োজন আছে যে শতাধিক ডাটা ব্যাখ্যা করার যা আমরা মহাবিস্ফোরণের থিওরির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সংগ্রহ করেছি)। মহাবিস্ফোরণের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রমাণ এসেছিলো জীবনের থেকেও সুবিশাল তিনজন বিজ্ঞানীর কর্ম থেকে যারা তাদের নিজস্ব ক্ষেত্রকে শাসন করেছেনঃ এডুইন হাবল, জর্জ গ্যামো এবং ফ্রেড হোয়েল!
 
 
 

আগের পর্বগুলো পড়তে ক্লিক করুন-

 
 

এডুইন হাবল, পার্টিশিয়ান এস্ট্রোনোমার

 
 
 
 
যদিও বিশ্বতত্বের থিওরিটিক্যাল ভিত্তি আইনস্টাইম স্থাপন করেছিলেন, আধুনিক পর্যবেক্ষণ নির্ভর বিশ্বতত্ব সম্পূর্ণ এককভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন এডুইন হাবল, যিনি সম্ভবত বিশ শতকের শ্রেষ্ঠতম জোতির্বিজ্ঞানী! ১৮৮৯ সালে, মার্শফিল্ড, মিসৌরি ব্যাকউডসে হাবল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন আইনজীবী ও ইনস্যুরেন্সে এজেন্ট যিনি তাকে আইন বিভাগে কেরিয়ার গঠন করার জন্যে তাড়িত করেন। যাইহোক, হাবল জুল বার্নির একটি গ্রন্থ দ্বারা সম্মোহিত হয়ে ওঠেন এবং তিনি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উঠেন নক্ষত্রের জন্য! তিনি Twenty Thousand Leagues Under the Sea এবং From the Earth to the Moon এর মতো কল্পকাহিনীগুলো গ্রাস করেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ বক্সার, প্রোমোটররা তাকে পেশাদার করতে চেয়েছিলেন এবং ওয়ার্ল্ড হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন জ্যাক জনসনের সাথে লড়াই করতে! তিনি অক্সফোর্ডে আইন পড়ার জন্য একটি মর্জাদাপূর্ণ রোডস বৃত্তি অর্জন করেন যেখানে তিনি ব্রিটিশদের আপার-ক্রাস্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে শুরু করেছিলেন। ( তিনি ট্যুইড স্যুট পড়া শুরু করেছিলেন, পাইপ দিয়ে ধুমপান করতেন, বিশিষ্ট ব্রিটিশ উচ্চারণের সাথে নিজেকে তিনি সমন্বয় করে নিয়েছিলেন যেগুলো তার আত্মসংক্রান্ত গুজব ছিলো। তারপরও হাবল অসুখী ছিলেন, তাকে যা প্রভাবিত করেছিল তা আইন বা টর্ট কোনটাই ছিল না; তার রোমাঞ্চ ছিলো নক্ষত্রদের সাথে যা সর্বপ্রথম শুরু হয়েছিলো যখন তিনি শিশু ছিলেন। তিনি সাহস করে তার কেরিয়ার স্যুইচ করে এগিয়ে গেলেন ক্যালিফোর্নিয়ার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় ও মাউন্ট উইলসন মানমন্দিরে যেটি ছিলো তখনকার সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ, ১০০ ইঞ্চি আয়না। এত বিলম্বে কেরিয়ার শুরু করেও হাবল ছিলেন অনেক দ্রুতগামী একজন ব্যক্তি। হারিয়ে যাওয়া সময়ের ক্ষতিপূরণ করতে তিনি নিজেকে কিছু গভীর প্রশ্ন করতেন যা ছিল জোতির্বিদ্যার সবচেয়ে স্থায়ী রহস্যগুলোর ভেতরে!
১৯২০ সালে মহাবিশ্ব ছিলো খুবই আরামদায়ক একটি জায়গা; এটি বিশদভাবে বিশ্বাস করা হতো যে, সমগ্র মহাবিশ্বে শুধু মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বাস করে, যেটি আলোর আবছা কাটা ফসল যেগুলো আকাশে কাটা হয়, প্রতিফলিত হয় চিত্তভ্রংশ দুধের মতো ( গ্যালাক্সি শব্দটি অবশ্য গ্রীক ওয়ার্ড থেকেই এসেছে যার অর্থ হলো- দুধ )। ১৯২০ সালে জ্যোতির্বিদদের মধ্যে একটি মহান বিতর্ক সংঘটিত হয় হার্ভার্ডের হার্লো শ্যালি এবং লিকার অব হেবার কার্টিস অবজারভেটরি এর মধ্যে। এ বিতর্কটিকে আখ্যায়িত করা হয়েছিল “দ্যা স্কেল অব ইউনিভার্স” হিসেবে যেটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এবং স্বয়ং মহাবিশ্বের আকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
শিপলি মনে করতো, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি সম্পূর্ণ মহাবিশ্বকে দখল করে রেখেছে আর কার্টিস বিশ্বাস করতেন মিল্কিওয়ের ওপারে আছে সর্পিল নিহারিকা, অদ্ভুত কিন্তু ঘুর্ণায়মান কুয়াশার সুন্দর কুচি।
হাবল এ বিতর্ক দেখে আতঙ্কিত হয়েছিলো, তখন একটি প্রধান সমস্যা ছিলো তারকাদের দূরত্ব নির্ণয় যা ছিলো এস্ট্রোনোমির সবচেয়ে পৈশাচিক সমস্যা। একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র যেটি অনেক দূরে অবস্থান করে সেটিকে দেখতে নিকটবর্তী একটি অনুজ্জ্বল নক্ষত্রের মতোই মনে হয়। এ বিভ্রান্তি জ্যোতির্বিদ্যার অনেক বিবাদ ও বিতর্কগুলোর উৎস ছিলো। এ সমস্যাটি সমাধানের জন্য হাবলের প্রয়োজন ছিলো একটি “স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডেল”, একটি অবজেক্ট যা মহাবিশ্বের যে-কোনো প্রান্ত থেকে একই পরিমাণ জ্যোতি বিচ্ছুরণ করে। একদিন রাতে, যখন হাবল সর্পিলাকার নেভুলা এন্ড্রোমিডার ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করছিলেন তখন তিনি একটি ইউরেকা মুহূর্ত পেলেন। তিনি এন্ড্রোমিডাতে যা পেয়েছিলেন তা ছিলো এক ধরণের পরিবর্তনশীল তারা যেগুলোকে সিফিড বলা হয় ,যেগুলো নিয়ে হেনরিটা লেভিট গবেষণা করেছিলেন। এটি জানা ছিলো যে,  এ তারকাটি নিয়মিত সময়ের সাথে বেড়েছে ও ম্লান হয়েছে। একটি সম্পূর্ণ চক্রের জন্য যে সময়ের প্রয়োজন তা উজ্জ্বলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিলো। নক্ষত্ররা যতো উজ্জ্বল হয় তাদের পালসেশন সাইকেল ততোই দীর্ঘ হয়। এভাবে, খুব সহযে, চক্রের দৈর্ঘ পরিমাপ করে যে কেউ এর উজ্জ্বলতা ও দূরত্ব নির্ণয় করতে পারতো। হাবল দেখেছিলেন এ পিরিয়ডটি ৩১.৪ দিনের, যা ছিল তার জন্য বিষ্ময়, যিনি তার দূরত্ব অনুবাদ করেছেন মিলিয়ন লাইট ইয়ার্স দূরে, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাহিরে। ( মিল্কিওয়ের উজ্জ্বল ডিস্ক ছিলো ১০০, ০০০ আলোক বর্ষ দূরে, পরবর্তী গণনায় বেরিয়ে আসে যে হাবল আসলে এন্ড্রোমিডার প্রকৃত দূরত্বকে উপেক্ষা করেছে, যা ২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরত্বে অবস্থিত)।  যখন তিনি একই পরীক্ষা স্পাইরাল নেভুলার উপর চালিয়েছিলেন, হাবল দেখতে পান, তারাও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির বাহিরে। অন্য কথায় এটি পরিস্কার হয়ে গিয়েছিলো যে, এ ধরণের স্পাইরাল নেভুলা মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ আইল্যান্ডে উপস্থিত, তাদের নিজস্ব অধিকারে, আমাদের মিল্কিওয়ে সে নক্ষত্রমন্ডলের একটি মাত্র গ্যালাক্সি! এক ঝাঁকুনিতে, মহাবিশ্বের আকার বিশদভাবে প্রসার হয়। একটি সতন্ত্র নক্ষত্র থেকে, মহাবিশ্ব মিলিয়ন মিলিয়ন নক্ষত্রে জনবহুল হয়ে উঠে, সম্ভবত বিলিয়ন বিলিয়ন সিস্টার গ্যালাক্সি নিয়ে। মহাবিশ্ব আকষ্মিক ১০০, ০০০ লাইট ইয়ার্স থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন লাইট ইয়ার্সে পরিণত হলো। এ আবিষ্কার হাবলের জন্য এস্ট্রোনোমারদের দেবমন্দিরে একটি স্থান নিশ্চিত করে দিলো। কিন্তু তিনি তার আবিষ্কারের চুড়ান্তস্তরে আরোহন করেন। তিনি শুধুমাত্র গ্যালাক্সিদের দূরত্ব নির্ণয়ই করেন নি, তিনি এটাও জানতে চেয়েছেন তারা কতটা দ্রুততার সাথে ভ্রমণ করে! যদি নক্ষত্ররা, উদাহরণস্বরূপ, আপনার দিকে মুভ করে যে আলোকতরঙ্গ নিঃসৃত হয় সেগুলো একোর্ডিয়ানের( বাদ্যযন্ত্র)  মতো সংকুচিত হয়ে যায়। যার ফলশ্রুতিতে, ওয়েভ ল্যাংথ ক্ষুদ্র হয়ে উঠে। একটি হলুদ তারকা কিছুটা নীল হয়ে যায়। (কারণ নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য হলুদ রঙের তরঙ্গ দৈর্ঘ থেকে ক্ষুদ্র)। একইভাবে যদি একটি নক্ষত্র যদি আপনার থেকে দূরে সরে যায় এর তরঙ্গ প্রসারিত হয় যা এটিকে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ উপহার দেয় যার জন্য হলুদ তারকা কিছুটা লাল হয়ে যায়। বিকৃতির পরিমাণ যত বৃদ্ধি পায়, নক্ষত্রের গতিশীলতা তত বৃদ্ধি পায়। আর এভাবে আমরা যদি নক্ষত্রের আলোর শিপ্ট ফ্রিকোয়েন্সী জানি তবে আমরা নক্ষত্রের গতিশীলতা নির্ণয় করতে পারি! ১৯১২ সালে, এস্ট্রোনোমার ভেস্টো স্লিপার আবিষ্কার করেন গ্যালাক্সিগুলো পৃথিবী থেকে ব্যাপক গতিশীলতায় দূরে সরে যাচ্ছে। মহাবিশ্ব শুধুমাত্র বিশাল নয় যা পূর্বে প্রত্যাশা করা হতো, এটি ব্যাপক গতিশীলতার সাথে প্রসারিত হচ্ছে। ক্ষুদ্র ফ্ল্যাকচুয়েশনের বাইরেও তিনি দেখেছিলেন গ্যালাক্সিগুলো রেডশিপ্ট প্রদর্শন করছে, কারণ তারা আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, নীল হওয়ার পরিবর্তে। স্লিপারের আবিষ্কার প্রদর্শন করেছিলো যে, মহাবিশ্ব মূলত, গতিশীল এবং স্থির নয়, যেরকম নিউটন ও আইনস্টাইন মনে করতেন! একশ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা অলবার ও বেন্টলির প্যারাডক্স নিয়ে গবেষণা করছে, কেউই গুরুত্বের সাথে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে গ্রহণ করেনি। ১৯২৮ সালে, হাবল হল্যান্ডের দিকে একটি সোভাগ্যজনক ভ্রমণ শুরু করেন উইলিয়াম ডি সিটারের সাথে দেখা করার জন্য। হাবলকে যা ভীতসন্ত্রস্ত করেছিলো তা ছিলো ডি-সিটারের একটি প্রেডিকশন যে গ্যালাক্সিগুলো আমাদের থেকে যত দূরে তাদের তত দ্রুতগতিতে  মুভ করা উচিত। সারপেসে গ্যালাক্সি চিত্রিত একটি সম্প্রসারণশীল বেলুনের কথা চিন্তা করুন। যেহেতু বেলুনটি সম্প্রসারণশীল, যে গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর নিকটবর্তী তারা একে অপরের থেকে রিলেটিভলি ধীর গতিতে মুভ করে। কিন্তু যে গ্যালাক্সিগুলো বেলুনের উপর অনেক বেশি দূরে অবস্থান করে সেগুলো অনেক দ্রুতগতিতে মুভ করে! ডি সিটার হাবলকে বলল, তার ডাটার মধ্যে এ প্রভাবটি দেখার জন্য যা রেডশিপ্ট এনালাইসিস করে ভেরিফাই করা যাবে। গ্যালাক্সির রেডশিপ্ট যত বেশি হবে, তারা তত দ্রুতগতিতে মুভ করবে এবং এটি ততবেশি দূরবর্তী হবে। (আইনস্টাইনের থিওরি অনুসারে, গ্যালাক্সির রেডশিপ্ট টেকনিক্যালি বলতে গেলে, পৃথিবী থেকে গ্যালাক্সির দূরে সরে যাওয়ার প্রভাব নয়, তার পরিবর্তে রেডশিপ্ট হলো গ্যালাক্সি ও পৃথিবীর মাঝখানের স্পেসের স্বয়ং সম্প্রসারণ!)  বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু
বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু
 
 

                                 হাবল’স আইন

 
 
 
যখন হাবল ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে গেলেন তিনি ডি- সিটারের উপদেশ গ্রহণ করেন এবং এ প্রভাবের প্রমাণ অনুসন্ধান করেন, তিনি দেখেন যে গ্যালাক্সিগুলো যত দূরে অবস্থান করে, তত দ্রুততার সাথে এটি পৃথিবী থেকে দূরে মুভ করে, ঠিক যেমনিভাবে আইনস্টাইনের ইকুয়েশন এটিকে প্রেডিক্ট করে। এ দুইয়ের রেশিও (Speed divided by distance) ছিলো মোটামুটি ভাবে কনস্ট্যান্ট! এটি খুব দ্রুত হাবল কনস্ট্যান্ট হিসেবে পরিচিতি পায়, অথবা H। এটি সম্ভবত বিশ্বতত্বের স্বতন্ত্রভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনস্ট্যান্ট যা আপনাকে বলবে ঠিক কি হারে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। যদি মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়, বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারলেন, সম্ভবত, এর একটি শুরু আছে। হাবল ধ্রুবকের ইনভার্স, আসলে, মহাবিশ্বের বয়স সম্পর্কে মোটামুটি একটি ধারণা দেয়। আপনি মহাবিস্ফোরণের একটি ভিডিও ট্যাপ কল্পনা করুন। ভিডিও টেপে আমরা দেখি মহাবিস্ফোরণের রেখে যাওয়া কিছু ধ্বংসাবশেষ এবং আমরা গণনা করতে পারি সম্প্রসারণের ভেলোসিটি। কিন্তু এর থেকে আরো বোঝা যায় যে আমরা ভিডিওটেপটিকে পেছনের দিকে গতিশীল করতে পারি যতক্ষণ পর্যন্ত না সকল ধ্বংসাবশেষ একটি সিঙ্গেল পয়েন্টে পরিণত হচ্ছে। আমরা যদি মহাসম্প্রসারণের গতিশীলতা জানতে পারি, আমরা মোটামুটি পিছনে কাজ করতে পারি এবং সময় গণনা করতে পারি যে হারে বিস্ফোরণ ঘটছে। ( হাবল মূলত অনুমান করেছিলেন, মহাবিশ্বের বয়স ১.৮ বিলিয়ন বছর, যা জোতির্বিদদের একটি জেনারেশনের মস্তিষ্কে যন্ত্রণা তৈরি করেছিল কারণ মহাবিশ্বের বয়স ছিলো পৃথিবী ও নক্ষত্রের বয়স থেকেও কম। কয়েক বছর পর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির সিফিড ভেরিয়েবল থেকে আসা আলো পরিমাপ করার সময় একটি ত্রুটি ছিলো। মূলত, হাবল কনস্ট্যান্টের সত্যিকার সুনির্দিষ্ট মান পাওয়ার জন্য হাবল অতীতের ৭০ বছর যুদ্ধ করেন। সবচেয়ে ডেফিনেটিভ ফিগার যা আমরা আজ পেয়েছি সেটি WMAP থেকে! ১৯৩১ সালে বিজয়ী আইনস্টাইন, মাউন্ট উইলসন ল্যাবরেটরিতে ভ্রমণ করেন, তিনি প্রথম হাবলের সাথে দেখা করেন। বুঝতে পারেন যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে, তিনি বলেন যে, কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট ছিলো তার সবচেয়ে বড় ভুল। যখন আইনস্টাইনের স্ত্রীকে বিশাল অবজারভেটরি দেখানো হলো, তাকে বলা হলো যে, বিশাল টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের আল্টিমেট আকার নির্ধারণ করেছে। মিসেস আইনস্টাইন উদাসীনভাবে জবাব দিয়েছিলেন, আমার স্বামী এটি করেছিলেন একটি পুরাতন খামের পেছন দিকে! বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু
 
 
 
 
 
 
 
 
Big Bang Space GIF by Motion Addicts - Find & Share on GIPHY
 

 

 

দ্যা বিগ ব্যাং 

 
 
বেলজিয়ামের একজন যাজক, জর্জ লামেত্রি, আইনস্টাইনের থিওরি জেনেছিলেন, তিনি এ ধারণা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যা যুক্তিসঙ্গত ভাবে আমাদের নেতৃত্ব দেয় যদি মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়ে থাকে তবে অবশ্যই এর একটি শুরু আছে। কারণ গ্যাস যদি সংকোচিত হয় তবে এর ভেতর উত্তাপ তৈরি হয় তিনি বুঝতে পারেন যে শুরুতে মহাবিশ্ব দারুণভাবে উত্তপ্ত ছিলো। ১৯২৭ সালে, তিনি বলেন যে, মহাবিশ্ব একটি সুপার এটম থেকে শুরু হয়েছে যার ছিলো অবিশ্বাস্য তাপমাত্রা ও ঘণত্ব, যা আকষ্মিক বাহিরের দিকে বিস্ফোরিত হয়, এবং হাবলের সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের জন্ম দেয়। তিনি লিখেন, মহাবিশ্বের বিবর্তন কে ফায়ারওয়ার্কের প্রদর্শনীর সাথে তুলনা করা যায় যা এ মাত্র শেষ হয়েছে- কিছু রক্তিম আলো, ছাই ও ধোঁয়া। ভালোভাবে ঠান্ডা একটি অঙ্গারের উপর দাঁড়িয়ে, আমরা সূর্যকে ধীরে ধীরে বিবর্ণ হতে দেখছি এবং আমরা স্মরণ করি জগতের শুরুর দিকের বিলুপ্ত উজ্জ্বলতার কথা! ( ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি যিনি সময়ের শুরুতে সুপার এটমের ধারণা প্রস্তাব করেছিলেন, তিনি ছিলেন এডগার এলান পোই, তিনি বলেন যে, যেহেতু ম্যাটার অন্য কাঠামোর ম্যাটারকে আকর্ষণ করে সেজন্য সময়ের একেবারে শুরুতে অবশ্যই পরমাণুর মহাজাগতিক ঘণত্ব উপস্থিত থাকা উচিত)
 
লামিত্রি ফিজিক্স কনফারেন্সে যোগ দিতেন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানীদের তার ধারণার মাধ্যমে পরীক্ষা করতেন। তারা অত্যন্ত কৌতুকের সাথে তার কথা শুনতো পরে শান্তভাবে তার ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করতো। আর্থার এডিংটন, তার সময়ের একজন নেতৃত্বস্থানীয় পদার্থবিজ্ঞানী, বলেন, একজন বিজ্ঞানী হিসেবে আমি খুব সাধারণভাবে এটা বিশ্বাস করি না যে বস্তুর বর্তমান শৃঙ্খলা মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। মহাবিশ্বের বস্তুর সাম্প্রতিক শৃঙ্খলার শুরু এমন এক আকষ্মিক পদ্ধতিতে সেটি তিরস্কার আমার কাছে! হাবল যখন জ্যোতির্বিদ্যার পরিশীলিত প্যাট্রিশিয়ান ছিলেন, তখন তার কাজ জীবনের আরো বৃহত্তর ব্যক্তিত্ব জর্জ গামো দ্বারা চালিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গ্যামো অনেকদিক থেকেই তার বিপরীত ছিলেন; একজন জেস্টার, কার্টুনিস্ট, বিখ্যাত ছিলেন তার ব্যাবহারিক কৌতুকের জন্য, বিজ্ঞানের উপর তার বিশটি বইয়ের জন্য, তাদের মধ্যে তরুণ ও প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য। পদার্থবিজ্ঞানীদের কিছু জেনারেশন ( তার মধ্যে আমিও (কাকু)   অন্তঃ র্ভূক্ত) তার বিনোদনমূলক ও তথ্যবহুল গ্রন্থগুলো তুলে ধরেছি ফিজিক্স ও কসমোলজি সংক্রান্ত!
 
 
 
 

জর্জ গ্যামো, কসমিক জেস্টার

 
 
 
 
যখন হাবল এস্ট্রোনোমির একজন পরিশীলিত প্যাট্রিশিয়ান ছিলেন, তখন তার কাজ জীবনের আরো বৃহত্তম ব্যক্তিত্ব জর্জ গামো দ্বারা চালিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গামো অনেকদিক থেকেই তার বিপরীত ছিলেন; একজন জেস্টার, কার্টুনিস্ট, ব্যবহারিক রসিকতা আর বিজ্ঞানের উপর তার বিশটি বইয়ের জন্য তাদের মধ্যে তরুণ ও প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য। পদার্থবিদদের বেশ কয়েক প্রজন্ম তার বিনোদন ও তথ্যমূলক গ্রন্থগুলো উত্তোলন করেছেন যার মধ্যে আমিও একজন। এগুলোর বেশকিছু ছিলো তরুণ ও বৃদ্ধদের জন্য। যখন রিলেটিভিটি ও কোয়ান্টাম ফিজিক্স সমাজে বিপ্লব ঘটিয়েছিলো তখন তার বই একা দাঁড়িয়েছিলো, এগুলো ছিলো উন্নত বিজ্ঞানের একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য বই তরুণদের উপলব্ধিযোগ্য। বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু
 
 
যদিও খুব কম বিজ্ঞানী বন্ধ্যা ধারণাগুলো, বিষয়বস্তু শুকনো তথ্যের পর্বতমালার দ্বারা পিষে৷ গ্যামো তার সময়ের অন্যতম সৃজনশীল প্রতিভা ছিলো। এমন একটি পলিম্যাথ যিনি দ্রুত ধারণাগুলো সরিয়ে দেন যা পরমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, মহাজাগতিক বিজ্ঞান এবং এমনকি ডি এন এ গবেষণা। জেমস ওয়াটসনের অটোগ্রাফি হয়তোবা দূর্ঘটনা ছিলো না যিনি ফ্রান্সিস ক্রিকের সাথে ডিএনএর সিক্রেট উন্মোচন করেন, যেটির টাইটেল দিয়েছিলেন জিন, গ্যামো এবং গার্লস। এডওয়ার্ড টেলার বলেছিলেন, গ্যামোর ৯৯ ভাগ ধারণা ভুল, আর এটি সনাক্ত করা কঠিন যে তারাও ভুল। কিন্তু তিনি কিছু মনে করতেন না। তিনি ছিলেন সে সব ব্যক্তিদের মধ্যে একজন যাদের বিশেষ কোন গর্ব ছিলো না। তিনি তার অত্যাধুনিক ধারণা পরিত্যাগ করতে পারতেন এবং এটিকে জোক্স হিসেবে মূল্যায়ন করতেন। কিন্তু তার ১০ শতাংশ আইডিয়া সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভূদৃশ্য বদলে দেয়! গ্যামো শিক্ষালাভ করেন ইউনিভার্সিটি অব লেনিনগার্ড থেকে। তারপর ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনে, তিনি বহু দৈত্যাকার পদার্থবিজ্ঞানীর সাথে দেখা করেন, নীলস বোরের মতো। তিনি তার বন্ধুদের ছড়া পাঠানোর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। অধিকাংশ ছিলো প্রিন্টের অযোগ্য, এ সব ছড়া কসমোলজিস্টদের উত্তেজনাকে আকর্ষণ করতো যখন তারা এস্ট্রোনোমিক্যাল সংখ্যার বিশালত্বে মুখোমুখি হতেন এবং অনন্তের মুখে তাকাতেন;
 
 
 
There was a Young Fellow of Trinity
Who took the Squire root of Infinity
But the number of digit
Gave him the fidget;
He dropped match and took up divinity.
 
1920 সালে, রাশিয়ায়, গ্যামো সর্বপ্রথম তার জীবনের বড় সফলতা অর্জন করেন যখন তিনি রেডিও একটিভ ক্ষয়ের রহস্য উন্মোচন করেন। ধন্যবাদ ম্যাডাম কুরি ও অন্যান্যদের, বিজ্ঞানীরা জানতো যে ইউরেনিয়াম এটম অস্থিতিশীল এবং আলফা রশ্মি আকারে এটি রেডিয়েশন এমিট করে। কিন্তু নিউটোনিয়ান ম্যাকানিক্স অনুসারে, যে রহস্যজনক নিউক্লিয়ার ফোর্স নিউক্লিয়াসগুলোকে একসাথে বেধে রাখে তাদের একটি প্রতিবন্ধকতার দেয়াল থাকা উচিত যা এই ক্ষয় রোধ করবে। কিন্তু কিভাবে এটি সম্ভব? কিন্তু গ্যামো বুঝতে পেরেছিলেন যে, রেডিওএকটিভ ক্ষয় সম্ভব কারণ কোয়ান্টাম থিওরি, অনিশ্চয়তার সুত্র বোঝায় যে একজন ব্যক্তি একটি পার্টকেলের লোকেশন ও ভেলোসিটি একসাথে জানতে পারে না, অতএব একটি সীমিত সম্ভাবনা তৈরি হয় এটি সম্ভবত “টানেল” করে অথবা প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ছেদ করে বেরিয়ে যায়। ( বর্তমানে এ টানেলিং পদার্থবিজ্ঞানীদের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি  ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভাইসের প্রপার্টি, ব্লাকহোল ও বিগব্যাং কে এক্সপ্লেইন করার জন্য ব্যবহার করা হয়। হতে পারে আমাদের মহাবিশ্ব নিজেও টানেলিং এর দ্বারা তৈরি হয়েছে) এ এনালজি দ্বারা গ্যামো কল্পনা করেন একজন প্রিজনারকে, যে চারপাশে দেয়াল ঘেরা একটি কারাগারে আবদ্ধ। ক্লাসিক্যাল নিউটোনিয়ান জগত অনুসারে , কয়েদির পক্ষে দেয়াল ভেদ করা অসম্ভব। কিন্তু কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের অদ্ভুত জগতে আপনি সুনির্দিষ্ট করে প্রিজনারের গতি ও অবস্থান জানেন না। যদি প্রিজনার দেয়ালের বিপক্ষে ধাক্কা মারে তবে আপনি সম্ভাব্যনা গণনা করতে পারবেন যে কোন একদিন হয়তো সে দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসবে সম্পূর্ণভাবে কমনসেন্স ও নিউটোনিয়ান ম্যাকানিজম লঙ্গন করে। একটি গণনাযোগ্য সসীম সম্ভাবনা আছে যে সে নিজেকে দেয়ালের বাহিরে খুঁজে পাবে। প্রিজনারের মতো বড়ো বস্তুর জন্য আপনাকে মহাবিশ্বের জীবনকাল থেকে দীর্ঘ সময় অবধি অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু আলফা ও সাব-এটমিক পার্টিকেলদের ক্ষেত্রে এটি সবসময় সংঘটিত হয় কারণ এ পার্টিকেল নিউক্লিয়াসে এ দেয়ালের বিপক্ষে ক্রমাগতভাবে আঘাত করতে থাকে বিপুল পরিমাণ শক্তি দিয়ে। অনেকে মনে করেন গ্যামোকে অত্যাবশ্যক ভাবে এ গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য নোবেল প্রাইজ দেয়া উচিত! ১৯৪০ সালে গ্যামো উৎসাহ শুরু হয়, রিলেটিভিটি থেকে কসমোলজির দিকে শিপট করার জন্য, যেটিকে তিনি অনুগটিত রাজকীয় দেশ হিসেবে দেখতেন। সে সময় সবাই জানতো রাতের মহাকাশ কালো কারণ মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। গ্যামো শুধু একটি সাধারণ ধারণা দ্বারা পরিচালিত হয়েছিলেন, শুধু এটা আবিষ্কার করতে চেয়েছেন বিলিয়ন বছর পূর্বের বিগব্যাং এর কোন ফসিল পাওয়া যায় কী না! এটি ছিলো হতাশাজনক কারণ কসমোলজি তখনো সত্যিকার অর্থে এক্সপেরিমান্টাল বিজ্ঞান ছিলো না। বিগব্যাং কে জানার জন্য কোন এক্সপেরিমেন্টই পরিচালনা করা হয়নি। কসমোলজি অনেকটা ডিটেক্টিভ গল্পের মতো, পর্যবেক্ষণলব্ধ বিজ্ঞানে আপনি শুধু অপরাধের প্রমাণ খুঁজেন আর এক্সপেরিমেন্টাল সায়েন্সে আপনি যথাযথ এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন।
 
 
 
 
 

মহাবিশ্বের নিউক্লিয়ার কিচেনঃ

 
 
গ্যামোর পরবর্তী কন্ট্রিবিউশন ছিলো নিউক্লিয়ার রি- একশনের আবিষ্কার যা সবচেয়ে উজ্জ্বল উপাদানগুলোর জন্ম দেয় যা আমরা মহাবিশ্বে দেখতে পাই। তিনি এটাকে বলতে পছন্দ করতেন “মহাবিশ্বের প্রাগৈতিহাসিক রান্নাঘর” যেখানে মহাবিশ্বের সকল উপাদানকে রান্না করা হয়। বর্তমানে এ প্রক্রিয়াটিকে নিউক্লিও- সিন্থেসিস বলা হয় অথবা মহাবিশ্বের উপাদানগুলোর তুলনামূলক প্রাচুর্যের গণনা। গ্যামোর ধারণা মতে হাইড্রোজেনের সাথে একটা অখন্ড শিকড়ের অবতারণা হয় যা উত্তরাধিকারিসুত্রে হাইড্রোন এটমের সাথে অধিকতর পার্টিকেল যোগ করার মাধ্যমে তৈরি হয়। মেন্ডেলের সম্পূর্ণ পর্যায় সরণী তার বিশ্বাস মহাবিস্ফোরণের প্রচন্ড উত্তাপ থেকে তৈরি হয়েছে। গ্যামো ও তার ছাত্র যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে কারণ মহাবিশ্ব ছিলো অবিশ্বাস্যভাবে উত্তপ্ত প্রোটন ও নিউট্রনের সমাহার সৃষ্টির প্রারম্ভে, তারপর সম্ভবত ফিউশন সংঘঠিত হয়েছিলো, হাইড্রোজেন এটমগুলো একসাথে মিশ্রিত হয়েছিলো হিলিয়াম তৈরি করার জন্য। একটি হাইড্রোজেন বোমা অথবা নক্ষত্রের ভেতর উত্তাপ এত বেশি থাকে যে হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটন একে অপরের ভেতর ভেঙে মিশে যায় এবং হিলিয়াম নিউক্লি তৈরি করে। হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের পরবর্তী সংঘর্ষ থেকে অন্যান্য উপাদান তৈরি হয় যার মধ্যে রয়েছে লিথিয়াম ও বেরিলিয়াম।
গ্যামো মনে করতেন, উচ্চমাত্রিক উপাদানগুলো সিকোয়েন্সিয়ালি তৈরি হয়েছিল নিউক্লিয়াসের সাথে নতুন নতুন সাব- এটমিক পার্টিকেল যোগ করে, অন্য কথায় যে শতাধিক উপাদান আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্ব তৈরি করেছে তা অরিজিনিয়াল ফায়ারবলের পাশবিক উত্তাপের ভেতর রান্না হয়! সাধারন ফ্যাশন অনুসারে, গ্যামো তার এ বিলাসবহুল প্রোগ্রামের বিস্তৃত রুপরেখা তৈরি করেন এবং তার পি এইস ডি ছাত্র রাল্প আলফারকে বিস্তারিত পূরণ করতে বলেন। তিনি একটি ব্যবহারিক কৌতুক এড়িয়ে যেতে পারেন নি। তিনি পদার্থবিজ্ঞানী হ্যান বেথের নাম বসিয়ে দেন পেপারে তার অনুমতি ছাড়াই। গ্যামো যা পেয়েছিলেন তা ছিলো মহাবিস্ফোরণ যথেষ্ট উত্তপ্ত ছিলো হিলিয়াম তৈরির জন্য, যা মহাবিশ্বের ২৫ শতাংশ তৈরি করেছে। বিপরীতে কাজ করে, মহাবিস্ফোরণের একটি প্রমাণ পাওয়া যায় সাধারণভাবে অজস্র নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির দিকে তাকিয়ে এবং এটা অনুভব করে যে সেগুলো আনুমানিক ৭৫ শতাংশ হাইড্রোজেন ও ২৫ শতাংশ হিলিয়াম ও অন্যান্য উপাদানের। (প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের David Spergel বলেন, যতবার আপনি কোনো বেলুন ক্রয় করেন, আপনি এমন কিছু এটম পান যা মহাবিস্ফোরণের প্রথম মিনিটে তৈরি হয়েছে!
 
যাইহোক, গ্যামো গণনায় একটি সমস্যা পেয়েছিলেন, তার থিওরি আলোকিত বস্তুর ক্ষেত্রে খুব ভালোভাবে কাজ করে। কিন্তু ৫ এবং ৮ নিউট্রন সম্পন্ন উপাদানগুলো খুবই অস্থিতিশীল, আর তাই এগুলো আরো বড় সংখ্যক প্রোটন ও নিউট্রন তৈরির ব্রীজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনা। ৫ ও ৮ পার্টিকেল থেকে এ ব্রীজটি উদাও হয়ে যায়। যেহেতু মহাবিশ্বের ভারী অবজেক্টগুলোতে ৫ এবং ৮ থেকেও আরো বেশি প্রোটন ও নিউট্রন থাকে; অতএব ব্যাপারটি রহস্য রয়ে গেলো। গ্যামোর প্রোগ্রামের ৫ ও ৮ পার্টিকেলের অতীতে যাওয়ার অক্ষমতা একটি একগুঁয়ে সমস্যা হিসেবে এক বছর পর্যন্ত রয়ে গেলো, তার সে কল্পনাটির ভাগ্য নির্দেশ করে যা প্রদর্শন করেছিল, মহাবিশ্বের সব উপাদান, সৃষ্টি হয়েছে মহাবিস্ফোরণের মুহূর্তে!
 
 
 
 
 
 
 

মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনঃ

 
 
একইসময়, আরো একটি ধারণা তাকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে, যদি মহাবিস্ফোরণ অবিশ্বাস্যরকম ভাবে উত্তপ্ত হয়, হয়তো অবশিষ্ট কিছু তাপমাত্রা মহাবিশ্বের চারপাশে এখনো আবর্তিত হচ্ছে। যদি তাই হয়, এটি হয়তো স্বয়ং মহাবিস্ফোরণের ফসিল রেকর্ড। সম্ভবত মহাবিস্ফোরণ এতটাই বিশাল যে এর আফটার শক এখনো মহাবিশ্বকে পরিপূর্ণ করে রেখেছে রেডিয়েশনের অভিন্ন কুয়াশা। ১৯৪৬ সালে, গ্যামো অনুমান করেন, মহাবিস্ফোরণ একটি পরম উত্তপ্ত নিউট্রনের কেন্দ্রে সংঘঠিত হয়েছিলো। এটি ছিলো যৌক্তক অনুমান । খুব অল্প থেকেই আমরা ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন ছাড়া অন্যান্য পার্টিকেলগুলো সম্পর্কে জানতাম। তিনি যদি এ নিউট্রন বলটির টেম্পারেচার নির্ণয় করতে পারেন তিনি বুঝতে পারেন তবে তিনি তাপমাত্রা ও রেডিয়েশনের প্রকৃতি গণনা করতে পারবেন! দুই বছর পর গ্যামো দেখান যে, এ পরম উত্তপ্ত কেন্দ্র থেকে যে রেডিয়েশন নির্গত হবে, ব্লাকবডি রেডিয়েশনের মতো আচরণ করতে পারে, বিশেষ প্রকারের রেডিয়েশন যেটি তার উপর আছড়ে পড়া অন্যান্য আলোগুলোকে শোষণ করতে পারে। এর মধ্যে রেডিয়েশন নির্গত হয় চরিত্রগত উপায়ে। উদাহরণ স্বরুপ, যেমন- সূর্য লাভাকে গলিয়ে দেয়, কয়েলকে উত্তপ্ত করে আগুনে এবং উত্তপ্ত সিরামিককে চুল্লিতে যেগুলো হলুদ থেকে লালে উজ্জ্বল হয়ে উঠে এবং পরে ব্লাকবডি রেডিয়েশন বিকিরণ করে। (সর্বপ্রথম ব্লাকবডি রেডিয়েশন আবিষ্কার করেন, থমাস উড, ১৯৭২ সালে যখন কাঁচা ম্যাটারিয়ালসকে চুল্লিতে উত্তপ্ত করা হয়, তারা তাদের রঙ পরিবর্তন করে লাল থেকে হলুদ এবং পরে সাদা, যদি তিনি টেম্পেরেচার বৃদ্ধি করেন।) এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যখন একজন ব্যক্তি একটি উত্তপ্ত বস্তুর কালার দেখবে, সে মোটের উপর সে বস্তুটির তাপমাত্রাও জানতে পারবে (বিপরীতক্রমে)। উত্তপ্ত বস্তুর তাপমাত্রার সাথে সুনির্দিষ্টভাবে জড়িত যে ফর্মুলা সেটি প্রথম আবিষ্কার করেন ম্যাক্স প্লাঙ্ক, ১৯০০ সালে যা কোয়ান্টাম থিওরির জন্ম দেয়। ( প্রকৃতপক্ষে এটি সে প্রক্রিয়া, যে পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা সূর্যের তাপমাত্রা পরিমাপ করেন। সূর্য প্রধানত হলুদ আলো নিঃস্বরণ করে যা মোটের উপর ৬০০০ কেলভিন তাপমাত্রার ব্লাকবডি টেম্পারেচারের সাথে সম্পর্কিত। আর এভাবে আমরা বাহিরের জলবায়ুতে সূর্যের তাপমাত্রা সম্পর্কে জানতে পারি। একইভাবে লাল দৈত্যাকার তারা বেটেলজিউজের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হলো ৩০০০k, ব্লাকবডি রেডিয়েশন, লাল রঙের সাথে সম্পর্কযুক্ত, এগুলোও উত্তপ্ত লাল এক খন্ড কয়েল থেকে নির্গত হয়)
 
গ্যামোর পি এইস ডি স্টুডেন্ট রাল্প আলফা এবং তার আরো একজন ছাত্র, রবার্ট হার্মান, গ্যামোর গণনা শেষ করতে চাইলেন টেম্পারেচার কম্পিউট করার মাধ্যমে। গ্যামো লিখেছেন, প্রথম থেকে বর্তমান পর্যন্ত মহাবিশ্বের দিনগুলো আমরা খুঁজে পেয়েছি যে যুগটি অতিবাহিত হয়েছিলো। মহাবিশ্বকে অবশ্যই ৫ ডিগ্রির পর্যন্ত শীতল হতে হবে পরম তাপমাত্রার উপরে। ১৯৪৮ সালে, আলফার এবং হার্মান একটি পেপার প্রকাশ করেন বিস্তারিত বিতর্ক সহকারে কেনো মহাবিস্ফোরণের পর আজকে তাপমাত্রা পরম পরম শূন্যের ৫ ডিগ্রি বেশি হওয়া উচিত। মাইক্রোওয়েভ রেঞ্জে যে রেডিয়েশন তারা আইডেন্টিফাই করেছেন, সেগুলো এখনো মহাবিশ্বের চারপাশে সার্কুলেট করা প্রয়োজন, তারা দাবি করেন, যা মহাবিশ্বকে অভিন্নভাবে সন্ধ্যারাগ (afterglow) দ্বারা পরিপূর্ণ করে রাখবে। ( যুক্তিটি নিন্মরুপ, মহাবিস্ফোরণের কয়েক বছর পর, মহাবিশ্বের তাপমাত্রা এত বেশি ছিলো যে যেকোনো সময় এটম উৎপন্ন হতে পারতো, এটি ছিড়ে দূরেও ছিটকে যেতো, আর এভাবে এখানে অসংখ্য স্বাধীন ইলেক্ট্রন পড়ে থাকতো যেগুলো আলো বিচ্ছুরণ করতে পারতো। এভাবে, মহাবিশ্ব ছিলো অস্পষ্ট, এটি স্বচ্ছ ছিলো না। যেকোনো লাইট বিম যা সুপার হট মহাবিশ্বে মুভ করতো তারা সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করার সাথে সাথেই শোষণ হয়ে যেতো, মহাবিশ্বকে মনে হতো মেঘাচ্ছন্ন। ৩,৮০,০০০ বছর পর, যাহোক, তাপমাত্রা ৩০০০ ডিগ্রিতে পতিত হলো। এ তাপমাত্রার নিচে এটমরা একে অপরের সাথে কোলাইড করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতোনা। যার ফলে, স্থিতিশীল এটম তৈরি হলো, আলোকতরঙ্গ এখন শোষিত না হয়ে, কোনোপ্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বহু আলোকবর্ষ অতিক্রম করতে পারে, আর এভাবে সর্বপ্রথম শূন্যস্থান স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট হয়ে উঠলো। যে রেডিয়েশন সৃষ্টির একেবারে প্রারম্ভে তৈরি হয়েছিলো, সেগুলো আর তখন শোষণ হয়নি আর তাই সেগুলোকে আমাদের সাম্প্রতিক মহাবিশ্বেও ঘূর্ণায়মান অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যাবে) আলফা এবং হার্মান যখন গ্যামোকে তাদের চুড়ান্ত গণনা দেখালো, গ্যামো হতাশাগ্রস্ত হলো। এ তাপমাত্রা এতই শীতল যে এগুলোকে পরিমাপ করা একেবারেই দুস্কর। গ্যামোর প্রায় একবছর সময় লেগেছিলো এটা বুঝতে যে তাদের বিস্তারিত গণনা সঠিক। তিনি সর্বদা খুবই দূর্বল এ রেডিয়েশন ফিল্ড পরিমাণ করার ক্ষেত্রে সক্ষমতায় সবসময় হতাশ হয়েছেন। ১৯৪০ সালে যে যন্ত্রগুলো ছিলো সেগুলো আশাতীতভাবে অপর্যাপ্ত এ দূর্বল প্রতিধ্বনি পরিমাপ করার জন্য। ( পরবর্তী একটি গণনায়, গ্যামো একটি ভুল অনুমান করেছিলেন, তিনি তাপমাত্রাকে ঠেলে ৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত তুলে দিয়েছিলেন)। তারা তাদের কাজ প্রচারের জন্য একাধিকবার আলোচনা করেছিলো। কিন্তু দুঃখ্যজনকভাবে তাদের ভবিষ্যতবাণীর ফলাফলগুলোকে উপেক্ষা করা হয়েছে। আলফার বলেছিলেন, আমরা এ কাজের জন্য নারকীয় পরিমাণ সময় ও শক্তি ব্যয় করেছি শুধু কথা বলে। কেউ কর্ণপাত করেনি, কেউই বলেনি যে এটি পরিমাপ করা যাবে…. এবং এরপর ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৫, আমরা হাল ছেড়ে দেই।
 
নির্ভিক গ্যামো, তার বই ও লেকচার দ্বারা বিগব্যাং থিওরিকে উপরের দিকে উঠানোর ক্ষেত্রে একজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি তার খেলাটি খেলেছেন তার সমশক্তিসম্পন্ন নিষ্ঠুর এক প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে। গ্যামো তার শ্রোতাদের আকৃষ্ট করতে পারে তার কৌতুক ও জাদুকরীতার মাধ্যমে আর অন্যদিকে ফ্রেড হোয়েল শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে তার ব্যাপক প্রতিভা এবং আক্রমণাত্মক দুঃস্বাহস দিয়ে!
 
 

ফ্রেড হোয়েল, কনট্রেরিয়ান

 
 
মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন আমাদের মহাবিস্ফোরণের দ্বিতীয় প্রমাণ প্রদান করে। কিন্তু যে ব্যক্তি নিউক্লিওসিন্থেসিসের মাধ্যমে মহাবিস্ফোরণের তৃতীয় প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি ছিলেন ফ্রেড হোয়েল, একজন ব্যক্তি যিনি তার সম্পূর্ণ প্রফেশনাল জীবন কাটিয়েছিলেন বিগব্যাং থিওরিকে মিথ্যা প্রমাণ করে! হোয়েল ছিলো এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি ছিলেন প্রফেশনাল মিসফিট। একজন প্রতিভাবান প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি পাগনেচিয়ান স্টাইলে প্রথাগত প্রজ্ঞাকে প্রতিহত করতেন। যেখানে হাবল চুড়ান্ত পেট্রিশিয়ান ছিলেন অক্সফোর্ড ডনের পদ্ধতিগুলো অনুকরণ করে এবং গ্যামো ছিলেন জেস্টার ও পলিম্যাথ ছড়া, কৌতুক ও হৈ হুল্লোড় করে শ্রোতাদের মাঝে জাগরণ তৈরি করতে পারতেন। হোয়েলের স্টাইল ছিলো বন্য বুলডগের মতো, তাকে কেম্রিজ ইউনিভার্সিটির প্রাচীন হলগুলোতে অদ্ভুতভাবে অবান্তর মনে হতো যা ছিলো আইজ্যাক নিউটনের পুরানো বিচরণ স্থান। হোয়েল ১৯১৫ সালে, উত্তর ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি ছিলেন একজন টেক্সটাইল মার্চেন্টের সন্তান, এটি ছিলো একটি এরিয়া যা উল ইণ্ডাষ্ট্রি দখল করে রাখে। একজন শিশু হিসেবে তিনি বিজ্ঞান দ্বারা আকৃষ্ট ছিলেন তখন রেডিও মাত্র তার গ্রামে এসেছে, এবং তিনি বিশ থেকে ত্রিশজন ব্যক্তিকে আগ্রহের সাথে বলেছিলেন তাদের ঘরে রেডিও রিসিভার কানেক্ট করে দিতে, কিন্তু সবচেয়ে যুগান্তকারী ঘটনাটি ঘটেছিলো যখন তার বাবা মা তাকে উপহার হিসেবে একটি টেলিস্কোপ দিয়েছিলেন। হোয়েলের সংগ্রামী স্টাইল তৈরি হয়েছে যখন তিনি শিশু ছিলেন। তিনি তিন বছর বয়সেই গুণকের সরণি আয়ত্ত করেছিলেন, তার শিক্ষক তাকে রোমান সংখ্যা শিখতে বলেছিলেন। কিভাবে মানুষ এত বোকা হতে পারে যে তারা ৮ কে VIII লিখে?” তিনি অপমানজনকভাবে স্মরণ করেন। কিন্তু যখন তাকে স্কুলে যাওয়ার নিয়মের কথা শোনানো হলো, তিনি লিখেন, আমি উপসংহারে পৌঁছেছি যে দূর্ভাগ্যক্রমে, আমি এমন একটি জগতে জন্মগ্রহণ করেছি যেটিতে ছড়িয়ে পড়েছে ” আইন” নামক একটি দানবের দাপট যেটি একইসাথে শক্তিশালী ও মূর্খ। কতৃত্বের প্রতি তার অবজ্ঞা আরো একজন শিক্ষকের সাথে সংযুক্ত হয়েছিল, যিনি ক্লাসে বলেছিলেন একটি নির্দিষ্ট ফুলের ৫ টি পাপড়ি আছে। শিক্ষককে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য, তিনি ক্লাসে ছয় পাপড়িবিশিষ্ট একটি ফুল নিয়ে যান। অন্তর্নিহিত সেই অবিচ্ছিন্ন কাজের জন্য, তিনি তার বাম কানে প্রচন্ড জোরে একটি থাপ্পড় দিয়েছিলেন। ( হোয়েলের সে কানটি পরবর্তীকালে বধির ছিলো)
 
 

স্টিডি স্টেট থিওরিঃ

 
 
১৯৪০ সালে, হোয়েল মহাবিস্ফোরণ তত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। এ থিওরির একটি ডিফেক্ট ছিলো হাবল, কারণ তিনি দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলোর আলো পরিমাপ করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন। মহাবিশ্বের বয়সকে ভুল গণনা করেছেন ১.৮ বিলিয়ন বছর হিসেবে। জীববিজ্ঞানীরা বলেন যে, পৃথিবী ও সোলার সিষ্টেম সম্ভবত বহু বিলিয়ন বছর পুরাতন, কিভাবে মহাবিশ্ব প্লানেট থেকে তরুণ হতে পারে?     ফ্রেড হোয়েল সহযোগী থমাস গোল্ড এবং হার্মান বন্ডিকে নিয়ে, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী থিওরি দাড় করলেন। জনশ্রুতি আছে যে তাদের এ স্টিডি স্টেট থিওরি ১৯৪৫ সালের একটি ভূতের মুভি দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল যার নাম Dead of Night মাইকেল রেডগ্রাভ অভিনিত! এ মুভিটিতে বিদ্যমান রয়েছে ভুতের গল্পের একটি সিরিজ। কিন্ত ফাইনাল স্কিনে ছিলো একটি স্মরণীয় টুইস্ট। মুভিটি এমনভাবে শেষ হয়েছিলো ঠিক যেভাবে এটি শুরু হয়। আর এভাবে এ মুভিটি ছিলো বৃত্তাকার যার কোন শুরু বা শেষ নেই। ( গোল্ড পরে এ গল্পটি পরিস্কার করেন, তিনি স্মরণ করেন, আমি ভাবি আমরা যে মুভিটি কয়েকমাস পূর্বে দেখেছিলাম এবং তারপর আমি যখন স্থির মহাবিশ্ব প্রস্তাব করলাম, আমি তাদের বললাম, Isn’t that a bit like Dead of Night?””) এ মডেলে, মহাবিশ্বের একটি অংশ যদিও সম্প্রসারিত হচ্ছে, কিন্ত প্রতিনিয়ত শূন্য থেকে নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে, আর এ জন্যে মহাবিশ্বের ঘণত্ব একই থেকে যাচ্ছে। যদিও তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দিতে পারেন নি কিভাবে বস্তু “এখান” থেকে ইনস্ট্যান্টলি উৎপত্তি লাভ করে। এ থিওরিটি তাৎক্ষণিক কিছু বিশ্বস্তকে আকৃষ্ট করলো যার মহাবিস্ফোরণ তত্বের বিরোধী।হোয়েলের মতে এটি একেবারেই অযৌক্তিক যে একটি নিষ্ঠুর মহাপ্লাবন “কোথাও না” থেকে শুরু হলো এবং গ্যালাক্সিগুলোকে প্রচন্ড জোরে সকল দিকে নিক্ষেপ করলো; তিনি পছন্দ করলেন একটি মসৃন ক্রিয়েশন কোনোকিছু না থেকে! অন্যকথায়, মহাবিশ্ব সময়হীন। এর কোন শুরু নেই এবং শেষও নেই। এটি শুধু ছিলো। (স্টিডি স্টেট ও বিগব্যাং এর বিতর্ক জীববিজ্ঞান ও অন্যন্য বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জীববিজ্ঞানে ইউনিফর্মিটারিয়ানিজম ও ক্যাটাস্ট্রোপিজম মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক। একটি তত্ব বলছে, পৃথিবী গঠিত হয়েছে গ্রেজুয়াল পরিবর্তনের মাধ্যমে আর অন্যটি বলছে পরিবর্তন সংঘঠিত হচ্ছে সংঘর্ষমূলক ঘটনার মাধ্যমে। যদিও ইউনিফর্মিটারিয়ানিজম এখনো জিওলোজিক ও ইকোলোজিক্যাল ফিচার এক্সপ্লেইন করছে,  কেউই কমেট এবং এস্টারোয়েডের প্রভাবকে অস্বীকার করতে পারেনা, যার কারণে  ঘণ বিলুপ্তি সংঘটিত হয়েছিলো, অথবা ভাঙন এবং মহাদেশ গুলোর গতিশীলতা প্লেট টেকটোনিকের মাধ্যমে)
 

 

BBC লেকচার

 
হোয়েল ভালো একটি যুদ্ধের সুযোগ ত্যাগ করেন নি। ১৯৪৯ সালে হোয়েল এবং গ্যামোকে British Broadcasting Corporation বা BBC থেকে ডাকা হয় মহাবিস্ফোরণের উপর বিতর্ক করার জন্য। এ সম্প্রচারের সময় হোয়েল ইতিহাস রচনা করেছিলেন যখন তিনি তার প্রতিপক্ষের তত্বের বিপক্ষে ধুমধড়ক্কা শুরু করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, দূর্ভাগ্যক্রমে এ থিওরি এমন একটি হাইপোথেসিসের উপর প্রতিষ্ঠিত যে মহাবিশ্বের সকল ম্যাটার মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। এ নামটি বর্শাবিদ্ধ। এ বিদ্রোহী থিওরিটিকে বর্তমানে তার অন্যতম শত্রুরা বিগব্যাং নাম দিয়েছেন। ( পরে অবশ্য তিনি বলেন যে, তিনি মান হানি করার উদ্দেশ্যে এমন কিছু বলেন নি, তিনি সমবেদনা করে বলেন, কোন উপায় নেই এটিকে আমি মানহানিকর হিসেবে স্বীকৃতি দেবো, আমি  স্বীকৃতি দেবো আকর্ষণীয় হিসেবে) কয়েক বছর ধরে, এ থিওরির প্রস্তাবকরা এর নাম পরিবর্তন করার জন্য দুঃস্বাহসিকভাবে চেষ্টা করেন। তারা এ নামের অসভ্য সংঙ্গা দ্বারা সাধারণত সন্তুষ্ট ছিলেন না যা এর প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছিলো।
 
প্রকৃতিবাদীরা(Purists) বিশেষ করে বিরক্ত হয়েছেন কারণ এ নামটি বাস্তবসম্মতভাবে সঠিক নয়। প্রথমত, বিগব্যাং আসলে বড় নয় (যেহেতু এটি অতিক্ষুদ্র একটি সিঙ্গুলারিটি থেকে এসেছে যা এটম থেকেও ক্ষুদ্র), দ্বিতীয়ত, এখানে কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি ( যেহেতু আউটার স্পেসে কোন বাতাস নেই।) আগস্টের ১৯৯৩ সালে, Sky and Telescope magazine একটি কনটেস্ট আয়োজন করে মহাবিস্ফোরণের পূনরায় নাম রাখার জন্য। এ কনটেস্টে ত্রিশ হাজার এন্ট্রি অংশগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু বিচারকরা পূর্বের নামের চেয়ে ভালো কোনো নাম পায়নি)। যা সমগ্র প্রজন্মের কাছে ফ্রেড হোয়েলের সুখ্যাতি এনে দিয়েছিলো তা হলো বিজ্ঞানের উপর তার বিখ্যাত BBC রেডিও সিরিজ। ১৯৫০ সালে, BBC প্রতি শনিবার লেকচার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করলো। যাহোক যখন মূল অতিথি অনপুস্থিত ছিলো তখন পরিচালকরা বিকল্প অনুসন্ধান করছিলেন, তারা হোয়েলের সাথে যোগাযোগ করেন, যিনি আসতে রাজী হয়েছিলেন। তারপর তারা ফাইল চেক করেন, যেখানে একটি নোট ছিলো যেখানে লিখা ছিলো- DO NOT USE THIS MAN”!
ভাগ্যক্রমে, তারা পূর্বের পরিচালকের সতর্কবাণী উপেক্ষা করলো, এবং তিনি পৃথিবীর উদ্দেশ্যে ৫ টি স্পেল বাইন্ডিং ভাষণ দিলেন। বিবিসির এ ভাষণ সমস্ত জাতিকে মন্ত্রমুগ্ধ করলো এবং একটি অংশ পরবর্তী প্রজন্মের জোতির্বিদদের অনুপ্রাণিত করলো। এস্ট্রোনোমার ওয়ালেস সার্জেন্ট স্মরণ করেন এ সম্প্রচারের প্রভাব, যখন আমার বয়স পনের, আমি শুনি হোয়েল BBC তে ভাষণ দিচ্ছেন, যেটির শিরোনাম ছিলো, “The Nature of the Universe “! যে ধারণা আপনি জানেন সূর্যের কেন্দ্রের টেম্পারেচার ও ঘণত্ব কত তা আমাকে বিদ্যুতায়িত করেছিলো। পনের বছর বয়সে, এ রকম বিষয়গুলো ছিলো আমার জ্ঞানের অতীত। এটি শুধুমাত্র একটি বিষ্ময়কর সংখ্যা ছিলনা এবং আপনি যে এ ব্যাপারটি জানেন সেটিও।
 
 

নিউক্লিওসিন্থেসিস ইন দ্য স্টার

 
 

হোয়েল, যিনি আরাম কেদারায় বসে কল্পনা করাটাকে অবজ্ঞা করেন, তিনি তার স্টিডি স্টেড থিওরিটি পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তিনি অনুভব করেন, মহাবিশ্বের উপাদানগুলো মহাবিস্ফোরণ রান্না করেনি, যেমনটি গ্যামো বিশ্বাস করতেন কিন্তু নক্ষত্রের কেন্দ্রে। যদি শাতাধিক কেমিকেলের উপাদান নক্ষত্রের ভেতরের বিপুল তাপ থেকে তৈরি হয় তাহলে কোনপ্রকার মহাবিস্ফোরণের প্রয়োজন নেই। ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সেমিনাল পেপারের একটি সিরিজ প্রকাশিত হয়। হোয়েল এবং তার সহকর্মীরা বিশদ বিবরণ দেয় কিভাবে নক্ষত্রের ভেতর নিউক্লিয়ার রি- একশন সংঘটিত হয়, বিগব্যাং নয়, অধিক সংখ্যক প্রোটন ও নিউট্রন হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম নিউক্লিতে এড করতে পারে যতক্ষণনা তারা ভারী উপাদান তৈরি করছে, অন্ততপক্ষে আয়রন। ( তারা এ রহস্য সমাধান করেন, ৫’ম ভরের বস্তুর বাহিরে কিভাবে উপাদান তৈরি হয়, যা গ্যামোকে স্থগিত করে দিয়েছিলো। এক ঝাঁকুনিতে হোয়েল অনুভব করেছিলেন, যদি অতীতের অসনাক্ত অস্থিতিশীল কার্বনের রুপ থাকে, তিনটি হিলিয়াম নিউক্লি তৈরি করে, তবে এটি যথেষ্ট লম্বা ব্রিজ নির্মান করার জন্য যা উচ্চমাত্রিক উপাদানগুলো তৈরি হওয়ার জন্য অনুমোদন দেবে। নক্ষত্রের একেবারে কেন্দ্রে, নতুন অস্থিতিশীল কার্বনের গঠন হয়তো যথেষ্ট দীর্ঘস্থায়ী হবে, যা উত্তরাধিকারসুত্রে অধিক সংখ্যক নিউট্রন ও প্রোটন যোগ করবে, যেকেউ ৫-৮ ভরের বাহিরেও উপাদান তৈরি করতে পারবে। যখন কার্বনের এ অস্থিতিশীল রুপ পাওয়া যাবে, এটি ব্রিলিয়ান্টলি নক্ষত্রের ভেতরে নিউক্লিও-সিন্থেসিস বর্ণনা করবে, মহাবিস্ফোরণের পরিবর্তে। হোয়েল একটি বড় কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করলেন যা ডিটারমাইন করতে পারে, প্রায় প্রথম প্রিন্সিপ্যাল, মহাবিশ্বের বিভিন্ন উপাদানের তুলনামূলক প্রাচুর্যতার)।

কিন্তু এত ব্যাপক তাপমাত্রার পক্ষেও পর্যাপ্ত পরিমাণ উপাদান রান্না করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে কপার, নিকেল, জিঙ্ক ও ইউরেনিয়াম। বিভিন্ন কারণে, এটি খুবই কঠিন আয়রনের বাহিরের কোন উপাদানের জন্য ফিউশনের মাধ্যমে শক্তি উত্তোলন করা, নিউক্লিয়াসের প্রোটনের বিকর্ষণ এবং বাধাই করার শক্তির অভাব সহ।) সে সকল ভারী বস্তুর জন্য, যেকারো আরো বড় ওভেনের প্রয়োজন__ বিশাল মাপের নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, সুপারনোভা। যেহেতু সুপারজায়ান্ট নক্ষত্র ট্রিলিয়ন ডিগ্রিতে উত্তীর্ণ হয় এটি হিংসাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে সেখানে পর্যাপ্ত এনার্জি থাকে আয়রনের অতীত উপাদানগুলো রান্না করার জন্য। এর মানে হলো আয়রনের অতীত অনেক উপাদান, প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরিত নক্ষত্রের এটোমোস্ফিয়ারে তৈরি হয়ে থাকে অথবা সুপারনোভা! ১৯৫৭ সালে, হোয়েল, এছাড়া মার্গারেট এবং জেফরি বুরবিজ ও উইলিয়াম ফোলার, সম্ভবত মহাবিশ্বের তৈরির জন্য যে উপাদানগুলো প্রয়োজন সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট কাজের প্রদক্ষেপ নিয়েছেন, যা ছিলো বিস্তারিত এবং যা মহাবিশ্বে তাদের জানা প্রাচুর্যতা ব্যাখ্যা করে। তাদের যুক্তি এতটাই নির্দিষ্ট ও শক্তিশালী ও প্রবর্তনাজনক ছিলো যে এমনকি গ্যামো নিজেও মেনে নিয়েছেন যে হোয়েল নিউক্লিওসিন্থেসিসের সবচেয়ে আনুগত্য ছবি প্রদান করেছেন। গ্যামো তাদের সাধারণ ফ্যাশনে বাইবেলিকাল স্টাইলে একটি পেসেজ ঘোষণা করেন, শুরুতে ঈশ্বর যখন উপাদান তৈরি করলেন। গণনার উত্তেজনায়, তিনি ম্যাস-৫ এবং অন্যদের ডাকতে ভুলে গেলেন। প্রাকৃতিকভাবে কোন ভারীবস্তু তৈরি হয়নি। ঈশ্বর খুবই অসন্তুষ্ট হলেন, প্রথমে চাইলেন মহাবিশ্বের সাথে আবার সাক্ষাৎ করবেন এবং সবকিছু শুরু থেকে শুরু করবেন। কিন্তু এটি খুবই সরল হয়ে গেলো। এভাবে, ঈশ্বর সিদ্ধান্ত নিলেন, সবচেয়ে অসম্ভব উপায়ে তিনি তার ভুল শুধরে নেবেন। এবং ঈশ্বর বললেন, “এখন হোয়েল আসুক”। সেখানে হোয়েল এসে উপস্থিত হলেন । ঈশ্বর হোয়েলের দিকে তাকালেন…এবং তাকে বললেন, ভারী বস্তুগুলো তৈরি করতে যেকোনো উপায়ে তার যেভাবে খুশি। এবং হোয়েল সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি নক্ষত্রের ভেতর ভারী বস্তু তৈরি করবেন, এবং সুপারনোভা এক্সপ্লোশনের মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়ে দেবেন।
 
 

স্টিডি স্টেড থিওরির বিপক্ষে প্রমাণঃ

 
 
এক দশক ধরে, স্টিডি স্টেট তত্বের বিপক্ষে প্রমাণের স্তুপ জমতে শুরু করে। হোয়েল নিজেই বুঝতে পারেন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হয়েছেন। তার তত্বে, যেহেতু মহাবিশ্ব বিবর্তিত হয়নি কিন্তু নিরবিচ্ছিন্নভাবে নতুন ম্যাটার তৈরি হচ্ছে, প্রাচীন মহাবিশ্বকে অবশ্যই সাম্প্রতিক মহাবিশ্বের মতো হওয়া উচিত। সাম্প্রতিক যে গ্যালাক্সিগুলোকে দেখা যাচ্ছে সেগুলোকে বিলিয়ন বছর পূর্বের গ্যালাক্সির মতো মনে হওয়া উচিত। স্টিডি স্টেট থিওরি তবে মিথ্যা প্রমাণ হবে যদি কোনোপ্রকার নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে বিলিয়ন বছরের সময়ের প্রবাহে! ১৯৬০ সালে, আউটার স্পেসে, ব্যাপক ক্ষমতার এক রহস্যজনক সোর্স পাওয়া যায়, ডাবড কোয়েসার বা কোয়াইসি স্টেলার অবজেক্ট। কোয়েসার বিপুল মাত্রার ক্ষমতা তৈরি করে এবং ব্যাপক রেডশিপ্ট, তার মানে তারা বহু বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে বাস করে, তারা স্বর্গকে আলোকিত করে রেখেছিলো একেবারে মহাবিশ্বের তারূণ্যে। ( বর্তমানে এস্ট্রোনোমাররা বিশ্বাস করেন এটি হলো একটি দৈত্যাকার তরুণ গ্যালাক্সি যা ব্লাকহোলের ক্ষমতা দ্বারা পরিচালিত)। আমাদের কাছে বর্তমানে কোয়েসারের প্রমাণ নেই, যদিও স্টিডি স্টেট থিওরি অনুসারে, তাদের অস্তিত্ব আছে। বিলিয়ন বছর পর তারা অদৃশ্য হয়ে যাবে। হোয়েলের থিওরিতে আরো কিছু প্রবলেম ছিলো। বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে, মহাবিশ্বে হিলিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি যা স্টিডি স্টেট তত্বের প্রেডিকশনের সাথে সাংঘর্ষিক। হিলিয়াম এমন একটি গ্যাস যা শিশুদের বেলুন এবং ব্লিম্পে ( একপ্রকার নন- রিজিড বিমান) পাওয়া যায় যা পৃথিবীতে খুবই দূর্লভ।
কিন্তু এটি হাইড্রোজেনের পর মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যময় বস্তু। এটি খুবই দূর্লভ, প্রকৃতপক্ষে এটি প্রথম সূর্যে পাওয়া যায়, পৃথিবীতে নয়। ( ১৮৬৮ সালে,বিজ্ঞানীরা সূর্যের আলোকে বিশ্লেষণ করেন যা প্রিজমের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করে, ডিফ্লেক্টেট সানলাইট অস্বাভাবিক রঙধনুর রঙ ও বর্ণে ভেঙে যায় কিন্তু বিজ্ঞানীরা একটি দূর্বল বর্ণালির লাইন সনাক্ত করেন যা একটি রহস্যময় বস্তুর কারণে তৈরি হয় যা তারা পূর্বে দেখেনি। তার ভুলবশত এটিকে মেটাল মনে করেন, যার নাম স্বভাবত “Ium”, লিথিয়াম ও ইউরেনিয়ামের মতো। তারা এ রহস্যজনক মেটালের নাম দিয়েছেন সূর্যের গ্রীক নাম ” হিলিওস”। অবশেষে ১৮৯৫ সালে,
ইউরেনিয়াম ডিপোসিট হিসেবে পৃথিবীতে হিলিয়াম পাওয়া যায় এবং বিজ্ঞানীরা হতবুদ্ধিকরভাবে আবিষ্কার করেন, এটি মেটাল নয়, গ্যাস। এভাবে হিলিয়াম প্রথম সূর্যে আবিষ্কৃত হয়, অসার্থক নাম।)
যদি আদিম হিলিয়াম প্রধানত নক্ষত্রে তৈরি হয়, যেমন হোয়েল বিশ্বাস করতেন, তবে এটি অবশ্যই দূর্লভ হতো এবং একে নক্ষত্রের কেন্দ্রের কাছাকাছি পাওয়া যেতো। কিন্তু সকল জ্যোতির্বিজ্ঞানিক ডাটা বলছে হিলিয়াম মহাবিশ্বে আসলেই প্রাচুর্যময়, মহাবিশ্বের ২৫ শতাংশ এটমের ম্যাস হিলিয়ামের তৈরি। এটিকে মহাবিশ্বের সর্বত্র ইউনিফর্মলি ডিস্ট্রিবিউটেড হিসেবে পাওয়া যায়।( যেমনটি গ্যামো বিশ্বাস করতেন)
 
আজ, আমরা জানি যে গ্যামো ও হোয়েলের কাছে নিউরোসিন্থেসিসের সাথে সস্পৃক্ত সত্যের দুটি টুকরো ছিলো। গ্যামো মনে করতো, সকল কেমিক্যাল এলিমেন্ট মহাবিস্ফোরণের ছাই হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলো। কিন্তু তার তত্ব 5-Particle ও 8-Particle এর জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। হোয়েল চিন্তা করতেন, তিনি বিগব্যাং থিওরিকে সরিয়ে ফেলতে পারবেন এটা প্রদর্শন করে যে মহাবিশ্বের সকল উপাদান রান্না করেছে উত্তপ্ত নক্ষত্রে,  মহাবিস্ফোরণের কোন সাহায্য ছাড়াই। কিন্ত এ থিওরি হিলিয়ামের এ বিশাল প্রাচুর্যতাকে গণনায় নিতে ব্যার্থ হয়েছিলো যা এখন আমরা জানি যে মহাবিশ্বে অস্তিত্বশীল। সারকথা, গ্যামো ও হোয়েল নিউক্লিওসিন্থেসিসের একটি পরিপূরক ছবি দিয়েছিলেন। ৫ ও ৮ পর্যন্ত খুব হালকা উপাদান মহাবিস্ফোরণ তৈরি করে গ্যামো মনে করেন। বর্তমানে আমরা ফিজিক্সের বিভিন্ন আবিষ্কার দ্বারা জানি যে, অধিকাংশ ডিউটেরিয়াম, হিলিয়াম-৩, হিলিয়াম-৪ এবং লিথিয়াম-৭ যা আমরা প্রকৃতিতে দেখি মহাবিস্ফোরণের ভেতর দিয়েই তৈরি হয়েছে। কিন্তু আয়রনের মতো অনেক ভারী উপাদানগুলো তৈরি হয়েছে নক্ষত্রের কেন্দ্র থেকে! আমরা যদি আয়রনের বাহিরের উপাদানগুলো যেমন- কপার, জিঙ্ক ও গোল্ডের কথা চিন্তা করি তবে সেগুলো বিস্ফোরিত হয়েছে উত্তপ্ত সুপারনোভা থেকে, তারপর আমরা এ ছবিটি কমপ্লিট করতে পারি, মহাবিশ্বে এ উপাদানগুলোর তুলনামূলক প্রাচুর্যতা এক্সপ্লেইন করার মাধ্যমে। (আধুনিক কসমোলজির যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থিওরির রয়েছে একটি নিষিদ্ধ টাস্ক; মহাবিশ্বের প্রায় শতাধিক উপাদানের তুলনামূলক প্রাচুর্যতা বিশ্লেষণ করা এবং তাদের অসংখ্য আইসোটোপ!
 

কিভাবে নক্ষত্র গঠিত হয়?

 
নিউক্লিওসিন্থেসিসের ক্রমবর্ধমান বিতর্কের একটি উপজাত হলো এটি আমাদের বরং নক্ষত্রের সম্পূর্ণ জীবন চক্র সম্পর্কে বর্ণনা প্রদান করে। সূর্যের মতো একটি সাধারণ নক্ষত্র তার জীবন শুরু করে ডিফিউজ হাইড্রোজেন গ্যাসের একটি বড় বল হিসেবে যেটিকে বলে প্রোটোস্টার এবং ক্রমবর্ধমানভাবে এটি সংকোচিত হয় ফোর্স অব গ্রেভেটির প্রভাবে। যখন এটি কলাপ্স করতে শুরু করে, এটি খুব দ্রুত ঘুরতে থাকে (যেটি মাঝেমাঝে ডাবল স্টার সিষ্টেম গঠন গঠনে নেতৃত্ব দেয়, যেখানে দুটি নক্ষত্র মাঝেমাঝে পশ্চাদবন করে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে অথবা গ্রহদের গঠন নক্ষত্রের সমান্তরাল ঘূর্ণনের ভেতরে)। নক্ষত্রের কেন্দ্র মাঝেমধ্যে ভয়ানকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠে যতক্ষণ না এটি অনুমানের উপর ১০ মিলিয়ন ডিগ্রিতে আঘাত করে, যখন হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের ফিউশন সংঘঠিত হয়। নক্ষত্রগুলো জ্বলার পর, একে মেইন সিকোয়েন্স নক্ষত্র বলা হবে এবং এটি সম্ভবত ১০ বিলিয়ন বছর জ্বলবে। আমাদের সূর্য বর্তমানে এ প্রক্রিয়ার মাঝপথে আছে। হাইড্রোজেনের এলাকা যখন পুড়ে শেষ হবে, নক্ষত্রগুলো হিলিয়াম পোড়াতে শুরু করবে, ততক্ষণে এটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে, মার্সের কক্ষপথ বিশাল এক রেড জায়ান্টে পরিণত হবে। যখন কেন্দ্রের হিলিয়াম ফুয়েল ক্লান্ত হবে, নক্ষত্রের বাহিরে আবরণ অপসারিত হবে, কেন্দ্রকে ত্যাগ করে, একটি সাদা বামন নক্ষত্র পৃথিবীর সমান।
 
আমাদের সূর্যের মতো ক্ষুদ্র নক্ষত্ররা স্পেসে মৃত্যুবরণ করবে ডেড নিউক্লিয়ার ম্যাটারিয়ালসের একটি কুন হিসেবে। কিন্তু নক্ষত্র, সম্ভবত, আমাদের সূর্যের তুলনায় ১০-৪০ গুণ ভরসম্পন্ন, ফিউশন প্রসেস সেখানে খুব দ্রুত অগ্রগতি লাভ করে। যখন নক্ষত্র লাল সুপার জায়ান্টে পরিণত হয়। এর কোর দ্রুততার সাথে উজ্জ্বল উপাদান ফিউস করে, অতএব এটি একটি হাইব্রিড স্টার হিসেবে প্রতিফলিত হয়। আয়রণের উপরের পিরিয়ডিক টেবলের উজ্জ্বল উপাদানগুলো তৈরি হয়। যখন ফিউশন প্রসেস এমন একটি ধাপে যায় যেখানে আয়রণ তৈরি হয়। ফিউশন প্রসেসের জন্য আর কোন শক্তি অবশিষ্ট থাকেনা, তাই পরমাণবিক চুল্লি, বিলিয়ন বছর পর, অবশেষে স্তমিত হয়ে যায়। এ বিন্দুতে, নক্ষত্র, আচমকা কলাপ্স করে। এতে করে হিউজ প্রেসার তৈরি হয়, যেটি ইলেক্ট্রনকে নিউক্লিয়াসের ভেতর ধাক্কা দেয়। ( ঘণত্ব পানি থেকে ৪০০ মিলিয়ন গুণ বেশি হয়)। এ ক্ষুদ্র বস্তুটিতে সংকোচিত হয়ে থাকা গ্রেভিটেশনাল এনার্জি বাহিরের দিকে বিস্ফোরিত হয় সুপারনোভায় পরিণত হয়ে। এ প্রক্রিয়া থেকে প্রস্তুত তাপমাত্রা আবার ফিউশন শুরু করে এবং পিরিয়ডিক টেবলের আয়রন সংশ্লেষিত হয়।
 
লাল সুপারজায়ান্ট বেটেলগিউস, উদাহরণস্বরূপ, যা কনস্টেলেশন অরিয়নে সহযভাবে দেখা যায়, অস্থিতিশীল; এটি যেকোনো সময় সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়, বিপুল পরিমাণ গামা রশ্মি ও এক্স রশ্মি তৈরি করে। ( একসময় মনে করা হতো যে, সুপারনোভা থেকে যে টাইটানিক এনার্জি নির্গত হয়েছিলো তা ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে ডায়নোসরদের ধবংস করে দেয়, দশ আলোকবর্ষ দূরের সুপারনোভা, প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীর সকল প্রাণ ধবংস করে দেবে, ভাগ্যক্রমে দৈত্যাকার নক্ষত্র স্পিসিচা ও বেটেলগুয়েস ২৬০ থেকে ৪৩০ লাইট ইয়ার্স দূরে, যথাক্রমে, খুব মারাত্মক ক্ষতি করার ক্ষেত্রে তারা বেশ দূরে যখন তারা বিস্ফোরিত হবে। কিন্তু কিছু বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, ২ মিলিয়ন বছর পূর্বের সমূদ্রের একটি সৃষ্টির ক্ষুদ্র বিলুপ্তির পেছনে ১২০ লাইট ইয়ার্স দূরের একটি নক্ষত্রের বিস্ফোরণের প্রভাব আছে!)
এর মানে হলো সূর্য পৃথিবীর প্রকৃত মা  নয়। যদিও পৃথিবীর অনেক মানুষ সূর্যের উপাসনা করে ঈশ্বর রুপে যে পৃথিবীর জন্ম দিয়েছে, এটি শুধুমাত্র আংশিক সত্য। যদিও পৃথিবী মূলে সূর্য থেকে তৈরি হয়েছে, গ্রহণের বিশেষ অংশ হিসেবে ধবংসাবশেষ এবং ধুলো যা সূর্যের চারপাশে ঘুরতে থাকে ৪.৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে। সূর্য খুব কমই উত্তপ্ত যা হাইড্রোজেনকে হিলিয়ামে রুপ দিতে পারে। এ থেকে বোঝা যায় যে, আমাদের প্রকৃত মা সূর্য একটি অনামিকা নক্ষত্র অথবা নক্ষত্রের একটি দল যারা বিলিয়ন বছর পূর্বে সুপারনোভায় মৃত্যুবরণ করেছে যা নেভুলির চারপাশে আয়রনের থেকে উচ্চমাত্রিক পদার্থ রেখে গেছে, যা আমাদের শরীর তৈরি করে। আক্ষরিকভাবে আমাদের শরীর স্টার ডাস্ট দিয়ে তৈরি, সে সব নক্ষত্রের ধুলো যা বিলিয়ন বছর অতীতে মৃত্যুবরণ করেছে!
 
সুপারনোভা বিস্ফোরণের পরিণতিতে, একটি ক্ষুদ্র অবশিষ্ট রয়ে গেছে, যেটিকে নিউট্রন স্টার বলে যা সলিড নিউট্রন ম্যাটার দিয়ে তৈরি, ম্যানহাটনের আকারে সংকোচিত, প্রায় ২০ মাইল আয়তনের। ( নিউট্রন স্টার সম্পর্কে প্রথম ভবিষ্যতবাণী করেন সুইস এস্ট্রোনোমার ফ্রিজ জুইকি,১৯৩৩ সালে কিন্তু এগুলো এতটাই ফ্যান্টাস্টিক ছিলো যে বিজ্ঞানীরা এক দশক একে উপেক্ষা করেন। কারণ নিউট্রন স্টার অনিয়মিত রেডিয়েশন নির্গত করে এবং খুব দ্রুত স্পিন করে, এটি একটি ঘূর্ণায়মান বাতিঘরের প্রতিনিধিত্ব করে, ঘূর্ণায়মান রেডিয়েশন নিঃস্বরণ করে, পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নিউট্রন স্টার কম্পন করছে, এ জন্য এদের পালসার বলা হয়। চুড়ান্তভাবে বিশাল নক্ষত্র, সম্ভবত, ৪০ সোলার ম্যাস বড়, যখন তারা শেষ পর্যন্ত একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণ হয়, সম্ভবত একটি নিউট্রন স্টার রেখে যায় যেটি ৩ সোলার ভর থেকে বড়। এ নিউট্রন স্টারের গ্রেভেটি এত বিশাল যে এটি দুটি নিউট্রনের ভেতরের রিপুলসিভ ফোর্সের সাথে কাউন্টার এক্ট করতে পারে এবং নক্ষত্ররা তাদের চুড়ান্ত পতন ঘটায় মহাবিশ্বের সবচেয়ে বহিরাগতবস্তু, একটি ব্লাকহোলে।
 
 

বার্ড ড্রপিং এন্ড দ্যা বিগব্যাং

 
 
স্টিডি স্টেট থিওরির চুড়ান্ত বাজি ছিলো ১৯৬৪ সালের আর্নো পেনজিয়াস ও রবার্ট উইলসনের একটি আবিষ্কার। নিউ জার্সির 20-Foot Bell Laboratory Holmdell Horn Radio Telescope এ কাজ করার সময়, তারা স্বর্গ থেকে একটি রেডিও সিগনালের জন্য অপেক্ষা করছিলেন যখন তারা একটি অপ্রত্যাশিত স্থিরতা পেলেন। তারা ভাবলেন, এটি হয়তো অবক্ষয় কারণ এটাকে মনে হয় অখন্ডভাবে সকল দিক থেকেই আসছে, কোনপ্রকার পৃথক নক্ষত্র ও গ্যালাক্সি থেকে আসার পরিবর্তে! মনে করুন, এ স্থিরতা কোন ধুলো বা ধ্বংসাবশেষ থেকে আসছে, তারা সেগুলো সতর্কতার সাথে পরিস্কার করলেন তিনি যেটার নাম দিয়েছেন “হোয়াইট কোটিং ডায়ালেট্রিক ম্যাটারিয়ালস” ( সাধারণত বার্ড ড্রপিং হিসেবে পরিচিত) যা রেডিও টেলিস্কোপের উদ্বোধনী আবৃত করে রেখেছিল। এ স্থিরতাকে বিশাল মনে হলো যদিও তারা এটাকে জানতোনা। তার দুর্ঘটনাক্রমে মাইক্রো ওয়েভের হোঁচট খেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে গ্যামো যার পূর্বাভাস দিয়েছিলো। এবার কসমোলজিক্যাল হিস্ট্ররি কিছুটা কীস্টোন পুলিশের মতো পড়া হচ্ছে, তিনটি গ্রুপ উত্তর অনুভব করেছে কেউ কারো জ্ঞান ছাড়া। গ্যামো অলফার ও হার্মান মাইক্রোওয়েভের পেছনে তত্বটি দিয়েছেন ১৯৪৮ সালে, তারা বলেছিলেন, মাইক্রো- ওয়েভ রেডিয়েশনের তাপমাত্রা এবসলিউট শূন্যের উপর ৫ ডিগ্রি হবে। তারা স্পেসে ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন পরিমাপ করার প্রত্যাশা ছেড়ে দিলেন, যাইহোক, তাদের ইনস্ট্রুমেন্টগুলো তখন এতবেশি সেনসেটিভ ছিলো না। ১৯৬৫ সালে, পেনজিয়াস এবং উইলসন ব্লাকবডি রেডিয়েশন আবিষ্কার করেন কিন্তু তারা জানতেন না এটি কি। ইতোমধ্যে তৃতীয় গ্রুপ, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে স্বাধীনভাবে গ্যামোর তত্বকে পূনরায় আবিষ্কার করেন এবং তারা সরাসরি ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু তাদের যন্ত্র ছিলো খুবই আদিম একে সনাক্ত করার ক্ষেত্রে। এই হাস্যকর পরিস্থিতি শেষ হয় যখন ঘনিষ্ঠ বন্ধু, এস্ট্রোনোমার বার্নাড ব্রুক, রবার্ট ডিককে ইনফর্ম করে। যখন দুটি গ্রুপ অবশেষে একত্রিত হলো, এটি পরিস্কার হলো যে পেনজিয়াস ও উইলসন স্বয়ং মহাবিস্ফোরণের সিগনাল ডিটেক্ট করেছে। এ গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য পেনজিয়াস ও উইলসন ১৯৭৮ সালে নোবেল প্রাইজ পায়।
 
গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, হোয়েল ও গ্যামো দৃশ্যমানভাবে দুটি বিরুদ্ধ তত্বের উপস্থাপক। ১৯৪৬ সালে ক্যাডিলাকে তারা খুব খারাপভাবে মুখোমুখি হয়েছিল যা জোতির্বিদ্যার পাঠ্যধারাই পরিবর্তন করে দেয়। আমি স্মরণ করি, জজ আমাকে হোয়াইট ক্যাডিলাকের চারপাশে চালাচ্ছে। গ্যামো আবারও তার দৃঢ় বিশ্বাস উপস্থাপন করেন হোয়েলের কাছে যে মহাবিস্ফোরণ এমন একটি সন্ধ্যারাগ রেখে যাবে যা আজও খুঁজে পাওয়া উচিত। যাহোক, গ্যামোর ল্যাটেস্ট ফিগার বলছে এই  Afterglow বা সন্ধ্যারাগের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি। হোয়েল একটি অদ্ভুত পেপার সম্পর্কে সজাগ ছিলেন যা ১৯৪১ সালে এন্ড্রু ম্যাককেলার লিখেছিলেন, যেটি দেখায় যে, আউটার স্পেসের টেম্পারেচার কখনোই ৩ ডিগ্রি তাপমাত্রাকে অতিক্রম করবে না! তাপমাত্রা যত বেশি হবে, নতুন রিয়েকশন সংঘটিত হবে যা উত্তেজনাকর কার্বন- হাইড্রোজেন ও কার্বন নাইট্রোজেন তৈরি করবে। এই ক্যামিকেলের স্পেক্ট্রা পরিমাপ করে যেকেউ আউটার স্পেসের স্পেক্ট্রা নির্ণয় করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, তিনি দেখেছেন যে, যে CN মলিকিউল তিনি স্পেসে ডিটেক্ট করেছেন তা ২.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা নির্দেশ করছে। অন্য কথায়, গ্যামোর অজানা ছিলো যে ২.৭k ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন পরোক্ষভাবে ১৯৪১ সালে নির্ণয় করা হয়ে গেছে! হোয়েল স্মরণ করেন, যদিও এটি কেডিলাকের জন্য একটি বড় কম্পোর্ট ছিলো অথবা জজ যেহেতু 3K এর উপরে তাপমাত্রা চেয়েছিল যেখানে আমি চেয়েছি 0 ডিগ্রি। আমরা মিস করেছিলাম সে আবিষ্কার করার সম্ভাবনা যা পেনজিয়াস ও উইলসন নয় বছর পরে করেছেন। যদি গ্যামোর গ্রুপ অসংখ্য ভুল না করে নিন্মতর তাপমাত্রায় এসে পৌঁছাতো, আর যদি হোয়েল বিগব্যাং তত্বের প্রতি বৈরি ভাবাপন্ন না হতো, তবে আজ ইতিহাস ভিন্নভাবে লিখা হতো!
 
 

পারসোনাল আফটার শক অফ দ্যা বিগব্যাং

 
পেনজিয়াস ও উইলসনের মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনের আবিষ্কার গ্যামো এবং হোয়েলের ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত এনেছিলো। হোয়েলের মতে পেনজিয়াস ও উলসনের কাজ ছিলো নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্সের মতো। অবশেষে ১৯৬৫ সালে ন্যাচার ম্যাগাজিনে, হোয়েল অফিসিয়ালি তার পরাজয় শিকার করেন। এ উদ্ধৃতি দিয়ে যে, মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড এবং হিলিয়ামের প্রাচুর্যতা স্টেডি স্টেড থিওরিকে প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু যা তাকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করেছিলো তা ছিলো স্টিডি স্টেট তত্ব তার ভবিষ্যতবাণী করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, ” এটি বিস্তৃতভাবে বিশ্বাস করা হয় যে মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনের অস্তিত্ব স্টিডি স্টেট বিশ্বতত্বকে হত্যা করে কিন্তু সত্যিকার অর্থে যা এটিকে হত্যা করে তা হলো মনবিজ্ঞান….এখানে মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো যার কথা প্রেডিকশন করা হয়নি…. বহু বছর এটি আমার ভেতর দুঃখ্য তৈরি করেছিলো। ( হোয়েল পরবর্তীতে নিজেকে ঘুরিয়ে নেন, তিনি মহাবিশ্বের স্টিডি স্টেট থিওরিকে নতুন এক বৈচিত্রতায় ভাবতে শুরু করেন, কিন্তু প্রতিটি ভার্সনের সম্ভাবনা নগন্য থেকে নগন্যতর)
দুর্ভাগ্যক্রমে, আগ্রাধিকারের প্রশ্নটি গ্যামোর মুখে একটি খারাপ স্বাদ তৈরি করেছে। গ্যামো, যে কেউ একবার লাইনগুলো পড়ে , কেউই সন্তুষ্ট হবে না যে গ্যামো, আলফার ও হার্মানের কাজকে একবারের জন্য মেনশন করা হয়নি। সদা বিনয়ী, সে তার অনুভূতিগুলো সম্পর্কে স্তব্দ ছিলো তবে ব্যক্তিগত এক চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন যে পদার্থবিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদরা তাদের কাজকে পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করেছিলেন।
 
যদিও পেনজিয়াস ও উইলসনের কাজ ছিলো ব্যাপক স্টিডি স্টেট থিওরিকে উড়িয়ে দেয়ার জন্য এবং মহাবিস্ফোরণকে পরীক্ষামূলক পাদদেশে রাখার জন্য কিন্তু সম্প্রসারিত মহাবিশ্বের কাঠামো বোঝার ক্ষেত্রে তখনও ছিলো বিশাল শূন্যস্থান। ফ্রাইডম্যানের জগতে, উদাহরণস্বরূপ, একজন অবশ্যই ওমেগার মান জানতো, মহাবিশ্বে ম্যাটারের এভারেজ ডিস্ট্রিবিউশন, এর বিবর্তন বোঝার জন্য। যাহোক, ওমেগা নির্ধারণ খুবই সমস্যাপূর্ণ হয়ে উঠলো যখন এটি বোঝা গেলো যে মহাবিশ্বের প্রায়ই পরিচিত এটম অথবা মলিকিউল দ্বারা তৈরি নয় কিন্তু নতুন এক অদ্ভুদ উপাদান দ্বারা যেটাকে বলে ডার্কম্যাটার ফ্যাক্টর-১০ এর উপর ভর করে সাধারণ বস্তুকে যেটি ছাড়িয়ে গেছে। আবারও, এ জগতের নেতাদের বাকি জোতির্বিদদের দ্বারা গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়নি।
 
 

ওমেগা এন্ড ডার্ক ম্যাটার

 
 
ডার্ক ম্যাটারের গল্প সম্ভবত কসমোলজির অনেক শক্তিশালী একটি চ্যাপ্টার। ১৯৩০ সালে, মেভারিক সুইচ এস্ট্রোনোমার ফ্রিজ জুইকি লক্ষ করেন যে, কোমা ক্লাস্টার গ্যালাক্সির গ্যালাক্সিগুলো নিউটোনিয়ান গ্রেভেটি অনুসরণ করে সঠিকভাবে চলাচল করছে না। এ গ্যালাক্সি, তিনি দেখলেন যে, এতটাই দ্রুতগামী হওয়ার কথা যে তারা খুব দ্রুত দূরে সরে যেতো এবং ক্লাস্টার বিলুপ্ত হয়ে যেতো নিউটনের “ল” অব মোশন অনুসারে। একটি উপায়ে তিনি বললেন, কোমা ক্লাস্টার একে অপরের কাছাকাছি থাকতে পারে দূরে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে, শুধুমাত্র যদি, কোমা ক্লাস্টারে ১০০ এর বেশি ম্যাটার থাকে আমরা টেলিস্কোপে যতটুকু দেখি তার চেয়ে। হয়তো নিউটনের আইন কোনভাবে ভুল গ্যালাক্টিক ডিস্টেন্সে অথবা যদি এখানে বিপুল পরিমাণে মিসিং থাকে, অদৃশ্য ম্যাটার যা কোমা ক্লাস্টারকে একসাথে ধরে রাখে! এটি ছিলো উতিহাসের প্রথম ভয়ানক ইঙ্গিত যে এখানে রয়েছে এমন কিছুর অনপুস্থিতি মহাবিশ্বে ম্যাটারের ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য। জোতির্বিদরা জুইকির কাজকে উপেক্ষা করেন, দূর্ভাগ্যক্রমে কিছু বিশেষ কারণে। প্রথমে, এস্ট্রোনোমাররা নিউটোনিয়ান গ্রেভেটিকে বিশ্বাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলো যা পদার্থ বিজ্ঞানকে একশত বছর শাসন করে, ভুল প্রমাণিত হয়। এ ক্রায়সিসকে মোকাবেলার জন্য জোতির্বিজ্ঞানেও একটি প্রিসিডেন্ট আছে। যখন উনিশ শতকে ইউরেনাসের কক্ষপথ এনালাইসিস করা হয় দেখা যায় যে এটি কম্পন করছে এটি ছিলো নিউটোনিয়ান ইকুয়েশন থেকে কিছুটা বিচ্ছ্যুত। অতএব দেখা গেলো হয়তো নিউটন ভুল অথবা কোন একটি নতুন প্লানেট ইউরেনাসকে টানছে। পরবর্তীটিই সঠিক ছিলো ১৮৪৬ সালে প্রথম প্রদক্ষেপেই নেপচুনের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়, নিউটনের আইন দ্বারা লোকেশন এনালায়েজ করার মাধ্যমে।। দ্বিতীয়ত, জুইকির ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন ছিলো এস্ট্রোনোমাররা যাকে বলতেন অবান্তর। জুইকি ছিলেন একজন কল্পনাপ্রবণ তাকে তার জীবদ্দশায় মাঝেমাঝে বা প্রায় সময় উপহাস করা হতো। ১৯৩৩ সালে, ওয়াল্টার ব্লেড, যিনি সুপারনোভাকে স্বীকৃতি দেন, সঠিকভাবে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন, যে এটি টাইনি নিউট্রন স্টার, ১৪ মাইল জুড়ে, যেটি ছিলো বিস্ফোরিত নক্ষত্রের চুড়ান্ত অবশিষ্টাংশ। এ ধারণাটি এতটাই আউটল্যান্ডিশ ছিলো যে ১৯৩৪ সালের ১৯ শে জানুয়ারি লস এব্জেল টাইমে এটিকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করা হয়। জুকি কিছুটা অগ্নিশর্মা হয়েছিলেন, এলিট গ্রুপের জোতির্বিদ যাদেরকে তিনি মনে করতেন, তারা তাকে বহিস্কার করার চেষ্টা করলো, তার ধারণা চুরি করলো, ১০০ থেকে ২০০ ইঞ্চি টেলিস্কোপের সময় তাকে অস্বীকার করলো। ( খুব সংক্ষিপ্তভাবে মৃত্যুর পূর্বে ১৯৭৪ সালে, জুকি গ্যালাক্সির ক্যাটালগ প্রকাশ করেন, ক্যাটালগগুলোকে একটি হেডিং এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় “A Reminder to the high priests od American Astronomy and their Sycophants”! এই প্রবন্ধটি ছিলো ক্লাবিদের( ক্লাবের সদস্য) একটি জঘন্য সমালোচনা, জোতির্বিদ্যার সতন্ত্র অভিজাত প্রকৃতি যা তার তাঁর মতো বিভ্রান্তদের অবরুদ্ধ করে দেয়। তিনি বলেন, আজকে সাইকোফ্যান্টস আর সরল চোরগুলোকে মুক্ত বলে মনে হচ্ছে, বিশেষ করে আমেরিকান এস্ট্রোনোমিতে, নেকড়ে এবং নন- কনফার্মিস্টদের আবিষ্কারগুলোকে উপযুক্ত মনে করার মতো। তিনি লিখেন, তিনি তাদেরকে স্পেরিক্যাল বাস্টার্ড( বৃত্তাকার জারজ) বলতে চান কারণ আপনি তাদের দিকে যেভাবেই তাকান না কেনো তারা বাস্টার্ড। তিনি ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি সে সময় অতিক্রম করেছেন যখন নিউট্রন তারকা আবিষ্কারের জন্য নোবেল প্রাইজ অন্য কাউকে দেয়া হয়েছিলো।
 
 
১৯৬২ সালে, গ্যালাক্টিক মোশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসাহ উদ্দীপক সমস্যা পূনরায় আবিষ্কার করেন এস্ট্রোনোমার ভেরা রুবিন। তিনি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রোটেশন নিয়ে স্টাডি করেন, তিনিও পেয়েছিলেন, জোতির্বিদ্যার সম্প্রদায়ের কাছে একটি শীতল কাঁধ। সাধারণত সূর্য থেকে একটি প্লানেট যত দূরে থাকে, এটি তত ধীরগতিতে মুভ করে। এজন্য মার্কারিকে গতির ঈশ্বর বলা হয় কারণ এটি সূর্যের কাছাকাছি থাকে,আর প্লুটোর গতি মার্কারি থেকে দশগুণ ধীর কারণ এটি সূর্য থেকে অনেক দূরবর্তী প্লানেট। যাহোক, যখন ভেরা রুবিন, নীল তারকাদের এনালাইজ করলেন, তিনি দেখতে পেলেন যে নক্ষত্ররা গ্যালাক্সির চারপাশে একই হারে আবর্তিত হয় তাদের দূরত্বের উপর নির্ভর না করেই। (যেটাকে বলা হয় “Flat Rotation Curve)। এর মাধ্যমে নিউটোনিয়ান বিধি লঙ্গন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে তিনি যা পেয়েছিলেন, তা হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রোটেশন এত বেশি যে, অধিকার দ্বারা, এটি অনেক দূরে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। কিন্তু গ্যালাক্সি প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর পর্যন্ত স্থির; এটি একটি রহস্য যে কেনো রোটেশন কার্ভ সমান্তরাল। গ্যালাক্সিকে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য, এটিকে দশগুণ ভারী হতে হবে যা বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক কল্পনা করেছেন। সুস্পষ্টভাবে, মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির ৯০ শতাংশ মিসিং রয়ে গেছে!
 
 
ভেরা রুবিনকে উপেক্ষা করা হয়, আংশিকভাবে কারণ তিনি নারী। সুনিশ্চিত মাত্রার ব্যাথা নিয়ে তিনি স্মরণ করেন, স্বার্থমোর কলেজে সায়েন্স মেজর হিসেবে আবেদন করেন এবং এডমিশন অফিসারকে কারণবশত জানিয়েছিল যে তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করেন, ইন্টারভিয়ার তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি কী এমন একটি কেরিয়ার বিবেচনা করেন যেখানে আপনি এস্ট্রোনোমিক্যাল অবজেক্টের ছবি আঁকবেন? তিনি যখন তার ফিজিক্সের টিচারকে বললেন যে তাকে ভাসার কলেজ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, তিনি প্রতুত্তর করলেন, আপনার ভালো করা উচিত যতক্ষণ না আপনি বিজ্ঞান থেকে দূরে থাকবেন। ” পরে তিনি স্মরণ করেন, এ ধরণের কথা শোনার জন্যে প্রচুর পরিমাণ আত্মসম্মান লাগবে এবং ধবংস করা যাবে না। গ্রেজুয়েশন কমপ্লিট করার পর, তিনি আবেদন করেন এবং হার্ভাড থেকে তাঁকে গ্রহণও করা হয় কিন্তু তিনি নিগৃহীত হয়েছেন কারণ তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তার স্বামীকে অনুসরণ করেছিলেন, একজন রাসায়নবিদ, কর্নেল থেকে। ( তিনি তার পত্রটি ফেরত পেলেন সাথে নিচে হাতে লেখা শব্দ, “Damn You Woman. Every time i get a good one ready, she goes off and get married “)। সাম্প্রতিক তিনি জাপানের একটি এস্ট্রোনোমি কনফারেন্সে গেলেন, এবং সেখানে তিনিই একমাত্র নারী ছিলেন, “আমি সত্যি দীর্ঘক্ষণ সেই গল্প বলতে পারিনি দীর্ঘক্ষণ কান্না না করে কারণ নিশ্চিত এক প্রজন্মের মধ্যে…. না ভয়াভহ পরিবর্তন হয়েছে। তবুও তার যত্নশীল কর্মের ওজন এবং অন্যদের, ক্রমশ এস্ট্রোনোমিক্যাল কমিউনিটিকে ” Missing Mass Problem ” সম্পর্কে বুঝাতে সক্ষম করে তোলে। 1978 সালে, রুবিন ও তার সহকর্মীরা এগারটি স্পাইরাল গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করেন। সবগুলো এত দ্রুত ঘূর্ণায়মান ছিলো যে নিউটনের আইন অনুসারে তাদের পরস্পরের কাছাকাছি থাকার কথা ছিলোনা। একইবছর, ডাচ রেডিও এস্ট্রোনোমার আলবার্ট বোসমা এক ডজন স্পাইরাল গ্যালাক্সির একটি সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেন ; তাদের প্রায় প্রত্যেকেই একই আচরণ প্রদর্শন করে। এটি অবশেষে এস্ট্রোনোমিক্যাল কমিউনিটিকে বুঝতে সাহায্য করে যে ডার্ক ম্যাটার মূলত অস্তিত্বশীল। এ বিরক্তিকর সমস্যাটির একটি অতি সাধারণ সমাধান হলো গ্যালাক্সিগুলোকে হয়তো ঘিরে রেখেছে কোন অদৃশ্য চক্র যেগুলো নক্ষত্রগুলো থেকেও বেশি শক্তি ধারণ করে। একটি উৎসাহ উদ্দীপক ব্যাপার ছিল তারকার আলোর বিকৃতি পরিমাপ করা যখন এটি অদৃশ্য ম্যাটারের উপর দিয়ে ভ্রমণ করবে। আপনার গ্লাসের ল্যান্সের মতো, ডার্কম্যাটার আলোকে বক্র করে দেবে ( কারণ এর রয়েছে ব্যাপক পরিমাণ ভর এবং গ্রেভিটেশনাল টান।) সাম্প্রতিক কম্পিউটারের মাধ্যমে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ফটোগ্রাফের সতর্ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে, বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের সর্বত্র ডার্ক ম্যাটারের ডিস্ট্রিবিউশনের উপর ভিত্তি করে একটি ম্যাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়। ডার্ক ম্যাটার কীসের তৈরি এটা জানার জন্যে এক নিষ্ঠুত হৈ-হুল্লোড় হয়। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন এটি সম্ভবত অর্ডিনারী ম্যাটার ধারণ করে পার্থক্য শুধু এখানে যে এটি খুব দূর্বল। ( এটি ব্রাউন ডুয়ার্ফ স্টার, নিউট্রন স্টার, ব্লাকহোল ইত্যাদির তৈরি হতে পারে যা প্রায় অদৃশ্য)
 
 
এ অবজেক্টগুলো একসাথে বেরিওনিক ম্যাটার হিসেবে বিভক্ত হয়, যা পরিচিত বেরিয়নের তৈরি( নিউট্রন ও প্রোটনের) মতো। সামগ্রিকভাবে, এগুলোকে MACHOs বলা হয়। (Short for massive Compact Halo Object)। অন্যরা মনে করে ডার্মম্যাটার সম্ভবত অত্যন্ত উত্তপ্ত নন-বেরিয়নিক ম্যাটারের তৈরি যেমন- নিউট্রন। (যেটিকে হট ডার্ক ম্যাটার বলা হয়)। যাহোক, নিউট্রন এত দ্রুত মুভ করে যে তাদেরকে জমাটবদ্ধ ডার্কম্যাটার যা আমরা প্রকৃতিতে দেখি সেগুলোর সাথে মেলানো যায় না। অনেকে তাদের হাত ঝাড়া দেয় এবং চিন্তা করে ডার্ক ম্যাটার সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের ম্যাটার দ্বারা তৈরি যেটাকে “কোল্ড ডার্ক ম্যাটার” বলে অথবা WIMPS (Weakly Interacting Massive Particle) যেগুলো নেতৃত্বশীল প্রতিযোগী ডার্কম্যাটারের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য!
 
 

কোব স্যাটেলাইট

 
সাধারণ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে, এস্ট্রোনোমির কর্মী ঘোড়ারা গ্যালেলিওর সময় থেকেই ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচন করতে পারেন নি। এস্ট্রোনোমি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি লাভ করেছিলো স্ট্যান্ডার্ড পৃথিবীকেন্দ্রিক অপটিক দ্বারা। যাহোক, ১৯৯০ সালে, নতুন জেনারেশনের এস্ট্রোনোমিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট উদ্ভাবিত হয় যা আধুনিক স্যাটেলাইট টেকনোলজি ব্যবহার করে, লেজার, কম্পিউটার এবং সম্পূর্ণ ভাবে তারা জ্যোতির্বিদ্যার চেহারা পালটে দেয়। এ চাষাবাদের  ফসলের একটি ফল হলো COBE ( Cosmic Background Explorer), 1989 সালে যাত্রা শুরু করে। যখন পেনজিয়াস ও উইলসন মহাবিস্ফোরণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কিছু ডাটা নিশ্চিত করেন, COBE স্যাটেলাইট সুনির্দিষ্টভাবে একটি বিশেষ সংখ্যক ডাটা পরিমাপ করেন, ব্লাকবডি রেডিয়েশন, গ্যামো এবং তার সহকারীরা ১৯৪৮ সালে যেটি প্রস্তাব করেন।
 
১৯৯০ সালে, আমেরিকান এস্ট্রোনোমিক্যাল কমিটির একটি মিটিং অডিয়েন্সের মধ্যে  ১৫০০ বিজ্ঞানী আকষ্মিক বর্জপাতে জয়জয়কার করে দাঁড়িয়ে যান যখন তারা একটি ভিওগ্রাফে কোবের ফলাফল দেখেন, যা একেবারে পরিপূর্ণভাবে 2.728K মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড প্রদর্শন করে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জোতির্বিদ জেরিমিয়াহ পি. অস্ট্রিকার মন্তব্য করেন, যখন পাথরে ফসিল পাওয়া গেলো, এটি অরিজিন অব স্পিসিসকে সম্পূর্ণ পরিস্কার করে দিলো, বেশ, COBE মহাবিশ্বের ফসিল খুঁজে পেলো। যাহোক, কোবের ভিওগ্রাফ ছিলো খুবই কুয়াশাচ্ছন্ন, উদাহরণস্বরূপ, বিজ্ঞানীরা চেয়েছিলো, কসমিক ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশনের “হট স্পোট অথবা ফ্ল্যাকচুয়েশন এনালাইজ করতে, ফ্ল্যাকচুয়েশন যা আকাশে হতে পারে এক ডিগ্রি। কিন্তু কোব ইনস্ট্রুমেন্ট শুধুমাত্র ডিটেক্ট করতে পারে ৭ এবং এর থেকে বেশি ডিগ্রি, যা ক্ষুদ্র হট স্পোট ডিটেক্ট করার জন্য যথেষ্ট সেনসেটিভ না। বিজ্ঞানীদের অপেক্ষা করতে হয়েছিলো WMAP স্যাটেলাইটের ফলাফলের জন্য, যেটি এক শতাব্দি পর যাত্রা শুরু করেছিল। যা তারা আশা করেছিল যে এ জাতীয় প্রশ্নের সংস্থাকে নিস্পত্তি করবে এবং রহস্য!
 

অনুবাদ-

Paralal World, A journey Through Creation

 

বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু  বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু  বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু  বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু  বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু
বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু   বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু বিগ ব্যাং- মিচিও কাকু
 
 

আরও পড়ুন

Leave A Comment...

হাইপারস্পেস
চিন্তা নয়, চিন্তার পদ্ধতি জানো...!